বিশ্ব

কিউবায় তেল শোধনাগারে দুর্ঘটনা, ভয়াবহ জ্বালানি সংকট

মারিয়া রহমান ফেব্রুয়ারি ১৪, ২০২৬

 

কিউবায় তেল শোধনাগারে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড ঘটেছে। এতে বহুদূর থেকে আকাশে বিরাট ধোয়ার কুণ্ডলী দেখা গেছে। এ ঘটনায় জ্বালানি সংকটের আশঙ্কা করা হচ্ছে।

শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) বিবিসির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রাজধানী হাভানায় অবস্থিত নিকো লোপেজ রিফাইনারিতে আগুন লাগে। তবে দ্রুত আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়েছে বলে দেশটির জ্বালানি মন্ত্রণালয় জানিয়েছে। এ ঘটনায় কেউ হতাহত হয়নি এবং ইতোমধ্যে ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে। হাভানা উপসাগরের কাছে এ ঘটনা ঘটেছে। এ সময় সেখানে দুটি তেলবাহী জাহাজ নোঙর করা ছিল।

বিবিসি জানিয়েছে, কিউবার জ্বালানি সংকট আরও প্রকট হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার কারণে। দীর্ঘদিনের মিত্র দেশ ভেনেজুয়েলা থেকে তেল সরবরাহ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় পরিস্থিতি জটিল হয়েছে। আগে ভেনেজুয়েলা প্রতিদিন প্রায় ৩৫ হাজার ব্যারেল তেল কিউবায় পাঠাত। তবে গত ৩ জানুয়ারি ভেনেজুয়েলার রাজধানী কারাকাসে অভিযানে দেশটির সাবেক প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে আটক করার পর পরিস্থিতির পরিবর্তন ঘটে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্র ভেনেজুয়েলার কয়েকটি তেলবাহী জাহাজও জব্দ করে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কিউবার নেতাদের ‘সমঝোতায়’ আসার আহ্বান জানিয়ে অন্যথায় কঠোর পরিণতির হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। একই সঙ্গে কিউবাকে তেল বিক্রি করে এমন দেশগুলোর ওপর নতুন শুল্ক আরোপের ঘোষণাও দিয়েছে ওয়াশিংটন।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জ্বালানি সংকটের কারণে দেশটিতে বিদ্যুৎ বিভ্রাট তীব্র আকার ধারণ করেছে। হাসপাতালের জরুরি বিভাগ, ডায়ালাইসিস সেবা এবং পানি পাম্পিং স্টেশনগুলোও বিদ্যুৎ সংকটে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এছাড়া বিমান জ্বালানির অভাবে কয়েকটি এয়ারলাইন কিউবায় ফ্লাইট স্থগিত করেছে।

মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর সম্প্রতি অপ্রয়োজনীয় ভ্রমণ থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দিয়েছে। তারা জানিয়েছে, জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় কর্তৃপক্ষ রেশনিং ব্যবস্থা চালু করেছে এবং স্বাস্থ্য, শিক্ষা, পরিবহন ও পর্যটন খাতে সাময়িক পরিবর্তন এনেছে।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞাকে একতরফা অর্থনৈতিক চাপের চরম রূপ হিসেবে উল্লেখ করেছেন জাতিসংঘের মানবাধিকার বিশেষজ্ঞরা। সংস্থাটির মানবাধিকারবিষয়ক প্রধান ভলকার তুর্ক কিউবার পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।

উল্লেখ্য, ১৯৫৯ সালে কমিউনিস্ট নেতা ফিদেল ক্যাস্ট্রো যুক্তরাষ্ট্র-সমর্থিত সরকারকে উৎখাত করার পর থেকেই দুই দেশের সম্পর্ক উত্তেজনাপূর্ণ। ১৯৬০ সাল থেকে কিউবার ওপর মার্কিন অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক নিষেধাজ্ঞা কার্যকর রয়েছে। যদিও সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার আমলে কূটনৈতিক সম্পর্ক উন্নয়নের কিছু উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল, পরবর্তীতে ট্রাম্প প্রশাসন সেসবের অনেকগুলোই বাতিল করে দেয়।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

শুল্কমুক্ত সুবিধায় ব্যবসায়ীদের আগ্রহে ভাটা

পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না।   একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।   এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন।   গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে।   জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে।   সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে।   কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে।   প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে।   আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’   সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না।   এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। ছবি: সংগৃহীত
গাজা যুদ্ধ নিয়ে জাতিসংঘে তোপের মুখে ইসরায়েল

নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের বার্ষিক অধিবেশনে গাজা যুদ্ধ ইস্যুতে বিশ্বনেতারা তীব্র সমালোচনায় মুখর হয়ে উঠেছেন। গাজা ও পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি সামরিক অভিযানের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছেন বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানেরা। দিন দিন বাড়তে থাকা এই সহিংসতার কারণে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে মারাত্মক কূটনৈতিক চাপের মুখে পড়েছে ইসরায়েল। অধিবেশনে অনেক নেতা গাজার পরিস্থিতিকে যুদ্ধাপরাধ, জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুতি, গণহত্যা এমনকি কনসেনট্রেশন ক্যাম্পের সঙ্গে তুলনা করেছেন। জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস ৭ অক্টোবরের হামাস হামলার নিন্দা জানিয়েছেন। একইসঙ্গে গাজায় ফিলিস্তিনিদের ওপর চালানো ধ্বংসযজ্ঞেরও সমালোচনা করেন তিনি। পশ্চিম তীরে বসতি সম্প্রসারণ ও সহিংসতা জাতিগত নির্মূলের ঝুঁকি তৈরি করছে বলে সতর্ক করেছেন গুতেরেস।   তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোগান গাজাকে ‘শিশুদের জন্য বিশ্বের সবচেয়ে বড় কবরস্থান’ এবং ‘কনসেনট্রেশন ক্যাম্প’ বলে আখ্যা দিয়েছেন। কাতার ও জর্ডানের নেতারা একে গণহত্যা এবং ফিলিস্তিনিদের অস্তিত্ব মুছে ফেলার ষড়যন্ত্র হিসেবে উল্লেখ করেন। কাতারের আমির অবিলম্বে ইসরাইলি সামরিক অভিযান বন্ধ ও গাজা থেকে সেনা প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছেন।  শুধু আরব বা মুসলিম দেশগুলোই নয়, পশ্চিমা মিত্ররাও ইসরায়েলের নীতির সমালোচনায় সোচ্চার হয়েছেন। ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ গাজায় মানবিক করিডোর না খোলার বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি নীতি নিরাপত্তা বাড়ানোর বদলে উল্টো হুমকি বাড়াচ্ছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রীও ৭ অক্টোবরের হামলার নিন্দা জানিয়ে বলেন, এ হামলা গাজা ও পশ্চিম তীরে ইসরায়েলের চলমান কর্মকাণ্ডকে কোনোভাবেই বৈধতা দেয় না। ব্রাজিল, সিরিয়াসহ আরও কয়েকটি দেশের নেতারাও কঠোর ভাষায় ইসরায়েলি সরকারের সমালোচনা করেছেন।   বক্তৃতার মঞ্চের বাইরেও এই ক্ষোভ বাস্তবে রূপ নিতে শুরু করেছে। কাতার, মিশর ও জর্ডানসহ আরব ও মুসলিম বিশ্বের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা গাজার মানবিক সংকট নিয়ে জরুরি বৈঠকে বসেছেন। এর পাশাপাশি ব্রিটেন, ফ্রান্স ও কানাডাসহ ১২টি পশ্চিমা দেশ ইসরায়েলি বসতি এলাকা থেকে আসা পণ্যের ওপর বাণিজ্য নিষেধাজ্ঞা আরোপের পদক্ষেপ নিয়েছে।

মারিয়া রহমান সেপ্টেম্বর ২৩, ২০২৬

ঘুষের অভিযোগে অস্ট্রেলিয়ায় বাংলাদেশি গ্রেপ্তার

ছবি: সংগৃহীত

জাতিসংঘে দাঁড়িয়ে ইরানকে ধ্বংস করার হুমকি ট্রাম্পের

ইস্টার বোমা হামলায় ১৫ জনকে ২০০ বছরের বেশি কারাদণ্ড দিলো শ্রীলঙ্কা

জার্মানিতে মার্কিন এফ-১৬ যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত

জার্মানিতে একটি মার্কিন এফ-১৬ যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হয়েছে। মঙ্গলবার দেশটির পশ্চিমাঞ্চলে একটি মার্কিন বিমানঘাঁটির কাছে এ দুর্ঘটনা ঘটে।   মার্কিন বিমানঘাঁটি স্প্যাংডালেম জানিয়েছে, বিমানটির পাইলট নিরাপদে বেরিয়ে আসতে সক্ষম হয়েছেন। তাকে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।   ঘটনার পর জরুরি সেবা বিভাগের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছেছেন। দুর্ঘটনার কারণ খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছে বিমানঘাঁটি কর্তৃপক্ষ।   মার্কিন সামরিক বাহিনীর ৫২তম ফাইটার উইংয়ের অধীনে থাকা বিমানটি স্থানীয় সময় দুপুর সাড়ে ২টার দিকে বিধ্বস্ত হয়। দুর্ঘটনার পর ঘটনাস্থলের কাছে ধোঁয়া দেখা যায়।   এদিকে এর কয়েক দিন আগে যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস ন্যাশনাল গার্ডের একটি এফ-১৬ যুদ্ধবিমান মিশিগানে বিধ্বস্ত হয়েছিল।   সূত্র: এবিসি নিউজ

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি সেপ্টেম্বর ২৩, ২০২৬

হরমুজ প্রণালির গুরুত্ব শুরুতে সম্ভবত ঠিকভাবে বোঝা হয়নি: মাখোঁ

ট্রাম্প-শি বৈঠকের আগে যুক্তরাষ্ট্রকে ‘রেড লাইন’ মনে করিয়ে দিল চীন

গাজায় কোনো মানবিক করিডর এখনো চালু হয়নি, আক্ষেপ মাখোঁর

হরমুজ প্রণালি। রয়টার্স ফাইল ছবি
সামরিক চাপ কমালে হরমুজ প্রণালি খুলে দেবে ইরান

যুক্তরাষ্ট্র সামরিক চাপ কমিয়ে ইরানের বন্দরগুলোর ওপর আরোপিত অবরোধ তুলে নিলে সাত দিনের মধ্যে হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার প্রস্তুতি রয়েছে বলে জানিয়েছে ইরান।     মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) বার্তাসংস্থা রয়টার্সকে এ তথ্য জানিয়েছেন ইরানের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা। তবে তিনি নিজের পরিচয় প্রকাশ করতে রাজি হননি।       এর আগে রোববার ইরানের সামরিক কেন্দ্রীয় কমান্ড জানায়, আঞ্চলিক দেশগুলোর সহযোগিতায় পুনরায় সামরিক অভিযান শুরুর প্রস্তুতি নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র—এমন তথ্য পেয়েছেন তারা। ওয়াশিংটন এ ধরনের পদক্ষেপ নিলে কোনো বিবেচনা ছাড়াই পাল্টা জবাব দেওয়া হবে।     ইরানের ওই কর্মকর্তা রয়টার্সকে বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রকে প্রথমে আনুষ্ঠানিকভাবে জানাতে হবে যে তারা কূটনৈতিকভাবে সংকটের সমাধান করতে চায়। এরপর আলোচনার প্রক্রিয়া কীভাবে এগোবে, সে বিষয়ে দুইপক্ষের সম্মতির ভিত্তিতে একটি সময়সূচি নির্ধারণ করা হবে।     তিনি আরও বলেন, ‘জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে অংশ নিতে ইরানের প্রতিনিধিদল বর্তমানে নিউইয়র্কে রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কূটনীতি আবারো শুরু করার বিষয়ে তাদের এখতিয়ার দেওয়া হয়েছে।     আজ সকালে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান নিউইয়র্কের উদ্দেশে তেহরান ছাড়েন। তবে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে তিনি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠক করবেন না বলে জানিয়েছেন ওই কর্মকর্তা।     তিনি বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সংঘাত বন্ধে সম্ভাব্য একটি চুক্তি নিয়ে মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে আলোচনা শুরু করা যেতে পারে। এ বিষয়ে গত ১৬ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের কাছে প্রস্তাবও পাঠিয়েছে ইরান।’     ইরানের ওই কর্মকর্তার মতে, যুক্তরাষ্ট্রের এখন কূটনীতিতে ফিরে আসার একটি সুযোগ রয়েছে। ওয়াশিংটন বাস্তব ও দৃশ্যমান পদক্ষেপ নিলে কূটনৈতিক আলোচনা শুরু করতে আগ্রহী তেহরান।

মারিয়া রহমান সেপ্টেম্বর ২২, ২০২৬
সংগৃহীত ছবি

রাশিয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা বজায় রাখার আহ্বান ইইউর পররাষ্ট্রপ্রধানের

পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ। ফাইল ছবি

পেট্রোলিয়াম লেভি প্রত্যাহার: জামায়াতকে লংমার্চ স্থগিতের অনুরোধ শাহবাজের

রয়টার্স ছবি

সৌদি আরবের সঙ্গে প্রতিরক্ষা চুক্তির প্রতিশ্রুতি রক্ষা করবে যুক্তরাষ্ট্র

0 Comments