খেলাধুলা

কেপ ভার্দের বিপক্ষে কঠিন লড়াইয়ের পর আত্মসমালোচনায় মেসি, ‘আমরা ঠিকভাবে চাপ তৈরি করতে পারিনি’

আক্তারুজ্জামান জুলাই ০৪, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

কেপ ভার্দের বিপক্ষে প্রত্যাশার চেয়ে অনেক বেশি কঠিন পরীক্ষা দিতে হয়েছে আর্জেন্টিনাকে। শেষ পর্যন্ত ৩-২ গোলের জয় নিয়ে শেষ ষোলো নিশ্চিত করলেও দলের পারফরম্যান্স নিয়ে সন্তুষ্ট নন অধিনায়ক লিওনেল মেসি। ম্যাচ শেষে তিনি স্বীকার করেছেন, প্রতিপক্ষের ওপর কার্যকর চাপ সৃষ্টি করতে ব্যর্থ হওয়ায় পুরো ম্যাচজুড়েই ভুগতে হয়েছে তাদের।

 

মেসি বলেন, কেপ ভার্দে এমন একটি দল, যারা শেষ বাঁশি বাজা পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে যায়। তবে এই ম্যাচে আর্জেন্টিনা সেট-পিস থেকে সুযোগ কাজে লাগাতে পেরেছে, যা সাম্প্রতিক সময়ে তারা করতে পারছিল না। তার মতে, দলের কয়েকজন খেলোয়াড় আকাশে ভেসে আসা বলে দারুণ দক্ষ এবং সেই শক্তিকেই কাজে লাগিয়ে গুরুত্বপূর্ণ গোল আদায় করা সম্ভব হয়েছে।

 

তিনি জানান, আক্রমণ ও রক্ষণ—উভয় ক্ষেত্রেই সেট-পিস নিয়ে দল নিয়মিত অনুশীলন করেছে এবং বড় টুর্নামেন্টে এটি ম্যাচের পার্থক্য গড়ে দিতে পারে।

 

নিজেদের ভুলের কথাও অকপটে তুলে ধরেন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক। তিনি বলেন, প্রতিপক্ষের ওপর সমন্বিত প্রেসিং গড়ে তুলতে পারেনি আর্জেন্টিনা। মাঝমাঠ ও রক্ষণভাগের মধ্যে দূরত্ব বেড়ে যাওয়ায় কেপ ভার্দের খেলোয়াড়রা সহজেই জায়গা বের করে নিতে পেরেছে।

 

মেসির ভাষায়, দলটি অনেক সময় অগোছালো ছিল এবং প্রতিপক্ষ প্রায়ই সংখ্যাগত সুবিধা পেয়েছে। এমনকি বলের দখলে না থাকলেও কেপ ভার্দে আর্জেন্টিনাকে সারাক্ষণ দৌড়ের ওপর রেখেছিল, কারণ কার্যকরভাবে চাপ সৃষ্টি করা সম্ভব হয়নি।

 

ম্যাচের আগে থেকেই প্রতিপক্ষকে কঠিন চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখেছিলেন মেসি। তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, কেপ ভার্দে এর আগে শক্তিশালী স্পেন ও উরুগুয়ের বিপক্ষেও হারেনি। তাই ম্যাচটি সহজ হবে না, সেটি তারা আগেই জানতেন।

 

তিনি বলেন, প্রথম গোল করার পর আর্জেন্টিনা ভেবেছিল ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ তাদের হাতে চলে আসবে। কিন্তু বাস্তবে উল্টো হয়েছে। দল বলের দখল হারিয়েছে, রক্ষণাত্মক হয়ে পড়েছে এবং প্রতিপক্ষকে চাপে রাখার পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে পারেনি।

 

তবু ইতিবাচক দিকও দেখছেন বিশ্বকাপজয়ী এই অধিনায়ক। তার মতে, বর্তমান বিশ্বকাপে দলগুলোর শক্তির পার্থক্য খুবই কম। ফলে প্রতিটি ম্যাচই কঠিন এবং কোনো প্রতিপক্ষকে হালকাভাবে নেওয়ার সুযোগ নেই। তিনি বলেন, দল সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছে এবং এখন প্রয়োজন বিশ্রাম নিয়ে পরবর্তী ম্যাচের প্রস্তুতি নেওয়া। একই সঙ্গে এদিনের ভুলগুলো বিশ্লেষণ করে দ্রুত শুধরে নেওয়ার ওপরও গুরুত্ব দেন মেসি।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

শুল্কমুক্ত সুবিধায় ব্যবসায়ীদের আগ্রহে ভাটা

পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না।   একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।   এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন।   গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে।   জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে।   সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে।   কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে।   প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে।   আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’   সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না।   এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।

খেলাধুলা

আরও দেখুন
ছবি: সংগৃহীত
তিন মাসের চুক্তিতে সান্তোসে কুতিনহো

তিন মাসের জন্য সান্তোসে যোগ দিয়েছেন ফিলিপে কুতিনহো। বন্ধু নেইমারের সঙ্গে খেলতে ব্রাজিলের ঐতিহ্যবাহী ক্লাবটির সঙ্গে চুক্তি সেরেছেন তিনি।    গত ফেব্রুয়ারিতে ভাস্কো দা গামা ছাড়ার পর থেকে কোনো ক্লাবে খেলেননি কুতিনহো। ঘরেই ফিটনেস ধরে রাখার চেষ্টা করছিলেন তিনি। এবার সান্তোসে স্বল্পমেয়াদি চুক্তিতে মাঠে ফেরার সুযোগ পাচ্ছেন সাবেক এই বার্সেলোনা ও লিভারপুল তারকা।   ব্রাজিলিয়ান সংবাদমাধ্যম গ্লোবো ডটকম জানিয়েছে, কার্যত এটি কুতিনহোর জন্য একটি পরীক্ষামূলক সময়। তিন মাসে নিজের শারীরিক অবস্থা, ছন্দ এবং ফুটবলের প্রতি আগ্রহ যাচাই করার সুযোগ পাবেন তিনি।   কুতিনহোর জন্য সান্তোসে যোগ দেওয়ার বিষয়টি শুধু ফুটবলে ফেরার সুযোগ নয়, ব্যক্তিগতভাবেও বিশেষ। ক্লাবটিতে তাঁর বন্ধু ও ব্রাজিলের আরেক তারকা নেইমারের সঙ্গে খেলতে পারবেন তিনি। তবে ২০২৭ সাল পর্যন্ত চুক্তি বাড়ানোর কোনো বাধ্যবাধকতা থাকছে না। ফলে আগামী তিন মাসের অভিজ্ঞতার ভিত্তিতেই তিনি নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন।   এই সময়ে সান্তোসকে দুটি প্রতিযোগিতার গুরুত্বপূর্ণ লড়াইয়ে অংশ নিতে হবে। ব্রাজিলিয়ান লিগ ব্রাসিলেইরাওয়ের শেষ রাউন্ড অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ২ ডিসেম্বর। পাশাপাশি কোপা সুদামেরিকানার ফাইনাল হবে ২১ নভেম্বর। সান্তোস ইতোমধ্যে টুর্নামেন্টটির কোয়ার্টার ফাইনালে উঠেছে। যেখানে তাদের প্রতিপক্ষ আতলেতিকো মিনেইরো।   তিন মাসের এই অধ্যায় তাই কুতিনহোর ক্যারিয়ারে হতে পারে গুরুত্বপূর্ণ এক মোড়। মাঠে নিজেকে আবার প্রমাণ করতে পারলে হয়তো নতুন করে ক্যারিয়ার পুনরুজ্জীবনের পথ খুলে যাবে তার সামনে। আর যদি আগের ছন্দে ফিরতে না পারেন, তাহলে ফুটবলকে বিদায় জানানোর সিদ্ধান্তও আসতে পারে এই সময়ের পর।

মো: দেলোয়ার হোসাইন সেপ্টেম্বর ১২, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

এস্তেহেইজেনের সেঞ্চুরিতে সিরিজ জয় দক্ষিণ আফ্রিকার

ছবি: সংগৃহীত

ক্ষমা চাইতে হবে না, গোল করুক আলভারেস

সংগৃহীত ছবি

মেসি-রোনালদোকে ঘিরে লা লিগায় নতুন চমক, বড় ইঙ্গিত সভাপতির

সংগৃহীত ছবি
মেসির ৭ কীর্তিতে ভাগ বসানোর দৌড়ে রাফিনিয়া

বার্সেলোনার হয়ে লিওনেল মেসির গড়া বেশ কিছু রেকর্ড এতদিন ছিল প্রায় অস্পর্শনীয়। তবে নতুন মৌসুমে রাফিনিয়াকে ভিন্ন ভূমিকায় খেলানোর সিদ্ধান্ত যেন সেই হিসাব কিছুটা বদলে দিয়েছে। ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ড যেভাবে শুরু করেছেন, তাতে মেসির একাধিক রেকর্ডের দিকে তাকানোর সুযোগ তৈরি হয়েছে তার সামনে।   ২০২৬-২৭ মৌসুমে এখন পর্যন্ত মাত্র পাঁচ ম্যাচ খেলেই আট গোল করেছেন রাফিনিয়া। রবার্ট লেভানডভস্কি ও ফেরান তোরেস দল ছাড়ার পর এবং জুলিয়ান আলভারেজকে দলে ভেড়ানোর চেষ্টা সফল না হওয়ায় রাফিনিয়াকে মূল স্ট্রাইকার হিসেবে ব্যবহার করার সিদ্ধান্ত নেয় বার্সেলোনা। উইং থেকে উঠে এসে কেন্দ্রীয় ফরোয়ার্ডের দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই যেন বদলে গেছে তার পারফরম্যান্সের চিত্র।   চলুন জেনে নেওয়া যাক বার্সেলোনার সর্বকালের সেরা মেসির যেসব রেকর্ডে ভাগ বসাতে পারেন রাফিনিয়া-   লা লিগায় টানা গোলের রেকর্ড ২০১২-১৩ মৌসুমে লা লিগায় টানা ২১ ম্যাচে গোল করে ইতিহাস গড়েছিলেন মেসি। রাফিনিয়া অবশ্য এখনো সেই রেকর্ডের ধারেকাছেও নেই। তবে চলতি লিগে প্রথম চার ম্যাচেই গোল করেছেন তিনি। এই ধারাবাহিকতা দীর্ঘ করতে পারলে মেসির রেকর্ডের কাছাকাছি যাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে।   চ্যাম্পিয়ন্স লিগে ১৪ গোল ২০১১-১২ মৌসুমে চ্যাম্পিয়ন্স লিগে বার্সেলোনার হয়ে ১৪ গোল করেছিলেন মেসি। এবারের আসরে প্রথম ম্যাচেই দুই গোল করে দারুণ সূচনা করেছেন রাফিনিয়া। নতুন ফরম্যাটে নকআউট পর্বসহ বেশি ম্যাচ খেলার সুযোগ থাকায় এই রেকর্ডকে লক্ষ্য করা অসম্ভব নয়।   হোস্কোরড রেটিংয়েও নজর টানা ১২ মৌসুম হোস্কোরডের গড় রেটিংয়ে ৮.০০-এর ওপরে ছিলেন মেসি। তার সর্বোচ্চ গড় রেটিং ছিল ৮.৮৮। চলতি মৌসুমে এখন পর্যন্ত রাফিনিয়ার রেটিং ৮.৭২—অর্থাৎ শুরুতেই মেসির সেরা সময়ের খুব কাছাকাছি অবস্থান করছেন তিনি। লা লিগায় ৫০ গোলের মাইলফলক ২০১১-১২ মৌসুমে লা লিগায় মেসির ৫০ গোলের কীর্তি এখনও বিরল এক রেকর্ড। তবে রাফিনিয়ার চলতি মৌসুমের শুরুটা অন্তত আশার আলো দেখাচ্ছে। প্রথম চার ম্যাচে তার গোল ছয়টি, অর্থাৎ প্রতি ম্যাচে গড়ে দেড় গোল। এই হার পুরো ৩৮ ম্যাচের মৌসুমে ধরে রাখতে পারলে তার গোলসংখ্যা ৫৭-তে পৌঁছাতে পারে।   এক মৌসুমে আট হ্যাটট্রিক লা লিগার এক মৌসুমে আটটি হ্যাটট্রিক করার রেকর্ডও মেসির দখলে। নতুন পজিশনে খেলার কারণে ইয়ামাল, পেদ্রি ও ফেরমিনের কাছ থেকে নিয়মিত গোলের সুযোগ পাচ্ছেন রাফিনিয়া। ফলে মৌসুমজুড়ে একাধিক হ্যাটট্রিক করার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।   ৩৮ ম্যাচের ২৭টিতে গোল লা লিগার এক মৌসুমে ৩৮ ম্যাচের মধ্যে ২৭ ম্যাচেই গোল করেছিলেন মেসি। রাফিনিয়ার এবারের শুরু অবশ্য শতভাগ সফল। লিগের চার ম্যাচেই গোল করেছেন তিনি। তবে মেসির রেকর্ড স্পর্শ করতে হলে প্রায় পুরো মৌসুমজুড়েই এমন ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে হবে তাকে।   এক মৌসুমে ৭৩ গোল ২০১১-১২ মৌসুমে সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে ৭৩ গোল করেছিলেন মেসি—যা ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম অবিশ্বাস্য ব্যক্তিগত রেকর্ড। রাফিনিয়া এখন পর্যন্ত পাঁচ ম্যাচে করেছেন আট গোল। একই গতিতে ৫০ ম্যাচ খেলতে পারলে তার গোলসংখ্যা ৮০-এর কাছাকাছি যেতে পারে।   তবে মৌসুমের শুরুতেই এ ধরনের হিসাবকে চূড়ান্ত সম্ভাবনা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। দীর্ঘ মৌসুমে চোট, ফর্ম, ম্যাচের সংখ্যা এবং প্রতিপক্ষের মান—সবকিছুই একজন খেলোয়াড়ের গোলসংখ্যায় প্রভাব ফেলতে পারে। তারপরও স্ট্রাইকার হিসেবে রাফিনিয়ার এমন দুর্দান্ত সূচনা বার্সেলোনায় মেসির দীর্ঘদিনের ‘অস্পর্শনীয়’ রেকর্ডগুলো নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু করার যথেষ্ট কারণ তৈরি করেছে।

মোঃ ইমরান হোসেন সেপ্টেম্বর ১১, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

নেইমারের সান্তোসে এবার কৌতিনিয়ো, বন্ধুত্বে মিলল দুই ব্রাজিলিয়ান তারকা

ফাইল ছবি

স্কালোনিকে রাখতে চায় আর্জেন্টিনা, কিন্তু বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে ৩ কারণ

ছবি: সংগৃহীত

ড্র দিয়ে চ্যাম্পিয়নস লিগে এএস রোমার দীর্ঘ প্রতীক্ষিত প্রত্যাবর্তন

সংগৃহীত ছবি
সেমিফাইনালেই শেষ বাংলাদেশের এশিয়া কাপ স্বপ্ন

ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে আগের আসরের মতো আবারও ভারতের কাছে আটকে গেল বাংলাদেশ। নারী এশিয়া কাপের সেমিফাইনালে ১৫০ রানের লক্ষ্য তাড়া করে ২০ ওভারে ৭ উইকেটে ১০৯ রান করতে পেরেছে বাংলাদেশ। ফলে ৪০ রানের জয়ে ফাইনালের টিকিট পেয়েছে ভারত।   টস জিতে আগে ফিল্ডিংয়ের সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর শুরুটা ভালোই করেছিল বাংলাদেশ। দ্বিতীয় ওভারেই স্মৃতি মান্ধানাকে ফিরিয়ে দেন সুলতানা। তবে এরপর একাধিক ক্যাচের সুযোগ নষ্ট করে ভারতকে বড় সংগ্রহের সুযোগ করে দেয় বাংলাদেশ।   শেফালি ভর্মার ৬৪ রানের দুর্দান্ত ইনিংসে ভর করে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৬ উইকেট হারিয়ে ১৪৯ রান সংগ্রহ করে ভারত। বাংলাদেশের হয়ে সুলতানা নেন ২ উইকেট। একটি করে উইকেট পেয়েছেন মারুফা, নাহিদা ও রাবেয়া।   জবাবে ব্যাট করতে নেমে ২৬ রানের উদ্বোধনী জুটি পায় বাংলাদেশ। তবে শুরু থেকেই রান তোলার গতি ছিল ধীর। শেষ পর্যন্ত পুরো ২০ ওভার খেলেও লক্ষ্যের ধারেকাছেও যেতে পারেনি তারা।   বাংলাদেশের হয়ে সর্বোচ্চ ২২ রানে অপরাজিত থাকেন স্বর্ণা আক্তার। এছাড়া দিলারা ২১, নিগার ১৯ ও সোবহানা ১৮ রান করেন। ভারতের হয়ে দীপ্তি শর্মা ৩টি এবং নন্দিনী ২টি উইকেট নেন।   ফলে ২০ ওভারে ৭ উইকেটে ১০৯ রানেই থামে বাংলাদেশের ইনিংস। ৪০ রানের জয়ে ফাইনালে জায়গা করে নেয় ভারত।

মোঃ ইমরান হোসেন সেপ্টেম্বর ১১, ২০২৬
সংগৃহীত ছবি

কঠিন সিদ্ধান্ত নিল ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড

ছবি: সংগৃহীত

ব্যাটিংয়ের পর বোলিংয়েও ব্যর্থ পাকিস্তান, বড় লিড ইংল্যান্ডের

ছবি: সংগৃহীত

আইসিসির আগস্টের সেরা খেলোয়াড়ের দৌড়ে হাসান মাহমুদ

0 Comments