সিনেমার থ্রি ইডিয়টসকে শাসন করতেন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধান।
সিনেমার থ্রি ইডিয়টসকে শাসন করতেন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধান।
কিন্তু অন্তর্বর্তী সরকারের থ্রি ইডিয়টসকে লালন-পালন করতেন স্বয়ং প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস।
অনুসন্ধানে দেখা যায়, ইউনূস সরকারের আমলে যত অপকর্ম হয়েছে, তার সবগুলোর সঙ্গেই জড়িত ছিলেন এই তিন উপদেষ্টা। ড. ইউনূসের প্রধান লক্ষ্য ছিল নিজের স্বার্থ উদ্ধার। ইউনূস দেড় বছরে যেখানে পেরেছেন সেখানেই সুযোগ-সুবিধা নিয়েছেন।
সংশ্লিষ্টরা মনে করেন, আসিফ নজরুল বিচারবিভাগের যে ক্ষতি করেছেন, তা অতীতে কেউ করেনি। ইউনূস সরকারের দেড় বছর বিচার বিভাগ চলেছে আসিফ নজরুলের একক কর্তৃত্বে। বিচারকদের ভয়ভীতি প্রদর্শন করে আইন উপদেষ্টা তার ইচ্ছা অনুযায়ী আদেশ ও রায় দিতে বাধ্য করেছেন। বিচারক নিয়োগ থেকে শুরু করে সরকারি আইনজীবী নিয়োগ- প্রতিটি ক্ষেত্রে কোটি টাকার দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে আসিফ নজরুলের বিরুদ্ধে। বাংলাদেশের বিচার বিভাগ ধ্বংসের জন্য ইতিহাসে আসিফ নজরুল চিরকাল একটি কলংকিত নাম হয়ে থাকবে। আসিফ নজরুল জোর করেই প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব নিয়েছিলেন বলে একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে। এ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব নেওয়ার মাধ্যমে তিনি লুটপাটের এক ভাণ্ডার খুলে ফেলেন। একাধিক রিক্রুটিং এজেন্সির মালিককে ভয় দেখিয়ে আসিফ নজরুল মোটা অঙ্কের টাকা আদায় করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। প্রয়োজন ছাড়াই নতুন রিক্রুটিং এজেন্সির লাইসেন্স প্রদানের নামে আসিফ নজরুল অন্তত ২০০ কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন রিক্রুটিং এজেন্সির মালিক জানান, ৫ কোটি টাকা দিয়ে তিনি নতুন লাইসেন্স নিয়েছেন। আসিফ নজরুল কেবল তার নিজের মন্ত্রণালয়েই দুর্নীতি-লুটপাট করেননি, বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ে তদবির বাণিজ্য করে টাকা আত্মসাৎ করেছেন। আসিফ নজরুলের দুর্নীতির একটি বড় জায়গা ছিল জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। শুরু থেকেই পদোন্নতি, বদলি বাণিজ্যের সিন্ডিকেট গড়ে তোলেন। ইউনূস সরকারের প্রথম দুই মাস সব পদোন্নতি এবং বদলি হয়েছে আসিফ নজরুলের মাধ্যমে। কিন্তু দুই মাস পর, ছাত্র উপদেষ্টারা যখন বুঝতে শেখেন তখন বদলি বাণিজ্যে তারাও হস্তক্ষেপ শুরু করেন। এ সময়ে আসিফ নজরুলের সঙ্গে ছাত্র উপদেষ্টাদের বিরোধ শুরু হয়। বিশেষ করে চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক পদায়নে আসিফ নজরুলের সঙ্গে আসিফ মাহমুদের সম্পর্ক তলানিতে গিয়ে ঠেকে। আসিফ নজরুলের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে দুর্নীতি করেন পরিবেশ উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান। পরিবেশ মন্ত্রণালয়ে টেন্ডার বাণিজ্য করে রিজওয়ানা হাতিয়ে নিয়েছেন শত কোটি টাকা। অভিযোগ রয়েছে, এবি সিদ্দিকী নসরুল হামিদ বিপুর বিভিন্ন সম্পত্তি বিক্রি বা হস্তান্তরের মধ্যস্থতাও করেছেন। রাজধানীর গুলশান ক্লাবের বিপরীতে নসরুল হামিদের নামে থাকা এক বিঘা জমির একটি প্লট নিয়েও বিতর্ক রয়েছে। দুর্নীতি দমন কমিশন ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে নসরুল হামিদের সম্পত্তি ক্রোকের উদ্যোগ নিলেও এই প্লটটি তালিকায় ছিল না। অনুসন্ধানে অভিযোগ ওঠে, রিজওয়ানার তদবিরে এটি তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়। বর্তমান বাজারমূল্যে জমিটির দাম প্রায় ২০০ কোটি টাকা বলে ধারণা করা হয়।
রাজধানীর মাদানি এভিনিউর ১০০ ফুট রাস্তার পাশেও নসরুল হামিদের প্রায় ৫ বিঘা জমি রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, বড় আকারে ক্রেতা না পাওয়ায় ছোট ছোট অংশে জমি বিক্রির চেষ্টা চালান এবি সিদ্দিকী। একই সঙ্গে হামিদ রিয়েল এস্টেটের অঘোষিত মালিক হিসেবেও তাকে উল্লেখ করা হয়। পলিথিন বাণিজ্য নিয়েও নানান বিতর্ক রয়েছে। উপদেষ্টা হওয়ার পর রিজওয়ানা পলিথিন ব্যবহারের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেন এবং শপিং মলে পলিথিন নিষিদ্ধ করা হয়। কিছুদিন অভিযান চললেও পরে তা বন্ধ হয়ে যায়। অভিযোগ রয়েছে, পলিথিন উৎপাদকদের সঙ্গে সমঝোতার পর অভিযান বন্ধ হয়ে যায়। সিলেটের ভোলাগঞ্জের সাদা পাথর পর্যটনকেন্দ্র নিয়েও বড় ধরনের বিতর্ক সৃষ্টি হয়।
অভিযোগ রয়েছে, ওই এলাকায় পাথর উত্তোলন বন্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানানো হলেও তা কার্যকর হয়নি। কয়েক মাস ধরে পাথর উত্তোলন চলার পর পরিস্থিতি নিয়ে সমালোচনা শুরু হয়। এ ছাড়া পরিবেশ ছাড়পত্র নিয়েও নানা অভিযোগ রয়েছে।
শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোকে পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র পেতে হলে বিভিন্ন তদবির করতে হতো বলে অভিযোগ রয়েছে। অনেক উদ্যোক্তার দাবি, উপদেষ্টার স্বামীর সঙ্গে যোগাযোগ ছাড়া অনেক সময় অনুমোদন পাওয়া কঠিন হয়ে পড়ত। বন অধিদপ্তরের পদায়ন নিয়েও অভিযোগ রয়েছে। কিছু লাভজনক পদে নিয়োগ বা বদলির ক্ষেত্রে বড় অঙ্কের অর্থ লেনদেন হয়েছে বলে বিভিন্ন সূত্রে অভিযোগ ওঠে। একইভাবে সরকারি ক্রয়বিধি লঙ্ঘন করে কিছু প্রকল্পে টেন্ডার ছাড়াই কাজ দেওয়ার অভিযোগও সামনে আসে। পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের গবেষণা প্রকল্প নিয়েও প্রশ্ন ওঠে।
অভিযোগ রয়েছে, গবেষণার নামে বিপুল পরিমাণ অর্থ ব্যয় দেখানো হলেও বাস্তবে অনেক ক্ষেত্রে কোনো গবেষণা হয়নি। ইটভাটার লাইসেন্স প্রদান নিয়েও দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, লাইসেন্স দেওয়ার ক্ষেত্রে নানান অনিয়ম হয়েছে এবং এ কারণে ইটভাটা নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম দুর্বল হয়ে পড়ে। আরেক উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান ছিলেন গুপ্ত দুর্নীতিবাজ। তিনি কথা বলতেন কম, ষড়যন্ত্র করতেন বেশি। প্রাক্তন জাসদ কর্মী ছিলেন, তাই ষড়যন্ত্রই ছিল তার মূল অস্ত্র। ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচন বানচালের মূল ষড়যন্ত্রকারী ছিলেন আদিলুর। অনুসন্ধানে দেখা যায়, ওসমান হাদির মৃত্যুর পর সারা দেশে মব সৃষ্টির মূল কারিগর ছিলেন এই উপদেষ্টা। মব সৃষ্টি করে নির্বাচন বানচালের চেষ্টা করেছিলেন তিনি। এজন্যই দুটি সংবাদপত্র অফিসে হামলা চালানো হয়। এ সময় পুলিশ যেন দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে না পারে সেজন্য আদিলুর নির্দেশনা দিয়েছিলেন বলে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া গেছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে প্রধান উপদেষ্টার একজন বিশেষ সহকারী পদত্যাগ করেন। তিনি প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে সাক্ষাৎ করে আদিলুর রহমানের বিরুদ্ধে অভিযোগ করলেও ইউনূস কোনো ব্যবস্থা নেননি। এই তিন উপদেষ্টাই দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থাকতে পাঁচ আগস্টের পর সারা দেশে মব সন্ত্রাসে পৃষ্ঠপোষকতা দেন। দেড় বছরে ইউনূস সরকারের সব নৈরাজ্য আর অপকর্মের প্রধান দোসর হলেন এই থ্রি ইডিয়টস। এসব অভিযোগের ব্যাপারে মতামত জানতে, সাবেক এই তিন উপদেষ্টার সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। তিনজনের কেউই ফোন রিসিভ করেননি। তাদের মেসেজ দেওয়া হলেও তারা জবাব দেননি।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
বাজেট আলোচনায় সংসদ সদস্যদের নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই বক্তব্য শেষ করার নির্দেশ দিয়েছেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ। তবু নির্ধারিত সময়ের বাইরে বিএনপির একাধিক সংসদ সদস্য আরেকটু সময় বাড়িয়ে দেওয়ার জন্য অনুরোধ করলে স্পিকার বলেন, ‘সময় চাহিয়া লজ্জা দিবেন না।’ শনিবার জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনা শুরুর আগে স্পিকার সময়ের ব্যাপারে সদস্যদের সময়ের বিষয়টি মনে করিয়ে দেন। তিনি বলেন, ‘হাতে সময় কম থাকায় আজ ও আগামীকাল- এই দুই দিন বাজেটের সাধারণ আলোচনা হবে। এরপর সংসদের অন্যান্য কার্যক্রম নেওয়া হবে।’ সংসদ সদস্যদের উদ্দেশে স্পিকার বলেন, সরকারি দল ও বিরোধী দলের হুইপরা যে সময় নির্ধারণ করেছেন, সেই সময় তিনি সদস্যদের জানিয়ে দেবেন। এরপর আর সময় বাড়ানো হবে না। অসমাপ্ত বক্তব্য এড়াতে সংসদ সদস্যদের ঘড়ির দিকে তাকিয়ে বক্তব্য দেওয়ার পরামর্শ দিয়ে স্পিকার বলেন, ‘আপনারা ঘড়ির দিকে তাকিয়ে বক্তব্য রাখবেন এবং এমনভাবে কনক্লুড (শেষ) করবেন, যাতে অসমাপ্ত বক্তৃতা দিয়ে আপনাকে বসে যেতে না হয়।’ স্পিকার আরও বলেন, ‘বাজেট অধিবেশনের সাফল্যজনক সমাপ্তির জন্য বাধ্য হয়ে আপনাদের সময় স্টিক করতে হচ্ছে। সুতরাং আবারও বলছি, আপনারা অনুরোধ করে বিব্রত করবেন না। যে সময় দেওয়া হবে, ওই সময়ের মধ্যে দয়া করে বক্তব্য শেষ করবেন।’ এর আগে অধিবেশনের শুরুতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মালয়েশিয়া ও চীন সফর নিয়ে আনা ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনাতেও সময়সীমা নির্ধারণ করে দেন স্পিকার। গাজীপুর-৫ আসনের সংসদ সদস্য এ কে এম ফজলুল হক মিলনকে ১০ মিনিট সময় দেওয়া হয়। বক্তব্যের শেষ দিকে তিনি অতিরিক্ত দুই মিনিট সময় চাইলে স্পিকার বলেন, ‘সময় নাই।’ পরে ফজলুল হক আবার সময়ের আবেদন করলে স্পিকার বলেন, ‘আমি তো বক্তব্যের প্রারম্ভে বলেছি, মুদিদোকানে লেখা থাকে না, বাকি চাহিয়া লজ্জা দিবেন না। সময় চাহিয়া লজ্জা দিবেন না।’ পরে শরীয়তপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ শফিকুর রহমান কিরণকে ছয় মিনিট সময় দিয়ে স্পিকার আগেই সতর্ক করেন। তিনি বলেন, ‘ঘড়ির দিকে তাকিয়ে বক্তব্য রাখবেন এবং এক মিনিট বাকি থাকতে সমাপ্ত করবেন, যাতে বক্তব্য সমাপ্ত করতে পারেন।’ চট্টগ্রামের সংসদ সদস্য গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরীও বক্তব্যের সময় বাড়ানোর অনুরোধ করেন। তিনি বলেন, ‘সাত মিনিট সময় পেয়েছেন, তবে স্পিকারের কাছ থেকে কিছুটা “ম্যাগনানিমিটি” আশা করেছিলেন।’ জবাবে স্পিকার বলেন, ‘সময় চাহিয়া লজ্জা দিবেন না।’ গিয়াস উদ্দিন কাদের আবার সময়ের প্রসঙ্গ তুললে স্পিকার বলেন, ‘সময় আপনাদের হুইপরা দেন, আমি দিই না। সাত মিনিটে শেষ করুন, প্লিজ।’
বঙ্গোপসাগরে টহল অভিযান চালিয়ে মিয়ানমারে পাচারের উদ্দেশ্যে নেওয়া ১ হাজার ৪৫০ বস্তা সিমেন্ট জব্দ করেছে বাংলাদেশ নৌবাহিনী। এ সময় দুটি ইঞ্জিনচালিত ফিশিং বোটসহ ২১ জনকে আটক করা হয়েছে। শনিবার (২৭ জুন) নৌবাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়, শুক্রবার সেন্টমার্টিন দ্বীপ থেকে প্রায় ১৩ মাইল দূরে টহলরত একটি নৌযান গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পৃথক দুটি অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানে এফবি ফাতেমা হোসনা এবং এফবি নিঝু রাব্বি নামে দুটি দেশীয় কাঠের ফিশিং বোট আটক করা হয়। তল্লাশির সময় এফবি ফাতেমা হোসনা থেকে ৬৫০ বস্তা ডায়মন্ড সিমেন্ট এবং ১০ জনকে আটক করা হয়। অপরদিকে, এফবি নিঝু রাব্বি থেকে ৮০০ বস্তা ডায়মন্ড সিমেন্টের পাশাপাশি ১১ জনকে আটক করা হয়। সব মিলিয়ে অভিযানে ২১ জনকে আটক এবং ১ হাজার ৪৫০ বস্তা সিমেন্ট জব্দ করা হয়েছে। এসব সিমেন্ট মিয়ানমারে পাচারের উদ্দেশ্যে বহন করা হচ্ছিল বলে জানিয়েছে নৌবাহিনী। নৌবাহিনী আরও জানায়, আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি জব্দ করা বোট ও সিমেন্ট সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের হাম আইসোলেশন ওয়ার্ডে গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে আরও চার শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে ১৬ শিশু ভর্তি হওয়ায় বর্তমানে ওয়ার্ডটিতে চিকিৎসাধীন রয়েছে ৯৪ জন শিশু। হাসপাতাল সূত্র জানায়, মৃত চার শিশুর মধ্যে দুইজন ছেলে ও দুইজন মেয়ে। তারা ময়মনসিংহ, নেত্রকোনা ও সুনামগঞ্জ জেলার বাসিন্দা। চিকিৎসকদের তথ্যমতে, হামের উপসর্গের পাশাপাশি নিউমোনিয়া, জন্মগত হৃদ্রোগ, অপুষ্টি এবং অন্যান্য জটিলতায় আক্রান্ত ছিল এসব শিশু। মৃতদের মধ্যে একজন চার মাস বয়সী কন্যাশিশু ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট উপজেলার বাসিন্দা। এছাড়া নেত্রকোনার কলমাকান্দা উপজেলার চার মাস বয়সী এক ছেলে শিশু, ফুলপুর উপজেলার তিন মাস বয়সী এক শিশু এবং সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার আট মাস বয়সী এক কন্যাশিশুও চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায়। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় ১৬ জন নতুন রোগী ভর্তি হয়েছে এবং সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে ৯ শিশু। বর্তমানে হাম আইসোলেশন ওয়ার্ডে ৯৪ শিশু চিকিৎসা নিচ্ছে। চলতি বছরের ১৭ মার্চ থেকে ২৭ জুন পর্যন্ত হামের উপসর্গ নিয়ে মোট ২ হাজার ৩৭৮ শিশু হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। এর মধ্যে ২ হাজার ২২৬ জন সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছে। একই সময়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মোট ৫৮ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। হাসপাতালের জ্যেষ্ঠ স্টোর অফিসার ঝন্টু সরকার জানান, মার্চের মাঝামাঝি থেকে হামের উপসর্গ নিয়ে শিশু ভর্তি বাড়তে শুরু করে। রোগীদের চিকিৎসার জন্য হাসপাতালের পৃথক আইসোলেশন ওয়ার্ডে একাধিক মেডিকেল টিম সার্বক্ষণিক সেবা দিয়ে যাচ্ছে।