জাতীয়

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নে আইন মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন কার্যক্রম তুলে ধরলেন উপদেষ্টা

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি ফেব্রুয়ারি ১৬, ২০২৬

চব্বিশের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয় বিভিন্ন ধরনের কার্যক্রম সম্পন্ন করেছে। 

অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল তার ভেরিফাইড ফেসবুক পেইজে আজ এক পোস্ট দেন। এই পোস্টে তিনি তার দায়িত্বপালনকালে কী কী পদক্ষেপ ও কার্যক্রম করেছেন তা তুলে ধরা হয়েছে।

তিনি উল্লেখ্য করেন, ‘কি কাজ হয়েছে?’ জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয় বিভিন্ন ধরনের কার্যক্রম সম্পন্ন করেছে। 

এগুলো হলো : ১) ২২ টি আইনি সংস্কার। ২) ১৫টি প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার ও ডিজিটালাইজেশন। ৩) ২৪ হাজার ২৭৬টি হয়রানীমূলক মামলা প্রত্যাহার। ৪) গণহত্যার বিচার ব্যবস্থাপনা। ৫ ) প্রায় তিনগুণ পরিমাণে দৈনন্দিন কার্যক্রম।

১) আইনি সংস্কার
ক) আন্তর্জাতিক অপরাধ (ট্রাইব্যুনাল) অধ্যাদেশ : এই আইনটিকে আন্তর্জাতিক মানদন্ডের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করা হয়েছে। এতে গুমকে মানবতাবিরোধী অপরাধের সংজ্ঞায় অন্তর্ভুক্ত করা, সাক্ষীর সুরক্ষা, আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক নিয়োগ, অন্তবর্তীকালীন আপিল, এবং ভুক্তভোগীর ক্ষতিপূরণ ব্যবস্থা প্রবর্তিত হয়েছে।

খ) সুপ্রিম কোর্টের বিচারক নিয়োগ অধ্যাদেশ : এই অধ্যাদেশের মাধ্যমে স্বতন্ত্র জুডিশিয়াল কাউন্সিলের মাধ্যমে মেধা, সুযোগের সমতা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি নিয়োগের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।

গ) সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় অধ্যাদেশ : বিচার বিভাগের পূর্ণ স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে, যার মাধ্যমে অধস্তন আদালতের বিচারকদের নিয়ন্ত্রণ ও আর্থিক ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব বিচার বিভাগের নিজস্ব কর্তৃত্বে ন্যস্তকরণের বিধান করা হয়েছে।

ঘ) বাণিজ্যিক আদালত অধ্যাদেশ : এর মাধ্যমে বিশেষায়িত বাণিজ্যিক আদালত প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে, যেখানে দালিলিক সাক্ষ্যভিত্তিক বিচার, দ্রুত মামলা নিষ্পত্তি, মধ্যস্থতা, ভার্চুয়াল শুনানি এবং অনলাইন মামলা ব্যবস্থাপনার সুবিধা রাখা হয়েছে।

ঙ) মানবাধিকার কমিশন পুনর্গঠন : জাতীয় মানবাধিকার কমিশন অধ্যাদেশ, ২০২৫ প্রণয়নের মাধ্যমে কমিশনের তদন্ত, ক্ষতিপূরণ আদায় ও নির্দেশ বাস্তবায়নের ক্ষমতা বৃদ্ধি করা হয়েছে এবং ওপিসিএটি বাস্তবায়নের মাধ্যমে নির্যাতন প্রতিরোধে জাতীয় প্রতিরোধ ব্যবস্থা গঠন করা হয়েছে। প্রথমবারের মতো গণবিজ্ঞপ্তি ও সাক্ষাৎকারের মাধ্যমে সুযোগ্য কমিশনার নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়েছে।

চ) গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার অধ্যাদেশ : গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার অধ্যাদেশ, ২০২৫ জারি করে গুমের সংজ্ঞা নির্ধারণ, সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদন্ড নির্ধারণ, জাতীয় মানবাধিকার কমিশনকে তদন্ত ক্ষমতা প্রদান, ১২০ দিনের মধ্যে বিচার সম্পন্ন, ক্ষতিপূরণ প্রদান এবং ভুক্তভোগীর পরিবারের সম্পত্তি ব্যবহারের বিধান রাখা হয়েছে।

ছ) জুলাই গণ-অভ্যুত্থান (সুরক্ষা ও দায় নির্ধারণ) অধ্যাদেশ, ২০২৬: জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে অংশগ্রহণকারীদের সুরক্ষা প্রদান এবং একই সঙ্গে গুরুতর অপরাধের ক্ষেত্রে দায় নির্ধারণের লক্ষ্যে জুলাই গণ-অভ্যুত্থান (সুরক্ষা ও দায় নির্ধারণ) অধ্যাদেশ, ২০২৫ প্রণীত হয়েছে। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানকালে রাজনৈতিক প্রতিরোধে অংশগ্রহণের কারণে গণ-অভ্যুত্থানকারীদের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত সকল দেওয়ানি ও ফৌজদারি মামলা প্রত্যাহার এবং নতুন মামলা দায়ের নিষিদ্ধ করার বিধান রাখা হয়েছে।

জ) দেওয়ানি কার্যবিধিতে সংশোধন: এই সংশোধন করে দেওয়ানি বিচার ব্যবস্থায় যুগান্তকারী সংস্কার আনা হয়েছে। মৌখিক সাক্ষ্যগ্রহণের পরিবর্তে এফিডেভিটের মাধ্যমে সাক্ষ্যগ্রহণ, অনলাইনে সমনজারি এবং মূল মামলার অধীনেই রায় কার্যকর করার সুযোগ রাখা হয়েছে।

ঝ) ফৌজদারি আইনে সংস্কার: ফৌজদারি আইন সংশোধনের মাধ্যমে গ্রেফতার ও রিমান্ড প্রক্রিয়াকে স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক করা হয়েছে। সেই সাথে অভিযুক্তের অধিকারের নিশ্চয়তা, জেন্ডার সংবেদনশীল শব্দ পরিহার, তদন্ত প্রক্রিয়াকে জবাবদিহির আওতায় আনা, মিথ্যা মামলার হয়রানী রোধ করাসহ বিভিন্ন সংশোধনী আনা হয়েছে।

ঞ) মামলা-পূর্ব বাধ্যতামূলক মধ্যস্থতার বিধান সংযোজন: আইন সংশোধন করে নির্দিষ্ট কয়েক ধরনের মামলার ক্ষেত্রে মামলা-পূর্ব বাধ্যতামূলক মধ্যস্থতার বিধান করা হয়েছে। মধ্যস্থতা-চুক্তি আদালতের ডিক্রির সমতুল্য মর্যাদা পাচ্ছে। প্রতি জেলায় একজন বিচারকের স্থলে তিনজন বিচারককে লিগ্যাল এইড অফিসে পদায়ন করা হয়েছে। বাধ্যতামূলক মামলাপূর্ব মধ্যস্থতা প্রক্রিয়া চালু করে ২০টি জেলায় এডিআর ব্যবস্থার উন্নয়নে বিশেষ প্রকল্প গ্রহণের ফলে সেপ্টেম্বর-ডিসেম্বর ২০২৫ সময়কালে সফল নিষ্পত্তির গড় হার ৩৩৯ দশমিক ৮৬% বৃদ্ধি পেয়েছে ও যৌতুকের মামলা ৭৯ দশমিক ৭৪% হ্রাস পেয়েছে। বন্টনের মামলা, অগ্রক্রয় সহ বিভিন্ন বিরোধের একদিনেই নিষ্পত্তি হচ্ছে।

ট) নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে সংশোধন: এই সংশোধনীর মাধ্যমে তদন্ত ও বিচার শেষ করার সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে এবং তদন্ত সম্পন্নে ব্যর্থতার ক্ষেত্রে তদন্তকারী কর্মকর্তার জবাবদিহির ব্যবস্থা করা হয়েছে। সাক্ষীদের সুরক্ষা, শিশু ধর্ষণ মামলার জন্য পৃথক ট্রাইব্যুনাল গঠন এবং পুরুষ শিশু নিপীড়নকে অপরাধ হিসেবে স্বীকৃতিসহ বিভিন্ন যুগোপযোগী বিধান যুক্ত করা হয়েছে।

ঠ) গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশে সংস্কার: প্রবাসীদের জন্য ডাক ব্যালট প্রবর্তন, নির্বাচনী অপরাধ বিচারে বিচারকদের সমন্বয়ে অনুসন্ধান ও বিচার কমিটি গঠন এবং নির্বাচনকালীন আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় বিচারিক ক্ষমতা জোরদার করা হয়েছে।

ড) সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশ, ২০২৫: তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সাথে যৌথভাবে এই অধ্যাদেশ প্রণয়ন করে পূর্বের সাইবার নিরাপত্তা আইনের নিপীড়নমূলক ধারাগুলো এবং এসবের অধীনে দায়ের হওয়া মামলাগুলো বাতিল করে দেওয়া হয়েছে।

ঢ) পাওয়ার অব অ্যাটর্নি বিধিমালায় সংশোধনী: পূর্বে বিদেশ থেকে পাওয়ার অব অ্যাটর্নি সম্পাদনের জন্য বাংলাদেশি বৈধ পাসপোর্ট থাকা বাধ্যতামূলক ছিল। এখন বাংলাদেশি বৈধ পাসপোর্ট না থাকলেও, বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ব্যক্তিগণ তাদের পাসপোর্টে ‘নো ভিসা রিকোয়ার্ড’ স্টিকার থাকলে বা জন্মসনদ বা জাতীয় পরিচয় পত্র থাকলেই বিদেশ থেকে পাওয়ার অব অ্যাটর্নি সম্পাদন করতে পারছেন। এতে বিদেশে থাকা বাংলাদেশিদের সম্পত্তি হস্তান্তরসহ নানা আইনি কাজ অনেক বেশি সহজ হয়েছে।

ণ) বিবাহ নিবন্ধন বিধিমালা সংশোধন: বিবাহ নিবন্ধন বিধিমালা সংশোধন করে জেন্ডার বৈষম্যমূলক বিধান বাতিল করা হয়েছে। কাবিননামা ফরম সংশোধন করে তা সময় উপযোগী ও অধিকতর স্পষ্ট করা হয়েছে। অনলাইনে বিবাহ ও তালাক নিবন্ধন করার বিধান সংযোজন করা হয়েছে।

এছাড়াও দুর্নীতি দমন কমিশন অধ্যাদেশ, পুলিশ সংস্কার কমিশন অধ্যাদেশ, টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ আইনের সংশোধনীসহ বিভিন্ন আইনে অধ্যাদেশ প্রণয়নে আইন মন্ত্রণালয় সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়সমূহকে সহযোগিতা প্রদান করেছে।

২) প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার ও ডিজিটালাইজেশন

ক) জুডিশিয়াল সার্ভিসের স্বাধীনতা: বিচার বিভাগের প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য তিনটি পৃথক বিধিমালা প্রণয়ন করা হয়েছে। বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিসের পদসৃজনের ক্ষমতা বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের ওপর ন্যস্ত করে ‘বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস গঠন বিধিমালা, ২০২৫’ এবং সার্ভিসের সদস্যদের সরকারের আইন ও বিচার বিভাগে পদায়নের সুনির্দিষ্ট বিধিমালা প্রণয়ন করা হয়েছে। পূর্বে পদ সৃজনের সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের অনুমোদনের প্রয়োজন ছিল বিধায় বিচারকের পদ সৃজনে বিলম্ব হতো এবং মামলা জট বাড়তো। এখন সুপ্রিম কোর্টের অধীন একটি বিশেষ কমিটিকে বিচারিক পদ সৃজনের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। এছাড়া সঠিকভাবে পদায়ন ও পদোন্নতি নিশ্চিত করার জন্য পদায়ন ও পদোন্নতি বিধিমালা প্রণয়ন করা হয়েছে।

খ) তথ্য ও সেবা কেন্দ্র স্থাপন: বিচারপ্রার্থী জনগণের তথ্যের অধিকার নিশ্চিতকরণে দেশের সকল আদালত প্রাঙ্গণে তথ্য ও সেবা কেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে। মামলার সর্বশেষ অবস্থা, শুনানির তারিখ এবং আইনি প্রক্রিয়া সম্পর্কে তথ্য পাওয়ার ক্ষেত্রে হয়রানি কমেছে।

গ) কেন্দ্রীয়ভাবে আদালতের কর্মচারী নিয়োগ: একটি স্বচ্ছ নিয়োগ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে আদালতে দক্ষ কর্মচারী নিয়োগের লক্ষ্যে বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস কমিশনের মাধ্যমে কেন্দ্রীয়ভাবে নিয়োগ কার্যক্রম চালু করার জন্য সংশ্লিষ্ট বিধিসমূহ সংশোধন করা হয়েছে এবং সারাদেশের আদালতের মোট ২ হাজার ৭৩৩টি শূন্যপদে নিয়োগের কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে।

ঘ) দুর্নীতি প্রতিরোধ কার্যক্রম: অধস্তন আদালতের বিচারকদের সম্পত্তির হিসাব গ্রহণ এবং সংগৃহীত হিসাবের নথিসমূহ পর্যালোচনা করে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। সাব-রেজিস্ট্রারদের জন্য ব্যক্তিগত তথ্য বিবরণী তৈরি করা হয়েছে।

ঙ) প্রসিকিউশন মনিটরিং সেল: জুলাই-আগস্টে ছাত্র-জনতার ওপর সংঘটিত বিভিন্ন অপরাধের প্রসিকিউশন কার্যক্রম মনিটরিং করার জন্য আইন মন্ত্রণালয়ে একটি বিশেষ সেল গঠন করা হয়েছে।

চ) বিচার কার্যক্রম ডিজিটালাইজেশন: বিচার কার্যক্রম দ্রুততর করার লক্ষ্যে ডাক্তার, ম্যাজিস্ট্রেট ও অন্যান্য সরকারী চাকরিজীবীদের অনলাইনে সাক্ষ্য গ্রহণের জন্য আইন মন্ত্রণালয়ের পত্রের আলোকে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট প্র্যাক্টিস ডিরেকশন্স জারি করেছে। এছাড়া ৮০% আদালতে ই-কজলিস্ট নিয়মিত আপডেট করা হচ্ছে, একে দ্রুততম সময়ে শতভাগে উন্নীত করার লক্ষ্যে কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

ছ) ই-ফ্যামিলি কোর্ট : আদালত ব্যবস্থাকে পুরোপুরি ডিজিটালাইজড করার লক্ষ্যে প্রাথমিকভাবে ঢাকা ও চট্টগ্রামের দুইটি পারিবারিক আদালতে ই-ফ্যামিলি কোর্টের কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে। এর ফলে অনলাইনে মামলা দায়ের, হাজিরা ও শুনানি, কোর্ট ফি প্রদান এবং রেকর্ড সংরক্ষণ করা যাচ্ছে। এই ডিজিটাল কাঠামো পারিবারিক আদালতের কার্যক্রম আধুনিক ও সহজতর করেছে।

জ) অনলাইন বেইলবন্ড : ৯টি জেলায় ই-বেইলবন্ড কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে যার ফলে জামিন প্রাপ্তির পর পূর্বে ১৪টি ধাপকে কমিয়ে এক ধাপে নামিয়ে আনা হয়েছে।

ঝ) আইন মন্ত্রণালয়ে ডিজিটালাইজেশন : আইন ও বিচার বিভাগে ডি-নথির মাধ্যমে কার্যক্রম শুরু হয়েছে এবং এর ব্যবহার বৃদ্ধি পাচ্ছে। তাছাড়া, এ মন্ত্রণালয়ের অ্যাটেসটেশন সেবাকে শতভাগ অনলাইন প্রক্রিয়ায় রূপান্তর করা হয়েছে।

ঞ) জাতীয় আইনগত সহায়তা অধিদপ্তর প্রতিষ্ঠা : এই সময়কালে আইনগত সহায়তা ব্যবস্থায় ব্যাপক সংস্কার সাধিত হয়েছে। এই সময়ে বাংলাদেশ আইনগত সহায়তা অধিদপ্তর প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। এছাড়াও, জরুরি আইনগত সহায়তা, প্রবাসী নাগরিকদের সহায়তা প্রদান এবং পেশাদার মধ্যস্থতাকারী সৃষ্টির লক্ষ্যে সনদ প্রদানের ব্যবস্থা করা হয়েছে। বিনামূল্যে আইনি পরামর্শের জন্য সহজে মনে রাখার মতো নতুন ফোন নম্বর (১৬৬৯৯)-এর ব্যবস্থা করা হয়েছে।

ট) দেওয়ানি আদালতের পরিচিতি : দেওয়ানি বা সিভিল আদালত হওয়া সত্ত্বেও আদালতের নামের সাথে ‘সিভিল’ শব্দটির পরিবর্তে ‘সহকারী’ শব্দটি থাকায় ‘সহকারী জজ আদালত’ ও ‘সিনিয়র সহকারী জজ আদালত’-এর স্বাধীনতা ও এখতিয়ার বিষয়ে বিচারপ্রার্থী ও জনমনে বিভ্রান্তি তৈরী হতো। বর্তমানে আইন সংশোধন করে আদালতের নাম পরিবর্তন করে ‘সিভিল জজ আদালত’ ও ‘সিনিয়র সিভিল জজ আদালত’ করা হয়েছে।

ঠ) দেওয়ানি ও ফৌজদারি আদালত পৃথকীকরণ এবং রেকর্ড সংখ্যক নতুন আদালত সৃজন : এই সময়ে দেওয়ানি ও ফৌজদারি আদালত পৃথক করা হয়েছে, যার ফলে এক বিচারককে একাধিক প্রকৃতির মামলার বিচার করতে হবে না। এতে বিচারপ্রক্রিয়ার দীর্ঘসূত্রিতা কমবে। এসময়ে রেকর্ডসংখ্যক ১ হাজার ৬০৫টি নতুন আদালত সৃষ্টি হয়েছে।

ণ) নিবন্ধন অধিদপ্তরের রেজিস্ট্রেশন বিভাগের সংস্কার: রেজিস্ট্রেশন সেবার মানোন্নয়ন, আধুনিক ও প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবস্থা চালু, স্বচ্ছতা বৃদ্ধি, এবং জনবান্ধব সেবা প্রদানের জন্য বিভিন্ন কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়েছে। নিবন্ধন অধিদপ্তর (কর্মকর্তা ও কর্মচারী) নিয়োগ বিধিমালা ২০২৫ প্রণয়ন করা হয়েছে। ডিজিটাল পদ্ধতিতে রেজিস্ট্রেশন প্রক্রিয়া শুরুর দ্বার প্রান্তে। এ পদ্ধতি চালু হলে দাতা/বিক্রেতার বায়োমেট্রিক পরিচয় যাচাইপূর্বক রেকর্ডপত্র অনলাইনে ডিজিটাল বালামে সংরক্ষিত হবে। সূচিবহি ও দলিল অনলাইনে থাকবে। ভূমি অফিস থেকে এলটি নোটিশ এবং রেজিস্ট্রিকৃত দলিল অনলাইনে দেখা যাবে। ফলে জাল দলিলে নামজারি বন্ধ হবে।

৩। হয়রানিমূলক মামলা প্রত্যাহার কার্যক্রম, রাজনৈতিক হয়রানীমূলক মামলা : এ বিষয়ে জেলা পর্যায়ে গঠিত কমিটি এবং আইন ও বিচার বিভাগের পর্যালোচনার পর এধরনের ২৩ হাজার ৮৬৬টি মামলা প্রত্যাহারের সুপারিশ করা হয়েছে। সূচারুভাবে সকল ভূক্তভোগীকে এই সুযোগ দেয়ার লক্ষ্যে গণবিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়েছে। এরূপ হয়রানীমূলক মামলা প্রত্যাহারের কার্যক্রম চলমান রয়েছে। এছাড়া সাইবার আইনের অধীনে ৪১০টি স্পিচ অফেন্স সংক্রান্ত মামলা, এবং জুলাই-আগস্টের গণ-অভ্যুত্থানে অংশ নেওয়া ছাত্র-জনতার বিরুদ্ধে দায়ের করা প্রায় সকল মামলা প্রত্যাহার করা হয়েছে। এসব মামলা প্রত্যাহারে সীমাহীন ভোগান্তি ও হয়রানী থেকে মুক্তি পেয়েছে কয়েক লাখ মানুষ।

৪) গণহত্যার বিচার সহায়তা: জুলাই গণ-অভূত্থানে সংগঠিত গণ-হত্যার বিচারের জন্য আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের বিচারক ও প্রসিকিউটরদের নিয়োগ, তাদের সকল লজিস্টিক সহায়তা প্রদান, প্রয়োজনীয় আইন সংশোধন ও প্রসিকিউশন কাজের তদরকীর দায়িত্ব পালন করেছে আইন মন্ত্রণালয়। এই আদালতে চারটি মামলার রায় হয়েছে, আরো কমপক্ষে ছয়টি মামালার বিচার চুড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে, গুম সহ বহু মামলার বিচার শুরু হয়েছে।

৫) দৈনন্দিন কার্যক্রম: এ সরকারের কার্যকালে মন্ত্রণালয়ের দৈনন্দিন কার্যক্রমে লক্ষ্যনীয় গতিশীলতা বৃদ্ধি পেয়েছে। গত দেড় বছরে মন্ত্রীপর্যায়ে নিষ্পত্তিকৃত নথির সংখ্যা ২ হাজার ২৮১টি, বিগত সরকারের একই সময়ে ১ হাজার ২৩৫ টি নথি নিষ্পত্তি হয়েছিলো। গত দেড় বছরে সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, বিভাগসহ অন্যান্য দপ্তরে ৫৭৮টি বিষয়ে আইনি মতামত প্রদান করা হয়েছে (গত সরকারের আমলে ২১০টি)। আইন প্রণয়ন সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয়ে রেকর্ড ১৫টি অংশীজন মতবিনিময় সভা আয়োজন করা হয়েছে। অন্তর্বর্তী সরকার কর্তৃক গঠিত সংবিধান, নির্বাচন ব্যবস্থা ও বিচার বিভাগ সংক্রান্ত সংস্কার কমিশনগুলো, গুম সংক্রান্ত অপরাধ তদন্ত কমিশন ও জাতীয় ঐকমত্য কমিশনকে আইন মন্ত্রণালয় থেকে সাচিবিক সহায়তা দেওয়া হয়েছে। দেশে প্রথমবারের মতো বিধিমালা ও প্রবিধানগুলোকে কোডিফাই করার কাজ শুরু হয়েছে। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অধীনে প্রণীত ১২৭টি অধ্যাদেশ ও একটি আদেশ নিয়ে একটি সংকলন প্রকাশ করা হয়েছে।

এছাড়া ফ্যাসিস্ট আমলে নিয়োগকৃত সকল আইন কর্মকর্তা পালিয়ে যাওয়ার কারণে গত দেড় বছরে বাংলাদেশের ইতিহাসে রেকর্ড সংখ্যাক আইন কর্মকর্তাকে (প্রায় সাড়ে ৫ হাজার) নিয়োগ করতে হয়েছে। বাংলাদেশের প্রধান বিচারপতিসহ আপিল বিভাগে পাঁচজন বিচারপতি, হাইকোর্ট বিভাগে ৪৮ জন বিচারপতি নিয়োগে সাচিবিক সহায়তা দেয়া হয়েছে।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

শুল্কমুক্ত সুবিধায় ব্যবসায়ীদের আগ্রহে ভাটা

পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না।   একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।   এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন।   গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে।   জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে।   সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে।   কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে।   প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে।   আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’   সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না।   এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।

ছবি: সংগৃহীত
বাংলাদেশে তীব্র খাদ্য সংকটে দেড় কোটির বেশি মানুষ

বাংলাদেশে প্রায় এক কোটি ৫৩ লাখ মানুষ তীব্র খাদ্য নিরাপত্তাহীনতার (আইপিসি ফেজ ৩ বা তার ওপরে) মধ্যে রয়েছে। এর মধ্যে প্রায় চার লাখ ৮৩ হাজার মানুষ অতিসংকটজনক বা জরুরি অবস্থার (আইপিসি ফেজ ৪) মধ্যে জীবন যাপন করছে।   চলতি বছরের মে থেকে আগস্ট পর্যন্ত এই পরিস্থিতি বিদ্যমান। আগামী সেপ্টেম্বর থেকে ডিসেম্বরের মধ্যে পরিস্থিতির আরও অবনতি ঘটতে পারে, যেখানে খাদ্য নিরাপত্তাহীনতায় পড়া মানুষের সংখ্যা বেড়ে এক কোটি ৮১ লাখে দাঁড়াতে পারে, যার মধ্যে সাত লাখ ৮৭ হাজার মানুষ চরম জরুরি অবস্থায় পড়বে।   দেশের ১০ কোটি ২০ লাখ মানুষের ওপর চালানো জাতিসংঘের এক যৌথ সমীক্ষায় এসব তথ্য উঠে এসেছে। সম্প্রতি খাদ্য মন্ত্রণালয়ের খাদ্য পরিকল্পনা ও পরিধারণ ইউনিটের (এফপিএমইউ) নেতৃত্বে ঢাকায় অনুষ্ঠিত এক উচ্চ পর্যায়ের কর্মশালায় জাতিসংঘের ‘ইন্টিগ্রেটেড ফুড সিকিউরিটি ফেজ ক্লাসিফিকেশন’ (আইপিসি)-এর সর্বশেষ এই প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়।   জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (এফএও), বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি (ডব্লিউএফপি), অ্যাকশন এগেইনস্ট হাঙ্গার, সেভ দ্য চিলড্রেন এবং গেইনের মতো যৌথ সহযোগী সংস্থাগুলো এতে অংশগ্রহণ করে। বিশ্লেষণে দেখা গেছে, পার্বত্য চট্টগ্রাম, হাওর অঞ্চল, কিছু উপকূলীয় জেলা এবং কক্সবাজার ও ভাসানচরে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর মধ্যে এই খাদ্য নিরাপত্তাহীনতা সবচেয়ে প্রকট। প্রতিকূল আবহাওয়া, বারবার বন্যা, মূল্যস্ফীতি, জ্বালানি ও খাদ্যসামগ্রীর দাম বৃদ্ধি এবং আন্তর্জাতিক সরবরাহ ব্যবস্থায় বিঘ্ন ঘটায় সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতা মারাত্মকভাবে হ্রাস পেয়েছে, যা এই পরিস্থিতির প্রধান কারণ।   খাদ্য প্রতিমন্ত্রী মো. আবদুল বারী জানান, তথ্যভিত্তিক এই বিশ্লেষণের মাধ্যমে সরকার খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত ও প্রান্তিক মানুষের সক্ষমতা বাড়াতে আরও কার্যকর ব্যবস্থা নেবে।   খাদ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব আবু তাহের মো. মাসুদ রানা এবং এনজিও বিষয়ক ব্যুরোর মহাপরিচালক ড. মোহাম্মদ জাকারিয়া যৌথ উদ্যোগের ওপর জোর দেন। এফএও প্রতিনিধি ড. জিয়াওকুন শি জলবায়ু সহনশীল ও স্মার্ট কৃষিতে বিনিয়োগের আহবান জানান।    অন্যদিকে ডব্লিউএফপির প্রতিনিধি কোকো উশিয়ামা উল্লেখ করেন, বন্যা ও ভারি বৃষ্টিপাতের ঝুঁকিতে থাকা এলাকাগুলোতে ডব্লিউএফপি এরই মধ্যে পূর্বাভাসভিত্তিক আগাম সহায়তা ও সামাজিক সুরক্ষা কার্যক্রম শুরু করেছে।   সংকট কাটাতে বিশেষজ্ঞ ও সরকারি প্রতিনিধিরা জরুরি ভিত্তিতে জীবন রক্ষাকারী খাদ্যসহায়তা প্রদান, জলবায়ু সহনশীল কৃষি খাত পুনর্গঠন, জীবিকা পুনরুদ্ধার এবং দ্রুত দুর্যোগ সতর্কবার্তা ব্যবস্থার আধুনিকায়নে সম্মিলিতভাবে কাজ করার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন।

মো: দেলোয়ার হোসাইন জুলাই ২৫, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

কাফরুলে যুবদলের সদস্য সচিবসহ ২ জন গুলিবিদ্ধ

ছবি: সংগৃহীত

১৮ জন রাষ্ট্রপ্রধানের ৭ জনের বিদায় পদত্যাগে

নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ। ছবি: সংগৃহীত

শিগগিরই রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের তপশিল ঘোষণা করবে ইসি: মাছউদ

ছবি: সংগৃহীত
আন্তঃদেশীয় হুমকি মোকাবিলায় আসিয়ানের সঙ্গে কাজ করবে বাংলাদেশ

পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান উদীয়মান ও আন্তঃদেশীয় হুমকি মোকাবিলায় আঞ্চলিক সহযোগিতা জোরদার করতে আসিয়ান এবং এর অংশীদারদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার ব্যাপারে বাংলাদেশের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছেন।   ফিলিপাইনের রাজধানী ম্যানিলায় দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় মৈত্রী ও সহযোগিতা চুক্তির (ট্রিটি অব অ্যামিটি অ্যান্ড কো-অপারেশন-টিএসি) ৫০তম বার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত স্মারক অনুষ্ঠানে বক্তব্যে তিনি বলেন, ‘মহামারি, জলবায়ুজনিত অভিঘাত, সাইবার হামলা এবং সরবরাহ শৃঙ্খলের বিঘ্ন মোকাবিলায় বৈশ্বিক সক্ষমতা জোরদারে বাস্তবভিত্তিক ও সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।’   শুক্রবার (২৪ জুলাই) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব কথা জানানো হয়।   ড. খলিলুর রহমান বলেন, ‘যৌথ আগাম সতর্কীকরণ ব্যবস্থা, অভিন্ন ঝুঁকি মূল্যায়ন এবং আঞ্চলিক সংকট মোকাবিলা কাঠামো এ ধরনের চ্যালেঞ্জের বিরুদ্ধে সম্মিলিত প্রস্তুতি ও সক্ষমতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।’   পররাষ্ট্রমন্ত্রী কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) নির্ভর সাইবার অপরাধ এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভ্রান্ত ও বিভ্রান্তিকর তথ্য মোকাবিলার উপায়ও তুলে ধরেন।   পাঁচ দশক আগে স্বাক্ষরিত টিএসি চুক্তিতে এ অঞ্চলের দেশগুলোর পারস্পরিক সম্পর্ক পরিচালনার নীতিমালা নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্ব ও ভৌগোলিক অখণ্ডতার প্রতি পারস্পরিক শ্রদ্ধা এবং একে অপরের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করার নীতি।   বাংলাদেশ ২০০৭ সালে টিএসি-তে যোগ দেয় এবং এর মাধ্যমে আসিয়ানের নীতিভিত্তিক কাঠামোর সঙ্গে চুক্তিভিত্তিক অঙ্গীকারে আবদ্ধ হওয়া প্রথম দিকের দক্ষিণ এশীয় দেশগুলোর একটি হয়।   টিএসির ৫০তম বার্ষিকীর অনুষ্ঠানের ফাঁকে ড. খলিলুর রহমান চিলি, নেদারল্যান্ডস ও ফিলিপাইনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এবং কাতারের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে পৃথক দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করেন।   বৈঠকগুলোতে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, জ্বালানি সরবরাহ, পানি সম্পদ ব্যবস্থাপনা, বৈধ অভিবাসন এবং সার্কুলার ইকোনমিসহ পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়।   পররাষ্ট্রমন্ত্রী বর্তমানে ৩৩তম আসিয়ান রিজিওনাল ফোরাম (এআরএফ) পররাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠক এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় মৈত্রী ও সহযোগিতা চুক্তির ৫০তম বার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত কর্মসূচিতে অংশ নিতে ম্যানিলা সফর করছেন।

মোঃ ইমরান হোসেন জুলাই ২৪, ২০২৬
সদ্যবিদায়ী রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন চুপ্পু। ছবি: সংগৃহীত

রোববার বঙ্গভবন ছাড়ছেন সাহাবুদ্দিন

মো. সাহাবুদ্দিন ও হাফিজ উদ্দিন আহমদ

রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের পর ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হাফিজ উদ্দিন আহমদ

সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখছেন জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ। ছবি: সংগৃহীত

বিদায়ী রাষ্ট্রপতিকে শুভকামনা জানালেন স্পিকার

ছবি: সংগৃহীত
রাষ্ট্রপতির পদত্যাগ ইস্যুতে বিকেল ৫টায় স্পিকারের সংবাদ সম্মেলন

রাষ্ট্রপতির পদত্যাগ ইস্যুতে সংবাদ সম্মেলন ডেকেছেন জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ। বিকেল পাঁচটায় জাতীয় সংসদের শপথ কক্ষে এই সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে।   শুক্রবার জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের গণসংযোগ অধিশাখা-১ থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। সংসদ সচিবালয়ের সহকারী পরিচালক মো. রাশেদ মিজান স্বাক্ষরিত ওই বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, রাষ্ট্রপতির পদত্যাগপত্র গ্রহণ পরবর্তী এক জরুরি সংবাদ সম্মেলন শুক্রবার বিকেল ৫টায় বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের শপথকক্ষে (পূর্ব ব্লক, লেভেল-১) অনুষ্ঠিত হবে। সংবাদ সম্মেলনে জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম, এমপি প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন এবং সার্বিক বিষয়ে কথা বলবেন।

মোঃ ইমরান হোসেন জুলাই ২৪, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

পদত্যাগ করলেন রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন

রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের ‘গুজবে’ কান না দেওয়ারও আহ্বান মির্জা ফখরুলের

ছবি: সংগৃহীত

স্থায়ী আবাসন ও পরিচ্ছন্নতাকর্মী নিয়োগে ৮০ শতাংশ কোটা চাইল হরিজন ঐক্য পরিষদ

0 Comments