জাতীয়

ইউনূসের থ্রি ইডিয়টস

মো: দেলোয়ার হোসাইন জুন ০৬, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

 

কিন্তু ইউনূস সরকারের আমলে থ্রি ইডিয়টস হিসেবে পরিচিতি পাওয়া তিন উপদেষ্টার দুষ্টুামি ছিল ভয়ংকর। তাদের ষড়যন্ত্র এবং প্রকাশ্য-অপ্রকাশ্য স্বেচ্ছাচারিতার শিকার হয়েছিল কোটি মানুষ। ইউনূসের সবচেয়ে বিশ্বস্ত ও আস্থাভাজন হিসেবে পরিচিত এই তিনজনের অপকর্মের কারণে বাংলাদেশ পিছিয়ে গেছে বহু বছর।

 

সিনেমার থ্রি ইডিয়টসকে শাসন করতেন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধান।

কিন্তু অন্তর্বর্তী সরকারের থ্রি ইডিয়টসকে লালন-পালন করতেন স্বয়ং প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস।

 

অনুসন্ধানে দেখা যায়, ইউনূস সরকারের আমলে যত অপকর্ম হয়েছে, তার সবগুলোর সঙ্গেই জড়িত ছিলেন এই তিন উপদেষ্টা। ড. ইউনূসের প্রধান লক্ষ্য ছিল নিজের স্বার্থ উদ্ধার। ইউনূস দেড় বছরে যেখানে পেরেছেন সেখানেই সুযোগ-সুবিধা নিয়েছেন।

 

নিজের মামলা প্রত্যাহার, কর মওকুফসহ সব মামলা থেকে মুক্তি আদায় করেছেন। বিশ্ববিদ্যালয় থেকে শুরু করে জনশক্তি রপ্তানির লাইসেন্স পর্যন্ত হাতিয়ে নিয়েছেন। তার এ অবাধ স্বজনপ্রীতির জন্য দেশে এক বিশৃঙ্খল পরিবেশ সৃষ্টি করা দরকার ছিল। সেই পরিবেশ সৃষ্টিতে মুখ্য ভূমিকা পালন করেছেন এই তিন উপদেষ্টা। এরা শুধু ইউনূসকেই অবাধে লুণ্ঠন করার সুযোগ করে দেননি, নিজেরাও সীমাহীন লুটপাট করেছেন।

 

ইউনূস এবং তার তিন ইডিয়টের মূল লক্ষ্য ছিল, দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থাকা। এই তিন দুষ্ট কোকিল শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত নির্বাচন বানচালের চেষ্টা করেছিলেন। এদের বিভিন্ন অপকর্মের সহযোগী হিসেবে আরও কয়েকজন উপদেষ্টা যুক্ত ছিলেন। কিন্তু ইউনূস সরকারের মূল চালিকাশক্তি ছিলেন এই তিন উপদেষ্টা। এরা হলেন- আসিফ নজরুল, আদিলুর রহমান খান এবং সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান। মজার ব্যাপার হলো, এই তিন উপদেষ্টাই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের প্রাক্তন শিক্ষার্থী। এদের মধ্যে আদিলুর রহমান সবচেয়ে সিনিয়র হলেও ইউনূসের উপদেষ্টা পরিষদে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন আসিফ নজরুল। আসিফ নজরুল ছিলেন অন্তর্বর্তী সরকারে ইউনূসের পরই ক্ষমতাবান। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত একাধিক ছাত্রনেতার সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, আসিফ নজরুল নিজেই প্রধান উপদেষ্টা হতে চেয়েছিলেন। এ প্রস্তাব ’২৪-এর ৫ আগস্ট সেনাসদরের বৈঠকেও উত্থাপন করা হয়েছিল। কিন্তু ছাত্রনেতারা শেষ পর্যন্ত ইউনূসকে প্রধান উপদেষ্টা করার ব্যাপারে অনড় থাকায় আসিফ নজরুলের স্বপ্নভঙ্গ হয়। আসিফ নজরুল যখন বুঝতে পারেন, ইউনূসই হচ্ছে প্রধান উপদেষ্টা, তখন তিনি উপদেষ্টামণ্ডলীতে নিজের পছন্দের লোকদের ঢোকাতে চেষ্টা করেন। আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া এবং মাহফুজ আলম, বিভিন্ন সময়ে জানিয়েছেন, পাঁচ আগস্ট বঙ্গভবনের বৈঠকের পর কয়েকজন ছাত্রনেতাকে নিয়ে আসিফ নজরুল তার বিশ্ববিদ্যালয়ের বাসভবনে রাতভর বৈঠক করেন। এ বৈঠকে আসিফ নজরুল উপদেষ্টা পরিষদে আদিলুর রহমান ও রিজওয়ানা হাসানের নাম অন্তর্ভুক্ত করেন। ইউনূস দেশে ফেরার পর আসিফ নজরুল বুঝিয়ে দেন যে, ছাত্ররা তার হাতের মুঠোয়। এ কারণে, ইউনূস তার সঙ্গে সমঝোতা করেন। আসিফ নজরুল অত্যন্ত ধুরন্ধর প্রকৃতির মানুষ। তিনি জানতেন ইউনূস কী চান। এজন্য আসিফ নজরুল প্রথমেই ইউনূসের মামলা প্রত্যাহারের উদ্যোগ নেন। অনুসন্ধানে দেখা যায়, ইউনূসের মামলা প্রত্যাহারে সরাসরি বিচার বিভাগে হস্তক্ষেপ করেন আসিফ নজরুল। উচ্চ আদালতের একাধিক বিচারপতিকে ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগ রয়েছে সাবেক এই আইন উপদেষ্টার বিরুদ্ধে। আসিফ নজরুল শিক্ষার্থীদের দিয়ে মব করিয়ে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের সব বিচারপতিকে একযোগে পদত্যাগে বাধ্য করেন। একাধিক আইনজীবী মনে করেন, বাংলাদেশের সুপ্রিম কোর্টের ইতিহাসে এটি একটি নজিরবিহীন ঘটনা। এ বাজে দৃষ্টান্ত ভবিষ্যতে বাংলাদেশের বিচার বিভাগের স্বাধীনতার ওপর ব্যাপক নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে মনে করেন আইনজীবীরা। এরপর বিচারপতি নিয়োগে আসিফ নজরুল সীমাহীন ক্ষমতার অপব্যবহার করেন।

 

সংশ্লিষ্টরা মনে করেন, আসিফ নজরুল বিচারবিভাগের যে ক্ষতি করেছেন, তা অতীতে কেউ করেনি। ইউনূস সরকারের দেড় বছর বিচার বিভাগ চলেছে আসিফ নজরুলের একক কর্তৃত্বে। বিচারকদের ভয়ভীতি প্রদর্শন করে আইন উপদেষ্টা তার ইচ্ছা অনুযায়ী আদেশ ও রায় দিতে বাধ্য করেছেন। বিচারক নিয়োগ থেকে শুরু করে সরকারি আইনজীবী নিয়োগ- প্রতিটি ক্ষেত্রে কোটি টাকার দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে আসিফ নজরুলের বিরুদ্ধে। বাংলাদেশের বিচার বিভাগ ধ্বংসের জন্য ইতিহাসে আসিফ নজরুল চিরকাল একটি কলংকিত নাম হয়ে থাকবে। আসিফ নজরুল জোর করেই প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব নিয়েছিলেন বলে একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে। এ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব নেওয়ার মাধ্যমে তিনি লুটপাটের এক ভাণ্ডার খুলে ফেলেন। একাধিক রিক্রুটিং এজেন্সির মালিককে ভয় দেখিয়ে আসিফ নজরুল মোটা অঙ্কের টাকা আদায় করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। প্রয়োজন ছাড়াই নতুন রিক্রুটিং এজেন্সির লাইসেন্স প্রদানের নামে আসিফ নজরুল অন্তত ২০০ কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন রিক্রুটিং এজেন্সির মালিক জানান, ৫ কোটি টাকা দিয়ে তিনি নতুন লাইসেন্স নিয়েছেন। আসিফ নজরুল কেবল তার নিজের মন্ত্রণালয়েই দুর্নীতি-লুটপাট করেননি, বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ে তদবির বাণিজ্য করে টাকা আত্মসাৎ করেছেন। আসিফ নজরুলের দুর্নীতির একটি বড় জায়গা ছিল জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। শুরু থেকেই পদোন্নতি, বদলি বাণিজ্যের সিন্ডিকেট গড়ে তোলেন। ইউনূস সরকারের প্রথম দুই মাস সব পদোন্নতি এবং বদলি হয়েছে আসিফ নজরুলের মাধ্যমে। কিন্তু দুই মাস পর, ছাত্র উপদেষ্টারা যখন বুঝতে শেখেন তখন বদলি বাণিজ্যে তারাও হস্তক্ষেপ শুরু করেন। এ সময়ে আসিফ নজরুলের সঙ্গে ছাত্র উপদেষ্টাদের বিরোধ শুরু হয়। বিশেষ করে চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক পদায়নে আসিফ নজরুলের সঙ্গে আসিফ মাহমুদের সম্পর্ক তলানিতে গিয়ে ঠেকে। আসিফ নজরুলের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে দুর্নীতি করেন পরিবেশ উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান। পরিবেশ মন্ত্রণালয়ে টেন্ডার বাণিজ্য করে রিজওয়ানা হাতিয়ে নিয়েছেন শত কোটি টাকা। অভিযোগ রয়েছে, এবি সিদ্দিকী নসরুল হামিদ বিপুর বিভিন্ন সম্পত্তি বিক্রি বা হস্তান্তরের মধ্যস্থতাও করেছেন। রাজধানীর গুলশান ক্লাবের বিপরীতে নসরুল হামিদের নামে থাকা এক বিঘা জমির একটি প্লট নিয়েও বিতর্ক রয়েছে। দুর্নীতি দমন কমিশন ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে নসরুল হামিদের সম্পত্তি ক্রোকের উদ্যোগ নিলেও এই প্লটটি তালিকায় ছিল না। অনুসন্ধানে অভিযোগ ওঠে, রিজওয়ানার তদবিরে এটি তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়। বর্তমান বাজারমূল্যে জমিটির দাম প্রায় ২০০ কোটি টাকা বলে ধারণা করা হয়।

 

রাজধানীর মাদানি এভিনিউর ১০০ ফুট রাস্তার পাশেও নসরুল হামিদের প্রায় ৫ বিঘা জমি রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, বড় আকারে ক্রেতা না পাওয়ায় ছোট ছোট অংশে জমি বিক্রির চেষ্টা চালান এবি সিদ্দিকী। একই সঙ্গে হামিদ রিয়েল এস্টেটের অঘোষিত মালিক হিসেবেও তাকে উল্লেখ করা হয়। পলিথিন বাণিজ্য নিয়েও নানান বিতর্ক রয়েছে। উপদেষ্টা হওয়ার পর রিজওয়ানা পলিথিন ব্যবহারের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেন এবং শপিং মলে পলিথিন নিষিদ্ধ করা হয়। কিছুদিন অভিযান চললেও পরে তা বন্ধ হয়ে যায়। অভিযোগ রয়েছে, পলিথিন উৎপাদকদের সঙ্গে সমঝোতার পর অভিযান বন্ধ হয়ে যায়। সিলেটের ভোলাগঞ্জের সাদা পাথর পর্যটনকেন্দ্র নিয়েও বড় ধরনের বিতর্ক সৃষ্টি হয়।

 

অভিযোগ রয়েছে, ওই এলাকায় পাথর উত্তোলন বন্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানানো হলেও তা কার্যকর হয়নি। কয়েক মাস ধরে পাথর উত্তোলন চলার পর পরিস্থিতি নিয়ে সমালোচনা শুরু হয়। এ ছাড়া পরিবেশ ছাড়পত্র নিয়েও নানা অভিযোগ রয়েছে।

 

শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোকে পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র পেতে হলে বিভিন্ন তদবির করতে হতো বলে অভিযোগ রয়েছে। অনেক উদ্যোক্তার দাবি, উপদেষ্টার স্বামীর সঙ্গে যোগাযোগ ছাড়া অনেক সময় অনুমোদন পাওয়া কঠিন হয়ে পড়ত। বন অধিদপ্তরের পদায়ন নিয়েও অভিযোগ রয়েছে। কিছু লাভজনক পদে নিয়োগ বা বদলির ক্ষেত্রে বড় অঙ্কের অর্থ লেনদেন হয়েছে বলে বিভিন্ন সূত্রে অভিযোগ ওঠে। একইভাবে সরকারি ক্রয়বিধি লঙ্ঘন করে কিছু প্রকল্পে টেন্ডার ছাড়াই কাজ দেওয়ার অভিযোগও সামনে আসে। পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের গবেষণা প্রকল্প নিয়েও প্রশ্ন ওঠে।

 

অভিযোগ রয়েছে, গবেষণার নামে বিপুল পরিমাণ অর্থ ব্যয় দেখানো হলেও বাস্তবে অনেক ক্ষেত্রে কোনো গবেষণা হয়নি। ইটভাটার লাইসেন্স প্রদান নিয়েও দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, লাইসেন্স দেওয়ার ক্ষেত্রে নানান অনিয়ম হয়েছে এবং এ কারণে ইটভাটা নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম দুর্বল হয়ে পড়ে। আরেক উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান ছিলেন গুপ্ত দুর্নীতিবাজ। তিনি কথা বলতেন কম, ষড়যন্ত্র করতেন বেশি। প্রাক্তন জাসদ কর্মী ছিলেন, তাই ষড়যন্ত্রই ছিল তার মূল অস্ত্র। ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচন বানচালের মূল ষড়যন্ত্রকারী ছিলেন আদিলুর। অনুসন্ধানে দেখা যায়, ওসমান হাদির মৃত্যুর পর সারা দেশে মব সৃষ্টির মূল কারিগর ছিলেন এই উপদেষ্টা। মব সৃষ্টি করে নির্বাচন বানচালের চেষ্টা করেছিলেন তিনি। এজন্যই দুটি সংবাদপত্র অফিসে হামলা চালানো হয়। এ সময় পুলিশ যেন দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে না পারে সেজন্য আদিলুর নির্দেশনা দিয়েছিলেন বলে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া গেছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে প্রধান উপদেষ্টার একজন বিশেষ সহকারী পদত্যাগ করেন। তিনি প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে সাক্ষাৎ করে আদিলুর রহমানের বিরুদ্ধে অভিযোগ করলেও ইউনূস কোনো ব্যবস্থা নেননি। এই তিন উপদেষ্টাই দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থাকতে পাঁচ আগস্টের পর সারা দেশে মব সন্ত্রাসে পৃষ্ঠপোষকতা দেন। দেড় বছরে ইউনূস সরকারের সব নৈরাজ্য আর অপকর্মের প্রধান দোসর হলেন এই থ্রি ইডিয়টস। এসব অভিযোগের ব্যাপারে মতামত জানতে, সাবেক এই তিন উপদেষ্টার সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। তিনজনের কেউই ফোন রিসিভ করেননি। তাদের মেসেজ দেওয়া হলেও তারা জবাব দেননি।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

শুল্কমুক্ত সুবিধায় ব্যবসায়ীদের আগ্রহে ভাটা

পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না।   একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।   এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন।   গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে।   জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে।   সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে।   কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে।   প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে।   আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’   সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না।   এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।

ছবি: সংগৃহীত
মিয়ানমারে পাচারের আগে ৭০০ বস্তা ইউরিয়া সারসহ আটক ২

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে মিয়ানমারে পাচারের উদ্দেশ্যে কার্গো বোটে তোলার সময় ৭০০ বস্তা ইউরিয়া সারসহ দুইজনকে আটক করেছে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড। এ সময় সার পরিবহনে ব্যবহৃত তিনটি ট্রাকও জব্দ করা হয়েছে।   বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) দুপুরে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এ তথ্য জানিয়েছে কোস্ট গার্ড।   কোস্ট গার্ড সূত্র জানায়, বৃহস্পতিবার রাত ১টার দিকে সীতাকুণ্ড থানার বাঁশবাড়িয়া ঘাটসংলগ্ন এলাকায় অভিযান চালায় কোস্ট গার্ড স্টেশন ভাটিয়ারী। এ সময় তিনটি ট্রাক থেকে কার্গো বোটে ইউরিয়া সার স্থানান্তর করা হচ্ছিল।   অভিযানকালে মিয়ানমারে অবৈধভাবে পাচারের উদ্দেশ্যে সার স্থানান্তরের সময় ঘটনাস্থল থেকে দুইজনকে আটক করা হয়। পরে তল্লাশি চালিয়ে প্রায় ২৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা মূল্যের ৭০০ বস্তা ইউরিয়া সার জব্দ করা হয়।   জব্দ করা সারের মোট পরিমাণ ৩৫ হাজার কেজি। একই সঙ্গে পাচারের কাজে ব্যবহৃত তিনটি ট্রাকও জব্দ করেছে কোস্ট গার্ড।   কোস্ট গার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, জব্দ করা সার ও ট্রাক এবং আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।

আক্তারুজ্জামান সেপ্টেম্বর ১০, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

উদ্ভাবনকে বাজারমুখী করে অর্থনৈতিক মূল্য তৈরি করতে হবে: বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী

ছবি: সংগৃহীত

চাঁপাইনবাবগঞ্জে কবরস্থানের ১৪০ মেহগনি গাছ কেটে ফেলল দুর্বৃত্তরা

ছবি: সংগৃহীত

কোস্ট গার্ডের নতুন মহাপরিচালক রিয়ার অ্যাডমিরাল মো. মঈনুল হাসান

সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন।
আত্মহত্যার হার শূন্যের কোটায় নামিয়ে আনতে কাজ করছে সরকার: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেছেন, আত্মহত্যার হার শূন্যের কোটায় নিয়ে আসতে সরকার কাজ করছে। আত্মহত্যা প্রতিরোধে শুধু সরকারি উদ্যোগ নয়, সমাজের সর্বস্তরের মানুষকে সম্পৃক্ত করে একটি সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে।     বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর)  রাজধানীর ধানমণ্ডির ইউনিভার্সিটি উইমেন্স ফেডারেশনে এসোসিয়েশন ফর ডিজএবলড পিপল (এডিপি) ও রোটারি ক্লাব আহসান মঞ্জিল আয়োজিত ‘বিশ্ব আত্মহত্যা প্রতিরোধ দিবস’ উপলক্ষে সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।       এ সময় উপস্থিত শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে আত্মহত্যাকে 'না' বলার আহ্বান জানিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, যত বড় বিপদই আসুক না কেন, জীবনের প্রতিকূলতার বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যেতে হবে। জীবনে ব্যর্থতা আসবেই। ব্যর্থতায় হতাশ না হয়ে সাফল্য অর্জনের জন্য বারবার প্রচেষ্টা চালিয়ে যেতে হবে। নিরন্তর প্রচেষ্টার মধ্য দিয়েই মানুষ উন্নতির শিখরে আরোহন করতে পারে।        তিনি বলেন, আত্মহত্যাকে ‘না’ বলতে হবে। একই সঙ্গে পিতা-মাতা ও পরিবারের অন্য সদস্যদের প্রতি দায়িত্বশীল হতে হবে। পারস্পরিক মতবিনিময়ের মাধ্যমে নিজেদের সমস্যা ও অনুভূতিগুলো ভাগাভাগি করে নিতে হবে। যেসব বিষয় পিতা-মাতা বা পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে বলা সম্ভব হয় না, সেসব বিষয় বন্ধুদের সঙ্গে শেয়ার করা যেতে পারে। এতে মানসিক চাপ ও হতাশা মোকাবিলায় সহায়তা পাওয়া সম্ভব।        আত্মহত্যা প্রতিরোধে সমাজকে সচেতন করার ওপর জোর দিয়ে সাখাওয়াত হোসেন বলেন, গড্ডলিকা প্রবাহে সমাজকে চলতে দিলে সমাজ খুব বেশি দূর এগোতে পারবে না। তাই প্রচলিত ধারণার বাইরে গিয়ে ইতিবাচক চিন্তা, পারস্পরিক সহমর্মিতা ও সচেতনতার মাধ্যমে আত্মহত্যা প্রতিরোধে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে।       এডিপির চেয়ারম্যান রওশন আরা জামানের সভাপতিত্বে সেমিনারে বিশেষ অতিথি ছিলেন স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ডা. নাজমুল হোসেন এবং ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন ইউনিভার্সিটি উইমেন্স ফেডারেশনের অধ্যক্ষ আফরোজা শারমিন৷ 

মারিয়া রহমান সেপ্টেম্বর ১০, ২০২৬

গত ১৭ বছরে মতপ্রকাশের সুযোগ ছিল শুধু একজন ও এক দলের: রিজভী

স্বাধীন সাংবাদিকতা নিশ্চিতে যুগোপযোগী সাইবার আইন হচ্ছে: তথ্যমন্ত্রী

ভারতে ব্রিকস সম্মেলনে যাচ্ছেন না প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনে কার্বন ক্রেডিট পাবে বাংলাদেশ

বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক বাজারে কার্বন ক্রেডিট অর্জন করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ। ঢাকার আমিনবাজার ল্যান্ডফিলে বাস্তবায়নাধীন দেশের প্রথম বড় আকারের বর্জ্যভিত্তিক বিদ্যুৎ প্রকল্প থেকে এই কার্বন ক্রেডিট পাওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, পরিবেশবান্ধব এই উদ্যোগে একদিকে ঢাকার বিশাল বর্জ্য সমস্যার টেকসই সমাধান হবে, অন্যদিকে বিশ্বমঞ্চে গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গমন হ্রাসের স্বীকৃতি পাবে দেশ।   ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের আমিনবাজার ল্যান্ডফিলের বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছিল বেশ কয়েক বছর আগে। ল্যান্ডফিলের বর্জ্য থেকে ৪২ দশমিক ৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের এই প্রকল্প বাস্তবায়নে চীনের সঙ্গে ইতোমধ্যে অর্থায়ন চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়, বিদ্যুৎ বিভাগ, পরিবেশ বিভাগ, সিটি করপোরেশন ও সব অংশীজনের সম্মতিতে এই চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। ২০২৮ সালে এই প্রকল্প থেকে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ যুক্ত হওয়ার কথা রয়েছে এবং দেশবাসী এর সুফল পাবে।   প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা গণমাধ্যমে বলেন, আমিনবাজারের বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন প্রকল্পকে শুধু ২৫ টাকা দরে বিদ্যুৎ কেনার সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখলে এর প্রকৃত অর্থনৈতিক গুরুত্ব ধরা পড়বে না। এটি একই সঙ্গে ঢাকার বর্জ্য সংকট, ল্যান্ডফিল ব্যবস্থাপনা, পরিবেশ সুরক্ষা, জ্বালানি উৎপাদন এবং বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ কার্বন অর্থনীতির একটি পরীক্ষাগার। আমিনবাজার ল্যান্ডফিলের ব্যবস্থাপনার জন্য সিটি করপোরেশনের বার্ষিক খরচ হয় ৫২০ কোটি টাকা, চীন বিদ্যুৎ কেন্দ্র করায় সিটি করপোরেশনকে এই টাকা খরচ করতে হবে না। এই বিদ্যুৎ কেন্দ্র পরিবেশবান্ধব ও কার্বন নিঃসরণ কমিয়ে দেয়ায় বাংলাদেশ প্রতিবছর কার্বন ক্রেডিট পাবে প্রায় ৯০ কোটি টাকা।   স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম গণমাধ্যমে বলেন, এই প্রকল্পে চীনের সরাসরি বিনিয়োগ হচ্ছে ৬ হাজার কোটি টাকা। চীনের সিএমইসি গ্রুপের উদ্যোগে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। অর্থায়নের সঙ্গে যুক্ত রয়েছে এশিয়ান ইনফ্রাস্ট্রাকচার ইনভেস্টমেন্ট ব্যাংক, ডিবিএস, এনডিবি এবং ব্যাংক অব চায়না-সহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক আর্থিক প্রতিষ্ঠান।   তিনি বলেন, সবাই দাম নিয়ে কথা বলছে, কিন্তু এখানে শেষ পর্যন্ত দাম দাঁড়াবে ১০ টাকার নিচে। সবচেয়ে বড় কথা বাংলাদেশ কার্বন ক্রেডিট পাবে।   কার্বন ক্রেডিট হলো পরিবেশ সুরক্ষার একটি আন্তর্জাতিক আর্থিক ব্যবস্থা ও সনদ, যা বায়ুমণ্ডলে এক মেট্রিক টন কার্বন ডাই-অক্সাইড বা সমপরিমাণ গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণ কমানো বা অপসারণের স্বীকৃতি দেয়। আন্তর্জাতিকভাবে ১টি কার্বন ক্রেডিট মানে হলো ১ টন কার্বন ডাই-অক্সাইড বা সমমানের গ্রিনহাউস গ্যাস বাতাসে মিশতে না দেয়া। বাংলাদেশ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক চুক্তি অনুযায়ী এই ক্রেডিটের সুবিধাভোগী হবে।   সম্প্রতি জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক এক সভায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান কার্বন নিঃসরণ কমিয়ে দেশের কার্বন ক্রেডিট বাড়ানোর সম্ভাবনা এবং এ বিষয়ে কর্মপরিকল্পনা ঠিক করতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা দিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বৃদ্ধি, শিল্পখাতে পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তির প্রয়োগ, জ্বালানি দক্ষতা উন্নয়ন, বন সংরক্ষণ এবং ব্যাপক বৃক্ষরোপণের মাধ্যমে কার্বন শোষণ বাড়ানোর বিষয়ে গুরুত্বারোপ করেন। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক কার্বন বাজারে বাংলাদেশের সম্ভাবনা কাজে লাগাতে বাস্তবসম্মত পরিকল্পনা গ্রহণের নির্দেশ দেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী কার্বন ক্রেডিট ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত, নির্ভরযোগ্য তথ্যভাণ্ডার গড়ে তোলা এবং আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর সঙ্গে সমন্বয় বাড়ানোর কথাও বলেন।   চীন মূলত সরাসরি উচ্চ তাপমাত্রায় বর্জ্য পোড়ানো প্রযুক্তিতে নিজস্ব সক্ষমতা তৈরি করেছে। চীনের উদ্ভাবিত ইনসিনারেটর গ্রেট ব্যবস্থা উচ্চ আর্দ্রতাসম্পন্ন বর্জ্যকেও উচ্চ তাপমাত্রায় পুড়িয়ে বিদ্যুৎ তৈরি করতে পারে। অন্যদিকে আরডিএফ (রিফিউজ-ডেরিভড ফুয়েল) এবং বায়োমেথানেশনের নিজস্ব মডেল তৈরিতে জোর দিয়েছে। তারা সরাসরি পোড়ানোর চেয়ে বর্জ্য থেকে প্লাস্টিক, কাগজ কেটে আলাদা করে ফুয়েল প্যালেট তৈরি বা পচনশীল বর্জ্য থেকে মিথেন গ্যাস তৈরির প্রযুক্তি ব্যবহার করে।   পরিবেশবিদরা বলছেন, এই প্রকল্পে অর্থনৈতিক আরও একটি সুবিধা আছে। ল্যান্ডফিলে জৈব বর্জ্য পচলে মিথেন তৈরি হয়। সেই জৈব বর্জ্য ল্যান্ডফিলে না পাঠিয়ে নিয়ন্ত্রিত ডাইজেস্টারে নিয়ে গেলে মিথেনকে সরাসরি ধরে জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার করা যায়। ফলে, একই সঙ্গে জীবাশ্ম জ্বালানির বিকল্প তৈরি এবং ল্যান্ডফিল থেকে অনিয়ন্ত্রিত মিথেন নিঃসরণ কমানো সম্ভব। এ কারণেই কার্বন অর্থনীতির সঙ্গে বায়োগ্যাস প্রকল্পের সম্পর্ক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কার্বন ক্রেডিটের সম্ভাবনাও এখানে তৈরি হয়। প্রকল্পটি প্রচলিত ল্যান্ডফিল ব্যবস্থার তুলনায় কত টন কার্বন-সমতুল্য নির্গমন কমাচ্ছে, তা পরিমাপ, প্রতিবেদন ও স্বাধীনভাবে যাচাই করতে হবে। প্রতি টন যাচাইকৃত নির্গমন হ্রাসের বিপরীতে কার্বন ক্রেডিট তৈরি হতে পারে। তবে কত টাকা পাওয়া যাবে, তা আগে থেকে নিশ্চিত করে বলা যাবে না; ক্রেডিটের মান, বাজার, প্রকল্পের পদ্ধতি এবং আন্তর্জাতিক নিয়মের ওপর মূল্য নির্ভর করবে।   জলবায়ু পরিবর্তন বিশেষজ্ঞ, পরিবেশবিদ ও ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের ইমেরিটাস অধ্যাপক ড. আইনুন নিশাত বলেন, প্রথমেই প্রধানমন্ত্রী, সরকারকে ধন্যবাদ ও অভিনন্দন যে, কার্বন ট্রেডিং নিয়ে সরকার ইতিবাচক চিন্তা করছে। আমিনবাজার ল্যান্ডফিলের বর্জ্য থেকে শুধু বিদ্যুৎ উৎপাদন হবে তাই নয়, এর ফলে দেশে বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় সুশৃঙ্খল ব্যবস্থা তৈরি হবে। কাঁচা বর্জ্যে যে পরিমাণ দুর্গন্ধ ও দূষণ হয় এসব থেকে শহর মুক্তি পাবে। এখানে কার্বন অ্যাবজর্ব হয়ে মিথেনের ব্যবহারে পরিবেশ কম দূষিত হবে। আধুনিক সিটির মডেল হবে। এই প্রকল্পে চীন বিদ্যুৎ উৎপাদন করবে আবার কার্বন ক্রেডিট ট্রেডিং চালু করবে। এটি খুবই আশাব্যঞ্জক। আশার ব্যাপার পরিবেশ মন্ত্রণালয় কার্বন ট্রেডিং নিয়ে নতুন পরিকল্পনা করছে। প্রধানমন্ত্রীর তত্ত্বাবধানে এসব কাজ এগোচ্ছে তাই বোঝা যাচ্ছে সরকারের পরিকল্পনা সুদূরপ্রসারী। এখন এসব কাজ ইমপ্লিমেন্ট করা জরুরি।

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি সেপ্টেম্বর ১০, ২০২৬

সংসদে ব্যাংক রেজল্যুশন সংশোধন বিল-২০২৬ কণ্ঠভোটে পাস

ছবি: সংগৃহীত

ছোলা, ভোজ্যতেল ও এলএনজি আমদানির বড় সিদ্ধান্ত সরকারের

খবর৭১

ওমানের প্রতিনিধিদলের এনটিভি কার্যালয় পরিদর্শন

0 Comments