চলমান ৪০ দিনের শাটডাউন শেষ হওয়ার পথে। ডেমোক্র্যাট ও রিপাবলিকান সিনেটররা কেন্দ্রীয় সরকারের তহবিল পুনরায় চালু করার একটি সমঝোতায় পৌঁছেছেন, যার ফলে সরকারি অচলাবস্থা অবসান হতে চলেছে।
সরকারি ব্যয়ের বাজেট পাস না হওয়ায় বহু সরকারি কার্যক্রম কার্যত বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। রবিবার (৯ নভেম্বর) মধ্যপন্থি ডেমোক্র্যাটদের একটি দল সরকার পুনরায় চালু করার জন্য চুক্তি নিয়ে আলোচনা করার পর এই অগ্রগতি এসেছে।
আলোচনার নেতৃত্বদানকারী সিনেটর অ্যাঙ্গাস কিং সাংবাদিকদের বলেন, আইনের সমর্থক ডেমোক্র্যাটরা মনে করেন শাটডাউন যথেষ্ট দীর্ঘ সময় ধরে চলেছে। তিনি এ বিষয়ে আত্মবিশ্বাস প্রকাশ করে বলেন, বিল পাসের জন্য পর্যাপ্ত ভোট পাওয়া এখন এমনই দেখাচ্ছে।
সংশোধিত প্যাকেজটি এখন প্রতিনিধি পরিষদে পাস হতে হবে এবং পরে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের স্বাক্ষরের জন্য পাঠানো হবে। এই প্রক্রিয়ায় কয়েকদিন সময় লাগতে পারে। হোয়াইট হাউজে সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেন, মনে হচ্ছে আমরা শাটডাউন শেষ হওয়ার খুব কাছাকাছি চলে এসেছি।
কানেকটিকাটের ডেমোক্র্যাট সিনেটর রিচার্ড ব্লুমেন্থাল জানান, তিনি তহবিল ব্যবস্থার বিরুদ্ধে ভোট দেবেন, তবে এটি পাসের জন্য পর্যাপ্ত ডেমোক্র্যাটিক সমর্থন থাকতে পারে। তিনি আরও বলেন, আমি কোনো অনির্দিষ্ট সময়ের জন্য স্বাস্থ্যসেবা কর ক্রেডিট বাড়ানোর উদ্দেশ্যে অস্পষ্ট প্রতিশ্রুতি মেনে নিতে রাজি নই।
প্রায় ৪০ দিন ধরে চলা এই শাটডাউনের কারণে হাজার হাজার ফ্লাইট বাতিল হয়েছে, প্রায় সাড়ে ৭ লাখ ফেডারেল কর্মচারীকে ছুটিতে পাঠানো হয়েছে এবং লাখ লাখ আমেরিকানদের খাদ্য সহায়তা ঝুঁকির মধ্যে পড়েছে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না। একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন। গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে। জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে। সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে। কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে। প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে। আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’ সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না। এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নতুন আমদানি শুল্কনীতির বিরুদ্ধে আইনি লড়াইয়ে নেমেছে যুক্তরাষ্ট্রের ২৫টি অঙ্গরাজ্য। সুপ্রিম কোর্ট গত ফেব্রুয়ারিতে ট্রাম্পের পূর্ববর্তী আমদানি কর বাতিল করার পর তা ভিন্ন অজুহাতে পুনরুজ্জীবিত করার অভিযোগে সোমবার ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে এই যৌথ মামলা দায়ের করা হয়। মূলত জোরপূর্বক শ্রম বা বাধ্যতামূলক শ্রমে উৎপাদিত পণ্যের আমদানিতে যথাযথ পদক্ষেপ না নেওয়ার অভিযোগ তুলে ট্রাম্প প্রশাসন গত মাসে ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং বিশ্বের ৫৯টি দেশের ওপর দুই অঙ্কের শুল্ক আরোপ করে। সুপ্রিম কোর্টে হেরে যাওয়ার পর ট্রাম্প যে সাময়িক শুল্কনীতি চালু করেছিলেন, সেটির মেয়াদ শেষ হওয়ার মুহূর্তেই নতুন এই শুল্ক কার্যকর করা হয়। এই মামলা প্রসঙ্গে নিউ ইয়র্কের অ্যাটর্নি জেনারেল লেটিশিয়া জেমস তীব্র সমালোচনা করে বলেন, সুপ্রিম কোর্টে পরাজিত হওয়ার পর প্রশাসন নতুন করে শুল্কের বোঝা চাপিয়ে আবারও আমাদের পরিবার ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর অবৈধভাবে কর বাড়ানোর চেষ্টা করছে। ট্রাম্প প্রশাসনের এই পদক্ষেপকে বেআইনি ও অযৌক্তিক অভিহিত করে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছে নিউইয়র্ক, অ্যারিজোনা, ক্যালিফোর্নিয়া, কলোরাডো, কানেকটিকাট, ডেলাওয়্যার, হাওয়াই, ইলিনয়, কেনটাকি, ম্যাসাচুসেটস, মেরিল্যান্ড, মেইন, মিশিগান, মিনেসোটা, নেভাদা, নিউ জার্সি, নিউ মেক্সিকো, নর্থ ক্যারোলাইনা, ওরেগন, পেনসিলভেনিয়া, রোড আইল্যান্ড, ভার্জিনিয়া, ভার্মন্ট, ওয়াশিংটন এবং উইসকনসিন রাজ্য। মার্কিন উৎপাদন খাতকে পুনরুজ্জীবিত করার উদ্দেশ্যে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প গত বছর যুক্তরাষ্ট্রের কয়েক দশকের মুক্ত বাণিজ্য ও নিম্ন শুল্কনীতি বাতিল করেন। ১৯৭৭ সালের আন্তর্জাতিক জরুরি অর্থনৈতিক ক্ষমতা আইন (আইইইপিএ) প্রয়োগ করে আমেরিকার দীর্ঘদিনের বাণিজ্য ঘাটতিকে ‘জাতীয় জরুরি অবস্থা’ হিসেবে আখ্যা দিয়ে প্রায় প্রতিটি দেশের আমদানির ওপর তিনি দুই অঙ্কের শুল্ক বসান। তবে সুপ্রিম কোর্ট স্পষ্ট জানিয়ে দেন যে আইইইপিএ আইন প্রেসিডেন্টকে শুল্ক আরোপের অধিকার দেয় না। আদালতের এই আদেশের ফলে আমদানিকারকদের আদায় করা অর্থ ফেরত দিতে বাধ্য হয় প্রশাসন। পরবর্তীতে এই ক্ষতি পুষিয়ে নিতে ট্রাম্প বিশ্বব্যাপী সাময়িক ১০ শতাংশ শুল্ক চালু করলেও গত ২৪ জুলাই মধ্যরাতে তার মেয়াদ শেষ হয়ে যায়। পরবর্তীতে মেয়াদ ফুরিয়ে আসায় ট্রাম্প প্রশাসন ১৯৭৪ সালের বাণিজ্য আইনের ‘সেকশন ৩০১’ ধারার অধীনে অপেক্ষাকৃত শক্ত আইনি কাঠামোর শুল্কনীতি বেছে নেয়। এই ধারাটি প্রেসিডেন্টকে অন্যায্য বাণিজ্যনীতিতে অভিযুক্ত দেশগুলোর বিরুদ্ধে শুল্ক ও অন্যান্য নিষেধাজ্ঞা আরোপের ক্ষমতা প্রদান করে। এর আগে প্রথম মেয়াদে চীনে বড় অঙ্কের শুল্ক বসাতে ট্রাম্প এই ধারাটি ব্যবহার করেছিলেন যা আদালতেও টিকে যায়। নতুন এই ‘সেকশন ৩০১’ ব্যবহারের অধীনে ১০ থেকে ১২.৫ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপ করা হয়েছে যা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে আসা মোট আমদানির ৯৯ শতাংশ দেশকে প্রভাবিত করে। হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র কুশ দেশাই সরকারের পদক্ষেপকে সমর্থন করে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্যকে ক্ষতিগ্রস্ত করে এমন অন্যায্য আইন ও চর্চা দূর করতে নিজের আইনি কর্তৃত্ব ব্যবহার করছে দেশ। কোনো বিদেশি রাষ্ট্র যদি বাধ্যতামূলক শ্রমে তৈরি পণ্যের আমদানি ঠেকাতে ব্যর্থ হয়, তবে তা মার্কিন অর্থনীতি ও শ্রমিকদের জন্য ক্ষতিকর এবং এটি নিরসন করা জরুরি। সেকশন ৩০১ ভিত্তিক শুল্ক প্রথম মেয়াদ থেকেই একটি আইনিভাবে টেকসই অস্ত্র হিসেবে প্রমাণিত এবং এখনো তাই রয়েছে। অঙ্গরাজ্যগুলোর এই মামলা ছাড়াও গত জুলাই মাসে ‘কোর্ট অব ইন্টারন্যাশনাল ট্রেড’-এ একই শুল্কের বিরুদ্ধে বেশ কয়েকটি ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান দুটি পৃথক মামলা দায়ের করেছে। উভয় মামলাতেই অভিযোগ করা হয়েছে যে, সরকার প্রতিটি নির্দিষ্ট অর্থনীতির বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট প্রমাণ উপস্থাপন করতে পারেনি কিংবা ‘সেকশন ৩০১’ আইনের বাধ্যবাধকতা মেনে এই শুল্ক কীভাবে উক্ত অন্যায্য চর্চা বন্ধ করবে সে বিষয়ে সুস্পষ্ট কোনো ব্যাখ্যা দেয়নি। নিউইয়র্ক ল স্কুলের আন্তর্জাতিক আইনকেন্দ্রের সহ-পরিচালক ও আইনের অধ্যাপক ব্যারি অ্যাপলটন জানান, প্রশাসন ভিন্ন ভিন্ন ধারায় একই ধরনের শুল্ক তিনবার চাপানোর চেষ্টা করায় মামলা জটিল রূপ নিয়েছে এবং হুবহু একই কথা বারবার বলায় আদালতে এর পক্ষে সাফাই গাওয়া কঠিন হতে পারে। তবে তিনি উল্লেখ করেন, ‘সেকশন ৩০১’ অতীতেও ব্যবহৃত হয়েছে এবং কংগ্রেস এটি তদন্ত, আলোচনা ও সরকারি রেকর্ড রাখার সুনির্দিষ্ট নিয়মের মধ্যে তৈরি করেছে। ফলে আদালতে লড়াইটি সরকারের ক্ষমতার বিষয়ে না হয়ে, তারা কংগ্রেসের নির্ধারিত নিয়মের মধ্যে ছিল কি না সেটির ওপরই নির্ভর করবে। সূত্র: এপি
ইরানের সঙ্গে চলমান যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধাবস্থা আর ফেডের সিদ্ধান্ত নিয়ে ধোঁয়াশা থাকার প্রভাব পড়েছে স্বর্ণের দামে। বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক বাজারে মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) স্বর্ণের দাম সামান্য বেড়েছে। রয়টার্স বলছে, যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সম্ভাব্য আলোচনা নিয়ে অনিশ্চয়তা এবং চলতি সপ্তাহে প্রকাশিতব্য যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ শ্রমবাজার প্রতিবেদনের অপেক্ষায় বিনিয়োগকারীরা সতর্ক অবস্থান নিয়েছেন। ওই কারণে বেড়েছে স্বর্ণের দাম। এদিন সকাল ৯টার দিকে স্পট গোল্ডের দাম ০.২ শতাংশ বেড়েছে। এতে প্রতি আউন্স ৪,০৫৯.৮১ ডলারে দাঁড়িয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের চাকরির বাজার দুর্বল হলে ডলারের ওপর চাপ বাড়তে পারে, যা স্বর্ণের দাম আরও বাড়াতে সহায়ক হবে। এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, ইরানের সঙ্গে আলোচনা চলছে এবং তেহরানের জন্য এটি একটি শেষ সুযোগ। তবে ইরান এই দাবি সরাসরি অস্বীকার করেছে। যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাতের কারণে জ্বালানির দাম ও মূল্যস্ফীতির আশঙ্কা বেড়েছে। এ অবস্থায় বাজারে সেপ্টেম্বরে ফেডারেল রিজার্ভ সুদের হার বাড়াতে পারে—এমন সম্ভাবনাও বিবেচনায় রাখা হচ্ছে। নিউইয়র্ক ফেডের প্রেসিডেন্ট জন উইলিয়ামস বলেছেন, মূল্যস্ফীতি কমবে বলে তিনি আশাবাদী। তবে প্রয়োজন হলে সুদের হার বাড়াতে ফেড পিছপা হবে না। বিনিয়োগ ব্যাংক সিটি পূর্বাভাস দিয়েছে, স্বল্পমেয়াদে স্বর্ণের দাম স্থির থাকতে পারে বা কিছুটা কমতে পারে। তবে চলতি বছরের শেষ নাগাদ তা ৪,৫০০ ডলার এবং আগামী বছরের প্রথমার্ধে ৫,০০০ ডলার প্রতি আউন্সে পৌঁছাতে পারে। স্বর্ণের পাশাপাশি মঙ্গলবার স্পট সিলভারের দাম ১ শতাংশ বেড়ে ৫৮.৭৪ ডলার, প্লাটিনাম ১.২ শতাংশ বেড়ে ১,৬৪৬.৫৯ ডলার এবং প্যালাডিয়াম ১.২ শতাংশ বেড়ে ১,২৭৯.৫৫ ডলারে লেনদেন হয়েছে।
হরমুজ প্রণালিতে ইরানের বিরুদ্ধে চলমান নৌ অবরোধের অংশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র ৪৪টি বাণিজ্যিক জাহাজের গতিপথ পরিবর্তন করেছে বলে জানিয়েছে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম)। খবর শাফাক নিউজের। সেন্টকমের এক বিবৃতিতে বলা হয়, ৩ আগস্ট পর্যন্ত অভিযানে ৪৪টি বাণিজ্যিক জাহাজ অন্য পথে পাঠানো হয়েছে। এছাড়া দুটি জাহাজ অচল করে দেওয়া হয়েছে এবং আরও দুটি জাহাজে তল্লাশি চালানো হয়েছে। এর একদিন আগে সেন্টকম জানিয়েছিল, তারা ৩৫টি বাণিজ্যিক জাহাজের গতিপথ পরিবর্তন করেছিল। সেন্টকম দাবি করেছে, ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধ কঠোরভাবে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।