খেলাধুলা

পর্তুগাল শুধু রোনালদোর ওপর নির্ভরশীল নয়

মো: দেলোয়ার হোসাইন জুন ২৭, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম ম্যাচে নিষ্প্রভ থাকলেও দ্বিতীয় ম্যাচে স্বরূপে দেখা দিয়েছেন ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো। উজবেকিস্তানের বিপক্ষে রোনালদোর জোড় গোলের ওই ম্যাচে পর্তুগাল জিয়েছে ৫-০ গোলের বড় ব্যবধানে। শেষ ম্যাচে কলম্বিয়ার বিপক্ষে ড্র করলে নকআউটের টিকিট নিশ্চিত হবে পর্তুগালের। তবে সেই ম্যাচে মাঠে নামার আগে উইঙ্গার পেদ্রো নেতো জানিয়েছেন, পর্তুগাল কেবল রোনালদোর ওপর নির্ভরশীল নয়।

 

ডিআর কঙ্গোর বিপক্ষে ১-১ গোলের ড্র করে নিজেদের বিশ্বকাপ মিশন শুরু করেছিল পর্তুগাল। দলের প্রধান তারকা রোনালদোকেও ম্যাচের কোথাও খুঁজে পাওয়া যায়নি। তবে দ্বিতীয় ম্যাচেই ছন্দে ফেরেন আল নাসর তারকা। রোনালদোর ফিরে আসার সেই ম্যাচে পর্তুগালও পেয়েছে দাপুটে জয়।

 

কে’ গ্রুপের শেষ ম্যাচে পর্তুগালের প্রতিপক্ষ কলম্বিয়া। আগামী ২৮ জুন বাংলাদেশ সময় ভোর সাড়ে ৫টায় মিয়ামি গার্ডেন্সে মুখোমুখি হবে দুই দল। সেই ম্যাচের আগের সংবাদ সম্মেলনেও ঘুরেফিরে উঠে আসলো রোনালদোর প্রসঙ্গ। তবে পর্তুগাল দলে রোনালদোর ভূমিকা স্বীকার করলেও ক্ষেত্রে ‘নির্ভরশীলতা’ শব্দটি ব্যবহার করতে চাননি নেতো। 

 

বাংলাদেশেরসংস্কৃতি

কলম্বিয়ার বিপক্ষে ম্যাচের আগে সংবাদ সম্মেলনে নেতো বলেন, ‘ক্রিশ্চিয়ানো আমাদের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ, কিন্তু ‘নির্ভরশীল’ শব্দটি অনেক বেশি কঠোর। আমরা জানি, যদি বল বক্সের মধ্যে যায়, তাহলে তার গোল করার সম্ভাবনা খুবই বেশি। তবে আমরা শুধু তার জন্য নয়, দলের সব খেলোয়াড়ের জন্যই সুযোগ তৈরি করি।’

 

তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের নিজস্ব কৌশল ও খেলার ধরন রয়েছে। তাই আমি মনে করি না যে আমরা তার ওপর নির্ভরশীল, বরং তার প্রতি আমাদের আস্থা রয়েছে।’

 

কলম্বিয়ার বিপক্ষে ম্যাচ নিয়ে চেলসির এই পর্তুগিজ উইঙ্গার বলেন, ‘আমরা জানি, আমরা এমন একটি দলের মুখোমুখি হচ্ছি যারা ২০২২ কাতার বিশ্বকাপে খেলতে পারেনি, কিন্তু তারা বর্তমানে খুব ভালো করছে। তাদের একটি শক্তিশালী দল রয়েছে এবং তারা কোপা আমেরিকার ফাইনালিস্ট ছিল। তারা খুবই লড়াকু এবং শারীরিকভাবে শক্তিশালী দক্ষিণ আমেরিকান দল। আমাদের তাদের সমকক্ষ হতে হবে, অথবা তাদের ছাড়িয়ে যেতে হবে।’

 

নিজেদের প্রস্তুতি নিয়ে তিনি বলেন, ‘এখানে মূল শব্দ হলো সহনশীলতা এবং কঠোর পরিশ্রম। আমরা সেটাই করে আসছি। সহনশীল থেকেছি এবং কঠোর পরিশ্রম করেছি। কলম্বিয়ার বিপক্ষে ম্যাচে এটিই হবে মূল বিষয়।’

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

শুল্কমুক্ত সুবিধায় ব্যবসায়ীদের আগ্রহে ভাটা

পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না।   একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।   এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন।   গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে।   জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে।   সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে।   কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে।   প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে।   আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’   সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না।   এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।

খেলাধুলা

আরও দেখুন
সংগৃহীত ছবি
শেফালি-স্মৃতির রেকর্ড জুটিতে ভারতের নারী এশিয়া কাপ জয়

ব্যাট হাতে শিরোপার মঞ্চ তৈরি করে দিয়েছিলেন শেফালি ভার্মা ও স্মৃতি মান্ধানা। এরপর বল হাতে সেই মঞ্চে জয়গান গাইলেন ভারতের বোলাররা।     ব্যাটিং-বোলিংয়ে দাপট দেখিয়ে ২০২৬ নারী এশিয়া কাপের শিরোপা নিজেদের করে নিল ভারত।     দুবাই আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামের ফাইনালে শ্রীলঙ্কাকে ৭২ রানে হারিয়েছে ভারত। তাদের ছুড়ে দেওয়া ১৮৪ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ১১১ রানেই গুটিয়ে যায় ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়নরা।       এ জয়ের মধ্য দিয়ে টি-টোয়েন্টি সংস্করণের এশিয়া কাপে ভারতের ট্রফি সংখ্যা দাঁড়াল ৪-এ।       এর আগে ওয়ানডে ফরম্যাটের চারটি আসরেই—২০০৪, ২০০৫/০৬, ২০০৬ ও ২০০৮ চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল ভারত।       এদিন টস জিতে প্রথমে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নেয় ভারত। শুরু থেকেই আগ্রাসী ব্যাটিং করেন দুই ওপেনার শেফালি ভার্মা ও স্মৃতি মান্ধানা। পাওয়ার প্লে তে লঙ্কান বোলারদের ওপর ছড়ি ঘুরিয়ে ৫৭ রান তুলে নেন এই দুই ব্যাটার।     এই ম্যাচ দিয়ে টুর্নামেন্টে প্রথমবার পাওয়ার প্লেতে পঞ্চাশ রান পেরোয় ভারত।         এরপরও চলতে থাকে ভারতের আক্রমণাত্মক ব্যাটিং। মাত্র ২৪ বলে ক্যারিয়ারের ২১তম টি-টোয়েন্টি ফিফটি তুলে নেন শেফালি। টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটের নারী এশিয়া কাপ ইতিহাসে এটি সবচেয়ে দ্রুততম ফিফটি।     শেফালি ও স্মৃতির মারমুখী ব্যাটিংয়ে মাত্র ১০.৩ ওভারেই দলীয় এক শ পেরিয়ে যায় ভারত।     নারীদের টি-টোয়েন্টি আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ১০০ বা তার বেশি রানের জুটি গড়ার সংখ্যায় যৌথভাবে শীর্ষে উঠেছেন এই দুজন। সংযুক্ত আরব আমিরাতের এশা ওজা ও থির্থা সতীশের গড়া ছয়টি শতরানের জুটিকে স্পর্শ করেছেন তারা।       শেফালির পর ফিফটি তুলে নেন আরেক ওপেনার স্মৃতি মান্ধানা। ৩৫ বলে ক্যারিয়ারের ৩৬তম টি-টোয়েন্টি ফিফটি তুলে নেন এই অভিজ্ঞ ব্যাটার। চামুদি প্রভোদার বলে শেফালি ফিরলে ভাঙে ১২৯ রানের জুটি। আউট হওয়ার আগে পাঁচটি চার ও তিন ছক্কায় ৩৯ বলে ৫৯ রানের ইনিংস খেলেন তিনি।       শেফালি ও স্মৃতির ১২৯ রানের জুটি নারী টি-টোয়েন্টি এশিয়া কাপে যেকোনো উইকেটে সর্বোচ্চ। একই সঙ্গে, কমপক্ষে পাঁচ দল অংশ নেওয়া নারী টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্টের ফাইনালে এটি সর্বোচ্চ রানের জুটিও।       শেফালি ফেরার পরের ওভারেই ফিরে যান স্মৃতি। হারমানপ্রীত কৌরের সঙ্গে ভুল বোঝাবুঝিতে রানআউট হয়ে ফেরেন এই ওপেনার। চলতি টুর্নামেন্টে এ নিয়ে তৃতীয়বারের মতো রানআউটের শিকার স্মৃতি। ৪টি চার ও তিনটি ছক্কায় সাহায্যে ৩৯ বলে ৫৯ রান করেন তিনি।       দুই ওপেনার ফেরার পর ভারতের রান তোলার গতিতে কিছুটা লাগাম টানেন লঙ্কান বোলাররা। দলীয় ১৬০ রানের মাথায় ১৪ বলে ১৪ রান করে আউট হন হারমানপ্রীত। রিচি ঘোষের ব্যাট থেকে আসে ১৩ বলে ১৭ রান। রানআউট হয়ে ফেরার আগে দিপ্তি শার্মা করেন ৭ বলে ৫ রান।       শেষদিকে গুণালন কমলিনীর পাঁচ বলে ১৫ রানের ঝোড়ো ক্যামিওতে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৫ উইকেটে ১৮৩ রানের সংগ্রহ পায় ভারত। নারীদের টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্টের ফাইনালের ইতিহাসে এটি সর্বোচ্চ সংগ্রহ।       শ্রীলঙ্কার হয়ে চামারি আতাপাত্তু, মিথালি আয়োধ্যা ও নীলাক্ষিকা সিলভা একটি করে উইকেট নেন।       ১৮৪ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরু থেকেই চাপে পড়ে শ্রীলঙ্কা। দলীয় চার রানে প্রথম উইকেট হারায় তারা। দ্বিতীয় উইকেটে ৫৮ রানের জুটি গড়ে শুরুর ধাক্কা সামাল দেন বিশমি গুনারত্নে ও চামারি আতাপাত্তু।     ৩৬ রান করে আতাপাত্তু ফেরার পরই কার্যত ম্যাচ থেকে ছিটকে যায় শ্রীলঙ্কা। পরের ওভারেই ২০ রান করা গুনারত্নেও আউট হন। এরপর একের পর এক উইকেট হারিয়ে ধুঁকতে থাকে লঙ্কান ব্যাটিং লাইনআপ। শেষ পর্যন্ত নির্ধারিত ২০ ওভারে ১১১ রানে অলআউট হয় লঙ্কানরা।     ভারতের হয়ে দুর্দান্ত বোলিং করেছেন শ্রী চরণী। চার ওভারে ২০ রান খরচায় ৪ উইকেট শিকার করেন তিনি। দীপ্তি শর্মা ৪ ওভারে ১৯ রান দিয়ে নেন ৩ উইকেট।

মারিয়া রহমান সেপ্টেম্বর ১৪, ২০২৬
ইয়ামালকে আটকে রাখতে পারেনি লেভান্তে। ছবি: রয়টার্স

শেষ সময়ের নাটকীয়তা পেরিয়ে লেভান্তের মাঠে বার্সেলোনার বড় জয়

সংগৃহীত ছবি

আফগানিস্তানকে ৭ উইকেটে হারিয়ে সিরিজে এগিয়ে গেল ভারত

ছবি: সংগৃহীত

নারী এশিয়া কাপের ফাইনালে শ্রীলঙ্কাকে ১৮৪ রানের টার্গেট দিল ভারত

ছবি: সংগৃহীত
ক্যারিয়ারের সেরা অবস্থায় আছে ভিনিসিউস

আগের চেয়ে ভিনিসিউস জুনিয়রের গতি একটু কমলেও, তা নিয়ে মোটেও উদ্বিগ্ন নন জুজে মরিনিয়ো। রেয়াল মাদ্রিদ কোচের বিশ্বাস, অন‍্য যে কোনো সময়ের চেয়ে শারীরিকভাবে সেরা অবস্থায় থাকা ভিনিসিউস শিগগির নিজের সেরা গতি স্পর্শ করবেন।   গত মৌসুম থেকে প্রায়ই সান্তিয়াগো বের্নাবেউয়ে দুয়ো শুনছেন ভিনিসিউস। আবার ভালো পারফরম‍্যান্সের জন‍্য করতালিও পাচ্ছেন তিনি। রায়ো ভাইয়েকানোর বিপক্ষে ৪-১ গোলে জয় পাওয়া ম‍্যাচেও দেখা গেছে এই চিত্র। দ্বিতীয়ার্ধের নিষ্প্রভ পারফরম‍্যান্সে ভক্তদের একটি অংশ থেকে দুয়ো শোনেন রেয়ালের খেলোয়াড়রা। আবার ৮৮তম মিনিটে মাঠ ছাড়ার সময় তুমুল করতালিও শোনেন ভিনিসিউস।   ম‍্যাচে গোল পাননি ভিনিসিউস। তবে ৩৫তম মিনিটে তার চমৎকার কাট ব‍্যাক থেকেই দলের তৃতীয় গোলটি করেন জুড বেলিংহ‍্যাম। ম‍্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে মরিনিয়ো বলেন, সেরা ছন্দে ফেরার পথেই আছেন ভিনিসিউস।   শারীরিকভাবে সে যে কোনো সময়ের চেয়ে ভালো অবস্থায় আছে। নিজের সেরা গতির খুব কাছেই আছে। সে বারবার চেষ্টা করতে পারে এবং এই প্রক্রিয়ায় সে দক্ষ হয়ে উঠছে।   মানসিকভাবে, সে খুবই দৃঢ়। সে এই ক্লাবের অন্দর-বাহির জানে এবং সবসময়ই দায়িত্ব নিয়ে খেলে। সে শান্ত, নিজের শরীর সম্পর্কে জানে এবং নিজের সেরা অবস্থায় ফেরার পথে আছে।

মো: দেলোয়ার হোসাইন সেপ্টেম্বর ১৩, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

জাতীয় দলের কোচ হতে প্রস্তুত সুজন

ছবি: সংগৃহীত

টেস্টে সর্বাধিক ফিফটির রেকর্ড এখন রুটের, পেছনে ফেললেন টেন্ডুলকারকে

ছবি: সংগৃহীত

মেসির চোখধাঁধানো গোল, তবুও শেষ মুহূর্তে মায়ামির হতাশা

ছবি: সংগৃহীত
রাজাউল্লাহর ঝোড়ো ব্যাটিংয়ে বদলে গেল হিসাব, সাইমের ফ্লাইট বাতিল

পাকিস্তান-ইংল্যান্ড টেস্ট তিন দিনেই শেষ হবে—এমন হিসাব ধরেই পাকিস্তানি অলরাউন্ডার সাইম আইয়ুবকে ক্যারিবিয়ানে ফেরাতে বিমানের টিকিট কেটেছিল ক্যারিবিয়ান প্রিমিয়ার লিগের (সিপিএল) দল জ্যামাইকা কিংসমেন। তবে পাকিস্তানের ব্যাটার রাজাউল্লাহর দুর্দান্ত ইনিংস ম্যাচের চিত্র বদলে দেওয়ায় শেষ পর্যন্ত সেই ফ্লাইটে ওঠা হয়নি সাইমের।   তৃতীয় দিনের খেলা শেষে সাইমের যুক্তরাজ্য থেকে বার্বাডোজে ফেরার কথা ছিল। এ জন্য জ্যামাইকা কিংসমেন পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের (পিসিবি) অনুমতিও নিয়ে রেখেছিল। কিন্তু রাজাউল্লাহর রেকর্ড গড়া ইনিংসে পাকিস্তান ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগ পেলে ম্যাচ গড়ায় চতুর্থ দিনে। ফলে সাইমের নির্ধারিত ফ্লাইটও বাতিল করতে হয়।   ক্রিকইনফোর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তৃতীয় দিনের মধ্যেই টেস্ট শেষ হলে সাইমকে ওই রাতেই ক্যারিবিয়ানে ফেরানোর পরিকল্পনা ছিল জ্যামাইকার। ম্যাচ চতুর্থ দিনে গড়ানোয় তার ফেরার সময় একদিন পিছিয়ে যায়।   জাতীয় দলের হয়ে হঠাৎ ডাক পাওয়ার আগে সিপিএলে জ্যামাইকার হয়ে ভালো সময় কাটাচ্ছিলেন সাইম। পাকিস্তানের দ্বিতীয় টেস্টে পরাজয়ের পর সাতজন খেলোয়াড়কে দেশে ফেরত পাঠানোর সিদ্ধান্ত হলে অপ্রত্যাশিতভাবে জাতীয় দলে সুযোগ পান তিনি। এরপর ক্যারিবিয়ান ছেড়ে সরাসরি যুক্তরাজ্যে দলের সঙ্গে যোগ দেন।   তবে সাদা পোশাকে নিজেকে মেলে ধরতে পারেননি এই অলরাউন্ডার। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে দুই ইনিংসেই শূন্য রানে আউট হয়েছেন তিনি। বল হাতেও কোনো উইকেটের দেখা পাননি।   এদিকে সাইমের ফ্লাইট পিছিয়ে গেলেও জ্যামাইকা কিংসমেন শেষ পর্যন্ত বার্বাডোজের কাছে পরাজিত হয়েছে। এর আগে পাকিস্তানের হয়ে দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে সাইমের অনুপস্থিতিতে দলটি গায়ানা আমাজন ওয়ারিয়র্সের কাছেও হেরেছিল।

আক্তারুজ্জামান সেপ্টেম্বর ১৩, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

এমবাপের জোড়া গোলে জয়ে ফিরল রিয়াল মাদ্রিদ

ছবি: সংগৃহীত

নিষ্প্রভ ফুটবল খেলে ফের লিভারপুলের ড্র

ছবি: সংগৃহীত

প্রোটিয়াদের উড়িয়ে সিরিজ জয় বাংলাদেশের

0 Comments