নাগরিকদের দোরগোড়ায় দ্রুত, সহজ ও স্বচ্ছ সরকারি সেবা পৌঁছে দিতে মাঠপর্যায়ের উদ্যোক্তাদের দক্ষতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন সংশ্লিষ্টরা।
আজ চাঁদপুর উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের উদ্যোগে এবং জেলা প্রশাসন ও এসপায়ার টু ইনোভেট (এটুআই)-এর সহযোগিতায় অনুষ্ঠিত ‘নাগরিক সেবা বাংলাদেশ’ বিষয়ক ওরিয়েন্টেশন ও দক্ষতা বৃদ্ধিমূলক কর্মশালায় এ গুরুত্বারোপ করা হয়।
কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধান উপদেষ্টার ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব বলেন, সরকারি সেবার প্রকৃত সাফল্য নির্ভর করে সেবাগ্রহীতার আস্থা ও সন্তুষ্টির ওপর। আধুনিক প্রযুক্তি ও অবকাঠামো তখনই কার্যকর হয়, যখন নাগরিকরা সহজ, দ্রুত ও হয়রানিমুক্ত সেবা পান। তিনি বলেন, এক ছাদের নিচে সমন্বিত সেবা প্রদানের মাধ্যমে নাগরিক সেবা কেন্দ্রগুলো সময়, ব্যয় ও ভোগান্তি উল্লেখযোগ্যভাবে কমাতে সক্ষম হবে।
তিনি আরও বলেন, নাগরিক সেবা কার্যক্রম বাস্তবায়নে উদ্যোক্তারা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। মাঠপর্যায়ে তারাই সরকারের প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করে নাগরিকদের সঙ্গে সরাসরি সংযোগ স্থাপন করবেন। পাশাপাশি তিনি ব্যক্তি ও প্রাতিষ্ঠানিক তথ্যের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
সভাপতির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক মো. নাজমুল ইসলাম সরকার বলেন, নাগরিক সেবা কেন্দ্রের কার্যক্রম জেলার ইউনিয়ন, পৌরসভা ও উপজেলা পর্যায়ে ধাপে ধাপে সম্প্রসারিত হচ্ছে। প্রযুক্তিনির্ভর দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলার মাধ্যমে নাগরিক সেবা কেন্দ্রগুলো সরকারকে দ্রুত, স্বচ্ছ ও মানসম্মত সেবা জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে সহায়তা করবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
কর্মশালায় অংশগ্রহণকারী উদ্যোক্তারা জানান, এ কর্মশালার মাধ্যমে ‘নাগরিক সেবা বাংলাদেশ’ উদ্যোগ সম্পর্কে তাঁদের ধারণা আরও পরিষ্কার হয়েছে এবং নিজ-নিজ এলাকায় নাগরিক সেবা কেন্দ্র কার্যকরভাবে বাস্তবায়নে তারা সক্রিয় ভূমিকা রাখবেন।
কর্মশালায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন এটুআই’র হেড অব প্রজেক্ট ম্যানেজমেন্ট আব্দুল্লাহ আল ফাহিম ও তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের সিনিয়র সিস্টেম অ্যানালিস্ট মো. নবীর উদ্দীন। স্বাগত বক্তব্য দেন চাঁদপুরের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) একরামুল ছিদ্দিক।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন- অতিরিক্ত পুলিশ সুপার লুৎফর রহমান, এটুআই’র হেড অব কমিউনিকেশনস মোহাম্মদ সফিউল আযম, ক্যাপাসিটি ডেভেলপমেন্ট কো-অর্ডিনেটর অশোক কুমার বিশ্বাসসহ ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
উল্লেখ্য, কর্মশালায় চাঁদপুর, লক্ষ্মীপুর ও নোয়াখালী জেলার ইউনিয়ন, পৌরসভা, উপজেলা ও জেলা পরিষদ ডিজিটাল সেন্টারের নির্বাচিত ১০০ জন উদ্যোক্তা অংশগ্রহণ করেন।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না। একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন। গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে। জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে। সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে। কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে। প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে। আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’ সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না। এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।
ধর্মীয় নেতা ও সেবাকর্মীদের রাষ্ট্রীয় সম্মানী কার্যক্রম সম্প্রসারণে ২০২৬-২৭ অর্থবছরে ১ হাজার ১০০ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছেন ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন (কায়কোবাদ)। তিনি বলেন, এ বরাদ্দের মাধ্যমে ৮৬ হাজার ৭০৯টি প্রতিষ্ঠানের ২ লাখ ৫৬ হাজার ৭৪ জন ধর্মীয় নেতা ও সেবাকর্মীকে রাষ্ট্রীয় সম্মানীর আওতায় আনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টম্বর) জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উদযাপন উপলক্ষ্যে আয়োজিত আলোচনাসভা ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। ধর্মমন্ত্রী বলেন, ধর্মীয় প্রধানদের সম্মানী প্রকল্পের পাইলটিং পর্যায়ে ৪,৬৮৩ জন ইমাম, ৪,৩১২ জন মুয়াজ্জিন, ৩,৭৮৪ জন খাদেম, ৫৮৬ জন পুরোহিত, ৪২২ জন সেবাইত, ৯৫ জন বৌদ্ধ অধ্যক্ষ এবং ৬৭ জন উপাধ্যক্ষ-সহ সর্বমোট ১৩ হাজার ৯৪৯ জনের অনুকূলে ভাতা দেওয়া হয়েছে। পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.)-এর তাৎপর্য তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, মহান আল্লাহ হযরত মুহাম্মদ (সা.)-কে ‘রহমাতাল্লিল আলামীন’ হিসেবে প্রেরণ করেছেন। রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর জীবনের প্রতিটি দিক ও অধ্যায় বিশ্বের সকল মানুষের জন্য এক শাশ্বত আলোকবর্তিকা। কাজী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন (কায়কোবাদ) বলেন, মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) ছিলেন অনিন্দ্য ও অনুপম চরিত্রের অধিকারী। একজন আদর্শ মানুষের মধ্যে প্রয়োজনীয় ইতিবাচক গুণাবলির সমাহার ঘটেছিল তার পুণ্যময় চরিত্রে। অনুষ্ঠানে মহানবী (সা.)-এর আদর্শ অনুসরণ করে জীবন গড়ার জন্য সবার প্রতি আহ্বান জানান তিনি। হজ ব্যবস্থাপনা প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, ‘পৃথিবীর ইতিহাসে এমন নজির নেই যে, হজের আনুষ্ঠানিকতা শেষে হাজিরা তাদের অব্যয়িত অর্থফেরত পেয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বলিষ্ঠ উদ্যোগ ও সুনির্দিষ্ট দিকনির্দেশনায় বাংলাদেশে সেই নজির স্থাপন করা সম্ভব হয়েছে।’ তিনি জানান, ২০২৬ সালের হজে সরকারি ব্যবস্থাপনার মোট ৪ হাজার ৩৪১ জন হাজির অনুকূলে ৪ কোটি ৮৭ লাখ ২৩ হাজার ১৪ টাকা ফেরত দেওয়া হয়েছে। তিনি আরও বলেন, ২০২৩ সালে যেখানে হজের বিমানভাড়া ছিল ১ লাখ ৯৭ হাজার ৭৯৭ টাকা; প্রধানমন্ত্রীর উদ্যোগে তা কমিয়ে এবছর মাত্র ১ লাখ ৩০ হাজার টাকায় নিয়ে আসা সম্ভব হয়েছে। ধর্মমন্ত্রী বলেন, ‘আমি আপনাদের সবার কাছে আমাদের নেতা তারেক রহমানের জন্য বিশেষ দোয়া কামনা করছি। মহান আল্লাহ তাআলা যেন তাকে সব ধরনের ষড়যন্ত্র থেকে হেফাজত করেন।’ ২০০৮ ও ২০০৯ সালে রাজনৈতিক মামলার কারণে চরম সংকটের মধ্যে পড়েছিলেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, ওই সময়ই তার হিপ জয়েন্ট ভেঙে যায়। চিকিৎসার জন্য তাকে সিঙ্গাপুরে যেতে হয়। তিনি এটিকে আল্লাহর অশেষ রহমত হিসেবে দেখেন, যা তাকে তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের অত্যাচার ও নিপীড়ন থেকে রক্ষা করেছিল। তিনি আরও বলেন, পরবর্তীতে দুবাই বিমানবন্দরে ইন্টারপোলের মাধ্যমে তাকে গ্রেপ্তার করা হলেও মহান আল্লাহর প্রতি সুদৃঢ় বিশ্বাসের উসিলায় তিনি অলৌকিকভাবে মুক্তি পান। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস ও ঐতিহ্য তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের পরিকল্পনা ও দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার ঐতিহাসিক ঘোষণার ধারাবাহিকতায় ২০০৫ সালে ‘জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় আইন, ২০০৫’-এর আওতায় প্রতিষ্ঠানটি পূর্ণাঙ্গ পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে যাত্রা শুরু করে। তিনি উচ্চশিক্ষা, গবেষণা ও আধুনিক জ্ঞানচর্চায় বিশ্ববিদ্যালয়টিকে আরও উচ্চতায় নিয়ে যেতে সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি আহ্বান জানান। অধ্যাপক ড. মোস্তফা হাসানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান আলোচকের বক্তব্য রাখেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. রইছ উদ্দীন। এছাড়াও বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক মুফতি মুহাম্মদ মুহিব্বুল্লাহিল বাকী নদভী। আলোচনাসভা ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন অনুষদের ডিন, বিভিন্ন বিভাগের চেয়ারম্যান, শিক্ষক-শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারী, ছাত্র সংগঠনের নেতারা এবং প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।
শুধু নতুন উদ্ভাবন করলেই হবে না, সেগুলোকে বাস্তবসম্মত সমাধান ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে রূপ দিতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম। তিনি বলেন, উদ্ভাবকদের অর্থায়ন, নীতিগত সহায়তা, শিল্পপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে অংশীদারত্ব, মেধাস্বত্বের সুরক্ষা এবং বাজারে প্রবেশের সুযোগ নিশ্চিত করা প্রয়োজন। জ্ঞানকে সমাধানে, গবেষণাকে পণ্যে এবং ধারণাকে উদ্যোগে রূপান্তরের মাধ্যমে উদ্ভাবনের অর্থনৈতিক ও সামাজিক মূল্য তৈরি করতে হবে। বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে বাংলাদেশ ইনোভেশন ফেয়ার ২০২৬ উপলক্ষে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা বলেন। মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের শিক্ষার্থী, গবেষক, স্টার্টআপ, বিশ্ববিদ্যালয় ও শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোতে সৃজনশীলতা ও নতুন ধারণার অভাব নেই। বিভিন্ন ক্ষেত্রে নতুন নতুন সমাধানও তৈরি হচ্ছে। তবে এসব উদ্ভাবনকে বিনিয়োগ, শিল্প ও বাজারের সঙ্গে কার্যকরভাবে যুক্ত করা এখন বড় চ্যালেঞ্জ। এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বাংলাদেশ ইনোভেশন ফেয়ার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে জানান তিনি। মেলায় ব্যক্তিগত উদ্ভাবক ও স্টার্টআপ ফাউন্ডারসহ শতাধিক উদ্ভাবক এক হাজারের বেশি উদ্ভাবন প্রদর্শন করবেন। এতে দেশের ৭৩টি সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়, বিভিন্ন বাণিজ্যিক ব্যাংক, করপোরেট ও শিল্পপ্রতিষ্ঠান এবং সরকারি-বেসরকারি সংস্থা অংশ নেবে। ফকির মাহবুব আনাম বলেন, উদ্ভাবন কোনো বিচ্ছিন্ন প্রক্রিয়া নয়। একটি কার্যকর উদ্ভাবনী পরিবেশ তৈরিতে সরকার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, শিল্পখাত, অর্থায়নকারী প্রতিষ্ঠান, উন্নয়ন সহযোগী ও বিনিয়োগকারীদের মধ্যে সমন্বয় দরকার। বাংলাদেশ ইনোভেশন ফেয়ারের অন্যতম উদ্দেশ্য হলো এই অংশীজনদের মধ্যে সংযোগ তৈরি করা। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে আগামী ১২ থেকে ১৪ সেপ্টেম্বর ঢাকার নভোথিয়েটারে তিন দিনব্যাপী ‘বাংলাদেশ ইনোভেশন ফেয়ার ২০২৬’ অনুষ্ঠিত হবে। মন্ত্রী জানান, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মেলার উদ্বোধন করবেন। এবারের মেলার প্রতিপাদ্য ‘ইনোভেট টু মার্কেট’। প্রেস ব্রিফিংয়ে মেলার জ্ঞান ও নীতিনির্ধারণী কার্যক্রমের বিস্তারিত তুলে ধরেন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আনোয়ার হোসেন। তিনি জানান, তিন দিনের আয়োজনে ছয়টি প্লেনারি সেশন, ছয়টি প্যারালাল সেশন এবং পাঁচটি গোলটেবিল বৈঠকসহ মোট ১৭টি সেশন ও সংলাপ অনুষ্ঠিত হবে। এসব আয়োজনে নীতিনির্ধারক, থিংক ট্যাংক, শিক্ষাবিদ, শিল্পনেতা, গবেষক, তরুণ উদ্ভাবক, বিনিয়োগকারী ও উন্নয়ন সহযোগীরা অংশ নেবেন। মেলায় একটি ‘ইনোভেশন হাব’ও গড়ে তোলা হবে। মেলার ১৪টি অগ্রাধিকার খাতের মধ্যে রয়েছে ফ্রন্টিয়ার টেকনোলজি, তথ্য ও ডিজিটাল প্রযুক্তি, স্পেস ও অ্যারোস্পেস, স্বাস্থ্য ও লাইফ সায়েন্স, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, অটোমেশন ও রোবোটিক্স, কৃষি ও খাদ্য প্রযুক্তি, ন্যানোটেকনোলজি, জলবায়ু ও পরিবেশ, ফিনটেক, শিল্প উৎপাদন ও হার্ডওয়্যার, জ্বালানি ও মোবিলিটি, শিক্ষা ও দক্ষতা উন্নয়ন এবং স্মার্ট সিটি ও সামাজিক অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাধান। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের আয়োজনে মেলাটি বাস্তবায়ন করছে জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি জাদুঘর। এর ইমপ্লিমেন্টেশন পার্টনার হিসেবে রয়েছে স্পেলবাউন্ড কমিউনিকেশনস লিমিটেড।
বিগত ১৭ বছরে অনেক টেলিভিশন, পত্রিকা ছিল, কিন্তু মতপ্রকাশ হয়েছে এক ব্যক্তি, এক দলের, নয়তো থাকতে হতো জেলে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে তিনি এই মন্তব্য করেন। রুহুল কবির রিজভী বলেন, স্বৈরাচার আমলে সরকারের হয়ে বয়ান তৈরি করত মিডিয়া, সেখানে গুম-খুনের তথ্য থাকত না। তিনি বলেন, যাচাই-বাছাই করে সত্য তথ্য তুলে ধরবেন সাংবাদিকরা, এতে অনেক সময় জীবনের ঝুঁকিও থাকে। তিনি আরও বলেন, মিডিয়ায় অপপ্রচার ও কলঙ্কলেপন গণতন্ত্রের প্রাণশক্তি নিঃশেষ করে দেয়। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বলেন, গণমাধ্যম বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ প্রকাশ করলে সমাজ থেকে ঘুষ, দুর্নীতি, সন্ত্রাস কমে আসবে। বিগত সময়ে গণমাধ্যমের স্বাধীনতার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বিগত দিনে অনেক গণমাধ্যম থাকলেও মতপ্রকাশ করতে পেরেছে শুধুমাত্র নির্দিষ্ট একটি দল। রুহুল কবির রিজভী বলেন, সংবাদপত্রে মতপ্রকাশের সার্বজনীন রূপ ক্ষুণ্ন হয়েছিল বিগত আমলে। হারানো রূপকে ফিরিয়ে আনতে কাজ করা উচিত।