ইরানে গেল শনিবার হামলা শুরুর ঘণ্টা তিনেকের মধ্যেই পাল্টা হামলার শিকার হয় যুক্তরাষ্ট্র। বিশেষ করে বিভিন্ন দেশে মার্কিন ঘাঁটি লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ে তেহরান।
কোনো কোনো ক্ষেপণাস্ত্র লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানে এবং ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়।
যুদ্ধ শুরুর দ্বিতীয় দিন রোববার কুয়েতে একটি কমান্ড সেন্টারে ইরানি ড্রোন হামলায় নিহত হন অন্তত ছয় মার্কিন সেনা; আহত হন কয়েকজন।
যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সংবাদমাধ্যম সিএনএনের খবর অনুযায়ী, ইরান থেকে ধেয়ে আসা ড্রোনটি সম্পর্কে মার্কিন বাহিনী আগাম কোনো সতর্কবার্তা পায়নি।
যুক্তরাষ্ট্রেরই আরেক সংবাদমাধ্যম সিবিএস নিউজ বলছে, ওই স্থাপনা ঘিরে যে প্রতিরক্ষাব্যবস্থা ছিল, তা গাড়িবোমা ঠেকাতে পারলেও ওপর থেকে চালানো হামলা রুখে দেওয়ার মতো ছিল না।
এক মার্কিন সামরিক কর্মকর্তার বরাতে সংবাদমাধ্যমটি লিখেছে, "সেখানে ড্রোন ঠেকানোর মতো কোনো সক্ষমতাই ছিল না।"
চলতি সপ্তাহে সংবাদ সম্মেলনে এসে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ অবশ্য এই দুর্বলতাকে খাটো করে দেখানোর চেষ্টা করেন।
মার্কিন সক্ষমতা তুলে ধরতে গিয়ে তিনি বলেন, "আপনার বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা আছে, অনেক কিছু ধেয়ে আসছে এবং আপনি তার বেশির ভাগই ধ্বংস করছেন। দুর্ভাগ্যবশত মাঝে মাঝে দুয়েকটি, যাকে আমরা 'স্কুইর্টার' বলি, তা প্রতিরক্ষা ভেদ করে চলে আসতে পারে।"
কিন্তু ইরানের এত কাছে অবস্থিত একটি স্থাপনায় প্রয়োজনীয় প্রতিরক্ষাব্যবস্থা জোরদার করতে না পারাটা পরিকল্পনার বড় ধরনের গাফিলতি হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা।
ইউনিভার্সিটি অব সেন্ট অ্যান্ড্রিউসের 'স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজের' অধ্যাপক ফিলিপ পেসন ও'ব্রাইন বলেন, "যখন কোনো ব্যবস্থার পতন শুরু হয়, তখন প্রাথমিক লক্ষণগুলো সাধারণত সূক্ষ্মই হয়।"
ইতিহাস থেকে উদাহরণ টানতে গিয়ে 'দ্য আটলান্টিক' সংবাদমাধ্যমকে তিনি বলেন, "তৃতীয় শতাব্দীতে রোমান সাম্রাজ্যের বিস্তৃতি যখন চূড়ায় পৌঁছায়, তখন থেকেই রোমান সমাজে সাক্ষরতার হার কমতে শুরু করেছিল। শিক্ষার স্তর শুধু সাধারণ সৈন্যই নয়, কর্মকর্তা, অভিজাত, এমনকি সম্রাটদের মধ্যেও কমতে থাকে। এর বহু বছর পরেও রোমান বাহিনীকে দেখতে শক্তিশালী মনে হতো। কারণ তাদের সরঞ্জাম ছিল উন্নত এবং তারা শৃঙ্খলাবদ্ধই ছিল। কিন্তু প্রতিপক্ষের চেয়ে এগিয়ে থাকলেও শক্তির ব্যবধান কমতে থাকে।"
গত শনিবার থেকে এখন পর্যন্ত বাহরাইন, কুয়েত, ওমান, কাতার, সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতে পাল্টা হামলা চালিয়েছে ইরান।
এসব দেশ যে হিসাব দিয়েছে, তাতে গত ছয় দিন এই পাঁচ দেশ লক্ষ্য করে অন্তত ৩৮০টি ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে ইরান। ড্রোন হামলার সংখ্যা দেড় হাজারের কাছাকাছি।
এর মধ্যে দুটি দেশের একাধিক কর্মকর্তা মার্কিন ও ইসরায়েলি বাহিনীর বিরুদ্ধে সমন্বয়হীনতার অভিযোগ তুলেছেন।
যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক একটি সংবাদ সংস্থাকে এসব কর্মকর্তা বলেছেন, ইরানে হামলা চালানোর বিষয়ে মার্কিন ও ইসরায়েলি বাহিনী আগে থেকে কোনো সতর্কবার্তা দেয়নি। এছাড়া এই যুদ্ধ যে পুরো মধ্যপ্রাচ্যে ছড়িয়ে পড়তে পারে, সেই শঙ্কার কথাও জানায়নি তারা।
আরব দেশের এক কর্মকর্তা বলেন, মার্কিন ও ইসরায়েলি বাহিনীর কাছ থেকে তারা 'যথেষ্ট সুরক্ষা' পাচ্ছে না।
সামরিক সক্ষমতায় যুক্তরাষ্ট্র এখনও ইরানের চেয়ে অনেক এগিয়ে। কিন্তু ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন বিমান হামলার কিছু ঘটনা যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক দুর্বলতা হিসেবেই দেখা হচ্ছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, প্রতিপক্ষের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের যে সামরিক আধিপত্য, সেটা মূলত কঠোর প্রশিক্ষণ ও উন্নত প্রযুক্তির উপরেই গড়ে ওঠা।
কিন্তু প্রশিক্ষণ ও আত্মসমালোচনার পরিবর্তে 'প্রাণঘাতী শক্তি' আর 'যোদ্ধা মনোভাব' গড়ে তোলার ক্ষেত্রে জোর দিয়ে আসছেন ট্রাম্পের প্রতিরক্ষামন্ত্রী হেগসেথ।
এমনকি তিনি মার্কিন সামরিক সদস্যদের যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে কোর্স করার সুযোগও বন্ধ করে দিয়েছেন।
কিন্তু ও'ব্রাইন মনে করছেন, "গত সপ্তাহের ঘটনাগুলো দেখিয়ে দিচ্ছে, শুধু শক্তি থাকলেই অপেক্ষাকৃত দুর্বল প্রতিপক্ষকে পরাজিত করাটা সবসময় সম্ভব নাও হতে পারে।"
সম্প্রতি ইরানের ড্রোন বাহরাইনে মার্কিন পঞ্চম নৌবহরের সদর দপ্তরে ঢুকে পড়েছিল, যেখানে বসে পৃথিবীর ২৫ লাখ বর্গমাইল সমুদ্র এলাকায় নজরদারি চালায় যুক্তরাষ্ট্র।
আটলান্টিক লিখেছে, ড্রোনটি সেখানকার রাডার ইউনিট ধ্বংস করে দেয়, যা মার্কিন বাহিনী আকাশপথ পর্যবেক্ষণের কাজে ব্যবহার করত।
ও'ব্রাইন বলেন, "ইরানের তৈরি ৩০ হাজার ডলারের একটি ড্রোন মুহূর্তেই আমেরিকার কয়েক কোটি ডলার মূল্যের একটি সামরিক ব্যবস্থা ধ্বংস করে দিল।"
তেহরানের সবচেয়ে কার্যকর অস্ত্রগুলোর একটি হলো 'সুইসাইড ড্রোন'। ইউক্রেইনের বিরুদ্ধে এই ড্রোন ব্যবহার করে রাশিয়া ব্যাপক সাফল্য পেয়েছে।
ইরান যুদ্ধে মার্কিন বাহিনীর আরও কিছু দুর্বলতাও দেখতে পাচ্ছেন বিশ্লেষকরা।
রোববার কুয়েতের আকাশে একটি 'ফ্রেন্ডলি-ফায়ারে' (নিজেদের মধ্যেই গোলাগুলি) যুক্তরাষ্ট্রের তিনটি 'এফ-১৫ই' যুদ্ধবিমান ভূপাতিত হয়। এটি মার্কিন বিমান বাহিনীর হাতে থাকা উন্নত যুদ্ধবিমানগুলোর একটি।
এই ঘটনাকে 'রহস্যজনক' ও 'অস্বস্তিকর' হিসেবে অভিহিত করে ও'ব্রাইন বলেন, "বিমান তিনটি কি এত কাছাকাছি উড়ছিল যে সবগুলোকে একসঙ্গে ধ্বংস করা সম্ভব হলো? কুয়েতি মিত্রদের সঙ্গে আমেরিকান বাহিনীর যোগাযোগ কতটা ভালো ছিল? সম্ভবত এটি যুদ্ধের উত্তেজনায় কোনো ভুল বোঝাবুঝির ফল, তবে অন্যান্য দেশের সঙ্গে সমন্বয় করে চলার ক্ষেত্রে ট্রাম্প বাহিনীর সক্ষমতা প্রশ্নের মুখে পড়ে গেছে।"
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর থেকে অন্যান্য সরকারের সঙ্গে সামরিক ও কূটনৈতিক জোট গঠন করা ছিল যুক্তরাষ্ট্রের শক্তির প্রধান উৎস।
কিন্তু ইরানে হামলার ক্ষেত্রে ট্রাম্পের একমাত্র মিত্র হিসেবে আছে ইসরায়েল। অন্যদিকে দীর্ঘ দিনের অনেক মিত্র, বিশেষ করে ইউরোপকে ট্রাম্প দূরে ঠেলে দিচ্ছেন।
মিত্রদের সঙ্গে দূরত্ব তৈরির প্রভাব এরই মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সক্ষমতায় প্রভাব ফেলতে শুরু করেছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
ইউরোপের তিন শক্তিশালী দেশ—জার্মানি, ফ্রান্স ও যুক্তরাজ্যের নেতারা ঘোষণা করেছেন যে, তারা এই হামলায় অংশগ্রহণ করছেন না।
ইউরোপীয় ইউনিয়নের এক শীর্ষ কর্মকর্তা এক বিবৃতিতে বলেছেন, "মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক ঘটনাবলী অত্যন্ত বিপজ্জনক।"
ইচ্ছা না থাকার পরও যুক্তরাজ্য অবশ্য সাইপ্রাসে যুক্তরাষ্ট্রকে একটি ঘাঁটি ব্যবহারের অনুমতি দিতে রাজি হয়েছে। কিন্তু এই সীমিত সাহায্য ট্রাম্প প্রশাসনকে হতাশ করেছে।
চলতি সপ্তাহেই ইউরোপ-আমেরিকার 'বিশেষ সম্পর্ক' নিয়ে উপহাস করে ট্রাম্প বলেছেন, সম্পর্ক 'নিশ্চিতভাবেই আগের মতো নেই'।
হেগসেথের অভিযোগ, যুক্তরাষ্ট্রের মিত্ররা 'হাহুতাশ করছে' এবং শক্তির ব্যবহার নিয়ে 'দ্বিধায় আছে'।
ও'ব্রাইন মনে করেন, "ইউরোপের এমন প্রতিক্রিয়ায় ট্রাম্প বা হেগসেথ, কেউই অবাক হননি। কারণ ট্রাম্প সবসময় রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের প্রতি ঘনিষ্ঠতা দেখিয়ে আসছেন, যাকে ইউরোপ নিজেদের জন্য সবচেয়ে বড় হুমকি মনে করে। এছাড়া ট্রাম্প ইউরোপের কাছ থেকে গ্রিনল্যান্ড কেড়ে নেওয়ার চেষ্টাও করছেন। যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপ এখনও একে অপরকে মিত্র বলে ডাকতে পারে, কিন্তু সম্পর্কে ফাটল ধরার চিহ্নগুলো স্পষ্ট।"
ও'ব্রাইন বলেন, "পতন শুরুর পরও রোমান সাম্রাজ্য যেমন দুই শতাব্দী টিকে ছিল, তেমনি মার্কিন সাম্রাজ্যও এখনই ভেঙে পড়ার ঝুঁকিতে নেই। কিন্তু যথাযথ পরিকল্পনা, দক্ষতা ও কূটনীতি বর্জনের যে পথ ট্রাম্প বেছে নিয়েছেন, তার নেতিবাচক প্রভাব বাস্তবজগতে এরই মধ্যে পড়তে শুরু করেছে।"
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে সংঘটিত এজাহারভুক্ত হত্যা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ ও মিরাজ হোসেন পলাতক রয়েছেন। ব্যাংক প্রশাসন বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। খুনের শিকার কৃষি ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী আব্দুল হালিম ছিলেন কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) সভাপতি। তার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলায়। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি স্থানীয়ভাবে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ১ নম্বর আসামি হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত পিয়ন ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ এবং ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেনের নাম রয়েছে। তারা বর্তমানে নিজেদের সিবিএ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দাবি করে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে প্রভাব বিস্তার করছেন। ব্যাংক সূত্রে গেছে, তারা চাঁদাবাজি, ঘুষ আদায় ও নানা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। সূত্র জানায়, ব্যাংকের ভেতরে একটি সিন্ডিকেটের প্রভাবেই এসব আসামিরা এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন। এই সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে আছেন মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেন। এতে আরও যুক্ত রয়েছেন ডিজিএম সৈয়দ লিয়াকত হোসেন, হাবিব উন নবী, ডিএমডি খালেকুজ্জামান জুয়েল ও ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী। গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর রাতে মতিঝিলের বিমান অফিসের সামনে আব্দুল হালিমের মৃত্যু হয়। পরদিন সকালে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়। মতিঝিল থানার উপ-পরিদর্শক সজীব কুমার সিং সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে জানান, পুরনো সহকর্মীদের সঙ্গে বিরোধের জেরে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং রাত ১টা ৪০ মিনিটে হাসপাতালে মারা যান। হালিমের ছেলে ফয়সাল বলেন, তার বাবা ২০১৪ সাল থেকে কৃষি ব্যাংক সিবিএর সভাপতি ছিলেন এবং বোয়ালখালী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতেন। ইউনিয়নের নেতৃত্ব ও পদ নিয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে গত নভেম্বরেই মতিঝিল থানায় একটি জিডি (নং ০৫/১১/২০২৪ - ৩৩৫) করেছিলেন তার বাবা। তিনি আরও বলেন, বুধবার রাতে আমার বাবাকে তার অফিসের সহকর্মীরা মারধর করে হত্যা করেছে। সিবিএর বর্তমান সাধারণ সম্পাদক নাসিম আহমেদ জানান, ২০১৪ সালে আমরা নির্বাচিত হই। এরপর আর কোনো নির্বাচন হয়নি। কিন্তু গত ৫ আগস্ট বিনা নির্বাচনে নতুন কমিটি ঘোষণা করে আমাদের অফিস দখল করে নেয় ফয়েজ ও মিরাজ। এ নিয়ে মামলা চলছে। মামলার তথ্য অনুযায়ী, আসামিরা অস্থায়ী জামিনে ছিলেন। সম্প্রতি তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। এছাড়া আরও কয়েকজন পলাতক রয়েছেন—যাদের মধ্যে আছেন ড্রাইভার সাইফুল, শাহেদ, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মেহেদী ও অবসরপ্রাপ্ত ক্লিনার সিরাজ। এদিকে, মামলার ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেন নৈমিত্তিক ছুটির আবেদন করে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। যদিও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামির নৈমিত্তিক ছুটি পাওয়ার কোনো এখতিয়ার নেই। মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক এ বিষয়ে বলেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন এবং নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন। কিন্তু স্থানীয় মুখ্য কার্যালয়ের প্রধান মহাব্যবস্থাপক জানান, তিনি কোনো মন্তব্য করতে চান না। কারণ ব্যবস্থাপনা পরিচালক মন্তব্য না করার নির্দেশ দিয়েছেন। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। অভ্যন্তরীণ এই পরিস্থিতিতে কৃষি ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
দক্ষিণ লেবাননে সংঘর্ষে ইসরায়েলের চার সেনা নিহত হয়েছেন। দেশটির সামরিক বাহিনী (আইডিএফ) এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইসরায়েলের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, সোমবার সংঘটিত এই ঘটনায় নিহতদের মধ্যে রয়েছেন ক্যাপ্টেন নোআম মাদমোনি (২২), স্টাফ সার্জেন্ট বেন কোহেন (২১) এবং স্টাফ সার্জেন্ট ম্যাকসিম এনটিস (২২)। এছাড়া একই ঘটনায় আরও একজন সেনা নিহত হয়েছেন, তবে তার নাম এখনো প্রকাশ করা হয়নি বলে জানিয়েছে আইডিএফ। সংঘর্ষে আহত হয়েছেন আরও দুইজন সেনা। তাদের মধ্যে একজনের অবস্থা গুরুতর, অপরজন রিজার্ভ সদস্য এবং হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবফ সাম্প্রতিক সময়ে দেশটির রাজনীতিতে ক্রমশ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছেন। চলমান সংঘাত পরিস্থিতির মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনার দায়িত্ব তার ওপর দেওয়া হয়েছে বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে। রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে পাকিস্তানের একটি সূত্রের বরাত দিয়ে বলা হয়, পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি-এর পাশাপাশি গালিবাফকেও ইসরায়েলের সম্ভাব্য টার্গেট তালিকা থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। ওই সূত্রের দাবি, তাদের অবস্থান সম্পর্কে ইসরায়েলের কাছে তথ্য ছিল এবং হামলার আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল। পাকিস্তান, যারা এই আলোচনায় মধ্যস্থতাকারী হিসেবে কাজ করছে, যুক্তরাষ্ট্রকে সতর্ক করে জানায়—এই নেতাদের সরিয়ে দেওয়া হলে আলোচনার পথ বন্ধ হয়ে যাবে। এরপর যুক্তরাষ্ট্র ইসরায়েলকে পিছিয়ে যেতে বলে। ৬৪ বছর বয়সী গালিবাফ একদিকে যেমন কূটনৈতিক আলোচনায় যুক্ত হচ্ছেন, অন্যদিকে শত্রুপক্ষকে কঠোর বার্তাও দিচ্ছেন। তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ইরানের ভূখণ্ড রক্ষায় কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়ে “অবিরাম হামলা” চালানোর হুমকি দিয়েছেন। এর আগে একাধিকবার প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে অংশ নিলেও সফল হননি গালিবাফ। বিশেষ করে ইব্রাহিম রাইসি-এর মৃত্যুর পর অনুষ্ঠিত ২০২৪ সালের নির্বাচনে তিনি প্রার্থীদের একজন ছিলেন। বিশ্লেষকদের মতে, ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)-এর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক, দীর্ঘ প্রশাসনিক অভিজ্ঞতা এবং “বাস্তববাদী কিন্তু কট্টর” ইমেজ—এই সব মিলিয়ে গালিবাফ এখন ইরানের ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে আসার পথে।
ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোরের (আইআরজিসি) নৌবাহিনীর প্রধান আলিরেজা তাংগসিরির নিহত হওয়ার তথ্য নিশ্চিত করেছে ইরান। আইআরজিসির এক বিবৃতির বরাত দিয়ে ইরানের সংবাদ সংস্থা আইআরএনএ জানায়, তাংগসিরি ‘তাঁর আঘাতের তীব্রতার’ কারণে মারা গেছেন। গত সপ্তাহে ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাৎজ বলেছিলেন, ইসরায়েলি সেনাবাহিনী হামলা চালিয়ে ইরানের নৌবাহিনীর প্রধান আলিরেজা তাংগসিরিকে হত্যা করে। তখন এ বিষয়ে ইরানের পক্ষ থেকে কোনো মন্তব্য করা হয়নি।