আন্তর্জাতিক

ইরানে হামলা চালাতে প্রস্তুত ফ্রান্স জার্মানি যুক্তরাজ্য

আবরার আল মামুন সাহাফ মার্চ ০২, ২০২৬ 0

বিবৃতিতে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে বলা হয়, ‘আমরা আমাদের এবং আমাদের আঞ্চলিক মিত্রদের স্বার্থ রক্ষায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেব। ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ছোড়ার উৎসস্থলেই ইরানের সক্ষমতা ধ্বংস করার জন্য আমরা সম্ভাব্য প্রয়োজনীয় ও আনুপাতিক প্রতিরক্ষামূলক ব্যবস্থা নিতে পারি। আমরা এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র এবং অঞ্চলের অন্য মিত্রদের সঙ্গে একযোগে কাজ করতে একমত হয়েছি।’

শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) সকালে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলি যৌথভাবে ইরানে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায়। এরপর দেশটি পাল্টা জবাব হিসেবে উপসাগরীয় দেশগুলোর মার্কিন ঘাঁটি লক্ষ্য করে সিরিজ ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা শুরু করেছে।

জার্মান সেনাবাহিনীর একজন মুখপাত্র জানান, ইরানের হামলায় উত্তর ইরাকের এরবিলে একটি বহুজাতিক সামরিক ঘাঁটি এবং জর্ডানের পূর্বে একটি জার্মান সামরিক ক্যাম্প ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে এসব হামলায় কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি বলে তিনি নিশ্চিত করেছেন।

ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ডস (আইআরজিসি) রোববার (১ মার্চ) এক ‘ব্যাপক আকারের’ হামলার ঘোষণা দিয়েছে। এরপর রিয়াদ, দুবাই, আবুধাবি, দোহা, মানামা, জেরুজালেম ও তেল আবিবে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। ইসরাইলি উদ্ধারকারী সংস্থাগুলো জানায়, বেইত শেম শহরে অন্তত ৯জন নিহত হয়েছে।

ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান খামেনির হত্যাকাণ্ডকে ‘মুসলিমদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ইরান এই ঐতিহাসিক অপরাধের মূল পরিকল্পনাকারী এবং অপরাধীদের বিরুদ্ধে প্রতিশোধ নেওয়াকে নিজেদের বৈধ দায়িত্ব ও অধিকার বলে মনে করে।

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচি রোববার মার্কিন চ্যানেল এবিসি নিউজকে বলেন, ‘যেকোনো মূল্যে আমরা নিজেদের রক্ষা করছি। আমাদের জনগণকে রক্ষা করার জন্য আমরা কোনো সীমাবদ্ধতায় বিশ্বাস করি না।’

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

কৃষি ব্যাংকে ভুয়া সিবিএ নেতাদের কোটি টাকারও বেশি চাঁদাবাজি

অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।  

হালিম হত্যার আসামিরা পলাতক, ধামাচাপা দিচ্ছে প্রশাসন

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে সংঘটিত এজাহারভুক্ত হত্যা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ ও মিরাজ হোসেন পলাতক রয়েছেন। ব্যাংক প্রশাসন বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। খুনের শিকার কৃষি ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী আব্দুল হালিম ছিলেন কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) সভাপতি। তার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলায়। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি স্থানীয়ভাবে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ১ নম্বর আসামি হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত পিয়ন ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ এবং ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেনের নাম রয়েছে। তারা বর্তমানে নিজেদের সিবিএ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দাবি করে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে প্রভাব বিস্তার করছেন। ব্যাংক সূত্রে গেছে, তারা চাঁদাবাজি, ঘুষ আদায় ও নানা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। সূত্র জানায়, ব্যাংকের ভেতরে একটি সিন্ডিকেটের প্রভাবেই এসব আসামিরা এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন। এই সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে আছেন মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেন। এতে আরও যুক্ত রয়েছেন ডিজিএম সৈয়দ লিয়াকত হোসেন, হাবিব উন নবী, ডিএমডি খালেকুজ্জামান জুয়েল ও ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী। গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর রাতে মতিঝিলের বিমান অফিসের সামনে আব্দুল হালিমের মৃত্যু হয়। পরদিন সকালে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়। মতিঝিল থানার উপ-পরিদর্শক সজীব কুমার সিং সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে জানান, পুরনো সহকর্মীদের সঙ্গে বিরোধের জেরে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং রাত ১টা ৪০ মিনিটে হাসপাতালে মারা যান। হালিমের ছেলে ফয়সাল বলেন, তার বাবা ২০১৪ সাল থেকে কৃষি ব্যাংক সিবিএর সভাপতি ছিলেন এবং বোয়ালখালী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতেন। ইউনিয়নের নেতৃত্ব ও পদ নিয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে গত নভেম্বরেই মতিঝিল থানায় একটি জিডি (নং ০৫/১১/২০২৪ - ৩৩৫) করেছিলেন তার বাবা। তিনি আরও বলেন, বুধবার রাতে আমার বাবাকে তার অফিসের সহকর্মীরা মারধর করে হত্যা করেছে। সিবিএর বর্তমান সাধারণ সম্পাদক নাসিম আহমেদ জানান, ২০১৪ সালে আমরা নির্বাচিত হই। এরপর আর কোনো নির্বাচন হয়নি। কিন্তু গত ৫ আগস্ট বিনা নির্বাচনে নতুন কমিটি ঘোষণা করে আমাদের অফিস দখল করে নেয় ফয়েজ ও মিরাজ। এ নিয়ে মামলা চলছে। মামলার তথ্য অনুযায়ী, আসামিরা অস্থায়ী জামিনে ছিলেন। সম্প্রতি তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। এছাড়া আরও কয়েকজন পলাতক রয়েছেন—যাদের মধ্যে আছেন ড্রাইভার সাইফুল, শাহেদ, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মেহেদী ও অবসরপ্রাপ্ত ক্লিনার সিরাজ। এদিকে, মামলার ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেন নৈমিত্তিক ছুটির আবেদন করে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। যদিও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামির নৈমিত্তিক ছুটি পাওয়ার কোনো এখতিয়ার নেই। মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক এ বিষয়ে বলেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন এবং নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন।  কিন্তু স্থানীয় মুখ্য কার্যালয়ের প্রধান মহাব্যবস্থাপক জানান, তিনি কোনো মন্তব্য করতে চান না। কারণ ব্যবস্থাপনা পরিচালক মন্তব্য না করার নির্দেশ দিয়েছেন। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। অভ্যন্তরীণ এই পরিস্থিতিতে কৃষি ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

আন্তর্জাতিক

আরও দেখুন
মধ্যপ্রাচ্য সংকট: ইরান যুদ্ধ ইস্যুতে সর্বদলীয় বৈঠক ডাকল ভারত

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল যুদ্ধ এবং তার জেরে মধ্যপ্রাচ্যে সৃষ্ট অস্থিতিশীলতা ইস্যুতে সর্বদলীয় বৈঠক ডেকেছে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার। আজ বুধবার ভারতের স্থানীয় সময় বিকেল ৫টার দিকে হবে এ বৈঠক। ভারতীয় সংবাদমাধ্যমগুলোর তথ্য অনুসারে, বৈঠকে সভাপতিত্ব করবেন ভারতের কেন্দ্রীয় প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং। এছাড়া কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ-সহ বেশ কয়েক জন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী উপস্থিত থাকবেন। এছাড়া উপস্থিত থাকবেন ভারতের পররাষ্ট্রসচিব বিক্রম মিশ্রিও। তিনি বৈঠকে উপস্থিত বিভিন্ন দলের প্রধান এবং কেন্দ্রীয় মন্ত্রীদের যুদ্ধের সর্বশেষ পরিস্থিতি সম্পর্কে অবহিত করবেন।   উল্লেখ্য, ইরানের পরমাণু প্রকল্প এবং ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি নিয়ে গত ৬ ফেব্রুয়ারি থেকে ২৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ২১ দিন ধরে সংলাপ চলে তেহরান এবং ওয়াশিংটনের মধ্যে। ২৭ ফেব্রুয়ারি কোনো প্রকার সমঝোতা চুক্তি ছাড়াই শেষ হয় সেই সংলাপ। তার পরের দিন ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে 'অপারেশন এপিক ফিউরি' শুরু করে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী। ওয়াশিংটনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে একই সময়ে ইরানে সামরিক অভিযান 'অপারেশন রোয়ারিং লায়ন' শুরু করে ইসরায়েলও। যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের হামলায় ইতোমধ্যে নিহত হয়েছেন ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি, প্রধান নিরাপত্তা কর্মকর্তা আলী লারিজানি, সামরিক বাহিনীর অভিজাত শাখা ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)-এর শীর্ষ কমান্ডার মোহাম্মদ পাকপৌরসহ বেশ কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ ও জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা। ইরানের বিভিন্ন সামরিক-বেসামরিক গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাও ধ্বংস কিংবা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এছাড়া ইতোমধ্যে ইরানে নিহত হয়েছেন ২ হাজারের বেশি মানুষ। সমানতালে হামলার পাল্টা জবাব দিচ্ছে ইরানও। যুদ্ধের শুরু থেকেই ইসরায়েল ও মধ্যপ্রাচ্যের উপসাগরীয় অঞ্চলের ৬ দেশ সৌদি আরব, কাতার, কুয়েত, বাহরাইন, সংযুক্তর আরব আমিরাত, ওমানে অবস্থিত মার্কিন সেনাঘাঁটিগুলো লক্ষ্য করে দফায় দফায় ড্রোন-ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা শুরু করে ইরান, যা এখনও চলছে। যুদ্ধের জেরে জ্বালানি তেলের আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের সরবরাহ অনিয়মিত হয়ে পড়ায় ইতোমধ্যে ভোগান্তিতে পড়েছে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ।   আন্তর্জাতিক চাপের কারণে এখন যুদ্ধবিরতি চাইছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল এবং এক্ষেত্রে প্রধান মধ্যস্থতাকারী হিসেবে পাকিস্তানকে বেছে নিয়েছে ওয়াশিংটন। যুদ্ধবিরতির জন্য ইসলামাবাদের মাধ্যমে তেহরানে ১৫টি পয়েন্ট বিশিষ্ট একটি প্রস্তাবনাও পাঠিয়েছেন ট্রাম্প। এদিকে, নয়াদিল্লিতে নিযুক্ত ইরানি রাষ্ট্রদূত মোহাম্মদ ফাতাহি বলেছেন, মধ্যস্থতাকারী দেশ হিসেবে ভারতকেও চায় তেহরান। এর কারণ হিসেবে তিনি বলেছেন, ইরানের ঐতিহাসিক মিত্র ভারত এই যুদ্ধের মধ্যস্থতাকারী হিসেবে বিশ্বস্ত, কার্যকর এবং ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলে বিশ্বাস করে তেহরান।

আবরার আল মামুন সাহাফ মার্চ ২৫, ২০২৬ 0

হরমুজে 'মধ্যস্থতাকারী' পাকিস্তানের জাহাজ আটকাল ইরান

পাচার হওয়া অর্থ ফেরত আনতে সুইজারল্যান্ডের সহযোগিতার আশ্বাস

হরমুজ প্রণালীতে ইরানের মাইন স্থাপন: বিশ্ব তেল বাজারে নতুন উদ্বেগ

চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ইয়ের সঙ্গে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। সংগৃহীত ছবি
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের আগ্রাসনের বিরুদ্ধে চীন-রাশিয়াকে কঠোর অবস্থান নেওয়ার আহ্বান ইরানের

ইরান যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের চালানো আগ্রাসনের বিরুদ্ধে জাতিসংঘে চীন ও রাশিয়ার কঠোর অবস্থান নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি অভিযোগ করে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র নিরাপত্তা পরিষদকে নিজেদের স্বার্থে ব্যবহার করছে এবং এ প্রবণতা বন্ধ করা প্রয়োজন। মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ইয়ের সঙ্গে এক ফোনালাপে আঞ্চলিক পরিস্থিতি ও ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলের সামরিক হামলার পরিণতি নিয়ে আলোচনা করেন আরাগচি। আলোচনায় ওয়াং ই চীন সরকারের পক্ষ থেকে ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সামরিক হামলার নিন্দা জানান। একই সঙ্গে তিনি ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের সাবেক সচিব আলি লারিজানির নিহত হওয়ার ঘটনায় শোক প্রকাশ করেন। তাকে দেশপ্রেমিক ও প্রভাবশালী নেতা হিসেবেও অভিহিত করেন। মধ্যপ্রাচ্য সংকট ইস্যুতে আরাগচি বলেন, বর্তমান আঞ্চলিক সংকটের মূল কারণ যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের আগ্রাসন। ইরান তার সার্বভৌমত্ব ও ভৌগোলিক অখণ্ডতা রক্ষায় দৃঢ়ভাবে প্রতিরোধ চালিয়ে যাবে।   হরমুজ প্রণালী প্রসঙ্গে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথের নিরাপত্তা পুরো অঞ্চলের পরিস্থিতির সঙ্গে জড়িত। তিনি দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সামরিক পদক্ষেপের কারণেই পারস্য উপসাগর ও হরমুজ প্রণালীতে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি হয়েছে। আরাগচি আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল-সংশ্লিষ্ট জাহাজের জন্য হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। তবে অন্যান্য দেশের জাহাজ চলাচল ইরানের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সমন্বয়ে পরিচালিত হচ্ছে। তিনি অভিযোগ করেন, জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ তার দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হয়েছে এবং প্রকৃত আগ্রাসীদের দায়ী না করে উল্টো ইরানের সমালোচনা করছে। এ অবস্থায় চীন ও রাশিয়াসহ সদস্য দেশগুলোর কাছে তিনি দৃঢ় অবস্থান নেওয়ার আহ্বান জানান। জবাবে ওয়াং ই বলেন, চীন আন্তর্জাতিক আইন ও কূটনীতির প্রতি সম্মান বজায় রেখে বিরোধ সমাধানের পক্ষে এবং একতরফা আধিপত্যবাদী আচরণের বিরোধিতা করে।

আবরার আল মামুন সাহাফ মার্চ ২৫, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত

ইরানের সঙ্গে যোগাযোগ চলছে : ট্রাম্প

ছবি: সংগৃহীত

হাসপাতালে ভর্তি সোনিয়া গান্ধী

ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: সংগৃহীত

ইরানের কাছে যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব পাঠাল যুক্তরাষ্ট্র

হরমুজ প্রণালি। ছবি : সংগৃহীত
হরমুজ প্রণালি ইস্যুতে কড়া বার্তা তেহরানের

হরমুজ প্রণালি নিয়ে কঠোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইরান। দেশটি জানিয়েছে, কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল কিংবা তাদের সামরিক অভিযানে সহায়তাকারী দেশগুলোর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট জাহাজের জন্য বন্ধ থাকবে।   মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) ইরান ইন্টারন্যাশনালের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি মালয়েশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোহাম্মদ বিন হাসানের সঙ্গে এক টেলিফোন আলাপে জানান, অন্যান্য দেশের জাহাজ নির্দিষ্ট সমন্বয়ের মাধ্যমে প্রণালিটি ব্যবহার করতে পারবে। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক আগ্রাসনের সরাসরি প্রতিক্রিয়া হিসেবেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ইরানের সার্বভৌমত্ব ও ভৌগোলিক অখণ্ডতা রক্ষার উদ্দেশ্যেই এই পদক্ষেপ। এদিকে মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে বিশ্বের প্রথম দেশ হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে জাতীয় জ্বালানি জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছে ফিলিপাইন। মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে বিবিসি বাংলা। তেল সরবরাহে বিঘ্নিত হওয়ার প্রভাবে খুব কম দেশই ফিলিপাইনের চেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে। দেশটি ৯৮ শতাংশ তেল উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে আমদানি করে। গত ৩ সপ্তাহে একাধিকবার জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি করা হয়েছে দেশটিতে। মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে সেখানে ডিজেল ও পেট্রোলের দাম দ্বিগুণেরও বেশি বেড়েছে। দেশটির জ্বালানিমন্ত্রী বলেছেন, ‘ফিলিপাইনের কাছে প্রায় ৪৫ দিনের জ্বালানি মজুদ রয়েছে।’ জ্বালানি সরবরাহের প্রতি ‘আসন্ন বিপদের’ কথা উল্লেখ করে এক নির্বাহী আদেশে ফিলিপাইনের রাষ্ট্রপতি ফার্দিনান্দ মার্কোস জুনিয়র বলেন, ‘এই ঘোষণাটি সরকারকে জ্বালানি স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে এবং বৃহত্তর অর্থনীতিকে রক্ষা করার জন্য ব্যবস্থা গ্রহণের আইনি ক্ষমতা দেবে।’

মো: দেলোয়ার হোসাইন মার্চ ২৫, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত

ট্রাম্পের আলোচনা হতে পারে ইরানি নেতাদের জন্য ‘হত্যার ফাঁদ', আশঙ্কা তেহরানের

ছবি: সংগৃহীত

হঠাৎ অসুস্থ সোনিয়া গান্ধী, দিল্লির হাসপাতালে ভর্তি

ছবি: সংগৃহীত

ইরান-সংঘাতের প্রভাব: জ্বালানি জরুরি অবস্থা ঘোষণা করল ফিলিপাইন

0 Comments