নাকবা দিবসে গাজায় ভয়াবহ তাণ্ডব চালিয়েছে ইসরায়েল। দেশটির এ হামলায় অন্তত সাতজন নিহত হয়েছেন। এ সময় আরও কয়েক ডজন বাসিন্দা আহত হয়েছেন।
শুক্রবার (১৫ মে) চিকিৎসা সূত্রের বরাতে আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
ইসরায়েল দাবি করেছে, গাজায় হামাসের সশস্ত্র শাখার প্রধান ইজ্জ আল-দীন আল-হাদ্দাদকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে। এক যৌথ বিবৃতিতে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এবং প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ বলেন, ৭ অক্টোবরের হামলার ‘মূল পরিকল্পনাকারীদের একজনকে’ লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। তবে বিবৃতিতে হাদ্দাদ নিহত হয়েছেন কি না, তা উল্লেখ করা হয়নি।
হামাস এ বিষয়ে এখনো কোনো মন্তব্য করেনি এবং আল জাজিরাও স্বাধীনভাবে ইসরায়েলের এই দাবির সত্যতা যাচাই করতে পারেনি।
চিকিৎসা সূত্র আনাদোলু এজেন্সিকে জানিয়েছে, নিহতদের মধ্যে তিনজন একটি বেসামরিক গাড়িতে হামলায় নিহত হন এবং আরও চারজন পশ্চিম গাজা সিটির রিমাল এলাকায় একটি ভবনে হামলায় নিহত হন। সূত্রগুলো আল জাজিরাকে জানিয়েছে, নিহতদের মধ্যে তিনজন নারী ও একটি শিশু রয়েছে। আনাদোলু জানিয়েছে, এসব হামলায় অন্তত ৪৫ জন আহত হয়েছেন। তাদের কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।
গাজায় আল জাজিরার প্রতিবেদক ইব্রাহিম আল-খলিলি বলেন, প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, হামলায় অন্তত চারটি ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে। হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত আবাসিক ভবনটিতে ‘ভয়াবহ আগুন’ ছড়িয়ে পড়ে। এতে ঘটনাস্থলে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং অনেক ফিলিস্তিনিকে এলাকা ছেড়ে পালাতে বাধ্য হতে হয়।
নাকবা দিবসের ৭৮তম বার্ষিকীতে এ হামলা হয়েছে। এদিন ১৯৪৮ সালের যুদ্ধে ইসরায়েল রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পর আনুমানিক ৭ লাখ ৫০ হাজার ফিলিস্তিনি নিজেদের ঘরবাড়ি থেকে উচ্ছেদ হয়েছিলেন।
গাজার সিভিল ডিফেন্সের মুখপাত্র মাহমুদ বাসেল বলেন, লক্ষ্যবস্তু হওয়া আবাসিক ভবনটিতে শত শত মানুষ বসবাস করছিলেন। রয়টার্সকে তিনি বলেন, কোনো ধরনের আগাম সতর্কতা বা নোটিশ ছাড়াই ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়েছে। আমরা বহু নিহতের কথা বলছি। বিপুল সংখ্যক আহত মানুষের কথা বলছি, যাদের মধ্যে পুরো পরিবারও রয়েছে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
তাইওয়ানের আশপাশের সমুদ্র এলাকায় চীনের জাহাজের উপস্থিতি উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে বলে জানিয়েছে তাইওয়ানের কোস্ট গার্ড। তাইপের ওপর বেইজিংয়ের চাপ বাড়ানোর মধ্যেই এ তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে। বার্তা সংস্থা এএফপি জানায়, তাইওয়ানের দাবি, চীন প্রায় প্রতিদিনই দ্বীপটির আশপাশে সামরিক বিমান, যুদ্ধজাহাজ ও কোস্ট গার্ডের জাহাজ মোতায়েন করছে। যদিও তাইওয়ানকে নিজেদের অংশ বলে চীনের দাবি বরাবরই প্রত্যাখ্যান করে আসছে তাইপে। তাইওয়ানের কোস্ট গার্ডের এক কর্মকর্তা জানান, জুন মাসে তাইওয়ান ও আশপাশের দ্বীপগুলোর জলসীমায় ২৬৩টি চীনা জাহাজ শনাক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে কোস্ট গার্ড, উদ্ধারকারী ও গবেষণা জাহাজ রয়েছে। মে মাসে এই সংখ্যা ছিল ২০০টি, আর ২০২৫ সালের জুনে ছিল ১৭১টি। তবে এই হিসাবে যুদ্ধজাহাজ অন্তর্ভুক্ত নয়। তিনি বলেন, চীন তথাকথিত ‘গ্রে জোন’ কৌশলের মাধ্যমে সামরিক সংঘাতে না জড়িয়েই তাইওয়ানের ওপর চাপ বাড়ানোর চেষ্টা করছে। জুনে এ ধরনের কার্যক্রমে ব্যবহৃত সরকারি জাহাজের সংখ্যা ও তৎপরতা—দুইই বেড়েছে। গত মাসে চীন প্রথমবারের মতো তাইওয়ানের পূর্ব উপকূলে ‘আইন প্রয়োগকারী টহল’ শুরু করে। তাইওয়ান এ পদক্ষেপকে উসকানিমূলক বলে আখ্যা দিয়েছে। এ ছাড়া, প্রথমবারের মতো চীনা কোস্ট গার্ড তাইওয়ানের পাশ দিয়ে চলাচলকারী বাণিজ্যিক জাহাজগুলোর সঙ্গে রেডিওতে যোগাযোগ করে নাবিকদের পরিচয় ও গন্তব্য জানতে চেয়েছে। তাইওয়ানের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বলেন, চীনের উদ্দেশ্য শুধু জাহাজ চলাচলে বাধা দেওয়া নয়; বরং প্রয়োজনে তাইওয়ানের বন্দরে পণ্যবাহী জাহাজের প্রবেশ ঠেকিয়ে দ্বীপটিকে সরবরাহ সংকটে ফেলার চেষ্টা করা। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় সম্ভাব্য অবরোধ বা কোয়ারেন্টিন পরিস্থিতির প্রস্তুতি হিসেবে তাইওয়ান শিগগিরই সরাসরি মহড়া চালাবে বলে জানিয়েছে কোস্ট গার্ড।
ভারতে শিক্ষা ব্যবস্থার সংস্কারের দাবিতে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি) নামে একটি ব্যঙ্গাত্মক আন্দোলনের ডাকে সংসদ অভিমুখে মিছিল করতে যাচ্ছেন হাজারো শিক্ষার্থী, অভিভাবক, অধিকারকর্মী ও রাজনৈতিক নেতারা। সোমবার (২০ জুলাই) দিল্লির যন্তর মন্তর থেকে এই মিছিল শুরু হওয়ার কথা। তবে দিল্লি পুলিশ জানিয়েছে, মিছিলের জন্য অনুমতি নেওয়া হয়নি। যদিও সিজেপির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, তারা পূর্বঘোষিত কর্মসূচি চালিয়ে যাবে। মিছিলকে ঘিরে দিল্লিতে ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। প্রতিবাদস্থলে শত শত পুলিশ ও আধাসামরিক বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোতে ব্যারিকেড বসানো হয়েছে এবং যান চলাচল নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে। শিক্ষাব্যবস্থায় অনিয়ম, পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস ও পরীক্ষার ব্যবস্থাপনার ব্যর্থতার প্রতিবাদে চলতি বছরের মে মাসে অনলাইন ব্যঙ্গ আন্দোলন হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে ককরোচ জনতা পার্টি। পরে এটি বড় ধরনের প্রতিবাদ আন্দোলনে রূপ নেয়। আন্দোলনকারীরা ভারতের শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ দাবি করছেন। তবে মন্ত্রী সিজেপি ও তাদের সমর্থকদের ‘বিশৃঙ্খলাকারীদের বি-টিম’ বলে মন্তব্য করেছেন। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সরকার এখনো আন্দোলনকারীদের সঙ্গে কোনো আলোচনা করেনি। সোমবার সকালে যন্তর মন্তরে বৃষ্টির মধ্যেও প্রতিবাদকারীদের ভিড় দেখা যায়। অনেকেই ভারতের জাতীয় পতাকা হাতে ছিলেন। কেউ কেউ শান্তির প্রতীক হিসেবে প্লাস্টিকের গোলাপ নিয়ে অংশ নেন। আন্দোলনের প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে বলেন, সংসদ অভিমুখে মিছিল হবে পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী। তিনি বলেন, প্রতিবাদী নেতা ও শিক্ষাবিদ সোনম ওয়াংচুককে হাসপাতালে থেকে মুক্তি দিয়ে মিছিলে অংশ নেওয়ার সুযোগ দিতে হবে। ওয়াংচুক শিক্ষা ব্যবস্থার অনিয়মের প্রতিবাদে অনশন শুরু করেছিলেন। ২১ দিন অনশনের পর শনিবার পুলিশ তাকে জোর করে হাসপাতালে নিয়ে যায়। বর্তমানে তিনি সেখানেই অনশন চালিয়ে যাচ্ছেন। ওয়াংচুক জানিয়েছেন, সরকার শিক্ষা ব্যবস্থার সাম্প্রতিক ব্যর্থতার দায় স্বীকার করলে, সংসদ সদস্যরা বিষয়টি নিয়ে কাজ করার আশ্বাস দিলে অথবা তাকে হাসপাতালে গিয়ে আইনপ্রণেতারা এ বিষয়ে পদক্ষেপের প্রতিশ্রুতি দিলে তিনি অনশন শেষ করবেন। দিল্লির পাশাপাশি ভারতের মুম্বাই, বেঙ্গালুরু ও হায়দরাবাদেও এই আন্দোলনের সমর্থনে বিক্ষোভ হয়েছে। সিজেপির আন্দোলনের অন্যতম কারণ হলো কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ। মে মাসে একটি মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষা বাতিল করা হয় প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগে, যার প্রভাব পড়ে প্রায় ২২ লাখ ৮০ হাজার পরীক্ষার্থীর ওপর। শনিবার ওয়াংচুককে হাসপাতাল নেওয়ার ঘটনায় ক্ষোভ আরও বেড়েছে। এরপর আন্দোলনকারীরা শুধু শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান নয়, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির পদত্যাগের দাবিও তুলেছেন।
সিরিয়া সীমান্তের কাছে শনাক্ত হওয়া একটি ড্রোন ভূপাতিত করেছে ইসরায়েলের সামরিক বাহিনী। রোববার এ তথ্য জানিয়েছে দেশটির সেনাবাহিনী। শাফাক নিউজ জানায়, সেনাবাহিনী এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, সীমান্ত এলাকায় ড্রোনটি শনাক্ত হওয়ার পর সেটি সফলভাবে প্রতিহত করা হয়। বাহিনী জানিয়েছে, ড্রোনটি কোথা থেকে উৎক্ষেপণ করা হয়েছিল, তা জানতে তদন্ত চলছে। এছাড়া প্রচলিত নিরাপত্তা প্রটোকল অনুযায়ী এ ঘটনায় কোনো সতর্কতামূলক সাইরেন বাজানো হয়নি। এর আগে ইসরায়েলের নিরাপত্তা সংস্থাগুলো আশঙ্কা প্রকাশ করে যে, মধ্যপ্রাচ্যে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যে ইরানের শীর্ষ নেতৃত্ব কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ইসরায়েলের বিরুদ্ধে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলার নির্দেশ দিতে পারে।