সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ, তার স্ত্রী রুকমিলা জামান এবং তাদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের নামে দেশে-বিদেশে বিপুল সম্পদের তথ্য পেয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। দুদকের কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, নয়টি দেশে প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকার সম্পদ আদালতের আদেশে ক্রোক, জব্দ বা অবরুদ্ধ করা হয়েছে। এর বাইরে সিঙ্গাপুরে ব্যাংক ও বিনিয়োগ হিসাব, একটি কোম্পানিতে পরিচালকের পদ এবং একটি বাড়ির তথ্যও পাওয়া গেছে।
দুদকের অনুসন্ধান ও মামলার সংখ্যা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে জাবেদ পরিবারের সম্পদের পরিমাণের চিত্রও বিস্তৃত হচ্ছে। ব্যাংক ঋণ, অর্থ আত্মসাৎ, ঘুষ ও অর্থপাচারের অভিযোগে এখন পর্যন্ত তার বিরুদ্ধে ৩৩টি মামলা করেছে দুদক। এসব মামলায় অভিযোগের পরিমাণ ৬১৮ কোটির বেশি। পাশাপাশি আরও অন্তত এক হাজার কোটি টাকার দুটি অভিযোগের অনুসন্ধান চলছে। কয়েকটি প্রতিষ্ঠান থেকে প্রায় ৫০০ কোটি টাকা ঘুষ নেওয়ার অভিযোগও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
দুদকের মুখপাত্র ও জনসংযোগ কর্মকর্তা আকতারুল ইসলাম বলেন, জাবেদ ও তার স্বার্থসংশ্লিষ্টদের দেশে-বিদেশে থাকা সম্পদ শনাক্ত, ক্রোক ও অবরুদ্ধ করার জন্য আদালতের মাধ্যমে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। বিদেশে থাকা সম্পদের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট দেশের সহযোগিতা পেতে এমএলএআরসহ (মিউচুয়াল লিগ্যাল অ্যাসিস্ট্যান্স রিকোয়েস্ট) প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া চলছে।
কর্মচারীদের ব্যবসায়ী দেখিয়ে ঋণ নেওয়ার অভিযোগ: দুদকের তদন্তে জাবেদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের কর্মচারী কিংবা তাদের আত্মীয়দের ব্যবসায়ী পরিচয়ে ব্যাংক ঋণ নেওয়ার অভিযোগ উঠে এসেছে। ইমিনেন্ট ট্রেডার্স, ভিশন ট্রেডিং, রিলায়েবল ট্রেডিং, প্রগ্রেসিভ ট্রেডিং, মডেল ট্রেডিং ও ক্রিসেন্ট ট্রেডার্সের নামে ছয়টি ঋণে মোট ১২৯ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে ছয়টি মামলা করা হয়েছে।
তদন্ত সংশ্লিষ্টদের ভাষ্য, এসব প্রতিষ্ঠানের ট্রেড লাইসেন্স নেওয়া হয়েছিল ব্যাংক হিসাব খোলার মাত্র দুই-তিন মাস আগে। এরপর হিসাব খোলার অল্প সময়ের মধ্যেই ১৫ থেকে ২৫ কোটি টাকা পর্যন্ত ঋণের আবেদন করা হতো। কোনো কোনো প্রতিষ্ঠানের বাস্তব অস্তিত্ব না থাকলেও এক-দুই দিনের মধ্যে পরিদর্শন প্রতিবেদন তৈরি করে ঋণ প্রস্তাব পাঠানোর অভিযোগ রয়েছে।
ঋণ অনুমোদনের পর ভুয়া প্রতিষ্ঠানের নামে পে-অর্ডার ইস্যু এবং কয়েক দফা ব্যাংক হিসাব পরিবর্তনের মাধ্যমে অর্থ নগদে তুলে নেওয়ার তথ্যও দুদকের নথিতে রয়েছে।
নিম্নআয়ের মানুষের পরিচয় ব্যবহার করে ঋণের অভিযোগ: শ্রমিক, কৃষক, রিকশাচালক, নাপিত, টেইলারসহ নিম্নআয়ের মানুষের জাতীয় পরিচয়পত্র ও ছবি ব্যবহার করে তাদের ব্যবসায়ী সাজিয়ে ঋণ নেওয়ার অভিযোগও পেয়েছে দুদক।
অভিযোগ অনুযায়ী, কোভিড প্রণোদনা বা আর্থিক সহায়তা দেওয়ার কথা বলে এসব মানুষের পরিচয়পত্র ও ছবি সংগ্রহ করা হয়েছিল। পরে সেগুলো ব্যবহার করে ব্যবসায়িক কাগজপত্র তৈরি করে ঋণ নেওয়া হয়। এ ধরনের অভিযোগে ১৯টি মামলা হয়েছে। মামলাগুলোতে অভিযোগের পরিমাণ ১৩৪ কোটির বেশি।
ঋণের অর্থ হুন্ডির মাধ্যমে বিদেশে পাঠানোর অভিযোগ: দুদকের অনুসন্ধানে ঋণের অর্থ বিদেশে পাচারের একটি কথিত প্রক্রিয়ার তথ্যও উঠে এসেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, বিভিন্ন ব্যাংক হিসাবে টাকা স্থানান্তরের পর চট্টগ্রামের জুবিলী রোড ও আগ্রাবাদসহ কয়েকটি শাখা থেকে নগদ অর্থ উত্তোলন করা হতো। পরে ওই অর্থ হুন্ডির সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের কাছে দেওয়া হতো এবং সমপরিমাণ অর্থ সংযুক্ত আরব আমিরাতে দিরহামে নেওয়া হতো।
পরবর্তী সময়ে ব্যবসায়িক অর্থ হিসেবে ব্যাংকে জমা করে টিটির মাধ্যমে যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্রে পাঠানোর অভিযোগ রয়েছে। দুদকের ভাষ্য, এসব অর্থ ব্যবহার করে বিদেশে সম্পত্তি কেনা হয়েছে।
পাঁচ প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে ২১৩ কোটি টাকার ঘুষের অভিযোগ: পাঁচটি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে মোট ২১৩ কোটি ৭৫ লাখ টাকা ঘুষ নেওয়ার অভিযোগে পাঁচটি মামলা করেছে দুদক।
মামলাগুলোতে থার্মেক্স নিট ইয়ার্ন থেকে ৫২ কোটি, এইচএম শিপ ব্রেকিং ইন্ডাস্ট্রিজ থেকে ৫৫ কোটি, ওয়েল মার্ট থেকে ৫ কোটি, সাইফ পাওয়ারটেক ও ই-ইঞ্জিনিয়ারিং থেকে ৪১ কোটি ৭৫ লাখ এবং আইকনএক্স সার্ভিস থেকে ৬০ কোটি টাকা নেওয়ার অভিযোগ করা হয়েছে।
দুদকের কর্মকর্তাদের দাবি, ঋণ সুবিধা দেওয়ার বিনিময়ে কিংবা বিভিন্ন ধরনের চাপ প্রয়োগ করে এসব অর্থ নেওয়া হয়েছিল বলে তদন্তে বক্তব্য পাওয়া গেছে।
আরও ১ হাজার কোটি টাকার অভিযোগের অনুসন্ধান: জাবেদের পারিবারিক প্রতিষ্ঠান আরামিট সিমেন্টের নামে ইসলামী ব্যাংক থেকে ৫০০ কোটি টাকার ঋণ সুবিধা নেওয়ার অভিযোগও তদন্ত করছে দুদক। অভিযোগ অনুযায়ী, আরামিট গ্রুপের একজন কর্মকর্তাকে কাঁচামাল সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের মালিক হিসেবে দেখিয়ে এই ঋণ সুবিধা নেওয়া হয়েছিল। এ ঘটনায় এরই মধ্যে তিনটি মামলা হয়েছে।
অন্যদিকে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা এড়িয়ে ইউসিবি ও আইএফআইসি ব্যাংকের মাধ্যমে আরও ৫০০ কোটি টাকার ঋণ দেওয়ার অভিযোগও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
দেশে ফ্ল্যাট, দোকান, জমি ও শিল্পপ্রতিষ্ঠান: দুদকের নথিতে জাবেদের নামে ঢাকায় দুটি ফ্ল্যাট, চট্টগ্রামে ১০টি ফ্ল্যাট, একটি মার্কেটের নয়টি দোকান, ২৭টি জমি এবং সাতটি শিল্পপ্রতিষ্ঠানের তথ্য রয়েছে।
গুলশানের দুটি ফ্ল্যাট ক্রোক করার পর দুদকের সম্পদ ব্যবস্থাপনা ইউনিটের পরিচালককে রিসিভার করা হয়েছে। ওই ফ্ল্যাটগুলো থেকে আসবাবপত্র, পোশাক, গয়না, গাড়ির চাবি ও ইলেকট্রনিক সামগ্রীসহ ২৬০ ধরনের সামগ্রীর তালিকা করা হয়েছে।
চট্টগ্রামের কয়েকটি ফ্ল্যাটে ভাড়াটিয়া থাকার তথ্যও পাওয়া গেছে। কিছু ফ্ল্যাটের ভাড়া জেলা প্রশাসনের রাজস্ব শাখায় জমা হচ্ছিল। আবার কয়েকটির ভাড়া আরামিট গ্রুপের প্রতিনিধিদের দেওয়া হচ্ছিল। আগ্রাবাদের আখতারুজ্জামান সেন্টারের নিচতলায় নয়টি দোকান ভাড়ায় থাকার তথ্যও রয়েছে।
আনোয়ারায় থাকা জমির বড় একটি অংশে ধান ও সবজি চাষ, কোথাও খালি জমি এবং কোথাও ভিটা বা কৃষিজমি রয়েছে বলে মাঠপর্যায়ের যাচাইয়ে পাওয়া গেছে। কিছু জমি সড়কের জন্য অধিগ্রহণও করা হয়েছে।
আদালতের পৃথক আদেশে আনোয়ারায় ৯৫৭ বিঘা জমি ক্রোক এবং ২৩টি কোম্পানির ১০২ কোটি ৮৫ লাখ টাকা মূল্যের শেয়ার অবরুদ্ধ করা হয়েছে।
সাত শিল্পপ্রতিষ্ঠানের ছয়টিই বন্ধ: চট্টগ্রামের কালুরঘাট শিল্প এলাকায় জাবেদের সংশ্লিষ্ট সাতটি শিল্পপ্রতিষ্ঠানের অবস্থাও যাচাই করেছে জেলা প্রশাসন। সেখানে আরামিট পিএলসি আংশিকভাবে চালু পাওয়া গেলেও বাকি ছয়টি প্রতিষ্ঠান বন্ধ ছিল।
বন্ধ প্রতিষ্ঠানগুলো হলো—আরামিট সিমেন্ট, আরামিট থাই অ্যালুমিনিয়াম, আরামিট ফুটওয়্যার, আরামিট স্টিল পাইপস, আরামিট অ্যালু কম্পোজিট প্যানেলস ও আরামিট পাওয়ার।
এসব প্রতিষ্ঠানের সম্পদ সংরক্ষণ ও ব্যবস্থাপনার জন্য তিন সদস্যের রিসিভার কমিটি গঠনের দুদকের প্রস্তাবেও আদালত অনুমোদন দিয়েছে।
যুক্তরাজ্যে শত শত সম্পত্তির তথ্য: বিদেশে জাবেদের সবচেয়ে বেশি সম্পদের সন্ধান যুক্তরাজ্যে পাওয়া গেছে বলে দুদক কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। কোম্পানি ও ভূমি নিবন্ধনের নথি বিশ্লেষণ করে ২০২৪ সালে ব্লুমবার্গ জাবেদ ও রুকমিলার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ৩৫৮টি সম্পত্তির তথ্য শনাক্ত করেছিল। এসব সম্পত্তি মধ্য লন্ডনের পাশাপাশি পূর্ব লন্ডন, দক্ষিণ-পূর্ব ইংল্যান্ড ও লিভারপুলেও রয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
পরবর্তী সময়ে যুক্তরাজ্যের ন্যাশনাল ক্রাইম এজেন্সি তাদের সংশ্লিষ্ট ৩৪২টি সম্পত্তি ফ্রিজ করে। পরে দুদকের অনুসন্ধানে সম্পত্তির তালিকা আরও বাড়ে। আদালতে দেওয়া এক আবেদনে যুক্তরাজ্যে ৫১৮টি ফ্ল্যাট ও অ্যাপার্টমেন্টের তথ্য তুলে ধরে সংস্থাটি।
নয় দেশে প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকার সম্পদ: দুদকের অনুসন্ধান সংশ্লিষ্ট নথি অনুযায়ী, যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র, সংযুক্ত আরব আমিরাত, ফিলিপিন্স, মালয়েশিয়া, কম্বোডিয়া, ভারত, থাইল্যান্ড ও ভিয়েতনামে জাবেদ ও তার স্বার্থসংশ্লিষ্টদের প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকার সম্পদ আদালতের আদেশে ক্রোক, জব্দ বা অবরুদ্ধ করা হয়েছে।
সর্বশেষ এই তালিকায় যুক্ত হয়েছে সিঙ্গাপুর। দুদকের ২ সেপ্টেম্বরের আবেদনে দেশটিতে আটটি ব্যাংক বা বিনিয়োগ হিসাব, একটি কোম্পানিতে পরিচালকের পদ এবং একটি স্থাবর সম্পত্তির তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে।
দুদকের আবেদনে বলা হয়েছে, জাবেদ ও রুকমিলা জামানের নামে ১৯৯৯, ২০০০ ও ২০০১ সালে তিনটি যৌথ ব্যাংক হিসাব খোলা হয়েছিল। এ ছাড়া ফার্স্ট আবু ধাবি ব্যাংক, সিটি ব্যাংক ও ডিবিএসের হিসাবের তথ্যও পাওয়া গেছে। ডিবিএসের হিসাবের সঙ্গে আরামিট প্রপার্টিজ লিমিটেড ও নিউ ভেঞ্চারস (লন্ডন) লিমিটেডের নাম রয়েছে।
এ ছাড়া জাসা ওশান পিটিই লিমিটেডে ২০১১ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত সাইফুজ্জামান জাবেদ পরিচালক ছিলেন বলে দুদকের আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। সিঙ্গাপুরের সেন্ট থমাস ওয়াক এলাকায় ২০১৯ সালে ১৬ লাখ ১২ হাজার সিঙ্গাপুর ডলারে কেনা একটি সম্পত্তির মালিক হিসেবেও তার নাম রয়েছে।
দুদকের অভিযোগ, এসব সম্পদ হস্তান্তর বা বিক্রি হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তাই সিঙ্গাপুরের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে এমএলএআর-এর মাধ্যমে আইনি সহায়তা চেয়ে সম্পদ ক্রোক ও অবরুদ্ধ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
দুদকের কৌঁসুলি দেলোয়ার জাহান রুমি জানিয়েছেন, সিঙ্গাপুরে পাওয়া সম্পদ ও ব্যাংক হিসাব ক্রোক এবং অবরুদ্ধ করতে আদালতের অনুমোদন পাওয়া গেছে। এখন এমএলএআর প্রক্রিয়ায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে আদালতের আদেশ পাঠিয়ে তা কার্যকর করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
বিদেশি সম্পদ দেশে ফেরানো দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া: দুদক কর্মকর্তারা বলছেন, বিদেশে কোনো সম্পদের সন্ধান পাওয়া বা আদালতের মাধ্যমে তা ফ্রিজ করার পরই সেটি বাংলাদেশের দখলে চলে আসে না। প্রথমে সম্পদের সঙ্গে অপরাধের সম্পর্ক প্রমাণ করতে হয়। এরপর সংশ্লিষ্ট দেশের কাছে প্রয়োজনীয় নথি, তথ্য ও আইনি সহায়তা চাওয়া হয় এবং অনেক ক্ষেত্রে সেই দেশের আদালতেও পৃথক আইনি প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হয়।
সাইফুজ্জামান জাবেদ এর আগে বিদেশে থাকা সম্পদ নিয়ে ওঠা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তার দাবি, তার বাবা প্রয়াত এমপি আখতারুজ্জামান চৌধুরী বাবুর সময় থেকেই তাদের পরিবারের বিদেশে ব্যবসা রয়েছে। বৈধ ব্যবসার আয় ও ব্যাংক ঋণের অর্থ ব্যবহার করে বিদেশে সম্পত্তি কেনা হয়েছে বলেও তিনি দাবি করেন। একই সঙ্গে তার বিরুদ্ধে নেওয়া পদক্ষেপকে তিনি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে অভিহিত করেছেন।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না। একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন। গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে। জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে। সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে। কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে। প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে। আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’ সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না। এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।
স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার জন্য কোনো নির্দিষ্ট শিক্ষাগত যোগ্যতা বাধ্যতামূলক নয় বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। তবে এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন কি না, সে বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নির্বাচন কমিশন (ইসি) নেবে বলে জানিয়েছেন তিনি। রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খান ও প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে বাংলাদেশে নিযুক্ত সুইজারল্যান্ডের রাষ্ট্রদূতের সাক্ষাৎ হয়। সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান প্রতিমন্ত্রী। মীর শাহে আলম বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রার্থীদের শিক্ষাগত যোগ্যতা সংক্রান্ত বিভিন্ন আলোচনা চলছে। তবে স্থানীয় সরকারের পাঁচটি আইনের কোথাও নির্বাচনে অংশ নেওয়ার ক্ষেত্রে শিক্ষাগত যোগ্যতার বাধ্যবাধকতা রাখা হয়নি। তিনি বলেন, তাই স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশ নিতে আগ্রহীদের এ বিষয়ে বিভ্রান্ত হওয়ার কোনো কারণ নেই। ইউনিয়ন পরিষদ থেকে শুরু করে উপজেলা, পৌরসভা ও সিটি কর্পোরেশন—কোনো ক্ষেত্রেই জনপ্রতিনিধি নির্বাচনে প্রার্থীর জন্য নির্দিষ্ট শিক্ষাগত যোগ্যতা বাধ্যতামূলক নয়। প্রতিমন্ত্রীর ভাষ্য অনুযায়ী, ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য ও চেয়ারম্যান, উপজেলা চেয়ারম্যান ও ভাইস চেয়ারম্যান, পৌরসভার চেয়ারম্যান বা মেয়র ও কাউন্সিলর এবং সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ও কাউন্সিলর পদে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে শিক্ষাগত যোগ্যতার শর্ত নেই। এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে ইসি: এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের নির্বাচনে অংশ নেওয়ার বিষয়ে মীর শাহে আলম বলেন, স্থানীয় সরকার আইনে প্রজাতন্ত্র, পরিষদ বা অন্য কোনো স্থানীয় কর্তৃপক্ষের লাভজনক সার্বজনীন পদে থাকা ব্যক্তির অযোগ্যতার বিষয়টি উল্লেখ রয়েছে। এদিকে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ‘বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান—স্কুল ও কলেজ, জনবল কাঠামো ও এমপিও নীতিমালা-২০২৫’-এর ১১ নম্বর বিধির ১৭(খ) উপধারায় এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের একাধিক পদ বা আর্থিকভাবে লাভজনক কোনো পদে একই সময়ে নিয়োজিত থাকার বিষয়ে বিধান রয়েছে। ওই নীতিমালায় আর্থিক লাভজনক পদের মধ্যে সরকার প্রদত্ত বিভিন্ন ধরনের বেতন, ভাতা ও সম্মানির পাশাপাশি বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, সংস্থা, বিশ্ববিদ্যালয় বা আইন পেশার মাধ্যমে পাওয়া বেতন, ভাতা ও সম্মানিককেও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। প্রতিমন্ত্রী বলেন, নির্বাচনের বিধিমালা এবং প্রার্থীদের যোগ্যতা-অযোগ্যতার বিষয়টি নির্ধারণ করে নির্বাচন কমিশন। তাই স্থানীয় সরকার আইন ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ২০২৫ সালের এমপিও নীতিমালা পর্যালোচনা করে এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা নির্বাচনে প্রার্থী হতে পারবেন কি না, সে বিষয়ে ইসি সিদ্ধান্ত নেবে। তিনি আরও বলেন, এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের কোনো আইনগত ব্যাখ্যার প্রয়োজন হলে বা তারা বিষয়টি স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের কাছে পাঠালে আইন মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যাখ্যা দেওয়া হবে। ‘শিক্ষাগত যোগ্যতার শর্ত মানবাধিকার লঙ্ঘন করতে পারে’: সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী বলেন, জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার ক্ষেত্রেও শিক্ষাগত যোগ্যতার কোনো বাধ্যবাধকতা নেই। সংবিধানেও সংসদ সদস্য হওয়ার ক্ষেত্রে এ ধরনের শর্ত রাখা হয়নি। তার মতে, একই ধারাবাহিকতায় স্থানীয় সরকারের পাঁচটি আইনেও জনপ্রতিনিধি নির্বাচনের ক্ষেত্রে শিক্ষাগত যোগ্যতার শর্ত রাখা হয়নি। মীর শাহে আলম বলেন, শিক্ষাগত যোগ্যতার বাধ্যবাধকতা আরোপ করা মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিষয় হয়ে উঠতে পারে। কারণ একজন সমাজসেবী প্রাতিষ্ঠানিকভাবে বেশি লেখাপড়া না করলেও স্বশিক্ষিত হতে পারেন এবং জনপ্রতিনিধি হওয়ার মতো যোগ্যতা তার থাকতে পারে। তিনি বলেন, প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা না থাকলেও একজন মানুষের জ্ঞান ও দক্ষতা থাকতে পারে। তাই জনপ্রতিনিধি হওয়ার ক্ষেত্রে একজন ব্যক্তির সক্ষমতা ও যোগ্যতাই গুরুত্বপূর্ণ হওয়া উচিত। এই কারণেই সাংবিধানিক ও মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রার্থীদের জন্য নির্দিষ্ট শিক্ষাগত যোগ্যতা বাধ্যতামূলক করা হয়নি বলে জানান প্রতিমন্ত্রী।
কুমিল্লার দেবিদ্বারে মাদকসহ লাইলি আক্তার নামে এক নারীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। স্থানীয়ভাবে তিনি ‘লেডি ডন’ হিসেবে পরিচিত। তার বিরুদ্ধে হানি ট্র্যাপের মাধ্যমে মানুষকে ফাঁদে ফেলে অর্থ আদায় এবং মাদক ব্যবসার অভিযোগ রয়েছে। শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাত ২টার দিকে দেবিদ্বার পৌরসদরের একটি বাসায় অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করা হয়। দেবিদ্বার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুজ্জামান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, লাইলির বিরুদ্ধে হানি ট্র্যাপের মাধ্যমে বিভিন্ন ব্যক্তির কাছ থেকে অর্থ আদায় এবং মাদক বিক্রিসহ একাধিক অভিযোগ রয়েছে। অর্থ আদায়ের অভিযোগে করা একটি মামলায় এর আগে তিনি কয়েকদিন কারাগারেও ছিলেন। জামিনে বা কারাগার থেকে মুক্তি পাওয়ার পর আবারও একই ধরনের কর্মকাণ্ডে জড়ানোর অভিযোগ ওঠে তার বিরুদ্ধে। পুলিশ জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে শুক্রবার রাতে লাইলির বাসায় অভিযান চালানো হয়। এ সময় তাকে মাদকসহ আটক করা হয়। ওসি মনিরুজ্জামান জানান, লাইলির বিরুদ্ধে আগে একটি মামলা ছিল। নতুন করে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা করার পর শনিবার দুপুরে তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। তার সঙ্গে জড়িত অন্য সহযোগীদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
ঠাকুরগাঁও-১ সংসদীয় আসনের আসন্ন উপনির্বাচনে বিদেশে অবস্থানরত ভোটারদের পোস্টাল ব্যালটের মাধ্যমে ভোট দেওয়ার সুযোগ দিতে নতুন উদ্যোগ নিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এ জন্য আগে নিবন্ধিত ভোটারদের সম্মতি নিশ্চিত করার পাশাপাশি নতুন ভোটারদের নিবন্ধনের সুযোগও রাখা হয়েছে। রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) ইসির জনসংযোগ শাখা থেকে এ তথ্য জানানো হয়। ইসি জানিয়েছে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময় ‘Postal Vote BD’ অ্যাপের মাধ্যমে সফলভাবে নিবন্ধন সম্পন্ন করা প্রবাসী ভোটারদের ই-মেইল, হোয়াটসঅ্যাপ কিংবা অ্যাপ নোটিফিকেশনের মাধ্যমে যোগাযোগ করা হবে। এসব ভোটারকে আগামী ১২ থেকে ২০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে অ্যাপের মাধ্যমে পোস্টাল ভোট দেওয়ার বিষয়ে নিজেদের সম্মতি নিশ্চিত করতে হবে। সম্মতি নিশ্চিত হওয়ার পর সংশ্লিষ্ট ভোটারদের দেওয়া বর্তমান ঠিকানায় ডাকযোগে ব্যালট পাঠানোর ব্যবস্থা করা হবে বলে জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন। এদিকে, আগের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ‘Postal Vote BD’ অ্যাপের মাধ্যমে নিবন্ধন করতে পারেননি—এমন প্রবাসী ভোটারদেরও এবার নতুন করে নিবন্ধনের সুযোগ দেওয়া হয়েছে। আগ্রহী ভোটাররা ১২ থেকে ২০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে অ্যাপটি ডাউনলোড করে প্রয়োজনীয় তথ্য দিয়ে নিবন্ধন সম্পন্ন করতে পারবেন। নিবন্ধন প্রক্রিয়া শেষ হলে সংশ্লিষ্ট ভোটাররা আসন্ন ঠাকুরগাঁও-১ উপনির্বাচনে পোস্টাল ব্যালটের মাধ্যমে ভোট দেওয়ার সুযোগ পাবেন। নির্বাচন কমিশন বলছে, বিদেশে অবস্থানরত নাগরিকদের ভোটাধিকার নিশ্চিত করা এবং তাদের গণতান্ত্রিক অংশগ্রহণের সুযোগ তৈরি করতেই প্রযুক্তিনির্ভর এই ব্যবস্থা চালু রাখা হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রবাসী ভোটারদের প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার আহ্বান জানিয়েছে ইসি।