জাতীয়

মনোনয়ন গ্রহণ-বাতিলের বিরুদ্ধে ৫২ আপিল মঞ্জুর, ১৫টি বাতিল করেছে ইসি

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি জানুয়ারী ১০, ২০২৬

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রিটার্নিং অফিসার কর্তৃক মনোনয়নপত্র গ্রহণ ও বাতিলের আদেশের বিরুদ্ধে দায়ের করা ৫২টি আপিল মঞ্জুর করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এছাড়া ১৫টি আপিল নামঞ্জুর বা বাতিল করা হয়েছে এবং অন্য তিনটি আপিলের শুনানি মুলতবি রাখা হয়েছে।

আজ শনিবার আপিল শুনানি শেষে ইসি সচিবালয়ের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান।

আখতার আহমেদ বলেন, ‘আজ ৭০টি আপিলের মধ্যে অনুমোদিত বা মঞ্জুর করা হয়েছে ৫২টি আপিল। নামঞ্জুর করা হয়েছে ১৫টি আপিল। এছাড়া তিনটি আপিল মুলতবি রাখা হয়েছে। এরমধ্যে একটি আপিল আগামীকাল রোববার বিকাল ৫টা পর্যন্ত এবং বাকী দুটি আপিল ১৬ জানুয়ারি পর্যন্ত মুলতবি থাকবে। তথ্যগত কিছু অসংগতি আছে। যেটা রিটার্নিং অফিসারের মাধ্যমে নেওয়া হবে।’

এ দিকে ইসি সচিবালয়ের পরিচালক (জনসংযোগ) ও তথ্য প্রদানকারী কর্মকর্তা মো. রুহুল আমিন মল্লিক বাসসকে জানান, মনোনয়নপত্র গ্রহণ ও বাতিলের আদেশের বিরুদ্ধে দায়ের করা ৫২টি আপিল মঞ্জুর করেছে ইসি। এ মধ্যে মনোনয়নপত্র বাতিলের আদেশের বিরুদ্ধে দায়ের করা ৫১টি আপিল মঞ্জুর করা হয়েছে। অর্থাৎ ইসির রায়ে ৫১ জন প্রার্থী প্রার্থীতা ফিরে পেয়েছেন। এছাড়া মনোনয়নপত্র গ্রহণের বিরুদ্ধে একটি আপিল মঞ্জুর করা হয়েছে। অর্থাৎ রিটার্নিং অফিসার কর্তৃক মনোনয়নপত্র গ্রহণ করা একজন প্রার্থীর প্রার্থীতা বাতিল হয়েছে। এছাড়া নামঞ্জুর করা হয়েছে ১৫টি আপিল বলে তিনি জানান।

এর আগে শনিবার রাজধানীর আগারগাঁও নির্বাচন কমিশন ভবনের অডিটোরিয়ামে (বেইজমেন্ট-২) সকাল ১০টা থেকে আপিলের শুনানি শুরু হয়। দুপুরে এক ঘণ্টা বিরতি দিয়ে বিকেল ৫টা পর্যন্ত আপিল শুনানি গ্রহণ করেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিনের সভাপতিত্বে ফুল কমিশন।

শুনানিতে আপিলকারী বা তাদের আইনজীবীরা যুক্তি তুলে ধরছেন। অপরদিকে রিটার্নিং অফিসার বা তার প্রতিনিধি মনোনয়নপত্র বাতিল বা গ্রহণে কারণ উল্লেখ করে যুক্তি তুলে ধরছেন।

শুনানি গ্রহণ শেষে মনোনয়নপত্র গ্রহণ ও বাতিলের আদেশের বিরুদ্ধে আপিলের রায় তাৎক্ষণিকভাবে জানিয়ে দেওয়া হয়।

শুনানিতে প্রয়োজনীয় ডকুমেন্ট দেখাতে পারায়, অনেক প্রার্থী প্রার্থিতা ফেরত পান। অপর দিকে যারা প্রয়োজনীয় তথ্য উপাত্ত দেখাতে পারছেন না, তাদের প্রার্থিতা বাতিল করা হচ্ছে।

ইসি’র পরিচালক (জনসংযোগ) ও তথ্য প্রদানকারী কর্মকর্তা মো. রুহুল আমিন মল্লিক বাসস’কে জানান, শনিবার সকাল ১০টা থেকে নির্বাচন কমিশনে আপিল শুনানি শুরু হয়ে চলবে আগামী ১৮ জানুয়ারি পর্যন্ত।

শনিবার ১ থেকে ৭০ নম্বর আপিলের শুনানি অনুষ্ঠিত হয়েছে। আগামীকাল রোববার ৭১ থেকে ১৪০ নম্বর আপিল, সোমবার (১২ জানুয়ারি) ১৪১-২১০ নম্বর আপিল এবং মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) ২১১ থেকে ২৮০ নম্বর আপিলের শুনানি অনুষ্ঠিত হবে। পরবর্তী আপিল শুনানির তারিখ শিগগিরই জানিয়ে দেওয়া হবে।

ইসি’র কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আবেদনগুলো শুনানি শেষে আপিলের ফলাফল মনিটরে প্রদর্শন, রায়ের পিডিএফ কপি ও আপিলের সিদ্ধান্ত রিটার্নিং অফিসারসহ সংশ্লিষ্ট পক্ষের ই-মেইল অ্যাকাউন্টে প্রেরণ এবং নির্বাচন কমিশনের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হবে।

এছাড়া, আপিলের রায়ের অনুলিপি শিডিউল মোতাবেক নির্বাচন ভবনের অভ্যর্থনা ডেস্ক হতে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তার মাধ্যমে বিতরণ করা হবে।

১০, ১১ ও ১২ জানুয়ারির রায়ের অনুলিপি ১২ জানুয়ারির দেওয়া হবে। ১৩, ১৪ ও ১৫ জানুয়ারির রায়ের অনুলিপি ১৫ জানুয়ারি দেওয়া হবে। এছাড়া ১৬, ১৭ ও ১৮ জানুয়ারির রায়ের অনুলিপি ১৮ জানুয়ারি দেওয়া হবে।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মনোনয়নপত্র বাছাইয়ে রিটার্নিং অফিসারের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে নির্বাচন কমিশনে মোট ৬৪৫টি আপিল আবেদন দায়ের করা হয়েছে। গত ৪ জানুয়ারি বাছাইয়ের শেষ দিনে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩শ’ নির্বাচনী এলাকায় রিটার্নিং কর্মকর্তা বা সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা মোট ২ হাজার ৫৬৮টি মনোনয়নপত্রের মধ্যে ১ হাজার ৮৪২ জন প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বৈধ এবং ৭২৩ জনের প্রার্থীতা বাতিল ঘোষণা করেন।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

কৃষি ব্যাংকে ভুয়া সিবিএ নেতাদের কোটি টাকারও বেশি চাঁদাবাজি

অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।  

ছবি : সংগৃহীত
দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বজ্রবৃষ্টির পূর্বাভাস, নদীবন্দরে সতর্কতা

রাজধানীসহ দেশের ৯টি জেলার ওপর দিয়ে ঘণ্টায় ৪৫-৬০ কিলোমিটার বেগে দমকা বা ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। একইসঙ্গে এসব এলাকায় বজ্রসহ বৃষ্টির সম্ভাবনাও রয়েছে। তাই সংশ্লিষ্ট এলাকার নদীবন্দরগুলোকে ১ নম্বর সতর্কসংকেত প্রদর্শনের নির্দেশ দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।   মঙ্গলবার (১৬ জুন) সকাল ৯টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত দেশের অভ্যন্তরীণ নদীবন্দরগুলোর জন্য দেওয়া পূর্বাভাসে এ তথ্য জানানো হয়েছে। পূর্বাভাসে বলা হয়, ঢাকা, ময়মনসিংহ, বরিশাল, পটুয়াখালী, কুমিল্লা, নোয়াখালী, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার ও সিলেট জেলার ওপর দিয়ে দক্ষিণ বা দক্ষিণ-পূর্ব দিক থেকে অস্থায়ীভাবে ঘণ্টায় ৪৫-৬০ কিলোমিটার বেগে দমকা কিংবা ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। এ সময় বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। তাই সংশ্লিষ্ট এলাকার নদীবন্দরগুলোকে ১ নম্বর সতর্কসংকেত প্রদর্শনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া রাজশাহী, পাবনা, যশোর, চুয়াডাঙ্গা, কুষ্টিয়া ও খুলনা জেলার ওপর দিয়ে মৃদু তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। এই তাপপ্রবাহ অব্যাহত থাকতে পারে।

মোঃ ইমরান হোসেন জুন ১৬, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

পদ্মা রেলসেতুর পিলারের পাশ থেকে সরানো হয়েছে অতিরিক্ত মাটি: সেতুমন্ত্রী

ছবি: সংগৃহীত

নাটোরে বিদেশি নাগরিক হেনস্তা মামলার প্রধান আসামি গ্রেপ্তার

ছবি : সংগৃহীত

তাজিয়া মিছিলে দা-ছুরি-তরবারিসহ সব ধরনের অস্ত্র নিষিদ্ধ : ডিএমপি কমিশনার

ছবি : সংগৃহীত
আওয়ামী লীগ আর গণতন্ত্র কখনোই একসঙ্গে যায় না: মির্জা ফখরুল

বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, আমার দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবন থেকে আমি একটা জিনিস উপলব্ধি করেছি যে, আওয়ামী লীগ আর গণতন্ত্র কখনোই একসঙ্গে যায় না। আগেও যায়নি, অর্থাৎ আওয়ামী লীগের জন্মের পরেও যায়নি এবং বিগত ফ্যাসিবাদের সময় তো একেবারেই যায়নি। ভবিষ্যতেও একসঙ্গে যাবে না।   মঙ্গলবার (১৬ জুন) রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবের তোফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে ‘সংবাদপত্রের কালো দিবস’ উপলক্ষে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এসব কথা বলেন। বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন (বিএফইউজে) ও ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন (ডিইউজে) যৌথভাবে এ সভার আয়োজন করে। মির্জা ফখরুল বলেন, বিগত ১৫ থেকে ১৬ বছর ধরে প্রতি বছরই আমরা সাংবাদিক নেতাদের সঙ্গে এই কালো দিবস পালন করে আসছি। গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার ও সংবাদপত্রের স্বাধীনতা ফিরিয়ে আনার সংগ্রামে সাংবাদিকরা সবসময় আমাদের পাশে ছিলেন। বিশেষ করে আমাদের অত্যন্ত কঠিন সময়ে সাংবাদিক বন্ধুদের ভূমিকা কখনো ভোলা সম্ভব নয়। ফ্যাসিবাদের আক্রমণের মুখে সাংবাদিকরা যেভাবে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সংবাদ কাভার করে জনগণের সামনে তুলে ধরেছেন, সেজন্য তিনি সাংবাদিকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। সংবাদপত্রের স্বাধীনতা রক্ষায় বর্তমান সরকারের প্রতিশ্রুতির কথা উল্লেখ করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, একটি রক্তাক্ত সংগ্রামের মধ্য দিয়ে আমরা কিছুটা স্বাধীনতা পেয়েছি। এখন অন্তত সংবাদপত্রের স্বাধীনতা নিশ্চিত করবার একটি ক্ষেত্র তৈরি হয়েছে এবং বর্তমান সরকার এই স্বাধীনতা রক্ষায় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হয়ে কাজ করছে। তবে সংবাদপত্রের ভেতরের সংকট নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, দুর্ভাগ্যজনকভাবে কিছু হাউজের মালিকরা অন্যায়ভাবে সাংবাদিকদের ওপর নির্যাতন চালিয়ে যাচ্ছেন। জাতীয় প্রেস ক্লাবের সভাপতিকে জোরপূর্বক পদত্যাগ করতে বলা হয়েছে, যা কোনো সভ্যতার মধ্যে পড়ে না। তিনি এর তীব্র নিন্দা জানান এবং সাংবাদিকদের এর বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়ার অনুরোধ করেন। দেশের বেকার সাংবাদিকদের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টির ওপর জোর দিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, ১৯৭৫-৭৬ সালের তুলনায় বর্তমান প্রেক্ষাপট ভিন্ন হলেও এখনো অনেক সাংবাদিক বেকার হয়ে আছেন। তিনি অনুষ্ঠানে উপস্থিত তথ্যমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করে ঐতিহ্যবাহী দৈনিক বাংলা ও দ্য টাইমসসহ বন্ধ হয়ে যাওয়া সংবাদপত্রগুলো পুনরায় চালু করার উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান। প্রয়োজনে যৌথ উদ্যোগে নতুন সংবাদমাধ্যম সৃষ্টি করে সাংবাদিকদের কর্মসংস্থান নিশ্চিত করার ওপরও তিনি গুরুত্বারোপ করেন। বিএনপিকে একটি উদার, প্রগতিশীল ও গণতান্ত্রিক দল হিসেবে উল্লেখ করে মহাসচিব বলেন, বিএনপি কোনো বিপ্লবী দল নয়, এটি একটি লিবারেল ডেমোক্র্যাটিক পার্টি। বিএনপি ধর্ম, বর্ণ বা অন্য কোনো ভিত্তিতে বিভাজনের পক্ষে নয়, বরং সবাইকে সমান অধিকার দেওয়ায় বিশ্বাসী। সে কারণে সাংবাদিক বা অন্যান্য পেশাজীবীদের জন্য বিএনপিই সবচেয়ে নিরাপদ রাজনৈতিক দল, কারণ বিএনপি অন্যের মত সহ্য করতে জানে। অতীতে বিএনপি যখনই সরকারে ছিল, সাংবাদিক নির্যাতনের ঘটনা সবচেয়ে কম হয়েছে বলেও তিনি দাবি করেন। আওয়ামী লীগের বিগত ১৫ বছরের শাসন আমলকে ভয়াবহ দুঃশাসন আখ্যা দিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, বাহাত্তর থেকে পঁচাত্তরের দুঃশাসন নিয়ে বই থাকলেও, বিগত ১৫ বছরের ফ্যাসিবাদের ওপর কোনো সুনির্দিষ্ট সংকলিত বই এখনো নজরে পড়েনি। তিনি লেখক ও সাংবাদিকদের এই বিষয়ে কলম ধরার আহ্বান জানান এবং প্রকৃত ইতিহাস তুলে ধরতে তথ্যমন্ত্রীকেও নজর দেওয়ার অনুরোধ করেন।  তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, ১৬ জুনের মতো কালো দিবস যেন আর কখনো রাষ্ট্রে এবং রাজনৈতিক জীবনে ফিরে না আসে, তা সবাইকে মিলে নিশ্চিত করতে হবে। সাংবাদিকদের অধিকার রক্ষায় তিনি অতীতেও ছিলেন, বর্তমানেও আছেন এবং ভবিষ্যতেও থাকবেন বলে নিশ্চয়তা দেন। ডিইউজের সভাপতি মো. শহীদুল ইসলামের সভাপতিত্বে এবং ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক দিদারুল আলমের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ পাঠ করেন বিএফইউজের মহাসচিব কাদের গনি চৌধুরী। আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথির বক্তৃতা করেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন। এতে আরও বক্তব্য রাখেন বিএনপির চেয়ারপারসনের সাবেক প্রেস সচিব মারুফ কামাল খান, জাতীয় প্রেস ক্লাবের সভাপতি কবি হাসান হাফিজ এবং বাংলাভিশনের প্রধান সম্পাদক আব্দুল হাই সিদ্দিকসহ অন্য সাংবাদিক নেতারা। 

মো: দেলোয়ার হোসাইন জুন ১৬, ২০২৬
হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল (ফাইল ছবি)

শাহজালালের গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিংয়ে এবার সুইসদের আগ্রহ

পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। ছবি: সংগৃহীত

বিএনপি সরকার গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিতে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ: মির্জা ফখরুল

ইন্টারপোল।ছবি: সংগৃহীত

ইন্টারপোলের ‘ওয়ান্টেড’ তালিকায় ৫৯ বাংলাদেশি

জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভা। ছবি: সংগৃহীত
চীনা অর্থনৈতিক অঞ্চলসহ ৫ প্রকল্প একনেকে অনুমোদন

জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় চীনা অর্থনৈতিক ও শিল্পাঞ্চলের জন্য সহায়ক অবকাঠামো নির্মাণ প্রকল্পসহ মোট পাঁচটি প্রকল্পের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এসব প্রকল্প বাস্তবায়নে ব্যয় ধরা হয়েছে ৭ হাজার ৩ কোটি ৩৬ লাখ টাকা। মঙ্গলবার (১৬ জুন) সকালে বাংলাদেশ সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের জনপ্রশাসন সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত একনেক সভায় এ অনুমোদন দেওয়া হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। অনুমোদিত প্রকল্পগুলোর মধ্যে সরকারের নিজস্ব তহবিল থেকে ব্যয় করা হবে ৪ হাজার ৫৩৬ কোটি ১র (একনেক) সভা। ছবি: সংগৃহীত ০ লাখ টাকা। এছাড়া প্রকল্প ঋণ হিসেবে আসবে ২ হাজার ৪৬৭ কোটি ২৬ লাখ টাকা। অনুমোদন পাওয়া পাঁচটি প্রকল্পের মধ্যে তিনটি নতুন এবং দুটি সংশোধিত প্রকল্প। সভায় অনুমোদন পাওয়া প্রকল্পগুলো হলো-  চীনা অর্থনৈতিক ও শিল্পাঞ্চলের জন্য সহায়ক অবকাঠামো প্রকল্প   ফেনী জেলার মুহুরী-কহুয়া বন্যা নিয়ন্ত্রণ, নিষ্কাশন ও সেচ প্রকল্পের পুনর্বাসন (প্রথম পর্যায়)   করতোয়া নদী সিস্টেম উন্নয়ন প্রকল্প   পদ্মা নদীর ভাঙন থেকে কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলার তালবাড়িয়া এবং কুমারখালী উপজেলার শিলাইদহ ইউনিয়নের কোমরকান্দি এলাকা রক্ষা (প্রথম সংশোধিত) প্রকল্প   ১০০টি উপজেলায় একটি করে টেকনিক্যাল স্কুল ও কলেজ স্থাপন (তৃতীয় সংশোধিত) প্রকল্প এছাড়া ৫০ কোটি টাকার কম ব্যয়ের চারটি প্রকল্প সম্পর্কে সভায় অবহিত করেন পরিকল্পনামন্ত্রী। প্রকল্পগুলো হলো- ১. বাংলাদেশ বিমান বাহিনী ঘাঁটি কক্সবাজারে বিমানসেনা ব্যারাক কমপ্লেক্স নির্মাণ প্রকল্প; ২. নৌবাহিনী স্কুল এন্ড কলেজ সাভার স্থাপন প্রকল্প; ৩. বাংলাদেশ বিমান বাহিনী স্টেশন শমসেরনগর বিদ্যমান বিএএফ শাহীন কলেজের শিক্ষার মান উন্নয়ন ও শিক্ষাদান সক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য ভৌত অবকাঠামো নির্মাণ প্রকল্প; ৪. প্যাগোডাভিত্তিক প্রাক-প্রাথমিক ও ক্রিপিটক শিক্ষা কার্যক্রম ৪র্থ পর্যায় প্রকল্প।  সভায় অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, স্থানীয় সরকার ও পল্লী উন্নয়নমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, শিক্ষা ও প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন, পানিসম্পদমন্ত্রী মো. শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি, পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী মো. জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকিসহ মন্ত্রিসভার সদস্য ও সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

মারিয়া রহমান জুন ১৬, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

আদ-দ্বীন হাসপাতালের অন্য শাখা কার্যক্রমে কোনো বাধা নেই: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

ফেসবুক লাইভ থেকে নেওয়া

দিল্লি এয়ারপোর্টে অভিজ্ঞতা নিয়ে মুখ খুললেন ডা. জাহেদ

ছবি: সংগৃহীত

উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের শীর্ষ পদে রাজনৈতিক নিয়োগ নিয়ে তীব্র সমালোচনা

0 Comments