বিশ্ব

প্রতিশোধ অবশ্যই নেওয়া হবে’—হুঁশিয়ারি ইরানের সর্বোচ্চ নেতার

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি জুলাই ১২, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় নিহত ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির মৃত্যুর প্রতিশোধ নেওয়ার অঙ্গীকার করেছেন তার উত্তরসূরি ও বর্তমান সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি।

 

ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম ফার্স নিউজ প্রকাশিত এক বিবৃতিতে মোজতবা খামেনি বলেন, প্রতিশোধ ইরানি জাতির দাবি এবং তা অবশ্যই বাস্তবায়ন করা হবে।

 

প্রয়াত নেতার প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে তিনি বলেন, তার ‘নিষ্পাপ রক্ত’ এবং সাম্প্রতিক দুই যুদ্ধে নিহত সব ব্যক্তির মৃত্যুর জন্য দায়ীদের জবাবদিহির মুখোমুখি করা হবে।

 

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, অভিযুক্তদের পরিচয় ইরানের কাছে রয়েছে এবং তারা শাস্তি এড়াতে পারবে না। তাদের উদ্দেশে কঠোর ভাষায় সতর্কবার্তাও দেন মোজতবা খামেনি।

 

তিনি আরও বলেন, এই প্রতিশোধ কোনো ব্যক্তি বা সরকারি কর্মকর্তার জীবনের ওপর নির্ভরশীল নয়। তার ভাষায়, আমরা থাকি বা না থাকি, এই প্রতিজ্ঞা খুব শিগগিরই পূরণ করা হবে।

 

এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, ইরান যদি তাকে হত্যা করে বা হত্যার চেষ্টা চালায়, তবে দেশটিকে কঠোর সামরিক জবাবের মুখে পড়তে হবে।

 

এর আগে ইসরায়েলি গোয়েন্দা সংস্থাগুলো ট্রাম্প প্রশাসনকে মার্কিন প্রেসিডেন্টের বিরুদ্ধে ইরানের কথিত হত্যাচক্রান্ত নিয়ে সতর্ক করেছিল। তবে মার্কিন গোয়েন্দা সূত্রের দাবি, ট্রাম্পকে লক্ষ্য করে ইরানের নতুন কোনো সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনার প্রমাণ এখনো পাওয়া যায়নি।

 

নতুন সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে মোজতবা খামেনি জনসমক্ষে উপস্থিত হননি। বিভিন্ন প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, গত ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় তার বাবা, মা ও স্ত্রী নিহত হন এবং তিনিও আহত হন। এরপর থেকেই তিনি আত্মগোপনে থেকে লিখিত বিবৃতির মাধ্যমে সমর্থকদের সঙ্গে যোগাযোগ করছেন।

 

সূত্র: ফার্স নিউজ

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

শুল্কমুক্ত সুবিধায় ব্যবসায়ীদের আগ্রহে ভাটা

পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না।   একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।   এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন।   গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে।   জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে।   সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে।   কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে।   প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে।   আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’   সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না।   এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।

সংগৃহীত ছবি
রাশিয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা বজায় রাখার আহ্বান ইইউর পররাষ্ট্রপ্রধানের

ইউক্রেনের যুদ্ধকে কেন্দ্র করে রাশিয়ার ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা বহাল রাখার আহ্বান জানিয়েছেন ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) পররাষ্ট্রনীতিবিষয়ক প্রধান কাজা কালাস। নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ বাড়াতে সদস্য দেশগুলো সমঝোতাচেষ্টার মধ্যেই সোমবার তিনি এ আহ্বান জানান।     ইউরোপীয় ইউনিয়নের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠকের পর নিউইয়র্কে সাংবাদিকদের কাজা কালাস বলেন, ‘রাশিয়ার যুদ্ধের বিরুদ্ধে আমাদের পদক্ষেপের অন্যতম প্রধান ভিত্তি হলো নিষেধাজ্ঞা।’ এর মাধ্যমে মস্কোর অর্থের জোগান বন্ধ রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে। জাতিসংঘ থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানিয়েছে।     কাজা কালাস বলেন, রাশিয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ বাড়ানোর বিষয়ে আলোচনা দ্রুত সম্পন্ন করার লক্ষ্য রয়েছে। এরপর দ্রুতই এর মেয়াদ বাড়ানো হবে।       জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে কালাস বলেন, ‘আমাদের এই স্থিতিশীলতা প্রয়োজন।’ তাই নিষেধাজ্ঞাগুলো আরো দীর্ঘ সময় বহাল রাখতে হবে।     কালাস জোর দিয়ে বলেন, রাশিয়ার বিষয়ে ইইউ’র অবস্থানে কোনো পরিবর্তন হয়নি। তিনি বলেন, ‘এ কারণেই আমরা নতুন একটি নিষেধাজ্ঞা প্যাকেজ নিয়েও কাজ করছি।’     তবে এ বিষয়ে আলোচনা চলছে। কারণ, কয়েকটি সদস্য দেশ ইইউ’র কালো তালিকা থেকে কিছু ব্যক্তির নাম বাদ দেওয়ার দাবি জানিয়েছে।

মারিয়া রহমান সেপ্টেম্বর ২২, ২০২৬
পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ। ফাইল ছবি

পেট্রোলিয়াম লেভি প্রত্যাহার: জামায়াতকে লংমার্চ স্থগিতের অনুরোধ শাহবাজের

রয়টার্স ছবি

সৌদি আরবের সঙ্গে প্রতিরক্ষা চুক্তির প্রতিশ্রুতি রক্ষা করবে যুক্তরাষ্ট্র

UNSC-তে ভারতের স্থায়ী সদস্যপদে ৪ ইউরোপীয় দেশের জোরালো সমর্থন

বিশ্ববাজারে তেলের দাম বাড়ল

পাঁচ কর্মদিবসে টানা কমার পর মঙ্গলবার বিশ্ববাজারে তেলের দাম বেড়েছে। জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে এ সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সম্ভাব্য আলোচনা নিয়ে বিনিয়োগকারীরা অপেক্ষায় রয়েছেন। একই সময়ে হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেল সরবরাহও বেড়েছে।   রয়টার্স জানিয়েছে, বাংলাদেশ সময় সকাল ৯টা ১৭ মিনিটে ব্রেন্ট অপরিশোধিত তেলের নভেম্বরের ফিউচার ১ দশমিক ১৪ ডলার বা ১ দশমিক ১ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ১০১ দশমিক ৪৮ ডলারে উঠেছে।   অক্টোবরের ডেলিভারির জন্য ডব্লিউটিআই ফিউচার ৮৭ সেন্ট বা ০ দশমিক ৯ শতাংশ বেড়ে ৯৬ দশমিক ৬৫ ডলারে দাঁড়িয়েছে। এই চুক্তির মেয়াদ মঙ্গলবার শেষ হওয়ার কথা। বেশি লেনদেন হওয়া নভেম্বরের ডব্লিউটিআই ফিউচারও ৮৫ সেন্ট বা ০ দশমিক ৯ শতাংশ বেড়ে ৯৩ দশমিক ২২ ডলারে উঠেছে।   রোববার যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান একে অপরকে হুমকি দিলেও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, তিনি ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ানের সঙ্গে বৈঠকে বসতে আগ্রহী। জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দিতে পেজেশকিয়ান এ সপ্তাহে নিউইয়র্কে থাকতে পারেন।   কেসিএম ট্রেডের প্রধান বাজার বিশ্লেষক টিম ওয়াটারার বলেন, সাম্প্রতিক দরপতনের পর তেলের দাম বাড়ার বিষয়টি মূলত আগের দরপতনের পর বিনিয়োগকারীদের অবস্থান সাময়িকভাবে বদলানোর ফল বলে মনে হচ্ছে। এতে বাজারে মৌলিক কোনো বড় পরিবর্তন এসেছে- এমনটা এখনই বলা যাচ্ছে না।   তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে কূটনৈতিক তৎপরতার ফল কী হয়, তা দেখার জন্য বিনিয়োগকারীরা অপেক্ষা করছেন। আলোচনা এগোলে বা ব্যর্থ হলে তেলের দামে তার প্রভাব পড়তে পারে।

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি সেপ্টেম্বর ২২, ২০২৬

চুলায় রান্না করা খাবারে পড়ে নারীর মৃত্যু

ছবি: সংগৃহীত

ট্রাম্পের বিরুদ্ধে মামলা সিএনএন, এমএস নাও ও পলিটিকোর

নতুন নিরাপত্তা কাঠামোতে ইরানের সঙ্গে ভালো সম্পর্ক জরুরি: কাতারের প্রধানমন্ত্রী

কৌশলগত পাহাড়ি এলাকা দখলে এগোচ্ছে ইয়েমেনি বিদ্রোহীরা

ইয়েমেনে সৌদি সমর্থিত বাহিনীর নিয়ন্ত্রিত এলাকার সঙ্গে লোহিত সাগর উপকূলের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করতে কৌশলগত পাহাড়ি এলাকা দখলের দিকে এগোচ্ছে হুতি যোদ্ধারা। এর মধ্যেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শেষ মুহূর্তে হুতিদের ওপর সম্ভাব্য বিমান হামলা বন্ধ করে দিয়েছেন বলে জানা গেছে।   দ্য নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে দ্য গার্ডিয়ান জানিয়েছে, সৌদি আরবের অনুরোধের পর ট্রাম্প প্রথমে হুতিদের ওপর হামলার প্রস্তুতির নির্দেশ দিয়েছিলেন। এমনকি হামলার জন্য যুদ্ধবিমানে বোমা তোলার কাজও শুরু হয়েছিল। পরে তিনি আবার সিদ্ধান্ত বদলে হামলা বন্ধ করার নির্দেশ দেন।   গত কয়েক সপ্তাহ ধরে ইয়েমেনে সৌদি সমর্থিত সরকারি বাহিনী ও হুতিদের মধ্যে লড়াই তীব্র হয়েছে। জাতিসংঘ জানিয়েছে, সেপ্টেম্বরের শুরু থেকে সংঘাতের কারণে অন্তত ১ লাখ ২৫ হাজার মানুষ ঘরবাড়ি ছেড়ে পালিয়েছেন। সবচেয়ে বেশি মানুষ আশ্রয় নিয়েছেন তাইজ শহরে।   হুতি যোদ্ধারা এরই মধ্যে ইয়েমেনের লোহিত সাগর উপকূলের বড় একটি অংশের নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে। তারা গুরুত্বপূর্ণ বাব আল-মান্দাব প্রণালির কাছাকাছি এলাকাতেও এগিয়ে যাচ্ছে।   বাব আল-মান্দাব প্রণালি বিশ্ব বাণিজ্য ও জ্বালানি পরিবহনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ একটি নৌপথ। হরমুজ প্রণালিতে সরবরাহে বিঘ্ন ঘটলে সৌদি আরব এই পথ ব্যবহার করে তেল রপ্তানি করতে পারে।   প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান কয়েক সপ্তাহ ধরে ট্রাম্পের কাছে হুতিদের বিরুদ্ধে সহায়তা চেয়ে আসছিলেন। শেষ পর্যন্ত তিনি ট্রাম্পকে হুতিদের অগ্রযাত্রা থামাতে যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তা দেওয়ার অনুরোধ করেন।   এরপর ট্রাম্প পেন্টাগনকে হুতিদের ওপর বিমান হামলার প্রস্তুতি নিতে বলেন। তবে পরে আবার মত পরিবর্তন করে হামলা বাতিল করেন তিনি।   জাতিসংঘের হিসাবে, চলতি মাসের শুরু থেকে ইয়েমেনে সংঘাতের কারণে অন্তত ১ লাখ ২৫ হাজার মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। তাদের মধ্যে প্রায় ৮৬ হাজার মানুষ তাইজ শহরে আশ্রয় নিয়েছেন।   এদিকে হুতি বাহিনী শনিবার সৌদি রাজধানী রিয়াদে হামলা চালানোর দাবি করেছে। রিয়াদের প্রধান বিমানবন্দরের কাছে ধোঁয়ার কুণ্ডলী দেখা গেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।   রোববার ইয়েমেনের প্রেসিডেন্ট রাশাদ আল-আলিমি ট্রাম্পের সঙ্গে ফোনে কথা বলেন। জাতিসংঘ-স্বীকৃত ইয়েমেন সরকারকে হুতিদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে সহায়তা দেওয়ার অনুরোধ করেন তিনি। তবে ট্রাম্প সরাসরি সামরিক সহায়তার কোনো প্রতিশ্রুতি দেননি বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।   হুতিদের অবস্থান লক্ষ্য করে গত কয়েক দিনে সৌদি আরব শত শত বিমান হামলা চালিয়েছে বলে দাবি করেছে হুতি গোষ্ঠী। তবে এসব হামলা তাদের অগ্রযাত্রায় বড় কোনো প্রভাব ফেলতে পারেনি বলে দাবি তাদের।   তাইজ প্রদেশের আল-ওয়াজিয়া এলাকার আশপাশ এবং ভারত মহাসাগরের উপকূলের রাস আল-আরা এলাকায় লড়াই সবচেয়ে বেশি হচ্ছে। এসব এলাকা লোহিত সাগর উপকূল থেকে সৌদি সমর্থিত সরকারের নিয়ন্ত্রণাধীন এডেন শহরের দিকে যাওয়ার গুরুত্বপূর্ণ পথ।   রয়টার্সের সঙ্গে কথা বলা কয়েকটি সূত্র জানিয়েছে, বাব আল-মান্দাব প্রণালির আশপাশে নিজেদের অবস্থান আরও শক্ত করতে পাহাড়ি এলাকাগুলো দখলে নিতে চাইছে হুতি। এসব এলাকা দখলে নিতে পারলে তারা নতুন কয়েকটি দিক থেকে হামলা চালানোর সুযোগও পেতে পারে।   এর আগে ২০২৫ সালের শুরুতে যুক্তরাষ্ট্র দুই মাস ধরে হুতিদের ওপর বিমান হামলা চালিয়েছিল। পরে হুতিদের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি হওয়ার পর ট্রাম্প ওই হামলা বন্ধ করেন।   বর্তমানে ইরান যুদ্ধের পর মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে সংঘাত বাড়ায় ইয়েমেন পরিস্থিতি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ওপর চাপ বাড়ছে। একদিকে সৌদি আরবকে সামরিক সহায়তা দেওয়ার দাবি উঠছে, অন্যদিকে ইয়েমেনে আরও বড় সংঘাতে জড়িয়ে পড়তে চাইছে না ট্রাম্প প্রশাসন।   সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান, রয়টার্স

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি সেপ্টেম্বর ২২, ২০২৬

বুধবার থেকে বিশ্বজুড়ে ইরানের বিমান চলাচল বন্ধ হতে পারে: যুক্তরাষ্ট্রের অর্থমন্ত্রী

মধ্যপ্রাচ্যের জ্বালানি অবকাঠামোয় ৫০০ কোটি ডলার বিনিয়োগ করতে চায় যুক্তরাষ্ট্র

ইরানকে জ্বালানি ও বিমানবন্দরসেবা না দেওয়ার হুঁশিয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের

0 Comments