জাতীয়

প্রবাসীদের মেধা কাজে লাগিয়ে ‘ব্রেন সার্কুলেশন’ করতে চায় সরকার: মাহদী আমিন

মারিয়া রহমান জুন ১৪, ২০২৬
‘বাণিজ্য, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও অর্থনৈতিক কূটনৈতিক কর্মপরিকল্পনা’ শীর্ষক সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন।
‘বাণিজ্য, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও অর্থনৈতিক কূটনৈতিক কর্মপরিকল্পনা’ শীর্ষক সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন।

প্রবাসীদের মেধা-দক্ষতাকে কাজে লাগিয়ে সরকার ‘ব্রেন ড্রেন’ থেকে ‘ব্রেন সার্কুলেশন’ করতে চায় বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন।  


শনিবার রাজধানীর একটি হোটেলে ‘বাণিজ্য, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও অর্থনৈতিক কূটনৈতিক কর্মপরিকল্পনা’ শীর্ষক সম্মেলনে অংশ নিয়ে তিনি এ কথা বলেন। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা) ওই সম্মেলনের আয়োজন করে।


মাহদী আমিন বলেন, ‘আমি মূলত ব্লু-কালার চাকরি নিয়ে কথা বলেছি। কিন্তু ভবিষ্যতে হোয়াইট-কালার চাকরির ক্ষেত্রেও আমরা নিশ্চিত করতে চাই , বিভিন্ন দেশে অবস্থানরত প্রবাসীরা আরও সক্রিয় ভূমিকা পালন করতে পারেন। আর যে ‘ব্রেইন ড্রেন’ আমরা ঐতিহাসিকভাবে দেখেছি, সেটিকে ‘ব্রেন সার্কুলেশনে’ রূপান্তর করতে চাই। যেখানে প্রবাসী ও বিদেশে অবস্থানরত বাংলাদেশিরা বাংলাদেশের উন্নয়নে সক্রিয় ভূমিকা রাখতে পারেন।’


তিনি বলেন, ‘তারা বাংলাদেশে আসতে পারেন, বিনিয়োগ করতে পারেন। তাদের জ্ঞান, অভিজ্ঞতা ও প্রযুক্তিগত দক্ষতা বাংলাদেশের ইকোসিস্টেমে স্থানান্তর করতে পারেন এবং অবশ্যই বিদেশে অবস্থানরত প্রবাসীরা ও বাংলাদেশে তাদের প্রতিনিধিরা বাণিজ্য ও বিনিয়োগের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারেন। যদি আমরা তাদের সঠিক নীতি ও সঠিক উপকরণ দিয়ে সহায়তা করতে পারি, তাহলে তা বাংলাদেশের বৈশ্বিক আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নে সহায়ক হবে।’


প্রধানমন্ত্রীর এ উপদেষ্টা বলেন, বিদেশে কর্মসংস্থান ও অভিবাসন বাংলাদেশে শুরু হয়েছিল শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সময়ে, যিনি বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা। আর যে মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধিত্ব করছি, সেই প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় প্রতিষ্ঠা করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া। সুতরাং, অভিবাসন শুরু হয়েছিল যখন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ক্ষমতায় ছিলেন এবং এটি বিকশিত হয়েছিল যখন বেগম খালেদা জিয়া প্রধানমন্ত্রী ছিলেন। তাই বৈদেশিক কর্মসংস্থান ও অভিবাসন বিএনপির রাজনৈতিক দল হিসেবে ডিএনএতেই রয়েছে।


তিনি বলেন, ‘যদি আমরা নির্বাচনের পূর্ববর্তী প্রচারণার দিকে তাকাই, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বারবার সেই ভিশনের কথা তুলে ধরেছেন, যা আমরা আমাদের জনগণের বিদেশে গিয়ে কাজ করার বিষয়ে ধারণ করি। তিনি জোর দিয়ে বলেছেন আমাদের অভিবাসন নীতি হতে হবে সুশৃঙ্খল, যাতে আমরা যথাযথ যাচাই-বাছাই ও এমন একটি প্রক্রিয়া অনুসরণ করি যা স্বচ্ছ, কার্যকর এবং যেখানে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে আমরা মধ্যস্বত্বভোগীর সংখ্যা কমিয়ে আনতে পারি। আমাদের ভিশন হলো বাজারের বহুমুখীকরণ।’ 


মাহদী আমিন বলেন, ‘শুধু অদক্ষ শ্রমিকদের জন্য নয়, বরং দক্ষতা উন্নয়ন ও সক্ষমতা বৃদ্ধির ওপর আরও বেশি গুরুত্ব দেওয়া, যাতে আমরা নিশ্চিত করতে পারি যে আরও বেশি দক্ষ মানুষ বিদেশে কাজ করতে পারে। শুধু কয়েকটি নির্দিষ্ট দেশে নয়, যদি আমরা সেই বাজারকেই বহুমুখী করতে পারি এবং একই সঙ্গে নারী অংশগ্রহণও নিশ্চিত করতে পারি, যা বর্তমানে প্রতি বছর প্রায় ৫ থেকে ৭ শতাংশ। আমরা উল্লেখযোগ্য সংখ্যক নারীকে বিদেশে পাঠাতে পারি, কারণ আমাদের দেশের জনসংখ্যার ৫০ শতাংশেরও বেশি নারী। তাই আমরা বাজারের বহুমুখীকরণ চাই, তারা যে ধরনের কাজে যাবে তার বহুমুখীকরণ চাই এবং জনসংখ্যাগত বৈচিত্র্যও চাই।’


তিনি বলেন, ‘সুশৃঙ্খল অভিবাসন নিশ্চিত করার জন্য আমরা “প্রবাসী কার্ড” বা “এক্সপ্যাট্রিয়েট কার্ড” চালুর ওপর গুরুত্ব দিচ্ছি। ভবিষ্যতে যখন আমরা এটি চালু করব, তখন বিদেশে যাওয়া প্রত্যেক বাংলাদেশিকে তাদের অবস্থান শনাক্ত করা সম্ভব হবে। এবং সেটি সরকারি অবকাঠামোর আওতায় থাকবে। পাশাপাশি আমরা ভিসা আবেদন প্রক্রিয়াকে আরও সহজ ও সুশৃঙ্খল করার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছি।’


উদাহরণস্বরূপ মাহদী আমিন বলেন, ভিসার জন্য আবেদনকারী প্রত্যেক বাংলাদেশির আর্থিক নথিপত্র কিউআর কোডের মাধ্যমে অনুসরণযোগ্য হবে, তাদের শিক্ষাগত সনদও অনুসরণযোগ্য হবে।


প্রধানমন্ত্রীর এ উপদেষ্টা বলেন, ‘আমরা ইতোমধ্যে দুই মাস আগেএকটি নতুন কর্মসূচি চালু করেছি, যার মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা যদি তৃতীয় ভাষা শিক্ষা বা স্বল্পমেয়াদি কোর্সের জন্য বিদেশে যেতে চায়, তাহলে তারা সর্বোচ্চ ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণ পেতে পারে। আমরা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে কাজ করছি এবং তারা ইতোমধ্যেই চাহিদা নিরূপণের কাজ শুরু করেছে। বাংলাদেশে একটি বিশাল জনমিতিক সুবিধা রয়েছে, যেখানে বিপুল সংখ্যক তরুণ-তরুণী বিদেশে যাওয়ার আকাঙ্ক্ষা পোষণ করে। তাই সরবরাহ প্রচুর, কিন্তু একই সঙ্গে আমাদের বুঝতে হবে অন্যান্য দেশে কী ধরনের চাহিদা রয়েছে, তারা কী ধরনের দক্ষতা ও সক্ষমতা চায়। এরপর আমরা আমাদের মানুষদের সেই অনুযায়ী আমাদের টিভিইটি (টেকনিক্যাল অ্যান্ড ভোকেশনাল এডুকেশন অ্যান্ড ট্রেইনিং) ব্যবস্থা এবং কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রগুলোতে প্রশিক্ষণ দেব।’ 


মাহদী আমিন বলেন, ‘সুতরাং, দেশভিত্তিক বৈশ্বিক চাহিদাকে আমরা আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থা ও কারিগরি প্রশিক্ষণ ব্যবস্থার সঙ্গে সংযুক্ত করব এবং সেই অনুযায়ী আমাদের জনগণকে প্রশিক্ষণ দেব। তবে আমরা সনদের গুরুত্বও বুঝি। তারা যে সনদগুলো অর্জন করছে, সেগুলোকে বৈশ্বিকভাবে গ্রহণযোগ্য করার জন্য আমরা বিভিন্ন আন্তর্জাতিক অংশীদারের সঙ্গে যোগাযোগ করছি, যাতে আমাদের মানুষ বিদেশে গেলে তাদের সনদগুলো গ্রহণকারী দেশগুলোতে স্বীকৃত হয়।’ 


তিনি বলেন, ‘সামগ্রিকভাবে আমরা অভিবাসনকে একটি বৃহত্তর ইকোসিস্টেমের অংশ হিসেবে দেখি, যেখানে আমরা আলাদাভাবে কাজ করতে পারি না। আমাদের গ্রহণকারী দেশগুলোর সঙ্গে কাজ করতে হবে, বৈশ্বিক সমন্বয়ের দৃষ্টিকোণ থেকে দেখতে হবে কীভাবে আমরা তাদের সঠিক উপকরণ, প্রশিক্ষণ এবং প্রয়োজনীয় ভাষাগত দক্ষতা দিতে পারি এবং নিশ্চিত করতে পারি যে অভিবাসন একটি স্বচ্ছ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সম্পন্ন হচ্ছে, যা শনাক্ত করা সম্ভব। কিছু ক্ষেত্রে আমরা বুঝি কিছু মানুষ নির্দিষ্ট কোনো দেশকে ট্রানজিট পয়েন্ট হিসেবে ব্যবহার করে। আমরা সেটিও বন্ধ করতে চাই। এবং সুশৃঙ্খল অভিবাসন প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে আমরা বিশ্বাস করি, আমাদের জনগণের যে সম্ভাবনা রয়েছে, আমরা তা উন্মোচন করতে পারব।’ 


মাহদী আমিন বলেন, ‘আরও একটি বিষয় আমি যোগ করতে চাই। অনেক দেশে বাংলাদেশি শ্রমিক গ্রহণ করা একটি অগ্রাধিকার, কারণ তারা শৃঙ্খলা প্রদর্শন করেছে। অবশ্যই ব্যয়-সাশ্রয়িতা একটি বিষয়, কিন্তু কর্মদক্ষতাও গুরুত্বপূর্ণ। রাষ্ট্রের প্রয়োজনীয় মাত্রার সহায়তা ছাড়াই যদি তারা এভাবে সফল হতে পারে, তাহলে আমি বিশ্বাস করি যে যখন নীতিগত সমন্বয় হবে, তখন তারা আরও এগিয়ে যেতে পারবে এবং আরও বেশি সুযোগ পাবে। আর গ্রহণকারী বা আতিথ্যদানকারী দেশগুলোও আরও বেশি বাংলাদেশিকে গ্রহণ করবে।’ 


প্রতিমন্ত্রী পদমর্যাদার উপদেষ্টাদের মধ্যে মাহদী আমিন শিক্ষা মন্ত্রণালয়, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এবং শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে রয়েছেন।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

শুল্কমুক্ত সুবিধায় ব্যবসায়ীদের আগ্রহে ভাটা

পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না।   একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।   এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন।   গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে।   জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে।   সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে।   কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে।   প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে।   আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’   সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না।   এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।

ছবি: সংগৃহীত
বিমানবন্দরের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সরকারের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার: বিমানমন্ত্রী

বিমানবন্দরে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা বর্তমান সরকারের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার বলে জানিয়েছেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত।   সোমবার (৫ অক্টোবর) সকালে রাজধানীর হযরত শাহ্জালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলার মহড়া ‘এয়ারপোর্ট ইমার্জেন্সি এক্সারসাইজ’ পরিদর্শন শেষে তিনি এ কথা বলেন। বিমানমন্ত্রী বলেন, একটি আধুনিক নিরাপদ এভিয়েশন হাব প্রতিষ্ঠার গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি হলো অগ্নিনিরাপত্তা ও জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলার সক্ষমতা।   অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে গত বছরের অক্টোবরে বিমানবন্দরের আমদানি কার্গো কমপ্লেক্সে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছিল। এতে বিপুল ক্ষয়ক্ষতিসহ দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়েছিল। তাই বিমানবন্দরে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা বর্তমান সরকারের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। তিনি বলেন, আমরা ক্ষমতা গ্রহণের পর দেশের বিমান খাতে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী জাতীয় বেসামরিক বিমান চলাচল নিরাপত্তা কমিটি গঠন করা হয়েছে। শিগগিরই আমাদের আইকাও (আইসিএও) অডিট অনুষ্ঠিত হবে।   তাদের পর্যবেক্ষণের সঙ্গে দেশের ভাবমূর্তি জড়িত। তাই আইকাওর পক্ষ থেকে যেসব বিষয়ে পর্যবেক্ষণ আসতে পারে, সেসব বিষয়ে পরিপালন নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে। ভিআইপি এবং সিআইপিসহ সবার জন্যই নিরাপত্তা প্রোটোকল সমান উল্লেখ করে এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত বলেন, বিমানবন্দরের নিরাপত্তা নিশ্চিতে সবাইকে সমানভাবে প্রোটোকল অনুসরণ করতে হবে। মন্ত্রী বলেন, আমরা দেখেছি অগ্নি দুর্ঘটনার সময় অনুমোদনহীন ড্রোন উড়ার ঘটনা ঘটেছিল।   বিমানবন্দর রাষ্ট্রের কেপিআইভুক্ত (গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা) এলাকা। তাই বিমানবন্দর এলাকায় অনুমোদনহীন ড্রোনের উড্ডয়ন বন্ধে এন্ট্রি ড্রোন সিস্টেম স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হবে। এছাড়া নিরাপত্তার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট যন্ত্রপাতি, স্ক্যানার প্রয়োজনীয় সংখ্যার তুলনায় বেশি থাকতে হবে।   বিমানবন্দরে কোনো দুর্ঘটনা বা অগ্নিকাণ্ডের ক্ষেত্রে প্রথম কয়েক মিনিট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলেও মনে করেন তিনি। তিনি বলেন, অগ্নি দুর্ঘটনা মোকাবিলায় রেসপন্স টাইম আরও কমিয়ে আনতে হবে। ফায়ার সার্ভিস, এয়ারপোর্ট অপারেশনস, সিকিউরিটি, মেডিকেল টিম এবং অন্যান্য সংশ্লিষ্ট সংস্থার মধ্যে তাৎক্ষণিক যোগাযোগ ও সমন্বয় নিশ্চিত করতে হবে।   ক্রাইসিস ম্যানেজমেন্ট নিশ্চিতে প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও সংস্থাগুলোর সঙ্গে এমওইউ স্বাক্ষরের উদ্যোগ নেওয়া হবে। পর্যটনমন্ত্রী বলেন, আমাদের প্রতিটি কার্যক্রমের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন সম্মানিত যাত্রীরা। তাদের নিরাপদ, নির্বিঘ্ন ও স্বাচ্ছন্দ্যময় ভ্রমণ নিশ্চিত করা আমাদের সবার দায়িত্ব। এজন্য আমাদের সবসময় সর্বোচ্চ সতর্ক থাকতে হবে, যাতে যাত্রীরা বিমানবন্দরে এসে আন্তর্জাতিক মানের সেবা পান এবং নিরাপদে তাদের গন্তব্যে পৌঁছাতে পারেন। আমাদের লক্ষ্য হতে হবে জিরো কম্প্রোমাইজ অন এভিয়েশন সেফটি।   তিনি বলেন, আজকের এই মহড়া আমাদের প্রস্তুতিকে আরও কার্যকর ও বাস্তবসম্মত করে তুলবে বলে আমি বিশ্বাস করি। মহড়া পরবর্তী মূল্যায়নের মাধ্যমে যেসব সুপারিশ আসবে, সেগুলো বাস্তবায়নের মাধ্যমে আমরা আমাদের জরুরি ব্যবস্থাপনা সক্ষমতাকে আরও উন্নত করতে হবে। সম্মিলিত প্রচেষ্টা এবং সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমেই যে কোনো দুর্যোগ সফলভাবে মোকাবিলা করা সম্ভব।

মো: দেলোয়ার হোসাইন অক্টোবর ০৫, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

নিরাপদ বাসস্থান নিশ্চিত করতে সরকারের দৃঢ় অঙ্গীকার: প্রধানমন্ত্রী

ছবি: সংগৃহীত

কুমিল্লায় সিএনজি স্টেশনে আগুন, ফায়ার ফাইটার আহত

ছবি: সংগৃহীত

জামুকার নতুন মহাপরিচালক মোস্তফা জামান

ছবি: সংগৃহীত
ডিএমপির তিন এসিকে নতুন দায়িত্বে বদলি

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) তিন সহকারী পুলিশ কমিশনারকে (এসি) বদলি করে নতুন কর্মস্থলে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। জনস্বার্থে জারি করা এ আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে।   রোববার (৪ অক্টোবর) ডিএমপির উপপুলিশ কমিশনার (সদরদপ্তর ও প্রশাসন) মো. শাহরিয়ার আলী স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে এ বদলি ও পদায়নের তথ্য জানানো হয়।   আদেশ অনুযায়ী, ট্রাফিক-রমনা বিভাগের ট্রাফিক-নিউমার্কেট জোনের সহকারী পুলিশ কমিশনার তোয়াহা ইয়াসীন হোসেনকে গোয়েন্দা-তেজগাঁও বিভাগে বদলি করা হয়েছে। সেখানে তিনি সংঘবদ্ধ অপরাধ ও গাড়ি চুরি টিমের সহকারী পুলিশ কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।   এদিকে মতিঝিল বিভাগের পেট্রোল-খিলগাঁওয়ের সহকারী পুলিশ কমিশনার মো. মালিক নাজমুল হায়দারকে ট্রাফিক-রমনা বিভাগের ট্রাফিক-নিউমার্কেট জোনে সহকারী পুলিশ কমিশনার হিসেবে পদায়ন করা হয়েছে।   অন্যদিকে ওয়ারী বিভাগের পেট্রোল-ওয়ারীর সহকারী পুলিশ কমিশনার মো. শামসুল আলম খানকে ট্রাফিক-লালবাগ বিভাগে বদলি করা হয়েছে। নতুন কর্মস্থলে তিনি ট্রাফিক-লালবাগ জোনের সহকারী পুলিশ কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।   অফিস আদেশে উল্লেখ করা হয়েছে, পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত জনস্বার্থে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নতুন কর্মস্থলে বদলি করা হয়েছে। আদেশটি জারির সঙ্গে সঙ্গেই কার্যকর হয়েছে।

আক্তারুজ্জামান অক্টোবর ০৫, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

রাবিতে সাংবাদিক-শিক্ষার্থীদের ওপর হামলায় শিবিরের প্রতিবাদ

ছবি: সংগৃহীত

জাপান সফর শেষে দেশে ফিরেছে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রীর নেতৃত্বাধীন প্রতিনিধি দল

ছবি: সংগৃহীত

কারা অধিদপ্তরের নতুন মহাপরিদর্শক আনোয়ারুল কবীর

ছবি: সংগৃহীত
ওমানে বাংলাদেশের দক্ষ মৎস্যকর্মীদের কর্মসংস্থানের সম্ভাবনা

বাংলাদেশ থেকে প্রশিক্ষিত ও দক্ষ মৎস্য জনবল নেওয়ার বিষয়ে আগ্রহ প্রকাশ করেছে ওমান। দেশটির শ্রম মন্ত্রণালয়ের উচ্চপর্যায়ের একটি প্রতিনিধিদল বাংলাদেশি দক্ষ জনবল নিয়োগের বিষয়ে আগ্রহের কথা জানিয়েছে।   রোববার (৪ অক্টোবর) মৎস্য অধিদপ্তরে ওমানের শ্রম মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধিদলের সঙ্গে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে এ আগ্রহের কথা জানানো হয়। মৎস্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) ড. মো. খালেদ কনকের সঙ্গে প্রতিনিধিদলের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।   বাংলাদেশ সফরের অংশ হিসেবে ওমানের প্রতিনিধিদল মৎস্য অধিদপ্তর পরিদর্শন করে। বৈঠকে বাংলাদেশের মৎস্য খাতে বিদ্যমান প্রশিক্ষণ ব্যবস্থা, অবকাঠামো, শিক্ষা কার্যক্রম এবং দক্ষ জনবল তৈরির বিভিন্ন উদ্যোগ সম্পর্কে তাদের অবহিত করা হয়।   এ সময় মৎস্য অধিদপ্তরের ডিপ্লোমা ইনস্টিটিউটগুলোর কার্যক্রম, প্রশিক্ষণ কারিকুলাম, অবকাঠামো ও জনবল নিয়ে একটি পাওয়ার পয়েন্ট উপস্থাপনা করেন ব্লু ইকোনমি উইংয়ের সিনিয়র সহকারী পরিচালক ড. মোহাম্মদ শরিফুল আজম।   এ ছাড়া চট্টগ্রামের বাংলাদেশ মেরিন ফিশারিজ একাডেমির অবকাঠামো এবং সেখানে পরিচালিত বিভিন্ন কোর্স ও প্রশিক্ষণ কারিকুলাম সম্পর্কেও ওমানের প্রতিনিধিদের বিস্তারিত জানানো হয়।   বৈঠকে মৎস্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) ড. মো. খালেদ কনক বলেন, বাংলাদেশ জাতীয় ও আন্তর্জাতিক মান অনুসরণ করে মৎস্য খাতে দক্ষ জনবল তৈরি করছে। দেশের প্রশিক্ষিত মৎস্য জনবল বিশ্বের বিভিন্ন দেশে দক্ষতার সঙ্গে কাজ করছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।   ওমানের শ্রম মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধিদের উদ্দেশে তিনি বাংলাদেশ থেকে প্রশিক্ষিত জেলে, ডেকহ্যান্ড, স্কিপার, মৎস্য প্রকৌশলী এবং অ্যাকুয়াকালচারে বিশেষায়িত ডিপ্লোমা ডিগ্রিধারীদের জন্য ওমানে কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরির আহ্বান জানান।   তিনি বলেন, বাংলাদেশের প্রশিক্ষিত জনবলকে ওমানে কাজের সুযোগ দেওয়া হলে উভয় দেশের মৎস্য খাতের উন্নয়নের পাশাপাশি দক্ষ মানবসম্পদ উন্নয়নেও সহযোগিতার নতুন ক্ষেত্র তৈরি হতে পারে।   বৈঠকে ড. খালেদ কনক ওমানের প্রতিনিধিদলকে বাংলাদেশের মৎস্য ডিপ্লোমা ইনস্টিটিউট এবং চট্টগ্রামের বাংলাদেশ মেরিন ফিশারিজ একাডেমি পরিদর্শনের আমন্ত্রণ জানান। এসব প্রতিষ্ঠান পরিদর্শনের মাধ্যমে বাংলাদেশে প্রশিক্ষিত মেরিন ক্যাডেট ও ডিপ্লোমা ডিগ্রিধারীদের দক্ষতা সম্পর্কে সরাসরি ধারণা নেওয়ার সুযোগ হবে বলে তিনি জানান।   বৈঠক শেষে ওমানের প্রতিনিধিদল বাংলাদেশের মৎস্য খাতে কর্মরত ও প্রশিক্ষিত জনবলের দক্ষতার বিষয়ে সন্তোষ প্রকাশ করে। একই সঙ্গে বাংলাদেশ থেকে প্রশিক্ষিত ও দক্ষ মৎস্য জনবল নেওয়ার বিষয়ে তারা আগ্রহ প্রকাশ করে।

আক্তারুজ্জামান অক্টোবর ০৫, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

ট্রাইব্যুনালে জুলাইযোদ্ধার জবানবন্দি: গুলিবিদ্ধ হয়ে পা হারানোর দাবি

ছবি: সংগৃহীত

জমি নিয়ে বিরোধে দুই ভাইয়ের সংঘর্ষ, লাঠির আঘাতে ছোট ভাই নিহত

ছবি: সংগৃহীত

এক বছরের মধ্যেই দেশের পুঁজিবাজারে বড় পরিবর্তন আসবে: অর্থমন্ত্রী

0 Comments