সারাদেশ

জামায়াত কর্মী খুন: চুয়াডাঙ্গায় স্বেচ্ছাসেবক দল নেতাসহ আটক ৩

আবরার আল মামুন সাহাফ মার্চ ০২, ২০২৬ 0

সেখানে প্রতিবাদ সমাবেশে বক্তারা বলেন, জামায়াত কর্মী ও স্বর্ণ ব্যবসায়ী হাফিজুর রহমানকে হত্যা করা হয়েছে। একটি রাজনৈতিক দল প্রতিহিংসায় মেতেছে; তা জেলার জন্য সুখকর কিছু হবে না।

এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানান নেতারা।

এতে চুয়াডাঙ্গা জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি আসাদুজ্জামান, পৌর জামায়াতের আমীর হাসিবুল ইসলাম, সদর উপজেলা জামায়াতের আমীর বেলাল হুসাইন, জেলা শাখার সদস্য আব্দুর রউফ এবং জেলা ছাত্রশিবিরের সভাপতি সাগর আহমেদ বক্তব্য দেন।

চুয়াডাঙ্গার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জামাল আল নাসের বলেন, এখন পর্যন্ত তিনজনকে আটক করা হয়েছে। এ ঘটনায় হত্যা মামলা প্রক্রিয়াধীন।

এর আগে শনিবার রাতে জীবননগর উপজেলার হাসাদাহ বাজার এলাকায় আধিপত্য বিস্তার ও পূর্ব শত্রুতার জেরে বিএনপি ও জামায়াতের কর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে বাঁকা ইউনিয়ন জামায়াতের আমীরের ভাই ও জামায়াত কর্মী হাফিজুর রহমান নিহত হন। আহত হন উভয়পক্ষের আরও পাঁচজন।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

কৃষি ব্যাংকে ভুয়া সিবিএ নেতাদের কোটি টাকারও বেশি চাঁদাবাজি

অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।  

হালিম হত্যার আসামিরা পলাতক, ধামাচাপা দিচ্ছে প্রশাসন

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে সংঘটিত এজাহারভুক্ত হত্যা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ ও মিরাজ হোসেন পলাতক রয়েছেন। ব্যাংক প্রশাসন বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। খুনের শিকার কৃষি ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী আব্দুল হালিম ছিলেন কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) সভাপতি। তার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলায়। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি স্থানীয়ভাবে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ১ নম্বর আসামি হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত পিয়ন ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ এবং ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেনের নাম রয়েছে। তারা বর্তমানে নিজেদের সিবিএ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দাবি করে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে প্রভাব বিস্তার করছেন। ব্যাংক সূত্রে গেছে, তারা চাঁদাবাজি, ঘুষ আদায় ও নানা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। সূত্র জানায়, ব্যাংকের ভেতরে একটি সিন্ডিকেটের প্রভাবেই এসব আসামিরা এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন। এই সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে আছেন মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেন। এতে আরও যুক্ত রয়েছেন ডিজিএম সৈয়দ লিয়াকত হোসেন, হাবিব উন নবী, ডিএমডি খালেকুজ্জামান জুয়েল ও ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী। গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর রাতে মতিঝিলের বিমান অফিসের সামনে আব্দুল হালিমের মৃত্যু হয়। পরদিন সকালে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়। মতিঝিল থানার উপ-পরিদর্শক সজীব কুমার সিং সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে জানান, পুরনো সহকর্মীদের সঙ্গে বিরোধের জেরে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং রাত ১টা ৪০ মিনিটে হাসপাতালে মারা যান। হালিমের ছেলে ফয়সাল বলেন, তার বাবা ২০১৪ সাল থেকে কৃষি ব্যাংক সিবিএর সভাপতি ছিলেন এবং বোয়ালখালী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতেন। ইউনিয়নের নেতৃত্ব ও পদ নিয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে গত নভেম্বরেই মতিঝিল থানায় একটি জিডি (নং ০৫/১১/২০২৪ - ৩৩৫) করেছিলেন তার বাবা। তিনি আরও বলেন, বুধবার রাতে আমার বাবাকে তার অফিসের সহকর্মীরা মারধর করে হত্যা করেছে। সিবিএর বর্তমান সাধারণ সম্পাদক নাসিম আহমেদ জানান, ২০১৪ সালে আমরা নির্বাচিত হই। এরপর আর কোনো নির্বাচন হয়নি। কিন্তু গত ৫ আগস্ট বিনা নির্বাচনে নতুন কমিটি ঘোষণা করে আমাদের অফিস দখল করে নেয় ফয়েজ ও মিরাজ। এ নিয়ে মামলা চলছে। মামলার তথ্য অনুযায়ী, আসামিরা অস্থায়ী জামিনে ছিলেন। সম্প্রতি তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। এছাড়া আরও কয়েকজন পলাতক রয়েছেন—যাদের মধ্যে আছেন ড্রাইভার সাইফুল, শাহেদ, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মেহেদী ও অবসরপ্রাপ্ত ক্লিনার সিরাজ। এদিকে, মামলার ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেন নৈমিত্তিক ছুটির আবেদন করে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। যদিও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামির নৈমিত্তিক ছুটি পাওয়ার কোনো এখতিয়ার নেই। মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক এ বিষয়ে বলেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন এবং নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন।  কিন্তু স্থানীয় মুখ্য কার্যালয়ের প্রধান মহাব্যবস্থাপক জানান, তিনি কোনো মন্তব্য করতে চান না। কারণ ব্যবস্থাপনা পরিচালক মন্তব্য না করার নির্দেশ দিয়েছেন। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। অভ্যন্তরীণ এই পরিস্থিতিতে কৃষি ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

সারাদেশ

আরও দেখুন
ছবি : সংগৃহীত
সিএমপিতে বড় রদবদল, একসঙ্গে সরলেন তিন থানার ওসি

চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশে (সিএমপি) রদবদল করা হয়েছে। একসঙ্গে সিএমপির তিন থানার ভারপ্রপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) বদলি করা হয়েছে। এ ছাড়া পরিবর্তন এসেছে নগর গোয়েন্দা (ডিবি) ট্রাফিক বিভাগে।   বুধবার (২৫ মার্চ) সিএমপি কমিশনার হাসিব আজিজের স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে এই রদবদল করা হয়।   আদেশ অনুযায়ী, পাঁচলাইশ থানার বর্তমান ওসি মো. আব্দুল করিমকে বায়েজিদ বোস্তামী থানার নতুন ওসি হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। খুলশী থানার ওসি মো. জাহেদুল ইসলামকে পাঁচলাইশ থানার ওসির দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। সিএমপি পুলিশ লাইন্স থেকে মো. আরিফুর রহমানকে খুলশী থানার নতুন ওসি হিসেবে পদায়ন করা হয়েছে। বায়েজিদ বোস্তামী থানার বর্তমান ওসি মো. জাহেদুল কবিরকে বদলি করা হয়েছে সিএমপির বিশেষ শাখা সিটিএসবিতে।   এদিকে সিএমপি পুলিশ লাইন্স থেকে মোহাম্মদ জামির হোসেন জিয়াকে ডিবি-উত্তর বিভাগে এবং জসিম উদ্দিনকে ডিবি-দক্ষিণ বিভাগে বদলি করা হয়েছে। এ ছাড়া শহর ও যানবাহন পুলিশ পরিদর্শক সাইফুর রহমানকে টিআই হিসেবে সিটি গেট ট্রাফিক বিভাগে বদলি করা হয়েছে।   জনস্বার্থে জারিকৃত এই আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে বলে পুলিশ কমিশনারের কার্যালয় থেকে জানানো হয়েছে।

মোঃ নাহিদ হোসেন মার্চ ২৫, ২০২৬ 0
ছবি : সংগৃহীত

জামালপুরে ৩ হাজার লিটার পেট্রোলসহ ৭ জন আটক

ছবি: সংগৃহীত

কলার মোচা দেখিয়ে ট্রেন দুর্ঘটনা ঠেকানো এনামুলকে সম্মাননা

ছবি: সংগৃহীত

২৫ মার্চ ‘কালরাত’ স্মরণে ব্ল্যাকআউট কর্মসূচি শেষ মুহূর্তে বাতিল

ছবি: সংগৃহীত
গ্যাস জমে ঘরই পরিণত হলো ‘মরণফাঁদে’

নেত্রকোণার মোহনগঞ্জের কলেজছাত্র রিয়াদ হাসান অপু ঢাকার রায়েরবাজারে বোনের বাসায় বেড়াতে এসেছিলেন। সেহরির আগ মুহূর্তে হঠাৎ বিস্ফোরণে ঘুম ভেঙে গেলে ঘরে আগুন দেখতে পান।   তড়িঘড়ি তিন বছর বয়সী ভাগ্নে মায়ানকে সঙ্গে নিয়ে বের গেলেও শেষ রক্ষা হয়নি। ততক্ষণে ভাগ্নের শরীরের ২৪ শতাংশ পুড়ে যাওয়ার পাশাপাশি অপুর নিজের শরীরের ৭ শতাংশ পুড়েছে। তার বোন পিংকির পুড়েছে ৭৫ শতাংশ; দুলা ভাই মো. রোমানের পুড়েছে ২৫ শতাংশ। তারা সবাই জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের বিভিন্ন বিভাগে চিকিৎসাধীন। চিকিৎসকরা বলছেন, অপুর বোন-দুলাভাই ও ভাগ্নের অবস্থা ‘আশঙ্কাজনক’। ২৩ ফেব্রুয়ারি রাতের ওই দুর্ঘটনার বর্ণনা করে অপু বলেন, সেহরির জন্য রান্না করতে উঠেছিলেন তার বোন পিংকি। চুলা জ্বালতেই বিকট শব্দে বিস্ফোরণ হয়ে আগুন সারা ঘরে ছড়িয়ে পড়ে। প্রাথমিকভাবে ফায়ার সার্ভিস জানিয়েছে, লাইনের ছিদ্র থেকে ঘরে গ্যাস জমেছিল। সে কারণে আগুন জ্বালাতেই বিস্ফোরণ ঘটে। একইরকমভাবে সেদিন সেহরির সময় খেতে উঠে চট্টগ্রামের হালিশহরের একটি বাসায় গ্যাস বিস্ফোরণে দগ্ধ হন এক পরিবারের ৯ জন। যাদের মধ্যে ছয়জন ইতোমধ্যে মারা গেছেন; বাকি তিনজন ‘আশঙ্কাজনক’ অবস্থায় জাতীয় বার্ন ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন। একইদিন ভোরে দেশের দুই প্রান্তে ভয়াবহ এ দুটি ঘটনার পরবর্তী তিন সপ্তাহে দেশের ১০টি জায়গায় গ্যাস লিকেজ থেকে বিস্ফোরণ ও আগুনে দগ্ধ হয়ে মোট ৫৩ জন ঢাকার এই বিশেষায়িত হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে এসেছিলেন; তাদের মধ্যে ১২ জন মারা গেছেন। এলপিজি সিলিন্ডার ব্যবহারকারীদের পাশাপাশি পাইপলাইনের প্রাকৃতিক গ্যাস ব্যবহারকারীরাও রয়েছেন দগ্ধদের মধ্যে। প্রশ্ন উঠেছে, ‘হঠাৎ করে’ গ্যাস লিক থেকে বিস্ফোরণের এত ঘটনা কেন ঘটছে? বিশেষজ্ঞরা এক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি দায়ী করছেন ‘সচেতনতার অভাবকে’। পাশাপাশি বহু পুরনো গ্যাস সংযোগের দিকে আঙ্গুল তুলেছেন; বলেছেন সিলিন্ডারের বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের নজরদারিতে ‘উদাসীনতার’ কথা। সিলিন্ডার কোম্পানিগুলোর ভাষ্য, প্রায় সব ঘটনার পরই সিলিন্ডার অক্ষত পাওয়া যায়। কিন্তু সিলিন্ডারে ব্যবহার করা হোসপাইপ, রেগুলেটর, ক্লাম্পসহ সামগ্রীগুলো মানসম্মত কি না, সেসব দিয়ে গ্যাস লিক হচ্ছে কি না, গ্রাহক পর্যায়েই তা নিশ্চিত করতে হবে। অপরদিকে লাইনে গ্যাস সরবরাহকারী কোম্পানি বলছে, তারা পুরাতন পাইপগুলো পরিবর্তনের ‘চেষ্টায় আছে’। পাইপের সমস্যার কারণে বাইরে লিক হলে সাধারণত কোম্পানির ‘সিস্টেম লস’ হলেও দুর্ঘটনা ‘তেমন হয় না’। বাড়ির ভেতরে থাকা লাইনগুলো নজরদারির দায়িত্ব ভবন মালিক বা ব্যবহারকারীদের নিতে হবে। ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরের সাবেক মহাপরিচালক অবসরপ্রাপ্ত ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আলী আহম্মেদ খান বলেন, বিভিন্ন গ্যাস লাইন কেটে চোরাই লাইন নেওয়া হয়। আবার অনেক জায়গায় লাইনগুলো পুরনো হয়ে গেছে। “বাসা বাড়িতে যারা এলপিজি গ্যাস ব্যবহার করে, সেই সিলিন্ডারগুলোর নিয়মিত তদারকি নাই। এছাড়া সিলিন্ডারে ব্যবহৃত রেগুলেটরসহ অন্যান্য সামগ্রী খুবই নিম্নমানের।” এর বাইরে সবচেয়ে বড় কারণ হিসেবে মানুষের ‘উদাসীনতাকে’ দায়ী করেন তিনি। খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়েয়ের (কুয়েট) উপাচার্য মো. মাকসুদ হেলালী বলেন, “গ্রামে গ্রামে কাঠের ব্যবহার কমিয়ে দিয়ে মানুষ সিলিন্ডারের এলপিজিতে যাচ্ছে। যত ব্যবহার বাড়ছে, তত ঝুঁকি বাড়ছে, কারণ মেনটেইনেন্স জানে না। ভুলে চুলা বন্ধ করে না। দুর্ঘটনার ৬০-৬৫ শতাংশ ঘটনাই হিউম্যান এরর।” চট্টগ্রামের হালিশহরে বিস্ফোরণের কারণ অনুসন্ধানে দুটি তদন্ত কমিটি গঠনের কথা জানিয়েছে কর্ণফুলী গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড (কেজিডিসিএল) ও ফায়ার সার্ভিস। তবে দুর্ঘটনার পর ফায়ার সার্ভিসের পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল, ঘরে জমে যাওয়া গ্যাস থেকে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটতে পারে। ভয়াবহ ওই ঘটনার পরদিন ২৪ ফেব্রুয়ারি ভোরে কুমিল্লার দাউদকান্দিতে গ্যাস লিক থেকে বিস্ফোরণে চারজন দগ্ধ হন। ওই বাড়ির সংযোগটি ‘অবৈধ’ ছিল বলে জানিয়েছেন বাখরাবাদ গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন লিমিটেডের প্রকৌশলী অম্লান কুমার দত্ত। তিনি বলেন, “ওই বাড়িতে কোনো বৈধ সংযোগ ছিল না। তারা অবৈধ সংযোগ ব্যবহার করতেন। কিছুদিন আগে সেই অবৈধ সংযোগটি বিচ্ছিন্ন করা হয়েছিল। পরে হয়ত তারা আবার নিজস্ব কোনো পদ্ধতিতে এই লাইন ব্যবহার করেছে। আর এ কারণেই এ দুর্ঘটনা ঘটেছে।” চাঁদপুরের কচুয়া উপজেলায় ২৫ ফেব্রুয়ারি ভোরে গ্যাস সিলিন্ডারের লিক থেকে বিস্ফোরণে একই পরিবারের তিনজন দগ্ধ হয়ে জাতীয় বার্ন ইনস্টিটিউটে চিকিৎসা নিতে এসেছেন। দগ্ধ গৃহকর্তা মাহমুদুলের ছোট ভাই হাসান বলেন, ভোর ৪টার দিকে মাহমুদুলের স্ত্রী খাদিজা আক্তার সেহরির জন্য রান্না ঘরে যান। চুলায় আগুন দিতে গেলে বিস্ফোরণ ঘটে। গত ৬ মার্চ ভোরে উত্তরা কামারপাড়া এলাকার একটি বাসায় গ্যাস লাইন লিক থেকে বিস্ফোরণে ১০ জন দগ্ধ হন, যাদের মধ্যে ৩ জন চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। এরপর ১০ মার্চ রাতে ঢাকার ধামরাইয়ে রান্নাঘরে জমে থাকা গ্যাস থেকে বিস্ফোরণে সারা শরীরে আগুন লাগে সুমনা বাদশা নামে ৪৫ বছর বয়সী এক গৃহবধূর। তাকে বাঁচাতে এগিয়ে গিয়ে দগ্ধ হন তার স্বামী ও দুই সন্তান। পরদিন জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ওই গৃহবধূর মৃত্যু হয়। ফায়ার সার্ভিসের মিডিয়া অফিসার তালহা বিন জসিম বলেন, “গ্যাস লিক থেকে দুর্ঘটনা প্রায়ই কম-বেশি ঘটে, এখন বড় ঘটনা ঘটেছে বলে চোখে পড়ছে।” তার ভাষ্য, “গ্যাস লিক কয়েকভাবে হয়, যেখানে বার্নার থাকে বার্নারের সাথে সিলিন্ডারের সাথে যে লাইনটা থাকে, সেখান থেকে সাধারণত লিক হয়। আর অনেকে এগুলোর ব্যাপারে সতর্ক না।” ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরের সাবেক মহাপরিচালক আলী আহম্মেদ খানের পর্যবেক্ষণ, মানুষ সিলিন্ডার ব্যবহার করে, কিন্তু নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ ও পরীক্ষা করে না। “ব্যবহারকারীরা একদম উদাসীন। কেউ চুলা ছেড়ে চলে গেল, তখন হয়ত গ্যাসের প্রেশার চলে গেছে। আবার প্রেশার চলে এলে তখন গ্যাস বেরিয়ে জমে যায়। যেজন্য এক্সিডেন্টগুলো হয় বাসার ভেতরে।   বাড়ছে দুর্ঘটনা, বাড়ছে প্রাণহানি ২০২৫ সালে সারা দেশে ২৭ হাজার ৫৯টি আগুনের ঘটনায় ৮৫ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং আরো ২৬৭ জন আহত হয়েছেন। এর মধ্যে চুলা থেকে ২ হাজার ৯০৯টি (১০.৭৫%), গ্যাস সিলিন্ডার লিক থেকে ৯২০টি (৩.৪০%), গ্যাস সরবরাহ লাইন লিক থেকে ৫৬২টি (২.০৮%) এবং গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণ থেকে ১২১টি (০.৪৫%) আগুনের ঘটনা ছিল। ২০২৪ সালে সারাদেশে গ্যাস সিলিন্ডার লিক থেকে ৫৩৯টি, সিলিন্ডার বিস্ফোরণজনিত ২৯টি, গ্যাসের সরবরাহ লাইনের লিক থেকে ৩৭৯টি এবং শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্র থেকে ৬১টি আগুনের ঘটনা ঘটে। ২০২৩ সালে সারাদেশে গ্যাস লাইন লিক থেকে ৬৯৪টি, সিলিন্ডার থেকে ২১০টি এবং শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্রের ত্রুটির কারণে ৮৮টি অগ্নিকাণ্ড হয়। ২০২২ সালে গ্যাস লাইন এবং সিলিন্ডার লিক ও বিস্ফোরণ থেকে ৭৬৭টি, শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্র থেকে ৪৮টি অগ্নিকাণ্ড হয়। ২০২১ সালে গ্যাস লাইন এবং গ্যাসের সিলিন্ডার থেকে ৮৯৪টি, শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্রে ত্রুটির কারণে ৩৯টি অগ্নিকাণ্ড হয়।   সারাদেশ থেকে ২০২৫ সালে গ্যাস বিস্ফোরণের ঘটনায় দগ্ধ ২৬৪ জন রোগী চিকিৎসা নিতে জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে আসেন বলে ইনস্টিটিউটের সহকারী অধ্যাপক শাওন বিন রহমান জানান। তিনি বলেন, “বেশিরভাগ ঘটনাই হয় রান্নাঘরে। চুলা জ্বালাতে গেছেন, তখন বিস্ফোরণটা হয়। এটা সাধারণত লাইন লিক থেকে গ্যাস জমেই হয়।” এমন ঘটনায় অধিকাংশ রোগীর শ্বাসনালী পুড়ে যায়, ফলে অনেকেই মারা যান বলে জানান এই চিকিৎসক।   কেন এ সময়ে ঘটনা বেশি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দুর্যোগ বিজ্ঞান ও জলবায়ু সহনশীলতা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক বি এম রাব্বী হোসাইন বলেন, বদ্ধ জায়গায় জমে থাকা গ্যাসে আগুন লাগলে অক্সিজেনের অভাবে চাপ তৈরি হয় এবং বিস্ফোরণ ঘটে। তিনি বলেন, শীতকালে গ্যাসের চাপ কম থাকায় অনেক সময় চুলা বন্ধ করা হয় না। পরে গ্যাস এলে তা বের হয়ে জমে যায়। দরজা-জানালা বন্ধ থাকলে ঝুঁকি আরও বাড়ে।   এলপিজি মেঝেতে জমে বাড়াচ্ছে ঝুঁকি বিশেষজ্ঞরা জানান, এলপিজি গ্যাস বাতাসের চেয়ে ভারী হওয়ায় এটি নিচে জমে থাকে। ফলে আগুন জ্বালানোর সঙ্গে সঙ্গে বিস্ফোরণ হতে পারে। তাদের মতে, গ্যাস ব্যবহারে সতর্কতা, নিয়মিত পরীক্ষা এবং সঠিক যন্ত্রাংশ ব্যবহারই পারে এমন দুর্ঘটনা কমাতে।

মো: দেলোয়ার হোসাইন মার্চ ২৫, ২০২৬ 0
ছবি : সংগৃহীত

ঝিনাইদহে জ্বালানি তেলের কৃত্রিম সংকট, চড়া দামে খোলা বাজারে বিক্রির অভিযোগ

ছবি : সংগৃহীত

মেহেরপুরে তেল পাম্পে বিএনপি নেতাকে বেধড়ক পিটুনি

বক্তব্য রাখেন বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী মো. শরীফুল আলম।

বন্ধ পাটকল চালু করা হবে : পাট প্রতিমন্ত্রী

ছবি : সংগৃহীত
আমরা প্রতিজ্ঞাবদ্ধ, জ্বালানি তেলের দাম বাড়নো হবে না: অর্থ উপদেষ্টা

প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা বিষয়ক উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর বলেছেন, আমরা প্রতিজ্ঞাবদ্ধ, জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানো হবে না। ইতোমধ্যে এর জন্য প্রয়োজনীয় অর্থায়ন নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশ্ব অর্থনীতিতে বড় ধরনের চাপ থাকা সত্ত্বেও আমরা অত্যন্ত সতর্ক আছি, যাতে শিল্প কারখানা এবং গৃহস্থালিতে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সরবরাহ নিরবচ্ছিন্ন থাকে।   মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) দুপুর ১২টার দিকে লালমনিরহাটের বিসিক শিল্পনগরীসহ বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন শেষে এক মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন। উত্তরাঞ্চলের দীর্ঘদিনের উন্নয়ন বৈষম্য ঘোচাতে এবং শিল্পায়নের মাধ্যমে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে লালমনিরহাটের এই সফরে আরও উপস্থিত ছিলেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু।   রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর বলেন, বর্তমানে যে জ্বালানি সংকট চলছে, তা কাটিয়ে উঠতে আমরা একটি বহুমুখী কর্মকৌশল গ্রহণ করেছি। এখন কেবল নির্দিষ্ট কোনো উৎসের ওপর নির্ভর না করে উত্তর আমেরিকা থেকে শুরু করে আফ্রিকা পর্যন্ত বিভিন্ন বিকল্প সূত্র থেকে জ্বালানি তেল ও গ্যাসের সরবরাহ নিশ্চিত করা হচ্ছে।   তিনি আরও বলেন, অতীতের ফ্যাসিবাদী সরকারের আমলে ঋণের সংস্কৃতির কারণে বিনিয়োগ বাধাগ্রস্ত হয়েছে এবং প্রতিষ্ঠানগুলো ধসে পড়েছে। যার ফলে কর্মসংস্থান সৃষ্টি না হয়ে বেকারত্ব বেড়েছে। বর্তমান সরকার সেই অচলাবস্থা ভেঙে নতুন বিনিয়োগের পরিবেশ তৈরি করছে, যেখানে সুলভ মূল্যে জ্বালানি প্রাপ্তি হবে প্রধান চালিকাশক্তি।   দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু বলেন, লালমনিরহাট ও কুড়িগ্রামের ভৌগোলিক অবস্থানকে কাজে লাগিয়ে ভারি ও ক্ষুদ্র শিল্পের প্রসারে বর্তমান সরকার বদ্ধপরিকর। জ্বালানি নিশ্চয়তা দিতে পারলে এই অঞ্চলে দ্রুত শিল্পায়ন সম্ভব হবে।   পরিদর্শন ও মতবিনিময় শেষে মন্ত্রী ও উপদেষ্টার সফর দল রংপুরের উদ্দেশ্যে রওনা হন। সভায় জেলা প্রশাসক, ব্যবসায়ী নেতা এবং স্থানীয় সরকারি কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

মোঃ নাহিদ হোসেন মার্চ ২৪, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত

কক্সবাজারে মাদক অভিযানের সময় এএসআইর মৃত্যু

কলার মোচা হাতে এনামুল হক।

কলার মোচা উঁচিয়ে ট্রেন থামালেন নির্মাণ শ্রমিক, দুর্ঘটনা থেকে রক্ষা পঞ্চগড় এক্সপ্রেসের

মৌলভীবাজারে বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমানের ঈদ শুভেচ্ছা বিনিময়।

জনগণের সঙ্গে ধোঁকাবাজি করছে সরকার : জামায়াত আমির

0 Comments