বিনোদন

নতুন বছরে বলিউডের চমক

মোঃ ইমরান হোসেন জানুয়ারী ০২, ২০২৬

নতুন সূর্যের আলোয় ২০২৬ কেবল একটি বছর নয়; বরং বলিউডের জন্য যেন এক মহাযজ্ঞের শুরু। বড় বাজেট, বিশাল ক্যানভাস আর তারকাদের আগুনঝরা উপস্থিতিতে এ বছর প্রেক্ষাগৃহ রূপ নিতে যাচ্ছে উৎসবমঞ্চে। সিক্যুয়েল-থ্রিক্যুয়েলের দাপট, মহাকাব্যের পুনর্জন্ম আর স্টারপাওয়ারে ভর করে বলিউডের সবাই প্রস্তুত নিজের ‘ফায়ারপাওয়ার’ প্রদর্শনে। রণবীর কাপুরের একের পর এক মুক্তি, ভিকি-রণবীর সিংয়ের গতির ধারাবাহিকতা আর দীর্ঘ বিরতির পর শাহরুখ-সালমানের প্রত্যাবর্তন, সব মিলিয়ে ২০২৬ হয়ে উঠতে পারে সিনেমার ইতিহাসে আরেকটি স্বর্ণালি অধ্যায়। এ বছর ভারতীয় সিনে-ইন্ডাস্ট্রিতে মুক্তি পেতে চলেছে বেশ কিছু সিনেমা। আজকের প্রতিবেদনে থাকছে সেসব সিনেমার গল্প। লিখেছেন-তামজিদ হোসেন।

রামায়ণ পার্ট-১

এই সিনেমায় একটি প্রাচীন মহাকাব্যের গল্পে উঠে আসতে চলেছে এক যুবরাজ ও এক রাজকন্যার জীবনসংগ্রাম। বিবাহের পর আকস্মিক নির্বাসন তাদের জীবনে ডেকে আনে এক অনিশ্চিত যাত্রা, যা ভালোবাসা, কর্তব্য ও নিয়তির কঠিন পরীক্ষায় ভরে ওঠে। এই ঘটনাপ্রবাহই ভবিষ্যতের আরও বড় চ্যালেঞ্জ ও মহাকাব্যিক সংঘাতের ভিত্তি গড়ে দেয়। চলচ্চিত্রটি পরিচালনা করেছেন নিতেশ তিওয়ারি। ছবিতে অভিনয় করেছেন, রণবীর কাপুর, সাই পল্লবী, যশ, সানি দেওলসহ আরও অনেকে। ছবিটি প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পাবে ২০২৬ সালের দিওয়ালিতে।

লাভ অ্যান্ড ওয়ার রণবীর কাপুর, আলিয়া ভাট ও ভিকি কৌশলকে একসঙ্গে নিয়ে এটাই নির্মাতা সঞ্জয় লীলা বানসালির প্রথম কাজ। ছবিটি নাকি আবর্তিত হবে দুই সেনা কর্মকর্তা অর্থাৎ রণবীর ও ভিকির অভিনীত চরিত্রের মাধ্যমে এবং আলিয়া ভাটকে ঘিরে গড়ে ওঠা এক জটিল ত্রিমুখী প্রেমকে কেন্দ্র করে, যেখানে কর্তব্য ও আকাঙ্ক্ষার টানাপোড়েনে জড়িয়ে পড়েন আলিয়ার চরিত্রটি। যুদ্ধের পটভূমিতে নির্মিত এই সিনেমাটি মুক্তি পাবে চলতি বছরের ১৪ আগস্ট।

টক্সিক অতীতের এক সময়কে ঘিরে নির্মিত নতুন এই গল্পের পটভূমি গোয়ার উপকূল। রোদঝলমলে সৈকত ও বর্ণিল সংস্কৃতির আড়ালে কীভাবে এক শক্তিশালী মাদকচক্র পুরো এলাকা নিয়ন্ত্রণ করে, সেই রোমাঞ্চকর কাহিনিই উঠে আসবে এই সিনেমায়। গীথু মোহনদাসের পরিচালনায় নির্মিত এ সিনেমায় অভিনয় করেছেন যশ, নয়নতারা, কিয়ারা আদভানি, হুমা কুরেশিসহ আরও অনেকে। প্রেক্ষাগৃহে সিনেমাটি মুক্তি পাবে ২০২৬ সালের ১৯ মার্চ।

ধুরন্ধর টু

সিনেমার এ পর্বে এবার দেখা যাবে হামজা আলী মাজারি ছদ্মবেশে পাকিস্তানের অপরাধজগতে সক্রিয়ভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। জস্কিরাত সিং রাঙ্গি নামের এই ব্যক্তি গোপন অভিযানের অংশ হিসেবে অপরাধচক্রের গভীরে প্রবেশ করেন এবং একই সঙ্গে রহস্যময় মাজোর সন্ধানে অনুসন্ধান চালিয়ে যান। এই বিপজ্জনক মিশনকে ঘিরে গল্পে তৈরি হচ্ছে টানটান উত্তেজনা। ছবিটি পরিচালনা করেছেন আদিত্য ধর। অভিনয় করেছেন রণবীর সিং, সঞ্জয় দত্ত, অর্জুন রামপাল, সারা অর্জুনসহ আরও অনেকে। ছবিটি এ বছরের ১৯ মার্চ প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পাবে।

কিং

গুরু ও শিষ্যকে কেন্দ্র করে এক রুদ্ধশ্বাস অভিযানের গল্প নিয়ে আসছে ‘কিং’। বিপদসংকুল পথ, সীমাহীন প্রতিকূলতা আর নির্মম পরিবেশ সবকিছুর মধ্য দিয়েই এগোতে হয় তাদের। টিকে থাকার লড়াইয়ে বারবার পরীক্ষার মুখে পড়ে অভিজ্ঞতা, ধৈর্য ও পারস্পরিক বিশ্বাস। গল্পটি কেবল শারীরিক সংগ্রামের নয়, বরং মানসিক দৃঢ়তা ও মানবিক সম্পর্কের গভীরতাও তুলে ধরে, যা দর্শকদের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত টানটান উত্তেজনায় ধরে রাখবে। চলচ্চিত্রটি পরিচালনা করেছেন সিদ্ধার্থ আনন্দ। অভিনয়ে রয়েছেন, শাহরুখ খান, সুহানা খান, অভিষেক বচ্চন, দীপিকা পাড়ুকোনসহ আরও অনেকে। সিনেমাটি ২০২৬ সালের তৃতীয় বা চতুর্থ ভাগে মুক্তির কথা রয়েছে।

ব্যাটল অব গালওয়ান

গালওয়ান ভ্যালির ভারত-চীন সংঘাতের প্রেক্ষাপটে তৈরি হতে চলেছে এই সিনেমা। যেখানে কর্নেল বিকুমল্লা সন্তোষ বাবুর ভূমিকায় অভিনয় করেছেন বলিউড ভাইজান সালমান খান। অপূর্ব লাখিয়ার পরিচালনায় নির্মিত সিনেমা ব্যাটল অব গালওয়ানে সালমান খানের পাশাপাশি অভিনয় করেছেন চিত্রাঙ্গদা সিং, অভিলাস চৌধুরী, অঙ্কুর ভাটিয়াসহ আরও অনেকে। সিনেমাটি প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পাবে ২০২৬ সালের ১৭ এপ্রিল।

ও রোমিও

এই সিনেমায় স্বাধীনতা-পরবর্তী মুম্বাইকে কেন্দ্র করে উঠে আসছে এক সময়ের অন্ধকার জগতের গল্প। বদলে যেতে থাকা শহরের পটভূমিতে ধীরে ধীরে শক্তি সঞ্চয় করে আন্ডারওয়ার্ল্ড, যার প্রভাব ছড়িয়ে পড়ে রাজনীতি, ব্যবসা ও সাধারণ মানুষের জীবনেও। সেই সময়ের অপরাধজগত, ক্ষমতার লড়াই ও বেঁচে থাকার নির্মম বাস্তবতাকে ঘিরেই আবর্তিত হয়েছে এই রুক্ষ ও বাস্তবধর্মী আখ্যান। ভারতের ব্যস্ত মহানগরের অলিগলি ও ছায়ার ভেতর দিয়ে এগিয়ে যাওয়া এই গল্প দর্শককে ফিরিয়ে নিয়ে যাবে এক ভয়ংকর মুম্বাইয়ে, যেখানে প্রতিটি মোড়ে অপেক্ষা করে বিপদ, আর ক্ষমতার মূল্য দিতে হয় রক্তে।

বিশাল ভরদ্বাজের পরিচালনায় নির্মিত এ সিনেমায় অভিনয় করেছেন, শহিদ কাপুর, তৃপ্তি দিমরি, নানা পাটেকরসহ আরও অনেকে। ছবিটি মুক্তি পাবে চলতি বছরের ১৩ ফেব্রুয়ারি।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

শুল্কমুক্ত সুবিধায় ব্যবসায়ীদের আগ্রহে ভাটা

পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না।   একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।   এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন।   গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে।   জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে।   সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে।   কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে।   প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে।   আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’   সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না।   এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।

বিনোদন

আরও দেখুন
ছবি: সংগৃহীত
মুম্বাই, গ্রিস নাকি প্যারিস কোথায় সাইফের বিয়ের প্রস্তাবে ‘হ্যাঁ’ বলেছিলেন কারিনা

বলিউডের জনপ্রিয় তারকা দম্পতি পতৌদি পরিবারের নবাব সাইফ আলি খান ও অভিনেত্রী কারিনা কাপুর ২০০৭ সালে ‘টশন’ সিনেমায় একসঙ্গে কাজ করতে গিয়ে তাদের ঘনিষ্ঠতা বাড়ে। এরপর কয়েক বছর সম্পর্কে থাকার পর ২০১২ সালের অক্টোবরে বিয়ের বন্ধনে আবদ্ধ হন এ তারকা জুটি। চলতি বছরের অক্টোবরে দাম্পত্য জীবনের ১৪ বছর পূর্ণ করেছেন সাইফ-কারিনা।   এ তারকা দম্পতির প্রেমের গল্প বরাবরই ভক্ত-অনুরাগীদের আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে। দীর্ঘ দাম্পত্য জীবনে তাদের সম্পর্কের রসায়ন যেমন আলোচনায় থাকে, ঠিক তেমনি কৌতূহল জাগায় প্রেমের শুরুর দিনগুলোর নানা ঘটনা কেন্দ্র করে।   এবার নিজেদের সেই সময়ের মজার স্মৃতি সামনে আনলেন কাপুর পরিবারের কন্যা কারিনা কাপুর। অভিনেত্রীকে বিয়ের প্রস্তাব দিতে একবার নয়, তিন-তিনবার চেষ্টা চালিয়েছেন সাইফ আলি খান। মুম্বাই ও গ্রিসে প্রস্তাব দিয়েও সাড়া না পাওয়ায় শেষ পর্যন্ত প্যারিসে গিয়ে পতৌদি পরিবারের নবাবের ডাকে সাড়া দেন কারিনা কাপুর।   সম্প্রতি কপিল শর্মার অনুষ্ঠানে একসঙ্গে হাজির হয়েছিলেন সাইফ আলি খান ও কারিনা কাপুর খান। সেখানেই নিজেদের প্রেমের দিনগুলোর স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে এ গল্প শোনান অভিনেত্রী।   কারিনা বলেন, সাইফ প্রথমে মুম্বাইয়ে তাকে বিয়ের প্রস্তাব দিয়েছিলেন। কিন্তু সেবার সম্মতি দেননি তিনি। এরপর গ্রিসেও একই প্রস্তাব দেন নবাব। সেখানেও অপেক্ষা করতে হয় সাইফকে। অবশেষে প্যারিসে গিয়ে অভিনেতার প্রস্তাবে রাজি হন তিনি।   প্রিয় মানুষকে জীবনসঙ্গী হিসেবে পেতে তিনটি জায়গায় নিজের মনের কথা জানিয়েছিলেন সাইফ আলি খান। তবে গল্পের সবচেয়ে মজার অংশ ছিল এ নিয়ে অভিনেতার প্রতিক্রিয়া।   কারিনা যখন বলেন মুম্বাই, গ্রিস ও প্যারিসে— তিন তিনবার প্রস্তাব দেওয়ার পর তিনি বিয়েতে সম্মতি দিয়েছিলেন, তখন রসিকতা করে সাইফ আলি খান বলেন, মুম্বাইয়েই কারিনা রাজি হয়ে গেলে তার অনেক টাকা বেঁচে যেত!   সাইফের এমন মন্তব্যে অনুষ্ঠান মঞ্চে হাসির রোল ওঠে। প্রেমের প্রস্তাবের সঙ্গে ভ্রমণের খরচকে মিলিয়ে নবাবের এ রসিকতা দর্শকদেরও আনন্দ দিয়েছে। তাদের প্রেমের গল্পে যে হাসিঠাট্টারও বিশেষ জায়গা রয়েছে, এ ঘটনা যেন আবারও সেটিই মনে করিয়ে দিল।

মো: দেলোয়ার হোসাইন অক্টোবর ১৯, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

মুম্বাইয়ে টাইগার শ্রফের গাড়ি লক্ষ্য করে গুলি, আহত দুজন

নতুস সিনেমা ‘জেলার ২’ দিয়ে বক্স অফিসে ঝড় তুলেছেন রজনীকান্ত।

তিন দিনেই বিশ্বজুড়ে ৩০০ কোটি ছাড়াল ‘জেলার ২’

ছবি: সংগৃহীত

দুর্গাপূজায় দুই বাংলার প্রেক্ষাগৃহে আট সিনেমা, ঢালিউডেও জমজমাট আয়োজন

ছবি: সংগৃহীত
মৌসুমীকে নিয়ে অপপ্রচার, মামলা করার হুঁশিয়ারি ওমর সানীর

স্ত্রী মৌসুমী ও ছেলে ফারদিনকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়ানো অপপ্রচারের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন চিত্রনায়ক ওমর সানী। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কনটেন্ট সরিয়ে না নিলে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে মামলা করবেন বলে জানিয়েছেন এই অভিনেতা।   এর আগে তার ছেলে ফারদিনও একই বিষয়ে আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার কথা জানিয়েছেন। বুধবার বিকালে বিএফডিসি মাঠে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন  নব্বই দশকের জনপ্রিয় এই চিত্রনায়ক।   ওমর সানী বলেন, “আমার বউ আমার টেনশন না, আপনাদের টেনশন। আমার ছেলে কিছুক্ষণ আগেও এ বিষয়ে কথা বলেছে। সে আইনের আশ্রয় নিতে বলেছে। আমাদের নিয়ে লেখালেখি না করলেই নয়? ভাই, আমরা অনেক সিনিয়র হয়ে গেছি। চলচ্চিত্রে এসে কি আমরা পাপ করেছি? আমি আমার পরিবার নিয়ে অনেক ভালো আছি। নিজের কাজ নিয়েও ভালো আছি। আমি চুরি করি না। আমরা এখনো চলচ্চিত্রে অভিনয় করতে চাই। আমার সঙ্গে অনেকের ছবি থাকতে পারে, কিন্তু আমরা নিজেদের জায়গায় ঠিক আছি।”   তিনি আরো বলেন, “আমার বেশি টাকা লাগে না। আমাকে আমার মতো থাকতে দিন। চলে যাওয়ার সময় এসে গেছে। আমাদের নিয়ে মিথ্যা কথা ছড়াবেন না। যেসব পোস্টে মিথ্যা তথ্য ছড়ানো হচ্ছে, সেগুলো ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সরিয়ে না নিলে মামলা করব।”   এর আগে মৌসুমীকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে, ফারদিন কৌশলে পরিবারের সব সম্পত্তি নিজের নামে লিখে নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে মাকে বাড়ি থেকে বের করে দিয়েছেন। তবে এ অভিযোগকে সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন বলে দাবি করেন ওমর সানী। তার ভাষ্য, ফারদিন বর্তমানে দুবাইয়ে এবং মৌসুমী যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করছেন। যুক্তরাষ্ট্রে তাদের কোনো সম্পত্তিও নেই বলে দাবি করেন তিনি।   এদিকে ছেলের ফেসবুক পোস্টটি নিজের টাইমলাইনে শেয়ার করে তাকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন ওমর সানী। মাকে নিয়ে ছড়ানো অপপ্রচারের বিরুদ্ধে ফারদিনের অবস্থানের প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন তিনি। ফারদিনের দেওয়া ২৪ ঘণ্টার সময়সীমার মধ্যে সংশ্লিষ্ট পেজগুলো কনটেন্ট সরিয়ে নেয় কি না, তা নিয়ে এখন আলোচনা চলছে।   ফারদিন জানান, পরিবারকে নিয়ে ছড়ানো খবর ও মন্তব্যের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপের প্রস্তুতি শুরু করেছেন তিনি। এ জন্য তার আইনজীবীদের একটি দল কাজ করছে। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের আইনি নোটিশ পাঠানোর পাশাপাশি মানহানির মামলা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলেও জানান তিনি।   ফারদিন বলেন, “আমি এই বিষয়টি হালকাভাবে নিচ্ছি না। আমার আইনজীবীদের একটি দল ইতোমধ্যে এ নিয়ে কাজ করছে। তাদের কাছে আইনি নোটিশ যাবে। মানহানির মামলা বা বাংলাদেশের আইনে যে ধরনের আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ আছে, সে অনুযায়ী পদক্ষেপ নেব।”

মোঃ ইমরান হোসেন অক্টোবর ১৫, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

গেমের জনপ্রিয় চরিত্র এবার বড় পর্দায়, বাংলাদেশে মুক্তি পাচ্ছে ‘স্ট্রিট ফাইটার’

ছবি খবর৭১

ড. কামরুল আহসানের জন্মদিন উদ্‌যাপন

সংগৃহীত ছবি

বিস্ফোরক অভিযোগ তুলে আলোচনায় অভিনেত্রী

জান্নাতুল সুমাইয়া হিমি।
বিয়ে নিয়ে মুখ খুললেন সুমাইয়া হিমি

ছোট পর্দার অভিনেত্রী জান্নাতুল সুমাইয়া হিমি। ক্যারিয়ারের শুরুতে কয়েকটি ধারাবাহিক নাটকে অভিনয় করলেও পরবর্তী সময়ে একক নাটকেই বেশি মনোযোগী হন তিনি। সম্প্রতি আবারও ধারাবাহিকে ফিরেছেন এই অভিনেত্রী। তানভীর তন্ময় পরিচালিত ‘প্রথম প্রেমের গল্প’ ধারাবাহিকে দেখা যাবে তাকে। অভিনয়ের ব্যস্ততার পাশাপাশি সম্প্রতি নিজের বিয়ে নিয়েও কথা বলেছেন হিমি।   সম্প্রতি একটি গণমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বিয়ে প্রসঙ্গে অভিনেত্রী বলেন, আমার মা-বাবা সবসময় আমার বিয়ে নিয়ে স্বাধীনতা দিয়েছেন। কারণ, বিয়ে তো ভাগ্যের ব্যাপার। আল্লাহ তাআলা কার ভাগ্যে কী লিখে রেখেছেন, তা তো আমরা জানি না।   হিমি আরও বলেন, আমি সত্যিই খুব ভাগ্যবান। বাসা থেকে বিয়ে নিয়ে কখনো চাপ দেওয়া হয় না।   গত ৪ অক্টোবর ছিল এই অভিনেত্রীর জন্মদিন। নতুন কাজ ও অভিনয়ের ব্যস্ততার মধ্যেই সময় কাটছে তার।   এদিকে দীর্ঘ বিরতির পর আবারও ধারাবাহিক নাটকে অভিনয় করছেন হিমি। ধারাবাহিকে ফেরা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ঠিক কত সময় পর ধারাবাহিকে অভিনয় করছি, তা মনে নেই। অনেক সময় দেখা যায়, একক নাটক জনপ্রিয় হলে দর্শক তার পরবর্তী পর্ব দেখতে চান। সেই বিষয়টি মাথায় রেখেই এই ধারাবাহিকের পরিকল্পনা করা হয়েছে।   ‘প্রথম প্রেমের গল্প’ পরিচালনা করছেন তানভীর তন্ময়। দর্শকদের আগ্রহ ও চাহিদার কথা বিবেচনা করে নির্মিত হয়েছে ধারাবাহিকটি।    ১২ অক্টোবর থেকে প্রতি সোম ও মঙ্গলবার এনএএফ এন্টারটেইনমেন্টের ইউটিউব চ্যানেলে প্রকাশিত হচ্ছে ‘প্রথম প্রেমের গল্প’-এর নতুন পর্ব।

মোঃ ইমরান হোসেন অক্টোবর ১৩, ২০২৬
সংগৃহীত ছবি

অভিনেতা মামুনুর রশীদের টাঙ্গাইলের পৈতৃক বাড়িতে চুরি

দুর্গাপূজায় ভক্তিগান নিয়ে অরূপ রতন চৌধুরী

ছবি: সংগৃহীত

পুলিশের হেফাজত থেকে মুক্ত ইমরান খান ও তাঁর প্রেমিকা

0 Comments