ফ্রান্সে হান্টাভাইরাস সংক্রমণ: প্রশাসনের কঠোর নজরদারি
ফ্রান্সে হান্টাভাইরাস সংক্রমণের একটি ঘটনা শনাক্ত হওয়ার পর দেশটির স্বাস্থ্য প্রশাসন সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি করেছে। দক্ষিণ আমেরিকা থেকে ফেরা একটি ক্রুজ জাহাজের এক যাত্রীর শরীরে ভাইরাসটির উপস্থিতি ধরা পড়ার পর তাকে আইসোলেশনে রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে এবং সংক্রমণ পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।
জানা গেছে, এমভি হন্ডিয়ুস নামের ওই জাহাজে ভ্রমণের সময় কয়েকজন যাত্রীর মধ্যে অসুস্থতার লক্ষণ দেখা দেয়। পরে তাদের বিশেষ পর্যবেক্ষণে নেওয়া হলে এক ফরাসি নাগরিকের শরীরে হান্টাভাইরাস শনাক্ত হয়। এরপর তাকে দ্রুত আলাদা চিকিৎসা ব্যবস্থায় রাখা হয়।
ফরাসি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এবং দেশটির জনস্বাস্থ্য সংস্থা সান্তে পুবলিক ফ্রঁস জানিয়েছে, আক্রান্ত ব্যক্তির সংস্পর্শে আসা যাত্রী, জাহাজকর্মী এবং সংশ্লিষ্ট সবাইকে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। একই সঙ্গে সংক্রমণের সম্ভাব্য বিস্তার ঠেকাতে কনট্যাক্ট ট্রেসিং কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে।
ফ্রান্সের প্রধানমন্ত্রী এক বিবৃতিতে পরিস্থিতি নিয়ে জনগণকে আশ্বস্ত করে বলেন, সরকার বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে এবং জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় প্রয়োজনীয় সব ধরনের ব্যবস্থা দ্রুততার সঙ্গে নেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, আক্রান্ত ব্যক্তির চিকিৎসা নিশ্চিত করার পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট সব পর্যায়ে প্রতিরোধমূলক কার্যক্রম চলছে। বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং নাগরিকদের আতঙ্কিত না হয়ে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার আহ্বান জানানো হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, হান্টাভাইরাস সাধারণত ইঁদুরজাতীয় প্রাণীর মাধ্যমে ছড়ায়। সংক্রমিত প্রাণীর মল, মূত্র বা লালার সংস্পর্শে এলে মানুষ আক্রান্ত হতে পারে। কিছু ক্ষেত্রে দূষিত ধুলাবালি শ্বাসের মাধ্যমে শরীরে প্রবেশ করলেও সংক্রমণের ঝুঁকি থাকে। তবে সাধারণভাবে এ ভাইরাস মানুষ থেকে মানুষে সহজে ছড়ায় না।
ফ্রান্সে বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যেও এ খবর ছড়িয়ে পড়ার পর কিছুটা উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে বিভিন্ন শ্রমনির্ভর খাতে কর্মরত অনেকেই নিজেদের কর্মস্থল ও বাসস্থানের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা নিয়ে বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করছেন।
ফরাসি স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ইঁদুর নিয়ন্ত্রণ, খাবার সুরক্ষিতভাবে সংরক্ষণ এবং ঘরবাড়ি ও কর্মস্থল পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার বিষয়ে সবাইকে বিশেষভাবে সতর্ক থাকতে হবে। প্রয়োজনে মাস্ক ও গ্লাভস ব্যবহারের পরামর্শও দেওয়া হয়েছে।
বর্তমানে পুরো পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে ফরাসি প্রশাসন এবং আন্তর্জাতিক স্বাস্থ্য সংস্থাগুলো।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না। একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন। গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে। জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে। সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে। কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে। প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে। আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’ সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না। এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনা আরও বাড়ার আশঙ্কা এবং যুক্তরাষ্ট্রের উপকূলে ঘূর্ণিঝড়ের হুমকিতে উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার শঙ্কায় বিশ্ববাজারে তেলের দাম দ্রুত বেড়েছে। একই সঙ্গে তেলের দাম বৃদ্ধির প্রভাবে বিশ্বজুড়ে বন্ড ও শেয়ারবাজারে বিক্রির চাপও বেড়েছে। বৃহস্পতিবার আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের বেঞ্চমার্ক ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ৩ দশমিক ৮ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ১০৪ ডলারে পৌঁছায়। বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত আরও ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কায় জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। এর সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের মেক্সিকো উপসাগরীয় অঞ্চলে ঘূর্ণিঝড়ের কারণে তেল উৎপাদন কমে যাওয়ার আশঙ্কা যোগ হওয়ায় বাজারে সরবরাহ-সংকটের ভয় আরও তীব্র হয়েছে। ইরানে হামলার সম্ভাবনা নিয়ে নতুন উদ্বেগ তেলের দাম বৃদ্ধির অন্যতম প্রধান কারণ হিসেবে সামনে এসেছে ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য সামরিক পদক্ষেপের খবর। দ্য আটলান্টিকের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে ইরানে হামলার সম্ভাব্য পরিকল্পনা তৈরি করতে পেন্টাগনকে নির্দেশ দিয়েছে হোয়াইট হাউস। প্রতিবেদনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের কয়েকজন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কর্মকর্তার বরাত দিয়ে বলা হয়, সম্ভাব্য হামলার পরিধি, লক্ষ্যবস্তু এবং আদৌ হামলা চালানো হবে কি না- এসব বিষয় এখনও আলোচনায় রয়েছে। প্রতিবেদনটি প্রকাশের পর ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাত নতুন করে তীব্র হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এর আগে ধারণা করা হচ্ছিল, আগামী মাসের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে ট্রাম্প প্রশাসন সংঘাত আর বাড়াতে চাইবে না। তবে দ্য আটলান্টিকের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রথমে একটি ‘সীমিত অভিযান’ চালানো হতে পারে এবং মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর আরও বড় ধরনের সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার বিষয়টি বিবেচনায় থাকতে পারে। হরমুজে জাহাজে হামলা, সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ ইরানের বিরুদ্ধে আরেক দফা হামলার আশঙ্কা মধ্যপ্রাচ্য থেকে তেল সরবরাহের ঝুঁকি আরও বাড়িয়েছে। ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যুদ্ধ ইতোমধ্যে অষ্টম মাসে প্রবেশ করেছে। এর মধ্যে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিতে তেলবাহী জাহাজে হামলার ঘটনা যুদ্ধ শুরুর পর সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। এসব হামলার ফলে গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথ দিয়ে জাহাজ চলাচল কমেছে এবং বিশ্ববাজারে তেল সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ আরও গভীর হয়েছে। সর্বশেষ বুধবার কাতারের উত্তর উপকূলের কাছে একটি তেলবাহী জাহাজে একাধিক প্রজেক্টাইল আঘাত হানে। এতে হতাহতের ঘটনা ঘটেছে বলে জানিয়েছে যুক্তরাজ্যের মেরিটাইম ট্রেড অপারেশনস। হরমুজ প্রণালি বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ। এই পথে চলাচল ব্যাহত হলে বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেল ও অন্যান্য জ্বালানি পণ্যের সরবরাহে বড় ধরনের চাপ তৈরি হতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রে ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবেও উৎপাদন কমার শঙ্কা মধ্যপ্রাচ্যের পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের মেক্সিকো উপসাগরীয় অঞ্চলে তেল উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কাও তেলের দাম বাড়িয়েছে। আটলান্টিক মহাসাগরের চলতি মৌসুমের প্রথম হারিকেনে পরিণত হয়েছে গ্রীষ্মমণ্ডলীয় ঝড় ‘ইসাইয়াস’। ঝড়টি মেক্সিকো উপসাগরের দিকে অগ্রসর হওয়ায় ওই অঞ্চলে তেল ও গ্যাস উৎপাদন কার্যক্রমে বিঘ্ন ঘটার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। ঝড়ের প্রভাবে সম্ভাব্য ক্ষয়ক্ষতি এড়াতে তেল কোম্পানি শেল ও শেভরন জানিয়েছে, তারা ওই অঞ্চলে তাদের কিছু উৎপাদন কার্যক্রম বন্ধ করে দিচ্ছে। পূর্বাভাস অনুযায়ী, ঝড়টি শুক্রবার অথবা শনিবার স্থলভাগে আঘাত হানতে পারে। ফলে একদিকে মধ্যপ্রাচ্যে ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার কারণে সরবরাহ নিয়ে অনিশ্চয়তা, অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রে প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে উৎপাদন কমার আশঙ্কা- দুই ধরনের ঝুঁকি একই সময়ে তেলের বাজারে চাপ তৈরি করেছে। জ্বালানি ব্যয় বাড়ায় মূল্যস্ফীতির আশঙ্কা জ্বালানির দাম বৃদ্ধির সঙ্গে বিশ্বব্যাপী পরিবহন ব্যয়ও বাড়তে শুরু করেছে। বৃহস্পতিবার ডেনমার্কভিত্তিক শিপিং কোম্পানি মারস্ক জানিয়েছে, তারা সব রফতানি পণ্য সংগ্রহ এবং আমদানি পণ্য সরবরাহের ক্ষেত্রে জরুরি জ্বালানি সারচার্জ বাড়াচ্ছে। জ্বালানি ব্যয় বাড়ার ফলে পণ্য পরিবহন থেকে শুরু করে শিল্প উৎপাদন ও ভোক্তা পর্যায়ে বিভিন্ন পণ্যের দাম বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এতে বিশ্ব অর্থনীতিতে মূল্যস্ফীতির চাপ আরও বাড়তে পারে বলে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। মূল্যস্ফীতির চাপ বাড়লে তা নিয়ন্ত্রণে কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোকে সুদের হার বাড়ানোর পথে যেতে হতে পারে- এমন আশঙ্কাও জোরালো হয়েছে। এর প্রভাব পড়ছে বিশ্বজুড়ে বন্ড ও শেয়ারবাজারে। বন্ডবাজারেও বিক্রির চাপ বৃহস্পতিবারও বৈশ্বিক বন্ডবাজারে বিক্রির চাপ অব্যাহত ছিল। বিশেষ করে ঋণের বোঝা ও সরকারি ব্যয় নিয়ে উদ্বেগের কারণে ফ্রান্সের বাজারে চাপ ছিল বেশি। ফ্রান্সের ১০ বছর মেয়াদি সরকারি বন্ডের সুদহার বৃহস্পতিবার ৬ বেসিস পয়েন্ট বেড়ে ৪ দশমিক ৯৩১ শতাংশে পৌঁছেছে। গত সপ্তাহে এই সুদহার ৪ দশমিক ৯৯৪ শতাংশে উঠেছিল, যা ২৪ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ের কাছাকাছি। বন্ডের দাম কমলে তার সুদহার বা ইয়িল্ড বাড়ে। ফলে ফ্রান্সের বন্ড ইয়িল্ডের এই বৃদ্ধি দেশটির ঋণ ও সরকারি ব্যয় নিয়ে বিনিয়োগকারীদের উদ্বেগের প্রতিফলন হিসেবে দেখা হচ্ছে। ইউরোপের ঋণবাজারের অন্যতম প্রধান সূচক জার্মানির ১০ বছর মেয়াদি সরকারি বন্ডের ইয়িল্ডও বৃহস্পতিবার ২ বেসিস পয়েন্ট বেড়ে ৩ দশমিক ৫০৪ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। সব মিলিয়ে মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ আরও বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কা, হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলের ঝুঁকি, যুক্তরাষ্ট্রে ঘূর্ণিঝড়ের কারণে তেল উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার শঙ্কা এবং বাড়তে থাকা পরিবহন ব্যয়—এসব কারণে বিশ্ব জ্বালানি বাজারে নতুন করে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। তেলের দাম আরও বাড়লে তার প্রভাব মূল্যস্ফীতি, সুদের হার এবং বৈশ্বিক অর্থনীতির প্রবৃদ্ধিতেও পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বাজারসংশ্লিষ্টরা। সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান
ইউক্রেনের বিভিন্ন অঞ্চলে রাতভর ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে রাশিয়া। বুধবার (৭ অক্টোবর) চালানো এসব হামলায় অন্তত ২৮ জন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে পাঁচজন শিশু রয়েছে। দেশটির উত্তরাঞ্চলীয় চেরনিহিভ প্রদেশের প্রিলুকি জেলায় একটি আবাসিক ভবনে ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানলে ঘুমন্ত অবস্থায় কয়েকজন শিশুর মৃত্যু হয়। বিস্ফোরণের তীব্রতায় পাঁচতলা ভবনটির বড় একটি অংশ ধ্বংস হয়ে যায়। ছড়িয়ে পড়ে কংক্রিটের ধ্বংসাবশেষ ও ধাতব কাঠামো। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি জানান, নিহত শিশুদের মধ্যে তিনজনের বয়স মাত্র এক বছর এবং অপর একজনের বয়স আট বছর। পরে ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে আরও একটি শিশুর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্টের কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, শুধু প্রিলুকির ওই আবাসিক ভবনেই ২০ জন নিহত হয়েছেন। হামলায় আহত হয়েছেন আরও অনেকে। জেলেনস্কি জানান, আহতদের মধ্যে সাতজন শিশুও রয়েছে। রুশ হামলাকে বেসামরিক জনগণ ও আবাসিক এলাকাকে লক্ষ্য করে পরিচালিত হামলা হিসেবে উল্লেখ করে এর সমালোচনা করেছেন জেলেনস্কি। তার ভাষ্য, ইউক্রেনের জনগণ ও শিশুদের বিরুদ্ধে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনের ধারাবাহিক ব্যবহার সন্ত্রাস সৃষ্টির পরিকল্পিত পদক্ষেপ। হামলার ভয়াবহতার বর্ণনা দিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারাও। ৪০ বছর বয়সী ম্যাসাজ থেরাপিস্ট ওলেনা সায়ুন এএফপিকে জানান, হামলার সময় তারা বাসায় ঘুমিয়ে ছিলেন। বিস্ফোরণে জানালার কাচ ভেঙে যায় এবং স্বামী-স্ত্রী দুজনেই সামান্য আহত হন। সন্তানকে নিয়ে তারা দ্রুত বাথরুমে আশ্রয় নেন। স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য অনুযায়ী, বুধবার সকাল সাড়ে ৬টার দিকে প্রিলুকি এলাকায় হামলা শুরু হয়। এর আগের দিন প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি রাশিয়ার সম্ভাব্য বড় ধরনের হামলা নিয়ে সতর্ক করেছিলেন। বিশেষ করে জ্বালানি অবকাঠামোকে লক্ষ্যবস্তু করার আশঙ্কার কথা জানিয়েছিলেন তিনি। শীত মৌসুম সামনে রেখে ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভসহ বিভিন্ন এলাকায় বিমান হামলার সতর্কতা বেড়েছে। নিরাপত্তার জন্য অনেক বাসিন্দা ব্যাগ, কম্বল ও প্রয়োজনীয় সামগ্রী নিয়ে রাত কাটাতে সাবওয়ে স্টেশনগুলোতে আশ্রয় নেন। কিয়েভের এক ব্যাংক কর্মকর্তা ইরিনা রিবালচেঙ্কো এএফপিকে বলেন, হামলার আশঙ্কায় তারা প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র নিয়ে মেট্রো স্টেশনে চলে এসেছেন। তার মতে, শহরের মানুষের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে এবং কর্মস্থল ও বিভিন্ন জায়গা থেকে নিরাপদ থাকার সতর্কবার্তা দেওয়া হচ্ছিল। ইউক্রেনের বিমান বাহিনী জানিয়েছে, বুধবার দিনিপ্রোপেত্রোভস্ক, কিয়েভ, খারকিভ ও পোলতাভাসহ বিভিন্ন অঞ্চলে অন্তত ৫০টি ক্ষেপণাস্ত্র এবং ১৩০টি ড্রোন ব্যবহার করে হামলা চালানো হয়। জেলেনস্কি এই হামলাকে চলমান যুদ্ধের অন্যতম ভয়াবহ হামলা হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, কিছু ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন প্রতিহত করা সম্ভব হলেও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র মোকাবিলা করা সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। এ কারণে ইউক্রেনের আরও আধুনিক আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা প্রয়োজন। প্রিলুকিতে ক্ষতিগ্রস্ত ভবনের কাছে বসবাসকারী ৩১ বছর বয়সী ইউলিয়া শামরাই বলেন, রুশ হামলার মাধ্যমে কী সামরিক লক্ষ্য অর্জন করা হয়েছে, তা তার বোধগম্য নয়। সূত্র: এএফপি
জাতীয় স্বার্থ সুরক্ষায় কূটনীতির ওপর গুরুত্ব দেওয়ার কথা জানিয়েছে ইরান। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি বলেছেন, ইরান যেমন নিজের আত্মরক্ষায় দৃঢ়প্রতিজ্ঞ, তেমনি দেশের স্বার্থ ও জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কূটনীতির পথ ব্যবহারে তারা বেশ আন্তরিক। নিজের টেলিগ্রাম চ্যানেলে দেওয়া এক বার্তায় আরাগচি জানান, সম্প্রতি নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে অংশ নেওয়া ইরানি প্রতিনিধিদল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কাছে একটি সাত দিনের প্রস্তাবিত শান্তি পরিকল্পনা পেশ করেছে। হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালুর উদ্দেশ্যেই মূলত এই পরিকল্পনাটি দেওয়া হয়েছিল। তবে এই প্রস্তাব পেশ করার একদিন পরেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সেই প্রস্তাব নাকচ করে দেন। এরপর যুদ্ধ বন্ধের লক্ষে নতুন করে আলোচনা পুনরুজ্জীবিত করার জন্য মার্কিন কর্মকর্তাদের পক্ষ থেকে একটি পাল্টা প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। সূত্র: আল-জাজিরা।