জ্বালানি তেলের ক্রমবর্ধমান দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে সমুদ্রপথে থাকা রাশিয়ার তেল ও পেট্রোলিয়াম পণ্য বিক্রির ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা আরও এক মাস শিথিল করেছে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন।
ওয়াশিংটন থেকে এএফপি এ তথ্য জানায়।
শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি বিভাগ এ সংক্রান্ত একটি লাইসেন্স বা অনুমতিপত্র জারি করেছে। এর মাত্র দুই দিন আগে অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট জানিয়েছিলেন যে, ওয়াশিংটন এই নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ আর বাড়াবে না।
নতুন এই সিদ্ধান্তের ফলে শুক্রবার পর্যন্ত যেসব জাহাজে তেল ও পেট্রোলিয়াম পণ্য বোঝাই করা হয়েছে, সেগুলো আগামী ১৬ মে রাত ১২টা ০১ মিনিট (জিএমটি ০৪:০১) পর্যন্ত কেনা যাবে। এর আগে গত ১১ এপ্রিল এই সংক্রান্ত আগের দফার সময়সীমা শেষ হয়েছিল।
এর আগে গত বুধবার বেসেন্ট সাংবাদিকদের জানিয়েছিলেন, যুক্তরাষ্ট্র রাশিয়া বা ইরানÑকারও তেলের ক্ষেত্রেই নিষেধাজ্ঞার এই শিথিলতা বজায় রাখবে না।
মূলত ইরান ও ইসরাইলের মধ্যে চলমান যুদ্ধের ফলে বিশ্ববাজারে তেলের সরবরাহে যে বড় ধরনের সংকট তৈরি হয়েছে, তা সামাল দিতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছিল। এই যুদ্ধের প্রতিক্রিয়ায় তেহরান সমুদ্রপথে জ্বালানি পরিবহনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পথ ‘হরমুজ প্রণালী’ কার্যত বন্ধ করে দেয়।
এর ফলে বিশ্ববাজারে তেলের দাম বেড়ে যায়। বিশেষ করে যেসব দেশ জ্বালানি আমদানির ওপর নির্ভরশীল, তারা চরম সংকটে পড়ে। যুক্তরাষ্ট্রেও পেট্রোলের দাম অনেক বেড়ে গেছে। সামনে দেশটিতে গুরুত্বপূর্ণ মধ্যবর্তী নির্বাচন থাকায় সাধারণ মানুষের ওপর এই মূল্যবৃদ্ধির চাপ ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য বড় দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
তবে তেলের ওপর এই নিষেধাজ্ঞা শিথিল করার ফলে ইউক্রেন যুদ্ধে রাশিয়ার অর্থ উপার্জনের পথ বন্ধ করার যে বৈশ্বিক চেষ্টা চলছে, তা বাধাগ্রস্ত হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
চলতি সপ্তাহে ওয়াশিংটনে জি-সেভেন ভুক্ত দেশগুলোর অর্থমন্ত্রীদের এক বৈঠকের পর ফরাসি অর্থমন্ত্রী রোল্যান্ড লেসকিউর জোর দিয়ে বলেন, ‘ইরানে যা ঘটছে তার সুবিধা যেন কোনোভাবেই রাশিয়া না পায়।’
তিনি আরও সতর্ক করে বলেন, এই পরিস্থিতির কারণে ইউক্রেন যেন ক্ষতিগ্রস্ত না হয়।
২০২২ সালে ইউক্রেনে রাশিয়ার সামরিক অভিযান শুরুর পর থেকে এটি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ইউরোপের সবচেয়ে রক্তক্ষয়ী সংঘাতে পরিণত হয়েছে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে সংঘটিত এজাহারভুক্ত হত্যা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ ও মিরাজ হোসেন পলাতক রয়েছেন। ব্যাংক প্রশাসন বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। খুনের শিকার কৃষি ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী আব্দুল হালিম ছিলেন কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) সভাপতি। তার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলায়। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি স্থানীয়ভাবে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ১ নম্বর আসামি হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত পিয়ন ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ এবং ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেনের নাম রয়েছে। তারা বর্তমানে নিজেদের সিবিএ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দাবি করে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে প্রভাব বিস্তার করছেন। ব্যাংক সূত্রে গেছে, তারা চাঁদাবাজি, ঘুষ আদায় ও নানা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। সূত্র জানায়, ব্যাংকের ভেতরে একটি সিন্ডিকেটের প্রভাবেই এসব আসামিরা এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন। এই সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে আছেন মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেন। এতে আরও যুক্ত রয়েছেন ডিজিএম সৈয়দ লিয়াকত হোসেন, হাবিব উন নবী, ডিএমডি খালেকুজ্জামান জুয়েল ও ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী। গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর রাতে মতিঝিলের বিমান অফিসের সামনে আব্দুল হালিমের মৃত্যু হয়। পরদিন সকালে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়। মতিঝিল থানার উপ-পরিদর্শক সজীব কুমার সিং সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে জানান, পুরনো সহকর্মীদের সঙ্গে বিরোধের জেরে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং রাত ১টা ৪০ মিনিটে হাসপাতালে মারা যান। হালিমের ছেলে ফয়সাল বলেন, তার বাবা ২০১৪ সাল থেকে কৃষি ব্যাংক সিবিএর সভাপতি ছিলেন এবং বোয়ালখালী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতেন। ইউনিয়নের নেতৃত্ব ও পদ নিয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে গত নভেম্বরেই মতিঝিল থানায় একটি জিডি (নং ০৫/১১/২০২৪ - ৩৩৫) করেছিলেন তার বাবা। তিনি আরও বলেন, বুধবার রাতে আমার বাবাকে তার অফিসের সহকর্মীরা মারধর করে হত্যা করেছে। সিবিএর বর্তমান সাধারণ সম্পাদক নাসিম আহমেদ জানান, ২০১৪ সালে আমরা নির্বাচিত হই। এরপর আর কোনো নির্বাচন হয়নি। কিন্তু গত ৫ আগস্ট বিনা নির্বাচনে নতুন কমিটি ঘোষণা করে আমাদের অফিস দখল করে নেয় ফয়েজ ও মিরাজ। এ নিয়ে মামলা চলছে। মামলার তথ্য অনুযায়ী, আসামিরা অস্থায়ী জামিনে ছিলেন। সম্প্রতি তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। এছাড়া আরও কয়েকজন পলাতক রয়েছেন—যাদের মধ্যে আছেন ড্রাইভার সাইফুল, শাহেদ, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মেহেদী ও অবসরপ্রাপ্ত ক্লিনার সিরাজ। এদিকে, মামলার ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেন নৈমিত্তিক ছুটির আবেদন করে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। যদিও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামির নৈমিত্তিক ছুটি পাওয়ার কোনো এখতিয়ার নেই। মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক এ বিষয়ে বলেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন এবং নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন। কিন্তু স্থানীয় মুখ্য কার্যালয়ের প্রধান মহাব্যবস্থাপক জানান, তিনি কোনো মন্তব্য করতে চান না। কারণ ব্যবস্থাপনা পরিচালক মন্তব্য না করার নির্দেশ দিয়েছেন। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। অভ্যন্তরীণ এই পরিস্থিতিতে কৃষি ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
ইরান যুক্তরাষ্ট্রকে ‘ব্ল্যাকমেইল’ করতে পারবে না বলে জানিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়, ওভাল অফিসে নির্বাহী আদেশে স্বাক্ষরের আগে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ইরান প্রসঙ্গে এমন দাবি করেন তিনি। ট্রাম্প বলেন, ইরান নিয়ে ‘খুব ভালো আলোচনা চলছে’। তিনি দেশটি নিয়ে আরো বলেন, গত ৪৭ বছর ধরে যেমন আচরণ করছে তারা, এবারও তেমনই একটু চতুরভাবে আচরণ করছে। ট্রাম্প দাবি করেন, ইরানি নেতৃত্ব হরমুজ প্রণালি বন্ধ করতে চায়। যুক্তরাষ্ট্র তা হতে দেবে না এবং তাদের ‘ব্ল্যাকমেইল’ করতেও দেবে না। তিনি জানান, যুক্তরাষ্ট্র কঠোর অবস্থান বজায় রাখছে। ট্রাম্প বলেন, ইরান প্রসঙ্গে দিনের শেষে ‘কিছু তথ্য’ পাওয়া যাবে। তবে তিনি সাংবাদিকদের কাছ থেকে সংঘাত নিয়ে সরাসরি কোনো প্রশ্ন নেননি। এদিকে শত্রুদের নতুন পরাজয়ের স্বাদ দিতে ইরান প্রস্তুত বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনি। দ্য ডন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্সে দেওয়া আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনির একাধিক পোস্ট নিয়ে এই প্রতিবেদন করেছে। এক্সে দেওয়া এক পোস্টে আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনি বলেন, ‘যেভাবে ইরানের সেনাবাহিনীর ড্রোনগুলো বজ্রের মতো যুক্তরাষ্ট্র ও জায়নবাদী হত্যাকারীদের ওপর আঘাত হানে। তেমনি আমাদের সাহসী নৌবাহিনীও শত্রুদের নতুন করে কঠিন পরাজয় দিতে প্রস্তুত।’ আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনি বলেছেন, “ইরানের সেনাবাহিনী দেশকে বিভক্ত করার প্রচেষ্টা, যুক্তরাষ্ট্রের ‘অশুভ পরিকল্পনা’ এবং অভ্যন্তরীণ-আন্তর্জাতিক শত্রুদের মোকাবেলা করে একটি ‘ঐতিহাসিক কীর্তি’ গড়ে তুলেছে।” এক্সের একাধিক পোস্টে খামেনি দাবি করেন, ইরানের সশস্ত্র বাহিনী বর্তমানে ভূমি, জলসীমা এবং জাতীয় পতাকার সুরক্ষায় অত্যন্ত সাহসিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছে। খামেনির মতে, সেনাবাহিনী শুধু প্রতিরক্ষা নয়, বরং দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় একটি শক্তিশালী প্রতীক হিসেবেও কাজ করছে।
হরমুজ প্রণালীতে নৌচলাচলের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে একটি বহুজাতিক মিশনের নেতৃত্ব দেবে ফ্রান্স ও যুক্তরাজ্য। শুক্রবার তারা এ ঘোষণা দিয়েছে। তবে তারা স্পষ্ট করেছে, এই বাহিনী হবে সম্পূর্ণ প্রতিরক্ষামূলক এবং ওই অঞ্চলে স্থায়ী শান্তিচুক্তি স্বাক্ষরের পরেই কেবল এটি মোতায়েন করা হবে। প্যারিস থেকে এএফপি এ তথ্য জানায়। যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার এবং ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাখোঁ এ বাহিনী গঠনের বিষয়টি নিশ্চিত করেন। প্যারিসে হরমুজ প্রণালির মাধ্যমে অবাধ বাণিজ্য প্রবাহ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে আয়োজিত আন্তর্জাতিক আলোচনায় তারা যৌথভাবে সভাপতিত্ব করেন। ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে অনুষ্ঠিত এই সম্মেলনে ইউরোপ ও এশিয়ার মোট ৪৯টি দেশ অংশ নেয়। এতে কয়েক ডজন রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানসহ বিভিন্ন স্তরের প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন। যুদ্ধরত পক্ষ হওয়ায় যুক্তরাষ্ট্র বা ইরান কেউই এ বৈঠকে অংশ নেয়নি। ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইল ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করার পর দেশটি এই অবরোধ আরোপ করে। এর ফলে বিশ্ব অর্থনীতিতে বড় ধরনের প্রভাব পড়ে। মুদ্রাস্ফীতি নিয়ে উদ্বেগ, জ্বালানি সরবরাহে অনিশ্চয়তা এবং খাদ্য সংকটের আশঙ্কা তৈরি হয়। তবে বাজার পরিস্থিতি স্থিতিশীল হয়, যখন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচি প্যারিস আলোচনার সময় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ এক পোস্টে জানান, মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধবিরতি বজায় থাকা পর্যন্ত হরমুজ প্রণালী বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের জন্য উন্মুক্ত থাকবে। স্টারমার বলেন, বহুজাতিক এই মিশন ‘পরিস্থিতি অনুকূলে আসামাত্রই’ মোতায়েন করা যেতে পারে। তিনি বলেন, এটি একটি শান্তিপূর্ণ ও প্রতিরক্ষামূলক মিশন হবে। এর লক্ষ্য বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলে আস্থা তৈরি করা এবং মাইন অপসারণে সহায়তা করা। তিনি আরও জানান, এক ডজনেরও বেশি দেশ ইতোমধ্যে সম্পদ দিয়ে সহায়তার প্রস্তাব দিয়েছে। মাখোঁ বলেন, নেতারা তেহরানের ঘোষণাকে স্বাগত জানিয়েছেন। তবে সব পক্ষের জন্য পূর্ণ ও নিঃশর্তভাবে প্রণালী পুনরায় চালুর আহ্বান জানিয়েছেন। ফরাসি প্রেসিডেন্ট বলেন, এই ঘোষণা বহুজাতিক মিশনটিকে আরও গুরুত্বপূর্ণ করে তুলেছে। এটি স্বল্পমেয়াদে পরিস্থিতি স্থিতিশীল করতে এবং ভবিষ্যতে স্থায়ী সমাধানের পথ তৈরি করবে। তিনি এই মিশনকে ‘নিরপেক্ষ’ এবং যুদ্ধরত পক্ষগুলো থেকে সম্পূর্ণ পৃথক বলেও বর্ণনা করেন। বৈঠকে উপস্থিত ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি বলেন, তার দেশ এই বাহিনীতে অংশ নিতে প্রস্তুত। তবে তিনি জোর দিয়ে বলেন, প্রথমে যুদ্ধবিরতি প্রয়োজন। জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মের্ৎস বলেন, এই মিশনে যুক্তরাষ্ট্রের অংশগ্রহণ ‘কাম্য’ হবে। যুদ্ধ শেষ করার কূটনৈতিক প্রচেষ্টায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাব কমে যাওয়ার প্রেক্ষাপটে এই বৈঠককে ইউরোপের জন্য নিজের সক্ষমতা প্রদর্শনের সুযোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে। একই সঙ্গে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক ক্ষতি রোধের বিষয়টিও সামনে এসেছে। তেহরানের ঘোষণার পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বলেন, তিনি হরমুজ প্রণালী সুরক্ষায় ন্যাটোর সহায়তার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছেন এবং এই জোটকে দূরে থাকতে বলেছেন। তবে, তিনি প্যারিস আলোচনার প্রসঙ্গ উল্লেখ করছিলেন কি না, তা স্পষ্ট নয়। ওই আলোচনায় ন্যাটোর কোনো প্রতিনিধি ছিলেন না। স্টারমার বলেন, ‘বিশ্বের জন্য হরমুজ প্রণালী পুরোপুরি খোলা থাকা জরুরি। এতে জনগণের জন্য মূল্য নিয়ন্ত্রণে রাখা এবং বৈশ্বিক অর্থনৈতিক ক্ষতি এড়ানো সম্ভব হবে।’ তিনি ইরানের হরমুজ প্রণালীকে পুনরায় খোলার ঘোষণাকে স্বাগত জানান। তবে সতর্ক করে বলেন, ‘এটি অবশ্যই স্থায়ী ও কার্যকর হতে হবে।’ স্টারমারের কার্যালয় জানিয়েছে, আগামী সপ্তাহে লন্ডনের বাইরে নর্থউডে যুক্তরাজ্যের সামরিক কমান্ড সদর দপ্তরে সামরিক প্রধানগণ আরও বৈঠকে বসবেন। সেখানে বিষয়গুলো চূড়ান্ত করা হবে।
দুবাই ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্টের কাছে নির্মিত হলো বিশ্বের প্রথম এয়ার ট্যাক্সি স্টেশন। গত বৃহস্পতিবার সংযুক্ত আরব আমিরাতের ক্রাউন প্রিন্স শেখ হামদান বিন মোহাম্মেদ বিন রাশিদ আল মাকতুম বিশ্বের প্রথম এ এয়ার ট্যাক্সি স্টেশনটির উদ্বোধন করেন। এ সময় তিনি স্টেশনটিতে এয়ার ট্যাক্সির ভার্টিক্যাল উড্ডয়ন ও অবতরণের বিষয়টি পর্যালোচনা করেন। গন্তব্যে দ্রুত পৌঁছানোর পাশাপাশি সময় সাশ্রয়ের লক্ষ্যে এমন পদক্ষেপ নেওয়ার কথা জানিয়েছে দুবাই কর্তৃপক্ষ। এয়ার ট্যাক্সির মাধ্যমে পাম জুমেইরাহ এবং দুবাই মেরিনাসহ আশপাশের সিটিগুলো থেকে দুবাইয়ে দ্রুত পৌঁছানো সম্ভব হবে। প্রকল্পটির যাবতীয় কাজ চলতি বছরের শেষ নাগাদ সম্পন্ন হবে বলে আশা কর্তৃপক্ষের। এ প্রকল্পকে দুবাইয়ের অন্যতম একটি মাইলফলক হিসেবে আখ্যা দিয়ে ক্রাউন প্রিন্স বলেন, তারা অসম্ভবকে বাস্তবে রূপ দিয়েছেন। একইসঙ্গে এর মাধ্যমে আকাশপথে গতিশীল পরিবহন ব্যবস্থার প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের পথেও আরেক ধাপ এগিয়ে যাওয়ার কথাও জানান তিনি। চলতি বছর থেকেই এয়ার ট্যাক্সির যাত্রা শুরু হবে। এর মাধ্যমে বছরে প্রায় ১ লাখ ৭০ হাজার যাত্রী পরিবহন করা সম্ভব হবে বলেও জানিয়েছে দেশটির রোডস অ্যান্ড ট্রান্সপোর্ট অথরিটি। তিন হাজার একশ বর্গমিটার এলাকায় নির্মিত চারতলা বিশিষ্ট স্টেশনটিতে হেলিপ্যাডের মতো দু’টি এয়ার ট্যাক্সি প্যাড রয়েছে। এ ছাড়া দুটি তলায় কার পার্কিং ব্যবস্থা, চার্জিং অবকাঠামো এবং শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত যাত্রী সুবিধাও রয়েছে। স্টেশনটিতে আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা মান নিশ্চিত করা হয়েছে। এর নকশা ও নির্মাণের পাশাপাশি অবকাঠামো পরিচালনার দায়িত্ব পালন করবে আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান স্কাইপোর্টস। অন্যদিকে জোবি এভিয়েশন এয়ার ট্যাক্সির নির্মাণ ও পরিচালনার পাশাপাশি যাত্রী ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব পালন করবে। আর সামগ্রিক ব্যবস্থাপনা দেখভাল করবে রোডস ট্রান্সপোর্ট অথরিটি। এয়ার ট্যাক্সি স্টেশনটি নির্মাণের পাশাপাশি জোবি গত বছরের নভেম্বরে প্রথম পরীক্ষামূলক এয়ার ট্যাক্সি ফ্লাইট সম্পন্ন করে। প্রথমবার যাত্রায় মাত্র ১৭ মিনিটে মারঘাম থেকে আল মাকতুম ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্টে পৌঁছে এ ট্যাক্সি।