মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সম্ভাব্য চুক্তি এ সপ্তাহান্তেই ইউরোপে স্বাক্ষর হতে পারে। তবে তিনি নিজে সেখানে না থাকলেও মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জে.ডি. ভ্যান্স উপস্থিত থাকবেন। খবর আলজাজিরার।
ট্রাম্প আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চুক্তি স্বাক্ষর হলেই হরমুজ প্রণালি আবার খুলে দেওয়া হবে। এই প্রণালি বিশ্ব জ্বালানি পরিবহনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি সমুদ্রপথ।
এদিকে ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে পরিকল্পিত সামরিক হামলা ও বোমাবর্ষণ বাতিল করেছেন। তিনি দাবি করেন, ইরানের সর্বোচ্চ নেতৃত্বের সঙ্গে আলোচনার পর এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
তবে ইরানের পক্ষ থেকে এখনো এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ পাওয়া যায়নি।
এর আগে ট্রাম্প বলেছিলেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ওপর খুব শক্তিশালী হামলা চালাতে পারে এবং দেশটির গুরুত্বপূর্ণ তেল স্থাপনা ও খার্গ দ্বীপ নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
অন্যদিকে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় যুক্তরাষ্ট্রের হামলাকে নিন্দা জানিয়ে বলেছে, এতে চলমান যুদ্ধবিরতি কার্যত অকার্যকর হয়ে গেছে।
ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) দাবি করেছে, তারা জর্ডান, কুয়েত ও বাহরাইনে থাকা মার্কিন ঘাঁটিগুলোতে পাল্টা হামলা চালিয়েছে।
এ ছাড়া ইরানের সামরিক বাহিনী হরমুজ প্রণালী দিয়ে সব ধরনের জাহাজ চলাচল বন্ধ করে দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে, যা বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহে বড় প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত বৈশ্বিক অর্থনীতির প্রবৃদ্ধি কমিয়ে দেবে বলে সতর্ক করেছে বিশ্বব্যাংক। এর ফলে জ্বালানির দাম বৃদ্ধি, মুদ্রাস্ফীতি ও ঋণের খরচ বাড়বে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৬ সালে বিশ্ব অর্থনীতির প্রবৃদ্ধি কমে ২.৫ শতাংশে নামতে পারে, যা ২০২৫ সালে ছিল ২.৯ শতাংশ। ২০২৭ সালে প্রবৃদ্ধি কিছুটা বেড়ে ২.৮ শতাংশে পৌঁছালেও তা আগের স্বাভাবিক গড়ের নিচে থাকবে। বিশ্বব্যাংক আরও জানায়, হরমুজ প্রণালির উত্তেজনা ও সরবরাহ ব্যাঘাতের কারণে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে চাপ তৈরি হয়েছে। এর ফলে ২০২৬ সালে ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম গড়ে ব্যারেলপ্রতি প্রায় ৯৪ ডলার পর্যন্ত উঠতে পারে। এছাড়া খাদ্য ও জ্বালানির দাম বৃদ্ধির কারণে ২০২৬ সালে বৈশ্বিক মুদ্রাস্ফীতি ৪ শতাংশে পৌঁছাতে পারে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। বিশ্বব্যাংকের মতে, পরিস্থিতি আরও খারাপ হলে বিশ্ব অর্থনীতির প্রবৃদ্ধি কমে ১.৩ শতাংশে নেমে আসতে পারে, যা উন্নয়নশীল দেশগুলোর ওপর সবচেয়ে বেশি চাপ সৃষ্টি করবে। সংস্থাটি জানিয়েছে, সংকট মোকাবিলায় তারা ৫০–৬০ বিলিয়ন ডলারের অর্থ সহায়তা প্রস্তুত রেখেছে, যা প্রয়োজন হলে ১০০ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করা হতে পারে। সূত্র : শাফাক নিউজ
ইউক্রেনের জাতীয় পুলিশ প্রধান অভিযোগ করেছেন, ইউক্রেনের কিশোরী ও তরুণীদের অর্থের প্রলোভন দেখিয়ে দেশটির সেনাসদস্যদের হত্যার কাজে নিয়োগ দিচ্ছে রাশিয়া। সম্প্রতি এক ১৭ বছর বয়সী তরুণীকে গ্রেপ্তারের পর এমন দাবি সামনে এসেছে। ইউক্রেনের জাতীয় পুলিশ প্রধান ইভান ভিহিভস্কি দেশটির সংবাদমাধ্যম সেঞ্জর ডট নেটকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, চলতি বছরে টেলিগ্রাম অ্যাপের মাধ্যমে সংগঠিত চুক্তিভিত্তিক হত্যার অন্তত ৬টি ঘটনা শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্যে একটি ঘটনা প্রতিরোধ করা সম্ভব হয়েছে। খবর রয়টার্সের। তিনি বলেন, ‘এগুলো পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড, যা আগ্রাসী রাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থাগুলো সংগঠিত করছে এবং ইউক্রেনীয় নাগরিকদের মাধ্যমে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।’ ভিহিভস্কির দাবি, রুশ নিয়োগকারীরা বিভিন্ন মেসেজিং প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে তরুণীদের খুঁজে বের করে সহজে অর্থ আয়ের প্রলোভন দেখাত এবং দূর থেকে তাদের কার্যক্রম সমন্বয় করত। তদন্তে জানা গেছে, ওই তরুণীদের ডেটিং ওয়েবসাইট ব্যবহার করে ইউক্রেনীয় সেনাসদস্যদের খুঁজে বের করার নির্দেশ দেওয়া হতো। তাদের সঙ্গে দেখা করার জন্য অ্যাপার্টমেন্ট ভাড়া নেওয়ার খরচও সরবরাহ করা হতো। পুলিশ প্রধান আরও জানান, তরুণীদের এমন স্থান সম্পর্কে তথ্য দেওয়া হতো, যেখান থেকে তারা মেথাডোন সংগ্রহ করতে পারবে। মেথাডোন একটি কৃত্রিম ওপিওয়েড, যা ব্যথানাশক হিসেবে ব্যবহৃত হলেও অতিরিক্ত মাত্রায় প্রাণঘাতী হতে পারে। অভিযোগ অনুযায়ী, সেনাসদস্যদের পানীয়তে এই পদার্থ মিশিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হতো। ইউক্রেনের নিরাপত্তা সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, যুদ্ধ শুরুর পর থেকে দেশটির ১১০০ জনের বেশি নাগরিকের বিরুদ্ধে অগ্নিসংযোগ, নাশকতা, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড বা রাষ্ট্রের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতার অভিযোগ আনা হয়েছে। গত সপ্তাহে পশ্চিমাঞ্চলীয় ঝিটোমির অঞ্চলে এক সেনাসদস্যকে বিষ প্রয়োগের ঘটনায় ১৭ বছর বয়সী এক তরুণীকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তদন্তকারীদের দাবি, তিনি টেলিগ্রামের মাধ্যমে এমন এক ব্যক্তির সঙ্গে যোগাযোগ রাখছিলেন, যিনি সম্ভবত রুশ নিরাপত্তা সংস্থার এজেন্ট। পুলিশ জানিয়েছে, ওই তরুণীর কাছে একটি স্ফটিকজাতীয় পদার্থসমৃদ্ধ পার্সেল পাওয়া গেছে, যা মেথাডোন বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে এ বিষয়ে রাশিয়ার নিরাপত্তা সংস্থা এফএসবির কোনো তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। রাশিয়া বরাবরই ইউক্রেনের বিরুদ্ধে একই ধরনের অভিযোগ করে আসছে এবং উভয় পক্ষই একে অপরের বিরুদ্ধে গুপ্তচরবৃত্তি ও নাশকতার অভিযোগ তুলছে।
বিশ্বজুড়ে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি, রক্ষণাবেক্ষণ ও উন্নয়নে ব্যয় গত বছর রেকর্ড পরিমাণ বেড়েছে। একই সঙ্গে পারমাণবিক শক্তিধর দেশগুলো তাদের মজুতাগার থেকে আরও বেশি ওয়ারহেড (ক্ষেপণাস্ত্রসহ অন্যান্য যুদ্ধাস্ত্র) সক্রিয় উৎক্ষেপণব্যবস্থায় স্থানান্তর করেছে। বিশেষজ্ঞরা গত মঙ্গলবার এ তথ্য জানিয়েছেন। পারমাণবিক অস্ত্র বিলোপে কাজ করা আন্তর্জাতিক জোট ইন্টারন্যাশনাল ক্যাম্পেইন টু অ্যাবোলিশ নিউক্লিয়ার ওয়েপনস (আইক্যান) এক গবেষণা প্রতিবেদনে বলেছে, গত বছর পারমাণবিক অস্ত্রধারী ৯টি দেশ সম্মিলিতভাবে তাদের অস্ত্রাগারের পেছনে প্রায় ১১ হাজার ৯০০ কোটি ডলার ব্যয় করেছে, যা ২০২৪ সালের তুলনায় ১৯ শতাংশ বেশি। আইক্যানের প্রতিবেদনে সতর্ক করে বলা হয়, ‘আমরা এখন নতুন একটি পারমাণবিক অস্ত্র প্রতিযোগিতার দ্বারপ্রান্তে আছি।’ গত সোমবার স্টকহোম ইন্টারন্যাশনাল পিস রিসার্চ ইনস্টিটিউট (সিপ্রি) পৃথক একটি গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। এতে সতর্ক করে বলা হয়েছে, বর্তমানে ব্যাপক ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার মধ্যে পারমাণবিক ঝুঁকি বাড়ছে। একই উদ্বেগ জানিয়েছে আইক্যানও। উভয় গবেষণায় বলা হয়, বিভিন্ন দেশ তাদের পারমাণবিক অস্ত্রভান্ডার আধুনিক করছে এবং আরও বেশি অস্ত্র মোতায়েনের প্রস্তুতি নিচ্ছে। এ কারণেই ব্যয় দ্রুত বাড়ছে। আইক্যানের কর্মসূচি পরিচালক ও সর্বশেষ গবেষণা প্রতিবেদনের সহলেখক সুসি স্নাইডার বলেন, পারমাণবিক অস্ত্রভান্ডারের এ সম্প্রসারণ উদ্বেগজনক। এর সঙ্গে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের ঝুঁকি আরও বাড়াতে পারে। এএফপিকে তিনি বলেন, ‘সত্যি বলতে গেলে, আমি আতঙ্কিত।’ ঝুঁকি ও উত্থান সিপ্রির প্রতিবেদনে বলা হয়, বিশ্বের মোট পারমাণবিক ওয়ারহেডের সংখ্যা কয়েক দশক ধরে কমছে। চলতি বছরের শুরুতে এ সংখ্যা কমে দাঁড়িয়েছে ১২ হাজার ১৮৭–তে। তবে একই সঙ্গে সংস্থাটি সতর্ক করে বলেছে, ব্যবহারযোগ্য অবস্থায় থাকা পারমাণবিক অস্ত্রের সংখ্যা বেড়ে ৯ হাজার ৭৪৫–এ পৌঁছেছে। সিপ্রির পরিচালক করিম হাগাগ এএফপিকে বলেন, ‘পারমাণবিক অস্ত্রের সংখ্যা কমলেও পারমাণবিক বিপদ ও ঝুঁকির মাত্রা বাড়ছে।’ তিনি বলেন, কৌশলগত অস্ত্র নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা দুর্বল হয়ে পড়া ও পারমাণবিক শক্তিধর দেশগুলোর মধ্যে ক্রমবর্ধমান প্রতিযোগিতা উদ্বেগের বড় কারণ। সিপ্রির পূর্বাভাস, আগামী বছরগুলোয় বিশ্বের পারমাণবিক অস্ত্রভান্ডার আবারও বাড়তে পারে। কারণ, পুরোনো অস্ত্র ধ্বংস করার গতি কমে যাচ্ছে, অন্যদিকে নতুন পারমাণবিক অস্ত্র মোতায়েনের গতি বাড়ছে। বর্তমানে বিশ্বের মোট পারমাণবিক অস্ত্রভান্ডারের প্রায় ৮৩ শতাংশই যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার হাতে। দুই দেশের কাছে ৫ হাজারের বেশি পারমাণবিক ওয়ারহেড আছে। সিপ্রির হিসাব অনুযায়ী, চীন অন্য যেকোনো দেশের তুলনায় দ্রুতগতিতে পারমাণবিক অস্ত্রভান্ডার সম্প্রসারণ করছে। বর্তমানে দেশটির কাছে প্রায় ৬২০টি ওয়ারহেড রয়েছে। করিম হাগাগ বলেন, ‘ক্রমবর্ধমান ভূরাজনৈতিক প্রতিযোগিতা চীনকে পারমাণবিক অস্ত্রের ওপর আরও বেশি নির্ভরশীল হতে উৎসাহিত করছে।’ আইক্যানের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া ও চীনের পাশাপাশি ব্রিটেন, ফ্রান্স, ভারত, ইসরায়েল, উত্তর কোরিয়া ও পাকিস্তান—সব পারমাণবিক অস্ত্রধারী দেশ তাদের অস্ত্রভান্ডারে বিনিয়োগ বাড়িয়েছে। গত বছর এ ৯টি দেশ সম্মিলিতভাবে আগের বছরের তুলনায় প্রায় ১ হাজার ৭০০ কোটি ডলার বেশি ব্যয় করেছে। সবচেয়ে বেশি ব্যয় করেছে যুক্তরাষ্ট্র। আইক্যানের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে যুক্তরাষ্ট্র পারমাণবিক অস্ত্র কর্মসূচিতে ৬ হাজার ৯২০ কোটি ডলার ব্যয় করেছে, যা আগের বছরের তুলনায় ১ হাজার ২৪০ কোটি ডলার বেশি। ব্যয়ের দিক থেকে যুক্তরাষ্ট্রের পরই রয়েছে চীন। দেশটি গত বছর প্রায় ১ হাজার ৩৫০ কোটি ডলার ব্যয় করেছে। এরপর রয়েছে ব্রিটেন, যার ব্যয় ১ হাজার ২৬০ কোটি ডলার। রাশিয়া ব্যয় করেছে প্রায় ৯৫০ কোটি ডলার। গত পাঁচ বছরে এ ৯টি দেশ সম্মিলিতভাবে তাদের পারমাণবিক অস্ত্রভান্ডারের পেছনে ৪৭ হাজার কোটি ডলারের বেশি ব্যয় করেছে। গবেষকদের মতে, ভবিষ্যতে এই ব্যয় আরও বাড়বে। দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার দিকে তাকিয়ে আইক্যান বলেছে, ব্রিটেন, ফ্রান্স ও যুক্তরাষ্ট্র আগামী শতাব্দীতেও পারমাণবিক অস্ত্রব্যবস্থা উন্নয়ন ও রক্ষণাবেক্ষণে বিপুল অর্থ ব্যয়ের পরিকল্পনা করছে। অন্য দেশগুলোও দীর্ঘস্থায়ী নতুন অস্ত্রব্যবস্থা চালু করছে। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, যুক্তরাষ্ট্রের পরিকল্পিত নতুন ‘সেন্টিনেল’ আন্তমহাদেশীয় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ২১০০ সালের পরও সক্রিয় থাকতে পারে। একই সঙ্গে দেশটির প্লুটোনিয়াম উৎপাদন বৃদ্ধির পরিকল্পনা ইঙ্গিত দিচ্ছে, বর্তমান ওয়ারহেডগুলো ২১২০ সাল পর্যন্ত কার্যকর রাখা সম্ভব হবে। এ জন্য বিপুল অর্থ প্রয়োজন হবে। গবেষকদের ধারণা, শুধু ২০২৫ থেকে ২০৩৪ সালের মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রের পারমাণবিক অস্ত্র খাতে ব্যয় ১ ট্রিলিয়ন (১ লাখ কোটি) ডলারের কাছাকাছি পৌঁছাতে পারে। গবেষকেরা বলছেন, এমন এক সময়ে এ বিপুল অর্থ ব্যয় করা হচ্ছে, যখন বিশ্বজুড়ে মানবিক সহায়তা কার্যক্রম তহবিল সংকটে ভুগছে। তাঁদের হিসাবে, গত বছর পারমাণবিক অস্ত্রের পেছনে এক দিনে যে অর্থ ব্যয় হয়েছে, তা দিয়ে ২০ লাখের বেশি মানুষের খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব ছিল। সুসি স্নাইডার বলেন, নিজেদের জনগণের জন্য সহায়তা বা স্বাস্থ্যসেবায় অর্থ ব্যয় না করে পারমাণবিক অস্ত্রধারী দেশগুলো এমন অস্ত্রভান্ডারে বিনিয়োগ করছে, যা ব্যবহার করলে যুদ্ধাপরাধ সংঘটিত হবে—এ কথা তারাও জানে।