বিশ্ব

যুক্তরাষ্ট্রে গ্রিন কার্ড লটারি স্থগিত করেছে ট্রাম্প প্রশাসন

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি ডিসেম্বর ১৯, ২০২৫

যুক্তরাষ্ট্রে গ্রিন কার্ড লটারি (ডিভি-১) কর্মসূচি স্থগিত করেছে দেশটির স্বরাষ্ট্র বিভাগ।

ব্রাউন ইউনিভার্সিটিতে গুলিবর্ষণের ঘটনায় অভিযুক্ত ব্যক্তি এই লটারির মাধ্যমে দেশটিতে প্রবেশ করেছিল, এমন তথ্যের ভিত্তিতে বৃহস্পতিবার এই পদক্ষেপ নেওয়া হয় বলে জানান যুক্তরাষ্ট্রের হোমল্যান্ড সিকিউরিটি প্রধান ক্রিস্টি নোয়েম।  

ওয়াশিংটন থেকে এএফপি এ খবর জানায়।

ব্রাউন ইউনিভার্সিটির ওই হামলার ঘটনায় অভিযুক্ত ক্লডিও নেভেস ভ্যালেন্টে (৪৮) একজন পর্তুগিজ নাগরিক। 

তার বিরুদ্ধে অভিযোগ, গত ১৩ ডিসেম্বর আইভি লিগের এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের একটি ভবনে ঢুকে পরীক্ষায় অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীদের ওপর গুলি চালান তিনি। এতে দুই শিক্ষার্থী নিহত এবং নয়জন আহত হন। 

এর দুই দিন পর ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজির (এমআইটি) এক অধ্যাপককে হত্যার অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ক্রিস্টি নোয়েম লিখেছেন, ‘নেভেস ভ্যালেন্টে ২০১৭ সালে ডাইভারসিটি লটারি ইমিগ্র্যান্ট ভিসা প্রোগ্রামের (ডিভি-১) মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করেন এবং গ্রিন কার্ড পান।’

তিনি আরও বলেন, ‘প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের নির্দেশে আমি অবিলম্বে ইউএসসিআইএস(যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব ও অভিবাসন পরিষেবা)-কে ডিভি-১ প্রোগ্রাম সাময়িকভাবে স্থগিত করার নির্দেশ দিচ্ছি। এই ভয়াবহ কর্মসূচির মাধ্যমে যেন আর কোনো আমেরিকানের ক্ষতি না হয়, তা নিশ্চিত করতেই এই পদক্ষেপ।’

ওই ব্যক্তির সমালোচনা করে নোম বলেন, ‘এই জঘন্য ব্যক্তিকে আমাদের দেশে কখনোই ঢুকতে দেওয়া উচিত হয়নি।’

এদিকে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় পুলিশ জানিয়েছে, কয়েকদিন ধরে তল্লাশি চালানোর পর নেভেস ভ্যালেন্টের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। তিনি আত্মহত্যা করেছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

মার্কিন স্টেট ডিপার্টমেন্টের তথ্যমতে, যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসনের হার কম-এমন দেশগুলোর নাগরিকদের জন্য প্রতি বছর ৫৫ হাজার স্থায়ী আবাসিক ভিসা বা গ্রিন কার্ড লটারি দেওয়া হয়। 

এই লটারিতে আবেদনের জন্য কমপক্ষে উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা অথবা নির্দিষ্ট কাজের অভিজ্ঞতা প্রয়োজন হয়। এছাড়া চূড়ান্ত অনুমোদনের আগে আবেদনকারীদের সাক্ষাৎকারসহ বিভিন্ন যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হয়।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

শুল্কমুক্ত সুবিধায় ব্যবসায়ীদের আগ্রহে ভাটা

পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না।   একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।   এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন।   গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে।   জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে।   সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে।   কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে।   প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে।   আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’   সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না।   এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।

সংগৃহীত ছবি
বিশ্ব ঐতিহ্যের মর্যাদা পেল ঐতিহাসিক বৌদ্ধ তীর্থস্থান সারনাথ

ভারতের উত্তর প্রদেশে অবস্থিত প্রাচীন বৌদ্ধ তীর্থস্থান সারনাথ ইউনেস্কোর বিশ্ব ঐতিহ্যের তালিকায় স্থান পেয়েছে। দক্ষিণ কোরিয়ায় অনুষ্ঠিত বিশ্ব ঐতিহ্য কমিটির ৪৮তম অধিবেশনে এ স্বীকৃতি দেওয়া হয়। এর ফলে ভারতের ইউনেস্কো স্বীকৃত বিশ্ব ঐতিহ্য স্থানের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪৫টিতে।   ইউনেস্কোর দক্ষিণ এশিয়া আঞ্চলিক কার্যালয়ের পরিচালক ও প্রতিনিধি টিম কার্টিস এ স্বীকৃতিকে ভারত সরকার ও জনগণের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ অর্জন হিসেবে উল্লেখ করেন।   তিনি বলেন, ‘ইউনেস্কোর পক্ষ থেকে ভারত সরকার ও জনগণকে আন্তরিক অভিনন্দন জানাই। আড়াই হাজার বছরেরও বেশি সময় ধরে সারনাথ বিশ্বের বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের জন্য তীর্থস্থান ও অনুপ্রেরণার উৎস। এখানেই গৌতম বুদ্ধ প্রথম ধর্মদেশনা দেন, যেখানে তিনি করুণা, প্রজ্ঞা ও শান্তির বাণী প্রচার করেছিলেন। সেই শিক্ষা আজও বিশ্বজুড়ে সমানভাবে প্রাসঙ্গিক। সারনাথের মন্দির, স্তূপ ও বিহার শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে মানুষের বিশ্বাস, ভক্তি এবং অভিন্ন মানবিক ঐতিহ্যের সাক্ষ্য বহন করছে। এই অসাধারণ ঐতিহ্য সংরক্ষণ করা বর্তমান ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের প্রতি আমাদের সম্মিলিত দায়িত্ব।’   বিশ্বের অন্যতম প্রাচীন জনবসতিপূর্ণ নগরী বারাণসীতে অবস্থিত সারনাথের প্রত্নতাত্ত্বিক ও স্থাপত্য নিদর্শনগুলোই এই বিশ্ব ঐতিহ্য সম্পদের অন্তর্ভুক্ত। বৌদ্ধ ধর্মগ্রন্থ অনুযায়ী, খ্রিস্টপূর্ব ষষ্ঠ শতকে বোধিলাভের পর গৌতম বুদ্ধ সারনাথে এসে তাঁর প্রথম পাঁচ শিষ্যের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন এবং সেখানেই প্রথম ধর্মদেশনা দেন। বৌদ্ধ ধর্মের ইতিহাসে এই ঘটনাকে ধর্মচক্র প্রবর্তনের সূচনা হিসেবে বিবেচনা করা হয়।   পরবর্তী শতাব্দীগুলোতে সারনাথ বৌদ্ধ শিক্ষা, গবেষণা ও তীর্থযাত্রার অন্যতম প্রধান কেন্দ্র হিসেবে গড়ে ওঠে। বিভিন্ন রাজা, দাতা ও বৌদ্ধ ভিক্ষু সম্প্রদায়ের পৃষ্ঠপোষকতায় এখানে অসংখ্য স্তূপ, মন্দির ও বিহার নির্মিত হয়। ফলে সারনাথ বিশ্বের চারটি প্রধান বৌদ্ধ তীর্থস্থানের একটি হিসেবে প্রতিষ্ঠা পায়।   উত্তর প্রদেশ পর্যটন বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ১৯৯৮ সালের ৩ জুলাই সারনাথকে ইউনেস্কোর প্রাথমিক তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল। প্রায় ২৮ বছর পর এটি আনুষ্ঠানিকভাবে বিশ্ব ঐতিহ্য স্থানের মর্যাদা পেল। এর আগে রাজ্যের তিনটি বিশ্ব ঐতিহ্য স্থান ছিল— তাজমহল, আগ্রা ফোর্ট ও ফতেহপুর সিক্রি—যেগুলো আগ্রা অঞ্চলে অবস্থিত।   সারনাথ সেই পবিত্র ভূমি, যেখানে বোধিলাভের পর প্রভু বুদ্ধ মানবজাতির উদ্দেশ্যে তাঁর প্রথম ধর্মদেশনা দেন এবং ‘ধর্মচক্র প্রবর্তন’ শুরু করেন। প্রাচীন বৌদ্ধ গ্রন্থে এটি ‘ঋষিপত্তন’ নামেও উল্লেখিত।   মনোনয়নের কয়েক মাস আগে, ভারতের প্রত্নতাত্ত্বিক জরিপ বিভাগ (এএসআই) সাইটটির ইতিহাস সংশোধনের অংশ হিসেবে পূর্বের ফলকটি পরিবর্তন করে। এতে ঔপনিবেশিক শাসকদের পরিবর্তে স্থানীয় রাজপরিবারকে আবিষ্কারের কৃতিত্ব দেওয়া হয়।   ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর মাসে ‘দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস’ জানায়, ব্রিটিশ প্রত্নতত্ত্ববিদদের কৃতিত্ব দেওয়ার প্রচলিত ধারণা বদলানোর একটি প্রস্তাব আনা হয়েছিল।   জগত সিংহের বংশধর প্রদীপ নারায়ণ সিংহ এক বিবৃতিতে জানান, “প্রামাণ্য নথি ও প্রাথমিক ঐতিহাসিক তথ্য বিশ্লেষণের পর এএসআই স্বীকার করেছে যে, বারাণসীর সারনাথ প্রথম আলোচনায় আসে বাবু জগত সিংহের নির্দেশে পরিচালিত খননের মাধ্যমে।”   ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এক্স-এ এক পোস্টে বলেন, “সারনাথ প্রভু বুদ্ধের সঙ্গে গভীরভাবে জড়িত, যার জ্ঞান, করুণা ও সম্প্রীতির বার্তা বিশ্বকে অনুপ্রাণিত করে। এই স্বীকৃতি ভারতের গভীর সভ্যতা ও আধ্যাত্মিক ঐতিহ্যের উদযাপন।”   সংরক্ষণ স্থপতি অভা নারায়ণ লাম্বা, যিনি সারনাথের ইউনেস্কো মনোনয়ন প্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। তিনি বলেন, “সারনাথের পরিচয় শুধু এর স্থাপত্যেই সীমাবদ্ধ নয়। প্রায় আড়াই হাজার বছর ধরে এখানে বৌদ্ধ তীর্থযাত্রার ঐতিহ্য জীবন্ত রয়েছে—এই সমন্বিত সাংস্কৃতিক ও আধ্যাত্মিক ঐতিহ্যই সারনাথকে বিশ্ব ঐতিহ্যের মর্যাদার জন্য অনন্যভাবে যোগ্য করে তুলেছে।”   সূত্র: ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস

মোঃ ইমরান হোসেন জুলাই ২৬, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

ফ্রান্স-স্পেনে দাবানল: ঘরছাড়া ৩ লাখের বেশি মানুষ, একাধিক প্রাণহানি

হামলার সময় কয়েকজনকে বাড়ির ছাদে অবস্থান করতে দেখা যায়। ছবি : সংগৃহীত

ফিলিস্তিনিদের ব্যক্তিগত গাড়ি জব্দ করছে ইসরায়েলি বাহিনী

ইরান যুদ্ধ নিয়ে ট্রাম্পের জনসমর্থন সর্বনিম্ন পর্যায়ে। ছবি: সংগৃহীত

ইরান যুদ্ধ নিয়ে ট্রাম্পের প্রতি জনসমর্থন কম, বলছে জরিপ

ছবি: সংগৃহীত
ইরাকের এরবিলে সব মার্কিন ঘাঁটি ধ্বংসের দাবি তেহরানের

ইরাকের কুর্দিস্তান অঞ্চলের রাজধানী এরবিলে যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় সব সামরিক অবকাঠামো ধ্বংসের দাবি করেছেন ইরানের সেনাবাহিনী।   ইরানের আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা ফার্সের বরাতে সেনাবাহিনীর মুখপাত্র মোহাম্মদ আক্রমি-নিয়া বলেন, এ অঞ্চলে থাকা মার্কিন সামরিক ঘাঁটির একটি বড় অংশ এখন আর কার্যকর নয়। তিনি আরও দাবি করেন, এরবিলে অবস্থানরত ইরানি কুর্দি বিরোধী গোষ্ঠীগুলোও আর কোনো ধরনের অভিযান চালাতে সক্ষম নয়।   যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সাম্প্রতিক সংঘাত পুনরায় শুরু হওয়ার পর থেকে এরবিলে একাধিক ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা হয়েছে। এসব হামলার লক্ষ্য ছিল মার্কিন বাহিনী ও তাদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট স্থাপনা, পাশাপাশি ইরানি কুর্দি বিরোধী গোষ্ঠীগুলোর অবস্থান। তেহরানের অভিযোগ, এসব গোষ্ঠী কুর্দিস্তান অঞ্চল থেকে ইরানের বিরুদ্ধে হামলা চালিয়ে থাকে।   গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানায়, কুর্দিস্তান অঞ্চলে একটি ইরানি ড্রোন থেকে উদ্ধার করা বিস্ফোরক নিষ্ক্রিয় করার সময় একজন মার্কিন সেনা নিহত এবং আরেকজন আহত হয়েছেন।   কুর্দিস্তান আঞ্চলিক সরকারের তথ্য অনুযায়ী, যুদ্ধের আগের ধাপে ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ২০ এপ্রিল পর্যন্ত কুর্দিস্তান অঞ্চলে মোট ৮০৯টি ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ঘটনা ঘটে। এর মধ্যে ৪৭৭টি হামলাই হয়েছে এরবিলে। এসব হামলায় ২০ জন বেসামরিক মানুষ নিহত এবং ১২৩ জন আহত হন।

মোঃ ইমরান হোসেন জুলাই ২৬, ২০২৬
ছবি - সংগৃহীত

শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের পর মোদি সরকারকে হটানোর আহ্বান রাহুলের

ছবি - সংগৃহীত

ন্যাটোর সর্বোচ্চ সামরিক কার্যালয়ে গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগে নারী ইন্টার্ন গ্রেপ্তার

ছবি - সংগৃহীত

সিজেপির সফল আন্দোলন, পদত্যাগ করলেন ভারতের কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী

ছবি: সংগৃহীত
সৌদি আরবে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালাল হুথিরা

ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীরা সৌদি আরবের জিজান শহরে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানোর দাবি করেছে। সৌদি আরবের বিরুদ্ধে প্রতিশোধ নেওয়ার ঘোষণা দেওয়ার পর শনিবার (২৫ জুলাই) দুপুরে এই হামলার দাবি করে গোষ্ঠীটি। হুথিদের আনসারুল্লাহ-সংশ্লিষ্ট টেলিগ্রাম চ্যানেলের দাবি, ইয়েমেনি ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর জিজানে আগুনের ঘটনা ঘটেছে। এ বরাতে সংবাদমাধ্যম আরটিই খবর প্রকাশ করেছে। এর আগে সৌদি আরব হুথিদের সামরিক স্থাপনায় হামলা চালায়। হুথিরা লোহিত সাগরে সৌদি জাহাজ চলাচলে অবরোধ ঘোষণা এবং জাহাজে হামলার পর এ অভিযান চালানো হয় বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। হুথিরা সৌদি আরবের পদক্ষেপকে বিপজ্জনক উত্তেজনা আখ্যা দিয়ে বলেছে, এর জবাব দেওয়া হবে। এদিকে, হামলার প্রেক্ষাপটে সৌদি আরবের সিভিল ডিফেন্স কর্তৃপক্ষ জিজান ও ইয়ানবু এলাকার বাসিন্দাদের জন্য স্বল্প সময়ের জন্য ‘সম্ভাব্য বিপদ’ সতর্কতা জারি করেছিল। তবে কয়েক মিনিট পরই সেই সতর্কতা প্রত্যাহার করে জানানো হয়, পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত আরও বিস্তৃত হচ্ছে। একই সময়ে হরমুজ প্রণালিতে ইরানের অবরোধ এবং লোহিত সাগরে হুথিদের তৎপরতা আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও আন্তর্জাতিক নৌপরিবহনে নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে। এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ইরানের বিরুদ্ধে আরও বড় ধরনের সামরিক হামলা চালানো হবে কি না, সে বিষয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেননি। তবে তার দাবি, তেহরান বর্তমানে ওয়াশিংটনের সঙ্গে আলোচনায় গুরুত্ব সহকারে অংশ নিচ্ছে।

মোঃ ইমরান হোসেন জুলাই ২৫, ২০২৬
এখনই তুরস্ককে 'এফ-৩৫' যুদ্ধবিমান সরবরাহ করা যাবে না বলে জানিয়েছে মার্কিন পররাষ্ট্র দফতর। ছবি: সংগৃহীত

আইনি শর্ত অসম্পূর্ণ: তুরস্ককে এফ-৩৫ বিমান দিচ্ছে না মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র

ছবি - সংগৃহীত

সরকার সব দাবি মেনেছে, আন্দোলন স্থগিতের ঘোষণা সিজেপির

ছবি : সংগৃহীত

বাকি দাবিও মেনে নেওয়ার আশ্বাস সরকারের, আন্দোলন স্থগিতের আভাস

0 Comments