আন্তর্জাতিক

ইসরায়েলকে নিষেধাজ্ঞার হুমকি জেলেনস্কির

মারিয়া রহমান এপ্রিল ২৯, ২০২৬ 0
ভলোদিমির জেলেনস্কি। ফাইল ছবি: এপি
ভলোদিমির জেলেনস্কি। ফাইল ছবি: এপি

রুশ দখলকৃত ইউক্রেনীয় ভূখণ্ড থেকে রাশিয়া কর্তৃক ‘চুরি করা’ শস্য ইসরায়েলি বন্দরে প্রবেশের অনুমতি পাওয়ার অভিযোগ তুলে ইসরায়েলের ওপর ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। এই বাণিজ্যের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কিয়েভ নিষেধাজ্ঞা দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি। টাইমস অব ইসরায়েল এ খবর জানিয়েছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ দেওয়া এক পোস্টে জেলেনস্কি অভিযোগ করেন, এমন শস্য বহনকারী আরেকটি জাহাজ ইসরায়েলের একটি বন্দরে পৌঁছেছে এবং তা খালাসের প্রস্তুতি চলছে। তিনি লিখেছেন, কোন জাহাজ বন্দরে আসছে এবং তারা কী পণ্য বহন করছে, ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ সে বিষয়ে অবগত নয়, এমনটি হওয়ার সুযোগ নেই।


এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক টানাপোড়েন বেড়েছে। গত মঙ্গলবার ইউক্রেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্দ্রি সিবিহা ইসরায়েলের রাষ্ট্রদূতকে তলব করেছিলেন। ইসরায়েলের সংবাদপত্র হারেৎজর প্রতিবেদন অনুযায়ী, অধিকৃত এলাকা থেকে শস্য বহনকারী সন্দেহে প্যানোরমিটিস নামের একটি জাহাজ হাইফা বন্দরে নোঙরের অনুমতির অপেক্ষায় আছে। চলতি বছর এমন চারটি চালান ইতোমধ্যে ইসরায়েলে খালাস করা হয়েছে।

তবে ইউক্রেনের এসব অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে ইসরায়েল। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী গিডন সার ইউক্রেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে জানিয়েছেন, শস্য যে চুরি করা, সেটির কোনও প্রমাণ ইউক্রেন দিতে পারেনি। একই সঙ্গে তিনি কিয়েভের বিরুদ্ধে সংবাদমাধ্যমের মাধ্যমে কূটনীতি পরিচালনার অভিযোগ করেছেন।

জেলেনস্কির দাবি, রাশিয়া সুপরিকল্পিতভাবে ইউক্রেনের অধিকৃত অঞ্চল থেকে শস্য লুট করছে এবং তা ‘দখলদারদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের’ মাধ্যমে রফতানি করছে। তিনি বলেন, এই ধরনের ‘পরিকল্পনা’ ইসরায়েলি আইনের লঙ্ঘন। জেলেনস্কি জানান, এই চালানগুলো ঠেকাতে ইউক্রেন কূটনৈতিক পদক্ষেপ নিলেও এখনও এমন একটি জাহাজকে আটকানো সম্ভব হয়নি।

জেলেনস্কি আরও জানান, কিয়েভ এখন নিষেধাজ্ঞার প্যাকেজ তৈরির কাজ করছে। এই নিষেধাজ্ঞা মূলত ‘যারা সরাসরি এই শস্য পরিবহন করছে এবং যারা এই অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড থেকে লাভবান হওয়ার চেষ্টা করছে, এমন ব্যক্তি ও আইনি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে’ প্রয়োগ করা হবে।

তিনি আরও বলেন, নিষেধাজ্ঞা সম্প্রসারণের জন্য ইউক্রেন ইউরোপীয় অংশীদারদের সঙ্গে সমন্বয় করবে। গত রাতে ইউরোপীয় ইউনিয়নও একইভাবে ইসরায়েলে রাশিয়ার শস্যবাহী জাহাজ নোঙরের প্রতিবেদনের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের ওপর নিষেধাজ্ঞা দেওয়ার সতর্ক বার্তা দিয়েছে।

জেলেনস্কি লিখেছেন, ইউক্রেন প্রতিটি রাষ্ট্রের সঙ্গে অংশীদারত্ব ও পারস্পরিক শ্রদ্ধার সম্পর্ক বজায় রাখতে চায়। আমরা আশা করি ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ ইউক্রেনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হবে এবং আমাদের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক ক্ষুণ্ণ করে, এমন কাজ থেকে বিরত থাকবে।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

কৃষি ব্যাংকে ভুয়া সিবিএ নেতাদের কোটি টাকারও বেশি চাঁদাবাজি

অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।  

হালিম হত্যার আসামিরা পলাতক, ধামাচাপা দিচ্ছে প্রশাসন

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে সংঘটিত এজাহারভুক্ত হত্যা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ ও মিরাজ হোসেন পলাতক রয়েছেন। ব্যাংক প্রশাসন বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। খুনের শিকার কৃষি ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী আব্দুল হালিম ছিলেন কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) সভাপতি। তার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলায়। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি স্থানীয়ভাবে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ১ নম্বর আসামি হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত পিয়ন ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ এবং ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেনের নাম রয়েছে। তারা বর্তমানে নিজেদের সিবিএ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দাবি করে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে প্রভাব বিস্তার করছেন। ব্যাংক সূত্রে গেছে, তারা চাঁদাবাজি, ঘুষ আদায় ও নানা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। সূত্র জানায়, ব্যাংকের ভেতরে একটি সিন্ডিকেটের প্রভাবেই এসব আসামিরা এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন। এই সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে আছেন মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেন। এতে আরও যুক্ত রয়েছেন ডিজিএম সৈয়দ লিয়াকত হোসেন, হাবিব উন নবী, ডিএমডি খালেকুজ্জামান জুয়েল ও ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী। গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর রাতে মতিঝিলের বিমান অফিসের সামনে আব্দুল হালিমের মৃত্যু হয়। পরদিন সকালে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়। মতিঝিল থানার উপ-পরিদর্শক সজীব কুমার সিং সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে জানান, পুরনো সহকর্মীদের সঙ্গে বিরোধের জেরে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং রাত ১টা ৪০ মিনিটে হাসপাতালে মারা যান। হালিমের ছেলে ফয়সাল বলেন, তার বাবা ২০১৪ সাল থেকে কৃষি ব্যাংক সিবিএর সভাপতি ছিলেন এবং বোয়ালখালী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতেন। ইউনিয়নের নেতৃত্ব ও পদ নিয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে গত নভেম্বরেই মতিঝিল থানায় একটি জিডি (নং ০৫/১১/২০২৪ - ৩৩৫) করেছিলেন তার বাবা। তিনি আরও বলেন, বুধবার রাতে আমার বাবাকে তার অফিসের সহকর্মীরা মারধর করে হত্যা করেছে। সিবিএর বর্তমান সাধারণ সম্পাদক নাসিম আহমেদ জানান, ২০১৪ সালে আমরা নির্বাচিত হই। এরপর আর কোনো নির্বাচন হয়নি। কিন্তু গত ৫ আগস্ট বিনা নির্বাচনে নতুন কমিটি ঘোষণা করে আমাদের অফিস দখল করে নেয় ফয়েজ ও মিরাজ। এ নিয়ে মামলা চলছে। মামলার তথ্য অনুযায়ী, আসামিরা অস্থায়ী জামিনে ছিলেন। সম্প্রতি তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। এছাড়া আরও কয়েকজন পলাতক রয়েছেন—যাদের মধ্যে আছেন ড্রাইভার সাইফুল, শাহেদ, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মেহেদী ও অবসরপ্রাপ্ত ক্লিনার সিরাজ। এদিকে, মামলার ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেন নৈমিত্তিক ছুটির আবেদন করে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। যদিও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামির নৈমিত্তিক ছুটি পাওয়ার কোনো এখতিয়ার নেই। মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক এ বিষয়ে বলেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন এবং নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন।  কিন্তু স্থানীয় মুখ্য কার্যালয়ের প্রধান মহাব্যবস্থাপক জানান, তিনি কোনো মন্তব্য করতে চান না। কারণ ব্যবস্থাপনা পরিচালক মন্তব্য না করার নির্দেশ দিয়েছেন। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। অভ্যন্তরীণ এই পরিস্থিতিতে কৃষি ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

আন্তর্জাতিক

আরও দেখুন
মার্কিন নৌ-অবরোধের মেয়াদ আরও বাড়তে পারে

ইরানের বন্দরগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের নৌ-অবরোধ আরও দীর্ঘ হতে পারে—এমন খবরে বিশ্ববাজারে তেলের দাম আবার বাড়তে শুরু করেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার কর্মকর্তাদের এই অবরোধ চালিয়ে যাওয়ার প্রস্তুতি নিতে বলেছেন। দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানের অর্থনীতি ও তেল রপ্তানির ওপর চাপ ধরে রাখতে যুক্তরাষ্ট্র এই সিদ্ধান্ত নিতে পারে।   এই খবরে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বেড়েছে। ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম টানা কয়েকদিন ধরে বাড়ছে এবং এখন তা ব্যারেলপ্রতি প্রায় ১১১ ডলারের বেশি। একইভাবে ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) তেলের দামও ১০০ ডলারের ওপরে উঠে গেছে।   বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেল পরিবহন বাধাগ্রস্ত হওয়া এবং যুক্তরাষ্ট্রের কঠোর অবস্থানের কারণে বাজারে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। আর এই কারণেই তেলের দাম বাড়ছে।

আক্তারুজ্জামান এপ্রিল ২৯, ২০২৬ 0
ভলোদিমির জেলেনস্কি। ফাইল ছবি: এপি

ইসরায়েলকে নিষেধাজ্ঞার হুমকি জেলেনস্কির

ছবি : রয়টার্স

মার্কিন পাসপোর্টে ট্রাম্পের প্রতিকৃতি, ঘোষণা পররাষ্ট্র দপ্তরের

ছবি : সংগৃহীত

ইরানকে সহযোগিতার অভিযোগে ৩৫ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা

ছবি : সংগৃহীত
পশ্চিমবঙ্গে দ্বিতীয় দফার ভোট শুরু, মুখোমুখি মমতা-শুভেন্দু

ভারতের পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা নির্বাচনের দ্বিতীয় দফার ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে। এ ধাপে রাজ্যের রাজধানী কলকাতাসহ দক্ষিণবঙ্গের মোট ১৪২টি আসনে ভোট হচ্ছে।   এই দফার সবচেয়ে বড় আকর্ষণ হলো একই আসনে মুখোমুখি হয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং শুভেন্দু অধিকারী। আজকের ভোটেই তাদের রাজনৈতিক ভাগ্য অনেকটা নির্ধারণ হয়ে যাবে।   প্রথম দফার নির্বাচনে রেকর্ড ৯২ শতাংশ ভোটার উপস্থিতি দেখা যায়, যা রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণের প্রতিযোগিতা তৈরি করেছে। এখন নজর দ্বিতীয় দফার ফলাফলের দিকে।   দক্ষিণবঙ্গ ঐতিহ্যগতভাবে তৃণমূল কংগ্রেসের শক্ত ঘাঁটি। ২০২১ সালের নির্বাচনে এই অঞ্চলের ১৪২টি আসনের মধ্যে ১২৩টিই পেয়েছিল দলটি। বিজেপি পেয়েছিল ১৮টি এবং বামফ্রন্ট মাত্র ১টি আসন।   এবার সেই ঘাঁটি ভাঙাই বিজেপির বড় চ্যালেঞ্জ। দলটি চাকরি, অনুপ্রবেশ, দুর্নীতি ও নারীর নিরাপত্তার মতো ইস্যু সামনে এনে প্রচার চালাচ্ছে। প্রচারণায় অংশ নিয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিও।   অন্যদিকে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ‘বহিরাগত’ ইস্যু, রাজ্যের সংস্কৃতি ও উন্নয়ন তুলে ধরে ভোটারদের কাছে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। তবে ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ পড়ার অভিযোগও সামনে এসেছে, যা ফলাফলে প্রভাব ফেলতে পারে।   সবচেয়ে আলোচিত লড়াই হচ্ছে কলকাতার ভবানীপুর আসনে। এখানে সরাসরি প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন মমতা ও শুভেন্দু; যা পুরো নির্বাচনের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।   এ দফার অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছেন ফিরহাদ হাকিম, শশী পাঁজা, অরূপ বিশ্বাস, ব্রাত্য বসু, সুজিত বসু ও চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য। অন্যদিকে বিজেপির হয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন স্বপন দাশগুপ্ত, রূপা গাঙ্গুলিসহ আরও অনেকে।   পশ্চিমবঙ্গসহ অন্যান্য রাজ্যে অনুষ্ঠিত নির্বাচনের ভোট গণনা হবে আগামী ৪ মে।

মো: দেলোয়ার হোসাইন এপ্রিল ২৯, ২০২৬ 0
ছবি : সংগৃহীত

জার্মান চ্যান্সেলরকে কড়া ভাষায় আক্রমণ ট্রাম্পের

ট্রাম্পের সঙ্গে রাজা তৃতীয় চার্লস। ছবি : সংগৃহীত

ইরান প্রসঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রকে সমর্থন রাজা চার্লসের, বললেন ট্রাম্প

ছবি : সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের নতুন হামলায় কঠোর জবাবের হুঁশিয়ারি ইরানের

ছবি : সংগৃহীত
হরমুজকে রাজনৈতিক হাতিয়ার বানানো যাবে না : কাতার

হরমুজ প্রণালিকে রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার ‘অগ্রহণযোগ্য’ বলে মন্তব্য করেছে কাতার।   দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মাজেদ আল-আনসারি বলেছেন, কোনো আন্তর্জাতিক বিরোধে এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথকে দর কষাকষির মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করা ঠিক নয়।   তিনি জোর দিয়ে বলেন, হরমুজ প্রণালি সব দেশের জন্য উন্মুক্ত থাকা উচিত এবং দ্রুত এটি আবার চালু করা জরুরি। কারণ, প্রণালি বন্ধ থাকায় বিশ্বজুড়ে পণ্য সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে, বাড়ছে জ্বালানি সংকট ও খাদ্য অনিরাপত্তা।   আল-আনসারি জানান, প্রণালিতে ট্রানজিট ফি আরোপ করতে হলে তা আঞ্চলিক ঐক্যমতের ভিত্তিতে হতে হবে। পাশাপাশি ভবিষ্যতের যেকোনো চুক্তিতে আঞ্চলিক দেশগুলোর অংশগ্রহণ ও আন্তর্জাতিক নিশ্চয়তা থাকা দরকার।   তিনি আরও বলেন, কোনো একক দেশ বা শক্তি অন্যদের ওপর শর্ত চাপিয়ে এই জলপথ নিয়ন্ত্রণ করতে পারে না।   কাতারের এই কর্মকর্তা সতর্ক করে বলেন, হরমুজ বন্ধ রাখা আন্তর্জাতিক আইনের পরিপন্থি এবং এতে কোনো সমস্যার সমাধান হবে না। বরং এতে অঞ্চলের উত্তেজনা আরও বাড়বে।   উল্লেখ্য, ইরানকে ঘিরে চলমান সংঘাতের মধ্যে হরমুজ প্রণালি কার্যত বন্ধ রয়েছে, যার প্রভাব পড়ছে বৈশ্বিক বাণিজ্য ও জ্বালানি বাজারে।   সূত্র : রয়টার্স

মো: দেলোয়ার হোসাইন এপ্রিল ২৯, ২০২৬ 0
ছবি : সংগৃহীত

ইরানের প্রতিক্রিয়া নিয়ে ভাবছে যুক্তরাষ্ট্র

ছবি: সংগৃহীত

যুদ্ধবিরতির মধ্যে জনগণকে আশ্বস্ত করল ইরান সরকার, একাধিক খাতে বার্তা

ছবি: সংগৃহীত

ওপেক ছাড়ল আমিরাত, সৌদির সঙ্গে দূরত্ব আরও বাড়ার ইঙ্গিত

0 Comments