জানুয়ারি ট্রান্সফার উইন্ডোতে নিজেদের দ্বিতীয় সাইনিং সম্পন্ন করতে যাচ্ছে অ্যাস্টন ভিলা। ইউরোপিয়ান ফুটবলে ভবিষ্যতের বড় তারকা হিসেবে বিবেচিত এক তরুণ ফুটবলার ভিলা পার্কে মেডিকেল পরীক্ষার জন্য প্রস্তুত, এমনটাই জানিয়েছে একাধিক সূত্র।
প্রিমিয়ার লিগে দারুণ ছন্দে রয়েছে ভিলানরা। ২০২৫ সালের শেষভাগে প্রায় নিখুঁত পারফরম্যান্সের সুবাদে তারা নতুন বছর শুরু করে লিগ টেবিলের তৃতীয় স্থানে থেকে।
৩০ ডিসেম্বর আর্সেনালের কাছে ৪-১ ব্যবধানে হার শিরোপা দৌড়কে কিছুটা কঠিন করে তুললেও, উনাই এমেরির দল এখন চ্যাম্পিয়নস লিগে দারুণ অবস্থানে রয়েছে। ১৯৯২-৯৩ মৌসুমের পর এই প্রথম তারা প্রিমিয়ার লিগে শীর্ষ তিনে শেষ করার বাস্তব সম্ভাবনা তৈরি করেছে।
দারুণ লিগ অবস্থান থাকা সত্ত্বেও জানুয়ারিতে দলকে আরো শক্তিশালী করতে চান কোচ উনাই এমেরি। বিশেষ করে ঘরোয়া প্রতিযোগিতা ও ইউরোপা লিগে সাফল্য ধরে রাখতে বাড়তি শক্তি যোগ করাই লক্ষ্য।
এরই মধ্যে ১৯ বছর বয়সী উইঙ্গার আলিসনকে গ্রেমিও থেকে দলে ভিড়িয়েছে ভিলা। এবার আসছে ২০২৬ সালের দ্বিতীয় সাইনিং।
বৃহস্পতিবার ট্রান্সফার বিশেষজ্ঞ প্যাব্রিজিও রোমানো জানান, ফরাসি ক্লাব মেটজ থেকে ১৬ বছর বয়সী স্ট্রাইকার ব্রায়ান মাদজোকে দলে নিতে ১২ মিলিয়ন ইউরো (প্রায় ১০ মিলিয়ন পাউন্ড) ফিতে চুক্তি সম্পন্ন করেছে অ্যাস্টন ভিলা। পাঁচ বছরের চুক্তিতে এই ‘চমকপ্রদ’ সাইনিংয়ের জন্য মেডিকেলও নির্ধারিত রয়েছে।
রোমানো এক্সে লেখেন, ‘এক্সক্লুসিভ: অ্যাস্টন ভিলা ২০০৯ সালে জন্ম নেওয়া প্রতিভাবান ব্রায়ান মাদজোকে দলে নিতে চুক্তি সম্পন্ন করেছে। ১২ মিলিয়ন ইউরোর ডিল। ভেতরে ভেতরে পরিকল্পিত এক চমকপ্রদ ট্রান্সফার। পাঁচ বছরের চুক্তি, মেডিকেল বুকড।’
৬ ফুট ৪ ইঞ্চি উচ্চতার এই কিশোর ইতোমধ্যে লুক্সেমবার্গের হয়ে তিনটি আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলেছে।
তবে সাম্প্রতিক সময়ে সে ইংল্যান্ড অনূর্ধ্ব-১৭ দলের হয়েও খেলেছে, যা জাতীয় দল বাছাই নিয়ে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
ব্রায়ান মাদজো ক্যামেরুনের সাবেক ফুটবলার গাই মাদজোর ছেলে। গাই মাদজো ইংলিশ ফুটবল লিগে দীর্ঘ সময় খেলেছেন। ব্রায়ানের জন্ম লন্ডনের এনফিল্ডে, ২০০৯ সালের জানুয়ারিতে।
ক্যারিয়ার শুরু করেন লুক্সেমবার্গের মারিসকা মার্শ ও রেসিং এফসি ইউনিয়ন লুক্সেমবার্গে। ২০২৩ সালে মেটজে যোগ দেন তিনি। ২০২৫ সালের আগস্টে লিগ ওয়ানে অভিষেকের পর এখন পর্যন্ত পাঁচটি ম্যাচ খেলেছেন।
অসাধারণ সম্ভাবনার কারণে ইতোমধ্যেই তাকে তুলনা করা হচ্ছে সময়ের সেরা কিছু স্ট্রাইকারের সঙ্গে। ব্রিটিশ ট্যাবলয়েড দ্য সান তাকে আখ্যা দিয়েছে ‘পরবর্তী দিদিয়ের দ্রগবা’ হিসেবে। স্পেনের গণমাধ্যমেও তার শক্তি ও খেলার ধরন দেখে ড্রগবার সঙ্গে তুলনা টানা হয়েছে।
দ্রগবা ছাড়াও মাদজোর সঙ্গে তুলনা করা হয়েছে রোমেলো লুকাকোর। এমনকি লুক্সেমবার্গের টেকনিক্যাল ডিরেক্টর মানুয়েল কারদোনি দাবি করেছেন, ভবিষ্যতে মাদজো লুকাকুর চেয়েও ভালো হতে পারে।
কারদোনি বলেন, ‘তার প্রোফাইল লুকাকুর মতো। তবে ব্রায়ান আরও পরিপূর্ণ। সে ছোট জায়গায় ভালো খেলে, পজিশনিং অসাধারণ, ডিফেন্সের পেছনে দৌড়াতে পারে এবং দুই পায়েই বল খেলতে পারে। তার উন্নতির সুযোগ বিশাল।’
এর আগে রিয়াল মাদ্রিদ ও চেলসির সঙ্গেও নাম জড়িয়েছিল এই কিশোর স্ট্রাইকারের। সবকিছু ঠিকঠাক হলে উনাই এমেরির প্রকল্পে ভবিষ্যতের এক বড় তারকাকে যুক্ত করতে যাচ্ছে অ্যাস্টন ভিলা, যাকে অনেকেই দেখছেন ক্লাবটির জন্য বড় এক অর্জন হিসেবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না। একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন। গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে। জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে। সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে। কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে। প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে। আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’ সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না। এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।
বাংলাদেশ ক্রীড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে (বিকেএসপি) চলমান অনূর্ধ্ব-২০ জাতীয় হকি দলের আবাসিক ক্যাম্পে থাকা খেলোয়াড়দের পাশে দাঁড়িয়েছেন বাংলাদেশ হকি ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক ইশতিয়াক সাদেক। ক্যাম্পে নিবিড় অনুশীলনে ব্যস্ত নারী ও পুরুষ দলের খেলোয়াড়দের সুষম পুষ্টি নিশ্চিতকরণ ও ক্লান্তি দূরীকরণের লক্ষ্যে তিনি নিজ উদ্যোগে বিভিন্ন রকমের উচ্চমানের পুষ্টিকর খাবার সামগ্রী পাঠিয়েছেন। আসন্ন জুনিয়র এশিয়া কাপের প্রস্তুতিকে সামনে রেখে বর্তমানে বিকেএসপিতে অনূর্ধ্ব-২০ হকি দলের এই কন্ডিশনিং ও স্কিল আবাসিক ক্যাম্পটি পরিচালিত হচ্ছে। দীর্ঘমেয়াদি এই ক্যাম্পে থাকা তরুণ খেলোয়াড়দের ফিটনেস ধরে রাখতে এবং তাদের অনুশীলনে বাড়তি অনুপ্রেরণা জোগাতে সাধারণ সম্পাদক ব্যক্তিগত পক্ষ থেকে এই উপহার সামগ্রীগুলো প্রেরণ করেন। খাদ্যসামগ্রীর মধ্যে রয়েছে আন্তর্জাতিক মানের খেলোয়াড়দের উপযোগী সুষম খাবার। যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য—কর্নফ্লেক্স, ওটস, প্রিমিয়াম মারিয়াম খেজুর, এনার্জি বুস্টার হিসেবে বিভিন্ন ধরনের মিক্সড নাট এবং খেলোয়াড়দের ক্লান্তি দূর করতে বিভিন্ন পুষ্টিকর চকোলেট বার। এই ব্যতিক্রমী উদ্যোগ বিষয়ে সাধারণ সম্পাদক ইশতিয়াক সাদেক বলেন, ‘অনূর্ধ্ব-২০ দলের এই তরুণ ও প্রতিভাবান খেলোয়াড়রাই আমাদের দেশের হকির ভবিষ্যৎ রূপকার। বিকেএসপির ক্যাম্পে এই তীব্র গরমে তাদের কঠোর পরিশ্রম ও একাগ্রতাকে আমি জানাই সাধুবাদ। ফেডারেশনের নিয়মিত সুযোগ-সুবিধার বাইরেও ব্যক্তিগতভাবে তাদের পাশে থাকা এবং মানসিকভাবে চাঙ্গা রাখা আমি আমার দায়িত্ব মনে করি। আশা করি, এই পুষ্টিকর খাবারগুলো তাদের ফিটনেস ধরে রাখতে এবং অনুশীলনে আরো বেশি মনোযোগ দিতে সাহায্য করবে। এ সময় ক্যাম্পে উপস্থিত খেলোয়াড় এবং কোচিং স্টাফরা সাধারণ সম্পাদকের এই আন্তরিক ও সময়োপযোগী উদ্যোগে গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। তারা জানান, ফেডারেশনের শীর্ষ কর্মকর্তার কাছ থেকে এমন সরাসরি সমর্থন, ভালোবাসা ও পুষ্টি সহায়তা মাঠের পারফরম্যান্সকে আরো উন্নত করতে এবং আসন্ন টুর্নামেন্টের প্রস্তুতিতে তাদের দারুণভাবে অনুপ্রাণিত করবে।
১২৮ বছর পর আবার অলিম্পিকে ফিরছে ক্রিকেট। এটা অবশ্য পুরোনো খবর। তবে এটাকে শুধু একটা খেলার বিশ্বের সবচেয়ে বড় ক্রীড়া আসরে প্রত্যাবর্তন, কিংবা অলিম্পিকের আরও বৈশ্বিক হওয়ার চেষ্টা হিসেবে দেখলে ভুল হবে। এর পেছনে অলিম্পিকের কর্তাব্যক্তিদের বিশাল বাণিজ্যিক হিসাব-নিকাশও জড়িত। বরং সেটাই হয়তো অনেক বড় ভূমিকা রেখেছে ক্রিকেটকে অলিম্পিকে ফেরানোর সিদ্ধান্তে। এর আগে অলিম্পিকে একবারই ক্রিকেট দেখা গিয়েছিল, ১৯০০ সালে প্যারিসে। সেবার দুই দিনের ম্যাচে ফ্রান্সকে ১৫৮ রানে হারিয়ে সোনা জিতেছিল গ্রেট ব্রিটেন। এক শতাব্দীরও বেশি অপেক্ষা শেষে ২০২৮ লস অ্যাঞ্জেলেস অলিম্পিকে আবার ক্রিকেটকে ফেরানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে আন্তর্জাতিক অলিম্পিক কমিটি (আইওসি)। সাম্প্রতিক সময়ে অলিম্পিক গেমসে অনেক নতুন খেলাই যুক্ত হয়েছে, কিন্তু কোনোটিই আইওসিকে এমন কিছু উপহার দিতে পারেনি, যা ক্রিকেট দিতে যাচ্ছে। ২০০ কোটিরও বেশি অনুসারী আর ভারতীয় বাজারের বিপুল বাণিজ্যিক শক্তি। সেই হিসাবে অলিম্পিকের জন্য বিগত কয়েক দশকের মধ্যে ক্রিকেটই হয়তো সবচেয়ে মূল্যবান সংযোজন হতে যাচ্ছে। সম্প্রতি রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে আইওসির স্পোর্টস ডিরেক্টর পিয়ের দুক্রে বলেছেন, ‘অলিম্পিকে না থাকা বিশ্বের প্রধান খেলাগুলোর অন্যতম ছিল ক্রিকেট। এমন সব বাজারে ক্রিকেট দারুণ শক্তিশালী, যেখানে অলিম্পিক গেমস হয়তো এখনো ততটা প্রভাব বিস্তার করতে পারেনি।’ তার কথা, ‘ক্রিকেট এমন দর্শক আনবে, যারা নিয়মিত অলিম্পিক দেখে না। এটা দুই পক্ষেরই লাভ। আমরা নতুন সুযোগ দেব, আর তারা আমাদের আকর্ষণ বাড়াবে।’ ক্রিকেট ফেরার আগেই অলিম্পিক ঘিরে এর বাণিজ্যিক প্রভাব দেখা যাচ্ছে। ২০২৮ অলিম্পিকের জন্য ভারতীয় উপমহাদেশে সম্প্রচার স্বত্ব নিয়ে ইতোমধ্যেই ‘জোরালো আগ্রহ’ তৈরি হয়েছে বলে জানিয়েছে আইওসি। আইওসি টেলিভিশন ও মার্কেটিং বিভাগের ব্যবস্থাপনা পরিচালক অ্যান-সোফি ভুমার্দ ভারতীয় গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, এই স্বত্বের মূল্য ২০২৪ প্যারিস অলিম্পিকের চেয়ে ‘বহুগুণ’ বেশি হতে পারে। প্যারিস অলিম্পিকের সম্প্রচার স্বত্বের ভিত্তিমূল্য ছিল প্রায় ৩ কোটি ডলার। আইওসির এক মুখপাত্র বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে বলেছেন, ‘আমরা এই অঞ্চলের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে ইতিবাচক আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছি। বাজারে আগ্রহ স্পষ্ট। এটা একদিকে এলএ ২০২৮ অলিম্পিকের জনপ্রিয়তা, অন্যদিকে ক্রিকেট যোগ হওয়ার ফল।’ ভারতের মিডিয়া বাজারে অলিম্পিক ও ক্রিকেটের সম্পর্ক আগেই তৈরি। ২০২৪ সালে রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিজ ও ওয়াল্ট ডিজনির যৌথ উদ্যোগে গঠিত ধনকুবের মুকেশ আম্বানির ভারতীয় সম্প্রচার প্রতিষ্ঠান জিওস্টার ২০২৪ প্যারিস গেমস এবং ২০২৬ মিলানো কর্তিনা শীতকালীন গেমসের সম্প্রচার স্বত্ব নিয়ে রেখেছে। একই সঙ্গে তাদের হাতেই আছে আইপিএলের সম্প্রচার স্বত্বও। আবার আম্বানির স্ত্রী নীতা আম্বানি আইওসির সদস্য এবং ২০২৩ সালে মুম্বাইয়ে আইওসি সেশনের আয়োজকও ছিলেন। ২০১০ সালে আইওসি আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলকে (আইসিসি) স্বীকৃতি দেওয়ার পর অলিম্পিকে ক্রিকেটের ফেরা নিয়ে গুঞ্জন শুরু হয়। তবে ঐতিহ্যবাহী পাঁচ দিনের টেস্ট কিংবা আট ঘণ্টার এক দিনের আন্তর্জাতিক ম্যাচ অলিম্পিকের আঁটসাঁট সূচির জন্য ছিল একেবারে বেমানান। গল্পের মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছে আসলে টি-টুয়েন্টি ক্রিকেট। তিন ঘণ্টার ধুন্ধুমার ক্রিকেট কেবল তরুণ দর্শকই টানছে না, অলিম্পিকের দরজাও খুলে দিয়েছে। ২০১৪ সালে আইওসির নতুন নিয়ম অনুযায়ী স্বাগতিক শহরগুলো নিজেদের পছন্দের নতুন খেলা অন্তর্ভুক্তির প্রস্তাব দেওয়ার সুযোগ পায়। লস অ্যাঞ্জেলেস সেই সুযোগটিই লুফে নিয়ে ক্রিকেটকে অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাব দেয় এবং শেষ পর্যন্ত তা গ্রহণ করা হয়। সংক্ষিপ্ত সময়ের বাইরেও টি-টুয়েন্টির প্রবল অনিশ্চয়তা আর বৈশ্বিক বিস্তৃতি একে অলিম্পিকের জন্য যেন তৈরি করেই দিয়েছে বলে মনে করেন আইসিসির প্রধান নির্বাহী সঞ্জোগ গুপ্ত। জিওস্টারের স্পোর্টস অ্যান্ড লাইভ এক্সপেরিয়েন্সের সাবেক প্রধান নির্বাহী সঞ্জোগ রয়টার্সকে বলেছেন, ‘লাইভ খেলার আসল রোমাঞ্চ হলো তার অনিশ্চয়তা, আর এই সংস্করণে তা সবচেয়ে বেশি। টেস্ট ম্যাচ যেখানে মাত্র ১২টি পূর্ণাঙ্গ সদস্যদেশের মধ্যে সীমাবদ্ধ, সেখানে টি-টুয়েন্টি হলো ক্রিকেটের সত্যিকার বিশ্বজনীন রূপ। টি-টোয়েন্টি বিশ্বজুড়ে ক্রিকেটের প্রসার ঘটিয়েছে, একে আরও বেশি মানুষের কাছে পৌঁছানোর মাধ্যম বানিয়েছে। এটি অলিম্পিকের সব শর্তই পূরণ করে।’ ক্রিকেটের এই বাণিজ্যিক উত্থানের পেছনে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রেখেছে আইপিএল। গত দুই দশকে এই টুর্নামেন্ট গোটা খেলাটাকেই পাল্টে দিয়েছে, বিশ্বের সেরা খেলোয়াড়দের টেনে এনেছে এবং হয়ে উঠেছে বিশ্বের সবচেয়ে মূল্যবান টুর্নামেন্টগুলোর একটি। ১০ দলের আইপিএলের বর্তমান বাজারমূল্য প্রায় ২ হাজার কোটি ডলার, আর ২০২৬ মৌসুমে বিভিন্ন প্ল্যাটফর্ম মিলিয়ে এই টুর্নামেন্ট দেখেছেন ১২০ কোটি দর্শক। ভৌগোলিক সম্প্রসারণের বাইরেও ক্রিকেট এনে দিচ্ছে এমন এক দর্শকশ্রেণি, যা অলিম্পিকের জন্য অত্যন্ত কাঙ্ক্ষিত। সঞ্জোগ গুপ্তর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ক্রিকেটের অনুসারীদের প্রায় ৫০ শতাংশের বয়স ৩৫ বছরের নিচে, আর ৩৫ শতাংশের বয়স ২৭ বছরের নিচে, যা ক্রিকেটকে করে তুলেছে ‘ভবিষ্যতের জন্য প্রস্তুত’। সঞ্জোগ যা বোঝাতে চেয়েছেন, তা হলো এই বয়সি দর্শক ক্রিকেটের হাত ধরে অলিম্পিকেও আগ্রহী হয়ে উঠবে। সব মিলিয়ে ২০২৮ সালের পরও অলিম্পিকে ক্রিকেট থেকে যাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ২০৩২ অলিম্পিক হবে অস্ট্রেলিয়ার ব্রিসবেনে, যেখানে ক্রিকেটের ঐতিহ্য যথেষ্ট সমৃদ্ধ। ২০৩৬ সালের অলিম্পিক আহমেদাবাদে আয়োজন করতেও চেষ্টা চালাচ্ছে ‘ক্রিকেটের দেশ’ ভারত।
বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বে ব্রাজিল-স্কটল্যান্ড ম্যাচে ভিএআরের একটি সিদ্ধান্তকে ঘিরে নতুন বিতর্কের জন্ম হয়েছে। স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের করা দ্বিতীয় গোলটি ভিএআর পর্যালোচনার পর বাতিল করে দেন ম্যাচ রেফারি। তবে সিদ্ধান্তটি নিয়ে সাবেক খেলোয়াড় ও বিশ্লেষকদের মধ্যে দেখা দিয়েছে মতভেদ। মায়ামিতে অনুষ্ঠিত ম্যাচের সপ্তম মিনিটেই স্কট ম্যাককেনার ভুলের সুযোগ কাজে লাগিয়ে ব্রাজিলকে এগিয়ে দেন ভিনিসিয়ুস। এরপর ২২তম মিনিটে জ্যাক হেন্ড্রির কাছ থেকে বল ছিনিয়ে নিয়ে দুর্দান্ত ফিনিশে দ্বিতীয়বার বল জালে জড়ান রিয়াল মাদ্রিদের এই ফরোয়ার্ড। কিন্তু গোল উদযাপনের মাঝেই ভিএআরের হস্তক্ষেপে বদলে যায় দৃশ্যপট। রিপ্লে পর্যালোচনা করে রেফারি সিজার রামোস সিদ্ধান্ত দেন, বল দখলের আগে হেন্ড্রির পায়ে আঘাত করেছিলেন ভিনিসিয়ুস। ফলে ফাউলের অভিযোগে গোলটি বাতিল করা হয়। রেফারির এই সিদ্ধান্তে হতাশ প্রতিক্রিয়া জানান ভিনিসিয়ুস। তবে সেই হতাশা বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি। প্রথমার্ধ শেষ হওয়ার আগেই হেড থেকে আবারও গোল করে ব্রাজিলকে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে দেন তিনি। গোল বাতিলের সিদ্ধান্ত নিয়ে ফুটবল বিশ্লেষকদের মধ্যেও বিভক্তি দেখা যায়। বিবিসির নিয়ম বিশেষজ্ঞ ও সাবেক আন্তর্জাতিক সহকারী রেফারি ড্যারেন ক্যান মনে করেন, স্কটল্যান্ড কিছুটা ভাগ্যবান ছিল। তার ভাষায়, “সামান্য সংস্পর্শ হয়েছিল ঠিকই, কিন্তু আমার কাছে এটি ফাউল মনে হয়নি। ডিফেন্ডার নিজেই এসে ওই সংস্পর্শে জড়িয়েছে। গোলটি বাতিল হওয়ায় স্কটল্যান্ড সুবিধা পেয়েছে।” অন্যদিকে সাবেক স্কটিশ ফুটবলার জেমস ম্যাকফ্যাডেন রেফারির সিদ্ধান্তকে সমর্থন করেছেন। তিনি বলেন, “ভিনিসিয়ুস বলে যাওয়ার আগে হেন্ড্রির পায়ে আঘাত করেছে। ওই সংস্পর্শই ডিফেন্ডারকে বল ক্লিয়ার করতে বাধা দিয়েছে। তাই এটি ফাউল এবং গোল বাতিলের সিদ্ধান্ত সঠিক।” তবে বিবিসির স্টুডিও বিশ্লেষক ও সাবেক ব্রাজিলিয়ান মিডফিল্ডার লুকাস লেইভার দৃষ্টিভঙ্গি ভিন্ন। তার মতে, “এটি কোনো ফাউল ছিল না। ভিনিসিয়ুস দুর্দান্ত প্রেসিংয়ের মাধ্যমে বল দখল করেছিল। আমার কাছে গোলটি বৈধ বলেই মনে হয়েছে।” ভিএআরের এই সিদ্ধান্ত নিয়ে বিতর্ক চললেও শেষ পর্যন্ত ভিনিসিয়ুসের জোড়া গোলে ম্যাচে নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখে ব্রাজিল। তবে তার বাতিল হওয়া গোলটি ম্যাচ-পরবর্তী আলোচনার অন্যতম প্রধান বিষয় হয়ে উঠেছে।