সর্বশেষ

ইসলাম কি নারীকে ঘরে বন্দি রাখে? সত্যি কি তাই?

মোঃ ইমরান হোসেন নভেম্বর ২৬, ২০২৫

ইসলাম নারীর অগ্রযাত্রা রোধ করতে নয় তাকে আত্মমর্যাদার আলোয় পথ দেখাতে এসেছে। ইসলাম নারীকে অবমূল্যায়ন করতে নয়, বরং তার সম্মান, স্বাধীনতা ও নিরাপত্তা রক্ষার জন্যই বিধান দিয়েছে। বিধান অনুযায়ী নারীরা পর্দা, শালীনতা ও নিরাপত্তা বজায় রেখে শিক্ষা, কর্মক্ষেত্র, সমাজসেবা সব ক্ষেত্রেই অংশ নিতে পারে। নারী ও পুরুষ—দুজনের সামঞ্জস্যপূর্ণ অংশগ্রহণে সমাজ হয় পরিপূর্ণ, সুন্দর ও শক্তিশালী।

 

কিন্তু দুঃখজনকভাবে অনেকেই ইসলামের প্রকৃত শিক্ষা না জেনে বলে বেড়ান যে, ইসলাম নারীদের ঘরে বন্দি থাকতে বলে। অথচ সত্য হলো ইসলাম নারীর সম্ভাবনা বিকাশের পথ বন্ধ করেনি; বরং সুরক্ষিত, সম্মানজনক ও সুশৃঙ্খল পথে এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ দিয়েছে। নারীর মর্যাদা রক্ষার যে কাঠামো ইসলাম দিয়েছে, তা কোনো শৃঙ্খল নয় বরং এক আগলানো ভালোবাসা, নিরাপত্তা আর সম্মানের ছায়া। তাই প্রশ্ন ওঠে ইসলাম কি সত্যিই নারীকে ঘরে বন্দি থাকতে বলে?

উত্তর হলো ‘না’, ইসলাম নারীকে বন্দি করে না; বরং তাকে সম্মানিত, মর্যাদাবান ও সুরক্ষিত হওয়ার পূর্ণ অধিকার দেয়। বরং নারীর নিরাপত্তার বিষয়টি চিন্তা করেই মহান আল্লাহ ঘরের বাইরে যাওয়ার দিকনির্দেশনা এভাবে দেন—

یٰۤاَیُّهَا النَّبِیُّ قُلۡ لِّاَزۡوَاجِکَ وَ بَنٰتِکَ وَ نِسَآءِ الۡمُؤۡمِنِیۡنَ یُدۡنِیۡنَ عَلَیۡهِنَّ مِنۡ جَلَابِیۡبِهِنَّ ؕ ذٰلِکَ اَدۡنٰۤی اَنۡ یُّعۡرَفۡنَ فَلَا یُؤۡذَیۡنَ ؕ وَ کَانَ اللّٰهُ غَفُوۡرًا رَّحِیۡمًا
‘হে নবী! আপনি আপনার স্ত্রীদের, মেয়েদের ও বিশ্বাসীদের নারীদের বলুন, তারা যেন তাদের চাদরের কিয়দাংশ নিজেদের (মুখমন্ডলের) উপর টেনে দেয়। এতে তাদেরকে (বিশ্বাসী নারী হিসেবে) চেনা সহজতর হবে, তাহলে তাদেরকে অহেতুক উত্যক্ত করা হবে না। আর আল্লাহ ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।’ (সুরা আহজাব: আয়াত ৫৯)

নারীর আল্লাহর বিধান মেনে ঘরের বাইরে যেতে পারবে। ইসলাম নারীকে সব সময় ঘরে আবদ্ধ হয়ে থাকতে বলে না। বরং নিয়ম মেনে ঘরের বাইরে যাওয়ার দিকনির্দেশ দেয়। ঘরের বাইরে যাওয়া কিংবা কোনো কাজে অংশগ্রহণ করা নারীর জন্য নিষিদ্ধ নয়। এতে ইসলামের কোনো নিষেধাজ্ঞা নেই। এ সম্পর্কে হাদিসে পাকে রয়েছে সুস্পষ্ট দিকনির্দেশনা—

> হজরত আয়েশা (রা.) বর্ণনা করেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন-
إِنَّهُ قَدْ أُذِنَ لَكُنَّ أَنْ تَخْرُجْنَ لِحَاجَتِكُنَّ
‘অবশ্যই প্রয়োজনে তোমাদের (নারীদের) বাইরে যাওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়েছে।’ (বুখারি ৪৭৯৫)

 হাদিসের প্রেক্ষাপট 
হজর ওমর (রা.) রাতের বেলা এক নারীকে প্রয়োজনীয় কাজ করতে বের হতে দেখে কিছু বলেছিলেন। তখন ঐ নারী বিষয়টি রাসুল (সা.) কে জানালে তিনি এ হাদিসটি বর্ণনা করেন। এটি নারীর চলাফেরা সম্পর্কে ইসলামের সবচেয়ে শক্তিশালী দলিলগুলোর একটি।

তবে বাইরে যাওয়ার ক্ষেত্রে যদি দূরের কোনো গন্তব্যে যেতে হয় তবে তাদের নিরাপত্তার কথা ভেবে একজন মাহরামের সঙ্গে যাওয়ার দিকনির্দেশনা দেয় ইসলাম। কারণ দূরযাত্রায় কোনো পুরুষ অভিভাবক না থাকলে যে কোনো নারীর জন্যই এ ভ্রমণ বিপজ্জনক হতে পারে। এ সম্পর্কেও হাদিসে পাকে এসেছে—

> হজরত ইবনে আব্বাস (রা.) বর্ণনা করেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, মাহরামের উপস্থিতি ছাড়া কোনো পুরুষ কোনো নারীর সঙ্গে দেখা-সাক্ষাৎ করতে পারবে না। (এ সময়) এক ব্যক্তি দাঁড়িয়ে জিজ্ঞাসা করলেন- ইয়া রাসূলুল্লাহ! আমার স্ত্রী হজে বেরিয়ে গেছে। আর (নির্ধারিত কিছু) জিহাদে অংশগ্রহণের জন্য আমার নাম তালিকাভূক্ত করা হয়েছে। এ কথা শুনে নবী (সা.) নির্দেশ দিলেন, ‘ফিরে যাও এবং স্ত্রীর সঙ্গে হজ সমাপন কর।’ (বুখারি)

এ হাদিস থেকে বুঝায়, দূরের কোনো সফর হলে নারী সঙ্গে একজন মাহরাম পুরুষ সঙ্গী থাকা আবশ্যক। যে কারণে রাসুলুল্লাহ (সা.) জিহাদে অংশগ্রহণে নাম লেখানো সাহাবিকেও এ মর্মে অব্যহতি দিয়েছেন যে, হজের দূরের সফরে যেন নারীকে (স্ত্রীকে) সঙ্গ দিতে পারে। এখানে নারীর নিরাপত্তার বিষয়টি দেখা হয়েছে।

ফিকহি ব্যাখ্যা ও মতামত

১. নারীর বাইরে যাওয়া বৈধ, যদি —

> শালীনতা বজায় থাকে
অপ্রয়োজনীয় মেলামেশা না হয়
নিরাপত্তা থাকে
উদ্দেশ্য বৈধ হয়
পোশাক পর্দাশীল হয়

২. ‘হাজাহ’ (প্রয়োজন) কী কী?
ফিকহবিদদের মতে—

> চিকিৎসা
শিক্ষা
বাজার করা
আত্মীয়-স্বজন দেখা
কর্মসংস্থান (শরয়ি শর্ত পূরণে)
সাক্ষ্য প্রদান
সামাজিক দায়িত্ব পালন সবই প্রয়োজনের অন্তর্ভুক্ত।

৩. হাদিসটি নারীর ঘরে বন্দিত্বের ধারণাকে বাতিল করে
ইসলাম নারীর চলাফেরা নিষিদ্ধ করেনি; বরং শালীনতা ও নিরাপত্তার কাঠামোর মধ্যে অনুমতি দিয়েছে।

৪. এটি নারীর সম্মান রক্ষার দলীল
ইসলাম নারীর চলাফেরাকে সীমাবদ্ধ করে না বরং সুরক্ষিত, দায়িত্বশীলভাবে চলতে শেখায়।

৫. হাদিস থেকে শিক্ষণীয় বিষয়

> নারীর বাইরে যাওয়া স্বাভাবিক ও অনুমোদিত
ইসলাম নারীর ক্ষমতায়নকে স্বীকৃতি দেয়
পর্দা ও শালীনতা নারীর অগ্রগতির প্রতিদ্বন্দ্বী নয়
নারীর স্বাধীনতা ইসলামের কাঠামোর মধ্যেই নিরাপদ

সুতরাং ইসলাম নারীকে ঘরে বন্দি করে রাখার কোনো মতবাদ প্রচার করে না এ কথা দৃঢ়ভাবে বলা যায়। বরং ইসলাম নারীর সম্মান, নিরাপত্তা এবং মর্যাদা নিশ্চিত করে তাকে জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে অংশগ্রহণের সুযোগ দিয়েছে। নারী যেন নিজের ব্যক্তিত্ব, আস্থা ও সম্ভাবনা নিয়ে সমাজে অবদান রাখতে পারে ইসলাম সেই পথটিই পরিষ্কার করে দিয়েছে।

 

যারা না বুঝে বলে বেড়ান যে ইসলাম নারীকে ঘরে আটকে রাখে তারা ইসলামের প্রকৃত সৌন্দর্য থেকে অনেক দূরে। কারণ ইসলাম নারীকে বাঁধে না, বরং তাকে সুরক্ষার আলোয় ঢেকে রাখে, সম্মানের আসন দেয় এবং দায়িত্বশীলভাবে এগিয়ে যাওয়ার শক্তি দেয়।

অতএব, সত্যটি এটাই ইসলাম নারীর চলার পথ বন্ধ করে না, বরং তার মর্যাদা রক্ষার শর্তসাপেক্ষে পথকে আরো নিরাপদ, সুন্দর ও আলোকিত করে তোলে।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

কৃষি ব্যাংকে ভুয়া সিবিএ নেতাদের কোটি টাকারও বেশি চাঁদাবাজি

অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।  

সর্বশেষ

আরও দেখুন
ছবি: সংগৃহীত
অভিযুক্ত বিচারকদের সম্পদ প্রকাশে সুপ্রিম কোর্টের আপত্তি

গ্রহণযোগ্য ব্যাখ্যা ছাড়া আদালতের অপারগতা ন্যায়বিচার ও আদালতের মৌলিক নীতি ও চেতনার সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ হিসেবে বিবেচিত হবে। দুর্নীতি-অনিয়মের জবাবদিহি ও ন্যায়বিচারের চূড়ান্ত রক্ষক এবং আশ্রয়স্থল হিসেবে এ ধরনের স্ববিরোধী অবস্থান একদিকে যেমন বিব্রতকর ও আত্মঘাতী, অন্যদিকে দুর্নীতির সহায়ক   ড. ইফতেখারুজ্জামান নির্বাহী পরিচালক, টিআইবি   এ ধরনের চিঠির বৈধতা নিয়ে হাইকোর্টের রায় আছে। ওটা সংবিধানের ১১১ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী আইন। যতক্ষণ না রায়টা আপিল বিভাগ অকার্যকর করবে, সবাই তা মানতে বাধ্য। এ ধরনের তথ্য সুপ্রিম কোর্ট কর্তৃপক্ষ দিতে বাধ্য। না দিলে যে কেউ চ্যালেঞ্জ করতে পারবে। চ্যালেঞ্জ করলে সুপ্রিম কোর্টের নতুন চিঠিও অবৈধ হবে   মো. বদিউজ্জামান তপাদার সাবেক ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল   বিচার বিভাগে ঘুষ ও দুর্নীতির অভিযোগ নতুন কিছু নয়। কিন্তু অধিকাংশ ক্ষেত্রেই এসব অভিযোগের কোনো শেষ পরিণতি দেখা যায় না। সুনির্দিষ্ট তথ্য-প্রমাণের অভাবে একসময় বাতাসে ভেসে বেড়ানো এসব অভিযোগ বাতাসেই মিলিয়ে যায়। তবে চব্বিশের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে দেশের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর, দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) কাছে অর্ধশত বিচারকের বিরুদ্ধে দুর্নীতির সুনির্দিষ্ট অভিযোগ জমা পড়ে। এর মধ্যে অন্তত ১৫ জন বিচারকের সম্পদের বিবরণী চেয়ে গত বছর এপ্রিলে আইন ও বিচার বিভাগের সচিবের কাছে চিঠি পাঠায় দুদক।   আইন অনুযায়ী, সুপ্রিম কোর্টের সঙ্গে পরামর্শ করে বিচারকদের বিষয়ে যে কোনো সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করে থাকে সরকারের আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয়। যথারীতি এ সম্পদ বিবরণীর তথ্য প্রেরণে সুপ্রিম কোর্টের পরামর্শ চাওয়া হয় সরকারের পক্ষ থেকে। তবে গত এপ্রিলে সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসন এক সিদ্ধান্তে অভিযুক্ত বিচারকদের সম্পদের হিসাব বিবরণী দুদকে পাঠাতে সরকারের সিদ্ধান্তের সঙ্গে একমত পোষণ করেনি বলে জানিয়ে দিয়েছে। ফলে অভিযুক্ত বিচারকদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগের তদন্ত এক ধরনের অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।   সংশ্লিষ্টরা বলছেন, কোনো বিচারকের বিরুদ্ধে ঘুষ-দুর্নীতির অভিযোগ উঠলে তার অনুসন্ধান ও তদন্ত দুদক করতে পারে। সেই কাজে দুদক যে কোনো কর্তৃপক্ষের সহযোগিতা চাইতে পারে। দুদক আইন ২০২৪ এর ১৯ (১) ও ১৯ (২) ধারা অনুযায়ী তথ্য সরবরাহে বাধ্যবাধকতার বিষয় উল্লেখ আছে।   এর আগে ২০১৭ সালের ২ মার্চ আপিল বিভাগের সাবেক বিচারপতি জয়নুল আবেদীনের বিরুদ্ধে বিদেশে অর্থ পাচারের অভিযোগ তুলে তার বিরুদ্ধে অনুসন্ধানের অংশ হিসেবে সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসনের কাছে কাগজপত্র চেয়ে চিঠি দেয় দুদক। পরে সুপ্রিম কোর্টের চিঠি নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয় এবং হাইকোর্ট বিষয়টি নিয়ে রায় দেন।   হাইকোর্টের ওই রায়ে বলা হয়, সুপ্রিম কোর্টের চিঠি প্রশাসনিক যোগাযোগ মাত্র; এটিকে আনুষ্ঠানিক মতামত হিসেবে গণ্য করা যাবে না। রায়ে আরও বলা হয়, বিচার বিভাগের মর্যাদা অক্ষুণ্ণ রেখে তদন্ত পরিচালনা করতে হবে এবং কাউকে অযথা হয়রানি করা যাবে না।   এরপর ওই রায়ের আলোকে বিভিন্ন সাবেক বিচারপতির বিরুদ্ধে দুদক অনুসন্ধান ও মামলা করে। এ অবস্থায় আবারও বিচারকদের সম্পদ তথ্য না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে।   এ ব্যাপারে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, আইনসম্মতভাবে দুদক তথ্য চাইলে তা দেওয়া উচিত। গ্রহণযোগ্য ব্যাখ্যা ছাড়া অপারগতা ন্যায়বিচারের নীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক।   দুদকের সাবেক মহাপরিচালক মঈদুল ইসলাম বলেন, যে কোনো সংস্থার কাছ থেকেই দুদক তথ্য চাইতে পারে এবং তা দেওয়া বাধ্যতামূলক। তথ্য না দিলে তদন্ত নিজস্বভাবে এগিয়ে নিতে পারে দুদক।   সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মো. বদিউজ্জামান তপাদার বলেন, হাইকোর্টের রায় অনুযায়ী প্রশাসনিক আদেশে তথ্য দেওয়ার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। তা অমান্য করা হলে চ্যালেঞ্জের সুযোগ আছে এবং আইনগতভাবে তা প্রশ্নবিদ্ধ হবে।   দুদকের পক্ষ থেকে বিভিন্ন বিচারকের ব্যক্তিগত নথি ও সম্পদের বিবরণী চেয়ে চিঠি পাঠানো হলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অবস্থান নিয়ে এখনো সমাধান হয়নি।

মো: দেলোয়ার হোসাইন জুন ২৪, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় সিমেন্টবোঝাই ট্রাক খাদে, নিহত ১

ছবি: সংগৃহীত

গাইবান্ধায় শিবির নেতা হত্যাকাণ্ডে ২১ জনের বিরুদ্ধে মামলা

ছবি: সংগৃহীত

নোয়াখালীর কবিরহাটে সড়ক দুর্ঘটনায় দুই মোটরসাইকেল আরোহীর মৃত্যু

ছবি: সংগৃহীত
মাত্র ১০ হাজার টাকা দিয়ে ব্যবসা শুরু, এখন কয়েক হাজার কোটির মালিক শশী

অনন্যা সরকার, কলকাতা: ভারতে এমন অনেক মহিলা আছেন যারা শূন্য থেকে শুরু করে সাফল্যের শিখরে পৌঁছেছেন কঠোর পরিশ্রম ও অধ্যাবসায়ের জোরে (Success Story)। তাদের কাহিনী মানুষকে অনুপ্রেরণা যোগায়, বড় কিছু করার সাহস দেয়। এমনই একটি গল্প হল শশী সোনির। তিনি ১৯৭১ সালে মাত্র ১০,০০০ টাকা পুঁজি নিয়ে ‘দীপ ট্রান্সপোর্ট’ (Deep Transport) প্রতিষ্ঠা করে তার ব্যবসায়িক জীবনের সূচনা করেন। সফলভাবে এই ব্যবসাটি চালানোর কয়েক বছর পর তিনি মুম্বাইয়ে ‘দীপ মন্দির সিনেমা’ (Deep Mandir Cinema) নামের প্রেক্ষাগৃহটি চালু করে চলচ্চিত্র জগতে পা রাখেন। ধীরে ধীরে একাধিক ইন্ডাস্ট্রিতে নিজের নাম প্রতিষ্ঠা করতে শুরু করেন শশী সোনি। আজ তিনি কয়েক হাজার কোটি টাকার ব্যবসায়িক সাম্রাজ্যের মালিক। আসুন তার সাফল্যের কাহিনীটি (Success Story of Shashi Soni) জেনে নেওয়া যাক।    সামান্য পুঁজি দিয়ে ব্যবসার শুরু মাত্র ১০,০০০ টাকা দিয়ে দীপ ট্রান্সপোর্ট প্রতিষ্ঠা করার পর ব্যবসা ভালই চলছিল। তবে শশী সোনি অন্য ক্ষেত্রে ব্যবসা প্রসার করার সিদ্ধান্ত নেন। তিনি ১৯৭৫ সালে মুম্বাইয়ের মুলুন্দ এলাকায় তৈরি করেন ‘দীপ মন্দির সিনেমা’। ১৯৮০ সাল পর্যন্ত চলচ্চিত্র শিল্পে শশীর ব্যবসা বেশ সমৃদ্ধশালী হয়ে ওঠে। তবে এরপর থেকেই নানা প্রতিবন্ধকতা দেখা দিতে শুরু করে। তখন শশী মহীশূরে অক্সিজেন প্রাইভেট লিমিটেড নামে একটি গ্যাস উৎপাদন কারখানা প্রতিষ্ঠা করেন। ধীরে ধীরে তিনি প্রযুক্তিগত ক্ষেত্রেও তার কাজ প্রসারিত করতে থাকেন।   ২০০৫ সালে শশী ‘ইজমো লিমিটেড’ (IZMO Ltd) নামে একটি সফটওয়্যার কোম্পানি শুরু করেন, যেটিকে ‘ইজমো’ ব্র্যান্ড নামে পরিচালনা করা হত। মহীশূর-ভিত্তিক এই কোম্পানিটি সারা বিশ্বে উচ্চ প্রযুক্তির অটোমোটিভ এবং ই-রিটেইলিং সার্ভিস অফার করে থাকে। বর্তমানে শশী সোনি এই সংস্থার চেয়ারপার্সন পদে দায়িত্বপালন করছেন। ২০২৪ সালে তার নেটওয়ার্থ ছিল ৫০০ মিলিয়ন ডলার, যা বর্তমানে প্রায় ৪,৭০০ হাজার কোটি টাকার সমতুল্য।    তবে শুধু সফল ব্যবসায়ীই নয়, সমাজসেবী হিসেবেও শশী সোনি অনেক উল্লেখযোগ্য কর্মসূচির সাথে জড়িত। তিনি ‘দীপ জনসেবা সমিতি’র বানিয়েছেন, যা কর্মসংস্থান থেকে পেনশন প্রকল্প, নারী শিক্ষা ও প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য ফান্ডিং জোগাড় করে।   ব্যবসা এবং সমাজকল্যাণ – উভয় ক্ষেত্রেই নিজেকে সসম্মানে প্রতিষ্ঠিত করার জন্য ভারত সরকারের তরফে শশী সোনিকে পদ্মশ্রী পুরস্কারে ভূষিত করা হয়েছে। ১৯৯০ সালে তিনি ভারতীয় শিল্পে তার উল্লেখযোগ্য অবদানের জন্য ‘ওম্যান অফ দ্য ইয়ার’ পুরস্কারও লাভ করেন। বর্তমানে শশী সোনি ‘অল ইন্ডিয়া ইন্ডাস্ট্রিয়াল গ্যাস ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশন’ (AIIGMA)-এর কমিটিরও একজন সদস্য। এছাড়াও তিনি ‘ডিরেক্টরেট অফ টেকনিক্যাল ডেভেলপমেন্ট’-এরও একটি গুরুত্বপূর্ণ পদে আসীন রয়েছেন।

মো: দেলোয়ার হোসাইন জুন ২৩, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

কঠিন কাজের আগে মস্তিষ্ককে প্রস্তুত করবেন যেভাবে

মঙ্গলগ্রহের উল্কাপিণ্ডে চমক, মিলল বিরল খনিজের সন্ধান

ছবি: সংগৃহীত

সংসদে এমপিদের বেফাঁস মন্তব্যের প্রতিযোগিতা

শেয়ারবাজারের বিশেষ ট্রাইব্যুনালের নতুন বিচারক সাব্বির ফয়েজ

  শেয়ারবাজার সংক্রান্ত মামলা দ্রুত নিষ্পত্তির লক্ষ্যে গঠিত বিশেষ ট্রাইব্যুনালের নতুন বিচারক হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন মো. সাব্বির ফয়েজ। বিচারক আফিয়া বেগমের স্থলে যোগদান করবেন তিনি।    রোববার (২১ জুন) আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপ-সচিব (প্রশাসন-১) মো. মাসুম বিল্লাহ স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে বিচারক বদলির এ তথ্য প্রকাশ করা হয়।   সাব্বির ফয়েজ শেয়ারবাজার বিশেষ ট্রাইব্যুনালের ষষ্ঠ বিচারক। এর আগে ঢাকা মহানগর দায়রা জজ হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন তিনি।   আদালতের সূত্র বলছে, আগামী ২৪ জুন থেকে রাজধানীর পুরানা পল্টনে হাউস বিল্ডিং ফাইন্যান্স কর্পোরেশন ভবনে শেয়ারবাজার বিশেষ ট্রাইব্যুনালে আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব নেবেন নতুন বিচারক মো. সাব্বির ফয়েজ। তিন বছরের জন্য এ আদালতে বিচার কাজ পরিচালনার জন্য দায়িত্ব পেয়েছেন তিনি।   এদিকে আফিয়া বেগমকে বদলি করে মানিকগঞ্জ পারিবারিক আপিল ট্রাইব্যুনালের বিচারক হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।   প্রসঙ্গত, ২০১০ সালে শেয়ারবাজার ধসের পর পৃথক বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়। এরই ধারাবাহিকতায় ২০১৫ সালের ২১ জুন এ ট্রাইব্যুনালের প্রথম বিচারিক কার্যক্রম শুরু হয়। এ বিশেষ ট্রাইব্যুনালের প্রথম বিচারক হিসেবে নিয়োগ পেয়েছিলেন মো. হুমায়ুন কবির। তারপর ধারাবাহিকভাবে বিচারক হিসেবে মো. আকবর আলী শেখ, রৌশন জাহান, এ কে এম শহিদুল ইসলাম ও আফিয়া বেগমকে নিয়োগ দেয় সরকার।

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি জুন ২২, ২০২৬

পুকুরে অজু করার সময় বজ্রাঘাত, ৬ জনের মৃত্যু

জাইমা রহমানকে নিয়ে ফেসবুকে ‘আপত্তিকর পোস্ট’, থানায় অভিযোগ দায়ের

ছবি: সংগৃহীত

আজ বছরের দীর্ঘতম দিন আর সবচেয়ে ছোট রাত, কিন্তু কেন

0 Comments