দেশের প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) আজ লেনদেনের পরিমাণ বাড়লেও অধিকাংশ শেয়ারের মূল্যহ্রাস পয়েছে।
ডিএসই সূত্রে জানা গেছে, আজ বাজারে মোট ৩৯৫টি কোম্পানির ৩৩ কোটি ৬৫ লাখ ৩৬ হাজার ৬৪৪টি শেয়ার ও মিউচুয়াল ফান্ড ইউনিটের লেনদেন হয়েছে। এতে মোট লেনদেনের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ২৬ কোটি ৭৩ লাখ ৯ হাজার টাকা।
বাজার বিশ্লেষণে দেখা যায়, ডিএসইর প্রধান মূল্যসূচক ডিএসইএক্স আগের কার্যদিবসের তুলনায় ৮ দশমিক ৩২ পয়েন্ট বেড়ে ৫ হাজার ৩০৮ দশমিক ৮৯ পয়েন্টে অবস্থান করছে।
তবে ডিএসই-৩০ সূচক ১ দশমিক ৩২ পয়েন্ট কমে ২ হাজার ১৬ দশমিক ৪২ পয়েন্টে ও ডিএসই শরিয়াহ সূচক ২ দশমিক ৪৮ পয়েন্ট কমে ১ হাজার ৫৪ দশমিক ১৯ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে।
লেনদেন হওয়া কোম্পানিগুলোর মধ্যে দর বেড়েছে ৯০টির, কমেছে ২৫১টির ও অপরিবর্তিত রয়েছে ৫৪টির শেয়ারদর।
লেনদেনের ভিত্তিতে শীর্ষ ১০ কোম্পানির মধ্যে রয়েছে— এনসিসি ব্যাংক, ক্রিস্টাল ইন্স্যুরেন্স, সিটি ব্যাংক, তৌফিকা ফুডস, সামিট অ্যালায়েন্স পোর্ট, এশিয়াটিক ল্যাব, ডমিনেজ স্টিল, একমি পেস্টিসাইডস, খান ব্রাদার্স পিপি ও জিকিউ বলপেন।
দর বৃদ্ধির শীর্ষ ১০ কোম্পানির মধ্যে রয়েছে— এনসিসি ব্যাংক, রিলায়েন্স ইন্স্যুরেন্স, এপেক্স ট্যানারি, সাউথইস্ট ব্যাংক, শেফার্ড ইন্ডাস্ট্রিজ, এপেক্স স্পিনিং, সমতা লেদার, ডাচ-বাংলা ব্যাংক, ইনডেক্স অ্যাগ্রো ও ঢাকা ব্যাংক।
অন্যদিকে দরপতনের শীর্ষ ১০ কোম্পানির মধ্যে রয়েছে— প্রিমিয়ার লিজিং, ফারইস্ট ফাইন্যান্স, এফএএস ফাইন্যান্স, আইএসএন লিমিটেড, হামিদ ফেব্রিক্স, একমি পেস্টিসাইডস, বিআইএফসি, আইবিএলএনআরবিএম, ফার কেমিক্যাল ও আমান ফিডস।
এ ছাড়া ক্যাটাগরি ভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, ‘এ’ ক্যাটাগরিতে লেনদেন হওয়া ২০৭টি কোম্পানির মধ্যে ৫৭টির দর বেড়েছে, ১১৬টির কমেছে ও ৩৪টির অপরিবর্তিত রয়েছে।
‘বি’ ক্যাটাগরির ৮১টি কোম্পানির মধ্যে ১৮টির দর বেড়েছে, ৬০টির কমেছে ও ৩টির অপরিবর্তিত রয়েছে।
‘জেড’ ক্যাটাগরিতে লেনদেন হওয়া ১০৭টি কোম্পানির মধ্যে ১৫টির দর বেড়েছে, ৭৫টির কমেছে ও ১৭টির অপরিবর্তিত রয়েছে।
‘এন’ ক্যাটাগরিতে কোনো লেনদেন হয়নি।
মিউচুয়াল ফান্ডের ক্ষেত্রে ৩৪টি ইস্যুর মধ্যে মাত্র ১টির দর বেড়েছে, ১৬টির কমেছে ও ১৭টির অপরিবর্তিত রয়েছে।
কর্পোরেট বন্ডের ৪টি ইস্যুর মধ্যে ১টি বেড়েছে, ১টি কমেছে ও ২টি অপরিবর্তিত রয়েছে।
সরকারি সিকিউরিটিজ (জি-সেক) খাতে ৫টি ইস্যুর মধ্যে ১টির দর বেড়েছে, ৩টির কমেছে ও ১টি অপরিবর্তিত রয়েছে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে সংঘটিত এজাহারভুক্ত হত্যা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ ও মিরাজ হোসেন পলাতক রয়েছেন। ব্যাংক প্রশাসন বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। খুনের শিকার কৃষি ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী আব্দুল হালিম ছিলেন কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) সভাপতি। তার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলায়। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি স্থানীয়ভাবে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ১ নম্বর আসামি হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত পিয়ন ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ এবং ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেনের নাম রয়েছে। তারা বর্তমানে নিজেদের সিবিএ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দাবি করে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে প্রভাব বিস্তার করছেন। ব্যাংক সূত্রে গেছে, তারা চাঁদাবাজি, ঘুষ আদায় ও নানা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। সূত্র জানায়, ব্যাংকের ভেতরে একটি সিন্ডিকেটের প্রভাবেই এসব আসামিরা এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন। এই সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে আছেন মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেন। এতে আরও যুক্ত রয়েছেন ডিজিএম সৈয়দ লিয়াকত হোসেন, হাবিব উন নবী, ডিএমডি খালেকুজ্জামান জুয়েল ও ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী। গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর রাতে মতিঝিলের বিমান অফিসের সামনে আব্দুল হালিমের মৃত্যু হয়। পরদিন সকালে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়। মতিঝিল থানার উপ-পরিদর্শক সজীব কুমার সিং সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে জানান, পুরনো সহকর্মীদের সঙ্গে বিরোধের জেরে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং রাত ১টা ৪০ মিনিটে হাসপাতালে মারা যান। হালিমের ছেলে ফয়সাল বলেন, তার বাবা ২০১৪ সাল থেকে কৃষি ব্যাংক সিবিএর সভাপতি ছিলেন এবং বোয়ালখালী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতেন। ইউনিয়নের নেতৃত্ব ও পদ নিয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে গত নভেম্বরেই মতিঝিল থানায় একটি জিডি (নং ০৫/১১/২০২৪ - ৩৩৫) করেছিলেন তার বাবা। তিনি আরও বলেন, বুধবার রাতে আমার বাবাকে তার অফিসের সহকর্মীরা মারধর করে হত্যা করেছে। সিবিএর বর্তমান সাধারণ সম্পাদক নাসিম আহমেদ জানান, ২০১৪ সালে আমরা নির্বাচিত হই। এরপর আর কোনো নির্বাচন হয়নি। কিন্তু গত ৫ আগস্ট বিনা নির্বাচনে নতুন কমিটি ঘোষণা করে আমাদের অফিস দখল করে নেয় ফয়েজ ও মিরাজ। এ নিয়ে মামলা চলছে। মামলার তথ্য অনুযায়ী, আসামিরা অস্থায়ী জামিনে ছিলেন। সম্প্রতি তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। এছাড়া আরও কয়েকজন পলাতক রয়েছেন—যাদের মধ্যে আছেন ড্রাইভার সাইফুল, শাহেদ, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মেহেদী ও অবসরপ্রাপ্ত ক্লিনার সিরাজ। এদিকে, মামলার ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেন নৈমিত্তিক ছুটির আবেদন করে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। যদিও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামির নৈমিত্তিক ছুটি পাওয়ার কোনো এখতিয়ার নেই। মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক এ বিষয়ে বলেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন এবং নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন। কিন্তু স্থানীয় মুখ্য কার্যালয়ের প্রধান মহাব্যবস্থাপক জানান, তিনি কোনো মন্তব্য করতে চান না। কারণ ব্যবস্থাপনা পরিচালক মন্তব্য না করার নির্দেশ দিয়েছেন। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। অভ্যন্তরীণ এই পরিস্থিতিতে কৃষি ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব আরও শক্তিশালী করতে রপ্তানি বহুমুখীকরণ, বাজারে প্রবেশাধিকার বৃদ্ধি ও বিনিয়োগ প্রবাহ জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন। আজ রাজধানীর একটি হোটেলে আমেরিকান চেম্বার অব কমার্স ইন বাংলাদেশ (অ্যামচ্যাম) আয়োজিত যুক্তরাষ্ট্র-বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব জোরদারকরণ শীর্ষক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। মন্ত্রী বলেন, যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান বাণিজ্য অংশীদার। দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ধারাবাহিকভাবে বৃদ্ধি পেলেও রপ্তানি খাতে এখনও একমুখী নির্ভরতা বিদ্যমান। তৈরি পোশাক খাতের ওপর অতিনির্ভরতা ঝুঁকিপূর্ণ, উল্লেখ করে তিনি রপ্তানি পণ্যে বৈচিত্র্য আনার ওপর জোর দেন। এ সময় বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, সরকার ইতোমধ্যেই ওষুধশিল্প, চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, কৃষিপণ্য, লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং ও তথ্যপ্রযুক্তি (আইসিটি) খাতকে অগ্রাধিকার দিয়ে রপ্তানি ভিত্তি সম্প্রসারণে কাজ করছে। তরুণ ও দক্ষ জনশক্তির কারণে আইসিটি খাতে বাংলাদেশ দ্রুত অগ্রসর হচ্ছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, এলডিসি থেকে উত্তরণের প্রাক্কালে উন্নত বাজারে প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ লক্ষ্যে বাংলাদেশ উত্তরণের সময়সীমা তিন বছর বাড়ানোর প্রস্তাব করেছে এবং ২০২৯ সালের নভেম্বরকে নতুন লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। একটি মসৃণ উত্তরণ নিশ্চিত করতে, তিনি যুক্তরাষ্ট্রের সহযোগিতা কামনা করেন। বিনিয়োগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, জ্বালানি খাতে যুক্তরাষ্ট্রের বিনিয়োগ ইতিবাচক ভূমিকা রাখলেও, সামগ্রিক সম্ভাবনার তুলনায় তা এখনও সীমিত। মন্ত্রী বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগে (এফডিআই) ওঠানামা বিনিয়োগকারীদের আস্থা আরও জোরদারের প্রয়োজনীয়তার ইঙ্গিত দেয়। প্রযুক্তি স্থানান্তর ও উদ্ভাবনের গুরুত্ব তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, ডিজিটাল রূপান্তর ও আইসিটি খাতে যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হতে পারে। বিশেষ করে আইসিটি, ফিনটেক, ই-কমার্স ও ডিজিটাল সেবায় সহযোগিতা বৃদ্ধির ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন অ্যামচ্যাম সভাপতি সৈয়দ এরশাদ আহমেদ। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বাংলাদেশে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন।
বিদেশি অবৈধ সিগারেটের বাজারে লাগাম টানতে সরকারের রাজস্ব দেওয়া দেশি কোম্পানির সিগারেটের প্যাকেটে ‘কিউআর বা এয়ার কোড’ থাকবে বলে জানিয়েছেন জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের-এনবিআর চেয়ারম্যান আবদুর রহমান খান। তার ভাষ্য, এই কিউআর বা এয়ার কোডের মাধ্যমে ভোক্তারা নিজেই যাচাই করতে পারবেন, এর থেকে সরকার কর বা রাজস্ব পেয়েছে কিনা। এ ক্ষেত্রে কর ফাঁকির ঘটনা ধরিয়ে দিলে সরকারের তরফে পুরস্কারের ব্যবস্থা রাখাও পরিকল্পনার কথা বলছেন এনবিআর চেয়ারম্যান। সোমবার (২৭ এপ্রিল) রাজধানীর আগারগাঁওয়ের রাজস্ব ভবনে তামাক খাতের সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে প্রাক-বাজেট আলোচনায় সরকারের এ পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন। আবদুর রহমান খান বলেন, আমরা মোটামুটি যেটা ঠিক করেছি, সেটা হচ্ছে যে প্রত্যেকটা সিগারেটের প্যাকেটে আমাদের স্ট্যাম্প যেটা আছে, এটাকে আরও শক্ত করব। এটার রঙ পরিবর্তন করব, এটার যে গ্লু টেকনোলজি আছে উঠিয়ে দেওয়া যায়, সেটা পরিবর্তন করব। এটার মধ্যে অটোমেটেড কিউআর কোড থাকবে বা এয়ার কোড আরও যা যা আছে (থাকবে)। যে কেউ ইচ্ছা করলে সেটি যাচাই করতে পারবে। যারা যাচাই করে কর ফাঁকির বিষয়টিতে আমাদের ‘জড়িত’ করবেন, উনাদের জন্য আমরা ‘বড়’ আকারের পুরস্কারের ব্যবস্থা করব। যারা এই কাজের (অবৈধ সিগারেট বাজারজাত) সঙ্গে যুক্ত হবে, তাদের শাস্তির ব্যবস্থা করব। ট্র্যাকের বাইরে কেউ থাকবে না। কারখানা থেকে একেবারে ওই কোড দিয়ে সব (সিগারেট) বের হবে। সিগারেটের ওপরে থাকা ৮৩ শতাংশ ভ্যাট, সম্পূরক শুল্ক এবং স্বাস্থ্য উন্নয়ন সারচার্জ আর না বাড়ানোর কথাও তিনি বলেন। তবে সিগারেটের দাম বাড়ানো হবে সেই ইঙ্গিত দিয়ে সেটি কীভাবে কত টাকা বাড়ানো যেতে পারে তা নিয়ে উৎপাদনকারী এবং এনবিআরের নীতি অনুবিভাগের একত্রে কাজ করার কথা বলেন এনবিআর চেয়ারম্যান। আলোচনায় সিগারেট উৎপাদনকারীদের তরফে বর্তমানে থাকা দামের ওপর ‘শতাংশের কর’ ব্যবস্থা থেকে সরে একটি ‘নির্দিষ্ট পরিমাণ’ কর বসানোর প্রস্তাব রাখা হয়।
অভ্যন্তরীণ সম্পদ আহরণ বাড়িয়ে জাতীয় বাজেটকে শক্ত ভিত্তির ওপর দাঁড় করানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী মো. জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি। তিনি বলেছেন, ঋণনির্ভরতা কমিয়ে দেশের প্রকৃত উন্নয়নের জন্য অভ্যন্তরীণ আয় বাড়ানো এবং তামাকের মতো জনস্বাস্থ্যবিরোধী পণ্যের ওপর কর ও মূল্য বৃদ্ধি করা সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার। একইসঙ্গে তামাক উৎপাদনকারী কৃষক ও শ্রমিকের অধিকার নিশ্চিত করে এই খাতের অবৈধ বাজার বন্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন। আজ রাজধানীর ইকোনমিক রিপোর্টার্স ফোরাম (ইআরএফ) মিলনায়তনে ‘জনস্বাস্থ্য রক্ষায় আসন্ন ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে তামাকপণ্যের কার্যকর কর ও মূল্য বৃদ্ধির প্রয়োজনীয়তা’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। ইআরএফ সভাপতি দৌলত আক্তার মালার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) প্রথম সচিব (মূসক নীতি) মো. মশিউর রহমান। প্রধান অতিথির বক্তব্যে জোনায়েদ সাকি বলেন, ‘আমাদের অর্থনীতির একটি বড় অংশ এখনো কর কাঠামোর বাইরে। এনবিআরে ডিজিটাইজেশনের নামে ৪০০ কোটি টাকা ব্যয় হলেও তা ঠিকমতো কাজ করছে না। বছরের পর বছর মেইনটেন্যান্সের জন্য টাকা দেওয়া হচ্ছে, যা আসলে রাষ্ট্রীয় সম্পদ আহরণের বদলে লুটপাটের প্রক্রিয়ায় পরিণত হয়েছে। এর ফলে কোনো প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা তৈরি হয়নি।’ তিনি আরো বলেন, ‘ঋণ করে এডিপি তৈরি করে প্রকৃত উন্নতি সম্ভব নয়। উন্নতির নামে ফ্যাসিজম কায়েম না করে আমাদের অভ্যন্তরীণ আয় বাড়িয়ে নিজের পায়ে দাঁড়াতে হবে। তামাকজাত পণ্যের ব্যবহার নিয়ন্ত্রণে ট্যাক্স এবং বেজ প্রাইজ (ভিত্তি মূল্য) এমন জায়গায় নেওয়া দরকার, যাতে এর ব্যবহার কমে। তবে, এটি করতে গিয়ে কৃষক ও শ্রমিকদের অধিকার যাতে ক্ষুণœ না হয়, সেদিকেও নজর দিতে হবে।’ তামাক চাষি ও বিড়ি শ্রমিকদের বঞ্চনার কথা উল্লেখ করে পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘তামাক উৎপাদনের প্রতিটি স্তরে শ্রমিক ও কৃষকরা আন্ডারপেইড। তাদের অধিকার কেড়ে নিয়ে পণ্যের দাম কম রেখে বাজার বিস্তৃত করার যে চেষ্টা তামাক কোম্পানিগুলো করে, সরকার তা নীতিগতভাবে বন্ধ করতে সচেতন। শ্রমিকদের ন্যায্য পাওনা নিশ্চিত করা হলে পণ্যের দাম এমনিতেই বাড়বে, যা পরোক্ষভাবে তামাকের ব্যবহার কমাতে সাহায্য করবে।’ তিনি জানান, ‘তামাক খাতের বড় একটি সমস্যা হলো অবৈধ ব্যান্ডরোল। বিদেশ থেকে নকল ব্যান্ডরোল ছাপিয়ে এনে ব্যবহার করা হচ্ছে, যার ফলে সরকার বিশাল অংকের রাজস্ব হারাচ্ছে। এই লিকেজ বন্ধে এনবিআর-কে বিশেষ মনিটরিং ব্যবস্থা গড়ে তোলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।’ সরকারের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরে জোনায়েদ সাকি বলেন, ‘আমরা একটি ট্রিলিয়ন ডলার অর্থনীতির লক্ষ্য নিয়ে এগোচ্ছি। তবে, তা সাধারণ মানুষকে শোষণ করে নয়, বরং তাদের অন্তর্ভুক্ত করে। সরকার সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীকে আরো কার্যকর করতে ‘ওয়ান সিটিজেন ওয়ান নাম্বার’ ব্যবস্থা চালু করতে যাচ্ছে।’ বিশেষ অতিথির বক্তব্যে মো. মশিউর রহমান বলেন, দেশে তামাকপণ্য তুলনামূলক সহজলভ্য ও সস্তা থাকায় জনস্বাস্থ্য ঝুঁকি বাড়ছে। তিনি জানান, ২০২৪ সালের কর পদক্ষেপের পর সিগারেটের সরবরাহ উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে, যা তামাক নিয়ন্ত্রণে ইতিবাচক অগ্রগতি। তিনি বলেন, খুচরা পর্যায়ে সিগারেট বিক্রি নিয়ন্ত্রণে লাইসেন্সিং ব্যবস্থা চালু করা জরুরি এবং ট্র্যাকিং অ্যান্ড ট্রেসিং ব্যবস্থাকে আরো কার্যকর করতে এনবিআর ও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। সেমিনারে অন্য বক্তারা বলেন, সরকারের নির্বাচনী অঙ্গীকার অনুযায়ী তামাক ও কার্বন কর থেকে রাজস্ব বাড়ানোর লক্ষ্য পূরণে বাজেটে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন। তারা তামাকপণ্যের কর কাঠামো সংস্কার এবং দাম বৃদ্ধির প্রস্তাব তুলে ধরেন।