সারাদেশ

জ্বালানি তেল নিয়ে সর্বোচ্চ সতর্ক সরকার

মো: দেলোয়ার হোসাইন মার্চ ২৯, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

জ্বালানি তেল নিয়ে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় আছে সরকার। তেলের অবৈধ মজুত রোধ করতে সারা দেশে বিশেষ অভিযান পরিচালিত হচ্ছে। সব পেট্রোলপাম্পে জ্বালানি তেলের পরিবহন কার্যক্রম নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণের জন্য দেশের সব পাম্পে একজন করে ‘ট্যাগ অফিসার’ নিয়োগের সিদ্ধান্ত হয়েছে। তেলের ডিপোগুলোতে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে।


একই সঙ্গে গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জ্বালানি তেলের অবৈধ মজুত রোধে সচেতনতামূলক প্রচার চালানো শুরু করেছে সরকার।


ট্যাগ অফিসার নিয়োগ :


ডিপো থেকে ফিলিং স্টেশন পর্যন্ত জ্বালানি তেলের পরিবহন বা সরবরাহ কার্যক্রম নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণের জন্য দেশের প্রতিটি পেট্রোল পাম্পে একজন করে ‘ট্যাগ অফিসার’ নিয়োগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। গতকাল জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের সচিব মোহাম্মদ সাইফুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এক অনলাইন সভায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, প্রতিটি ফুয়েল স্টেশনের তদারকির জন্য একজন করে সরকারি কর্মকর্তাকে দায়িত্ব দেওয়া হবে।


ডিপো থেকে ঠিক কী পরিমাণ জ্বালানি উত্তোলন করা হচ্ছে এবং উত্তোলিত সেই তেল শেষ পর্যন্ত নির্ধারিত ফিলিং স্টেশনে পৌঁছাচ্ছে কি না, সেটি তদারকি করবেন তারা। সরকারের পক্ষ থেকে আশঙ্কা করা হচ্ছে, জ্বালানি তেল ফিলিং স্টেশনে না গিয়ে অন্য কোথাও সরিয়ে ফেলা হচ্ছে। ঢাকা ও চট্টগ্রাম মহানগর এলাকায় বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) এই ট্যাগ অফিসারদের নিয়োগ দেবে। মহানগরীর বাইরের জেলা ও বিভাগীয় শহরের পেট্রোল পাম্পগুলোর জন্য সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসকরা ট্যাগ অফিসার নিয়োগ করবেন। অন্যদিকে উপজেলা পর্যায়ে এই নিয়োগের দায়িত্ব পালন করবেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তারা (ইউএনও)। মাঠপর্যায়ে তদারকি জোরদার করা, অনিয়ম প্রতিরোধ এবং দেশজুড়ে জ্বালানি তেলের নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ ও বণ্টন নিশ্চিত করাই এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য।


ডিপোতে বিজিবি মোতায়েন :


অননুমোদিতভাবে জ্বালানি তেলের মজুত রোধ, বিপণনে শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করতে দেশের ৯টি জেলার ১৯টি ডিপোতে বিজিবি মোতায়েন করেছে সরকার। গতকাল বিজিবি সদর দপ্তরের জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. শরীফুল ইসলামের সই করা এক বার্তায় এ তথ্য জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংকটের প্রভাবে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের সংকট দেখা দিয়েছে এবং মূল্য বৃদ্ধি পেয়েছে।


এর প্রেক্ষাপটে অননুমোদিতভাবে জ্বালানি তেল মজুতের অপচেষ্টা দেখা যাচ্ছে। এসব অপচেষ্টা প্রতিরোধ, জ্বালানি তেল বিপণনে শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে। ডিপোগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিজিবি সদর দপ্তরের তত্ত্বাবধানে মোতায়েন কার্যক্রম সুপরিকল্পিতভাবে পরিচালিত হচ্ছে। ইউনিট সদর থেকে দূরবর্তী এলাকায় দায়িত্ব পালনের সুবিধার্থে নিরাপদ স্থানে অস্থায়ী বেইজ ক্যাম্প স্থাপন করে বিজিবি সদস্যরা দায়িত্ব পালন করছেন। গত ২৫ মার্চ সকাল থেকে ঢাকা জেলায় একটি, কুড়িগ্রামে দুটি, রংপুরে তিনটি, রাজশাহীতে তিনটি, সিলেটে দুটি, মৌলভীবাজারে তিনটি, কুমিল্লায় তিনটি, ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় একটি এবং সুনামগঞ্জে একটি ডিপোসহ মোট ৯টি জেলার ১৯টি ডিপোতে বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয় বার্তায়। মোতায়েনকৃত সদস্যরা অস্থায়ী বেইজ ক্যাম্পে একজন কর্মকর্তার নেতৃত্বে নিয়মিত তদারকি, প্রশাসনিক কার্যক্রম এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থার কঠোর বাস্তবায়নে দায়িত্ব পালন করছেন। যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি মোকাবিলায় গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার, অবৈধ জ্বালানি মজুত ও বিক্রয় প্রতিরোধ এবং নাশকতা ঠেকাতে তাৎক্ষণিক ও কার্যকর ব্যবস্থাও নেওয়া হচ্ছে। দায়িত্বাধীন ডিপো কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় রেখে দ্রুত তথ্য আদান-প্রদান নিশ্চিত করা হচ্ছে। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট এলাকায় বিজিবির দৃশ্যমান উপস্থিতির মাধ্যমে জ্বালানি তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা এবং জনমনে আস্থা বৃদ্ধিতে কাজ করা হচ্ছে বলে জানানো হয়। এ ছাড়া সীমান্ত দিয়ে জ্বালানি তেল পাচার প্রতিরোধে অতিরিক্ত টহল, নৌ টহল জোরদার, চেকপোস্ট স্থাপন করে তল্লাশি এবং সীমান্তবর্তী এলাকায় গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধি করা হয়েছে। আইসিপি ও এলসিপিগুলোতেও নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। পাশাপাশি আমদানি-রপ্তানিতে ব্যবহৃত ট্রাক-লরিসহ বিভিন্ন যানবাহনে নিয়মিত তল্লাশিচা লানো হচ্ছে বলেও উল্লেখ করা হয় বিজ্ঞপ্তিতে।

 

অবৈধ মজুত রোধে প্রচার :


এরই মধ্যে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় তেলের অবৈধ মজুত রোধে গণমাধ্যমসহ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সচেতনতামূলক প্রচার শুরু করেছে। এ সংক্রান্ত এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, দেশে জ্বালানি তেলের মজুত ও সরবরাহ সম্পূর্ণ স্বাভাবিক আছে। ভোক্তাদের আতঙ্কিত হয়ে অতিরিক্ত জ্বালানি তেল ক্রয় না করার জন্য বলা হয়েছে। পেট্রোল, অকটেন ও ডিজেল অত্যন্ত দাহ্য পদার্থ। এ ধরনের জ্বালানি তেল মজুত করা অত্যন্ত বিপজ্জনক। তাই, অবৈধ জ্বালানি তেল মজুত না করার জন্য বলা হয়েছে। জ্বালানি তেলের অবৈধ মজুতের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে। এ বিষয়ে প্রতিটি জেলায় বিজ্ঞ এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে মোবাইল কোর্ট সক্রিয় আছে। সরকার এখন পর্যন্ত জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধি করেনি। তাই অতিরিক্ত লাভের আশায় জ্বালানি তেলের অবৈধ মজুত না করার জন্য বলা হয়েছে। সরকার চাহিদা অনুযায়ী জ্বালানি তেলের নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিতকরণে আন্তর্জাতিক বাজার হতে প্রয়োজনীয় জ্বালানি তেল ক্রয় করছে। তাই জ্বালানি তেলের সরবরাহ ঘাটতির কোনো সম্ভাবনা নেই। এ ব্যাপারে আতঙ্কিত না হয়ে সচেতন হওয়ার জন্য আহ্বান জানানো হয়েছে।


জামালপুরে ১২টি ড্রামে ২৫০০ লিটার অবৈধ মজুত :


তেল নিয়ে প্রতিদিনই বিশেষ অভিযান পরিচালিত হচ্ছে। এরই অংশ হিসেবে গতকাল জামালপুর জেলার সদর উপজেলার পিটিআই মোড়ে অবস্থিত মেসার্স জুই এন্টারপ্রাইজে অভিযান পরিচালিত হয়। জুই এন্টারপ্রাইজ থেকে চালকদের জানানো হয় তাদের কাছে কোনো পেট্রোল নেই। তাদের এ দাবির সত্যতা যাচাইয়ের উদ্দেশে জেলা প্রশাসনের এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট বিএমএসআর আলিফ ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. সোহেল মাহমুদ ঘটনাস্থলে যান। জুই এন্টারপ্রাইজ সরেজমিনে পরিদর্শন শেষে ১২টি ড্রামে প্রায় ২৫০০ লিটার পেট্রোলের তেলের মজুত পাওয়া যায়। মজুত থাকা সত্ত্বেও গ্রাহকের নিকট তেল বিক্রি না করার অপরাধে জুই এন্টারপ্রাইজের ম্যানেজারকে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯ এর অধীন ৫০,০০০ (পঞ্চাশ হাজার) টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়। পরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের সহায়তায় সরকার নির্ধারিত মূল্যে গ্রাহকদের মাঝে তেল বিতরণ শুরু হয়।
এ ছাড়া ময়মনসিংহের ফুলপুর উপজেলার একটি পেট্রোল পাম্পে অবৈধভাবে মজুত করা ২৪ হাজার লিটার জ্বালানি জব্দ করেছেন প্রশাসন। এ ঘটনায় পাম্প মালিককে ২ লাখ টাকা জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। গতকাল উপজেলার পয়ারী রোড আমুয়াকান্দায় ‘মেসার্স পপি ট্রেডার্স’ নামে পেট্রোল পাম্পে (মিনি পাম্প) এ অভিযান পরিচালনা করা হয় বলে জানান ফুলপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাদিয়া ইসলাম সীমা। তিনি বলেন, অবৈধভাবে জ্বালানি তেল মজুত করার গোপন খবর পেয়ে দুপুরে পেট্রোল পাম্পটিতে অভিযান চালানো হয়। এ সময় পাম্পটিতে তেল সংরক্ষণ করা বিভিন্ন হাউস তল্লাশি করে ৪ হাজার ৫০০ লিটার পেট্রোল এবং ১৯ হাজার ৫০০ লিটার ডিজেল পাওয়া যায়।


ডিপো থেকে জ্বালানি তেল সরবরাহের সময়সূচিতে পরিবর্তন :


বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) বিভিন্ন কোম্পানির ডিপো থেকে জ্বালানি তেল পেট্রোলপাম্পে সরবরাহের সময়সূচিতে পরিবর্তন আনা হয়েছে। নতুন সময়সূচি অনুযায়ী ২ ঘণ্টা এগিয়ে সকাল ৭টা থেকে বেলা ৩টা পর্যন্ত করা হয়েছে। বিপিসির বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির ফলে সৃষ্ট সংকট মোকাবিলায় জ্বালনি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ এবং বিপিসির নির্দেশনা অনুযায়ী বিপণন কোম্পানিসমূহের মাধ্যমে সারা দেশে নিরবচ্ছিন্নভাবে জ্বালানি পণ্যের সরবরাহ কার্যক্রম চলমান রয়েছে। সে পরিপ্রেক্ষিতে দেশব্যাপী ফিলিং স্টেশন, প্যান্ড পয়েন্ট ডিলার ও পাম্পসমূহে জ্বালানি পণ্য সঠিকভাবে সরবরাহ কার্যক্রম নিশ্চিতে বিপিসির অধীন কোম্পানিসমূহের প্রধান স্থাপনা/ডিপো থেকে জ্বালানি পণ্য সরবরাহের জন্য নতুন সময়সূচি নির্ধারণ করা হয়েছে। এতে আরও বলা হয়, প্রধান স্থাপনা/ডিপো থেকে জ্বালানি পণ্য সরবরাহ কার্যক্রম শুরু হবে সকাল ৭টায় আর কার্যক্রম শেষ হবে বেলা ৩টায়।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

কৃষি ব্যাংকে ভুয়া সিবিএ নেতাদের কোটি টাকারও বেশি চাঁদাবাজি

অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।  

হালিম হত্যার আসামিরা পলাতক, ধামাচাপা দিচ্ছে প্রশাসন

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে সংঘটিত এজাহারভুক্ত হত্যা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ ও মিরাজ হোসেন পলাতক রয়েছেন। ব্যাংক প্রশাসন বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। খুনের শিকার কৃষি ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী আব্দুল হালিম ছিলেন কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) সভাপতি। তার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলায়। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি স্থানীয়ভাবে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ১ নম্বর আসামি হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত পিয়ন ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ এবং ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেনের নাম রয়েছে। তারা বর্তমানে নিজেদের সিবিএ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দাবি করে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে প্রভাব বিস্তার করছেন। ব্যাংক সূত্রে গেছে, তারা চাঁদাবাজি, ঘুষ আদায় ও নানা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। সূত্র জানায়, ব্যাংকের ভেতরে একটি সিন্ডিকেটের প্রভাবেই এসব আসামিরা এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন। এই সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে আছেন মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেন। এতে আরও যুক্ত রয়েছেন ডিজিএম সৈয়দ লিয়াকত হোসেন, হাবিব উন নবী, ডিএমডি খালেকুজ্জামান জুয়েল ও ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী। গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর রাতে মতিঝিলের বিমান অফিসের সামনে আব্দুল হালিমের মৃত্যু হয়। পরদিন সকালে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়। মতিঝিল থানার উপ-পরিদর্শক সজীব কুমার সিং সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে জানান, পুরনো সহকর্মীদের সঙ্গে বিরোধের জেরে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং রাত ১টা ৪০ মিনিটে হাসপাতালে মারা যান। হালিমের ছেলে ফয়সাল বলেন, তার বাবা ২০১৪ সাল থেকে কৃষি ব্যাংক সিবিএর সভাপতি ছিলেন এবং বোয়ালখালী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতেন। ইউনিয়নের নেতৃত্ব ও পদ নিয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে গত নভেম্বরেই মতিঝিল থানায় একটি জিডি (নং ০৫/১১/২০২৪ - ৩৩৫) করেছিলেন তার বাবা। তিনি আরও বলেন, বুধবার রাতে আমার বাবাকে তার অফিসের সহকর্মীরা মারধর করে হত্যা করেছে। সিবিএর বর্তমান সাধারণ সম্পাদক নাসিম আহমেদ জানান, ২০১৪ সালে আমরা নির্বাচিত হই। এরপর আর কোনো নির্বাচন হয়নি। কিন্তু গত ৫ আগস্ট বিনা নির্বাচনে নতুন কমিটি ঘোষণা করে আমাদের অফিস দখল করে নেয় ফয়েজ ও মিরাজ। এ নিয়ে মামলা চলছে। মামলার তথ্য অনুযায়ী, আসামিরা অস্থায়ী জামিনে ছিলেন। সম্প্রতি তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। এছাড়া আরও কয়েকজন পলাতক রয়েছেন—যাদের মধ্যে আছেন ড্রাইভার সাইফুল, শাহেদ, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মেহেদী ও অবসরপ্রাপ্ত ক্লিনার সিরাজ। এদিকে, মামলার ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেন নৈমিত্তিক ছুটির আবেদন করে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। যদিও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামির নৈমিত্তিক ছুটি পাওয়ার কোনো এখতিয়ার নেই। মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক এ বিষয়ে বলেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন এবং নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন।  কিন্তু স্থানীয় মুখ্য কার্যালয়ের প্রধান মহাব্যবস্থাপক জানান, তিনি কোনো মন্তব্য করতে চান না। কারণ ব্যবস্থাপনা পরিচালক মন্তব্য না করার নির্দেশ দিয়েছেন। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। অভ্যন্তরীণ এই পরিস্থিতিতে কৃষি ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

সারাদেশ

আরও দেখুন
ছবি: সংগৃহীত
মধ্যরাতে উদ্ধার ১৮ ড্রাম অবৈধ জ্বালানি তেল

গাজীপুরের কালিয়াকৈরে বিশেষ অভিযানে বিপুল পরিমাণ অবৈধ ডিজেল জব্দ করেছে পুলিশ। এ সময় ঘটনাস্থল থেকে একজনকে আটক করা হয়েছে। শনিবার (২৮ মার্চ) রাতে উপজেলার কালিয়াকৈর বাইপাস সড়কের পাশে ফাতেমা হোটেল সংলগ্ন এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কালিয়াকৈর থানা পুলিশ সেখানে অভিযান চালিয়ে অবৈধভাবে মজুত রাখা ডিজেল উদ্ধার করে। পুলিশ সূত্রে জানা যায়, একটি সংঘবদ্ধ চক্র দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে জ্বালানি তেল সংগ্রহ ও মজুত করে আসছিল। অভিযানের সময় চক্রের কয়েকজন সদস্য পালিয়ে গেলেও ঘটনাস্থল থেকে একজনকে আটক করা হয়। তবে তাৎক্ষণিকভাবে আটক ব্যক্তির নাম-পরিচয় জানা যায়নি। কালিয়াকৈর থানার ওসি খন্দকার নাসির উদ্দিন জানান, অভিযানে আনুমানিক তিন হাজার লিটার ডিজেল জব্দ করা হয়েছে। অবৈধ জ্বালানি তেল ব্যবসার বিরুদ্ধে পুলিশের এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে এবং জড়িতদের আইনের আওতায় আনা হবে। এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

মো: দেলোয়ার হোসাইন মার্চ ২৯, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত

জ্বালানি তেল নিয়ে সর্বোচ্চ সতর্ক সরকার

শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সামনে ভিড় করেন নবজাতকের স্বজনরা।

৫০০ টাকার কাছে হার মানল জীবন

ছবি: সংগৃহীত

নদীতে ডুবে এক শিশুর মৃত্যু, আরেক শিশু নিখোঁজ

সংগৃহীত ছবি
মায়ানমারে ডিজেল পাচারকালে ৭ জন আটক

  মায়ানমারে পাচারকালে বিপুল পরিমাণ ডিজেল, আলকাতরা ও একটি অবৈধ আর্টিসানাল ট্রলিং বোটসহ ৭ জনকে আটক করেছে কোস্ট গার্ড। শনিবার (২৮ মার্চ) চট্টগ্রামের পতেঙ্গা থানাধীন কর্ণফুলী চ্যানেলের ১৪ নাম্বার ঘাট সংলগ্ন এলাকায় বিশেষ অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়। কোস্ট গার্ড মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন বলেন, অভিযান চলাকালীন ওই এলাকায় সন্দেহজনক একটি অবৈধ আর্টিসানাল ট্রলিং বোটে তল্লাশি চালিয়ে অবৈধভাবে শুল্ক-কর ফাঁকি দিয়ে মায়ানমারে পাচারের উদ্দেশে বহনকৃত প্রায় ৪৮ লাখ টাকা মূল্যের ১ হাজার ৬০০ লিটার ডিজেল, ৩ হাজার ৩০০ কেজি আলকাতরা ও চারটি ডিজেল ইঞ্জিনসহ ৭ জন পাচারকারীকে আটক করা হয়। তিনি আরো জানান, মালপত্র ও পাচারকাজে ব্যবহৃত আর্টিসানাল ট্রলিং বোট এবং আটক পাচারকারীদের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।

মারিয়া রহমান মার্চ ২৮, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত

তেল মজুত, ৭ দিন দোকান বন্ধ, তারপর দাম বাড়িয়ে বিক্রি!

ছবি : সংগৃহীত

ঝিনাইদহে বজ্রপাতে প্রাণ গেল ২ কৃষকের

ছবি : সংগৃহীত

তিন নৌকা ও ১৩ জেলেকে আটক করল আরাকান আর্মি

ছবি: সংগৃহীত
দেশের ১৯ ডিপোতে বিজিবি মোতায়েন, নিরাপত্তা জোরদার

জ্বালানি তেল মজুত প্রতিরোধ, বিপণনে শৃঙ্খলা রক্ষা এবং নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিতে দেশের ১৯ ডিপোতে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) মোতায়েন করা হয়েছে।   শনিবার (২৮ মার্চ) বিজিবি সদর দপ্তরের জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. শরীফুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।   এতে বলা হয়, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংকটের পরিপ্রেক্ষিতে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের সংকট ও দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় অননুমোদিতভাবে জ্বালানি তেল মজুতের অপচেষ্টা পরিলক্ষিত হচ্ছে। জ্বালানি তেল মজুতের অপচেষ্টা প্রতিরোধ, জ্বালানি তেল বিপণনে শৃঙ্খলা রক্ষা এবং নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিতকরণের লক্ষ্যে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে।   ডিপোর নিরাপত্তা নিশ্চিতে বিজিবি সদর দপ্তরের তত্ত্বাবধানে মোতায়েন কার্যক্রম একটি সুপরিকল্পিত কাঠামোর আওতায় পরিচালিত হচ্ছে। ইউনিট সদর থেকে দূরবর্তী স্থানে দায়িত্ব পালনের সুবিধার্থে নিরাপদ স্থানে অস্থায়ী বেইজ ক্যাম্প স্থাপন করে বিজিবি সদস্যরা দায়িত্ব পালন করছে। গত ২৫ মার্চ সকাল হতে ঢাকা জেলায় একটি, কুড়িগ্রাম জেলায় দুটি, রংপুর জেলায় তিনটি, রাজশাহী জেলায় তিনটি, সিলেট জেলায় দুটি, মৌলভীবাজার জেলায় তিনটি, কুমিল্লা জেলায় তিনটি, ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলায় একটি এবং সুনামগঞ্জ জেলায় একটি ডিপোতে বিজিবি মোতায়ন করা হয়েছে।   মোতায়েনকৃত সদস্যরা অস্থায়ী বেইজ ক্যাম্পে একজন কর্মকর্তার নেতৃত্বে নিয়মিত তদারকি, প্রশাসনিক ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার কঠোর বাস্তবায়নে দায়িত্ব পালন করছে। যে কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি মোকাবিলায় গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার, অবৈধ জ্বালানি মজুত ও বিক্রয় প্রতিরোধ এবং নাশকতা প্রতিরোধে তাৎক্ষণিক ও কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করছে। দায়িত্বাধীন ডিপো কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় ও সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রেখে দ্রুত তথ্য আদান-প্রদান নিশ্চিত করছে। সংশ্লিষ্ট ডিপো এলাকায় বিজিবির দৃশ্যমান উপস্থিতি নিশ্চিতের মাধ্যমে জ্বালানি তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা এবং জনমনে আস্থা বৃদ্ধিতে কাজ করছে বিজিবি।   এ ছাড়া সীমান্ত দিয়ে জ্বালানি তেল পাচার প্রতিরোধে সীমান্তে অতিরিক্ত টহল পরিচালনা, নৌ টহল জোরদার, চেকপোস্ট স্থাপন করে তল্লাশি কার্যক্রম পরিচালনা এবং সীমান্তবর্তী অঞ্চলে গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধি করা হয়েছে। সীমান্তবর্তী আইসিপি ও এলসিপিগুলোতে নজরদারি বৃদ্ধির পাশাপাশি আমদানি-রপ্তানিতে ব্যবহৃত ট্রাক-লরিসহ বিভিন্ন যানবাহনে নিয়মিতভাবে তল্লাশি করা হচ্ছে বলেও বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়।

মোঃ নাহিদ হোসেন মার্চ ২৮, ২০২৬ 0
ছবি : সংগৃহীত

সিরাজগঞ্জে সূর্যমুখীর চাষ বৃদ্ধি, কৃষির নতুন চিত্র

ছবি : সংগৃহীত

পাবনায় সড়ক দুর্ঘটনায় বিএনপি নেতার মর্মান্তিক মৃত্যু

বিজিবির অভিযানে ৬৬ লাখ টাকার ভারতীয় পণ্য উদ্ধার

বিজিবির অভিযানে ৬৬ লাখ টাকার ভারতীয় পণ্য জব্দ

0 Comments