যুক্তরাষ্ট্র বলছে, দীর্ঘমেয়াদি সংঘাত চালিয়ে যাওয়ার সামর্থ্য তাদের আছে। তবে ইসরায়েলের ক্ষেত্রে চিত্র ভিন্ন। গাজা, লেবানন ও সিরিয়ায় ধারাবাহিক সামরিক তৎপরতার পর ইরানের সঙ্গে নতুন করে সংঘাতে জড়ানোয় দেশটির সামরিক ও অর্থনৈতিক চাপ বেড়েছে। আলজাজিরার এক বিশ্লেষণে এমনটি উঠে এসেছে।
ইরানে হামলার পর থেকে ইসরায়েল নিয়মিত ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন আক্রমণের মুখে পড়ছে। তেলআবিব ও হাইফার মতো শহরে সতর্কতা জারি, স্কুল বন্ধ এবং হাজারো রিজার্ভ সেনা তলব করা হয়েছে। সাধারণ মানুষকে বারবার বাংকারে আশ্রয় নিতে হচ্ছে। শুরুতে যুদ্ধের প্রতি জনসমর্থন দেখা গেলেও দীর্ঘায়িত হলে সামাজিক ও অর্থনৈতিক প্রভাব বাড়তে পারে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা।
তেলআবিব বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ড্যানিয়েল বার-তাল বলেন, ইসরায়েলি সমাজে ইরানকে দীর্ঘদিন ধরে প্রধান শত্রু হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে, ফলে যুদ্ধকে অনেকেই অস্তিত্বের লড়াই হিসেবে দেখছেন। অন্যদিকে অর্থনীতিবিদ শির হেভার মনে করেন, রাজনৈতিক মেরুকরণ ও সামরিক মনোভাব এখন আরও জোরদার হয়েছে।
সামরিক দিক থেকে বড় প্রশ্ন হলো, ইসরায়েল কত দিন উচ্চমাত্রার আকাশ প্রতিরক্ষা বজায় রাখতে পারবে। দেশটির তিন স্তরের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা নিয়মিত ইন্টারসেপ্টর ব্যবহার করছে। প্রতিটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ঠেকাতে আলাদা প্রতিরোধী রকেট লাগে, যা ব্যয়বহুল এবং মজুত সীমিত।
Error!: SQLSTATE[42S22]: Column not found: 1054 Unknown column 's' in 'where clause'
প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক হামজে আত্তার বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তা ছাড়া দীর্ঘমেয়াদি প্রতিরক্ষা টিকিয়ে রাখা কঠিন হতে পারে। তার মতে, ইরান যদি ধারাবাহিকভাবে ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন ও ছোড়া অব্যাহত রাখে, তাহলে ইসরায়েলকে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা রক্ষায় অগ্রাধিকার দিতে হতে পারে, যা বেসামরিক ঝুঁকি বাড়াতে পারে।
সব মিলিয়ে, যুদ্ধ কত দিন চলবে তা নির্ভর করছে ইসরায়েলের সামরিক সক্ষমতা, যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তা এবং ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র মজুত ও লঞ্চার সক্ষমতার ওপর। দীর্ঘ সংঘাত ইসরায়েলের জন্য কৌশলগত ও অর্থনৈতিকভাবে কঠিন চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে সংঘটিত এজাহারভুক্ত হত্যা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ ও মিরাজ হোসেন পলাতক রয়েছেন। ব্যাংক প্রশাসন বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। খুনের শিকার কৃষি ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী আব্দুল হালিম ছিলেন কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) সভাপতি। তার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলায়। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি স্থানীয়ভাবে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ১ নম্বর আসামি হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত পিয়ন ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ এবং ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেনের নাম রয়েছে। তারা বর্তমানে নিজেদের সিবিএ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দাবি করে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে প্রভাব বিস্তার করছেন। ব্যাংক সূত্রে গেছে, তারা চাঁদাবাজি, ঘুষ আদায় ও নানা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। সূত্র জানায়, ব্যাংকের ভেতরে একটি সিন্ডিকেটের প্রভাবেই এসব আসামিরা এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন। এই সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে আছেন মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেন। এতে আরও যুক্ত রয়েছেন ডিজিএম সৈয়দ লিয়াকত হোসেন, হাবিব উন নবী, ডিএমডি খালেকুজ্জামান জুয়েল ও ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী। গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর রাতে মতিঝিলের বিমান অফিসের সামনে আব্দুল হালিমের মৃত্যু হয়। পরদিন সকালে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়। মতিঝিল থানার উপ-পরিদর্শক সজীব কুমার সিং সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে জানান, পুরনো সহকর্মীদের সঙ্গে বিরোধের জেরে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং রাত ১টা ৪০ মিনিটে হাসপাতালে মারা যান। হালিমের ছেলে ফয়সাল বলেন, তার বাবা ২০১৪ সাল থেকে কৃষি ব্যাংক সিবিএর সভাপতি ছিলেন এবং বোয়ালখালী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতেন। ইউনিয়নের নেতৃত্ব ও পদ নিয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে গত নভেম্বরেই মতিঝিল থানায় একটি জিডি (নং ০৫/১১/২০২৪ - ৩৩৫) করেছিলেন তার বাবা। তিনি আরও বলেন, বুধবার রাতে আমার বাবাকে তার অফিসের সহকর্মীরা মারধর করে হত্যা করেছে। সিবিএর বর্তমান সাধারণ সম্পাদক নাসিম আহমেদ জানান, ২০১৪ সালে আমরা নির্বাচিত হই। এরপর আর কোনো নির্বাচন হয়নি। কিন্তু গত ৫ আগস্ট বিনা নির্বাচনে নতুন কমিটি ঘোষণা করে আমাদের অফিস দখল করে নেয় ফয়েজ ও মিরাজ। এ নিয়ে মামলা চলছে। মামলার তথ্য অনুযায়ী, আসামিরা অস্থায়ী জামিনে ছিলেন। সম্প্রতি তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। এছাড়া আরও কয়েকজন পলাতক রয়েছেন—যাদের মধ্যে আছেন ড্রাইভার সাইফুল, শাহেদ, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মেহেদী ও অবসরপ্রাপ্ত ক্লিনার সিরাজ। এদিকে, মামলার ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেন নৈমিত্তিক ছুটির আবেদন করে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। যদিও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামির নৈমিত্তিক ছুটি পাওয়ার কোনো এখতিয়ার নেই। মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক এ বিষয়ে বলেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন এবং নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন। কিন্তু স্থানীয় মুখ্য কার্যালয়ের প্রধান মহাব্যবস্থাপক জানান, তিনি কোনো মন্তব্য করতে চান না। কারণ ব্যবস্থাপনা পরিচালক মন্তব্য না করার নির্দেশ দিয়েছেন। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। অভ্যন্তরীণ এই পরিস্থিতিতে কৃষি ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
পাকিস্তানের ইসলামাবাদে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মুখোমুখি আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার কয়েক ঘণ্টার মাথায় নতুন করে হুঁশিয়ারি বার্তা দিয়েছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। রোববার (১২ এপ্রিল) ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প বলেছেন, ওয়াশিংটন বর্তমানে লকড অ্যান্ড লোডেড (পুরোপুরি প্রস্তুত) অবস্থায় রয়েছে। আমাদের সামরিক বাহিনী ‘উপযুক্ত সময়ে’ ইরানকে শেষ করে দেবে। হরমুজ প্রণালি নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেওয়া বিষয়ে অন্য এক পোস্টে ট্রাম্প লেখেছেন, হরমুজ দিয়ে চলাচলে যে কোনো জাহাজ আটকানোর প্রক্রিয়া অবিলম্বে শুরু করবে যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনী। তিনি জানান, যুক্তরাষ্ট্র চায় হরমুজ দিয়ে অবাধ চলাচলে সবাইকে অনুমতি দেওয়া হোক। ট্রাম্পের আশা, একটা সময় এই অবস্থায় পৌঁছাব আমরা। কিন্তু ইরান সেটি হতে দিচ্ছে না। হরমুজে ইরানকে টোল দেওয়া নিয়ে ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, আমাদের নৌবাহিনীকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, আন্তর্জাতিক জলসীমায় (ইরানকে) যারা টোল দেবে তাদের খুঁজে বের করার জন্য। যারা বেআইনিভাবে টোল দেবে, গভীর সমুদ্রে তাদের কোনো নিরাপদ যাতায়াতের সুযোগ দেওয়া হবে না বলেও জানান তিনি।
উত্তর নাইজেরিয়ার জামফারা রাজ্যের গ্রামবাসীরা ডাকাতদের টাকা দিতে অস্বীকার করলে তাদের সাথে সংঘর্ষে হয়। দস্যুদের সঙ্গে ওই সংঘর্ষে ২১ জন গ্রামবাসী নিহত হয়েছে বলে জানা গেছে। গতকাল শনিবার তিনজন স্থানীয় ব্যক্তি এ তথ্য এএফপিকে নিশ্চিত করেছেন। খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র। জামফারা হলো উত্তর-পশ্চিম ও মধ্য নাইজেরিয়ার কয়েকটি প্রদেশের মধ্যে একটি। এখানে ডাকাতরা হত্যাকাণ্ড, অপহরণ ও লুটপাট চালায়। সম্প্রতি এই চক্রগুলো উত্তর-পূর্বের জিহাদিদের সঙ্গে যোগসূত্র স্থাপন করছে, যারা ১৭ বছর ধরে সশস্ত্র বিদ্রোহ চালাচ্ছে। এটি দেশটির কর্মকর্তাদের মধ্যে উদ্বেগের সৃষ্টি করছে। রোববার থেকে উত্তর নাইজেরিয়ায় জিহাদি ও ডাকাতদের হামলায় একশোর বেশি মানুষ নিহত হয়েছে, যার মধ্যে এক ব্রিগেডিয়ার জেনারেলও রয়েছে। গ্রামবাসীরা জানিয়েছেন, শুক্রবার প্রায় ৮০টি মোটরসাইকেলে করে কয়েক ডজন ডাকাত বুক্কুয়ুম জেলার বুঙ্কাসাউ গ্রামে হামলা চালায় এবং বাসিন্দাদের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে লিপ্ত হয়। পুলিশের একজন মুখপাত্র বিস্তারিত কিছু না জানিয়ে এএফপি-কে ঘটনাটি নিশ্চিত করেছেন। জামফারা রাজ্য পুলিশের মুখপাত্র ইয়াজিদ আবুবকর বলেন, ‘আমরা সহিংসতার বিষয়ে অবগত আছি, তবে আমরা এখনও তদন্ত করছি এবং বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করছি।’ তবে, তিনজন স্থানীয় বাসিন্দা জানিয়েছেন, এই সংঘর্ষে ২১ জন নিহত হয়েছে। জেলা সদর দপ্তর বুক্কুয়ুম শহরের একজন কমিউনিটি নেতা লাওয়ালি উমর বলেন, ‘ডাকাতরা লড়াইয়ের সময় ২১ জনকে হত্যা করেছে।’ উমর বলেন, ডাকাতদের নিয়মিত চাঁদা দিতে দিতে গ্রামবাসীরা ক্লান্ত হয়ে পড়েছে এবং আর কখনও তা না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। উমর আরও বলেন, গ্রামবাসীরা সেই টাকা দিয়ে অস্ত্র কিনে আত্মরক্ষার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বুক্কুয়ুমের আরেক বাসিন্দা জামিলু আলিউও একই সংখ্যক মৃত্যুর কথা জানিয়েছেন। পার্শ্ববর্তী ইয়াশি গ্রামের বাসিন্দা বাবুগা আহমেদ বলেন, ডাকাতরা গ্রামবাসীদের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে লিপ্ত হয় এবং গ্রামবাসীদের গুলি শেষ হয়ে যাওয়ার পর তারা ‘পুরোদমে’ গুলি চালায়। আহমদ বলেন, ‘তারা ২১ জনকে হত্যা করেছে।’ গ্রামটি থেকে এএফপি-র এক প্রতিবেদকের কাছে পাঠানো ছবিতে দেখা যায়, একটি ঘরের রক্তাক্ত মেঝেতে দুই সারিতে মৃত যুবকরা পড়ে আছে। নাইজেরীয় সরকার ২০১৫ সাল থেকে ডাকাতদের বিরুদ্ধে লড়াই করার জন্য জামফারাতে সৈন্য মোতায়েন করেছে, কিন্তু সহিংসতা অব্যাহত রয়েছে। রাজ্য কর্তৃপক্ষ বেশ কয়েকবার দস্যুদের সঙ্গে শান্তি চুক্তি করেছে এবং অস্ত্র সমর্পণের বিনিময়ে সাধারণ ক্ষমার প্রস্তাব দিয়েছে। তারপরও দলগুলো সহিংসতায় লিপ্ত রয়েছে।
লন্ডন পুলিশ নিষিদ্ধ সংগঠন ‘প্যালেস্টাইন অ্যাকশন’-এর সমর্থনে আয়োজিত এক বিক্ষোভ মিছিল থেকে শনিবার ২ শতাধিক ফিলিস্তিনপন্থী বিক্ষোভকারীকে গ্রেফতার করেছে। রাজধানীর ট্রাফালগার স্কয়ারে সমবেত বিক্ষোভকারীদের করতালি ও উল্লাসের মাঝখান থেকে পুলিশ এই কর্মীদের গ্রেফতার করে। লন্ডন থেকে বার্তাসংস্থা এএফপি এ খবর জানায়। বিক্ষোভকারীরা নিষিদ্ধ সংগঠন ‘প্যালেস্টাইন অ্যাকশন’-এর সমর্থনে প্ল্যাকার্ড বহন করায় তারা গ্রেফতারের মুখে পড়েন। গত বছরের জুলাইয়ে ‘প্যালেস্টাইন অ্যাকশন’কে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে ঘোষণা করা হয়। সংগঠনটির সদস্য হওয়া বা সমর্থন করা ফৌজদারি অপরাধ। এর শাস্তি সর্বোচ্চ ১৪ বছর কারাদণ্ড। এর বিরুদ্ধে চ্যালেঞ্জ করে লন্ডন হাইকোর্টে আবেদন করা হলে ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝিতে আদালত ‘এতে মতপ্রকাশের স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ করা হয়েছে’ উল্লেখ করে এই নিষেধাজ্ঞা বাতিল করে রায় দেয়। সরকার অবশ্য এ রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করার অনুমতি পেয়েছে। হাইকোর্টের রায়ের পর লন্ডনের মেট্রোপলিটন পুলিশ কিছুদিনের জন্য গ্রেফতার কার্যক্রম স্থগিত রাখে। পরে মার্চের শেষ দিকে আবার তা শুরু করার ঘোষণা দেয়। বিক্ষোভকারীদের একজন, ২৮ বছর বয়সী ফ্রেয়া, লন্ডনের একটি পরিবেশ বিষয়ক সংগঠনের ব্যবস্থাপক, তিনি বলেন, ‘এভাবে উপস্থিত থাকা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।’ তিনি বলেন, ‘আমাদের সবারই গণহত্যার বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়া জরুরি। সরকার আইনি অবস্থান পাল্টাতে পারে, কিন্তু তাতে এখানে থাকা মানুষের নৈতিক অবস্থান বদলায় না।’ লন্ডনের মেট্রোপলিটন পুলিশ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে জানায়, ২৭ থেকে ৮২ বছর বয়সী মোট ২১২ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। নিষেধাজ্ঞা জারির পর থেকে এখন পর্যন্ত অন্তত ৩ হাজার জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাদের বেশিরভাগই সংগঠনটির পক্ষে প্ল্যাকার্ড বহনের অভিযোগে আটক হন। কয়েক শ’ মানুষের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। স্কটল্যান্ডের এডিনবরার ৭৩ বছর বয়সী বিক্ষোভকারী ডেনিস ম্যাকডারমট বলেন, তিনি আগেও গ্রেফতার হয়েছেন। আবার অংশ নিতে তার কোনো দ্বিধা নেই। তিনি বলেন, ‘আমি এসব অসাধারণ মানুষের সমর্থক’—এ সময় তিনি অন্য বিক্ষোভকারীদের দিকে ইঙ্গিত করেন। তিনি আরও বলেন, আদালতের প্রক্রিয়া যদি চূড়ান্ত হতো, ‘তাহলে এসবের প্রয়োজন হতো না।’ বিক্ষোভের আয়োজক ‘ডিফেন্ড আওয়ার জুরিজ’ জানায়, শনিবারের কর্মসূচিতে প্রায় ৫০০ মানুষ অংশ নেন। তারা ‘গাজায় ইসরাইলের গণহত্যায় যুক্তরাজ্য সরকারের সম্পৃক্ততা ও দেশে শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদের ওপর ভুল পথে দমন-পীড়নের’ বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানান। সংগঠনটি এক বিবৃতিতে বলেছে, ‘হাইকোর্ট নিষেধাজ্ঞাকে অবৈধ বলার পরও পুলিশ গ্রেফতার করছে। শীর্ষ আইনজীবীরাও সতর্ক করেছেন, এ ধরনের গ্রেফতার অবৈধ হতে পারে।’ এই নিষেধাজ্ঞার ফলে ‘প্যালেস্টাইন অ্যাকশনকে এমন একটি কালো তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, যেখানে ফিলিস্তিনি সংগঠন হামাস ও লেবাননের ইরান-সমর্থিত গোষ্ঠী হিজবুল্লাহও রয়েছে। এ সিদ্ধান্তে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। একজন বিচারক ‘প্যালেস্টাইন অ্যাকশন’-এর সমর্থনে অভিযুক্তদের সব বিচার কার্যক্রম স্থগিত করেছেন। ৩০ জুলাই এসব মামলার সার্বিক পর্যালোচনার তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে। ২০২০ সালে গঠিত ‘প্যালেস্টাইন অ্যাকশন’-এর ঘোষিত লক্ষ্য, তাদের বর্তমানে ব্লক করা ওয়েবসাইট অনুযায়ী, ‘ইসরাইলের গণহত্যামূলক ও বর্ণবাদী শাসনে বৈশ্বিক অংশগ্রহণ বন্ধ করা।’ এটি প্রধানত অস্ত্র কারখানাগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করেছে, বিশেষ করে ইসরাইলি প্রতিরক্ষা গোষ্ঠী এলবিট সিস্টেমসের মালিকানাধীন কারখানাগুলোকে।