লিভারপুলের ফরাসি ডিফেন্ডার ইব্রাহিমা কোনাতে আগামী মৌসুমে রিয়াল মাদ্রিদে যোগ দিতে পারেন বলে জোর গুঞ্জন চলছে। বিভিন্ন সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, স্প্যানিশ জায়ান্টদের সঙ্গে তার আলোচনা চলছে এবং চুক্তি হওয়ার সম্ভাবনাও বেশ জোরালো। তবে রিয়াল মাদ্রিদের চলমান প্রেসিডেন্ট নির্বাচন শেষ হওয়ার পরই এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হতে পারে।
কোনাতে ইতোমধ্যে নিশ্চিত করেছেন যে, বর্তমান চুক্তির মেয়াদ শেষ হলে তিনি লিভারপুল ছাড়বেন। নতুন চুক্তি নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে সমঝোতা না হওয়ায় অ্যানফিল্ডে তার অধ্যায়ের ইতি ঘটছে।
২০২১ সালে জার্মান ক্লাব আরবি লাইপজিগ থেকে লিভারপুলে যোগ দিয়েছিলেন এই ফরাসি তারকা। এরপর পাঁচ মৌসুমে তিনি ১৮৩ ম্যাচ খেলেছেন। ক্লাবের হয়ে একটি প্রিমিয়ার লিগ, একটি এফএ কাপ এবং দুটি লিগ কাপ জয়ের স্বাদও পেয়েছেন।
কোনাতের বিদায় লিভারপুলের জন্য বড় ধাক্কা হতে পারে। দলের রক্ষণভাগে এখন অভিজ্ঞ খেলোয়াড়ের ঘাটতি দেখা দিতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। নতুন মৌসুমের আগে আরও কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পজিশনে খেলোয়াড় আনার প্রয়োজনও রয়েছে।
বিশেষ করে আক্রমণভাগে গতি বাড়ানো, মিডফিল্ডে শক্তি যোগ করা এবং রক্ষণভাগে অভিজ্ঞতা বাড়ানো এখন লিভারপুলের প্রধান লক্ষ্য।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না। একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন। গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে। জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে। সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে। কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে। প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে। আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’ সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না। এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।
নেপাল প্রিমিয়ার লিগে (এনপিএল) পাকিস্তানি ক্রিকেটারদের অংশগ্রহণ নিয়ে তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা। পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের (পিসিবি) অনাপত্তিপত্র বা এনওসি নিয়ে জটিলতায় পড়েছেন টুর্নামেন্ট খেলার অপেক্ষায় থাকা দেশটির ক্রিকেটাররা। এমনকি আগে যাদের এনওসি দেওয়া হয়েছিল, তাদেরও আপাতত লিগে খেলার অনুমতি স্থগিত রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে ক্রিকইনফো। এনপিএলের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একাধিক ব্যক্তির বরাতে ক্রিকইনফো জানিয়েছে, পাকিস্তানি ক্রিকেটারদের এনওসি দেওয়ার বিনিময়ে পিসিবি অর্থ দাবি করেছে বলে আলোচনা রয়েছে। প্রতিটি ক্রিকেটারের জন্য এই ফি প্রায় ২৫ হাজার মার্কিন ডলার হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে লিগ কর্তৃপক্ষের কাছে এ ধরনের দাবি লিখিতভাবে জানানো হয়েছে কি না, তা নিশ্চিত করতে পারেনি সংবাদমাধ্যমটি। আট দলের এনপিএল শুরু হচ্ছে ২৬ অক্টোবর, চলবে ২১ নভেম্বর পর্যন্ত। টুর্নামেন্টের ম্যাচগুলো হবে নেপালের কাঠমান্ডুতে। পাকিস্তানের কয়েকজন ক্রিকেটার ইতোমধ্যে সেখানে পৌঁছেছেন। অন্যদিকে, যারা নেপালের উদ্দেশে রওনা হওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন, তারা পরিস্থিতির সমাধান না হওয়া পর্যন্ত যাত্রা পিছিয়ে দিয়েছেন বলে জানা গেছে। এনওসি নিয়ে জটিলতার পেছনে সম্ভাব্য ফি-ই মূল কারণ কি না, কিংবা সত্যিই এমন ফি দাবি করা হয়েছে কি না, তা এখনো পরিষ্কার নয়। এ বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে সাড়া দেয়নি পিসিবি। এনপিএলে খেলার কথা রয়েছে পাকিস্তানের টি-টোয়েন্টি অধিনায়ক সাহেবজাদা ফারহান, হায়দার আলী, হুনাইন শাহ, হুসাইন তালাত, ইফতিখার আহমেদ, হাসান আলী ও উসামা মীরের। চলতি বছরই কেন্দ্রীয় চুক্তির নতুন কাঠামো ঘোষণা করেছিল পিসিবি। সেখানে সাদা বল ও লাল বলের ক্রিকেটের জন্য আলাদা ব্যবস্থা রাখা হয়। কাঠামোটিতে ‘ফরম্যাট ট্র্যাক ডি’ নামে একটি বিভাগও ছিল, যেখানে থাকা ক্রিকেটারদের টি-টোয়েন্টি বিশেষজ্ঞ হিসেবে বিবেচনা করার কথা। নীতিগতভাবে এই বিভাগের ক্রিকেটারদের যত খুশি টি-টোয়েন্টি ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগে খেলার সুযোগ দেওয়ার কথা। কিন্তু শর্ত হলো, এক্ষেত্রে সূচি পিসিবির নির্ধারিত আন্তর্জাতিক ম্যাচের সঙ্গে সাংঘর্ষিক হতে পারবে না। তবে নতুন কাঠামোয় কোন ক্রিকেটার কোন বিভাগে পড়ছেন, তা পিসিবি প্রকাশ্যে জানায়নি। এমনকি কাঠামোটি কার্যকর হয়েছে কি না, সেটিও স্পষ্ট নয়। এনপিএলে খেলতে যাওয়া ক্রিকেটারদের কেউই বর্তমানে পাকিস্তানের টেস্ট বা ওয়ানডে পরিকল্পনায় নেই। তারপরও তাদের নেপাল লিগে অংশগ্রহণ নিয়ে অনিশ্চয়তা কাটেনি।
ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ২৪২ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে একসময় ১৫৪ রানেই ৯ উইকেট হারিয়েছিল পাকিস্তান। সেখান থেকে শাদাব খান ও হারিস রউফের অবিশ্বাস্য ব্যাটিংয়ে ১ উইকেটের নাটকীয় জয় পেয়েছে স্বাগতিকরা। রবিবার লাহোরে ত্রিদেশীয় সিরিজের ম্যাচে শেষ উইকেটে ৮৯ রানের জুটি গড়েন শাদাব ও রউফ। ওয়ানডে ইতিহাসে সফল রান তাড়ায় দশম উইকেটে এটিই সর্বোচ্চ রানের জুটি। পাকিস্তানের জয়ের নায়ক শাদাব ৯৬ বলে ১১৩ রান করে অপরাজিত থাকেন। তার ইনিংসে ছিল ১৩টি চার ও পাঁচটি ছক্কা। ওয়ানডেতে এটি শাদাবের প্রথম সেঞ্চুরি। পাশাপাশি আট নম্বরে ব্যাটিংয়ে নেমে ওয়ানডেতে সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত ইনিংসের রেকর্ড গড়েন তিনি। জয়ের জন্য ২১ রান প্রয়োজন থাকা অবস্থায় এলবিডব্লিউর ফাঁদে পড়ে আউট হয়েছিলেন শাদাব। তবে রিভিউ নিয়ে বেঁচে যান তিনি। পরে সেঞ্চুরি পূর্ণ করে দলকে জয়ের কাছাকাছি নিয়ে যান এই অলরাউন্ডার। অন্য প্রান্তে হারিস রউফ ৭ রানে অপরাজিত থেকে দলের জয় নিশ্চিত করেন। এর আগে ব্যাট করতে নেমে শুরুতেই বিপর্যয়ে পড়ে ইংল্যান্ড। ১৯ রানে ৩ উইকেট হারানোর পর বেন ডাকেট ও স্যাম কারানের ব্যাটে ঘুরে দাঁড়ায় দলটি। ডাকেট ১০৫ বলে ১০৫ রান করেন। কারানের ব্যাট থেকে আসে ৪২ রান। শেষ দিকে গাস অ্যাটকিনসনের অপরাজিত ৩৬ রানে ৪৬.৪ ওভারে ২৪১ রানে অলআউট হয় ইংল্যান্ড। পাকিস্তানের হয়ে শাহিন শাহ আফ্রিদি ৪টি এবং রাজাউল্লাহ ২টি উইকেট নেন। ২৪২ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুতেই ধাক্কা খায় পাকিস্তান। ৩১ রানে প্রথম তিন ব্যাটারকে হারানোর পর নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারাতে থাকে তারা। একপর্যায়ে ১৫৪ রানে ৯ উইকেট হারিয়ে পরাজয়ের শঙ্কায় পড়ে দলটি। তবে শাদাবের অসাধারণ ব্যাটিং ও রউফের কার্যকর সঙ্গ পাকিস্তানকে অবিশ্বাস্য জয় এনে দেয়। ৪৭.১ ওভারে ৯ উইকেট হারিয়ে ২৪৩ রান তুলে জয় নিশ্চিত করে পাকিস্তান। ম্যাচসেরার পুরস্কার জেতেন শাদাব খান। ত্রিদেশীয় সিরিজে পাকিস্তানের পরবর্তী ম্যাচ মঙ্গলবার শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে। বৃহস্পতিবার ইংল্যান্ডের মুখোমুখি হবে শ্রীলঙ্কা।
লা লিগায় দারুণ ছন্দে এগিয়ে চলা বার্সেলোনার সঙ্গে রেয়াল মাদ্রিদের তুলনা করা ঠিক নয় বলে মনে করেন জুজে মরিনিয়ো। মাদ্রিদের দলটির কোচের মতে, তারা পূর্ণাঙ্গ দল হয়ে ওঠা থেকে এখনও অনেক দূরে আছেন। টানা দুই মৌসুমে বড় কোনো শিরোপা জিততে পারেনি রেয়াল। বার্সেলোনা সেখানে গত দুই মৌসুমে জিতেছে লা লিগার শিরোপা। হান্সি ফ্লিকের কোচিংয়ে এই সময়ে একবার কোপা দেল রে ও দুইবার স্প্যানিশ সুপার কাপও জিতেছে কাতালান ক্লাবটি। সাফল্যের পথে ফিরতে এই মৌসুমে মরিনিয়োকে সান্তিয়াগো বের্নাবেউয়ে ফেরায় রেয়াল। তবে লিগে নয় রাউন্ড শেষে বার্সেলোনার চেয়ে ৬ পয়েন্টে পিছিয়ে আছে মরিনিয়োর দল। কাম্প নউয়ে রোববার বার্সেলোনার মুখোমুখি হবে রেয়াল। আগের দিন সংবাদ সম্মেলনে মরিনিয়োকে প্রশ্ন করা হয় যে, বার্সেলোনাকে প্রয়োজনের তুলনায় বেশি প্রশংসা করা হয় এবং রেয়ালকে অতিরিক্ত সমালোচনা করা হয় বলে তিনি মনে করেন কি না। তখন দলের পার্থক্যের কথা তুলে ধরেন পর্তুগিজ কোচ। “এক সপ্তাহ আগে যারা ভেবেছিল যে, আমরা বড় ব্যবধানে হেরে যাব, তারা এখনও হয়তো সেটাই মনে করছে। বার্সেলোনাকে নিয়ে মানুষ ভালো কথা বলছে-এতে আমার কিছু যায় আসে না; এর সঙ্গে আমার কোনো সম্পর্ক নেই। সত্যি বলতে, মাঝে মাঝে তারা প্রশংসার যোগ্য, কারণ তারা সত্যিই ভালো কিছু করে। আমাদের ক্ষেত্রে বিষয়টি হলো-আমাদেরকে একটি পুরোপুরি প্রস্তুত দল হিসেবে দেখা হচ্ছে, যা ফুটবলের ক্ষেত্রে খুবই কঠিন একটি বিষয়; অথচ আমরা আসলে সেই প্রক্রিয়ার খুব একটা দূর পর্যন্ত পৌঁছাইনি। “আমরা মাত্র তিন মাস ধরে কাজ করছি। এর মধ্যে ছিল প্রাক-মৌসুম প্রস্তুতি, যেখানে খেলোয়াড়রা সপ্তাহে দু-একবার করে আসত, তারপর ছিল বিরতি...পূর্ণাঙ্গ দল হয়ে ওঠা থেকে আমরা এখনও অনেক দূরে; আমরা কেবল শুরুর পর্যায়ে আছি। এখন কোচ দলটিকে বোঝার চেষ্টা করছে, বিশ্লেষণ করছে এবং আমাদের এগিয়ে যাওয়ার পথ নির্ধারণ করছে; খেলোয়াড়রাও কোচকে জানার চেষ্টা করছে... এমন একটি দলকে অন্য আরেকটি দলের সঙ্গে তুলনা করা, যারা অনেক বছর ধরে একসঙ্গে খেলছে-আমার কাছে এটি মোটেও ন্যায্য বলে মনে হয় না। লিগে ৯ ম্যাচে শতভাগ জয়ে ২৭ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে আছে বার্সেলোনা। ২১ পয়েন্ট নিয়ে তিন নম্বরে রেয়াল। চ্যাম্পিয়ন্স লিগে প্রথম দুই ম্যাচে জয়ের পর, সবশেষটিতে পিএসজির কাছে হেরেছে বার্সেলোনা। তবে এতে দলটির আত্মবিশ্বাসে ঘা লাগেনি বলেই মনে করেন মরিনিয়ো। “আমার মনে হয় না, একটি ম্যাচে হারলে কারো মানসিক অবস্থা বা আত্মবিশ্বাসে কোনো পরিবর্তন আসবে। লাইপজিগের কাছে আমরা ৪-১ ব্যবধানে হারলেও আমার ক্ষেত্রেও এমনটা হতো না।