ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনী আচরণবিধির খসড়া সংশোধনী আগামী সপ্তাহে প্রকাশ করতে পারে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। জনমতের জন্য খসড়াটি ইসির ওয়েবসাইটে উন্মুক্ত করা হবে।
স্থানীয় সরকার নির্বাচনের তফসিল ও কোন স্তর দিয়ে এই নির্বাচন শুরু হবে, সেটা নিয়ে এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে আসেনি ইসি। তবে চলতি বছরের আগস্টে তফসিল দিয়ে সেপ্টেম্বর-অক্টোবরে কয়েক ধাপে ইউপি নির্বাচনের ভোটগ্রহণের মধ্য দিয়ে নির্বাচনী কার্যক্রম শুরুর প্রস্তুতি রয়েছে তাদের। এর অংশ হিসেবে স্থানীয় সরকারের পাঁচটি প্রতিষ্ঠানেরই নির্বাচনী পরিচালনা বিধিমালা ও আচরণ বিধিমালা সংশোধনের কার্যক্রম চলছে।
ইসি সূত্র জানিয়েছে, এরই মধ্যে ইউপি নির্বাচন আচরণ বিধিমালার খসড়া প্রায় চূড়ান্ত হয়েছে। কমিশন সভায় অনুমোদনের পর আগামী সপ্তাহে জনমত যাচাইয়ে ইসি তাদের ওয়েবসাইটে খসড়াটি প্রকাশ করবে। যেখানে অংশিজন ও নাগরিকদের মতামত প্রদানের জন্য ১৫ দিন সময় বেঁধে দেওয়া হবে।
এদিকে, নির্দলীয় ভিত্তিতে নির্বাচন হলেও ইউপি নির্বাচনী আচরণবিধির খসড়াটি মতামতের জন্য রাজনৈতিক দলগুলোর কাছেও পাঠানো হবে। এছাড়া এ বিষয়ে সংবাদপত্রে সার্কুলার জারি ও গণমাধ্যমের সঙ্গে মতবিনিময় করবে ইসি। এরপর খসড়াটি সংযোজন-বিয়োজন ও কমিশনের চূড়ান্ত অনুমোদন শেষে যাচাই-বাছাইয়ের (ভেটিং) জন্য আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে। ভেটিং শেষে আচরণ বিধিমালা গেজেট আকারে প্রকাশ করবে ইসি।
ইসির জ্যেষ্ঠ সচিব আখতার আহমেদ বলেছেন, আগামী সপ্তাহের শুরুতে কমিশন সভা হবে বলে আশা করছি। সেখানেই খসড়ায় প্রাথমিক অনুমোদন দিয়ে সবার মতামতের জন্য ওয়েবসাইটে দেওয়া হবে।
তিনি জানান, প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এএমএম নাসির উদ্দিন অসুস্থ। এই সপ্তাহে তাঁর পায়ের অস্ত্রোপচার হওয়ার কথা রয়েছে। তার শারীরিক অবস্থার উন্নতি হলেই কমিশন সভা হবে।
আচরণবিধিতে আনা বড় পরিবর্তন সম্পর্কে ইসি সচিব বলেন, নির্বাচন নির্দলীয় হবে। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইন বা সন্ত্রাসবিরোধী আইনে অভিযুক্ত ব্যক্তি ও পলাতক আসামিরা নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারবেন না। অনলাইনে মনোনয়ন জমা দেওয়ায় নিষেধাজ্ঞা থাকবে। স্বতন্ত্র প্রার্থীদের এক শতাংশ ভোটারের স্বাক্ষর সংগ্রহের প্রয়োজন হবে না। নির্বাচনের জামানত বাড়বে। আর নির্বাচনী প্রচারণায় পোস্টারের ব্যবহার ও ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) ভোটগ্রহণ এবং পোস্টাল ব্যালটের ব্যবহার বাদ দেওয়া হবে।
স্থানীয় নির্বাচনের আয়োজন সংক্রান্ত বিষয়ে স্থানীয় সরকার বিভাগের কাছ থেকে নির্বাচন কমিশন এখনও কোনো আনুষ্ঠানিক চিঠি পায়নি ইসি। তবে সম্প্রতি স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেন, সরকার বর্ষার পর চলতি বছরের সেপ্টেম্বর-অক্টোবর থেকে শুরু করে আগামী বছরের শুরু পর্যন্ত পর্যায়ক্রমে স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজনের প্রস্তুতি নিচ্ছে।
দেশে বর্তমানে স্থানীয় সরকারের ৪ হাজার ৫৮১ ইউনিয়ন পরিষদ, ৬১ জেলা পরিষদ, ৪৯৫ উপজেলা পরিষদ, ৩৩০ পৌরসভা এবং ১৩ সিটি করপোরেশনের বিভিন্ন পদ নির্বাচন উপযোগী রয়েছে। দুই বছরেরও বেশি সময় ধরে কোনো স্থানীয় সরকার নির্বাচন না হওয়ায় সিংহভাগ প্রতিষ্ঠানের মেয়াদ ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে।
ইসির তথ্য অনুযায়ী, ৪ হাজার ৫৮১টি ইউনিয়ন পরিষদের মধ্যে ৩ হাজার ৬৩২টি আগামী আগস্টের শেষ নাগাদ এবং আরও ৩৪৩টি ডিসেম্বরের মধ্যে নির্বাচনের জন্য যোগ্য হবে। বিভিন্ন জটিলতার কারণে ১০৪টি ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের জন্য অনুপযুক্ত। যার মধ্যে ৭৯টি আইনি বিরোধ, ১৮টি সীমানা সংক্রান্ত সমস্যা এবং সাতটি ভোটার তালিকা সংক্রান্ত জটিলতার কারণে স্থগিত রয়েছে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
গ্যাস সংকট নিরসনের দাবিতে রাজধানীর খিলক্ষেতে এয়ারপোর্ট সড়ক অবরোধ করেছেন সিএনজিচালিত অটোরিকশাচালকরা। বুধবার (২২ জুলাই) দুপুর ২টা ৪০ মিনিটের দিকে তারা সড়ক অবরোধ করলে এলাকায় তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। অবরোধে অংশ নেওয়া চালক মনির হোসেন বলেন, সকাল থেকে লাইনে দাঁড়িয়ে থাকলেও তারা গ্যাস পাননি। এতে দৈনিক আয় ব্যাহত হচ্ছে এবং জমাসহ অন্যান্য খরচ বহন করাও কঠিন হয়ে পড়েছে। তিনি বলেন, গ্যাস সংগ্রহ করতেই দিনের বেশির ভাগ সময় চলে যায়। সরেজমিনে দেখা যায়, প্রায় শতাধিক সিএনজিচালক সড়কে অবস্থান নিয়ে বিভিন্ন স্লোগান দিচ্ছেন এবং দ্রুত গ্যাস সংকট সমাধানের দাবি জানাচ্ছেন। খিলক্ষেত থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আবুল হোসেন ঘটনাস্থলে উপস্থিত রয়েছেন। তিনি বলেন, গ্যাস সংকটের কারণে সিএনজিচালকরা সড়ক অবরোধ করেছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পুলিশ ঘটনাস্থলে কাজ করছে।
ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পর মধ্যপ্রাচ্যে সৃষ্ট নিরাপত্তাসংকটের কারণে প্রায় চার মাস হরমুজ প্রণালিতে আটকে থাকা বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশনের (বিএসসি) জাহাজ এমভি ‘বাংলার জয়যাত্রা’র ১৭ বাংলাদেশি নাবিক দেশে ফিরেছেন। দীর্ঘ অনিশ্চয়তা ও উদ্বেগের পর স্বজনদের কাছে ফিরতে পেরে স্বস্তি প্রকাশ করেছেন তারা। মঙ্গলবার (২১ জুলাই) বিকেল ৫টা ৪২ মিনিটে এমিরেটস এয়ারলাইনসের একটি ফ্লাইটে দুবাই হয়ে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান তারা। বিমানবন্দরে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে আবেগঘন পুনর্মিলনের পর নাবিকরা নিজ নিজ গন্তব্যে রওনা হন। বিএসসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক কমোডর মাহমুদুল মালেক বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, দক্ষিণ আফ্রিকার ডারবান বন্দর থেকে বিমানে যাত্রা করে তারা দেশে ফিরেছেন। জাহাজে কর্মরত নাবিকদের পর্যায়ক্রমে দেশে ফেরানোর পরিকল্পনার অংশ হিসেবে প্রথম দফায় ১৭ জনকে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। বিএসসির তথ্য অনুযায়ী, দেশে ফেরা নাবিকদের মধ্যে জাহাজের মাস্টার, চিফ অফিসার, বিভিন্ন পর্যায়ের প্রকৌশলী, ক্যাডেট ও রেটিং রয়েছেন। তাদের দায়িত্ব পালনের জন্য এরই মধ্যে নতুন ১৭ জন নাবিক দক্ষিণ আফ্রিকার ডারবানে পৌঁছে এমভি বাংলার জয়যাত্রায় যোগ দিয়েছেন। বিএসসির মহাব্যবস্থাপক (শিপ পারসোনেল বিভাগ) ক্যাপ্টেন জিয়াউর রহমান জানান, জাহাজটি বর্তমানে নির্ধারিত বাণিজ্যিক কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। পরবর্তী পণ্য খালাস ও বোঝাই শেষে আগামী কয়েক দিনের মধ্যে এটি ডারবান বন্দর ত্যাগ করবে। এরপর জাহাজটির সম্ভাব্য গন্তব্য মালয়েশিয়া। সেখানে পৌঁছানোর পর জাহাজে থাকা অবশিষ্ট ১৪ বাংলাদেশি নাবিক দেশে ফিরবেন। তিনি বলেন, দীর্ঘ সময় সমুদ্রে দায়িত্ব পালন, যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে অনিশ্চয়তার মধ্যে থাকা এবং মানসিক চাপের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়েই প্রথম ধাপে ১৭ জনকে দেশে ফেরানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তাদের শারীরিক ও মানসিক সুস্থতার বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হয়েছে। উল্লেখ্য, মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক উত্তেজনা বৃদ্ধি এবং হরমুজ প্রণালিতে নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি হওয়ার পর এমভি বাংলার জয়যাত্রাসহ ওই অঞ্চলে থাকা বেশ কয়েকটি বাণিজ্যিক জাহাজের চলাচল ব্যাহত হয়। ফলে জাহাজটির বাংলাদেশি নাবিকদের নির্ধারিত সময়ের অনেক বেশিদিন জাহাজে অবস্থান করতে হয়। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর প্রথম দফায় ১৭ নাবিকের দেশে ফেরায় স্বস্তি প্রকাশ করেছে তাদের পরিবার এবং বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশন।
সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলাম এবং তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে হত্যার উদ্দেশ্যে হামলাসহ বিভিন্ন অনৈতিক কর্মকাণ্ডের বিস্ফোরক অভিযোগ এনেছেন তার সাবেক গাড়িচালক ও ব্যক্তিগত সহকারী ওবায়দুর রহমান। আজ সোমবার জীবনের নিরাপত্তা এবং অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা চেয়ে প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নিকট লিখিত আবেদন জানিয়েছেন তিনি। লিখিত আবেদনে ওবায়দুর রহমান জানান, গত ১৪ জুলাই রাত সাড়ে ১১টার দিকে রাজধানীর পল্লবী থানাধীন উত্তর কালশীর আলীনগরে ‘রোজ গার্ডেন টাওয়ার ২’-এর ডি-২ ফ্ল্যাটে অবস্থান করছিলেন তিনি। সে সময় তাকে হত্যার উদ্দেশে লাঠিসোঁটা নিয়ে মারাত্মক হামলা চালান দুর্নীতির দায়ে চাকরিচ্যুত পুলিশের সাবেক এসআই আমিন এবং ইউনুস সরদারের ছেলে মাসুম বিল্লাহ ও মোক্তাসিম বিল্লাহ। আবেদনে উল্লেখ করা হয়, ওবায়দুরের ওপর শারীরিক হামলার শব্দ শুনে পাশের কক্ষ থেকে তার মা ও ছোট বোন এসে অনেক চেষ্টার পর তাকে উদ্ধার করেন। পরবর্তী সময়ে মা ও বোনের সহায়তায় একটি সিএনজিযোগে কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে যাওয়া হয় তাকে। বর্তমানে তিনি আত্মগোপনে আছেন এবং হামলাকারীরা তাকে হত্যা করবে বলে হুমকি দিচ্ছে। ওবায়দুর রহমানের দাবি, এই হামলার নির্দেশদাতা সাতক্ষীরা-৪ আসনের এমপি গাজী নজরুল ইসলাম। তিনি দীর্ঘদিন গাজী নজরুলের ড্রাইভার ও পিএস হিসেবে কাজ করার সূত্রে তার নানা দুর্নীতি, জমি দখল, বালুমহাল দখল, ঘুষ গ্রহণ এবং নারীঘটিত অনৈতিক কর্মকাণ্ডের প্রত্যক্ষদর্শী। লিখিত আবেদনে এমপি গাজী নজরুলের বিরুদ্ধে একাধিক স্থানে অপ্রাপ্তবয়স্ক তরুণীকে নিয়ে অনৈতিক কর্মকাণ্ড ও সিসিটিভি ফুটেজে তার প্রমাণ থাকার কথা উল্লেখ করেন ওবায়দুর রহমান। এই অবস্থায়, জীবনের চরম নিরাপত্তাহীনতার কথা জানিয়ে এই হামলার সঙ্গে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং নিজের ও পরিবারের জীবনের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে প্রধানমন্ত্রীর প্রতি আকুল আবেদন জানিয়েছেন তিনি।