আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে নতুন নতুন জোট গঠনের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। বিএনপির নেতৃত্বাধীন জোট দীর্ঘদিন সমমনাদের নিয়ে রাজপথে আন্দোলন-সংগ্রামে যুক্ত ছিল। একসময় জামায়াতে ইসলামীও বিএনপির জোটসঙ্গী ও সমমনা রাজনৈতিক দল হিসেবে পরিচিত ছিল। বর্তমানে জামায়াতে ইসলামী নির্বাচনী জোট গঠনের প্রস্তুতি নিচ্ছে।
নতুন রাজনৈতিক দলের মধ্যে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে রয়েছে। দল গঠনের পর থেকেই জল্পনা ছিল, এনসিপি আগামী নির্বাচনে কোন পথে যাবে। শেষ পর্যন্ত আমার বাংলাদেশ পার্টি, এনসিপিসহ কয়েকটি দল নিয়ে জোট গঠন করা হচ্ছে। একই সময়ে বাম রাজনৈতিক দলগুলোও বৃহত্তর জোট গঠনের প্রক্রিয়ায় আছে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে বিএনপি, জামায়াত, এনসিপি ও বামদলগুলো জোটবদ্ধ হয়ে নির্বাচনি লড়াইয়ে অংশ নিতে চায়। নির্বাচনকে সামনে রেখে এভাবেই রাজনৈতিক জোটের নতুন হিসাবনিকাশ শুরু হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, বিচার ও সংস্কারের দৃশ্যমান অগ্রগতির পর প্রার্থী চূড়ান্ত করার পাশাপাশি রাজনৈতিক দলগুলোর মূল ব্যস্ততা নির্বাচনি জোট নিয়ে। কোনো কোনো রাজনৈতিক দলকে জোটে অন্তর্ভুক্ত করলে বিজয় নিশ্চিত হবে এই হিসাব নিয়ে বড় রাজনৈতিক দলগুলো কাজ করছে।
নির্বাচন সামনে রেখে জোটের সমীকরণ চূড়ান্ত করতে রাজনৈতিক দলগুলোর দৌড়ঝাঁপ শুরু হয়েছে। আওয়ামী লীগ শাসনামলে বিএনপির সঙ্গে থাকা দলগুলো নিয়ে বৃহৎ জোট গঠন করতে চাইছে বিএনপি। ইতোমধ্যেই বিএনপি ২৩৭ আসনে সম্ভাব্য প্রার্থী ঘোষণা করেছে, তবে সমমনা দলগুলোর জন্য কিছু আসন খালি রাখা হয়েছে। সমমনাদের কোন আসনে প্রার্থী করা হবে, তা এখন আলোচনার বিষয়। বিএনপির সঙ্গে থাকা দলগুলো হলো গণতন্ত্র মঞ্চ, জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম, ১২ দলীয় জোট, বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি, গণঅধিকার পরিষদ, এলডিপি, জাতীয়তাবাদী সমমনা জোট, জাতীয়তাবাদী গণতান্ত্রিক আন্দোলন (এনডিএম), বাংলাদেশ লেবার পার্টি ও গণফোরাম।
বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ জানিয়েছেন, আগামী নির্বাচনের জন্য বিএনপি বৃহৎ জোট গঠনের চিন্তা করছে। যারা যুগপৎ আন্দোলনে ছিল, তাদের নিয়ে একটি বৃহৎ জোটের দিকে এগোচ্ছে দলটি। তিনি বলেন, ‘সবাইকে নিয়ে ঐক্যবদ্ধভাবে নির্বাচনি লড়াই পার করার লক্ষ্য রয়েছে।
একই সময়ে একসময় বিএনপির সঙ্গে জোটভুক্ত এবং পরবর্তীতে সমমনা রাজনৈতিক দল হিসেবে রাজপথে থাকা জামায়াতে ইসলামী নির্বাচনে কিছু দলের পক্ষে একক প্রার্থী দেওয়ার প্রক্রিয়া চালাচ্ছে। আটটি রাজনৈতিক দল এই প্রক্রিয়ায় অংশ নিচ্ছে, যা জামায়াত জোট না বলে নির্বাচনি সমঝোতা হিসেবে উল্লেখ করছে। এতে জামায়াতের সঙ্গে রয়েছে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস, খেলাফত মজলিস, জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ, খেলাফত আন্দোলন, ইসলামী ঐক্যজোট এবং নেজামে ইসলাম পার্টি। নির্বাচন ঘিরে ভবিষ্যতে আরও কিছু দল যুক্ত হতে পারে। এই সমঝোতায় প্রতিটি দলের পক্ষে একজন প্রার্থী থাকবে।
জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেন, দল অন্য কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে জোট করবে না, বরং নির্বাচনকেন্দ্রিক সমঝোতায় থাকবে।
নতুন রাজনৈতিক দল এনসিপি কোন জোটে যাবে, তা নিয়েই চলছে নানা সমীকরণ। এনসিপির নেতারা জানিয়েছেন, তারা স্বতন্ত্রভাবে নির্বাচন করবে না। বিএনপি ও জামায়াত দুটো দলকেই তারা গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। বৃহত্তর স্বার্থে এবং উদার গণতান্ত্রিক ধারায় বিশ্বাসী যেসব দল আছে, তাদের সঙ্গে যুগপৎ যাত্রা হতে পারে।
এনসিপির জোট প্রসঙ্গে এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু বলেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য আগামী কয়েক দিনের মধ্যে নতুন জোট ঘোষণা করা হবে। জুলাই গণ অভ্যুত্থানে যারা নেতৃত্ব দিয়েছেন, তাদের সঙ্গে জোট গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সম্ভাব্য জোট ঘোষণার দিন নির্ধারণ করা হয়েছে ২৫ নভেম্বর।
এনসিপির যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক ও মিডিয়া সদস্যসচিব খান মুহাম্মদ মোরসালিন বলেন, ‘আমরা কোনো জোট করছি না, তবে আদর্শগত মিল থাকলে যুগপৎ যাত্রা সম্ভব।
বিএনপির সঙ্গে যুগপৎ আন্দোলনে দীর্ঘদিন যুক্ত থাকা গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকি বলেন, এবারের নির্বাচনে দল ও মার্কার পাশাপাশি সর্বাধিক গুরুত্ব পাবে যোগ্য প্রার্থী। তিনি বলেন, ‘নির্বাচন প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হবে। মুক্তিকামী গণতন্ত্রকে সামনে রেখে লড়াই চালানো হবে। সেই লড়াইতে উপযুক্ত রাজনৈতিক ও সামাজিক অবস্থা থাকা দলগুলোর সঙ্গে আমাদের ঐক্য জরুরি।
বামপন্থি দলগুলোর বৃহত্তর জোট চলতি মাসেই আত্মপ্রকাশ করতে পারে। যুক্তফ্রন্টের আদলে বাম ঘরানার কয়েকটি রাজনৈতিক দল মিলিত হয়ে নতুন জোট গঠন করছে। ২৯ নভেম্বর এই জোট আনুষ্ঠানিকভাবে আত্মপ্রকাশ করবে। ‘একসঙ্গে আন্দোলন এবং নির্বাচন’ লক্ষ্য নিয়ে এই জোট ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩০০ আসনে ভোটের লড়াইয়ে নামার প্রস্তুতি নিচ্ছে।
গত বছরের জুলাই গণ অভ্যুত্থানের পর রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং জাতীয় নির্বাচন সামনে রেখে বামপন্থি দলগুলো জোট গঠন প্রক্রিয়া শুরু করেছে। ছয়টি বামদল নিয়ে গঠিত বাম গণতান্ত্রিক জোট এবং বাংলাদেশ জাসদ বৃহত্তর জোট গঠনের মূল উদ্যোক্তা। বাম গণতান্ত্রিক জোটের শরিক দলগুলো হলো বাংলাদেশ কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি), বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ), গণতান্ত্রিক বিপ্লবী পার্টি, বাংলাদেশ বিপ্লবী কমিউনিস্ট লীগ, বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক আন্দোলন এবং বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দল-বাসদ (মার্কসবাদী)।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
নতুন কোনও দুর্যোগ না হলে আগামী বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) থেকে পর্যটকদের জন্য বান্দরবানের সব পর্যটনকেন্দ্র খুলে দেওয়া হবে বলে জানিয়েছে জেলা প্রশাসন। মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) দুপুরে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান বান্দরবানের জেলা প্রশাসক (ডিসি) মো. সানিউল ফেরদৌস। তিনি বলেন, বান্দরবানের অসংখ্য মানুষ পর্যটন শিল্পের ওপর নির্ভরশীল। দীর্ঘদিন পর্যটনকেন্দ্র বন্ধ থাকায় অনেকেই অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। তাই ১৫ জুলাইয়ের পর বড় ধরনের কোনও দুর্যোগের আশঙ্কা না থাকলে ১৬ জুলাই থেকে জেলার সব পর্যটনকেন্দ্র আবার চালু করা হবে। জেলা প্রশাসক আরও বলেন, এই দুর্যোগে আমরা সবাই ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করেছি। এভাবে সমন্বিতভাবে কাজ করলে যে কোনও দুর্যোগ মোকাবিলা করা সম্ভব সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার মো. ওহাবুল ইসলাম খন্দকার, পৌরসভার প্রশাসক এস এম মনজুরুল হক, বিদ্যুৎ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী সৈয়দ আমির হোসেন, পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী অপু দেব, বান্দরবান প্রেসক্লাবের সভাপতি আমিনুল ইসলাম বাচ্চুসহ জেলা প্রশাসন ও বিভিন্ন সরকারি দফতরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের বৃহস্পতিবারে (১৬ জুলাই) অনুষ্ঠিতব্য প্রিলিমিনারি টু মাস্টার্স ও ডিগ্রি পাস ও সার্টিফিকেট কোর্স তৃতীয় বর্ষ পরীক্ষার তারিখ পরিবর্তন করা হয়েছে। মঙ্গলবার বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক মো. এনামুল করিমের স্বাক্ষর করা পৃথক দুটি বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, পরিবর্তিত তারিখ অনুযায়ী ডিগ্রি পাস ও সার্টিফিকেট কোর্স তৃতীয় বর্ষের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে আগামী ২৫ জুলাই এবং প্রিলিমিনারি টু মাস্টার্স পরীক্ষা হবে ১১ আগস্ট। এ ছাড়া পূর্বঘোষিত অন্য সব তারিখ ও সময়সূচি অপরিবর্তিত থাকবে বলে বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা সংক্রান্ত অথবা যেকোনো তথ্যের জন্য www.nu.ac.bd ওয়েবসাইটে প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তি ব্যতিত অন্য কোন সূত্র থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুসরণ না করার জন্য অনুরোধ করা হলো। বিস্তারিত দেখুন বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইটে।
গাইবান্ধার পলাশবাড়ীতে রাম বিগ্রহ নির্মাণের উদ্যোক্তা হরিদাস চন্দ্র তরণী দাসকে গ্রেপ্তারের আগে প্রায় এক মাস ধরে তার আর্থিক লেনদেনের বিষয়ে অনুসন্ধান চালিয়ে আসার কথা জানিয়েছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। পুলিশের এই তদন্ত সংস্থার দাবি, অনুসন্ধানে পাঁচটি ব্যাংক হিসাব এবং চারটি মোবাইল ব্যাংকিং অ্যাকাউন্টে ‘অস্বাভাবিক’ লেনদেনের তথ্য পাওয়ার পর মানিলন্ডারিং আইনে মামলা করে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। মঙ্গলবার সিআইডি সদর দপ্তরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ফাইন্যান্সিয়াল ক্রাইম ইউনিটের বিশেষ পুলিশ সুপার মো. মনিরুজ্জামান এ বিষয়ে কথা বলেন। তিনি বলেন, "প্রায় এক মাস আগে আমরা অনুসন্ধান শুরু করি। মানিলন্ডারিংয়ের অভিযোগ যাচাই করতে গিয়ে পাঁচটি ব্যাংক হিসাব এবং চারটি মোবাইল ব্যাংকিং অ্যাকাউন্টের তথ্য পাই।" সিআইডির তথ্য অনুযায়ী, পাঁচটি ব্যাংক হিসাবের মধ্যে চারটি ডাচ্-বাংলা ব্যাংক এবং একটি সিটি ব্যাংকে রয়েছে। ডাচ্-বাংলা ব্যাংকের দুটি হিসাব ময়মনসিংহ শাখায়, একটি গাইবান্ধার পলাশবাড়ি শাখায় এবং একটি ঢাকার উত্তরা রবীন্দ্র সরণি শাখায়। সিটি ব্যাংকের হিসাবটি পলাশবাড়ি শাখায়। এ ছাড়া দুটি বিকাশ, একটি নগদ এবং একটি রকেট অ্যাকাউন্টের তথ্যও পেয়েছে সিআইডি। মনিরুজ্জামান বলেন, এসব হিসাব ও মোবাইল ব্যাংকিংয়ে মোট ৯ কোটি ৩৫ লাখ ৩২ হাজার ৪৫১ টাকা জমা হয়েছে। উত্তোলন করা হয়েছে ৯ কোটি ৩৫ লাখ ৬৫ হাজার ৫২৮ টাকা। সবচেয়ে কম লেনদেন হয়েছে ডাচ্-বাংলা ব্যাংকের পলাশবাড়ি শাখার হিসাবে, প্রায় ১ লাখ ৭৫ হাজার টাকা। আর সবচেয়ে বেশি লেনদেন হয়েছে উত্তরা রবীন্দ্র সরণি শাখার হিসাবে, যেখানে প্রায় ৪ কোটি ৩৫ লাখ টাকা জমা হয়ে পুরো অর্থই উত্তোলন করার তথ্য পেয়েছে সিআইডি। মনিরুজ্জামান বলেন, মো. সুজন নামে এক ব্যক্তি হরিদাসের তিনটি ব্যাংক হিসাবে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ অর্থ জমা দিয়েছেন। "এ ছাড়া একটি মোবাইল ব্যাংকিং অ্যাকাউন্টে ১ কোটি ৩১ লাখ টাকার লেনদেন পাওয়া গেছে। গ্রেপ্তারের পর হরিদাস আমাদের বলেন, মন্দির নির্মাণের জন্য ভক্তরা বিভিন্ন সময়ে ওই অর্থ দিয়েছেন।" সিআইডির এই কর্মকর্তা বলেন, প্রাথমিক তদন্তে দেশে ও বিদেশ থেকে হরিদাসের হিসাবে অর্থ জমা হওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। "যারা টাকা পাঠিয়েছেন, তারা অন্য কারও হয়ে পাঠিয়ে থাকতে পারেন। আবার জিজ্ঞাসাবাদে হরিদাসও বিভিন্ন সময়ে ভিন্ন ভিন্ন বক্তব্য দিচ্ছেন। এসব বিষয় তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।" মনিরুজ্জামান বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে হরিদাসকে নিয়ে বিভিন্ন তথ্য প্রকাশ পাওয়ার পর সিআইডি নিজস্ব গোয়েন্দা অনুসন্ধান শুরু করে। তিনি অভিযোগ করেন, এত বড় অঙ্কের লেনদেন হলেও সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলো থেকে কোনো সন্দেহজনক লেনদেনের তথ্য আগে জানায়নি। গত রোববার সিআইডির ফাইন্যান্সিয়াল ক্রাইম ইউনিটের এসআই সাইফুল ইসলাম ঢাকার উত্তরা পশ্চিম থানায় হরিদাস চন্দ্র তরণী দাসের বিরুদ্ধে মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইনে মামলা করেন। পরে একই রাতে গাইবান্ধার পলাশবাড়ী উপজেলার হোসেনপুর ইউনিয়নের মধ্য রামচন্দ্রপুর গ্রামের রাধা-গোবিন্দ ও কালী মন্দির এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। বর্তমানে তিনি চার দিনের রিমান্ডে রয়েছেন। মামলায় বলা হয়, লেনদেন হওয়া অর্থ ‘দেশি-বিদেশি মুদ্রা পাচার তথা হুন্ডির মাধ্যমে হস্তান্তর, স্থানান্তর ও রূপান্তরের মাধ্যমে অর্জিত’—এমন প্রাথমিক সন্দেহ থেকে মানিলন্ডারিংয়ের অভিযোগ আনা হয়েছে। অভিযোগগুলোর তদন্ত এখনও চলছে। মনিরুজ্জামান বলেন, ব্যক্তিগত হিসাবে অর্থ লেনদেন না করে মন্দিরের নামে ব্যাংক হিসাব ব্যবহার করা হলে অর্থের উৎস ও ব্যয়ের বিষয়ে আরও স্বচ্ছতা থাকত। সম্প্রতি গাইবান্ধার পলাশবাড়ী উপজেলার রাধা-গোবিন্দ ও কালী মন্দির প্রাঙ্গণে হিন্দু দেবতা রামের একটি বিশাল বিগ্রহ নির্মাণের উদ্যোগ নেয় মন্দির কর্তৃপক্ষ। তাদের দাবি ছিল, এটি হবে এশিয়ার বৃহত্তম রাম বিগ্রহ। এর অর্থায়নের উৎস নিয়ে প্রশ্ন তুলে ইমাম ওলামা পরিষদ আন্দোলনে নামলে গেল ৯ জুন বিগ্রহ নির্মাণের কাজ স্থগিত করে মন্দির কমিটি। স্থানীয়দের ভাষ্য, দীর্ঘদিন ভারতে থাকার পর ২০২৪ সালে এলাকায় ফিরে আসেন হরিদাস। এরপর তিনি গ্রামের কালী মন্দিরের পুরোনো অবকাঠামো সংস্কার ও আধুনিকায়নের উদ্যোগ নিয়ে আলোচনায় আসেন। সিআইডি বলছে, হরিদাসরা চার ভাই। তার দুই ভাই ভারতে থাকেন এবং হরিদাসসহ দুই ভাই বাংলাদেশে বসবাস করেন।