বিশ্ব

যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের সঙ্গে কতদিন লড়বে ইরান

মোঃ ইমরান হোসেন মার্চ ০২, ২০২৬ 0
ছবি : সংগৃহীত
ছবি : সংগৃহীত

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি এবং প্রতিরক্ষামন্ত্রীসহ শীর্ষ সামরিক কমান্ডারের নিহতের ঘটনা মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিকে এক চরম অনিশ্চয়তার মুখে ঠেলে দিয়েছে। ওয়াশিংটন ও তেল আবিবের ‘ডিক্যাপিটেশন স্ট্র্যাটেজি’ বা নেতৃত্বশূন্য করার কৌশলের জবাবে ইরান তার সব শক্তি দিয়ে পাল্টা আঘাত শুরু করেছে। কাতার, সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ উপসাগরীয় অঞ্চলের মার্কিন ঘাঁটিগুলোয় ইরানি ক্ষেপণাস্ত্রের গর্জন এখন নিয়মিত ঘটনায় পরিণত হয়েছে। এ রক্তক্ষয়ী সংঘাতের আবহে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে—এই যুদ্ধ কি কেবল কয়েক দিনের সীমিত সংঘাত, নাকি এটি একটি দীর্ঘমেয়াদি এবং ভয়াবহ আঞ্চলিক যুদ্ধে রূপ নেবে।

বিশ্লেষকদের মতে, ইরান এখন আর যুদ্ধ এড়ানোর পুরোনো কৌশলে নেই। ২০২৫ সালের জুনে ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় মার্কিন ও ইসরায়েলি হামলার পর তেহরানের নীতিনির্ধারকদের মধ্যে এক ধরনের ‘সংশয়হীনতা’ তৈরি হয়েছে। ইরান বুঝতে পেরেছে, যুদ্ধ কোনো আসন্ন হুমকি নয়; বরং তারা এরই মধ্যে একটি চলমান যুদ্ধের আবর্তে নিমজ্জিত। ইরানের জেনারেলরা এখন বিশ্বাস করেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের এই আধিপত্য চূর্ণ করার একমাত্র উপায় হলো যুদ্ধকে তাদের ‘কমফোর্ট জোন’ থেকে বের করে আনা। অর্থাৎ, দ্রুত ও নিয়ন্ত্রিত সামরিক অভিযানের পরিবর্তে একে এমন এক দীর্ঘস্থায়ী ও ক্ষয়িষ্ণু যুদ্ধে রূপান্তর করা, যার ব্যয়ভার বহন করা ওয়াশিংটন ও তেল আবিবের জন্য অসহনীয় হয়ে উঠবে।

অন্যদিকে, ডোনাল্ড ট্রাম্পের নেতৃত্বাধীন মার্কিন প্রশাসন যদিও শক্তি প্রদর্শনে দ্বিধাহীন, তবুও তারা একটি অনির্দিষ্টকালের ব্যয়বহুল যুদ্ধে জড়িয়ে পড়তে কতটা আগ্রহী, তা নিয়ে সন্দেহ রয়েছে। তবে খামেনির মৃত্যুর পর এই লড়াই ইরানের জন্য অস্তিত্ব রক্ষার লড়াই। ইরানি প্রবাদ ‘একবারই মৃত্যু, একবারই বিলাপ’—এর মর্মার্থ ধারণ করে দেশটি এখন একটি ‘সর্বাত্মক আঞ্চলিক যুদ্ধে’র ঝুঁকি নিতে প্রস্তুত বলে মনে হচ্ছে। ফলে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি বাহিনীর পক্ষ থেকে লড়াই থামানোর ইঙ্গিত না মিললে এই সংঘাত এক দীর্ঘ ও নারকীয় যুদ্ধের দিকে মোড় নিতে পারে।

যুদ্ধের নতুন সমীকরণ ও ইরানের রণকৌশল: যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ অভিযানে ইরানের সর্বোচ্চ নেতার প্রয়াণ দেশটির ক্ষমতার কাঠামোতে বড় ধাক্কা দিলেও তেহরান কয়েক দশক ধরে এ ধরনের পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছে। ইরানের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা কেবল এক ব্যক্তির ওপর নির্ভরশীল নয়; বরং এটি আইআরজিসি, আলেম সমাজ এবং আধা-সামরিক বাহিনীর এক বহুমাত্রিক জাল। সিএনএন ও আলজাজিরার মতো আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের বিভিন্ন বিশ্লেষণে উঠে এসেছে যে, ইরান তার ক্ষেপণাস্ত্র ইউনিটগুলোকে ভৌগোলিকভাবে ছড়িয়ে রেখেছে এবং মাটির গভীরে বিশাল সুড়ঙ্গ নেটওয়ার্ক তৈরি করেছে, যা নেতৃত্বশূন্যতার পরও অভিযান সচল রাখতে সক্ষম।

ইরানের বর্তমান কৌশলের মূল ভিত্তি হলো ‘অপ্রতিসম যুদ্ধ’। সামরিক শক্তিতে যুক্তরাষ্ট্র শ্রেষ্ঠ হলেও, ইরান তার বিশাল ক্ষেপণাস্ত্র ভান্ডার এবং আঞ্চলিক প্রক্সি নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে যুদ্ধের গতিপ্রকৃতি পাল্টে দিতে চায়। খামেনির মৃত্যুর পর দেওয়া এক সতর্কবার্তায় বলা হয়েছিল, ‘তারা যদি এবার যুদ্ধ শুরু করে, তবে তা হবে একটি আঞ্চলিক যুদ্ধ।’ এ বক্তব্যের প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে উপসাগরীয় দেশগুলোর ওপর ইরানের সাম্প্রতিক ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলায়। যদিও সৌদি আরব বা কাতার এ হামলায় সরাসরি অংশ নেয়নি, তবুও তাদের ভূখণ্ডে থাকা মার্কিন ঘাঁটিগুলোকে লক্ষ্যবস্তু বানিয়ে ইরান প্রমাণ করতে চাইছে যে, পুরো অঞ্চল এখন একটি আগ্নেয়গিরির ওপর দাঁড়িয়ে আছে।

দীর্ঘ যুদ্ধের পথে অর্থনৈতিক ও সামরিক সীমাবদ্ধতা: যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হওয়ার পথে ইরানের সবচেয়ে বড় বাধা তার ভঙ্গুর অর্থনীতি। ২০১৮ সালে যুক্তরাষ্ট্র জয়েন্ট কমপ্রিহেনসিভ প্ল্যান অব অ্যাকশন (জেসিপিওএ) থেকে বেরিয়ে যাওয়ার পর থেকে ইরানের ওপর যে নিষেধাজ্ঞা আরোপিত হয়েছে, তা দেশটির মুদ্রাস্ফীতি ও মুদ্রা বাজারকে পঙ্গু করে দিয়েছে। একটি দীর্ঘস্থায়ী উচ্চ-তীব্রতার যুদ্ধ পরিচালনার জন্য যে বিশাল আর্থিক সংস্থান প্রয়োজন, তা জোগান দেওয়া তেহরানের জন্য কঠিন হবে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, তেল রপ্তানি বাধাগ্রস্ত হলে এবং যুদ্ধক্ষেত্রে রাষ্ট্রীয় সম্পদ ব্যয় হলে ইরানে অভ্যন্তরীণ অসন্তোষ ও সামাজিক অস্থিরতা দেখা দিতে পারে।

সামরিক দিক থেকেও ইরানের কিছু স্পষ্ট সীমাবদ্ধতা রয়েছে। ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের অত্যাধুনিক স্টেলথ ফাইটার এবং বিমান শ্রেষ্ঠত্বের বিপরীতে ইরানের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং পুরোনো আমলের বিমানবাহিনী কতক্ষণ টিকবে, তা নিয়ে সন্দেহ রয়েছে। তবে ইরানের সুবিধা হলো তার ‘সহনশীলতা’। পশ্চিমা দেশগুলো যেখানে সামান্য ক্ষয়ক্ষতিতেই জনমতের চাপে পিছু হটতে বাধ্য হয়, সেখানে ইরান দীর্ঘ সময় ধরে ক্ষয়ক্ষতি সহ্য করে লড়াই চালিয়ে যাওয়ার মানসিক সক্ষমতা রাখে। এই ‘অপ্রতিসম রেজল্যুশন’ বা সংকল্পের কারণেই ইরান যুক্তরাষ্ট্রকে একটি অন্তহীন যুদ্ধের জালে আটকাতে চায়।

উপসাগরীয় অঞ্চলের ভবিষ্যৎ ও বৈশ্বিক প্রভাব: যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল বনাম ইরান যুদ্ধ যদি দীর্ঘায়িত হয়, তবে তা বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে বিপর্যয় ডেকে আনবে। বিশ্বের অন্যতম সংবেদনশীল নৌপথ ‘হরমুজ প্রণালি’ অবরুদ্ধ হওয়ার সম্ভাবনা দেখা দিলে তেলের দাম আকাশচুম্বী হবে। এর ফলে এশীয় দেশগুলো, বিশেষ করে চীন ও ভারত তাদের জ্বালানি নিরাপত্তার জন্য বিকল্প খুঁজতে বাধ্য হবে, যা দীর্ঘমেয়াদে উপসাগরীয় অঞ্চলের গুরুত্ব কমিয়ে দিতে পারে।

উপসাগরীয় দেশগুলোর সংগঠন জিসিসির মধ্যেও এই যুদ্ধ বিভাজন তৈরি করতে পারে। কাতার ও ওমান ঐতিহাসিকভাবে তেহরানের সঙ্গে আলোচনার পথ খোলা রাখতে চাইলেও সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাত প্রতিরক্ষা ও দমনের নীতিতে বিশ্বাসী। একটি দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধ এই দেশগুলোকে বাধ্য করবে যে কোনো এক পক্ষ বেছে নিতে। এর ফলে ওই অঞ্চলের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও আধুনিকায়ন থমকে যেতে পারে।

রাশিয়ার ভূমিকা ও ভূ-রাজনৈতিক পুনর্গঠন: বিভিন্ন থিঙ্কট্যাঙ্ক রিপোর্ট অনুযায়ী, মধ্যপ্রাচ্যের এই অস্থিতিশীলতার সুযোগ নিতে পারে রাশিয়া। মস্কো এই সুযোগে ওই অঞ্চলে তাদের অস্ত্র বিক্রি বাড়াতে পারে এবং যুক্তরাষ্ট্রের মনোযোগ ইউক্রেন থেকে সরিয়ে মধ্যপ্রাচ্যে নিবদ্ধ করতে প্ররোচিত করতে পারে। চীনের জন্যও এই যুদ্ধ একটি সুযোগ হতে পারে নিজেকে ‘শান্তি রক্ষাকারী’ মধ্যস্থতাকারী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার, যা গত কয়েক বছর ধরে বেইজিং অত্যন্ত নিপুণভাবে করে আসছে।

অনিশ্চয়তার হাতছানি: পরিশেষে বলা যায়, যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের বর্তমান সংঘাত সামরিক শ্রেষ্ঠত্বের লড়াই নয়; বরং এটি অস্তিত্ব এবং সংকল্পের লড়াই। ইরান যদি তার ‘একবারই মৃত্যু’র দর্শনে অটল থাকে এবং যুক্তরাষ্ট্র যদি আলোচনার পরিবর্তে চূড়ান্ত সামরিক সমাধানের পথে হাঁটে, তবে এই যুদ্ধ কেবল তেহরান বা তেল আবিবে সীমাবদ্ধ থাকবে না। এটি একটি দীর্ঘস্থায়ী আঞ্চলিক যুদ্ধে পরিণত হবে, যা মার্কিন বৈশ্বিক আধিপত্যের পতনকে ত্বরান্বিত করতে পারে।

যুদ্ধের এই প্রেক্ষাপটে ওয়াশিংটনের সামনে এখন দুটি পথ খোলা—হয় ইরানের সঙ্গে একটি নতুন পারমাণবিক সমঝোতায় আসা, অথবা এমন এক আঞ্চলিক যুদ্ধের নরকে ঝাঁপ দেওয়া যার শেষ কোথায় বা কখন, তা কারও জানা নেই। সূত্র: সিএনএন, আলজাজিরা, ইন্ডিয়া টুডে ও রেসপনসিবল স্টেটক্রাফটস।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

কৃষি ব্যাংকে ভুয়া সিবিএ নেতাদের কোটি টাকারও বেশি চাঁদাবাজি

অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।  

হালিম হত্যার আসামিরা পলাতক, ধামাচাপা দিচ্ছে প্রশাসন

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে সংঘটিত এজাহারভুক্ত হত্যা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ ও মিরাজ হোসেন পলাতক রয়েছেন। ব্যাংক প্রশাসন বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। খুনের শিকার কৃষি ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী আব্দুল হালিম ছিলেন কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) সভাপতি। তার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলায়। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি স্থানীয়ভাবে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ১ নম্বর আসামি হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত পিয়ন ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ এবং ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেনের নাম রয়েছে। তারা বর্তমানে নিজেদের সিবিএ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দাবি করে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে প্রভাব বিস্তার করছেন। ব্যাংক সূত্রে গেছে, তারা চাঁদাবাজি, ঘুষ আদায় ও নানা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। সূত্র জানায়, ব্যাংকের ভেতরে একটি সিন্ডিকেটের প্রভাবেই এসব আসামিরা এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন। এই সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে আছেন মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেন। এতে আরও যুক্ত রয়েছেন ডিজিএম সৈয়দ লিয়াকত হোসেন, হাবিব উন নবী, ডিএমডি খালেকুজ্জামান জুয়েল ও ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী। গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর রাতে মতিঝিলের বিমান অফিসের সামনে আব্দুল হালিমের মৃত্যু হয়। পরদিন সকালে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়। মতিঝিল থানার উপ-পরিদর্শক সজীব কুমার সিং সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে জানান, পুরনো সহকর্মীদের সঙ্গে বিরোধের জেরে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং রাত ১টা ৪০ মিনিটে হাসপাতালে মারা যান। হালিমের ছেলে ফয়সাল বলেন, তার বাবা ২০১৪ সাল থেকে কৃষি ব্যাংক সিবিএর সভাপতি ছিলেন এবং বোয়ালখালী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতেন। ইউনিয়নের নেতৃত্ব ও পদ নিয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে গত নভেম্বরেই মতিঝিল থানায় একটি জিডি (নং ০৫/১১/২০২৪ - ৩৩৫) করেছিলেন তার বাবা। তিনি আরও বলেন, বুধবার রাতে আমার বাবাকে তার অফিসের সহকর্মীরা মারধর করে হত্যা করেছে। সিবিএর বর্তমান সাধারণ সম্পাদক নাসিম আহমেদ জানান, ২০১৪ সালে আমরা নির্বাচিত হই। এরপর আর কোনো নির্বাচন হয়নি। কিন্তু গত ৫ আগস্ট বিনা নির্বাচনে নতুন কমিটি ঘোষণা করে আমাদের অফিস দখল করে নেয় ফয়েজ ও মিরাজ। এ নিয়ে মামলা চলছে। মামলার তথ্য অনুযায়ী, আসামিরা অস্থায়ী জামিনে ছিলেন। সম্প্রতি তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। এছাড়া আরও কয়েকজন পলাতক রয়েছেন—যাদের মধ্যে আছেন ড্রাইভার সাইফুল, শাহেদ, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মেহেদী ও অবসরপ্রাপ্ত ক্লিনার সিরাজ। এদিকে, মামলার ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেন নৈমিত্তিক ছুটির আবেদন করে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। যদিও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামির নৈমিত্তিক ছুটি পাওয়ার কোনো এখতিয়ার নেই। মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক এ বিষয়ে বলেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন এবং নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন।  কিন্তু স্থানীয় মুখ্য কার্যালয়ের প্রধান মহাব্যবস্থাপক জানান, তিনি কোনো মন্তব্য করতে চান না। কারণ ব্যবস্থাপনা পরিচালক মন্তব্য না করার নির্দেশ দিয়েছেন। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। অভ্যন্তরীণ এই পরিস্থিতিতে কৃষি ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

ছবি: নিউইয়র্ক টাইমস
হিজবুল্লাহর রকেট হামলায় ইসরায়েলে নিহত ১, আহত অনেকে

  লেবাননভিত্তিক সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর ছোড়া রকেট হামলায় ইসরায়েলের উত্তরাঞ্চলে একজন নিহত হয়েছেন। এতে আহত হয়েছেন আরও অনেকে। উত্তরাঞ্চলের নাহারিয়া শহরে এই হামলা চালানো হয়েছে বলে জানিয়েছে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ। এদিকে দিনভর ইরান ও হিজবুল্লাহর হামলার কারণে তেল আবিব, মধ্যাঞ্চল ও পশ্চিম জেরুজালেমজুড়ে সাইরেন বেজে ওঠে। তেল আবিবসহ গানাই টিকভা ও কাফার কাসিম এলাকায় হামলার প্রভাব পড়ার খবর পাওয়া গেছে। ইসরায়েলি গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, বৃহস্পতিবারের এসব হামলায় অন্তত ২৫ জন আহত হয়েছেন।  সূত্র: আল-জাজিরা

মারিয়া রহমান মার্চ ২৭, ২০২৬ 0
ছবি : রয়টার্স

আলোচনায় না এলে ভয়াবহ পরিণতির মুখে পড়বে ইরান : ট্রাম্প

ছবি : সংগৃহীত

ট্রাম্পের পদক্ষেপে চাপের মুখে নেতানিয়াহু, যুদ্ধ থামানোর সম্ভাবনা

ছবি : সংগৃহীত

আবুধাবিতে ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষের আঘাতে প্রাণ গেল দুইজনের

ছবি: সংগৃহীত
হরমুজ প্রণালি সংকট: একক নির্ভরতা কাটিয়ে ভারতের নতুন কৌশল

আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের মানচিত্রে সবচেয়ে সংবেদনশীল ও কৌশলগত জলপথ হলো হরমুজ প্রণালি। মাত্র ৩৩ কিলোমিটার প্রস্থের সংকীর্ণ এই সমুদ্রপথটি এখন বিশ্ব অর্থনীতির গতিপথ নিয়ন্ত্রণ করছে। চলতি বছর পশ্চিম এশিয়ায় নতুন করে ছড়িয়ে পড়া উত্তেজনা এই প্রণালিকে সাধারণ একটি বাণিজ্যপথ থেকে বৈশ্বিক জ্বালানির বাজার ও শক্তির ভারসাম্যের এক জটিল কেন্দ্রে পরিণত করেছে। বিশ্বের অনেক দেশের কাছে হরমুজ এখন কেবলই একটি ‘ঝুঁকি’, কিন্তু ভারতের জন্য এটি হয়ে দাঁড়িয়েছে কৌশলগত সক্ষমতার বিশাল এক পরীক্ষা।   প্রতিদিন প্রায় ২ কোটি ১০ লাখ ব্যারেল অপরিশোধিত তেল ও জ্বালানি পণ্য এই পথ দিয়ে পরিবহন হয়, যা সমুদ্রপথে বৈশ্বিক তেল বাণিজ্যের প্রায় এক চতুর্থাংশ। যদিও এই পথের বিকল্প কিছু পাইপলাইন রয়েছে, তবে সেগুলোর কোনোটিই হরমুজের বিশাল প্রবাহের সমকক্ষ হতে পারে না। বর্তমান বিশ্ব অর্থনীতি যেহেতু ‘জাস্ট ইন টাইম’ সরবরাহ ব্যবস্থার ওপর নির্ভরশীল, তাই হরমুজে সামান্য অস্থিরতাও দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়ে—তেলের দাম আকাশচুম্বী হয়, জাহাজ পরিবহন ও বীমা ব্যয় বাড়ে এবং বৈশ্বিক আর্থিক বাজারে তৈরি হয় চরম অনিশ্চয়তা। ফলে হরমুজ এখন আর শুধু আঞ্চলিক নয়, বরং এক ভয়াবহ বৈশ্বিক ঝুঁকির উৎসে পরিণত হয়েছে। এক সময় উপসাগরীয় অঞ্চলের জ্বালানির ওপর ভারতের নির্ভরতা ছিল প্রশ্নাতীত। তবে গত এক দশকে নয়াদিল্লির বাণিজ্য কৌশল আমূল বদলেছে। ভারত এখন বাণিজ্য ঝুঁকি মোকাবিলায় বহুমুখী নীতি গ্রহণ করেছে।   এই পরিবর্তনের মূল ভিত্তি হলো পূর্বপ্রস্তুতি। ভারত তার কৌশলগত তেল মজুত বাড়ানোর পাশাপাশি রাষ্ট্রায়ত্ত শোধনাগারগুলোর সক্ষমতা এমন পর্যায়ে নিয়ে গেছে যে, সংকটের সময়ও দেশটি দুই মাসের বেশি সময় অভ্যন্তরীণ জ্বালানি চাহিদা পূরণ করতে সক্ষম। এটি আকস্মিক সরবরাহ বিঘ্নিত হওয়ার অর্থনৈতিক চাপ অনেকটাই কমিয়ে দেয়। দ্বিতীয়ত, ভারত তার আমদানির উৎসও বৈচিত্র্যময় করেছে। বর্তমানে ভারত শুধু মধ্যপ্রাচ্য থেকে নয়, বরং রাশিয়া, যুক্তরাষ্ট্র ও আফ্রিকার বিভিন্ন দেশ থেকে বিপুল পরিমাণ তেল আমদানি করছে। এর ফলে কোনো একটি নির্দিষ্ট অঞ্চলের সংকট ভারতকে আগের মতো প্রভাবিত করতে পারছে না।   তৃতীয় গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো ভারতের ব্যালেন্সিং কূটনীতি। বিভিন্ন প্রতিদ্বন্দ্বী শক্তির সঙ্গে ভারসাম্য বজায় রেখে ‘মাল্টি অ্যালাইনমেন্ট’ নীতির মাধ্যমে ভারত চরম উত্তেজনার মধ্যেও তার জ্বালানি সরবরাহ সচল রাখতে সক্ষম হয়েছে। একই সঙ্গে ভারতের নৌ সক্ষমতাও বড় ভূমিকা পালন করছে। সম্প্রতি ‘অপারেশন সংকল্প’ এর আওতায় ভারতীয় নৌবাহিনী এখন ঝুঁকিপূর্ণ সমুদ্রপথে বাণিজ্যিক জাহাজগুলোকে সরাসরি নিরাপত্তা দিচ্ছে। অত্যাধুনিক নজরদারি বিমান, হেলিকপ্টার ও রিয়েল টাইম তথ্য ব্যবস্থার সমন্বয়ে একটি বহুস্তরীয় নিরাপত্তা কাঠামো গড়ে তোলা হয়েছে। এই উদ্যোগের একটি মানবিক দিকও রয়েছে। উপসাগরীয় অঞ্চলে কর্মরত প্রায় ২০ হাজার ভারতীয় নাবিকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এখন দেশটির অগ্রাধিকার।   তবে এত প্রস্তুতির পরও ভারত পুরোপুরি ঝুঁকিমুক্ত নয়। হরমুজে দীর্ঘমেয়াদি সংকট চললে তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলার ছাড়িয়ে যেতে পারে। এর সরাসরি প্রভাব পড়বে ভারতের মূল্যস্ফীতি ও আমদানি ব্যয়ের ওপর, যা পুরো অর্থনীতিতে অস্থিরতা তৈরি করবে। এছাড়া যুদ্ধের আবহে জাহাজের বীমা ব্যয় বেড়ে যাওয়াও একটি বড় দুশ্চিন্তার কারণ। এই বাস্তবতায় ভারত দীর্ঘমেয়াদি সমাধান হিসেবে বিকল্প বাণিজ্যপথ খুঁজছে। ‘ভারত-মধ্যপ্রাচ্য-ইউরোপ অর্থনৈতিক করিডর’ (আইএমইসি) প্রকল্পের মাধ্যমে সমুদ্রপথের ওপর একক নির্ভরতা কমিয়ে একটি বিকল্প স্থল ও সমুদ্র সংযোগ তৈরির পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।   বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালি এখন কেবল ভূগোলের অংশ নয়, বরং বর্তমান বৈশ্বিক রাজনীতির এক শক্তিশালী প্রতীক। এটি যেমন ঝুঁকি তৈরি করে, তেমনি সুযোগও সৃষ্টি করে। বিশেষ করে যারা কূটনীতি, অর্থনীতি ও সামরিক সক্ষমতার সঠিক সমন্বয় করতে জানে তাদের জন্য। ভারতের বর্তমান কৌশল সক্রিয় নৌ উপস্থিতি, কূটনৈতিক ভারসাম্য ও জ্বালানি উৎসের বহুমুখীকরণ—একটি মধ্যম শক্তি হিসেবে দেশটির উত্থানকে ত্বরান্বিত করছে। বিশ্ব অর্থনীতিতে যখন সরবরাহ ব্যবস্থাকে কৌশলগত অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে, তখন সামুদ্রিক নেতৃত্ব আর ঐচ্ছিক বিষয় নেই, বরং অস্তিত্ব রক্ষার প্রয়োজনে পরিণত হয়েছে। হরমুজ প্রণালি হয়তো আজও অপরিহার্য, কিন্তু ভারতের বর্তমান অবস্থান ইঙ্গিত দিচ্ছে, ভবিষ্যতে এমন এক বাস্তবতা তৈরি হতে পারে, যেখানে একক কোনো সমুদ্রপথ আর কোনো দেশের ভাগ্য নির্ধারণের একক চাবিকাঠি থাকবে না।

মোঃ নাহিদ হোসেন মার্চ ২৬, ২০২৬ 0
ছবি : সংগৃহীত

হরমুজ প্রণালিতে নিরাপত্তা পাবে বাংলাদেশসহ ৬ দেশের জাহাজ

ছবি : সংগৃহীত

ইসরায়েলের সেনা সদর দপ্তরে হিজবুল্লাহর ক্ষেপণাস্ত্র হামলা

স্বাধীনতা দিবসে বাংলাদেশকে শুভেচ্ছা জানাল পাকিস্তান

ছবি : সংগৃহীত
মেলানিয়া ট্রাম্পসহ ফার্স্ট লেডিদের সঙ্গে জুবাইদা রহমানের সাক্ষাৎ

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সহধর্মিণী বিশিষ্ট কার্ডিওলজিস্ট ডা. জুবাইদা রহমান মার্কিন ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্পের আমন্ত্রণে ‘ফস্টারিং দ্য ফিউচার টুগেদার : গ্লোবাল কোয়ালিশন সামিট’ শীর্ষক সম্মেলনে অংশগ্রহণের লক্ষ্যে এক সরকারি সফরে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন ডিসিতে রয়েছেন।   সেখানে তিনি মেলানিয়া ট্রাম্পসহ বিভিন্ন দেশের ফার্স্ট লেডিদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। মঙ্গল ও বুধবার (২৪ ও ২৫ মার্চ) অনুষ্ঠিত এ সম্মেলনে বিশ্বের ৪৫টিরও অধিক দেশের ফার্স্ট লেডি এবং রাষ্ট্রনেতাদের সহধর্মিণীরা অংশগ্রহণ করেন। যা বিশ্বব্যাপী শিশুদের কল্যাণ ও সম্ভাবনা উন্নয়নে উচ্চপর্যায়ের সংলাপের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করছে। ডা. জুবাইদা রহমান একজন চিকিৎসক হিসেবে প্রতিটি শিশুর জন্য সহজলভ্য ও মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতির কথা সম্মেলনে জানান।   তার সফরসঙ্গী হিসেবে রয়েছেন বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মার্কেটিং বিভাগের অধ্যাপক ড. মোর্শেদ হাসান খান, বিশিষ্ট অর্থোপেডিক সার্জন ডা. শাহ মুহাম্মদ আমান উল্লাহ ও ব্যারিস্টার মেহনাজ মান্নান। প্রধানমন্ত্রী অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন তিনি জানান, গতকাল বুধবার (২৫ মার্চ) স্থানীয় সময় সকালে হোয়াইট হাউসে মার্কিন ফার্স্ট লেডি ও সম্মেলনের আয়োজক মেলানিয়া ট্রাম্প ডা. জুবাইদা রহমানসহ আগত সকল অতিথিদের স্বাগত জানান। পরে মার্কিন ফার্স্ট লেডির স্বাগত বক্তব্যের মাধ্যমে সম্মেলনের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হয়।   এ সময় জুবাইদা রহমান আবারও শিশুদের জন্য একটি নিরাপদ ভবিষ্যৎ বিনির্মাণে সকলকে ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান। ডা. জুবাইদা এরপর মেলানিয়া ট্রাম্পের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ এবং কুশল বিনিময় করেন। এ ছাড়াও তারা শিশুদের কল্যাণে একযোগে কাজ করার জন্য একমত হন।   প্রধানমন্ত্রী অতিরিক্ত প্রেস সেক্রেটারি আরও জানান, এ ধরনের গুরুত্বপূর্ণ সম্মেলন আয়োজনের জন্য মেলানিয়া ট্রাম্পকে বিশেষভাবে ধন্যবাদ জানান ডা. জুবাইদা রহমান। পাশাপাশি বিভিন্ন দেশের ফার্স্ট লেডি ও রাষ্ট্রনেতাদের সহধর্মিণীদের সঙ্গেও সৌজন্য সাক্ষাত ও কুশলাদি বিনিময় করেন তিনি। পরে ডা. জুবাইদা ‘ফস্টারিং দ্য ফিউচার টুগেদার: গ্লোবাল কোয়ালিশন সামিট’ শীর্ষক সম্মেলনের সমাপনী অধিবেশনে অংশগ্রহণ করেন।   সবশেষে গ্রুপ ফটো সেশন ও রিসিপশনে অংশ নেন ডা. জুবাইদা রহমান। আগে, মঙ্গলবার সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য রাখেন তিনি। তার বক্তব্যে শিশুদের জীবনমান উন্নয়নে বাংলাদেশ সরকারের গৃহীত বিভিন্ন যুগান্তকারী পদক্ষেপ ও উদ্যোগের কথা তুলে ধরেন। অংশগ্রহণকারী বিশ্বনেতাদের প্রতিনিধিরা বাংলাদেশের এই অভিজ্ঞতার বিষয়ে গভীর আগ্রহ প্রকাশ করেন এবং শিশুদের কল্যাণে বাংলাদেশের সঙ্গে একযোগে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।   সম্মেলনে হোয়াইট হাউসের পক্ষে ডা. জুবাইদা রহমানের সাক্ষাৎকার নেওয়া হয়। এ সময় এক প্রশ্নের জবাবে ডা. জুবাইদা রহমান বলেন, বাংলাদেশ বৈশ্বিক অভিজ্ঞতা থেকে জ্ঞানার্জন এবং বিশ্বের সকল শিশুর উজ্জ্বল ভবিষ্যতের জন্য অন্যান্য ফার্স্ট লেডি ও স্পাউসদের সাথে অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে কাজ করতে অঙ্গীকারবদ্ধ। সম্মেলনটি মার্কিন ফার্স্ট লেডি আয়োজিত একটি বিশেষ সংবর্ধনার মধ্য দিয়ে সমাপ্ত হয়। এ ছাড়াও সম্মেলনের পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষস্থানীয় ১১টি প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের অংশগ্রহণে একটি প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে শিশুদের শিক্ষার উন্নয়নে বিভিন্ন উদ্ভাবনী প্রযুক্তি ও প্রয়োগ উপস্থাপন করা হয়। ডা. জুবাইদা রহমান এবং তার প্রতিনিধিদল সেই প্রদর্শনী ঘুরে দেখেন।  

মোঃ নাহিদ হোসেন মার্চ ২৬, ২০২৬ 0
সংগৃহীত ছবি

রাশিয়ার তেল আমদানিতে দক্ষিণ কোরিয়ার ‘গ্রিন সিগন্যাল’

সংগৃহীত ছবি

আবারও ইরানের বিদ্যুৎ কেন্দ্রে হামলার হুমকি ট্রাম্পের

ছবি : সংগৃহীত

হার না মানলে আরও কঠোর হামলা—যুক্তরাষ্ট্রের হুঁশিয়ারি ইরানকে

0 Comments