অন্যান্য

নাহিদ ইসলাম ও নাসীরউদ্দীন পাটোয়ারী শোকজের জবাব দিল এনসিপি

মারিয়া রহমান জানুয়ারী ১৮, ২০২৬


আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম ও মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীকে কারণ দর্শানোর নোটিশ (শোকজ) দিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। তবে সেই শোকজের জবাব দিয়েছে এনসিপি।

রোববার (১৮ জানুয়ারি) এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামের ফেসবুক পেজে বিষয়টি তুলে ধরা হয়।

এনসিপির নির্বাচনী মিডিয়া উপ-কমিটির প্রধান মাহাবুব আলমের পক্ষে দেওয়া ওই পোস্টে উল্লেখ করা হয়, ‘দেশ সংস্কারের গণভোট হ্যাঁ-এর পক্ষে থাকুন’ সম্বলিত ব্যানার জানানো হয়েছে। যেটা নাহিদ ইসলাম ও নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর শাপলাকলি মার্কায় ভোট দেয়ার কোন প্রচারণা ছিল না। গণভোটের প্রচারের জন্য যে সকল বিধিমালা রয়েছে তা কোনভাবেই লঙ্ঘিত হয়নি।’

তাছাড়া ও নির্বাচনী আচরণ বিধিমেলার কোন ব্যত্যয় ঘটেনি বলেও দাবি করে এনসিপির নির্বাচনী মিডিয়া উপ-কমিটির প্রধান মাহাবুব আলম।

এর আগে নাহিদ ইসলামকে কারণ দর্শানোর নোটিশে (শোকজ) বলা হয়, ‘মো. নাহিদ ইসলাম, আপনি জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) কর্তৃক মনোনীত ঢাকা-১১ আসনের একজন বৈধ প্রার্থী। আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে ঢাকা-১১ আসনের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ স্থানে আপনার নিজের বিশাল আকৃতির রঙিন ছবি, ঢাকা-১১ উল্লেখপূর্বক ‘দেশ সংস্কারের গণভোট হ্যাঁ-এর পক্ষে থাকুন’ স্লোগান সংবলিত বিলবোর্ড রিটার্নিং অফিসারের দৃষ্টিগোচর হয়েছে, যা জাতীয় সংসদ নির্বাচন আচরণ বিধিমালার পরিপন্থি।’

এতে আরও উল্লেখ করা হয়, সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীর আচরণ বিধিমালা, ২০২৫ এর বিধি ১৮ অনুযায়ী ‘কোনো নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল কিংবা তৎকর্তৃক মনোনীত প্রার্থী বা স্বতন্ত্র প্রার্থী কিংবা তাদের পক্ষে অন্যকোনো ব্যক্তি ভোটগ্রহণের জন্য নির্ধারিত দিনের ৩ সপ্তাহ সময়ের আগে কোনোপ্রকার নির্বাচনী প্রচার শুরু করতে পারবেন না। এই অবস্থায় আগামী ১৯ জানুয়ারি সকাল সাড়ে ৯টার মধ্যে সমস্ত বিলবোর্ড অপসারণের জন্য আপনাকে অনুরোধ করা হলো।

এ ঘটনায় নির্বাচন আচরণবিধি লঙ্ঘনের দায়ে আপনার বিরুদ্ধে কেন আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে না উল্লেখ করে শোকজ নোটিশে আরও বলা হয়েছে, আগামী ১৯ জানুয়ারি সকাল ১১টার মধ্যে আপনি নিজে বা আপনার প্রতিনিধির মাধ্যমে উপস্থিত হয়ে লিখিত জবাব রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয়ে দাখিলের জন্য অনুরোধ করা হলো।

আর নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীকে দেয়া চিঠিতে ইসি বলেছে, আপনি মুহাম্মাদ নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী জাতীয় নাগরিক পার্টি-এনসিপি মনোনীত ঢাকা-৮ আসনের একজন বৈধ প্রার্থী। আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে ঢাকা-৮ আসনের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ স্থানে আপনার নিজের 'বিশাল আকৃতির রঙিন ছবি', 'ঢাকা-৮ আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী' এবং 'গণভোটকে হ্যাঁ বলি' স্লোগান সম্বলিত বিলবোর্ড রিটার্নিং অফিসারের দৃষ্টিগোচর হয়েছে, যা জাতীয় সংসদ নির্বাচন আচরণ বিধিমালার পরিপন্থী।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

শুল্কমুক্ত সুবিধায় ব্যবসায়ীদের আগ্রহে ভাটা

পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না।   একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।   এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন।   গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে।   জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে।   সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে।   কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে।   প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে।   আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’   সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না।   এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।

অন্যান্য

আরও দেখুন
ছবি: সংগৃহীত
দেশের সব মাদ্রাসায় জরুরি নির্দেশনা

সারাদেশের সকল মাদ্রাসার জন্য জরুরি নির্দেশনা জারি করেছে মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তর। সরকারের পরিবেশবান্ধব ‘৫ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ’ কর্মসূচির অগ্রগতি পর্যালোচনার জন্য অধিদপ্তরের আওতাধীন সব মাদ্রাসা থেকে বৃক্ষরোপণের তথ্য জরুরি ভিত্তিতে তলব করা হয়েছে। আগামী ২ কর্মদিবসের মধ্যে নির্ধারিত ছকে এই তথ্য পাঠাতে হবে।   মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের প্রশাসন শাখা থেকে জারি করা এক জরুরি চিঠিতে এই নির্দেশনা দেওয়া হয়। অধিদপ্তরের উপপরিচালক (প্রশিক্ষণ) মো. চাঁদ মিয়া স্বাক্ষরিত এই নির্দেশনায় দেশের সব মাদ্রাসার অধ্যক্ষ, সুপার এবং ইবতেদায়ী প্রধানদের জরুরি ভিত্তিতে তথ্য প্রেরণের জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ করা হয়েছে।   অধিদপ্তরের চিঠিতে বলা হয়েছে, কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের গত ৩ সেপ্টেম্বর এক স্মারক নির্দেশনার প্রেক্ষিতে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তরের আওতাধীন মাদ্রাসাগুলোতে এখন পর্যন্ত কী পরিমাণ চারাগাছ রোপণ করা হয়েছে, তার সঠিক পরিসংখ্যান ও বর্তমান অবস্থা যাচাই করাই এই নির্দেশনার মূল উদ্দেশ্য।   যেভাবে তথ্য পাঠাতে হবে   সংশ্লিষ্ট সব মাদ্রাসাকে নির্ধারিত ছক পূরণ করে ap-2@dme.gov.bd ইমেল ঠিকানায় তথ্য পাঠাতে হবে। বিজ্ঞপ্তিতে উল্লিখিত ছক অনুযায়ী প্রতিটি মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষকে বাধ্যতামূলকভাবে নিচের তথ্যগুলো দিতে হবে: প্রতিষ্ঠানের নাম ও ধরন এলাকার বিবরণ: জেলা, উপজেলা, ইউনিয়ন ও গ্রামের নাম। বৃক্ষের বিবরণ: রোপণকৃত গাছের প্রজাতির নাম ও মোট সংখ্যা। রোপণের তারিখ ভৌগোলিক অবস্থান: বৃক্ষরোপণের সুনির্দিষ্ট এলাকা, যা অবশ্যই ভৌগোলিক কো-অর্ডিনেট বা জিপিএস লোকেশনসহ উল্লেখ করতে হবে। তত্ত্বাবধান: চারাগাছগুলোর পরিচর্যাকারী এবং দায়িত্বপ্রাপ্ত মনিটরিং কর্মকর্তার নাম ও মোবাইল নম্বর। এই নির্দেশনার কার্যকারিতা ও তদারকি নিশ্চিত করতে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব, সচিবের একান্ত সচিব, দেশের সকল জেলা শিক্ষা অফিসার, সকল উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) এবং মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের ব্যক্তিগত সহকারীসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোতে অনুলিপি পাঠানো হয়েছে।   মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তর সূত্র জানায়, জাতীয় এই সবুজায়ন কর্মসূচিকে সফল করতে এবং রোপণকৃত গাছের যথাযথ পরিচর্যা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতেই এই কঠোর মনিটরিংয়ের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

মোঃ ইমরান হোসেন সেপ্টেম্বর ০৮, ২০২৬
প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খাঁন।

আওয়ামী লীগের বিচার আটকেছে জামায়াতের ক্ষমা ঘোষণায়: রাশেদ খাঁন

ছবি: সংগৃহীত

ধর্মীয় সম্প্রীতি নষ্ট করতে বারবার চক্রান্ত হয়েছে: রিজভী

ছবি: সংগৃহীত

ভোটার এলাকা বদলালেন আসিফ মাহমুদ

ছবি: সংগৃহীত
কালো আইন’ গুমকারীদের দায়মুক্তি দেবে: মীর আহমাদ বিন কাসেম

জাতীয় সংসদে দুটি ‘কালো আইন’ পাসের প্রতিবাদে মুখ ও কানে কালো কাপড় বেঁধে ওয়াকআউট করেছেন সংসদ সদস্য মীর আহমাদ বিন কাসেম। তার অভিযোগ, এসব আইন গুমের ঘটনায় অভিযুক্তদের জবাবদিহির আওতায় আনার পরিবর্তে দায়মুক্তির সুযোগ তৈরি করবে।   সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) বিকেল সাড়ে ৪টায় তার ভেরিফাইড ফেসবুক প্রোফাইলে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে এসব কথা জানান তিনি।   স্ট্যাটাসে মীর আহমাদ বিন কাসেম লেখেন, জাতীয় সংসদে দুটি কালো আইন পাস হলো। আমরা প্রতিবাদ করেছি। মুখে ও কানে কালো কাপড় বেঁধে সংসদ থেকে ওয়াকআউট করেছি। কারণ এই আইন সেই রাষ্ট্রের প্রতীক— যে রাষ্ট্র গুমের শিকার মানুষের মুখ বন্ধ করে দেয়, আর তার স্বজনদের আর্তনাদ শুনেও শোনে না।   তিনি আরও লেখেন, আমি আয়নাঘরে আট বছর কাটিয়েছি। আমি জানি অন্ধকারে কেমন লাগে। জানি, বাইরে মা কেমন করে অপেক্ষা করেন। আজ সংসদে দাঁড়িয়ে আমার বারবার মনে হচ্ছিল— এই আইন থাকলে আমাকে কেউ খুঁজে পেত না। আগামীকাল যদি আরেকজন হারিয়ে যায়, এই আইন তাকেও খুঁজে পাবে না।   যে বাহিনীর বিরুদ্ধে অভিযোগ, সেই বাহিনীই তদন্ত করবে— এ কেমন বিচার? গুমের মামলা যাবে সেই পুলিশের হাতে, যে প্রতিষ্ঠান নিজেই জবাবদিহির কাঠগড়ায়। এ আইন গুম বন্ধ করবে না, গুমকারীদের দায়মুক্তি দেবে। জাতিসংঘের সনদে আমরা যে ওয়াদা করেছিলাম, এই আইন সেই ওয়াদারও বরখেলাপ বলেও লেখেন তিনি।   মীর আহমাদ বিন কাসেম লেখেন, শহীদদের রক্তের উপর দাঁড়িয়ে যে সংসদ, সেই সংসদে ফ্যাসিবাদের আইনই যদি ফিরে আসে— তাহলে এত ত্যাগ কীসের জন্য ছিল? আমাদের দাবি স্পষ্ট, ২০২৫ সালের অধ্যাদেশ ফিরিয়ে আনুন— যেখানে কমিশনের নিজস্ব স্বাধীন তদন্তের ক্ষমতা ছিল, যা আন্তর্জাতিকভাবে প্রশংসিত হয়েছিল। মুখে কালো কাপড় বাঁধা যায়, কিন্তু সত্যকে চিরকাল বেঁধে রাখা যায় না। গুমের বিরুদ্ধে, দায়মুক্তির বিরুদ্ধে— এই লড়াই চলবে, ইনশাআল্লাহ।

মো: দেলোয়ার হোসাইন সেপ্টেম্বর ০৭, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

গাজী নজরুলকে নিয়ে সংসদে তুমুল বিতর্ক

ছবি: সংগৃহীত

সম্পত্তি হস্তান্তর আইন নিয়ে তড়িঘড়ির অভিযোগ মামুনুল হকের

ছবি: সংগৃহীত

বাধাহীন লংমার্চ, রাজনীতিতে সহনশীলতার ইঙ্গিত

ছবি: সংগৃহীত
১৪ বোয়িং কেনার চুক্তি জনসম্মুখে আনার দাবি, সরকারকে নোটিশ

যুক্তরাষ্ট্র থেকে ১৪টি বোয়িং বিমান কেনার বিষয়ে করা চুক্তির পূর্ণাঙ্গ তথ্য ও নথি জনসম্মুখে প্রকাশের দাবিতে সরকারের প্রতি আইনি নোটিশ পাঠানো হয়েছে। নোটিশে চুক্তির শর্ত, মূল্য, ক্রয়প্রক্রিয়া এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য তথ্য জনসাধারণের জানার সুযোগ দেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে। সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার এমএমজি সারওয়ার পায়েল এই নোটিশ পাঠান। মন্ত্রিপরিষদ সচিব, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন সচিব, অর্থ সচিব এবং বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) বরাবরে নোটিশটি পাঠানো হয়েছে। নোটিশ প্রাপ্তির সাত দিনের মধ্যে গ্রহণযোগ্য ও যুক্তিপূর্ণ জবাব দিতে বলা হয়েছে। অন্যথায় হাইকোর্টে রিট দায়ের করা হবে বলে নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে। নোটিশে বলা হয়েছে, গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদ অনুযায়ী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স প্রায় ৩ দশমিক ৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলার মূল্যে ১৪টি বোয়িং বিমান ক্রয়ের জন্য একটি চুক্তি করা হয়েছে। নোটিশে এই বিশাল অঙ্কের জনসাধারণের অর্থ ব্যয়ের স্বচ্ছতা, আর্থিক যৌক্তিকতা এবং জনস্বার্থ নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। বিশেষ করে দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতি (বৈদেশিক মুদ্রার সংকট, মুদ্রাস্ফীতি) এবং বিকল্প প্রস্তাবের (যেমন– এয়ারবাসের অফার) অস্তিত্ব বিবেচনা করে এই সিদ্ধান্ত কতটা যুক্তিযুক্ত, তা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়। নোটিশে বলা হয়, বোয়িং বিমান ক্রয়ের ক্ষেত্রে এখন পর্যন্ত কোনো আর্থিক বাধ্যবাধকতা তৈরি হয়েছে কিনা বা নতুন কোনো ক্রয়/লিজের পরিকল্পনা আছে কিনা, তা প্রকাশ করতে হবে। একটি পূর্ণাঙ্গ, স্বচ্ছ এবং স্বাধীন যাচাই (ফিজিবিলিটি স্টাডি, ফিন্যান্সিয়াল অ্যান্ড পাবলিক-ইন্টারেস্ট অ্যাসেসমেন্ট) সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত নতুন কোনো চুক্তি বা প্রতিশ্রুতি দেওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে। যেকোনো ক্রয় প্রক্রিয়া পাবলিক প্রকিউরমেন্ট অ্যাক্ট ২০০৬ অনুসরণ করে স্বচ্ছ এবং প্রতিযোগিতামূলক হতে হবে। নোটিশ প্রাপ্তির সাত দিনের মধ্যে গ্রহণযোগ্য ও যুক্তিপূর্ণ জবাব চাওয়া হয়েছে। ব্যর্থ হলে সংবিধানের ৪৪ ও ১০২ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী জনসাধারণের অর্থ সুরক্ষায় হাইকোর্ট বিভাগে রিট দায়ের করা হবে বলে নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে।

মারিয়া রহমান সেপ্টেম্বর ০৭, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

বিরোধী দল হিসেবে ব্যর্থ বিএনপির নসিহত আমাদের লাগবে না: সারজিস আলম

ছবি: সংগৃহীত

লংমার্চ রাজপথের ষড়যন্ত্র, গণতন্ত্র বিনষ্টের চেষ্টা: রিজভী

ছবি: সংগৃহীত

রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী অলি আহমদ

0 Comments