বাংলাদেশে নতুন কোনো প্রধানমন্ত্রী দায়িত্ব নেওয়ার পর গুরুত্বপূর্ণ একটি সিদ্ধান্ত তাকে নিতে হয়; প্রথম বিদেশ সফরে কোথায় যাবেন তিনি?
প্রতিবেশী ভারতে? আঞ্চলিক পরাশক্তি চীনে? নাকি নিরপেক্ষ নগরী নিউ ইয়র্কে, যেখানে রয়েছে জাতিসংঘ সদর দপ্তর।
কখনও কখনও সরকারপ্রধানরা সৌদি আরবকেও প্রথম সফরের জন্য বেছে নিয়েছেন।
রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক গুরুত্বের পাশাপাশি ওমরাহ পালনের সুযোগ থাকায় দেশটি বরাবরই একটি বিশেষ গন্তব্য হিসেবে বিবেচিত হয়ে এসেছে।
যেমন প্রতি নির্বাচনেই দেখা যায় দলীয় প্রধানরা তাদের ভোটের প্রচার শুরু করেন সিলেট থেকে। হজরত শাহজালালের (র.) মাজার জিয়ারতের মধ্য দিয়ে নির্বাচনি প্রচারের সূচনা করা এক ধরনের প্রতীকী অর্থ বহন করে।
কিন্তু তারেক রহমান কেন মালয়েশিয়া বেছে নিলেন?
সেই প্রশ্নের উত্তর খুঁজেছেন আমাদের বিশেষ প্রতিনিধি সুমন মাহমুদ। প্রধানমন্ত্রীর সফরের খবর সংগ্রহে তিনি এখন আছেন কুয়ালালামপুরে।
ভারসাম্যের খেলা
একজন সরকারপ্রধানের প্রথম বিদেশ সফর কেবল আনুষ্ঠানিকতা নয়, এর মাধ্যমে তার সরকারের পররাষ্ট্রনীতিরও একটি বার্তা যায়।
বিশ্লেষকরা বলছেন, নতুন নির্বাচিত সরকারপ্রধানের বিদেশ সফর তাদের ভূ-রাজনৈতিক অগ্রাধিকার প্রকাশ করে, অংশীদার দেশগুলোকে আশ্বস্ত করে এবং কৌশলগত সমীকরণ জোরদার করে।
বাংলাদেশের কূটনীতিতে ভারত ও চীন বরাবরই গুরুত্বপূর্ণ। আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে এ দিক দিয়ে প্রাধান্য পেয়েছে ভারত। তবে শেখ হাসিনা তার শেষ সময়ে চীনের সঙ্গেও ভারসাম্য রাখার চেষ্টা করে গেছেন।
২০২৪ সালের অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর মুহাম্মদ ইউনূসের অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক তলানিতে নামে। অন্যদিকে চীন তখন অন্তর্বর্তী সরকারের পাশাপাশি বিএনপি, জামায়াতে ইসলামীসহ অন্য রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক জোরদার করতে মনোযোগী হয়।
অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদের শেষ দিকে বিএনপির নির্বাচনে জেতার সম্ভাবনা যখন জোরালো হয়ে উঠছিল, ভারত তখন বাংলাদেশের নির্বাচিত সরকারের সঙ্গে কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করে।
২০২৫ সালের ডিসেম্বরে খালেদা জিয়ার মৃত্যুর পর তার প্রতি শেষ শ্রদ্ধা জানাতে ঢাকায় আসেন ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর। খালেদা জিয়ার ছেলে তারেক রহমানকে শোকবার্তা পাঠিয়ে পাশে থাকার বার্তা দেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী।
নির্বাচনে জিতে ১৭ ফেব্রুয়ারি বিএনপি সরকার গঠন করলে তারেক রহমানের অভিষেক অনুষ্ঠানে যোগ দিতে আসেন ভারতের স্পিকার ওম বিড়লা।
ফলে তারেক রহমান দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই প্রথম বিদেশ সফরে তিনি কোথায় যাবেন, তা নিয়ে আলোচনায় ছিল। ভারত ও চীনের পাশাপাশি ভুটান ও নেপালের কথাও শোনা যাচ্ছিল।
নতুন সরকারের শপথ অনুষ্ঠানে যোগ দিতে এসে ওম বিড়লা 'সুবিধাজনক সময়ে ভারত সফরের' জন্য নরেন্দ্র মোদীর আমন্ত্রণপত্র পৌঁছে দিয়েছিলেন তারেক রহমানের হাতে।
কয়েকদিন পর ২৪ ফেব্রুয়ারিতে চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে দেখা করে আনুষ্ঠানিকভাবে চীন সফরের আমন্ত্রণ জানান।
ফলে প্রধানমন্ত্রী প্রথম সফরে চীনে যেতে পারেন-এমন একটি আলোচনা তখন থেকেই ছিল। মে মাসে চীনের প্রধানমন্ত্রীর তরফ থেকে তাকে বেইজিং সফরের জন্য আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ জানিয়ে চিঠি দেওয়া হয়।
এদিকে তারেক রহমান সরকারপ্রধান হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পরপরই মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম টেলিফোনে তাকে অভিনন্দন জানান। ওই ফোনালাপেই তিনি বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে মালয়েশিয়া সফরের প্রাথমিক আমন্ত্রণ জানান।
এরপর ৯ এপ্রিল বাংলাদেশের প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী পুত্রজায়ায় মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তার কার্যালয়ে সাক্ষাৎ করতে গেলে আনোয়ার ইব্রাহিম আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে একটি সুবিধাজনক সময়ে মালয়েশিয়া সফরের আমন্ত্রণ পুনর্ব্যক্ত করেন।
এরপরই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রথম বিদেশ সফরের জন্য মালয়েশিয়াকে চূড়ান্ত করা হয়।
বিশ্লেষকরা বলছেন, আঞ্চলিক রাজনীতির বড় দুই খেলোয়াড় ভারত ও চীনের প্রতিযোগিতার চাপ এড়িয়ে ভারসাম্য রাখতে হলে তারেক রহমানকে তার প্রথম বিদেশ সফরের জন্য তৃতীয় কোনো দেশই বেছে নিতে হত।
বিগত অন্তর্বর্তী সরকারের সময় থেকে সমাজের একটি অংশের মধ্যে ভারতবিরোধী মনোভাব প্রবল। এ অবস্থায় তারেক রহমান প্রথম সফরের জন্য ভারতকে বেছে নিলে সমালোচকরা সেটাকে ‘দিল্লিমুখী পররাষ্ট্রনীতি’ হিসেবে দেখানোর সুযোগ পেত।
আবার তিনি প্রথম সফর চীনকে বেছে নিলে বেইজিংয়ের দিকে ঝুঁকে পড়ার ইঙ্গিত হিসেবে দেখাতে পারত কেউ কেউ। ভারতও বিষয়টিকে ভিন্নভাবে ব্যাখ্যা করতে পারত।
জটিল এই পরিস্থিতিতে অপ্রয়োজনীয় বিতর্ক এড়াতেই মালয়েশিয়াকে প্রথম সফরের গন্তব্য হিসেবে বেছে নিয়েছেন তারেক রহমান, যাতে কোনো একটি বড় শক্তির প্রতি পক্ষপাতের ধারণা তৈরি না হয় এবং সবার সঙ্গে ভারসাম্যপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখার কূটনৈতিক প্রতিশ্রুতির প্রতিফলন ঘটে।
আরো যা যা কারণ
ভূরাজনৈতিক ভারসাম্য রক্ষা ছাড়াও আরো কয়েকটি বিষয় প্রধানমন্ত্রীর সিদ্ধান্তের পেছনে ভূমিকা রেখেছে বলে কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের ধারণা।
এর মধ্যে একটি হল মুসলিম বিশ্বের অগ্রসর দেশগুলোর সঙ্গে, বিশেষ করে মধ্যপন্থি নেতৃত্বের সঙ্গে বন্ধুত্ব দৃঢ় করার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে একটি স্বতন্ত্র অবস্থান তৈরি করার চেষ্টা।
এক্ষেত্রে তারেক রহমানের জন্য উদাহরণ হিসেবে থাকছেন তার বাবা, প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান, যার সময়ে বাংলাদেশ ও অর্গানাইজেশন অব ইসলামিক কো-অপারেশনের (ওআইসি) মধ্যে গভীর ও ভ্রাতৃত্বপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে ওঠে। মুসলিম বিশ্বের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়ন এবং মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে বাংলাদেশি শ্রমিকদের কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে তার বিভিন্ন পদক্ষেপ বেশ প্রশংসিত হয়।
অর্থনীতির চাকা সচল রাখতে বড় ভূমিকা রেখে চলেছেন প্রবাসী বাংলাদেশিরা। কিন্তু বাংলাদেশের অন্যতম বড় শ্রমবাজার মালয়েশিয়ার দুয়ার বেশ কয়েক বছর ধরেই বন্ধ।
শ্রমবাজারটি পুনরায় চালুর পাশাপাশি অনিয়মিত হয়ে পড়া বাংলাদেশিদের বৈধভাবে থাকার সুযোগ তৈরি করতে দরকার দুই দেশের নতুন চুক্তি। নতুন শ্রমিক নিয়োগ, ভিসা সহজীকরণ, কর্মীদের অধিকার সুরক্ষা এবং নতুন খাতে কর্মসংস্থান তৈরির বিষয়গুলো প্রধানমন্ত্রীর সফরে গুরুত্ব পাবে।
বাংলাদেশের জন্য মালয়েশিয়া গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্য অংশীদার। দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যে মালয়েশিয়া এগিয়ে আছে অনেক দূর। দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য সহযোগিতা বাড়ানো গেলে বাংলাদেশ উপকৃত হবে বলে বিশ্লেষকরা মনে করেন।
মালয়েশিয়ার সঙ্গে মুক্তবাণিজ্য চুক্তির সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা চলছে বেশ কয়েক বছর ধরেই। মালয়েশিয়ার বিনিয়োগ আকৃষ্ট করা, শিল্প, অবকাঠামো ও প্রযুক্তি খাতে সহযোগিতা বাড়ানো এবং নতুন অর্থনৈতিক সুযোগ সৃষ্টি হতে পারে তারেক রহমানের এই সফরে।
মালয়েশিয়া আবার দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার আঞ্চলিক জোট আসিয়ানের প্রভাবশালী সদস্য। আর বাংলাদেশ দীর্ঘদিন ধরেই আসিয়ানের সঙ্গে অর্থনৈতিক ও কৌশলগত সম্পর্ক বাড়ানোর চেষ্টা করছে। আসিয়ানের সদস্য বা ‘সেক্টরাল ডায়ালগ পার্টনার’ হওয়ার আগ্রহ রয়েছে বাংলাদেশের।
সরকারের একাধিক কর্মকর্তা বলেছেন, বাংলাদেশ আসিয়ানে যুক্ত হতে পারলে অর্থনৈতিক সম্প্রসারণ, ব্যবসা-বাণিজ্য বৃদ্ধি এবং দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর সঙ্গে একটি সেতুবন্ধন তৈরি করা সম্ভব। আর এক্ষেত্রে মালয়েশিয়া গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আলম সিয়াম ইতোমধ্যে বলেছেন, দুই দেশের সরকারপ্রধানের নেতৃত্বে উচ্চ পর্যায়ের বৈঠকে আলোচনায় বাণিজ্য, বিনিয়োগ সম্প্রসারণ, জ্বালানি সহযোগিতা, হালাল অর্থনীতি, সেমিকন্ডাক্টর শিল্প এবং কৃষি, শিক্ষা ও জনযোগাযোগ প্রভৃতি বিষয় স্থান পাবে। এসব ক্ষেত্রে দুই দেশের মধ্যে অধিকতর সহযোগিতা স্থাপন নিয়ে আলোচনা হবে। তবে মূল আলোচনার বিষয় হবে মালয়েশিয়ায় শ্রমবাজারে বাংলাদেশিদের সুযোগ বাড়ানো।
রোববার স্থানীয় সময় রাত সাড়ে ৯টায় স্ত্রী জুবাইদা রহমানকে নিয়ে মালয়েশিয়ার রাজধানী কুয়ালালামপুরে পৌঁছাবেন তারেক রহমান। তার এই সফরে মালয়েশিয়ার সঙ্গে দুটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) এবং দুটি ‘নোট অব এক্সচেঞ্জ’ সই হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
বিতর্ক এড়াতে প্রধানমন্ত্রী প্রথম সফরের জন্য মালয়েশিয়াকে বেছে নিলেও সেখান থেকে তিনি চীনেই যাবেন। সেখানে তার উপস্থিতিতে ১৫ থেকে ১৭টি চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক সই হওয়ার কথা রয়েছে।
চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং এবং প্রধানমন্ত্রী লি চিয়াংয়ের সঙ্গে আলোচনায় বাংলাদেশের তিস্তা প্রকল্প, সামরিক সহযোগিতা এবং চীনের বিভিন্ন বৈশ্বিক উদ্যোগে যোগ দেওয়ার বিষয়টি আলোচনায় থাকবে।
ঢাকা-বেইজিং সম্পর্কের ভবিষ্যৎ গতিপথ নির্ধারণে প্রধানমন্ত্রীর এ সফর গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন কূটনৈতিক বিশ্লেষকরা।
ব্যক্তিগত আবেগ?
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নিজেও মালয়েশিয়ার বিষয়ে আগ্রহী, বিশেষ করে দেশটির অর্থনৈতিক অগ্রগতির ইতিহাস নিয়ে।
আর তার এই আগ্রহের বিষয়টি বেশ পুরনো। দুই যুগ আগে এক সাক্ষাৎকারে তিনি নিজেই তা প্রকাশ করেছিলেন।
মানবজমিন সম্পাদক মতিউর রহমান চৌধুরী ২০০৩ সালের ২৮ ডিসেম্বর চ্যানেল আইয়ের হয়ে যখন তারেক রহমানের প্রথম টেলিভিশন সাক্ষাৎকারটি নেন, তখন বিএনপি ক্ষমতায়। ২০০৪ সালের ১ জানুয়ারি সাক্ষাৎকারটি সম্প্রচার করে চ্যানেল আই।
মতিউর রহমান চৌধুরী জানতে চেয়েছিলেন, তারেক রহমান কেমন বাংলাদেশ দেখতে চান।
জবাবে তারেক রহমান বলেন, “আমার কাছে যদি বলেন, বাংলাদেশের পরে, মানে অনেক সময় অনেকে বলে না যে একটা দেশ খুব পছন্দ হয়, অনেকের থাকে বিভিন্ন জনের বিভিন্ন দেশ পছন্দ হয়। আমার কাছে একটা দেশ খুব পছন্দ হয়, সেটা হচ্ছে মালয়েশিয়া।
“আমি সুযোগ পেলে মালয়েশিয়াতে যাই, মালয়েশিয়ার বিভিন্ন জায়গা আমি ঘুরে দেখি। কারণ, যেটা আমি শুনেছি, পড়েছি, অনেক জনের কাছে শুনেছি, যে এক সময় আজকে থেকে প্রায় ২০ বছর আগে, ওই দেশটা আমাদের মতনই ছিল। কিন্তু গত ১৫-২০ বছরে ওই দেশটা অনেক ডেভেলপ করে গেছে। তাদের অনেক কিছু কিন্তু আমাদের সাথে মিল আছে, সামাজিকতা বলেন, ধর্মীয় দৃষ্টিভঙ্গি থেকে বলেন, বিভিন্ন জিনিস কমবেশি বাংলাদেশের সাথে মিল আছে।
“সেজন্য ওই দেশটা দেখতে ভালো লাগে আমার কাছে যে, কীভাবে তারা চেইঞ্জ করল, কোথায় কোথায় তারা চেইঞ্জ করল, কী চেইঞ্জ করল। তো আমি ওইরকম একটা দেশ দেখতে আগ্রহী বা ইচ্ছা করে, যে হ্যাঁ, আমার দেশে চেইঞ্জ হচ্ছে, মুভ হচ্ছে, দেশ এগোচ্ছে।
আরো একটি কারণে তারেক রহমানের আবেগের সঙ্গে মিশে আছে মালয়েশিয়া। তার ছোট ভাই আরাফাত রহমান কোকো ২০১৫ সালে মালয়েশিয়ায় মারা যান। তারেক রহমান তখন লন্ডনে নির্বাসিত জীবন কাটাচ্ছেন। শেষবার ছোটভাইকে দেখতে মালয়েশিয়ায় যাওয়ার বা দেশে আসার সুযোগ তার হয়নি।
কার কোথায় প্রথম সফর
বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর ১৯৭২ সালের ৬ ফেব্রুয়ারি ভারত সফরে যান বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। এটি ছিল স্বাধীন বাংলাদেশের সরকারপ্রধান হিসেবে তার প্রথম আনুষ্ঠানিক বিদেশ সফর।
মুক্তিযুদ্ধে ভারতের সহযোগিতা এবং তখনকার বাস্তবতা বিবেচনা করলে সেটি অবধারিতই ছিল। সেই সফরে ভারতের প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীর সঙ্গে বঙ্গবন্ধুর বৈঠক হয়। সেই বৈঠকে বাংলাদেশ থেকে ভারতীয় সেনা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত হয়। পরে ১ মার্চ ভারত সেনা প্রত্যাহারের ঘোষণা দেয় এবং ১৫ মার্চের মধ্যে তা সম্পন্ন হয়।
১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধু সপরিবারে নিহত হওয়ার পর ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্কের গতিপথ বদলে যায়।
তারেক রহমানের বাবা, জিয়াউর রহমান ১৯৭৬ সালের ২৯ নভেম্বর প্রধান সামরিক আইন প্রশাসকের দায়িত্ব নেওয়ার পর ১৯৭৭ সালের ২ থেকে ৫ জানুয়ারি চীন সফর করেন। এটাই তার প্রথম পূর্ণাঙ্গ রাষ্ট্রীয় সফর হিসেবে স্বীকৃত।
১৯৭৭ সালের ২১ এপ্রিল রাষ্ট্রপতি হিসাবে শপথ নেন জিয়া। ওই বছরের ৮ থেকে ১৫ জুন কমনওয়েলথ সরকারপ্রধানদের সম্মেলনে যোগ দিতে তিনি যুক্তরাজ্য সফর করেন। বহুপক্ষীয় আন্তর্জাতিক ফোরামে রাষ্ট্রপতি হিসেবে এটিই ছিল তার প্রথম বিদেশ সফর।
পরের মাসে, অর্থাৎ জুলাই মাসের ২০ তারিখ তিনি যান মিয়ানমারে। আনুষ্ঠানিকভাবে রাষ্ট্রপ্রধানের দায়িত্ব নেওয়ার পর সেটাই ছিল তার প্রথম দ্বিপক্ষীয় রাষ্ট্রীয় সফর।
সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ক্ষমতা নেওয়ার পর হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের প্রথম বিদেশ সফর ছিল সৌদি আরবে। তখন তিনি দেশের প্রধান সামরিক আইন প্রশাসক।
১৯৮২ সালের ২ মে সৌদি আরবে ওই সফরের পর অক্টোবরে তিনি ভারত সফর করেন।
আর ১৯৮৩ সালের ১১ ডিসেম্বর রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর এরশাদের প্রথম বিদেশ সফর ছিল মরক্কোতে। ১৯৮৪ সালের ১৬ জানুয়ারি কাসাব্লাঙ্কায় ওআইসির চতুর্থ শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দেন তিনি।
নব্বইয়ের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে এরশাদ সরকারের পতনের পর ১৯৯১ সালের মার্চে ক্ষমতায় আসেন জিয়াউর রহমানের স্ত্রী খালেদা জিয়া। ২১ মে ভারতের তৎকালীন সাবেক প্রধানমন্ত্রী রাজীব গান্ধী নিহত হলে তার অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ায় যোগ দিতে সংক্ষিপ্ত সফরে নয়া দিল্লি যান খালেদা জিয়া।
সরকারপ্রধান হিসেবে সেটাই খালেদা জিয়ার প্রথম বিদেশ সফর। এর পরপরই, ২৫ মে আনুষ্ঠানিক ও পূর্ণাঙ্গ রাষ্ট্রীয় সফরে তিনি সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে পৌঁছান।
সৌদি আরব থেকে তিনি যান কুয়েত ও সংযুক্ত আরব আমিরাতে। ওই সফরের প্রধান উদ্দেশ্য ছিল ২৯ এপ্রিলের প্রলয়ংকরী ঘূর্ণিঝড়ের পর বিদেশি সাহায্য সংগ্রহ করা।
১৯৯৬ সালের জুনে ক্ষমতায় আসেন বঙ্গবন্ধুর মেয়ে শেখ হাসিনা। পরের মাসে ওমরাহ করতে তিনি সৌদি আরবে যান। সরকারপ্রধানের দায়িত্ব নেওয়ার পর সেটাই তার প্রথম বিদেশ সফর।
ওই বছরের ১২ সেপ্টেম্বর প্রথম রাষ্ট্রীয় সফরে তিনি চীনে যান। পরে ডিসেম্বরে তিনি ভারত সফর করেন।
২০০১ সালের অক্টোবরে ক্ষমতায় ফেরার পর খালেদা জিয়ার দ্বিতীয় মেয়াদের প্রথম বিদেশ সফর ছিল সৌদি আরবে। সেখানে ওমরাহ পালনের পাশাপাশি তৎকালীন সৌদি বাদশাহ ফাহাদ বিন আবদুল আজিজের সঙ্গে তিনি দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করেন।
শেখ হাসিনা ক্ষমতায় ফেরেন ২০০৯ সালের জানুয়ারিতে। ওই বছরের এপ্রিলে প্রথম বিদেশ সফরে তিনিও সৌদি আরবে যান এবং ওমরাহ করার পাশাপাশি বাদশাহ আবদুল্লাহর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন।
২০১৪ সালে তৃতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় আসার পর ২৫-২৮ মে জাপান সফর করেন শেখ হাসিনা। পরের মেয়াদে ২০১৯ সালের ফেব্রুয়ারিতে তার প্রথম সফর ছিল জার্মানি ও সংযুক্ত আরব আমিরাতে। ২০২৪ সালে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে পঞ্চম মেয়াদেও শেখ হাসিনার প্রথম সফর ছিল জার্মানিতে।
ওই বছর অগাস্টে অভ্যুত্থানের মুখে শেখ হাসিনার সরকারের পতন হলে ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক তলানিতে পৌঁছায়। অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর মুহাম্মদ ইউনূস সেপ্টেম্বরের শেষে নিউ ইয়র্কে যান জাতিসংঘ অধিবেশনে যোগ দিতে। সেটাই তার প্রথম সরকারি সফর।
ক্ষমতায় থাকার দেড় বছরে তিনি অন্তত ১৪ বার বিদেশ সফরে যান। এর মধ্যে ২০২৫ সালের মার্চে যান চীনে। তবে ভারতে তার যাওয়া হয়নি।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না। একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন। গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে। জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে। সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে। কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে। প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে। আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’ সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না। এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।
আজ শুক্রবার (২১ আগস্ট) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় বঙ্গভবনে নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতির শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। এ উপলক্ষ্যে সুষ্ঠু ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার জন্য বঙ্গভবন ও আশপাশের এলাকায় বিশেষ ট্রাফিক ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)। বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) ট্রাফিক মতিঝিল বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) মো. আমীর খসরু স্বাক্ষরিত এক গণবিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। গণবিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, শপথ অনুষ্ঠানে বিদায়ী রাষ্ট্রপতি, নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, স্পিকার, প্রধান বিচারপতি, সাবেক রাষ্ট্রপতি, মন্ত্রিপরিষদ সদস্য, বিভিন্ন দেশের কূটনীতিক, উচ্চপদস্থ সরকারি কর্মকর্তা ও বিশিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত থাকবেন। অতিথিদের যানবাহন নির্বিঘ্নে চলাচল নিশ্চিত করতে ২১ আগস্ট বিকেল ৩টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত বঙ্গভবনের আশপাশের এলাকায় চলাচলকারী যানবাহনকে নির্ধারিত নির্দেশনা অনুসরণের অনুরোধ জানিয়েছে ডিএমপি। তবে আমন্ত্রিত অতিথিদের যানবাহনের ক্ষেত্রে এসব নির্দেশনা প্রযোজ্য হবে না। নির্দেশনা অনুযায়ী, মতিঝিল শাপলা চত্বরের অ্যালিকো গ্যাপ থেকে দিলকুশা বাণিজ্যিক এলাকা (বঙ্গভবন রোড) ও রাজউক ক্রসিং (ডিআইটি রোড) পর্যন্ত সব ধরনের যানবাহন প্রবেশ নিষিদ্ধ থাকবে। এ ছাড়া শাপলা চত্বর ও দৈনিক বাংলা থেকে রাজউক-গুলিস্তানগামী বাসগুলো দৈনিক বাংলা-ইউবিএল-প্রেসক্লাব হয়ে চলাচল করবে। প্রয়োজনে বাসগুলোকে অন্য সুবিধাজনক বিকল্প সড়ক ব্যবহারেরও পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। দৈনিক বাংলা থেকে রাজউকমুখী কোনো বাণিজ্যিক যানবাহন চলাচল করতে পারবে না। অন্যদিকে, হানিফ ফ্লাইওভার থেকে আসা যানবাহনগুলোকে জিরো পয়েন্ট থেকে ইউটার্ন না করে বামে ফুলবাড়িয়া অথবা ডান দিকে ইউবিএল ক্রসিং হয়ে দৈনিক বাংলা-শাপলা চত্বরের দিকে যেতে বলা হয়েছে। বিকল্প হিসেবে জিরো পয়েন্ট-ইউবিএল ক্রসিং-নাইটিঙ্গেল ক্রসিং-ফকিরাপুল ক্রসিং-শাপলা চত্বর-ইত্তেফাক রুট ব্যবহারের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। ডিএমপি আরও জানিয়েছে, সাময়িক ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার কারণে সংশ্লিষ্ট সড়ক ও এলাকায় যানবাহন চলাচলে বিঘ্ন ঘটতে পারে।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচন শেষে বাবা শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং মা প্রয়াত দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার কবর জিয়ারত করেছেনন বিএনপি চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) রাত ৮টায় কবর জিয়ারত করতে রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের জিয়া উদ্যানের পৌঁছেন তিনি। দীর্ঘ ৩৫ বছর পর জাতীয় সংসদে সরাসরি ভোটের মাধ্যমে দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হয়েছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। বৃহস্পতিবার বিকেল ৫টা ২০ মিনিটের দিকে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোট গণনা শেষে মির্জা ফখরুলকে বিজয়ী ঘোষণা করেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন। নির্বাচনে বৈধ ব্যালট পেপারের মধ্যে ১১ দলীয় ঐক্য জোটের প্রার্থী অবসরপ্রাপ্ত কর্নেল অলি আহমেদ পেয়েছেন ৮৮টি ভোট। এ ছাড়া বিএনপি মনোনীত মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ২৫৫টি ভোট পেয়েছেন। সে অনুযায়ী সর্বোচ্চ সংখ্যক ভোট পেয়ে যথাযথ প্রক্রিয়ায় রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হয়েছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। এর আগে, একই দিন দুপুর ২টা থেকে সংসদ ভবনের সংসদ কক্ষে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোটগ্রহণ শুরু হয়। এরপর প্রথমেই ভোট দেন ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হাফিজ উদ্দিন আহমদ (বীর বিক্রম), প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, বিএনপি মনোনীত রাষ্ট্রপতি পদপ্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, বিরোধী দলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। পরে বিকেল ৫টা পর্যন্ত একে একে সংসদ সদস্যরা নিজেদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন। পরে ভোটগ্রহণ শেষে ভোট গণনা শুরু হয়। এ সময় নির্বাচন কমিশনের সদস্যরাসহ চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি ও বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম পাশেই দাঁড়িয়ে ছিলেন। একপর্যায়ে ভোট গণনা শেষে দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণা করেন সিইসি এ এম এম নাসির উদ্দিন।
দেশের ৩৯টি ব্যাংকের পৃষ্ঠপোষকতায় গঠিত স্টার্টআপ বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ স্টার্টআপ ইনভেস্টমেন্ট কোম্পানি (বিএসআইসি) পিএলসি তাদের প্রথম ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে ওয়াইজ রহিমকে নিয়োগ দিয়েছে। বিএসআইসিকে বাংলাদেশের এক নম্বর প্রাতিষ্ঠানিক ভেঞ্চার ক্যাপিটাল প্ল্যাটফর্ম হিসেবে গড়ে তোলার পরবর্তী ধাপে যেতে এই নিয়োগকে প্রতিষ্ঠানটির জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের দিকনির্দেশনায় সম্প্রতি বিএসআইসি গঠিত হয়েছে, যার লক্ষ্য উচ্চ প্রবৃদ্ধিসম্পন্ন স্টার্টআপগুলোর জন্য দেশীয় প্রাতিষ্ঠানিক মূলধন সংগ্রহ করা এবং এ দেশের ভেঞ্চার ক্যাপিটাল ও উদ্ভাবনী ইকোসিস্টেমকে আরও শক্তিশালী করা। কোম্পানিটি ইতোমধ্যে তাদের প্রথম তহবিল ‘অঙ্কুর’ চালু করেছে। ৩৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার বা প্রায় ৪২৫ কোটি টাকার এই তহবিল দেশি ও বিদেশি বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে যৌথভাবে মিলে এদেশের স্টার্টআপ কোম্পানিগুলিতে বিনিয়োগ করা হবে। আগামী পাঁচ বছরে এ তহবিলের আকার ১,০০০ কোটি টাকা ছাড়িয়ে যাবে বলে আশা করা হচ্ছে, কারণ বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা অনুযায়ী এ দেশে কার্যরত ব্যাংকগুলিকে তাদের প্রতি বছরের বার্ষিক মুনাফার ১ শতাংশ এই স্টার্টআপ ইকুইটি ফান্ডে বিনিয়োগ করে যেতে হবে। বিএসআইসিতে যোগদানের আগে ওয়াইজ রহিম লন্ডনভিত্তিক ভেঞ্চার ক্যাপিটাল ও প্রাইভেট ইকুইটি প্রতিষ্ঠান স্টারজন ক্যাপিটালে বাংলাদেশ অংশের ভেঞ্চার পার্টনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। প্রতিষ্ঠানটি মধ্য এশিয়া, পাকিস্তান ও বাংলাদেশ জুড়ে প্রায় ৩০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার মূল্যের সম্পদ ব্যবস্থাপনা করে। স্টারজন ক্যাপিটালে তিনি বিনিয়োগের সুযোগ চিহ্নিতকরণ, বিনিয়োগযোগ্যতা যাচাই ও নিরীক্ষা এবং পোর্টফোলিও উন্নয়নের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। ২০১৭ সালে তিনি ডেলিগ্রাম নামের একটি ওমনিচ্যানেল ই-কমার্স প্ল্যাটফর্ম প্রতিষ্ঠা করেন, যার লক্ষ্য ছিল পাড়ার মুদি দোকানগুলোকে ই-কমার্স ফুলফিলমেন্ট নেটওয়ার্কে রূপান্তর করা। সিঙ্গাপুর ও নিউইয়র্কের প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে তিনি ২ দশমিক ৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের বেশি অর্থায়ন সংগ্রহের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন, যার মধ্য দিয়ে তিনি বাংলাদেশে বিদেশি ভেঞ্চার ক্যাপিটাল অর্থায়ন আনার বাস্তব চ্যালেঞ্জগুলো প্রত্যক্ষভাবে উপলব্ধি করেছেন। ওয়াইজ রহিম ইউনিভার্সিটি অব সাদার্ন ক্যালিফোর্নিয়া থেকে ইন্ডাস্ট্রিয়াল অ্যান্ড সিস্টেমস ইঞ্জিনিয়ারিং-এ উচ্চশিক্ষা সম্পন্ন করেন। ওয়াইজ রহিমের নিয়োগ প্রসঙ্গে বিএসআইসির চেয়ারম্যান এবং অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স বাংলাদেশের চেয়ারম্যান মাসরুর আরেফিন বলেন, ‘আমাদের প্রথম প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার নিয়োগ কোম্পানির জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। ওয়াইজ রহিমের মধ্যে ভেঞ্চার বিনিয়োগ অভিজ্ঞতা, উদ্যোক্তাসুলভ দৃষ্টিভঙ্গি এবং প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার সক্ষমতার এক বিরল সমন্বয় রয়েছে।’