আন্তর্জাতিক

ফিলিস্তিনপন্থি বিক্ষোভে গ্রেফতার গ্রেটা থুনবার্গ, পরে জামিনে মুক্ত

আক্তারুজ্জামান ডিসেম্বর ২৪, ২০২৫

যুক্তরাজ্যে ফিলিস্তিনপন্থি বিক্ষোভের সময় পুলিশের হাতে আটক হয়েছেন আলোচিত সুইডিশ অধিকারকর্মী গ্রেটা থুনবার্গ। গ্রেফতারের পর মঙ্গলবার (২৪ ডিসেম্বর) তাকে হেফাজত থেকে মুক্তি দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

 

যুক্তরাজ্যভিত্তিক আন্দোলনকারী সংগঠন প্রিজনার্স ফর প্যালেস্টাইন জানিয়েছে, 'আমি প্যালেস্টাইন অ্যাকশন বন্দিদের সমর্থন করি। আমি গণহত্যার বিরোধিতা করি'—এমন লেখা সংবলিত একটি প্ল্যাকার্ড বহনের অভিযোগে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে গ্রেটা থুনবার্গকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। 

 

 

ব্রিটিশ সরকার ‘প্যালেস্টাইন অ্যাকশন’কে নিষিদ্ধ ঘোষণা করে সন্ত্রাসী সংগঠনের তালিকাভুক্ত করেছে। সিটি অব লন্ডন পুলিশ জানায়, গ্রেটাকে আগামী মার্চ পর্যন্ত জামিনে মুক্তি দেওয়া হয়েছে।

 

পুলিশ আরও জানায়, ওই বিক্ষোভে একটি ভবনে লাল রং নিক্ষেপের অভিযোগে আরও দুইজনকে গ্রেফতার করা হয়। পরে ঘটনাস্থলে আসা ২২ বছর বয়সী এক নারীকে নিষিদ্ধ সংগঠনের পক্ষে প্ল্যাকার্ড প্রদর্শনের অভিযোগে গ্রেফতার করা হয়।

 

প্রিজনার্স ফর প্যালেস্টাইন জানিয়েছে, যেই ভবনটিকে লক্ষ্য করা হয়েছিল, সেটি একটি বীমা প্রতিষ্ঠানের ব্যবহৃত ভবন। তাদের দাবি, ওই প্রতিষ্ঠান ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা কোম্পানি এলবিট সিস্টেমসের ব্রিটিশ শাখাকে সেবা দিয়ে থাকে। তবে সংশ্লিষ্ট বীমা কোম্পানি এ বিষয়ে মন্তব্যের অনুরোধে তাৎক্ষণিক সাড়া দেয়নি।

 

২২ বছর বয়সী গ্রেটা থুনবার্গ ২০১৮ সালে সুইডিশ পার্লামেন্টের সামনে বৈশ্বিক জলবায়ু প্রভাব নিয়ে বিক্ষোভ শুরু করার মাধ্যমে বিশ্বজুড়ে পরিচিতি পান। গত বছর লন্ডনের এক বিক্ষোভে জনশৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগ থেকে তিনি খালাস পান। আদালত রায়ে বলা হয়, ওই ঘটনায় তাকে ও অন্যদের গ্রেফতারের ক্ষমতা পুলিশের ছিল না।

 

এদিকে, গত অক্টোবরে গাজায় ত্রাণ পৌঁছানোর চেষ্টায় ‘গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলা’ নামের একটি নৌবহরে যোগ দেওয়ার পর গ্রেটা থুনবার্গসহ ৪৭৮ জনকে আটক করে ইসরায়েল থেকে বহিষ্কার করা হয়। ইসরায়েল ধারাবাহিকভাবে তাদের বিরুদ্ধে আনা গণহত্যার অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

শুল্কমুক্ত সুবিধায় ব্যবসায়ীদের আগ্রহে ভাটা

পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না।   একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।   এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন।   গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে।   জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে।   সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে।   কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে।   প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে।   আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’   সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না।   এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।

আন্তর্জাতিক

আরও দেখুন
ছবি: সংগৃহীত
মানসিক চাপে থাকা নাবিকদের নিয়ে দেশে ফিরছে সেই মার্কিন রণতরী

ইরান যুদ্ধে হতাশ, মানসিক চাপে থাকা পাঁচ হাজার সেনা নিয়ে দেশে ফিরে যাছে যুক্তরাষ্ট্রের সেই বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন। মার্কিন নৌবাহিনী ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারি হুং কাও শুক্রবার এই ঘোষণা দিয়েছেন।   বিমানবাহী এই রণতরীর সাগরে দীর্ঘদিন মোতায়েন থাকা এবং এর নাবিকদের শোচনীয় কর্ম পরিবেশ নিয়ে তীব্র সমালোচনা ও তদন্তের মুখে তরীটি ফিরছে বলে জানান তিনি।   এক বিবৃতিতে হুং কাও বলেন, “ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন তাদের দায়িত্ব সফলভাবে শেষ করেছে এবং পালাবদলের পরিকল্পনার অংশ হিসেবে শিগিগিরই বাড়ি ফিরবে। এ বিষয়ে বিস্তারিত পরে জানানো হবে। তবে আমি পরিষ্কার করে বলতে চাই: আমাদের নাবিক ও মেরিন সেনাদের নিরাপত্তা ও সুরক্ষাই সবার্ধিক অগ্রাধিকার পাবে।”   অভিযান সফল করা। সেনাদের কল্যাণ নিশ্চিত করা। এভাবেই আমরা নেতৃত্ব দিই,” বলা হয় বিবৃতিতে।   কাও বলেছেন, নভেম্বরে সানডিয়েগো থেকে রওনা হওয়ার পর ২৬০ দিনেরও বেশি সময় ধরে সাগরে আব্রাহাম লিংকনকে মোতায়েন রাখার সিদ্ধান্ত অভিযানের প্রয়োজনীয়তার কারণেই নেওয়া হয়েছিল।   কাও এও স্বীকার করেন যে, “যুদ্ধক্ষেত্রে সেনা মোতায়েন করা কঠিন, যুদ্ধকালীন সামরিক অভিযান পরিস্থিতিকে আরও কঠিন করে তোলে এবং যুদ্ধ একটি নরক, যার ফলে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা বা দৈনন্দিন রুটিন ঠিক থাকে না।   যুদ্ধক্ষেত্রের অন্যতম কঠিন দিক হল আমাদের সেনা সদস্যদের জেনেশুনে বিপদের মুখে ঠেলে দেওয়া, আর তা হল- সেরা পরিকল্পনা এবং যোগাযোগ থাকার পরও পরিবর্তন ও অনিশ্চয়তা সবসময়ই থেকে যাবে। আমাদের সাফল্য নির্ভর করে আমরা কীভাবে নিজেদের পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে মানিয়ে নিই তার ওপর," বলেন তিনি।   কাও আরও বলেন, “নাবিক এবং মেরিন সেনাদের কাছ থেকে তাদের সর্বস্ব উজাড় করে দেওয়ার প্রত্যাশা করা হয় এবং তারা সবসময়ই তা করে। একজন নেতার দায়িত্ব হল অভিযানের প্রয়োজনীয়তার সঙ্গে ভারসাম্য বজায় রেখে তাদের অধীনস্তদের যথাসম্ভব সর্বোত্তম যত্ন নেওয়া। এই রণতরী (আব্রাহাম লিংকন) মোতায়েন অভিযানের সময় আমরা উভয় বিষয়ই লক্ষ্য করেছি: কাজও ঠিকঠাকভাবে সম্পন্ন হচ্ছে এবং আমাদের নেতারা তাদের অধীনস্ত কর্মীদের যত্নও নিচ্ছেন।”   রণতরীটিতে রসদ সরবরাহ সংকট, কিছু নাবিকের মানসিক স্বাস্থ্যের অবনতি, পচা খাবার এবং ছত্রাক পড়া গোসলখানাসহ শোচনীয় অবস্থার কথা সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশ পাওয়া এবং কংগ্রেসে আব্রাহাম লিংকনের অবস্থা নিয়ে ডেমোক্র্যাটদের তদন্ত শুরুর দাবি ওঠার পর কাও এই দীর্ঘ বিবৃতি দিলেন।   আব্রাহাম লিংকন প্রায় ৯ মাস ধরে সাগরে অবস্থান করেছে। এই দীর্ঘ সময়ে কোনও স্বাভাবিক বন্দর বিরতি বা মাটিতে পা রাখার সুযোগ পাননি এর হাজার হাজার নাবিক ও মেরিন সেনা। তরীটি টানা ২৫০ দিনের বেশি তীরে না ভিড়ে সমুদ্রে ছিল, যা আধুনিক সময়ে কোনও মার্কিন বিমানবাহী রণতরীর জন্য রেকর্ড।   মূলত পশ্চিম এশিয়ায় ইরানের সঙ্গে চলমান সামরিক উত্তেজনার কারণে এই রণতরীটিকে সেখানে অনির্দিষ্টকালের জন্য মোতায়েন রাখা হয়। নাবিকদের পরিবারের পক্ষ থেকে রণতরীর ভেতরের বাস অযোগ্য পরিবেশ নিয়ে ক্ষোভ জানানো হয়েছে।   গত বৃহস্পতিবার সান ডিয়েগোতে মার্কিন নৌবাহিনীর কর্মকর্তাদের সঙ্গে এক বৈঠকে প্রায় ২০০ নাবিক পরিবারের সদস্য তাদের উদ্বেগের কথা জানান। ‘স্টারস অ্যান্ড স্ট্রাইপস’ এর প্রতিবেদনে বলা হয়, এক নারী জানিয়েছেন, তার স্বামী সেদিন তাকে বার্তা দিয়ে বলেছিলেন, তিনি পরদিন আর ঘুম থেকে বেঁচে উঠতে চান না।   আরেক নাবিকের স্ত্রী নেভি টাইমস’কে জানান, সমুদ্রে থাকার মেয়াদ বারবার বাড়তে থাকায় তার স্বামী একপর্যায়ে জাহাজ থেকে ঝাঁপ দেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন। অন্য আরেক ঘটনায় এক নাবিক লাফ দিতে গেলে তার সহকর্মী তাকে টেনে ধরে ডেকে ফিরিয়ে এনে রক্ষা করেন।   কলোরাডোর ডেমোক্র্যাট কংগ্রেস সদস্য জেসন ক্রো বলেন, আব্রাহাম লিংকনের নাবিক ও তাদের পরিবারের ওপর চাপ ‘সপ্তাহে সপ্তাহে বাড়ছে’। পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন মার্কিন সেনেটররাও। এক সেনেটর বলেন, আব্রাহাম লিংকনের নাবিকদের তরী থেকে ঝাঁপ দেওয়ার চেষ্টার খবর পরিস্থিতি কতটা ভয়াবহ হয়ে উঠেছে, তার ‘ভয়ংকর সতর্কসংকেত।   আব্রাহাম লিংকন ২০২৫ সালের ২১ নভেম্বর ক্যালিফোর্নিয়ার সান ডিয়েগো থেকে যাত্রা করেছিল। প্রথমে দক্ষিণ চীন সাগরে যাওয়ার কথা থাকলেও পরে সেটিকে পশ্চিম এশিয়ায় পাঠানো হয় ২৮ ফেব্রুয়ারিতে ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক অভিযান শুরুর কারণে।   সূত্র: দ্য হিল

মো: দেলোয়ার হোসাইন আগস্ট ১৭, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

স্পেনে মরক্কোর অভিবাসীদের বিক্ষোভ, ‘মরতে রাজি, তবু ফিরব না’

ছবি: সংগৃহীত

শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণের সিদ্ধান্ত নেবে ভারতের আদালত

ছবি: সংগৃহীত

জানা গেল ২০২৭ সালের রমজান ও ঈদের সম্ভাব্য তারিখ

ছবি: সংগৃহীত
লেবাননে কৌশলগত পাহাড় লক্ষ্য করে ইসরায়েলি হামলা

লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলে আলি আল তাহের পাহাড়ে বিস্ফোরক নিক্ষেপ করে হামলা চালিয়েছে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী। রোববার লেবাননের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা ন্যাশনাল নিউজ এজেন্সির (এনএনএ) বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে আল জাজিরা।   নাবাতিয়েহ আল ফাওকার উপকণ্ঠে অবস্থিত কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ এই উঁচু এলাকায় সাম্প্রতিক সময়ে ইসরায়েলি বাহিনীর ব্যাপক সামরিক তৎপরতা দেখা গেছে।   শনিবার ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী জানিয়েছিল, নাবাতিয়েহ ও আনসার এলাকায় ‘হিজবুল্লাহর অবকাঠামো’ লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে। ইসরায়েলি সেনাদের ওপর ওই এলাকায় হামলার জবাবে এসব অভিযান চালানো হয়েছে বলে দাবি করেছে তারা।   এদিকে গত দিনের হামলায় অন্তত ১১ জন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে শিশুও রয়েছে। হামলায় আরও ১৯ জন আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। তাদের অবস্থা আশঙ্কাজনক।   দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি সামরিক অভিযান ও হামলা ঘিরে অঞ্চলটিতে নতুন করে উত্তেজনা বাড়ছে। যুদ্ধবিরতির কোনো তোয়াক্কা না করেই হামলা অব্যাহত রেখেছে ইসরায়েলি বাহিনী।

মো: দেলোয়ার হোসাইন আগস্ট ১৬, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

হরমুজের রক্ষকরা আপনার পা ভেঙে দেবে’: ট্রাম্পকে ইরানের সেনাপ্রধান

জব্দ করা সুপারি। ছবি : সংগৃহীত

বাংলাদেশের নাম ব্যবহার করে সুপারি আমদানি চক্র ভেঙে দিল ভারত, গ্রেপ্তার ৯

ছবি: সংগৃহীত

ঘুমন্ত মেরু ভাল্লুককে হর্ন, জরিমানা ৭ লাখ টাকা

ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রের পার্কে গুলি, হতাহত ৫

যুক্তরাষ্ট্রের কেন্টাকি অঙ্গরাজ্যের লেক্সিংটনে একটি পার্কে গুলির ঘটনায় একজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও চারজন। রাশিয়াভিত্তিক টেলিভিশন নেটওয়ার্ক (আরটি) এ খবর প্রকাশ করেছে।   শনিবার সন্ধ্যায় শহরের চার্লস ইয়াং পার্কে এ ঘটনা ঘটে। স্থানীয় পুলিশ জানায়, আহতদের মধ্যে চার বছর বয়সী একটি শিশু, ১৪ বছর বয়সী এক কিশোর এবং দুইজন প্রাপ্তবয়স্ক রয়েছেন।   আহত চারজনকেই হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। তাদের কারও আঘাতই জীবনসংকটাপন্ন নয় বলে জানিয়েছেন লেক্সিংটন পুলিশের প্রধান লরেন্স ওয়েদার্স।   গুলিতে নিহত ব্যক্তির পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি।   ঘটনার পর পার্কের আশপাশের বেশ কয়েকটি সড়ক বন্ধ করে দেয় পুলিশ। ঘটনাস্থলে কেনটাকি স্টেট পুলিশের সদস্যরাও উপস্থিত ছিলেন।   তবে এখন পর্যন্ত কোনো সন্দেহভাজনকে শনাক্ত বা গ্রেপ্তার করা হয়েছে কি না, তা জানায়নি কর্তৃপক্ষ। গুলির কারণও এখনও স্পষ্ট নয়।   পুলিশ প্রধান ওয়েদার্স বলেছেন, এ ঘটনায় সাধারণ মানুষের জন্য এখন আর কোনো চলমান হুমকি নেই বলে তারা মনে করছেন।   স্থানীয় একটি কমিউনিটি অনুষ্ঠান ‘ইস্ট এন্ড ডে’ চলার সময় পার্কে এই গুলির ঘটনা ঘটে। তখন সেখানে বেশ কিছু মানুষ উপস্থিত ছিলেন।   অনুষ্ঠানে থাকা লেক্সটিংটনের পরিচালক ডেভাইন কারামা ঘটনাটিকে অত্যন্ত মর্মান্তিক বলে বর্ণনা করেছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে তিনি জানান, গুলির সময় তিনি চার তরুণকে নিয়ে নিরাপদ জায়গায় আশ্রয় নিয়েছিলেন। তাঁর কাছেই একজনকে গুলি করা হয়।   ঘটনার পর পার্কটিতে পুলিশি তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।   সূত্র: আরটি

আক্তারুজ্জামান আগস্ট ১৬, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

ইউক্রেনকে তুরস্কের মাধ্যমে অস্ত্র দিতে চায় যুক্তরাষ্ট্র, বিরোধিতা রাশিয়ার

ছবি: সংগৃহীত

হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল নিয়ে ওমানের সঙ্গে ইরানের সমঝোতা

ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। ছবি: সংগৃহীত

উচ্চ মূল্যস্ফীতির জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে দায়ী করলেন ইরানের প্রেসিডেন্ট

0 Comments