চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের জঙ্গল সলিমপুরে সরকারের তিন লাখ শতক (৩১শ একর) খাসজমির মধ্যে প্রায় দুই লাখ শতকই ভূমি অফিসের রেকর্ডপত্র থেকে গায়েব হয়ে গেছে। শীর্ষ সন্ত্রাসী ইয়াসিনের সঙ্গে ভূমি ও সাবরেজিস্ট্রি অফিসের একশ্রেণির অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারীর যোগসাজশে এসব জমি জালিয়াতির মাধ্যমে বিক্রি ও নামজারি করা হয়েছে। আওয়ামী লীগের আমলে এই জমি যে যেভাবে পেরেছে লুট করেছে। দখলদারদের তালিকায় আছে সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ এবং তার পরিবারের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। কয়েক হাজার কোটি টাকার এই বিশাল খাসজমি লুটের মহোৎসবে যোগ দিয়েছেন রাজনৈতিক নেতা থেকে শুরু করে প্রভাবশালী ব্যবসায়ীরাও।
ভূমিদস্যুরা প্রথমে পাহাড়ের গাছ কেটেছেন। এরপর পাহাড় কেটে মাটি ও বালু সরিয়ে প্লট আকারে বিক্রি করেছেন। তাদের এই ধ্বংসযজ্ঞে ৭০ ভাগ পাহাড়-টিলা উজাড় হয়ে গেছে। এতে ৪-৫ কিলোমিটার এলাকা এখন খালে পরিণত হয়েছে। এমনকি পাহাড় কাটার মাটি ও বালু সরাতে ঢাকা-চট্টগ্রাম গ্যাস সঞ্চালন লাইনের ওপর দিয়েই নির্মাণ করেছেন ঝুঁকিপূর্ণ রাস্তা। এতে যে কোনো সময় গ্যাসলাইনে ভয়াবহ বিস্ফোরণের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। যুগান্তরের মাসব্যাপী অনুসন্ধানে জঙ্গল সলিমপুরের এই চাঞ্চল্যকর জমি লুটের তথ্য উঠে এসেছে। বিপুল পরিমাণ জমি বেহাত হয়ে যাওয়ার কারণ জানতে চাইলে ভূমি মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব এএসএম সালেহ আহমদ সোমবার যুগান্তরকে বলেন, জঙ্গল সলিমপুরের জমির প্রকৃত চিত্র জেলা প্রশাসকের কাছে প্রতিবেদন আকারে চাওয়া হবে। যেসব প্রভাবশালী আলোচনায় আসছেন, তারা কে কীভাবে সেখানে অবস্থান নিয়েছেন, তাও জানতে হবে। বিষয়টি আমি দেখছি।
অনুসন্ধানে জানা যায়, চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের রেকর্ডপত্রে জঙ্গল সলিমপুরে ৩ লাখ ১০ হাজার শতক খাসজমির হিসাব আছে। এই জমির বর্তমান বাজারমূল্য অন্তত ৪০ হাজার কোটি টাকা। তবে সীতাকুণ্ড সহকারী কমিশনার (ভূমি) কার্যালয়ে সংরক্ষিত রেকর্ডপত্রে অর্ধেকেরও বেশি জমির রেকর্ড নেই। সেখানে আছে মাত্র ১ লাখ ২৫ হাজার ৭৮১ শতকের জমির তথ্য। অবশিষ্ট ১ লাখ ৮৪ হাজার ২৯১ শতক জমি চলে গেছে পাহাড়খেকোদের পেটে। সীতাকুণ্ড রেজিস্ট্রি অফিসেই সরকারি খাসজমি জালিয়াতির মাধ্যমে বিক্রি ও নামজারি করা হয়েছে। ভয়াবহ এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন সীতাকুণ্ড সাবরেজিস্ট্রি অফিসের একজন দলিল লেখক।
সংশ্লিষ্ট সাবরেজিস্ট্রি অফিসে সরেজমিন কথা হয় ওই দলিল লেখকের সঙ্গে। এ সময় নাম প্রকাশ না করার শর্তে তিনি যুগান্তরকে বলেন, ইয়াসিনকে মালিক সাজিয়ে সলিমপুরের বহু জমি বিক্রি করা হয়েছে। এমনকি বিক্রির পর সেগুলো নামজারিও হয়েছে এসি ল্যান্ড অফিসে। নামজারি ও রেজিস্ট্রি করার সুবিধা পেতে রেকর্ডপত্র থেকেই খাসজমির তালিকা গোপন করা হয়। এই দুটি অফিসের অনেক কর্মচারী ইয়াসিনের সহযোগী। তারা সবাই এই প্রক্রিয়ার সঙ্গে জড়িত। তদন্ত করা হলে সব বেরিয়ে আসবে। রেজিস্ট্রির পর নামজারির তথ্য-উপাত্ত গোপন করার কোনো সুযোগ নেই।
তিনি আরও বলেন, জঙ্গল সলিমপুরে সন্ত্রাসী হামলায় র্যাব সদস্য নিহত হওয়ার পর রেজিস্ট্রি ও এসি ল্যান্ড অফিসে কঠোর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা হয়। সেখান থেকে কোনো তথ্য সংগ্রহ করা যাচ্ছে না। গোপন করা হয়েছে সব রেকর্ডপত্রও। এমনকি জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত জঙ্গল সলিমপুরের সব রেজিস্ট্রি মৌখিকভাবে বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
রেকর্ডপত্রে নেই খাসজমি : তথ্যানুসন্ধানে পাওয়া রেকর্ডপত্রে দেখা যায়, বিএস (বাংলাদেশ সার্ভে) রেকর্ড অনুযায়ী জঙ্গল সলিমপুরে খাসজমির ১৪০টি দাগ আছে। এর মধ্যে পাহাড় শ্রেণিতে ১ লাখ ১৭ হাজার ২২৮, নাল ১ হাজার ৩০১, খাল ৩১৯, ছড়া ২ হাজার ২১৩, গোপাট ৭৭, ছনখোলা ১ হাজার ৩১৭, টিলা ১ হাজার ৫৭, জঙ্গল ৪৭৪, কবরস্থান ৫৪৯, বাড়ি ৭৬, রাস্তা ২৯, মিল ৯০১ এবং খিলা শ্রেণিতে ৩৪ শতক জমি রয়েছে। খাসজমির এই তালিকা সংগ্রহ করতেও অনেক কৌশল অবলম্বন করতে হয়েছে প্রতিবেদককে।
তালিকায় দেখা গেছে, উল্লিখিত শ্রেণিবদ্ধ জঙ্গল সলিমপুরে ১ লাখ ২৫ হাজার ৭৮১ শতক জমি আছে। কিন্তু জেলা প্রশাসনের হিসাবে তিন হাজার ১০০ একর (৩ লাখ ১০ হাজার শতক) জমির তথ্য প্রকাশ করা হয়। অর্থাৎ ১ লাখ ৮৪ হাজার ২৯১ শতক জমির হদিস নেই। প্রকৃত তথ্য গোপন করে রেজিস্ট্রির পাশাপাশি নামজারিও করা হয়েছে এসব জমি।
খাসজমি উদ্ধারের চেষ্টা ব্যর্থ : আলোচ্য খাসজমি উদ্ধারে ২০২২ সালের ১২ সেপ্টেম্বর প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে মাস্টারপ্ল্যান সভা অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে উপস্থিত ছিলেন সরকারের সচিব, বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার প্রধান, সেনাবাহিনীর প্রতিনিধিসহ সিনিয়র কর্মকর্তারা। সভায় খাসজমি প্রভাবশালীরা কীভাবে দখল করেছে তার অংশবিশেষ তুলে ধরা হয়। বলা হয়, ভূমিদস্যু, সন্ত্রাসীরা প্রথমে পাহাড়ের গাছ কেটে ফেলে। এরপর পাহাড় কেটে মাটি ও বালু বিক্রি করে। পরে সেখানে প্লট বানিয়ে বিক্রি করে দেয়। প্রায় ৭০ ভাগ পাহাড়-টিলা উজাড় করা হয়েছে। এর ফলে একসময় যেখানে ৪-৫ কিলোমিটার বিস্তৃত পাহাড় ও টিলার সারি ছিল, তা এখন দীর্ঘ খালে পরিণত হয়েছে। এমনকি তারা গ্যাস ট্রান্সমিশন কোম্পানি লিমিটেডের (টিসিএল) অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ঢাকা-চট্টগ্রাম গ্যাস সঞ্চালন লাইনের ওপর দিয়ে মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণভাবে কয়েক কিলোমিটার লম্বা রাস্তা তৈরি করেছে। সেই রাস্তা দিয়ে পাহাড় কাটার কাজে ব্যবহৃত এক্সকেভেটর, ড্রাম্প ট্রাক এবং বালু ও মাটিবাহী বড় বড় ট্রাক যাতায়াত করে। ফলে ওই গ্যাসলাইনে যে কোনো সময় বড় ধরনের বিস্ফোরণে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
সভায় আরও বলা হয়, ২০১৭ সালে এখানে প্রথম উচ্ছেদ অভিযান চালিয়ে খাসজমি দখলমুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়। কিন্তু রাজনৈতিকভাবে প্রভাবশালীদের দখলেও সেখানে শত শত একর খাস জায়গা থাকায় সেই অভিযান ব্যর্থ হয়েছে।
প্রভাবশালীদের সাইনবোর্ডে সয়লাব : সরেজমিন দেখা যায়, চট্টগ্রামের প্রভাবশালী ব্যক্তিদের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের সাইনবোর্ডে সয়লাব হয়ে গেছে জঙ্গল সলিমপুরের খাসজমি। জমি দখলের তালিকায় আছেন সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদও। তার বাবা আখতারুজ্জমান বাবুর প্রতিষ্ঠিত ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ‘চৌধুরী অ্যাগ্রো’র নামেও জমি দখল করতে দেখা গেছে। এছাড়াও দখলের তালিকায় আছে চট্টগ্রাম ব্রিকস অ্যান্ড ক্লে ওয়ার্কস লিমিটেড, পোর্টলিংক লজিস্টিকস কনটেইনার লিমিটেড, খান অ্যাগ্রো, সলিমপুর সিডিএ আবাসিক এলাকা, মুক্তিযোদ্ধা বসতিনগর, জলিল টেক্সটাইল মিলস লিমিটেড, সীমা অটোমেটিক স্টিল রি-রোলিং মিলস। এমনকি ফৌজদার হাট ক্যাডেট কলেজের সীমানার ভেতরেও আছে এই জমি।
জমি চায় অর্ধশত প্রতিষ্ঠান : দখল উচ্ছেদ করে মাস্টারপ্ল্যান বাস্তবায়ন ঘোষণার পর ২০২২ সালের পর চট্টগ্রামের অন্তত অর্ধশত প্রতিষ্ঠান জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে জমি বরাদ্দের আবেদন করেছে। এর মধ্যে অধিকাংশই সরকারি প্রতিষ্ঠান। বরাদ্দের আবেদনে যে পরিমাণ জমির চাহিদা দেওয়া হয়েছে, তার অর্ধেকও সেখানে নেই।
জানা যায়, চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিডিএ) চেয়েছে ৩৫০ একর। পুলিশের ৫টি ইউনিট থেকে পৃথক আবেদন করা হয়েছে। চট্টগ্রাম রেঞ্জ ডিআইজির কার্যালয়ের জন্য ২৫, মেট্রোপলিটন পুলিশ (সিএমপি) কার্যালয়ের জন্য ১৪৫, বাংলাদেশ পুলিশ (আরআরএফ) ২৫, ইন্ডাস্ট্রিয়াল পুলিশ ১৫ এবং চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ এক একর জমি চেয়েছে। জমি বরাদ্দের আবেদন করেছে চট্টগ্রাম সেনানিবাসও। তারা চেয়েছে এক হাজার একর এবং বাংলাদেশ মিলিটারি একাডেমি ২৩৮ দশমিক ১৩ একর। র্যাব-৭ দশ, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন ১২০, গোয়েন্দা সংস্থা এনএসআই ১০, চট্টগ্রাম ওয়াসা ১০০, বাংলাদেশ বেতার ২৫ এবং বিজিএমইএ ২০০ একর জমি চেয়েছে। আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর জন্য আধুনিক প্রশিক্ষণ কমপ্লেক্স স্থাপন করতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগ থেকে চাওয়া হয়েছে ৩৬ দশমিক ৫ একর। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় বিসিএস প্রশাসন একাডেমি আঞ্চলিক প্রশিক্ষণকেন্দ্রের জন্য ৫০, সরকারি যানবাহন মেরামত কারখানার জন্য ২০, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের জন্য শূন্য দশমিক ৫০ এবং জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষ চেয়েছে ৫০০ একর। এছাড়া কারা ডিআইজির কার্যালয় ৭৫ এবং জেলা ক্রীড়া সংস্থা চেয়েছে ৪০ একর জমি। চট্টগ্রাম চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি ১২, প্যাসিফিক জিন্স গ্রুপ ২৫, আল মানাছিল ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ হাসপাতাল নির্মাণের জন্য ৫০, এশিয়ান ইউনিভার্সিটি ফর উইমেন ৩০, ইউনিভার্সিটি অব গ্র্যান্ড ৫, বাংলাদেশ জেলা ও বিভাগীয় ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন ১০, খাদ্য বিভাগ ৫০, ফায়ার সার্ভিস ১০, কর্মচারী কল্যাণ বোর্ড ২৫, মেট্রোপলিটন শুটিং ক্লাব ২০, অটিস্টিক বিদ্যালয় ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্র ৬, বাংলাদেশ স্কাউটস চট্টগ্রাম অঞ্চল ৫, বুড্ডিস্ট রিসার্চ অ্যান্ড পাবলিকেশন সেন্টার ১০, বোধিজ্ঞান ভাবনা কেন্দ্র ৬৬, জাতীয় পরিকল্পনা ও উন্নয়ন একাডেমির প্রশিক্ষণকেন্দ্র ১০ এবং জেএম শিপব্রেকিং রিসাইক্লিং ইন্ডাস্ট্রি পরিবেশ কারখানা তৈরির জন্য ২৫ একর জমি চেয়েছে।
এদিকে বারবার চেষ্টা করেও চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক জাহিদুল ইসলাম মিঞার সঙ্গে এ বিষয়ে কথা বলা সম্ভব হয়নি। সরকারি নম্বরে খুদে বার্তা পাঠিয়ে তার দৃষ্টি আকর্ষণের চেষ্টা করা হয়। কিন্তু তিনি সাড়া দেননি। পরে যোগাযোগ করা হয় অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) সাখাওয়াত জামিল সৈকতের সঙ্গে। তিনি যুগান্তরকে আরও ভয়াবহ তথ্য দিয়েছেন। সাখাওয়াত জামিল বলেন, ‘সীতাকুণ্ডের সহকারী কমিশনার (ভূমি) এ বিষয়ে আমাকে জানিয়েছেন তার অফিসের রেকর্ডপত্রে আছে ৯১০ একর। এই জমি এখন কীভাবে আবেদনকারীদের দেওয়া হবে, সেটি ভূমি মন্ত্রণালয় দেখবে।’
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
সরকারি রাজস্ব ও অন্যান্য সব ধরনের সরকারি প্রাপ্তি জমার ক্ষেত্রে বুধবার (১ জুলাই) থেকে এ-চালান ব্যবস্থা বাধ্যতামূলক করেছে সরকার। মঙ্গলবার (৩০ জুন) অর্থ বিভাগ এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, সরকারি অর্থ তাৎক্ষণিকভাবে ট্রেজারি সিঙ্গেল অ্যাকাউন্টে (টিএসএ) জমা নিশ্চিত করা, নগদ ব্যবস্থাপনা আরও কার্যকর করা, আর্থিক স্বচ্ছতা বৃদ্ধি এবং ম্যানুয়াল চালান ব্যবস্থা পুরোপুরি বন্ধ করার লক্ষেই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ২০২৬-২৭ অর্থবছরের শুরু থেকে কোনো মন্ত্রণালয়, বিভাগ, অধিদপ্তর, স্বায়ত্তশাসিত সংস্থা বা অধীনস্থ দপ্তর এ-চালানের বাইরে অন্য কোনো মাধ্যমে সরকারি রাজস্ব বা অন্যান্য প্রাপ্তি সংগ্রহ ও জমা দিতে পারবে না। বর্তমানে সরকারি অর্থ সংগ্রহে ব্যবহৃত পৃথক কোনো ব্যবস্থা থাকলে তা বন্ধ করতে হবে। একই সঙ্গে বাণিজ্যিক ব্যাংকের বিভিন্ন হিসাবে সংরক্ষিত সরকারি অর্থ ৩০ জুনের মধ্যে এ-চালানের মাধ্যমে সরকারের ট্রেজারি সিঙ্গেল অ্যাকাউন্টে স্থানান্তরেরও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অর্থ বিভাগ জানায়, এ-চালান ব্যবস্থার ব্যবহার এবং এর মাধ্যমে আদায়ের ধারাবাহিক প্রবৃদ্ধি সরকারি আর্থিক ব্যবস্থাপনায় এর কার্যকারিতা প্রমাণ করেছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে এ-চালানের মাধ্যমে সরকারি কোষাগারে জমা হয়েছে ৪ লাখ ৭ হাজার ২২৫ কোটি ৯৪ লাখ টাকা। আগের অর্থবছরের তুলনায় যা প্রায় ৫০ শতাংশ বেশি। একই সময়ে ৬ কোটি ৭৫ লাখ চালান প্রক্রিয়াকরণ হয়েছে, যা আগের বছরের তুলনায় ৭১ দশমিক ৭ শতাংশ বেশি। তথ্য অনুযায়ী, ২০১৯-২০ অর্থবছরে মাত্র ১৭টি চালান দিয়ে যাত্রা শুরু করা এ-চালান প্ল্যাটফর্মে গত সাত অর্থবছরে ১৯ কোটি ৩ লাখের বেশি চালান প্রক্রিয়াকরণ হয়েছে। এ সময়ে সরকারি হিসাবে জমা হয়েছে ১০ লাখ ৬৩ হাজার কোটি টাকারও বেশি। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে অনলাইন চালানের সংখ্যা ৯২ শতাংশ বেড়ে ৫ কোটি ৩৬ লাখে পৌঁছেছে। অনলাইনে আদায়ের পরিমাণ ৫৪ দশমিক ৫ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১১ হাজার ২৯৮ কোটি ১২ লাখ টাকা। একই সময়ে ওভার দ্য কাউন্টার (ওটিসি) লেনদেনের মাধ্যমে জমা হয়েছে ৩ লাখ ৮৬ হাজার ৩৯৭ কোটি ৫৫ লাখ টাকা। অর্থ বিভাগ বলেছে, এ-চালান পুরোপুরি বাস্তবায়িত হলে সরকারের প্রকৃত নগদ অবস্থান সম্পর্কে তাৎক্ষণিক ও নির্ভুল তথ্য পাওয়া সম্ভব হবে। বিভিন্ন ব্যাংক হিসাবে ছড়িয়ে থাকা অলস সরকারি অর্থ কমবে। নগদ ব্যবস্থাপনাও হবে আরও দক্ষ ও ব্যয়-সাশ্রয়ী। এ-চালান চালুর ফলে সরকারি ফি ও রাজস্ব জমা দিতে নির্দিষ্ট ব্যাংক শাখায় যাওয়ার প্রয়োজন অনেকটাই কমেছে। অর্থ জমা হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই চালানের রসিদ তৈরি হয় এবং তা তাৎক্ষণিকভাবে ব্যবহার করা যায়। এতে নাগরিক সেবা পাওয়া আরও সহজ ও দ্রুত হয়েছে। বর্তমানে বাংলাদেশ ব্যাংক ও সব তফসিলি ব্যাংকের শাখা কাউন্টার, ইন্টারনেট ব্যাংকিং, বিকাশ, নগদ, রকেট, উপায়, ট্যাপসহ বিভিন্ন মোবাইল আর্থিক সেবা এবং ডেবিট ও ক্রেডিট কার্ডের মাধ্যমে সরকারি রাজস্ব ও সেবা ফি জমা দেওয়া যাচ্ছে। অর্থ বিভাগ আরও জানিয়েছে, এ-চালানের মাধ্যমে জমা হওয়া অর্থ তাৎক্ষণিকভাবে ট্রেজারি সিঙ্গেল অ্যাকাউন্টে স্থানান্তরিত হয়। ফলে সরকারি প্রাপ্তির তথ্য রিয়েল-টাইমে পর্যবেক্ষণ, আর্থিক স্বচ্ছতা নিশ্চিত এবং ঋণ ব্যবস্থাপনা আরও কার্যকরভাবে পরিচালনা করা সম্ভব হচ্ছে। এছাড়া বাংলাদেশ ব্যাংক, সংশ্লিষ্ট হিসাবরক্ষণ অফিস এবং সরকারি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে পরিশোধসংক্রান্ত তথ্য স্বয়ংক্রিয়ভাবে সমন্বিত হচ্ছে। এ-চালান ড্যাশবোর্ডের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো তাৎক্ষণিকভাবে রাজস্ব আদায় ও লেনদেনের তথ্য পর্যবেক্ষণ করতে পারছে। চালান যাচাই ব্যবস্থার মাধ্যমে যে কোনো চালানের সত্যতা দ্রুত যাচাই করা সম্ভব হওয়ায় ভুয়া চালান, জাল দলিল এবং রাজস্ব ফাঁকির ঝুঁকিও উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। উল্লেখ্য, বৃহত্তর সরকারি আর্থিক ব্যবস্থাপনা সংস্কারের অংশ হিসেবে অর্থ বিভাগ ২০১৯-২০ অর্থবছরে এ-চালান ব্যবস্থা চালু করে। এর মূল লক্ষ্য সরকারি অর্থ দ্রুত কোষাগারে জমা নিশ্চিত করা, রাজস্ব ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা ও স্বচ্ছতা বৃদ্ধি, ভুয়া চালান প্রতিরোধ এবং সরকারের নগদ অবস্থান সম্পর্কে নির্ভুল তথ্য নিশ্চিত করা।
চট্টগ্রামের বাকলিয়ায় ১৭ বছর আগে সংঘটিত পলাশ হত্যা মামলায় মাহমুদুল হাসান সোহেল ও আইয়ুব আলী বাবুল নামে দুই আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। সোমবার (২৯ জুন) সকালে চট্টগ্রামের পঞ্চম অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ মো. তাজউল ইসলামের আদালত এ রায় দেন। আদালত সূত্র জানায়, পূর্ব শত্রুতার জেরে আসামিরা পরিকল্পিতভাবে মো. পলাশকে ২০০৯ সালের ২৭ আগস্ট নগরের বাকলিয়া থানার ডিসি রোড এলাকার জামাল বিল্ডিংয়ের চতুর্থ তলায় নিয়ে হত্যা করেন। এ ঘটনায় নিহতের ভাই মো. সম্রাট ২০০৯ সালের ২৮ আগস্ট বাকলিয়া থানায় মামলা করেন। মামলার তদন্ত শেষে আদালতে অভিযোগপত্র দিলে ২০১২ সালের ১২ নভেম্বর অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেওয়া হয়। মামলাটি প্রথমে বিভাগীয় দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে বিচারাধীন ছিল। পরে চট্টগ্রামের পঞ্চম অতিরিক্ত মহানগর দায়রা আদালতে স্থানান্তরিত হয়। মামলায় ১৬ জন সাক্ষীর মধ্যে ১৪ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়। সাক্ষ্যপ্রমাণে মো. পলাশ হত্যার অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় দোষী সাব্যস্ত করে আদালত দুই আসামির প্রত্যেককে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড, ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড এবং অর্থদণ্ড অনাদায়ে আরও ৬ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। রায়ের সময় আসামিরা পলাতক ছিলেন। তাদের বিরুদ্ধে সাজা পরোয়ানা মূলে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে।
জীবিকা নির্বাহের জন্য চাকরি, ফ্রিল্যান্সিং বা যেকোনো পেশা বেছে নেওয়া মানুষের জীবনের একটি বড় অংশ। অনেকেই মনে করেন ইসলাম কেবল ব্যবসা–বাণিজ্যের নিয়ম নির্ধারণ করেছে। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে চাকরিজীবী, করপোরেট কর্মী ও নিয়োগকর্তাদের জন্যও শরিয়ত দিয়েছে অমোঘ কিছু নীতিমালা। কর্মক্ষেত্রে সততা বজায় রাখা ও কর্মীর অধিকার নিশ্চিত করা ইসলামের দৃষ্টিতে কেবল পেশাগত দায়িত্ব নয়; বরং এটি একটি বড় ইবাদত। কর্মক্ষেত্রে সততা ও হালাল ক্যারিয়ার গড়ে তোলার এমন পাঁচটি সোনালি ইসলামি নীতি নিচে আলোচনা করা হলো। ১. শর্তের প্রতি শতভাগ অনুগত থাকা যেকোনো সংস্থায় যোগ দেওয়ার সময় যে কাজের বিবরণ (জব ডেসক্রিপশন) ও শর্তাবলি নির্ধারণ করা হয়, তা অক্ষরে অক্ষরে পালন করা প্রত্যেক কর্মীর ধর্মীয় দায়িত্ব। কোনো ব্যক্তি যদি নির্দিষ্ট বেতনের বিনিময়ে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য চুক্তিবদ্ধ হয়, তবে অলসতা বা অবহেলার কারণে কাজের সময় নষ্ট করলে তার বেতন থেকে বরকত কমে যায় এবং সে আমানতের খেয়ানতকারী হিসেবে গণ্য হয়। (ইবনে কুদামাহ, আল–মুগনি, ৬/৪৩, মাকতাবাতুল কাহেরা, কায়রো, ১৯৬৮) পবিত্র কোরআনে মহান আল্লাহ নির্দেশ দিয়ে বলেছেন, ‘হে মুমিনগণ, তোমরা অঙ্গীকারগুলো পূর্ণ করো।’ (সুরা মায়েদা, আয়াত: ১) ২. পারিশ্রমিক সময়মতো পরিশোধ করা নিয়োগকর্তা বা বসের জন্য সবচেয়ে বড় দায়িত্ব হলো কর্মীর কাজের মূল্যায়ন করা এবং তার প্রাপ্য বেতন–ভাতা কোনো ধরনের টালবাহানা ছাড়া বুঝিয়ে দেওয়া। আব্বাসীয় যুগের বিখ্যাত প্রধান বিচারপতি ইমাম আবু ইউসুফ রাষ্ট্রীয় ও ব্যক্তিগত শ্রমের অধিকার নিয়ে লিখতে গিয়ে উল্লেখ করেছেন, কোনো কর্মীকে খাটিয়ে তার পারিশ্রমিক আটকে রাখা বা দেরিতে দেওয়া একটি সামাজিক ও অর্থনৈতিক জুলুম, যা রাষ্ট্রের শান্তি বিনষ্ট করে। (ইমাম আবু ইউসুফ, কিতাবুল খারাজ, ১/১৩২, দারুল মা’রিফা, বৈরুত, ১৯৭৯) মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) এ বিষয়ে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, ‘তোমরা শ্রমিকের পারিশ্রমিক দিয়ে দাও তার গায়ের ঘাম শুকানোর আগেই।’ (সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদিস: ২৪৪৩) ৩. কর্মক্ষেত্রে স্বজনপ্রীতি ও দুর্নীতি বর্জন আজকের করপোরেট বা সরকারি চাকরিতে প্রমোশন, নতুন নিয়োগ কিংবা ফাইল পাসের ক্ষেত্রে ঘুষ ও স্বজনপ্রীতি একটি সাধারণ বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। অযোগ্য ব্যক্তিকে স্বজনপ্রীতির মাধ্যমে কোনো পদে বসানো আমানতের বড় খেয়ানত এবং ঘুষের মাধ্যমে অর্জিত যেকোনো পদ বা অর্থ পুরোপুরি হারাম। (ইবনে হাজার আসকালানি, ফাতহুল বারি, ১৩/১২১, দারুল মা’রিফা, বৈরুত, ১৩৭৯ হিজরি) মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) এ বিষয়ে লানত দিয়ে বলেছেন, ‘ঘুষদাতা ও ঘুষগ্রহীতা উভয়ের ওপর আল্লাহর লানত বা অভিশাপ।’ (সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদিস: ২৩১৩) ৪. কাজের সময়কে আমানত মনে করা অফিসের সময়ে ব্যক্তিগত কাজ করা, বসের অনুপস্থিতিতে অলস সময় কাটানো কিংবা ভুয়া মেডিক্যাল সার্টিফিকেট দিয়ে ছুটি কাটানো ক্যারিয়ারের হালাল উপার্জনকে কলঙ্কিত করে। কর্মক্ষেত্রের সময়টুকু কর্মীর কাছে একটি আমানত, যা সে বেতনের বিনিময়ে প্রতিষ্ঠানের কাছে বিক্রি করেছে। সুতরাং এই সময়ে অবহেলা করা মানে অন্যের সম্পদ অন্যায়ভাবে ভোগ করা। (ইমাম আল–গাজালি, ইহয়াউ উলুমিদ্দিন, ২/৮৮, দারুল মা’রিফা, বৈরুত, ১৯৮২) নবীজি (সা.) বলেছেন, ‘তোমাদের প্রত্যেকেই একেকজন দায়িত্বশীল এবং প্রত্যেককেই তার দায়িত্ব সম্পর্কে (কিয়ামতের দিন) জিজ্ঞাসা করা হবে।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৮৯৩) ৫. কর্মীকে সামর্থ্যের অধিক চাপ না দেওয়া ম্যানেজার বা নিয়োগকর্তাদের উচিত অধীন কর্মচারীদের সঙ্গে মানবিক আচরণ করা এবং তাদের ওপর এমন কোনো কাজের বোঝা না চাপানো, যা তাদের শারীরিক বা মানসিক ক্ষমতার বাইরে। ইসলামে শ্রমিকের মর্যাদা এতটাই ওপরে যে তাদের দাস বা নিচু স্তরের ভাবা যাবে না; বরং তাদের নিজেদের ভাইয়ের মতো সম্মান দিতে হবে। (ইমাম নববি, শারহু সহিহ মুসলিম, ১১/১৩১, দারুল ইহয়া আত–তুরাস আল–আরাবি, বৈরুত, ১৯৭২) মহানবী (সা.) নির্দেশ দিয়েছেন, ‘তারা তোমাদেরই ভাই, আল্লাহ তাদের তোমাদের অধীনস্থ করেছেন... সুতরাং তাদের এমন কাজের কষ্ট দিয়ো না, যা তাদের সাধ্যের অতীত, আর যদি এমন কঠিন কাজ দাও, তবে তোমরা নিজেরাও তাদের সাহায্য করো।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৩০) কর্মজীবীদের ৩টি জিজ্ঞাসা ১. চাকরিজীবীদের মনে প্রায়ই প্রশ্ন জাগে, সরকারি বা বেসরকারি চাকরিতে ‘উপহার’ বা ‘বকশিশ’ নেওয়ার বিধান কী? শরিয়তের দৃষ্টিকোণ হলো, কোনো দায়িত্বশীল ব্যক্তি যদি তাঁর পদের কারণে কোনো পক্ষ থেকে উপহার বা অতিরিক্ত টাকা নেন, তবে তা ‘হাদিয়া’ নয়; বরং একপ্রকার সুপ্ত ঘুষ বা আত্মসাৎ। মহানবী (সা.) সরকারি কর্মকর্তার এমন উপহার গ্রহণকে সরাসরি ‘খেয়ানত’ বলে অভিহিত করেছেন। (মুসনাদে আহমাদ, হাদিস: ২৩৬০১) ২. কেউ যদি সুদের সঙ্গে সরাসরি জড়িত কোনো প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন, তবে তাঁর আয়ের বিধান কী হবে? ইসলামে সরাসরি সুদের হিসাব রাখা, সুদের চুক্তি লেখা বা সুদে সাহায্য করা কঠোরভাবে নিষিদ্ধ। ইমাম শাফেয়ি লিখেছেন, যে কাজের মূল ভিত্তিই হারাম, তার মাধ্যমে অর্জিত আয়ও শরিয়তে গ্রহণযোগ্য নয়। (ইমাম শাফেয়ি, কিতাবুল উম্ম, ৩/২৫৪, দারুল মা’রিফা, বৈরুত, ১৯৯০) তবে সুদের সঙ্গে সরাসরি সংশ্লিষ্ট নয়, এমন সাধারণ আইটি বা সিকিউরিটি পদে থাকলে ওলামাদের ভিন্ন মত রয়েছে। ৩. বর্তমান যুগের ফ্রিল্যান্সিং বা রিমোট জবের ক্যারিয়ারের হালাল–হারাম হওয়ার বিষয়টিও নির্ভর করে কাজের ধরনের ওপর। ফ্রিল্যান্সিংয়ের মাধ্যমে যে কাজটি করা হচ্ছে (যেমন ওয়েব ডিজাইন, কনটেন্ট রাইটিং বা অ্যাকাউন্টিং)। তা যদি কোনো অবৈধ বা হারাম পণ্যের (মদ, জুয়া, সুদ) প্রচার বা প্রসারে সাহায্য না করে এবং কাজের চুক্তিতে কোনো ধোঁকা না থাকে, তবে সেই ক্যারিয়ার সম্পূর্ণ হালাল। (ইমাম আবু ইউসুফ, কিতাবুল খারাজ, ১/১৩৮)