আসন্ন রমজানকে সামনে রেখে ওমরাহ পালনে ইচ্ছুকদের দ্রুত বুকিং দেওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন ভ্রমণসেবা সংশ্লিষ্টরা। দেরি করলে ওমরাহ প্যাকেজের খরচ দুই থেকে তিনগুণ পর্যন্ত বেড়ে যেতে পারে বলে সতর্ক করেছে সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রতিষ্ঠানগুলো। রোববার (১৮ জানুয়ারি) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে খালিজ টাইমস। প্রতিবেদেন বলা হয়েছে, রমজান মাসে মক্কা ও মদিনায় লাখ লাখ মুসল্লির আগমনের কারণে পরিবহন ও আবাসন ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যেতে পারে।
ওমরাহ অপারেটরদের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে বাসে ওমরাহ প্যাকেজের খরচ প্রায় এক হাজার ২০০ দিরহাম হলেও আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই তা বেড়ে ১ হাজার ৪০০ দিরহামে পৌঁছাতে পারে। রমজান যত ঘনিয়ে আসবে, এই ব্যয় দুই হাজার দিরহামেরও বেশি হয়ে যাবে। সংশ্লিষ্টরা জানান, অনেকেই শেষ মুহূর্তে সস্তা প্যাকেজের আশায় বুকিং পিছিয়ে দেন, কিন্তু রমজানের মতো ব্যস্ত সময়ে আসন ও হোটেল সীমিত হয়ে পড়ায় উল্টো বেশি দাম গুনতে হয়।
আকাশপথে ওমরাহর ক্ষেত্রে খরচ আরও বেশি বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। বর্তমানে বিমানযাত্রাসহ ওমরাহ প্যাকেজ শুরু হচ্ছে প্রায় ৩ হাজার ৫০০ দিরহাম থেকে। তবে রমজান শুরু হলে এই প্যাকেজের দাম ৫ হাজার ২০০ দিরহাম ছাড়িয়ে ৮ হাজার দিরহাম পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে। বিশেষ করে রমজানের শেষ দশকে খরচ সবচেয়ে বেশি হবে বলে জানিয়েছেন সংযুক্ত আরব আমিরাতের ট্যুর অপারেটররা।
বিশ্লেষণে দেখা গেছে, উড়োজাহাজের টিকিটের দাম তুলনামূলক স্থিতিশীল থাকলেও হোটেল ভাড়াই ব্যয় বৃদ্ধির প্রধান কারণ। মসজিদুল হারাম থেকে হাঁটা দূরত্বে অবস্থিত হোটেলগুলোর ভাড়া রমজানে দ্বিগুণ এবং শেষ দশ দিনে তিনগুণ পর্যন্ত বেড়ে যায়।
এছাড়া, হজের প্রস্তুতির কারণে ওমরাহ ভিসার সময়সীমাও গুরুত্বপূর্ণ। আগামী ১৭ মার্চের পর ওমরাহ ভিসা আবেদন বন্ধ হবে এবং ২ এপ্রিলের মধ্যে সৌদি আরবে প্রবেশ করতে হবে। ১৮ এপ্রিলের মধ্যে দেশ ছাড়ার বাধ্যবাধকতাও রয়েছে।
তাই খরচ ও সময়-দুটো বিষয় মাথায় রেখে আগেভাগে পরিকল্পনার পরামর্শ দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না। একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন। গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে। জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে। সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে। কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে। প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে। আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’ সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না। এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।
যুক্তরাষ্ট্রের টেনেসি অঙ্গরাজ্যে বসবাসরত বাংলাদেশী প্রবাসীদের জন্য কনস্যুলার সেবা দিতে বিশেষ কার্যক্রমের ঘোষণা দিয়েছে মায়ামিতে অবস্থিত বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেল। আগামী ১০ ও ১১ অক্টোবর নক্সভিলে এ সেবা দেয়া হবে। কনস্যুলেটের এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ‘ইউনিভার্সিটি অব টেনিসি নক্সভিলের (ইউটিকে) রুম নম্বর ৩০০, আইএএমএম সদর দপ্তর-ইউটি ইনস্টিটিউট ফর অ্যাডভান্সড ম্যাটেরিয়ালস অ্যান্ড ম্যানুফ্যাকচারিং সদর দপ্তর, ২৬৪১ ওএসএফ ক্যাম্পাস ওয়ে, নক্সভিল, টেনেসি ৩৭৯২০’ ঠিকানায় কনস্যুলার সেবা প্রদান করা হবে। বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, ১০ অক্টোবর (শনিবার) সকাল ১০টা থেকে বিকাল ৫টা এবং ১১ অক্টোবর (রোববার) সকাল ১০টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত সেবা কার্যক্রম চলবে। বিশেষ কনস্যুলার সেবা কার্যক্রমে থাকছে— ই-পাসপোর্ট: অনলাইনে আবেদন সম্পন্ন করে প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের কপি ও ছবি নিয়ে উপস্থিত হতে হবে। আবেদন ফি অনলাইনে পরিশোধের পর কনস্যুলেটের ওয়েবসাইটে প্রদর্শিত ১০% সারচার্জসহ ফি প্রযোজ্য হবে। মেইলের মাধ্যমে নিজ ঠিকানায় পাসপোর্ট পেতে আগ্রহীদের ইউএসপিএস-এর প্রিপেইড রিটার্ন এনভেলপ সঙ্গে আনতে বলা হয়েছে। নো ভিসা রিকোয়ার্ড (এনভিআর) এনডোর্সমেন্ট ও ভিসা: প্রয়োজনীয় ফরম পূরণ করে সংশ্লিষ্ট কাগজপত্রসহ উপস্থিত হতে হবে। ফি ৮৮ ডলার। পাওয়ার অব অ্যাটর্নি: পাওয়ার অব অ্যাটর্নি দাতা/দাতাদের সশরীরে উপস্থিত হয়ে কনস্যুলার কর্মকর্তার সামনে স্বাক্ষর করতে হবে। প্রয়োজনীয় মূল কাগজপত্র সঙ্গে আনতে হবে। অন্যান্য ডকুমেন্ট সত্যায়ন: প্রয়োজনীয় সব অরিজিনাল ও ফটোকপি সঙ্গে আনতে হবে। জন্ম নিবন্ধন: বাংলাদেশী নাগরিকদের সন্তানদের জন্মনিবন্ধনের জন্য সংশ্লিষ্ট কাগজপত্রসহ আবেদন করা যাবে। বিজ্ঞপ্তিতে https://bris.gov.bd/ ওয়েবসাইটের মাধ্যমে অনলাইনে আবেদন করার কথা বলা হয়েছে। ট্রাভেল পারমিট: যাদের বাংলাদেশী পাসপোর্টের মেয়াদ শেষ হয়েছে এবং জরুরি ভিত্তিতে বাংলাদেশ যেতে হবে, তাদের জন্য নির্ধারিত প্রক্রিয়ায় ট্রাভেল পারমিটের আবেদন করা যাবে। কনস্যুলেট জানিয়েছে, সব সেবা সরাসরি উপস্থিত হওয়ার ভিত্তিতে প্রদান করা হবে। তবে সেবার ধরন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় কাগজপত্র, ফরম ও ফটোকপি সঙ্গে আনতে হবে। বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়েছে, কনস্যুলার সেবার জন্য নির্ধারিত ফি ক্রেডিট কার্ডের মাধ্যমে পরিশোধ করা যাবে। তবে কনস্যুলেট জেনারেল অব বাংলাদেশ, মিয়ামি-এর ব্যাংক পরিচালিত সেবা ফি ফেরতযোগ্য নয়। প্রয়োজনীয় ডকুমেন্ট, ফি ও অন্যান্য বিস্তারিত তথ্যের জন্য কনস্যুলেটের ওয়েবসাইট https://florida.mofa.gov.bd দেখার জন্য প্রবাসীদের অনুরোধ করা হয়েছে।
অচেনা দেশ, সীমিত পুঁজি আর অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ—এই তিনকে সঙ্গী করেই প্রবাসজীবন শুরু করেছিলেন বাংলাদেশি উদ্যোক্তা আল-আমিন। নিজের পায়ে দাঁড়ানোর স্বপ্ন নিয়ে ছোট পরিসরে শুরু করা সেই উদ্যোগের পথচলা এখন প্রায় দুই দশকের। মালয়েশিয়া থেকে পর্তুগাল, এরপর স্পেন—প্রবাসে জীবনের নানা বাঁক পেরিয়ে আল-আমিন এখন স্পেনের রাজধানী মাদ্রিদে প্রায় ৮০টি দোকানের সঙ্গে যুক্ত একটি বিস্তৃত ব্যবসায়িক কার্যক্রম পরিচালনা করছেন। ফলমূল ও খাদ্যপণ্যের বাজারে তার প্রতিষ্ঠান ‘Dhaka Frutas’ ইতোমধ্যে পরিচিত একটি নাম। তবে এই অবস্থানে পৌঁছানোর গল্প শুধু ব্যবসায়িক সাফল্যের নয়। এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে দীর্ঘ পরিশ্রম, ধৈর্য, পারিবারিক সহযোগিতা, ঝুঁকি নেওয়ার সাহস এবং প্রতিকূল পরিস্থিতিতে লক্ষ্য থেকে বিচ্যুত না হওয়ার মানসিকতা। ছোট উদ্যোগেই বড় স্বপ্ন: প্রবাসে ব্যবসা শুরু করার সময় আল-আমিনের সামনে ছিল নানা প্রতিবন্ধকতা। নতুন দেশ, ভিন্ন ভাষা ও সংস্কৃতি, প্রতিযোগিতামূলক বাজার এবং সীমিত আর্থিক সক্ষমতা—সবকিছুর সঙ্গে মানিয়ে নিয়েই তাকে এগোতে হয়েছে। ফল ও খাদ্যপণ্যের ব্যবসাকে কেন্দ্র করে ধীরে ধীরে বাজার সম্পর্কে ধারণা তৈরি করেন তিনি। ক্রেতাদের চাহিদা বোঝার পাশাপাশি সরবরাহব্যবস্থা ও ব্যবসায়িক সম্পর্ক গড়ে তোলার দিকে গুরুত্ব দেন। সময়ের সঙ্গে ছোট উদ্যোগটি বিস্তৃত হতে থাকে। ২০০৮ সালে কার্যক্রম শুরু করে Dhaka Frutas Y Verduras Alimentacion SL। প্রতিষ্ঠানটির মূল ব্যবসা ফল, সবজি ও বিভিন্ন খাদ্যপণ্যের বাণিজ্য, বিপণন ও বিতরণ। দীর্ঘ সময় ধরে ধারাবাহিকভাবে কাজ করে প্রতিষ্ঠানটি আজ প্রায় ৮০টি দোকানের সঙ্গে ব্যবসায়িকভাবে যুক্ত হয়েছে। সাফল্যের সূত্র লক্ষ্য ও দায়িত্ববোধ: আল-আমিনের কাছে উদ্যোক্তা হওয়া মানে শুধু একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠা করা নয়। তার মতে, সাফল্যের জন্য নির্দিষ্ট লক্ষ্য ঠিক করার পাশাপাশি প্রতিদিন নিজের দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করাও জরুরি। তিনি বলেন, ‘শুধু স্বপ্ন দেখলে হবে না। নিজের একটি লক্ষ্য ঠিক করতে হবে এবং সেই লক্ষ্য অর্জনের জন্য দায়িত্ব নিয়ে কাজ করতে হবে। মানুষ যখন নিজের দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করে এবং লক্ষ্য থেকে সরে না যায়, তখন সাফল্য একদিন তার কাছে আসবেই।’ দ্রুত বড় হওয়ার পরিবর্তে ধীরে ধীরে ব্যবসার ভিত্তি শক্ত করাকেই তিনি গুরুত্ব দিয়েছেন। প্রতিদিনের কাজ, মানুষের আস্থা অর্জন এবং দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার মধ্য দিয়েই ব্যবসা সম্প্রসারণ করেছেন বলে জানান তিনি। মাদ্রিদে বাংলাদেশি উদ্যোক্তার পরিচিতি: স্পেনের মাদ্রিদে ব্যবসা পরিচালনা করতে গিয়ে আল-আমিনকে স্থানীয় বাজারের নিয়মকানুনের পাশাপাশি ভাষা ও সংস্কৃতির পার্থক্যের সঙ্গেও মানিয়ে নিতে হয়েছে। তীব্র প্রতিযোগিতার মধ্যেও ধীরে ধীরে নিজের ব্যবসায়িক অবস্থান তৈরি করেছেন তিনি। ২০২৬ সালে স্পেনের সংবাদপত্র El País মাদ্রিদের অভিবাসী উদ্যোক্তাদের ফলমূল ব্যবসা নিয়ে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে ‘Dhaka Frutas’-এর নাম উল্লেখ করে। আল-আমিনের জন্য এটি যেমন ব্যবসায়িক স্বীকৃতি, তেমনি বিদেশের মাটিতে বাংলাদেশি উদ্যোক্তাদের সক্ষমতারও একটি উদাহরণ। সাফল্যের পেছনে পরিবারের অবদান: নিজের অর্জনকে কখনোই একক সাফল্য হিসেবে দেখেন না আল-আমিন। তার মতে, দীর্ঘ পথচলায় পরিবার, বন্ধু, সহকর্মী ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের সহযোগিতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। বিশেষ করে তার সহোদর আবু বকর ব্যবসার বিভিন্ন কঠিন সময়ে পাশে ছিলেন। ব্যবসার সম্প্রসারণের পাশাপাশি পারিবারিক সহযোগিতাও তাদের উদ্যোগকে শক্ত ভিত্তি দিয়েছে। ২০২১ সালে আল-আমিন প্রতিষ্ঠানের প্রশাসকের দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ানোর পর আবু বকর সেই দায়িত্ব গ্রহণ করেন। ফলে ব্যবসার প্রশাসনিক কার্যক্রমেও পারিবারিক অংশীদারিত্বের ধারাবাহিকতা তৈরি হয়েছে। কঠিন সময়ের মানুষদের ভুলে যাননি: আল-আমিন মনে করেন, একজন উদ্যোক্তার সাফল্যের পেছনে শুধু নিজের শ্রম থাকে না। কঠিন সময়ে যারা পাশে থাকেন, তাদের অবদানও মনে রাখা প্রয়োজন। তার ভাষায়, ‘যারা কঠিন সময়ে পাশে ছিলেন, তাদের কখনো ভুলে যাওয়া উচিত নয়। সাফল্যের সময় তাদের কথা মনে রাখা এবং তাদের প্রতি কৃতজ্ঞ থাকা মানুষের দায়িত্ব।’ এই ভাবনা থেকেই প্রতিবছর আত্মীয়স্বজন, বন্ধু ও ঘনিষ্ঠজনদের নিয়ে বিশেষ আয়োজন করেন তিনি। ব্যবসায়িক ব্যস্ততার বাইরে এসব আয়োজন তার কাছে সম্পর্ক ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশের একটি সুযোগ। তরুণ উদ্যোক্তাদের জন্য বার্তা: প্রবাসে এসে ব্যবসা করার স্বপ্ন দেখেন অনেক বাংলাদেশি তরুণ। তাদের উদ্দেশে আল-আমিনের পরামর্শ—সাফল্যের জন্য তাড়াহুড়ো না করে লক্ষ্য নির্ধারণ এবং ধারাবাহিকভাবে কাজ করে যেতে হবে। তার মতে, ব্যবসায় শুধু পুঁজি থাকলেই সফল হওয়া যায় না। প্রয়োজন ধৈর্য, সততা, মানুষের আস্থা অর্জনের সক্ষমতা এবং দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা। প্রায় ১৯ বছরের প্রবাসজীবনের অভিজ্ঞতা থেকে তিনি মনে করেন, ছোট ছোট অর্জনই একসময় বড় সাফল্যের ভিত্তি তৈরি করে। পথে বাধা আসবে, ভুলও হতে পারে; কিন্তু লক্ষ্য থেকে সরে না গিয়ে আবার শুরু করার মানসিকতাই একজন উদ্যোক্তাকে এগিয়ে নেয়। এক দোকান থেকে ৮০—এক দীর্ঘ পথচলা: মালয়েশিয়ায় শুরু হওয়া প্রবাসজীবন, এরপর পর্তুগাল এবং সবশেষে স্পেনের মাদ্রিদে প্রতিষ্ঠিত হওয়া—আল-আমিনের পথচলায় এসেছে নানা পরিবর্তন। কিন্তু নিজের লক্ষ্য থেকে তিনি সরে যাননি। একটি ছোট দোকান দিয়ে শুরু করে প্রায় ৮০টি দোকানের সঙ্গে ব্যবসায়িকভাবে যুক্ত হওয়ার এই যাত্রা একদিনে তৈরি হয়নি। এর পেছনে রয়েছে প্রায় দুই দশকের শ্রম, ধৈর্য, ঝুঁকি, অভিজ্ঞতা এবং প্রতিকূলতার সঙ্গে লড়াই। আল-আমিনের গল্প দেখায়, প্রবাসে বাংলাদেশিদের সম্ভাবনা শুধু চাকরি বা শ্রমের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। সুযোগ ও পরিশ্রমের সমন্বয়ে তারাও ব্যবসা গড়ে তুলে স্থানীয় বাজারে নিজেদের অবস্থান তৈরি করতে পারেন। একটি ছোট দোকান থেকে আজকের বিস্তৃত ব্যবসায়িক পরিসর—আল-আমিনের এই যাত্রা তাই শুধু ব্যক্তিগত সাফল্যের গল্প নয়; এটি প্রবাসে স্বপ্ন দেখা অনেক বাংলাদেশি তরুণের জন্যও অনুপ্রেরণার একটি উদাহরণ।
সৌদি আরবে বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশীদের ই-পাসপোর্টের ব্যাপক চাহিদার পরিপ্রেক্ষিতে গত দেড় মাসে ৬৫ হাজারের বেশি আবেদনকারীর বায়োমেট্রিক গ্রহণ করেছে বাংলাদেশ দূতাবাস। আগে যেখানে প্রতি মাসে গড়ে প্রায় ১১ হাজার পাসপোর্টের এনরোলমেন্ট করা হতো, সেখানে দূতাবাসের উদ্যোগে সাম্প্রতিক সময়ে সেবার পরিধি উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানো হয়েছে। দূতাবাসের দেয়া তথ্যানুযায়ী, ইতোমধ্যে ১৫ হাজার ৪৩৪টি ই-পাসপোর্ট বিতরণ করা হয়েছে। বর্তমানে ২৫ হাজার ৪৬৭টি পাসপোর্ট প্রিন্টিং পর্যায়ে রয়েছে। এছাড়া বায়োমেট্রিক বা ফিঙ্গারপ্রিন্ট গ্রহণের পর ২১ হাজার ৬৭৮টি পাসপোর্টের পরবর্তী কার্যক্রম চলমান রয়েছে। এদিকে সৌদি আরবের দাম্মাম অঞ্চলে ৯ দিনব্যাপী বিশেষ ক্যাম্পের মাধ্যমে ১৫ হাজার ২০০টি পাসপোর্ট আবেদনের ফিঙ্গারপ্রিন্ট গ্রহণের কার্যক্রম চলছে। এর মাধ্যমে ওই অঞ্চলে বসবাসরত প্রবাসীদের ই-পাসপোর্ট সেবা আরও সহজ ও দ্রুত করার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। তবে ফিঙ্গারপ্রিন্ট গ্রহণের পরবর্তী কার্যক্রমে কিছু আবেদনকারীর পাসপোর্ট পেতে তুলনামূলক বেশি সময় লাগতে পারে বলে জানিয়েছে দূতাবাস। আবেদনে তথ্যগত ভুল, জন্ম নিবন্ধন বা জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্যের সঙ্গে অসংগতি এবং একাধিক পাসপোর্ট সংক্রান্ত জটিলতার কারণে অনেক ক্ষেত্রে অতিরিক্ত তথ্য যাচাই ও প্রসেসিংয়ের প্রয়োজন হচ্ছে। এসব কারণে পাসপোর্ট প্রদানে বিলম্ব হলেও বিষয়টি নিয়ে প্রবাসীদের ধৈর্য ধারণ করার জন্য অনুরোধ করেছে দূতাবাস। একই সঙ্গে পাসপোর্ট সেবা আরও দ্রুত, সহজ ও কার্যকর করতে দূতাবাস সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে বলে জানানো হয়েছে।