জাতীয়

পঞ্চদশ সংশোধনী: এবার বল সংসদের কোর্টে

মো: দেলোয়ার হোসাইন জুলাই ১০, ২০২৬
ছবি : সংগৃহীত
ছবি : সংগৃহীত

বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময় পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বিলুপ্ত করার পাশাপাশি সংবিধানের ৫৪টি ক্ষেত্রে সংযোজন, পরিমার্জন ও প্রতিস্থাপন করা হয়েছিল।

একটি রিট আবেদনের নিষ্পত্তি করে ২০২৪ সালের ১৭ ডিসেম্বর ওই সংশোধনীর কিছু অংশ বাতিল ঘোষণা করে হাই কোর্ট।

 

এ বিষয়ে আপিল শুনানি শেষে প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী নেতৃত্বাধীন চার সদস্যের আপিল বেঞ্চ বৃহস্পতিবার হাই কোর্টের রায় বহাল রেখেছে।

এর ফলে নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা ও গণভোটের বিধান ফিরিয়ে আনার পাশাপাশি সংবিধানের ৭(ক) ও ৭(খ) অনুচ্ছেদ সংক্রান্ত হাই কোর্টের সিদ্ধান্ত বহাল থাকছে।

রাষ্ট্রের প্রধান আইন কর্মকর্তা মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল বলেন, “হাই কোর্ট রায়ে কিছু বিষয় সংসদের বিবেচনার জন্য ছেড়ে দিয়েছিল। সংবিধানের যেসব ক্ষেত্রে আরও পরিবর্তন বা পরিমার্জনের প্রয়োজন হতে পারে, সেগুলো নিয়ে ভবিষ্যতে জাতীয় সংসদ সিদ্ধান্ত নিতে পারবে।”

 

এক প্রশ্নের জবাবে অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, যেহেতু আপিল বিভাগ হাই কোর্টের রায় বহাল রেখেছে, তাই সরকার বা সংসদ চাইলে হাই কোর্টের রায় ধরেই অগ্রসর হতে পারে।

“তবে আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশিত হবে এবং সংসদ চাইলে সেই রায়ের জন্য অপেক্ষা করতে পারে। এটি সংসদের নিজস্ব সিদ্ধান্তের বিষয়।”

নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা পুনর্বহাল প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “আদালতের রায়ে শুধু এ ব্যবস্থা বাতিলের বিধানই বাতিল হয়নি বরং হাই কোর্টের রায়ে এটি পুনর্বহালও করা হয়েছে। তবে ভবিষ্যতে পরিস্থিতির পরিবর্তনের আলোকে এ ব্যবস্থার কাঠামো নতুনভাবে নির্ধারণ করার ক্ষমতা সংসদের থাকবে।”

তিনি বলেন, পার্লামেন্ট যদি মনে করে আগের কাঠামোকে নতুন বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে পুনর্নির্ধারণ করা প্রয়োজন, তাহলে সেই ক্ষমতা সংসদের রয়েছে। তবে সংসদের কোনো সিদ্ধান্ত যেন আদালতের রায়ের সঙ্গে সাংঘর্ষিক না হয়, সেটিই ‘প্রত্যাশিত’।

ভবিষ্যতে আবার সংবিধান পরিবর্তনের সম্ভাবনা নিয়ে প্রশ্ন করা হলে অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, “সংবিধান ও আইনের ব্যাখ্যা সময়ের সঙ্গে সঙ্গে পরিবর্তিত হতে পারে। ভবিষ্যতে কী হবে তা এখনই নির্ধারণ করা সম্ভব নয় এবং ভবিষ্যৎকে স্থায়ীভাবে বেঁধে রাখার মত কোনো আইনি ব্যবস্থা কারো হাতে নেই।”

তিনি বলেন, “ক্ষমতায় এসে নিজেদের সুবিধামতো সংবিধান সংশোধন করলে তা চিরস্থায়ী হয় না—ইতিহাস সেটাই দেখিয়েছে। কোনো অসৎ উদ্দেশ্যে কিছু করা হলে শেষ পর্যন্ত তার কুফল ভোগ করতেই হয়।”

তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থায় বিচার বিভাগকে যুক্ত করা উচিত কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, “আমি রাষ্ট্রের প্রধান আইন কর্মকর্তা হিসেবে কেবল আইনের বিষয়েই কথা বলতে পারি, রাজনৈতিক বা পক্ষপাতদুষ্ট কোনো মন্তব্য করব না।

 

কী ছিল হাই কোর্টের রায়ে

২০২৪ সালের ১৭ ডিসেম্বর বিচারপতি ফারাহ মাহবুব ও বিচারপতি দেবাশীষ রায় চৌধুরীর হাই কোর্ট বেঞ্চ পঞ্চদশ সংশোধনী নিয়ে রিট মামলার রায় ঘোষণা করে।

ওই রায়ে নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বিলুপ্তি-সংক্রান্ত পঞ্চদশ সংশোধনী আইনের ২০ ও ২১ ধারা সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক ও বাতিল ঘোষণা করা হয়।

পাশাপাশি পঞ্চদশ সংশোধনী আইনের মাধ্যমে সংবিধানে যুক্ত ৭ক, ৭খ, এবং ৪৪ (২) অনুচ্ছেদ বাতিল ঘোষণা করা হয়।

এছাড়া সংবিধানে গণভোটের বিধান বিলুপ্তি সংক্রান্ত পঞ্চদশ সংশোধনী আইনের ৪৭ ধারা বাতিল ঘোষণা করে দ্বাদশ সংশোধনীর ১৪২ অনুচ্ছেদ পুনর্বহাল করা হয়।

আদালত রায়ে বলা হয়, পঞ্চদশ সংশোধনী আইনটি পুরোপুরি বাতিল করা হয়নি, বরং বাকি বিধানগুলোর বিষয়ে আগামী জাতীয় সংসদ জনগণের মতামত নিয়ে সংশোধন বা পরিবর্তন করতে পারবে।

২০২৫ সালের ৮ জুলাই প্রকাশিত পূর্ণাঙ্গ রায়ের পর্যবেক্ষণে হাই কোর্ট গুরুত্বপূর্ণ কিছু বিষয় তুলে ধরে।

সংবিধানের ৭ (ক) অনুচ্ছেদ সম্পর্কে আদালত বলে, অসাংবিধানিকভাবে রাষ্ট্রক্ষমতা দখলের অভিযোগে সর্বোচ্চ শাস্তির যে বিধান যুক্ত করা হয়েছিল, তা অত্যন্ত অস্পষ্ট এবং ‘ভিন্নমত দমনের’ একটি হাতিয়ার। এটি নাগরিকদের বাকস্বাধীনতার মৌলিক অধিকার ক্ষুণ্ণ করেছে।

৭ (খ) অনুচ্ছেদের মাধ্যমে সংবিধানের মৌলিক বিধানাবলি চিরতরে সংশোধন অযোগ্য করার বিষয়টিকে আদালত ‘সংবিধান পরিপন্থি’ বলে সিদ্ধান্ত দেয়, কারণ এটি ভবিষ্যৎ সংসদের ক্ষমতা খর্ব করার পাশাপাশি সুপ্রিম কোর্টের বিচারিক পর্যালোচনার ক্ষমতাকেও বাধাগ্রস্ত করে।

এছাড়া ৪৪ (২) অনুচ্ছেদ বাতিল করার যুক্তিতে আদালত বলে, হাই কোর্টের ক্ষমতা অন্য কোনো আদালতকে দেওয়ার বিধানটি বিচার বিভাগের স্বাধীনতার ওপর নগ্ন হস্তক্ষেপ এবং এটি সংবিধানের মৌলিক কাঠামোর পরিপন্থি।

 

‘বাকি দায়িত্ব সংসদের’

সর্বোচ্চ আদালতের রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী আহসানুল করিম বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “আদালত সম্পূর্ণভাবে তাদের এখতিয়ারের মধ্যে থেকেই এ সিদ্ধান্ত দিয়েছে। এটি অত্যন্ত সুষ্ঠু একটি রায় এবং আমার মতে, এটি একটি সুষম রায়।”

রায়ের বিভিন্ন দিককে নীতিগত বা ‘পলিসি ম্যাটার’ হিসেবে বর্ণনা করে আদালত ও সংসদের সাংবিধানিক ভূমিকার পার্থক্যও তুলে ধরেন এ আইনজীবী।

তিনি বলেন, “আইন প্রণয়ন, সংশোধন কিংবা বাতিল করার একচ্ছত্র ক্ষমতা সংসদের। সংসদ কী করবে বা করবে না, সেটি তাদের নিজস্ব এখতিয়ারের বিষয়। জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলনও সংসদের মাধ্যমেই ঘটবে। অন্যদিকে আদালতের দায়িত্ব হল সংসদ প্রণীত আইন সংবিধানসম্মত ও আইনসঙ্গত কি না, তা পর্যালোচনা করা। এখন যদি এসব বিষয়ে কোনো সংশোধনের প্রয়োজন হয়, তাহলে সেটি সংসদকেই করতে হবে।”

পঞ্চদশ সংশোধনী মামলায় জামায়াতে ইসলামীর পক্ষে শুনানি করা আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির। রায়ের আইনি দিকগুলো তুলে ধরে তিনি বলেন, হাই কোর্ট যে চারটি বিষয় অসাংবিধানিক ঘোষণা করেছিল, তা আপিল বিভাগেও বহাল থাকল।

“যার মধ্যে রয়েছে সংবিধানের ৭-এর ক ও ৭-এর খ বাতিল, গণভোট পুনঃপ্রবর্তন, নিম্ন আদালতকে রিটের ক্ষমতা দেওয়ার বিধান বাতিল এবং তত্ত্বাবধায়ক সরকার বাতিলকে অসাংবিধানিক ঘোষণা করা।

“এছাড়া যেগুলো রাষ্ট্রের পলিসি, রাষ্ট্রের নীতি, যেমন সংবিধানের প্রস্তাবনা, আর্টিকেল ৮, ৯, ১০, ১১, ১২, ২৫ সহ যেগুলো নীতিকথা, এই নীতির বিষয়গুলো সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য পরিপূর্ণভাবে সংসদের উপর ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।”

তিনি বলেন, “নতুন জেনারেশন আসবে, আন্ডারস্ট্যান্ডিং হবে, এডুকেশন হবে। এইজন্য সংবিধানকে বলা হয় একটা লিভিং ডকুমেন্ট। এটি সময়, যুগ জিজ্ঞাসার পরিবর্তনের সাথে এখানে পরিবর্তন আনতে হয়।”

সুজনের সম্পাদক ও রিটকারী বদিউল আলম মজুমদার দিনটিকে ‘ঐতিহাসিক’ আখ্যা দিয়ে বলেন, “আমরা বহু চড়াই-উতরাই পার করে আজকের এই ঐতিহাসিক দিনে উপনীত হয়েছি। ত্রয়োদশ সংশোধনীর রায়ের অপব্যাখ্যার মাধ্যমেই মূলত দেশে দলীয় সরকারের অধীনে একতরফা নির্বাচন ও রাতে ভোট আয়োজনের ক্ষেত্র তৈরি হয়েছিল। এই রায়ের মাধ্যমে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা ফিরে আসায় রাতের ভোট রাতে হওয়ার সম্ভাবনাটা অতি ক্ষীণ।”

তত্ত্বাবধায়ক সরকারের কাঠামোতে বিচার বিভাগকে জড়ানোর বিরোধিতা করে তিনি বলেন, “আর কেউ চায় না যে প্রধান বিচারপতি বা সর্বশেষ অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতির মত ব্যক্তিরা কোনোভাবে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের ব্যবস্থার সাথে যুক্ত থাকুক। অন্তত আমি ব্যক্তিগতভাবে এটা চাই না। আমি আশা করি যে বর্তমান সংসদ সঠিক সিদ্ধান্ত নেবে।”

রিটকারীদের পক্ষের আইনজীবী শরীফ ভূঁইয়া পঞ্চদশ সংশোধনীর সমালোচনা করে বলেন, “৭ এর খ এর মাধ্যমে সংবিধানকে জনগণের প্রয়োজনে সংশোধন করার অধিকারকে ধ্বংস করে দেওয়া হয় এবং পুরো সংশোধনটাই ছিল জনবিরোধী একটা সংশোধনী।”

তবে রায়ে কিছু কারিগরি ও সাংবিধানিক জটিলতা রয়ে গেছে মন্তব্য করে তিনি বলেন, “হাই কোর্টের রায়ে সবগুলো বিধান বাতিল হয়নি। কিছু কিছু বিধান আরো বাতিল করা প্রয়োজন ছিল, যেমন উপদেষ্টা প্রধান উপদেষ্টার শপথ নেওয়া সংক্রান্ত বিধান সংবিধানে ফিরে আসেনি।”

সংসদ ভেঙে যাওয়ার পর নির্বাচন ও তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠনের সময়ের অসামঞ্জস্যতা নিয়ে তিনি বলেন, “এই জিনিসটা সুরাহা এখন সংসদের করতে হবে বলেই মনে হচ্ছে। তবে পূর্ণাঙ্গ রায় দেখলে এ ব্যাপারে আরও নিশ্চিতভাবে এবং সুনির্দিষ্টভাবে বলা যাবে।”

আইনজীবী অ্যাডভোকেট শাহরিয়ার কবির পুরো সংশোধনী বাতিলের বিরোধিতা করার কারণ তুলে ধরে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “এই যে জাতির পিতা, বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম, এগুলো সব হচ্ছে পলিটিক্যাল ডিসিশন। এই পলিটিক্যাল ডিসিশন যদি কোর্ট বলে দেয় যে এটা ঠিক না ওটা ঠিক না, এটা নিয়ে পরে কোর্টের উপর মানুষের আস্থা কমে যাবে।”

তিনি বলেন, “এই সংশোধনী আনা হয়েছিল একটা জাজমেন্ট ঘিরে। এটা এইভাবে বলা যায় যে, বাকশাল কায়েমের একটা অপচেষ্টা করছিলেন এই সংশোধনীর মাধ্যমে। পুরো আইন বাতিল করলে সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিল থাকত না এবং ৭২-এর সংবিধানে ফিরে যাওয়ার বৈধতা তৈরি হত।”

ভবিষ্যৎ সাংবিধানিক পদক্ষেপ সম্পর্কে জানতে চাইলে আইনজীবী কাজী জাহেদ ইকবাল বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, ২০২৪ সালের ৫ অগাস্টের পর থেকে এ পর্যন্ত যেসব পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, সেগুলোকে চূড়ান্তভাবে সংবিধানে অনুসমর্থন দিতে হবে।

“সে কারণে অষ্টাদশ সংশোধনী এখন অনিবার্য। বর্তমানে সংসদ বিদ্যমান থাকায় সরকারি ও বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলো চাইলে আলোচনার মাধ্যমে একটি কমিটি গঠন করে অষ্টাদশ সংশোধনীর সময় প্রয়োজনীয় অন্যান্য পরিবর্তনও একসঙ্গে আনতে পারবে।"

রায়ের সামগ্রিক সাংবিধানিক ও আর্থ-সামাজিক প্রভাব নিয়ে জাহেদ ইকবাল বলেন, "এই রায়ের ফলে দেশের শাসন কাঠামোয় বড় ধরনের পরিবর্তনের সূচনা হবে। এখন থেকে জাতীয় নির্বাচনের আগে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের বিষয়টি আবার কার্যকর থাকবে।

“পাশাপাশি সংবিধানের ৭ বা ১৪২ অনুচ্ছেদের মত মৌলিক বিধান পরিবর্তনের ক্ষেত্রে শুধু সংসদের দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা যথেষ্ট হবে না। জনগণের মতামত জানতে গণভোটও প্রয়োজন হবে। এই বিধান আবার ফিরে এসেছে। এর মাধ্যমে দেশের শাসনব্যবস্থা ও সাংবিধানিক অভিযাত্রায় একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা হবে।

 

রিট আবেদনকারী একপক্ষের আইনজীবী ইমরান এ সিদ্দিক কর্তৃত্ববাদী শাসনব্যবস্থা উৎখাতের কথা তুলে ধরে বলেন, “সংবিধানের ৭এ অনুচ্ছেদের মাধ্যমে তথাকথিত 'সাংবিধানিক রাষ্ট্রদ্রোহ' অপরাধ সৃষ্টি করা হয়েছিল, তা বাতিল করা হয়েছে।

 

তিনি বলেন, “এছাড়া নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বিলুপ্তির বিধানকেও আইনগতভাবে অবৈধ ঘোষণা করা হয়েছে। এর ফলে নির্বাচিত সরকারগুলোর মধ্যে শান্তিপূর্ণ ক্ষমতা হস্তান্তরের পথ সুগম হবে।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

শুল্কমুক্ত সুবিধায় ব্যবসায়ীদের আগ্রহে ভাটা

পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না।   একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।   এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন।   গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে।   জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে।   সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে।   কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে।   প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে।   আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’   সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না।   এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।

সংগৃহীত ছবি
লালনের সাম্য ও ঐক্যের দর্শন আজও প্রাসঙ্গিক: ভূমি প্রতিমন্ত্রী

ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন বলেছেন, ‘লালনের সাম্য ও ঐক্যের ভাবধারা আমাদের রাজনৈতিক ও সামাজিক অঙ্গনে সর্বদা প্রাসঙ্গিক। তার সেই মানবতাবাদী দর্শন অনুসরণ করলে পুরো জাতি নিজেদের মধ্যে সংহতি রক্ষার কৌশল খুঁজে পায়।’   শনিবার সন্ধ্যায় চট্টগ্রাম জেলা শিল্পকলা একাডেমির অনিরুদ্ধ মুক্তমঞ্চে জেলা প্রশাসন আয়োজিত লালন সাঁইয়ের ১৩৬তম তিরোধান দিবস উপলক্ষে আয়োজিত স্মরণসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী এসব কথা বলেন।   প্রতিমন্ত্রী মীর হেলাল বলেন, ‘বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান সকল ভেদাভেদ ভুলে বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের যে ধারণার প্রবর্তন করেছিলেন, তা সর্বস্তরের মানুষকে স্ব-স্ব সত্তা বজায় রেখে এক সুতোয় বাঁধার চমৎকার পথ দেখায়। এর ফলে দেশের বৈচিত্র্যময় সব সংস্কৃতির মানুষ এক অভিন্ন পরিচয়ে একতাবদ্ধ হওয়ার প্ল্যাটফর্ম পেয়েছে।’   চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য প্রদান করেন চট্টগ্রাম-৯ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ আবু সুফিয়ান, চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ ফয়সল আহমেদ, চট্টগ্রাম রেঞ্জ ডিআইজি কার্যালয়ের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার চাইলাউ মারমা।   এছাড়া বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী সামাজিক সাংস্কৃতিক সংস্থার (জাসাস) কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন।   প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর হেলাল বলেন, ‘লালন সাঁইকে কেবল সাধারণ সুরকার বা সংগীতশিল্পী হিসেবে দেখলে তার সার্বিক মূল্যায়ন হয় না; তিনি ছিলেন আমাদের লালিত অনাবিল মানবতাবাদী চিন্তাধারার এক উজ্জ্বল দীপশিখা। কোনো নির্দিষ্ট ধর্ম, বর্ণ কিংবা জাতিগত পরিচয়ে মানুষকে ভাগ না করে তিনি তার সুর ও সৃষ্টির মধ্য দিয়ে সর্বাগ্রে স্থান দিয়েছেন মানবতাকে। তার রেখে যাওয়া অসাম্প্রদায়িক মূল্যবোধকে নিজেদের জীবনে ধারণ করতে পারলে একটি বৈষম্যহীন ও ন্যায়ভিত্তিক সমাজ উপহার দেওয়া সম্ভব।’   প্রতিমন্ত্রী তার বক্তব্যে জোর দিয়ে বলেন, ‘যেকোনো বিভেদ ভুলে মানুষকে সর্বাগ্রে মানবিক মর্যাদা প্রদান করতে হবে এবং পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ বজায় রাখতে হবে। এই দৃষ্টিভঙ্গিই বৈষম্যহীন সমাজ বিনির্মাণের মূল ভিত্তি, যার দিকনির্দেশনা আমরা লালন সাঁইয়ের চিন্তা ও সৃষ্টিতে খুঁজে পাই।’   দেশের সাংস্কৃতিক বহুমাত্রিকতার চিত্র তুলে ধরে মীর হেলাল বলেন, ‘বাংলাদেশের তিন পার্বত্য জেলাসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তের ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী ও বিভিন্ন সম্প্রদায়ের জীবনযাত্রায় বর্ণিল ভিন্নতা রয়েছে। এই বৈচিত্র্যই আমাদের ঐতিহ্যকে সমৃদ্ধ করেছে। ঠিক যেমন সাতটি ভিন্ন রঙের মেলবন্ধনে একটি দৃষ্টিনন্দন রংধনু সৃষ্টি হয়, তেমনি সব ধর্ম ও সংস্কৃতির মানুষ কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করলে একটি উন্নত ও সুন্দর বাংলাদেশ গড়া সম্ভব।’

মোঃ ইমরান হোসেন অক্টোবর ১৮, ২০২৬
ফাইল ছবি

শ্রম আদালতে মামলাজট কমাতে দ্রুত কর্মপরিকল্পনা প্রণয়নের আহ্বান শ্রমমন্ত্রীর

স্থানীয় নির্বাচন: চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশের তারিখ ঘোষণা

অভিযুক্ত সোহাগ ফকির। ছবি: সংগৃহীত

আবেদ আলীর মতো প্রশ্নফাঁসে অভিযুক্ত সোহাগও চাইলেন নামাজের সুযোগ

ছবি: সংগৃহীত
প্রতিবন্ধীদের পাশে থাকার আশ্বাস প্রধানমন্ত্রীর

বর্তমান সরকার সবসময় প্রতিবন্ধীদের পাশে থাকবে বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।   শনিবার বিকালে তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ে আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্র ‘শাপলায়’ বাংলাদেশ প্রতিবন্ধী কল্যাণ সমিতির সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এ প্রতিশ্রুতি দেন।   সরকারপ্রধান বলেন, “এই সমাজের প্রতি, এই দেশের মানুষের প্রতি আমাদের দায়িত্ব আছে। ঠিক একইভাবে আজ এখানে যেসব মানুষ উপস্থিত আছেন, আপনাদের প্রতিও সমাজের দায়িত্ব রয়েছে; সরকারের দায়িত্বে র‌য়েছে। সরকারের দায়িত্ব বা সমাজের দায়িত্ব থেকে যতটুকু পালন করা উচিত ছিল, ততটুকু পালন করা সম্ভব হয়নি।   আপনাদের কষ্টটা আমরা বুঝি। বিভিন্ন কাজে বা চলতে উঠতে বসতে ফিরতে স্বাভাবিকভাবে আপনাদেরকে কিছুটা প্রতিবন্ধকতা ফেস করতে হয়। আপনাদের যে কষ্ট আছে, সেটা আমরা বুঝতে পারি। তবে আপনাদেরকে এতটুকু বলব যে আমরা কাজ শুরু করেছি, কতটুকু করতে পারবো কাজগুলো বলতে পারি না। এতটুকু আপনাদেরকে বলতে পারি যে, আপনারা আমাদের সর্বোচ্চ সহযোগিতা পাবেন, আমাদের সরকার এই কমিউনিটির ব্যক্তিদের পাশে আছে; ইনশল্লাহ আপনাদের পাশে থাকব।”   প্রধানমন্ত্রী বলেন, “যে বিষয়গুলো আপনারা বলেছেন, তা আমরা বাস্তবায়ন করতে পারি, যেন যেসব সমস্যা আছে, যতদূর পারি, সেটা আমাদের চেষ্টা থাকবে। আমার সরকার তা করবে।”   প্রধানমন্ত্রীর উপ প্রেস সচিব শাহাদাৎ স্বাধীন বলেন, এই মতবিনিময় সভায় বাংলাদেশ প্রতিবন্ধী কল্যাণ সমিতির প্রতিষ্ঠাতা ও নির্বাহী পরিচালক আব্দুস সাত্তার দুলালের সঞ্চালনায় ৩০ জন প্রতিবন্ধী ব্যক্তি ও প্রতিবন্ধী সংগঠনের প্রতিনিধিরা বক্তব্য রাখেন। তারা নিজেদের বিভিন্ন দাবি ও সমস্যার কথা প্রধানমন্ত্রীর কাছে তুলে ধরেছেন।   ‘প্রধানমন্ত্রী তাদের বক্তব্য মনোযোগ দিয়ে শোনেন এবং তাৎক্ষণিকভাবে বেশ কিছু দাবি মেনে নিয়েছেন।   উপ প্রেস সচিব বলেন, “প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য জাতীয় বাজেটে বরাদ্দ বৃদ্ধি, দক্ষতা উন্নয়ন, রাজনৈতিক অংশগ্রহণ, সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়ায় সম্পৃক্ততা এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টির দাবি তোলা হয়। বিশেষ করে সরকারি প্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল ও আদালতে ইশারা ভাষার দোভাষী নিয়োগের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন প্রতিবন্ধীরা।   “প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যে আদালত ও হাসপাতালে ইশারা ভাষার দোভাষী নিয়োগের বিষয়ে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন।”   উপ প্রেস সচিব বলেন, “প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য সহজলভ্য ও প্রতিবন্ধীবান্ধব গণপরিবহন নিশ্চিত করার দাবি উঠেছে। প্রধানমন্ত্রী অন্তত বড় শহরগুলো এ ধরনের পরিবহনব্যবস্থা বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টির দাবির পরিপ্রেক্ষিতেও তিনি কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলেছেন।”   অনুষ্ঠানে মো. মহসিন নামে একজন প্রতিবন্ধী ক্রীড়াবিদ প্রধানমন্ত্রীর জন্য একটি ক্যাপ উপহার এনেছেন বলে জানালে প্রধানমন্ত্রী মঞ্চ থেকে নেমে এসে তা গ্রহণ করেন।   বিদেশে খেলাধুলায় অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে তার দলকে সহযোগিতা করারও আশ্বাস দেন প্রধানমন্ত্রী।   মতবিনিময় সভায় অন্যদের মধ্যে সমাজকল্যাণমন্ত্রী অধ্যাপক এ জেড এম জাহিদ হোসেন, প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমীন ও প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তার উপস্থিত ছিলেন।

মো: দেলোয়ার হোসাইন অক্টোবর ১৭, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

তরুণদের হাত ধরেই গড়ে উঠবে সবার বাংলাদেশ: প্রধানমন্ত্রী

প্রধান তথ্য কমিশনার হলেন ড. নাহরিন ইসলাম খান

ফ্যামিলি কার্ড নিয়ে অনিয়ম করলে কঠোর ব্যবস্থা: তথ্য প্রতিমন্ত্রী

ছবি: সংগৃহীত
ইসরাইলি দখলদারিত্ব বন্ধে জাতিসংঘের জরুরি পদক্ষেপ চায় বাংলাদেশ

ফিলিস্তিনে ইসরাইলি দখলদারিত্ব, অবৈধ বসতি সম্প্রসারণ ও মানবাধিকার লঙ্ঘন বন্ধে জরুরি আন্তর্জাতিক পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ। একই সঙ্গে ফিলিস্তিনি জনগণের প্রতি অবিচল সংহতি এবং তাদের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকারের প্রতি সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেছে দেশটি।   শুক্রবার নিউইয়র্কে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের 'মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতি, ফিলিস্তিন প্রশ্নসহ' শীর্ষক উন্মুক্ত বিতর্কে বক্তব্য দেওয়ার সময় জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি রাষ্ট্রদূত আইরিন খান এ আহ্বান জানান। আজ ঢাকায় পাওয়া এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।   গাজায় ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি ফিলিস্তিনি বেসামরিক জনগণের অব্যাহত দুর্ভোগ এবং অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে ইসরাইলের ক্রমবর্ধমান তৎপরতার তীব্র নিন্দা জানান। রাষ্ট্রদূত খান পশ্চিম তীর ও জেরুজালেমে ভূমি দখল, সহিংসতা এবং অবৈধ বসতি সম্প্রসারণ বৃদ্ধিতেও গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন।   তিনি বলেন, 'নিরাপত্তা পরিষদে অচলাবস্থার কারণে ইসরাইল দায়মুক্তি নিয়ে কর্মকাণ্ড চালানোর সুযোগ পেয়েছে।'   বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি নিরাপত্তা পরিষদকে অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে ভূখণ্ড দখল, জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুতি ও মানবাধিকার লঙ্ঘন বন্ধে দৃঢ় পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান।   তিনি আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘনের জন্য জবাবদিহি নিশ্চিত করা এবং ফিলিস্তিনি জনগণের মৌলিক অধিকার সুরক্ষার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।   ফিলিস্তিন প্রশ্নে বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করে আইরিন খান বলেন, ফিলিস্তিনি জনগণের অবিচ্ছেদ্য আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার প্রতিষ্ঠায় ঢাকা দৃঢ়ভাবে সমর্থন দিয়ে যাবে।   তিনি ফিলিস্তিনিদের জন্য নিরবচ্ছিন্ন মানবিক সহায়তা নিশ্চিত করার গুরুত্ব তুলে ধরেন এবং নিকটপ্রাচ্যে ফিলিস্তিনি শরণার্থীদের জন্য জাতিসংঘের ত্রাণ ও কর্মসংস্থান সংস্থা, ইউএনআরডব্লিউএ'র কার্যপরিধির প্রতি পূর্ণ সম্মান জানানোর আহ্বান জানান। রাষ্ট্রদূত বলেন, ঝুঁকিতে থাকা ফিলিস্তিনি জনগোষ্ঠীকে জরুরি সহায়তা দিতে মানবিক সংস্থাগুলোকে অবশ্যই তাদের কার্যক্রম অব্যাহত রাখার সুযোগ দিতে হবে।   মধ্যপ্রাচ্যের সামগ্রিক পরিস্থিতি তুলে ধরে আইরিন খান সিরিয়া ও লেবাননে ইসরাইলের হামলা ও দখলদারিত্বের নিন্দা জানান। এসব কর্মকাণ্ড আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতার ওপর কী প্রভাব ফেলতে পারে, তা নিয়েও তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করেন।   তিনি লেবাননে জাতিসংঘের পর্যাপ্ত উপস্থিতি বজায় রাখার প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেন এবং এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশের সমর্থনের কথা জানান।   সৌদি আরবের বিমানবন্দরে হুতিদের প্রাণঘাতী হামলারও তীব্র নিন্দা জানান বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি। এসব হামলায় বেসামরিক মানুষ, তাঁদের মধ্যে বাংলাদেশি অভিবাসী কর্মীরাও হতাহত হয়েছেন। তিনি বলেন, এ ধরনের হামলা বেসামরিক মানুষের জীবন ও আঞ্চলিক নিরাপত্তার জন্য হুমকি সৃষ্টি করছে।   শান্তির সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠায় বাংলাদেশের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে রাষ্ট্রদূত খান সব পক্ষকে সর্বোচ্চ সংযম প্রদর্শন, বেসামরিক জনগণের সুরক্ষা নিশ্চিত এবং আন্তর্জাতিক মানবিক আইন মেনে চলার আহ্বান জানান।   মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাতের আরও বিস্তার ঠেকানো এবং স্থায়ী শান্তি ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠায় সম্মিলিত আন্তর্জাতিক উদ্যোগের গুরুত্বও তুলে ধরেন তিনি।

মোঃ ইমরান হোসেন অক্টোবর ১৭, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

২১ অক্টোবর থেকে দাম্মামে ফ্লাইট চালুর পরিকল্পনা বিমানের, স্থগিত রিয়াদ ফ্লাইট

জুলাই সনদ বাস্তবায়নে বিএনপির রাজনৈতিক দায় রয়েছে: সাইফুল হক

দুর্গাপূজায় এবার সর্বোচ্চ অনুদান দেওয়া হয়েছে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

0 Comments