জাতীয়

খালেদা জিয়ার সফরসঙ্গী হচ্ছেন যে ১৪ জন

মোঃ ইমরান হোসেন ডিসেম্বর ০৪, ২০২৫

বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে উন্নত চিকিৎসার জন্য লন্ডনে নেওয়ার প্রস্তুতি চলছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন তার উপদেষ্টা ও সফরসঙ্গী ড. এনামুল হক চৌধুরী। বৃহস্পতিবার দুপুরে তিনি জানান, সবকিছু স্বাভাবিক থাকলে কাতার থেকে পাঠানো এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে আগামীকাল শুক্রবারের মধ্যেই খালেদা জিয়াকে লন্ডনে নেওয়া হবে। যদি তা সম্ভব না হয়, তবে শনিবার তাকে লন্ডনে স্থানান্তর করা হবে।

 

খালেদা জিয়ার চিকিৎসাসফরে মোট ১৪ জন সঙ্গী থাকবেন। তাদের মধ্যে রয়েছেন তার পুত্র আরাফাত রহমান কোকোর স্ত্রী সায়েদা শামীলা রহমান, ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন, মো. আনামুল হক চৌধুরী, ডা. ফখরুদ্দীন মোহাম্মদ সিদ্দিকী, ডা. শাহাবুদ্দীন তালুকদার, ডা. নুরুদ্দীন আহমদ, ডা. জাফর ইকবাল, ডা. মোহাম্মদ আল মামুন এবং আরও কয়েকজন ঘনিষ্ঠ সহকারী।

এভারকেয়ার হাসপাতালে খালেদা জিয়ার ব্যক্তিগত চিকিৎসক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন দুপুরে জানান, শারীরিক অবস্থা অনুকূল থাকলে আজ মধ্যরাত বা আগামীকাল সকালেই এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে লন্ডনের উদ্দেশে রওনা হবেন তিনি। যাত্রাপথে চিকিৎসা সহায়তা নিশ্চিত করতে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের একটি দল তার সঙ্গে থাকবে।

দীর্ঘদিন ধরে আর্থ্রাইটিস, ডায়াবেটিস, কিডনি জটিলতা, ফুসফুস ও চোখের সমস্যা সহ নানা রোগে ভুগছেন খালেদা জিয়া। গত বছরের ৫ আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের পর তিনি মুক্তি পান। চলতি বছরের ৭ জানুয়ারি উন্নত চিকিৎসার জন্য তিনি লন্ডনে যান এবং ১১৭ দিন থেকে ৬ মে দেশে ফেরেন।

 

এরপর নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা চলার মাঝে সর্বশেষ ২৩ নভেম্বর সন্ধ্যায় তাকে এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এরপর থেকেই তিনি সংকটাপন্ন অবস্থায় রয়েছেন বলে জানাচ্ছেন তার ব্যক্তিগত চিকিৎসকেরা ও দলের শীর্ষ নেতারা।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

শুল্কমুক্ত সুবিধায় ব্যবসায়ীদের আগ্রহে ভাটা

পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না।   একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।   এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন।   গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে।   জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে।   সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে।   কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে।   প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে।   আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’   সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না।   এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।

সংগৃহীত ছবি
এলএনজি সরবরাহ বৃদ্ধি: কাটাতে শুরু করেছে দেশের সার্বিক গ্যাস সংকট

দেড় মাসেরও বেশি সময় ধরে চলা মারাত্মক সংকটের পর অবশেষে জাতীয় গ্রিডে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) সরবরাহ বাড়ানো হয়েছে।     সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) রাত ১০টা থেকে এলএনজি সরবরাহ বাড়িয়ে দৈনিক ৯৮ কোটি ঘনফুটে উন্নীত করা হয়েছে। দেশীয় গ্যাসক্ষেত্রের উৎপাদনের সঙ্গে যুক্ত হয়ে বর্তমানে মোট দৈনিক সরবরাহ দাঁড়িয়েছে ২৬০ কোটি ঘনফুটে। আমদানিকৃত এলএনজির নতুন কার্গো নিয়মিত পৌঁছানো শুরু করায় শিল্পকারখানা, বিদ্যুৎ উৎপাদন ও সার্বিক গ্যাস সংকট কিছুটা লাঘব হবে বলে আশা করছে বাংলাদেশ তেল, গ্যাস ও খনিজ সম্পদ করপোরেশন (পেট্রোবাংলা)।       পেট্রোবাংলা সূত্র জানিয়েছে, দেশে দৈনিক গ্যাসের প্রকৃত চাহিদা প্রায় ৩৮০ কোটি ঘনফুট হলেও সাধারণত ২৬৫ থেকে ২৭০ কোটি ঘনফুট সরবরাহের মাধ্যমে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করা হয়। তবে নিয়মিত কার্গো না থাকায় গতকাল সরবরাহ নেমে এসেছিল মাত্র ২৩৭ কোটি ঘনফুটে, যার মধ্যে এলএনজি থেকে পাওয়া গিয়েছিল ৭৫ কোটি ঘনফুট। আজ দেশীয় বিভিন্ন ক্ষেত্র থেকে দৈনিক ১৬২ কোটি ঘনফুট উত্তোলনের পাশাপাশি এলএনজির সরবরাহ উল্লেখযোগ্য পরিমাণে বাড়ানো সম্ভব হয়েছে।       রূপান্তরিত প্রাকৃতিক গ্যাস কোম্পানি লিমিটেডের (আরপিজিসিএল) সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, চলতি সেপ্টেম্বর মাসে ১০টি কার্গো আনার পরিকল্পনা থাকলেও বৈশ্বিক মূল্যবৃদ্ধি ও দরপত্র জটিলতায় শেষ পর্যন্ত ৯টি কার্গো নিশ্চিত করা গেছে। এর মধ্যে দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির আওতায় গানভর যুক্তরাষ্ট্রের দুটি, স্বল্পমেয়াদি চুক্তিতে আরামকোর দুটি এবং খোলাবাজার (স্পট মার্কেট) থেকে পাঁচটি কার্গো কেনা হয়েছে। ইতোমধ্যে আরামকো ও ব্রিটিশ পেট্রোলিয়ামের পর আজ কোরীয় প্রতিষ্ঠান পস্কোর একটি কার্গো থেকে এলএনজি খালাস করা হয়েছে। এ ছাড়া গানভর, আরামকো ও টোটাল এনার্জির অবশিষ্ট কার্গোগুলো আগামী ১৬ থেকে ২৮ সেপ্টেম্বরের মধ্যে ধারাবাহিকভাবে বন্দরে পৌঁছানোর কথা রয়েছে। একই সঙ্গে আগামী অক্টোবর মাসের জন্য ইতোমধ্যে ছয়টি কার্গো নিশ্চিত করার পাশাপাশি আরও পাঁচটি কার্গো কিনতে নতুন দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে।     দেশে বিগত ৯ বছর ধরে অভ্যন্তরীণ গ্যাস উৎপাদন কমে যাওয়ায় ঘাটতি পূরণে ২০১৮ সাল থেকে এলএনজি আমদানি শুরু হয়। কক্সবাজারের মহেশখালীতে মার্কিন প্রতিষ্ঠান এক্সিলারেট এনার্জি ও দেশীয় সামিট গ্রুপের দুটি ভাসমান টার্মিনালের মাধ্যমে এই গ্যাস জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা হয়। গত ২১ জুলাই এক দুর্ঘটনার পর এক্সিলারেট এনার্জির টার্মিনালটি বন্ধ হয়ে যায়। টানা ২৫ দিনের তীব্র সংকটের পর গত ১৫ আগস্ট টার্মিনালটি পুনরায় চালু হলেও নতুন কার্গোর অভাবে এতদিন সরবরাহ বাড়ানো সম্ভব হচ্ছিল না। গত বছরের জুলাই-আগস্টে যেখানে ২১টি কার্গো এসেছিল, সেখানে চলতি বছর এসেছে মাত্র ১৫টি। সরাসরি ক্রয় পদ্ধতি ও দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির গ্যাস সময়মতো না পাওয়ায় সরকারকে বাধ্য হয়ে উচ্চমূল্যে খোলাবাজার থেকে এলএনজি সংগ্রহ করতে হচ্ছে।

মারিয়া রহমান সেপ্টেম্বর ১৫, ২০২৬

জনগণের মৌলিক ও রাজনৈতিক অধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠায় বদ্ধপরিকর সরকার: প্রধানমন্ত্রী

জ্বালানি চাহিদা মেটাতে আরও ৬ কার্গো এলএনজি কিনবে সরকার

রুহুল কবির রিজভীর সঙ্গে ব্রিটিশ হাইকমিশনারের সৌজন্য সাক্ষাৎ

বাংলাদেশ-চীন-মিয়ানমার অর্থনৈতিক করিডোরে সহযোগিতা নিয়ে ঢাকা-বেইজিং আলোচনা

  অবকাঠামো, জ্বালানি, মানবসম্পদ উন্নয়ন ও অর্থনৈতিক সহযোগিতাসহ দ্বিপক্ষীয় বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতার পাশাপাশি বাংলাদেশ-চীন-মিয়ানমার অর্থনৈতিক করিডোর নিয়ে সহযোগিতার বিষয়ে আলোচনা করেছে বাংলাদেশ ও চীন।   পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন আজ ​সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) এখানে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শ্যামা ওবায়েদ ইসলামের সঙ্গে তার কার্যালয়ে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে এসব বিষয়ে আলোচনা করেন।   সাক্ষাৎকালে উভয় পক্ষ পারস্পরিক স্বার্থ ও সহযোগিতার বিভিন্ন বিষয় নিয়ে মতবিনিময় করেন। এর মধ্যে বাংলাদেশ-চীন-মিয়ানমার অর্থনৈতিক করিডোর, চীনা অর্থনৈতিক অঞ্চল এবং মোংলা বন্দরের উন্নয়ন বিশেষ গুরুত্ব পায়।   তারা রংপুরে প্রস্তাবিত ১ হাজার শয্যার হাসপাতাল, শিক্ষা ও মানবসম্পদ উন্নয়ন, জনগণের মধ্যে যোগাযোগ, নবায়নযোগ্য জ্বালানিসহ জ্বালানি সহযোগিতা এবং নারীর ক্ষমতায়ন নিয়েও আলোচনা করেন।   শামা ওবায়েদ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সফল চীন সফরের কথা স্মরণ করে বাংলাদেশের উন্নয়নে বিশেষ করে অবকাঠামো, মানব উন্নয়ন ও সক্ষমতা বৃদ্ধিতে বেইজিংয়ের অব্যাহত সহযোগিতার প্রশংসা করেন।   রাষ্ট্রদূত ইয়াও বাংলাদেশকে বিশ্বস্ত অংশীদার ও বন্ধু হিসেবে চীনের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন এবং সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতির কথা তুলে ধরেন।   সাক্ষাৎকালে চীনা দূত বাংলাদেশি নারী উদ্যোক্তাদের একটি প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দিয়ে সুবিধাজনক সময়ে চীন সফরের জন্য পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীকে আমন্ত্রণ জানান।   শামা ওবায়েদ আমন্ত্রণটি স্বাগত জানান এবং এ উদ্যোগের জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি সেপ্টেম্বর ১৪, ২০২৬

শিক্ষা, মানবসম্পদ উন্নয়ন, বিনিয়োগ ও প্রযুক্তি খাতে যুক্তরাজ্যের সহযোগিতা জোরদারের আহ্বান রাষ্ট্রপতির

ছবি: সংগৃহীত

প্রথম ধাপের স্থানীয় সরকার নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা

ছবি: সংগৃহীত

পরিবেশের ছাড়পত্র নেই, মানিকগঞ্জে দুই কারখানা সিলগালা

ছবি: সংগৃহীত
বহিরাগতদের প্রবেশ বেড়ে যাওয়ায় রাজস্ব ভবনে পরিচয়পত্র বাধ্যতামূলক

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের-এনবিআরের প্রধান কার্যালয় রাজস্ব ভবনে বহিরাগতদের প্রবেশ ‘অনেক বেড়ে যাওয়ায় নিরাপত্তা শঙ্কা’ দেখা দিয়েছে দাবি করে প্রবেশ নিয়ন্ত্রণে পদক্ষেপ নিয়েছে কর আদায়ের এ সংস্থাটি।   সোমবার এক নোটিসে এনবিআর বলেছে, রাজস্ব ভবনে বহিরাগতদের প্রবেশ নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্যে এনবিআর ও ভবনের অন্যান্য দপ্তরে কর্মরত সকল কর্মকর্তা ও কর্মচারীকে ১৫ সেপ্টেম্বর (মঙ্গলবার) হতে দাপ্তরিক পরিচয়পত্র ব্যবহার করে রাজস্ব ভবনে প্রবেশের জন্য নির্দেশক্রমে অনুরোধ করা হল।   রাজধানীর আগারগাঁওয়ে এনবিআরের প্রধান কার্যালয়ে সংস্থার বিভিন্ন বিভাগের দপ্তর রয়েছে। এরমধ্যে কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সেল-সিআইসি, আয়কর গোয়েন্দা ও তদন্ত ইউনিট, আয়কর ও মূল্য সংযোজন কর বা ভ্যাটের বৃহৎ করদাতা ইউনিট এবং আপিল বিভাগ অন্যতম।   ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে প্রায় দুই দশক পর বিএনপির নতুন সরকার ক্ষমতায় আসার পর প্রশাসনের অদলবদলের মধ্যে এনবিআরের চেয়ারম্যানের পদে পরিবর্তন আসে।   কর ক্যাডারের কর্মকর্তা আহসান হাবিবকে এনবিআর সামলানোর দায়িত্ব দেওয়া হয়।   এরপর থেকে বিভিন্ন ব্যক্তি রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে এনবিআর ভবনে আসতে শুরু করেন। তাকে ফুলেল শুভেচ্ছা দিতে ভিড় করলে তিনি সেসব ফিরিয়ে দেন।   ওইসময়ে আহসান হাবিবকে শুভেচ্ছা জানাতে বিভিন্ন ব্যাচভিত্তিক এনবিআর কর্মকর্তারা একযোগে আসা শুরু করলে সেটিও বন্ধ করা হয়। অফিসের সময়ে বিনা অনুমতিতে কারও কর্মস্থল ত্যাগ না করার নোটিস দেয় এনবিআর।   তবে রাজনৈতিক পরিচয়ে আসা লোকদের কমানো যাচ্ছিল না; এমনকি পোশাক দেখে নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা কর্মীরাও তাদের আলাদা করতে পারছিলেন না।   এর প্রেক্ষিতে এনবিআর ও এই ভবনে থাকা দপ্তরগুলোর কর্মীদের আলাদা করার জন্য তাদের পরিচয়পত্র ব্যবহারে সোমবার এ নোটিস দেওয়া হল।

মো: দেলোয়ার হোসাইন সেপ্টেম্বর ১৪, ২০২৬
রোসাটম মহাপরিচালকের সঙ্গে আইসিটি মন্ত্রীর বৈঠক। ছবি: সংগৃহীত

রোসাটম মহাপরিচালকের সঙ্গে রূপপুর বিদ্যুৎকেন্দ্র নিয়ে আইসিটি মন্ত্রীর আলোচনা

শিল্পে গ্যাসের সরবরাহ দেড় মাস আগের অবস্থায় ফিরবে কাল থেকে: প্রধানমন্ত্রী

ছবি: সংগৃহীত

ড্রোনের মাধ্যমে পার্শ্ববর্তী দেশ থেকে মাদক ঢুকছে: আইনমন্ত্রী

0 Comments