আসন্ন জাতীয় নির্বাচনের আগে বাংলাদেশে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন রাষ্ট্রদূত হিসেবে সিনেটের অনুমোদন পাওয়া অভিজ্ঞ কূটনীতিক ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন আগামী জানুয়ারির দ্বিতীয় সপ্তাহে ঢাকায় পৌঁছাতে পারেন। তার দায়িত্ব গ্রহণের জন্য প্রয়োজনীয় আনুষঙ্গিক প্রস্তুতি চলমান রয়েছে বলে ঢাকায় অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাসের নির্ভরযোগ্য একটি সূত্র নিশ্চিত করেছে।
গত সেপ্টেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেনকে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত হিসেবে মনোনয়ন দেন। পরে অক্টোবরে সিনেটের শুনানি শেষে তার মনোনয়ন অনুমোদিত হয়। সিনেটের অনুমোদন পাওয়ার পর এক প্রতিক্রিয়ায় ক্রিস্টেনসেন বলেন, বাংলাদেশের পরবর্তী রাষ্ট্রদূত হিসেবে অনুমোদন পেয়ে তিনি সম্মানিত এবং এ জন্য প্রেসিডেন্টের প্রতি কৃতজ্ঞ।
কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও আসন্ন জাতীয় নির্বাচনের প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন রাষ্ট্রদূতের আগমন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাদের ধারণা, দেশে বিরাজমান অস্থির পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রের সহযোগিতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে এবং নতুন রাষ্ট্রদূত পরিস্থিতি বিবেচনায় রেখে বাংলাদেশকে সহায়তা করতে সক্ষম হবেন।
এর আগে ঢাকায় যুক্তরাষ্ট্রের সর্বশেষ রাষ্ট্রদূত ছিলেন পিটার হাস, যিনি ২০২২ সালের মার্চে দায়িত্ব গ্রহণ করেন এবং দুই বছর চার মাস দায়িত্ব পালনের পর গত বছরের ২২ জুলাই ওয়াশিংটনের উদ্দেশে ঢাকা ত্যাগ করেন। তার বিদায়ের পর চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রদূত (চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স) হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছেন ট্রেসি অ্যান জ্যাকবসন।
ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন যুক্তরাষ্ট্রের ফরেন সার্ভিসের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা এবং সিনিয়র ফরেন সার্ভিসের কাউন্সেলর র্যাংকের সদস্য। তিনি এর আগে ২০১৯ থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত ঢাকায় যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাসে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিকবিষয়ক কাউন্সেলর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়া ২০২২ সালের আগস্ট থেকে চলতি বছরের জানুয়ারি পর্যন্ত তিনি যুক্তরাষ্ট্রের স্ট্র্যাটেজিক কমান্ডের কমান্ডারের বৈদেশিক নীতি উপদেষ্টা হিসেবেও কাজ করেছেন। তার অন্যান্য দায়িত্বস্থলের মধ্যে রয়েছে ম্যানিলা, সান সালভাদর, রিয়াদ ও হো চি মিন সিটিতে যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাস।
তিনি ন্যাশনাল ওয়ার কলেজ থেকে ন্যাশনাল সিকিউরিটি স্ট্র্যাটেজিতে মাস্টার্স ডিগ্রি অর্জন করেছেন। সিনেটের শুনানিতে তিনি বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া, মানবাধিকার, রোহিঙ্গা সংকট, আসন্ন জাতীয় নির্বাচন এবং অর্থনৈতিক সহযোগিতার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
ক্রিস্টেনসেন বলেন, যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক ভবিষ্যৎ গঠনে পাশে থাকবে এবং বাণিজ্য বাধা কমিয়ে অর্থনৈতিক সম্পর্ক জোরদার করতে আগ্রহী।
দূতাবাসের ওই সূত্র আরও জানায়, যুক্তরাষ্ট্র একটি স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন দেখতে চায়, যাতে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া পুনরুদ্ধার হয় এবং মানবাধিকার সুরক্ষিত থাকে। একই সঙ্গে র্যাডিক্যাল উপাদানগুলোর উত্থান বা দেশের অস্থিরতা যুক্তরাষ্ট্র চায় না। এ কারণে নতুন রাষ্ট্রদূতের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে যুক্তরাষ্ট্র নির্বাচন পর্যবেক্ষণ, আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক পাঠানো এবং অনিয়মের ক্ষেত্রে কূটনৈতিক তৎপরতা বাড়াতে পারে।
সূত্রটি আরও জানায়, নতুন রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা, অর্থনৈতিক সংকট এবং চলমান প্রতিহিংসামূলক রাজনীতির বিষয়গুলো নিয়েও কাজ করতে পারেন।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না। একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন। গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে। জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে। সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে। কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে। প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে। আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’ সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না। এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।
রাজধানী ঢাকায় ঝুঁকিসংবেদনশীল ভূমি ব্যবহার পরিকল্পনা প্রণয়ন এবং নিরাপদ নির্মাণমান নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সরকার ২০১৫ সালে একটি প্রকল্প গ্রহণ করে। রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) পরিচালিত প্রকল্পটির নাম আরবান রেজিলিয়েন্স প্রকল্প (ইউআরপি)। প্রকল্পের আওতায় ঢাকা মহানগর এলাকার ভূমির গুণগত মান পরীক্ষা করে দেখা গেছে, বালু নদের অববাহিকার প্রায় ১২০ বর্গকিলোমিটার এলাকা ভূমিকম্পের উচ্চ ঝুঁকিতে রয়েছে। মাটি দুর্বল এবং ভূগর্ভস্থ পানির স্তর ভূপৃষ্ঠের খুব কাছাকাছি হওয়ায় এ এলাকায় গড়ে ওঠা আবাসন প্রকল্প ও বৃহৎ অবকাঠামো ভূমিকম্পের সময় দ্রুত ধসে পড়তে পারে বলে সরকারি-বেসরকারি ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন গবেষণায় আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, রাজধানীর মূল নগর এলাকার বাইরে জলাশয় ও জলাভূমি ভরাট করে গত দুই দশকে গড়ে তোলা আবাসন প্রকল্প ও মেগা অবকাঠামোগুলো তুলনামূলকভাবে বেশি ভূমিকম্পের ঝুঁকিতে রয়েছে। ইউআরপি প্রকল্পের আওতায় ঢাকার চার শতাধিক স্থান থেকে মাটির নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষা করেছে রাজউক। পরীক্ষার ফলাফলে দেখা গেছে, ঢাকার পুরনো অংশের তুলনায় সম্প্রসারিত এলাকাগুলো ভূমিকম্পের ঝুঁকিতে বেশি। তবে এলাকাভেদে ঝুঁকির মাত্রায় পার্থক্য রয়েছে। এ বিবেচনায় ঢাকার মধ্যে বালু নদের অববাহিকায় গড়ে ওঠা অবকাঠামোগুলো সবচেয়ে বেশি ভূমিকম্পের ঝুঁকিতে রয়েছে। ঢাকায় ৭ মাত্রার ভূমিকম্প হলে এ এলাকার আবাসন প্রকল্পগুলো মাটিতে ডেবে যাওয়ার পাশাপাশি ধসে পড়ার ঝুঁকিতে রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন ইউআরপি প্রকল্পের পরিচালক ও রাজউকের সাবেক প্রধান প্রকৌশলী ড. আবদুল লতিফ হেলালী। বণিক বার্তাকে তিনি বলেন, ‘আমরা পুরো ঢাকার মাটির অবস্থা পরীক্ষা করে দেখেছি। সবচেয়ে খারাপ অবস্থা বালু নদের আশপাশের এলাকায়। এখানে যেসব অবকাঠামো ও আবাসন প্রকল্প গড়ে উঠেছে, সেগুলো মূলত পানির ওপর দাঁড়িয়ে আছে।’ ড. আবদুল লতিফ হেলালী আরো বলেন, ‘বনশ্রী থেকে শুরু করে আফতাবনগর, মাদানি এভিনিউ হয়ে বসুন্ধরা ৩০০ ফুট সড়ক ধরে আবদুল্লাহপুর পর্যন্ত পুরো এলাকাই ভূমিকম্পের উচ্চ ঝুঁকিতে রয়েছে। অর্থাৎ বনশ্রীর পর থেকে যে অংশ জলাভূমি ভরাট করে উন্নয়ন করা হয়েছে সবই ৭ মাত্রার ভূমিকম্পে ধসে পড়বে। দেশে তো এখনো ৭ মাত্রার ভূমিকম্প হয়নি। গত বছর যে বড় ভূমিকম্প হয়েছে, সেটি ছিল ৫ দশমিক ৪ মাত্রার। ৭ মাত্রার হলে বালু ভরাট করে গড়ে ওঠা এলাকায় সব সমান হয়ে যাবে।’ রাজউক পরিচালিত ইউআরপি প্রকল্পের বিশেষজ্ঞ প্যানেলের চেয়ারম্যান ছিলেন বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) পুরকৌশল বিভাগের অধ্যাপক ড. মেহেদী আহমেদ আনসারী। রাজউকের মাঠপর্যায়ে সংগৃহীত তথ্য ও পরীক্ষার ফলাফল বিশ্লেষণ করে তিনি পৃথক একটি গবেষণা করেন। ‘লিকুইফ্যাকশন পটেনশিয়াল অ্যাসেসমেন্ট অব দ্য ঢাকা মেট্রোপলিটন ডেভেলপমেন্ট প্ল্যান এরিয়া (ডিএমডিপি) অব বাংলাদেশ ইউজিং সিপিটি-বেজড মেথড’ শীর্ষক গবেষণাটি ২০২৪ সালের মার্চে আন্তর্জাতিক গবেষণা প্রকাশনা প্লাটফর্ম স্প্রিংগার নেচার লিংকে প্রকাশিত হয়। বালু নদের অববাহিকায় গড়ে ওঠা আবাসন প্রকল্পগুলো সম্পর্কে তিনি বণিক বার্তাকে বলেন, ‘রাজউক পুরো ঢাকার চার শতাধিক জায়গা থেকে নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষা করেছে। এর মধ্যে বালু নদের অববাহিকায় প্রায় ১২০ বর্গকিলোমিটার এলাকা ভূমিকম্পের উচ্চ ঝুঁকিতে রয়েছে বলে দেখা গেছে। মেহেদী আনসারী জানান, ভূমির গঠনগত কারণে ভূমিকম্পের ঝুঁকি মূলত দুইভাবে বাড়তে পারে। কোনো এলাকার ভূগর্ভে নরম কাদামাটি বা আলগা বালির স্তর থাকলে ভূমিকম্পের কম্পন সেখানে কয়েক গুণ বেড়ে অনুভূত হয়। এ ঘটনাকে বলা হয় অ্যামপ্লিফিকেশন বা কম্পনের তীব্রতা বৃদ্ধি। অন্যদিকে ভূগর্ভে আলগা বালির স্তরের পাশাপাশি পানির স্তর ভূপৃষ্ঠের কাছাকাছি থাকলে ভূমিকম্পের ঝাঁকুনিতে বালি ও পানি মিশে মাটি ভার বহনের সক্ষমতা হারায়। এতে ভবন মাটিতে ডেবে যেতে বা হেলে পড়তে পারে। এ ঘটনাকে বলা হয় লিকুইফ্যাকশন বা ভবন ডেবে যাওয়া। তিনি বলেন, ‘রাজউকের পরীক্ষায় দেখা গেছে, বালু নদের অববাহিকায় গড়ে ওঠা কোনো কোনো আবাসিক এলাকার ভূমির অবস্থা খুবই দুর্বল। কোথাও কোথাও সাত মিটার পর্যন্ত লুজ বালি। তারপর অন্তত ৩৫ মিটার পর্যন্ত নরম কাদামাটি। ফলে এখানে ভূমিকম্প হলে লিকুইফ্যাকশন এবং অ্যামপ্লিফিকেশন দুটোই হবে।’ বালু নদের অববাহিকার প্রায় ১২০ বর্গকিলোমিটার এলাকা মূলত জলাশয় ও জলাভূমি ছিল। ঢাকার পূর্ববর্তী পরিকল্পনাগুলোয় এলাকাটিকে সংরক্ষিত জলাধার হিসেবে রাখার সুপারিশ করা হয়েছিল। আবাসন ও অবকাঠামো নির্মাণের জন্য উপযোগী না হওয়ায় এটিকে প্রাকৃতিক জলাধার হিসেবে সংরক্ষণের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। ১৯৯৫ সালে প্রণীত ২০ বছর মেয়াদি ঢাকা মেট্রোপলিটন ডেভেলপমেন্ট প্ল্যানে (ডিএমডিপি ১৯৯৫-২০১৫) মোট পাঁচটি এলাকাকে সংরক্ষিত জলাধার হিসেবে রাখার সুপারিশ করা হয়েছিল। এর মধ্যে তিনটি জলাধারই ছিল বালু নদের অববাহিকার ওই ১২০ বর্গকিলোমিটার এলাকার মধ্যে। রাজউকের কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, সংরক্ষিত এসব জলাধার ধীরে ধীরে ভরাট করেই সেখানে বসতি ও অবকাঠামো গড়ে তোলা হয়েছে। ঢাকার জন্য প্রণীত সর্বশেষ বিশদ অঞ্চল পরিকল্পনায়ও (ড্যাপ ২০২২-৩৫) বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে। ড্যাপে বলা হয়েছে, বালু নদের অববাহিকায় অবস্থিত আবাসন প্রকল্পগুলো ভূমিকম্পের উচ্চ ঝুঁকিতে রয়েছে। এ এলাকায় ভবন নির্মাণের ক্ষেত্রে বিশেষ নকশার ফাউন্ডেশন ব্যবহার করা প্রয়োজন। এ প্রসঙ্গে ড্যাপের সাবেক প্রকল্প পরিচালক ও রাজউকের প্রধান নগর পরিকল্পনাবিদ মো. আশরাফুল ইসলাম বণিক বার্তাকে বলেন, ‘বনশ্রী থেকে শুরু করে আবদুল্লাহপুর পর্যন্ত পুরো বালু নদের অববাহিকা ভূমিকম্পের উচ্চ ঝুঁকিতে রয়েছে। এর কারণ হলো এ পুরো এলাকা ছিল প্রাকৃতিক জলাধার। ভরাট করার কারণে এসব এলাকা ভূমিকম্পের তীব্র ঝুঁকিতে রয়েছে। ড্যাপে বিষয়টি আমরা ম্যাপের মাধ্যমে চিহ্নিত করে দিয়েছি।’ প্রায় চার বছর আগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিজাস্টার সায়েন্স অ্যান্ড ক্লাইমেট রেজিলিয়েন্স বিভাগের কয়েকজন শিক্ষক ঢাকার ভূমির গঠন নিয়ে একটি গবেষণা করেন। ‘সিম্পলিফায়েড ইঞ্জিনিয়ারিং জিওমরফিক ইউনিট-বেজড সিসমিক সাইট ক্যারেক্টারাইজেশন অব দ্য ডিটেইলড এরিয়া প্ল্যান অব ঢাকা সিটি, বাংলাদেশ’ শীর্ষক গবেষণাটিতে ঢাকার বিভিন্ন এলাকার ভূমি ও মৃত্তিকার গঠনের সঙ্গে ভূমিকম্পে ক্ষয়ক্ষতির ঝুঁকির সম্পর্ক বিশ্লেষণ করা হয়। গবেষণায় বলা হয়, ঢাকার ভূমি প্রধানত দুই ধরনের। সদরঘাট থেকে গাজীপুরের মধুপুর পর্যন্ত বিস্তৃত অংশটি প্লাইস্টোসিন যুগের লাল মাটি দিয়ে গঠিত। বুড়িগঙ্গা নদীর তীরবর্তী এলাকা, পুরান ঢাকা, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, বিমানবন্দর, টঙ্গী, গাজীপুর ও সাভারের একাংশ এ ধরনের তুলনামূলক শক্ত ভূমির অন্তর্ভুক্ত। গবেষকদের মতে, এসব এলাকায় মাটির ধারণক্ষমতা বিবেচনায় পাঁচ থেকে ১০ তলা পর্যন্ত ভবন নির্মাণে সাধারণত পাইলিংয়ের প্রয়োজন নাও হতে পারে। অন্যদিকে কেরানীগঞ্জ, হেমায়েতপুর, বালু নদের অববাহিকা ও নারায়ণগঞ্জের একাংশ সাম্প্রতিক প্লাবন সমভূমির অন্তর্ভুক্ত। বন্যা ও বর্ষার পানির সঙ্গে আসা পলি জমে এসব ভূমি এখনো গঠিত হচ্ছে। এ ধরনের এলাকায় ভবন নির্মাণের ক্ষেত্রে মাটির প্রকৃতি অনুযায়ী ৩০-৪০ মিটার পর্যন্ত গভীর পাইলিংয়ের প্রয়োজন হতে পারে। তবে যথাযথ পাইলিং করা হলেও ভূমিকম্পের ঝুঁকি পুরোপুরি দূর হয় না। গবেষণা দলের সদস্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক ড. জিল্লুর রহমান বণিক বার্তাকে বলেন, ‘ঢাকার পুরনো অংশের প্লাইস্টোসিন যুগের সোপানভূমি প্রায় ১৮ থেকে ২৫ লাখ বছর আগে গঠিত হয়েছে। এ অংশের ভূমি শক্ত লাল কাদামাটি ও বালির স্তরের ওপর গড়ে উঠেছে। ঢাকাসহ সারা দেশে এ ধরনের ভূমির পরিমাণ মাত্র ৮ শতাংশ। এসব এলাকায় পাঁচ থেকে ১০ তলা আবাসিক ভবন নির্মাণে সাধারণত পাইলিং তেমন জরুরি নয়। অন্যদিকে ঢাকার সম্প্রসারিত অংশে জলাভূমি ও নিচু জমি ভরাট করে অবকাঠামো গড়ে তোলা হয়েছে। এসব এলাকায় প্রকৌশলগত নিয়ম মেনে পাইলিং করে অবকাঠামো নির্মাণ অত্যাবশ্যক। তবে এখানে যথাযথ নিয়মে পাইলিং করা হলেও অবকাঠামোগুলো ভূমিকম্পের ক্ষয়ক্ষতির ঝুঁকি থেকে মুক্ত বলা যায় না। ভূমিকম্পের সময় এ ধরনের দুর্বল ভূমি ডেবে যেতে পারে। তখন রাস্তা ও ভবন অক্ষত থাকলেও মাটি নিচে নেমে ভবনের ফাউন্ডেশন উন্মুক্ত হয়ে যেতে পারে কিংবা পুরো ভবন হেলে পড়তে পারে।’
প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অধিকার, মর্যাদা, অন্তর্ভুক্তি ও জীবনমান উন্নয়নে অসামান্য অবদান রাখা ব্যক্তি ও উদ্যোগকে স্বীকৃতি জানাতে বাংলাদেশ সোসাইটি ফর দ্য চেঞ্জ এন্ড অ্যাডভোকেসি নেক্সাস (বি-স্ক্যান) আয়োজিত ‘বি-স্ক্যান চেঞ্জমেকার অ্যাওয়ার্ড ২০২৬’-এর চূড়ান্ত বিজয়ী ঘোষণা করা হয়েছে। বি-স্ক্যান’র ১৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে এই ঘোষণা দেওয়া হয়। ফেসবুকভিত্তিক জনমত জরিপে সর্বাধিক ভোট পেয়ে দৃষ্টি প্রতিবন্ধী অধিকারকর্মী মোহাম্মদ রাসেল ‘বি-স্ক্যান চেঞ্জমেকার অ্যাওয়ার্ড ২০২৬’ অর্জন করেন। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি জনাব রুহুল কবির রিজভী, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা এবং শিল্প মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা বিজয়ীর হাতে সম্মাননা ক্রেস্ট এবং ১০ হাজার টাকার একটি প্রতিকী চেক তুলে দেন। অ্যাওয়ার্ডপ্রাপ্ত মোহাম্মদ রাসেল একজন দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী আইটি প্রশিক্ষক, প্রতিবন্ধী অধিকারকর্মী ও সংগঠক। গত দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে তিনি তথ্যপ্রযুক্তিকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের শিক্ষা, দক্ষতা উন্নয়ন, কর্মসংস্থান এবং অধিকার প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছেন। এ পর্যন্ত তিনি ১,২০০ জনেরও বেশি দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী ব্যক্তিকে কম্পিউটার, স্ক্রিন রিডার প্রযুক্তি, স্মার্টফোন অ্যাক্সেসিবিলিটি, আইসিটি দক্ষতা এবং কর্মসংস্থানমুখী প্রশিক্ষণ প্রদান করেছেন। তাঁর দীর্ঘদিনের নিষ্ঠা ও অবদান বাংলাদেশের দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী জনগোষ্ঠীর ক্ষমতায়ন ও অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছে। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গ্রামীণ হেলথটেক লিমিটেডের চিফ টেকনোলজি অ্যান্ড বিজনেস অফিসার এম. সোলায়মান রাসেল এবং সাবেক ব্যাংকার ও প্রতিবন্ধী মানুষের উন্নয়নে সহযোগী, লিয়াকত আলী খান চন্দন। উল্লেখ্য, গত ৫ জুলাই ২০২৬ – ১৫ জুলাই ২০২৬ বি-স্ক্যান’র ফেসবুক গ্রুপ ও পেজের মাধ্যমে ‘বি-স্ক্যান চেঞ্জমেকার অ্যাওয়ার্ড ২০২৬’-এর জন্য মনোনয়ন আহ্বান করা হয়। প্রাথমিক জনমত জরিপে দেশের বিভিন্ন ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখা ২১ জন প্রতিবন্ধী নেতার নাম উঠে আসে। পরবর্তীতে বি-স্ক্যান’র নির্বাচন কমিটি যাচাই-বাছাই শেষে ১০ জন চূড়ান্ত মনোনীত ব্যক্তির নাম ঘোষণা করে এবং পুনরায় ফেসবুক গ্রুপ, পেজ ও গুগল ফর্মের মাধ্যমে উন্মুক্ত ভোটগ্রহণের আয়োজন করে। মোট ২,৪৪৬টি ভোটের মধ্যে ৭৯০ ভোট পেয়ে মোহাম্মদ রাসেল বিজয়ী নির্বাচিত হন। বি-স্ক্যান বিশ্বাস করে, সমাজ পরিবর্তনে নিবেদিত মানুষের কাজের স্বীকৃতি তাদের অবদানকে মূল্যায়নের পাশাপাশি ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে আরও মানবিক, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও অধিকারভিত্তিক উদ্যোগে এগিয়ে আসতে অনুপ্রাণিত করবে। উল্লেখ্য, বি-স্ক্যান একটি নারী নেতৃত্বাধীন প্রতিবন্ধী ব্যক্তি সংগঠন (ওপিডি), যা ২০০৯ সাল থেকে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অধিকার প্রতিষ্ঠা, সার্বজনীন প্রবেশগম্যতা, অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়ন, শিক্ষা, কর্মসংস্থান, জলবায়ু ন্যায়বিচার এবং নীতি পর্যায়ের অ্যাডভোকেসিতে সক্রিয়ভাবে ২০০৯ সাল থেকে কাজ করে আসছে। পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনায় ছিলেন বি-স্ক্যান’র নির্বাহী পরিচালক - সালমা মাহবুব এবং পরিচালক - ইফতেখার মাহমুদ।
চট্টগ্রামের নবগঠিত উত্তর ফটিকছড়ি উপজেলার সদর দপ্তর যৌক্তিক স্থানে স্থাপনের দাবিতে ৪৮ ঘণ্টার হরতাল কর্মসূচি শুরু হয়েছে। রোববার (২৬ জুলাই) সকাল থেকে হরতালের কারণে এলাকার বিভিন্ন সড়কে যান চলাচল ও ব্যবসা-বাণিজ্য কার্যত বন্ধ রয়েছে। সকাল থেকে দাঁতমারা, বাগানবাজার ও নারায়ণহাট ইউনিয়নে গণপরিবহন চলাচল বন্ধ থাকায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন যাত্রী ও স্থানীয় বাসিন্দারা। অধিকাংশ দোকানপাটও বন্ধ রয়েছে। এর আগে, গত ২১ জুলাই ফটিকছড়ি উত্তর উপজেলা বাস্তবায়ন সমন্বয় পরিষদের উদ্যোগে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ২৬ জুলাই থেকে ৪৮ ঘণ্টার হরতালের ঘোষণা দেওয়া হয়। সংগঠনটির দাবি, নবগঠিত উপজেলার সদর দপ্তর যৌক্তিক স্থানে স্থাপন না করায় তারা এ কর্মসূচি পালন করছে। সরেজমিনে দেখা গেছে, গহিরা–হেয়াকো সড়ক ও ফেনী–খাগড়াছড়ি আঞ্চলিক মহাসড়কে যান চলাচল প্রায় বন্ধ। বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে হরতাল সমর্থকদের অবস্থান নিতে দেখা যায়। কোথাও কোথাও তারা পিকেটিং, বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করেন। তবে হাসপাতাল, অ্যাম্বুলেন্সসহ জরুরি সেবার যানবাহন এবং চলমান এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার্থীদের যাতায়াতে কোনো বাধা দেওয়া হচ্ছে না বলে আন্দোলনকারীরা জানিয়েছেন। আন্দোলনকারীদের ভাষ্য, দীর্ঘদিন ধরে শান্তিপূর্ণভাবে দাবি জানানো হলেও এখন পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। তাই দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন অব্যাহত থাকবে। প্রয়োজনে ভবিষ্যতে আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে বলেও তারা সতর্ক করেছেন। এদিকে, হরতাল চলাকালে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। ভূজপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বিপুল চন্দ্র দে জানিয়েছেন, এখন পর্যন্ত কোথাও কোনো অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি।