অন্যান্য

পারফিউমের ভুল ব্যবহারে হতে পারে বিপদ, যেভাবে সাবধান হবেন

মো: দেলোয়ার হোসাইন জানুয়ারী ১১, ২০২৬

গলায় সুগন্ধি ব্যবহারে যতটা ভালো লাগে, বাস্তবে তা ততটাই ক্ষতিকর হতে পারে। কারণ গলার ঠিক নিচেই রয়েছে থাইরয়েড গ্রন্থি। এই গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ শরীরের বিপাকক্রিয়া, শক্তির মাত্রা, দেহের তাপমাত্রা ও হরমোনের ভারসাম্য নিয়ন্ত্রণ করে।

 

এ ছাড়া গলা লিম্ফ্যাটিক ড্রেনেজের একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র।

এখানে রয়েছে বড় বড় লিম্ফ নোড ও লিম্ফ নালি, যেগুলো শরীর থেকে বিষাক্ত উপাদান ছেঁকে ফেলতে এবং রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

গলায় পারফিউম স্প্রে করা নিঃশব্দে হরমোনের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে এবং ধীরে ধীরে নানা শারীরিক সমস্যার কারণ হতে পারে। পরের বার সুগন্ধি ব্যবহারের আগে জানা জরুরি কিভাবে সিন্থেটিক সুগন্ধি এন্ডোক্রাইন সিস্টেমে বিঘ্ন ঘটাতে পারে।

অনেক সিন্থেটিক পারফিউমে ফথালেটস থাকে, যা শরীরের স্বাভাবিক হরমোনের অনুকরণ করতে পারে বা সেগুলোর কাজ আটকে দিতে পারে।

সংবেদনশীল অংশে নিয়মিত ব্যবহার করলে দীর্ঘমেয়াদে হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট হতে পারে। এর প্রভাব পড়তে পারে প্রজনন ক্ষমতা এবং শক্তির মাত্রার ওপরও।

গলার ঠিক ওপরেই থাইরয়েড গ্রন্থি। সেখানে সরাসরি পারফিউম স্প্রে করলে গ্রন্থির কার্যকারিতা ব্যাহত হওয়ার ঝুঁকি বাড়ে।

দীর্ঘদিন ধরে অল্প পরিমাণে শোষিত হলেও থাইরয়েডের কাজের ওপর সূক্ষ্ম কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব পড়তে পারে। যেহেতু থাইরয়েড বিপাকক্রিয়া নিয়ন্ত্রণ করে, তাই এর প্রভাব গোটা শরীরেই ছড়িয়ে পড়ে।

গলার ত্বক তুলনামূলকভাবে পাতলা, ফলে এখানে রাসায়নিক দ্রুত শোষিত হয়। পারফিউমের ক্ষতিকর উপাদান রক্তপ্রবাহে ঢুকে সময়ের সঙ্গে বিভিন্ন হরমোনাল পথকে প্রভাবিত করতে পারে। এই সংবেদনশীল জায়গায় ঘন ঘন ব্যবহার ঝুঁকি আরো বাড়ায়।

ফথালেটস ও সিন্থেটিক কেমিক্যালের সংস্পর্শে মুড সুইং, ক্লান্তি কিংবা ওজন বাড়ার মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে। দীর্ঘমেয়াদে ঘুমের সমস্যাও তৈরি হতে পারে। গলার সংবেদনশীল ত্বকে পারফিউমের কারণে র‍্যাশ, লালচে ভাব কিংবা কালচে দাগ পড়তে পারে। বারবার ব্যবহার করলে অ্যালার্জি বা দীর্ঘস্থায়ী ত্বকের সমস্যা হওয়ার আশঙ্কা থাকে, বিশেষ করে যাদের ত্বক সংবেদনশীল।

বার্গামটের মতো কিছু উপাদান ত্বককে সূর্যালোকের প্রতি বেশি সংবেদনশীল করে তোলে। এর ফলে পিগমেন্টেশন, কালো দাগ বা ত্বকের রং অসম হয়ে যেতে পারে। দীর্ঘদিন ধরে এমন হলে সান ড্যামেজ আরো বেড়ে যায়।

 

হরমোনের ক্ষতি এড়াতে প্রাকৃতিক সুগন্ধির দিকে ব্যবহার করা ভালো। এসেনশিয়াল অয়েলের ব্লেন্ড বা অ্যালকোহল-ফ্রি রোল-অন ব্যবহার করলে সুগন্ধ বজায় থাকবে, অথচ থাইরয়েড, ত্বক ও সামগ্রিক হরমোন স্বাস্থ্যের ক্ষতি হবে না।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

শুল্কমুক্ত সুবিধায় ব্যবসায়ীদের আগ্রহে ভাটা

পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না।   একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।   এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন।   গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে।   জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে।   সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে।   কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে।   প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে।   আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’   সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না।   এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।

অন্যান্য

আরও দেখুন
ছবি: সংগৃহীত
খালেদা জিয়া মৃত্যুবরণ করলেও পরাজিত হননি, শেখ হাসিনা পালিয়েছেন: রিজভী

বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া মৃত্যুবরণ করলেও পরাজিত হননি। কিন্তু শেখ হাসিনা পালিয়ে গেছেন বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী।   তিনি বলেছেন, ‘শেখ হাসিনা প্রতিহিংসার কারণে খালেদা জিয়াকে পরিত্যক্ত একটি কারাগারে অন্তরীণ করে রেখেছিলেন। খালেদা জিয়াকে কারাগারে চিকিৎসা দেয়নি, খাবারও দেয়নি। কারাগারে সুস্থভাবে বেঁচে থাকার কোনো আয়োজন ছিল না। খালেদা জিয়ার মৃত্যুবরণ করলেও রাজনীতিতে বিজয়ী হয়েছেন। কিন্তু শেখ হাসিনা পরাজিত হয়েছেন।’   সোমবার (১৭ আগস্ট) রাজধানীর নীলক্ষেতের আইসিএমএ ভবন অডিটোরিয়ামে ‘মহীয়সী বেগম খালেদা জিয়া—ঐক্য, সংহতি ও আলোকিত দ্বীপ’ শীর্ষক বইয়ের প্রকাশনা অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। রুহুল কবির রিজভী বলেন, ‘রাজনীতির খোরাক হচ্ছে সংস্কৃতি। রাজনৈতিক দলের মধ্যে সংস্কৃতিচর্চা না থাকলে সেই দলের নেতারা আলোকিত হতে পারে না। একজন নেতার মধ্যে ভালো ছবি দেখার অনুপ্রেরণা, গান-কবিতার প্রতি ভালোবাসা এবং পেইন্টিং বোঝার মতো মন থাকতে হবে। এসব গুণ যদি না থাকে, তাহলে কেউ হয়তো মাস্তান হতে পারে। কিন্তু কখনোই একজন ভালো রাজনীতিবিদ হয়ে উঠতে পারে না।’ খালেদা জিয়ার বর্ণাঢ্য জীবন ও রাজনৈতিক সংগ্রাম স্বল্প সময়ে তুলে ধরা সম্ভব নয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, “খালেদা জিয়ার জীবনকাল, তার শাসনামল, বেড়ে ওঠা, নেতৃত্ব ও সংগ্রাম এবং তার ওপর চালানো নিপীড়ন-নির্যাতনের ইতিহাস স্বল্প সময়ে সম্পূর্ণভাবে তুলে ধরা সম্ভব নয়। মার্কিন লেখক আর্নেস্ট হেমিংওয়ে বলেছিলেন, ‘মানুষ মৃত্যুবরণ করে, কিন্তু পরাজিত হয় না।’ কিন্তু সেই মানুষ কারা? একটি দেশ বা জাতির ইতিহাসে এমন মানুষের জন্ম খুব অল্পই হয়। তারা ক্ষণজন্মা; যুগে যুগে তাদের জন্ম হয় না। হয়তো শতাব্দীতে একজন এমন মানুষের জন্ম হয়।”   তিনি আরও বলেন, ‘খালেদা জিয়া হচ্ছেন তেমনই একজন ক্ষণজন্মা মানুষ। তিনি গত বছরের ৩০ ডিসেম্বর মৃত্যুবরণ করেছেন। কিন্তু পরাজিত হননি। তার প্রেরণা, অর্জন, কৃতিত্ব ও দীর্ঘ রাজনৈতিক সংগ্রামের মধ্য দিয়ে তিনি আমাদের জানিয়ে গেছেন, ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে তোমরা দাঁড়িয়ে থাকো। আমি দৃশ্যমান প্রতিবাদ করেছি এবং নিজের জীবন দিয়ে তা প্রমাণ করে গেছি। এটাই হচ্ছেন বেগম খালেদা জিয়া।’   ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিল্পকলার ইতিহাস বিভাগের শিক্ষক সঞ্জয় দে রিপনের সভাপতিত্ব ও শামীম রাব্বি সঞ্চয়ের পরিচালনায় অনুষ্ঠানে রাখেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষক শিল্পী অধ্যাপক ড. আব্দুস সাত্তার, ডা. জহুরুল হক, বিএনপি নেতা শিপন খান প্রমুখ।

মো: দেলোয়ার হোসাইন আগস্ট ১৭, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

নতুন দায়িত্ব পেলেন সাবেক দুই ছাত্রদল নেতা

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম (চরমোনাই পীর) | ছবি: সংগৃহীত

সরকারের প্রতি চরমোনাই পীরের ৬ পরামর্শ

ছবি: সংগৃহীত

লংমার্চ কর্মসূচি সফল করার আহ্বান জামায়াতের

ছবি: সংগৃহীত
গাজী সালাউদ্দিন তানভীরের জামিন নামঞ্জুর

সাইবার সুরক্ষা আইনে করা মামলায় জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) অব্যাহতিপ্রাপ্ত নেতা গাজী সালাউদ্দিন তানভীরের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেছেন আদালত। সোমবার (১৭ আগস্ট) দুপুরে বগুড়া সদর আমলি আদালতের সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট শুনানি শেষে তাঁর জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেন।   আদালতে তানভীরের পক্ষে জামিন আবেদন করেন বগুড়া জেলা এনসিপির সিনিয়র যুগ্ম সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট ইজাজ আল ওয়াসী। তিনি জামিন নামঞ্জুরের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ‘আদালত তানভীরের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেছেন। এই আদেশে আমরা সংক্ষুব্ধ। ন্যায়বিচারের আশায় পরবর্তীতে উচ্চ আদালতে জামিনের জন্য আবেদন করা হবে।’   তিনি আরও জানান, যে ফেসবুক স্ট্যাটাসের ভিত্তিতে মামলাটি করা হয়েছে, সেই আইডি ও ব্যবহৃত মোবাইল ফোন ইতোমধ্যে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী জব্দ করেছে। ফরেনসিক তদন্তের মাধ্যমে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় তথ্য বের করা সম্ভব হবে।   এর আগে গত ৫ আগস্ট ভোরে ঢাকার মিরপুরের মণিপুরীপাড়ার একটি বাড়ি থেকে সালাউদ্দিন তানভীরকে গ্রেফতার করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। একই দিন তাঁকে বগুড়া আদালতে হাজির করা হলে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন আদালত।   পরে গত ১০ আগস্ট মামলার তদন্ত কর্মকর্তা বগুড়া সদর থানার এসআই মাসুদুর রহমান তানভীরের সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করেন। শুনানি শেষে আদালত তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

মো: দেলোয়ার হোসাইন আগস্ট ১৭, ২০২৬

সপ্তাহের সাত দিনের নামের পেছনে আছে যে ইতিহাস

ছবি: সংগৃহীত

জামায়াত আওয়ামী লীগের সব বৈশিষ্ট্য অর্জন করেছে: রাশেদ খান

ছবি: সংগৃহীত

জ্বালানি সংকটে সরকারকে ‘ব্যর্থ’ দেখতে চায় না জামায়াত

অধ্যাপক ডা. ফরহাদ হালিম ডোনার
ক্যানসার বিশেষজ্ঞ থেকে বিএনপির স্থায়ী কমিটিতে ডোনার

বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটিতে নতুন করে জায়গা করে নিয়েছেন অধ্যাপক ডা. ফরহাদ হালিম ডোনার। শনিবার (১৫ আগস্ট) দলের সহ-দফতর সম্পাদক মুনির হোসেনের সই করা বিজ্ঞপ্তিতে তাকে স্থায়ী কমিটির সদস্য হিসেবে মনোনীত করার কথা জানানো হয়। একই সঙ্গে রুহুল কবির রিজভী আহমেদ, আমান উল্লাহ আমান ও মো. ইসমাইল জবিউল্লাহকেও দলের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরামে যুক্ত করা হয়েছে। ঢাকার আমিনবাজারে জন্ম নেওয়া ফরহাদ হালিম ডোনার দীর্ঘদিন ধরেই বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। ক্যানসার চিকিৎসা, চিকিৎসা শিক্ষা ও গবেষণার পাশাপাশি পেশাজীবী সংগঠন এবং রাজনৈতিক অঙ্গনে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি। অধ্যাপক ড. ফারহাদ হালিম উত্তরা আধুনিক মেডিক্যাল কলেজের (ইউএএমসি) গভর্নিং বডিরও চেয়ারম্যান। ক্যানসার চিকিৎসায় পরিচিতি অধ্যাপক ডা. ফরহাদ হালিম ডোনার দেশের একজন প্রখ্যাত ক্যানসার বিশেষজ্ঞ। জাতীয় ক্যানসার গবেষণা ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে প্রথম প্রকল্প পরিচালক হিসেবে বাংলাদেশের ক্যানসারের আধুনিক চিকিৎসার সূচনায় তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। তার উদ্যোগে রেডিও অনকোলজি ও মেডিক্যাল অনকোলজি বিষয়ে এমবিবিএস কোর্স চালু হয় বলেও তার স্ত্রী ডা. সৈয়দা তানজিন ওয়ারইস সিমকীর এক খোলা চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছিল। চিকিৎসা অঙ্গনে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক তৈরিতেও তার ভূমিকার কথা তুলে ধরা হয় ওই চিঠিতে। চিকিৎসা সংগঠন ও ফাউন্ডেশনে নেতৃত্ব চিকিৎসা পেশার পাশাপাশি ডা. ডোনার দীর্ঘদিন ধরে ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ড্যাব) সঙ্গে যুক্ত। তার নিজের ফেসবুক পেজে দেওয়া পরিচয় অনুযায়ী, তিনি ড্যাবের প্রধান উপদেষ্টা, সাবেক আহ্বায়ক এবং প্রতিষ্ঠাকালীন সদস্য সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। এ ছাড়া তিনি জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। বিএনপির রাজনীতিতেও রয়েছে তার সক্রিয় সম্পৃক্ততা। তিনি ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক (ভারপ্রাপ্ত) ছিলেন এবং বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। আন্দোলনের সময় আটকের অভিযোগ ২০২৪ সালের জুলাইয়ে কোটা সংস্কার আন্দোলন ঘিরে ডা. ডোনারকে আটকের অভিযোগ ওঠে। ওই সময় বিএনপির মিডিয়া সেলের এক পোস্টে তার স্ত্রী ডা. সিমকী এক খোলা চিঠিতে দাবি করেন, ২৮ জুলাই বিকেলে কোনো ওয়ারেন্ট প্রদর্শন ছাড়াই সরকারি বাহিনী তাকে গ্রেফতার করে। ২৪ ঘণ্টার বেশি সময় পার হলেও তার অবস্থান সম্পর্কে তথ্য না পাওয়ায় উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি। অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ২০২৫ সালের জুনে গুরুতর অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন ডা. ডোনার। বিএনপির মিডিয়া সেলের ১৯ জুনের পোস্ট অনুযায়ী, ১৮ জুন সকালে তাকে উত্তরা আধুনিক মেডিক্যাল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে ইউনাইটেড হাসপাতালে নেওয়া হলে তিনি আইসিইউতে চিকিৎসাধীন ছিলেন। চিকিৎসকদের বরাত দিয়ে ওই সময় জানানো হয়, তিনি হাইপোভোলেমিক শক নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন। উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস ও হৃদরোগের জটিলতায়ও ভুগছিলেন তিনি। বিএমএসআরআইয়ের চেয়ারম্যান চিকিৎসা শিক্ষা ও গবেষণার ক্ষেত্রেও নেতৃত্বের দায়িত্ব পেয়েছেন ডা. ডোনার। ২০২৬ সালের ৩০ এপ্রিল বাংলাদেশ মেডিক্যাল স্টাডিজ অ্যান্ড রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (বিএমএসআরআই) চেয়ারম্যান হিসেবে মনোনীত হন তিনি। বিএমএসআরআইয়ের এক্সিকিউটিভ কমিটির সভায় সর্বসম্মতিক্রমে তাকে চেয়ারম্যান নির্বাচিত করা হয়। প্রতিষ্ঠানটির অধীনে বাংলাদেশ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল, বাংলাদেশ ডেন্টাল কলেজ হাসপাতাল ও উত্তরা আধুনিক মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল পরিচালিত হচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সদস্য চিকিৎসা ও গবেষণার পাশাপাশি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেটেও যুক্ত হয়েছেন ডা. ডোনার। ২০২৬ সালের ১ জুলাই তাকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সদস্য হিসেবে মনোনীত করা হয়। এর আগে ২৯ জুন অনুষ্ঠিত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেটের বার্ষিক অধিবেশনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় আদেশ, ১৯৭৩-এর আর্টিক্যাল ২৩ (১) (এইচ) অনুযায়ী বিশিষ্ট নাগরিক হিসেবে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় তাকে সিন্ডিকেট সদস্য মনোনীত করা হয়। এবার বিএনপির সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরামে চিকিৎসা ও রাজনৈতিক অঙ্গনে দীর্ঘ পথচলার পর এবার বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটিতে জায়গা পেলেন অধ্যাপক ডা. ফরহাদ হালিম ডোনার। শনিবারের বিজ্ঞপ্তিতে বিএনপি জানিয়েছে, নতুন মনোনীত সদস্যরা তাদের মেধা ও বিচক্ষণতার মাধ্যমে সুচিন্তিত পরামর্শ দিয়ে দল ও জনগণের পক্ষে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণে অবদান রাখবেন বলে দলটি আশা করে। এভাবে ক্যানসার চিকিৎসক হিসেবে পরিচিতি থেকে চিকিৎসা শিক্ষা, গবেষণা, পেশাজীবী সংগঠন ও রাজনৈতিক নেতৃত্ব—বিভিন্ন পরিসরে দায়িত্ব পালনের পর বিএনপির সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরামে যুক্ত হলেন ফরহাদ হালিম ডোনার।

মারিয়া রহমান আগস্ট ১৬, ২০২৬
সংগৃহীত ছবি

মির্জা ফখরুলের রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা

ছবি: সংগৃহীত

দেশে ফিরতে শেখ হাসিনার সামনে এখন কোন কোন পথ?

ছবি: সংগৃহীত

প্রধানমন্ত্রীর চ্যালেঞ্জের পর জ্বালানি সংকট নিয়ে পরিকল্পনা প্রকাশ হাসনাতের

0 Comments