বিশ্ব

ইরানে হামলার পর বাড়ল জ্বালানি তেলের দাম

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি মে ২৬, ২০২৬

ইরানে মার্কিন সামরিক হামলার পর এবং সম্ভাব্য শান্তিচুক্তি নিয়ে অনিশ্চয়তা বাড়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম ২ শতাংশের বেশি বেড়েছে। এতে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে নতুন করে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। খবর রয়টার্সের

 

মঙ্গলবার এশিয়ার বাজারে ব্রেন্ট ক্রুড প্রতি ব্যারেল প্রায় ৯৮ ডলারে পৌঁছায়। একই সময়ে মার্কিন ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) তেলের দামেও ওঠানামা দেখা গেছে। বিশ্লেষকদের মতে, যুদ্ধ পরিস্থিতি ও কূটনৈতিক অগ্রগতির অনিশ্চয়তা বিনিয়োগকারীদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়িয়েছে।

 

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দক্ষিণ ইরানে মার্কিন হামলা এবং হিজবুল্লাহের ওপর ইসরায়েলি হামলার কারণে তেলের সরবরাহ ঝুঁকিতে পড়েছে। এর ফলে ব্রেন্ট ও ডব্লিউটিআই তেলের দামের ব্যবধানও বেড়েছে।

 

এদিকে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল কার্যত সীমিত হয়ে পড়েছে। বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল ও তরলীকৃত গ্যাস এই গুরুত্বপূর্ণ রুট দিয়ে পরিবাহিত হয়। যুদ্ধ শুরুর পর থেকে ইরান বাইরের জাহাজের চলাচল নিয়ন্ত্রণে রেখেছে, ফলে বহু ট্যাংকার আটকে আছে।

 

অন্যদিকে কাতারে ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের সঙ্গে ইরানের আলোচকরা একটি সম্ভাব্য যুদ্ধবিরতি ও চুক্তির বিষয়ে অগ্রগতি করেছে বলে জানা গেছে। তবে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানিয়েছেন, চূড়ান্ত চুক্তি হতে আরও কয়েক দিন লাগতে পারে।

 

বিশ্লেষকদের মতে, যদি চুক্তি সফল হয় তাহলে হরমুজ প্রণালিতে আটক থাকা ট্যাংকারগুলো আবার স্বাভাবিকভাবে চলাচল শুরু করতে পারবে, যা বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে বড় স্বস্তি আনবে।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

শুল্কমুক্ত সুবিধায় ব্যবসায়ীদের আগ্রহে ভাটা

পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না।   একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।   এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন।   গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে।   জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে।   সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে।   কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে।   প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে।   আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’   সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না।   এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।

ইমানুয়েল মাখোঁ। ছবি: রয়টার্স
সৌদির তেলবন্দর রক্ষায় সেনা পাঠাবে ফ্রান্স

সৌদি আরবের গুরুত্বপূর্ণ তেলবন্দর ইয়ানবু রক্ষায় সেনা ও প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা পাঠাবে ফ্রান্স। ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাখোঁ বৃহস্পতিবার এ ঘোষণা দিয়েছেন। রয়টার্সের প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। মাখোঁ বলেন, ইয়ানবু বন্দরটি জ্বালানি পরিবহনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। সৌদি আরবের তেল রপ্তানির বিকল্প এই পথটি সাম্প্রতিক সময়ে ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুথিদের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার মুখে পড়েছে। ফ্রান্স ইয়ানবুতে সেনাসদস্য, রাডার ব্যবস্থা ও প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম পাঠাবে বলে জানান মাখোঁ। তবে তিনি স্পষ্ট করে বলেন, কোনো সংঘাতে জড়ানো ফ্রান্সের উদ্দেশ্য নয়। বরং গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাটি সুরক্ষিত রাখতেই এসব সামরিক সক্ষমতা মোতায়েন করা হবে। ফরাসি টেলিভিশন টিএফ১ ও ফ্রান্স ২-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মাখোঁ বলেন, ‘আমরা সামরিক সক্ষমতা, অর্থাৎ সেনাসদস্য, রাডার ব্যবস্থা ও প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা পাঠাব, যাতে এই স্থাপনাটি সুরক্ষিত রাখা যায়। আমাদের কোনো সংঘাতে জড়ানোর উদ্দেশ্য নেই।’ সৌদি আরবের তেল রপ্তানির প্রধান বিকল্প পথ হিসেবে ইয়ানবু গুরুত্বপূর্ণ। সাম্প্রতিক সময়ে বন্দরটির দিকে তেল পরিবহনের রুটে হামলার কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দামও বেড়েছে। এদিকে যুক্তরাষ্ট্র ডিজেল রপ্তানি নিষিদ্ধ করতে পারে এমন সম্ভাবনারও সমালোচনা করেছেন মাখোঁ। যদিও হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, এমন নিষেধাজ্ঞা বিবেচনা করা হচ্ছে না। মাখোঁ বলেন, এ ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হলে তা বিশ্ব অর্থনীতি এবং যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতির জন্যই ‘বিপর্যয়কর’ হবে। পাশাপাশি ফ্রান্সের মাটিতে সম্ভাব্য রুশ হামলার আশঙ্কা নিয়েও সতর্ক করেন তিনি। দেশটিতে উচ্চ জ্বালানি দামের কারণে অভ্যন্তরীণ চাপের মুখে আছেন মাখোঁ। তবে তিনি শীতের আগে ফ্রান্সে পর্যাপ্ত গ্যাস ও তেল সরবরাহ রয়েছে বলেও আশ্বস্ত করেন। জ্বালানি সরবরাহের প্রবাহ যাতে বাধাগ্রস্ত না হয়, সে বিষয়ে প্যারিস সক্রিয়ভাবে কাজ করছে বলে জানান তিনি। সূত্র: রয়টার্স

মারিয়া রহমান সেপ্টেম্বর ২৫, ২০২৬
জাতিসংঘের ভাষণে নেতানিয়াহু। ছবি: সংগৃহীত

জাতিসংঘে ভাষণের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই নিউইয়র্ক ছাড়লেন নেতানিয়াহু

ছবি : রয়টার্স

ওয়াকআউট করা নেতাদের ‘নৈতিক কাপুরুষ’ বললেন নেতানিয়াহু

ছবি: সংগৃহীত

শি জিনপিংকে ‘বল্ড ঈগল’ উপহার দিলেন ট্রাম্প

ছবি: সংগৃহীত
জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে নতুন স্থায়ী সদস্য চায় না পাকিস্তানসহ ১২ দেশ

জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে (ইউএনএসসি) নতুন স্থায়ী সদস্যপদ তৈরির বিরোধিতা করেছে পাকিস্তানসহ ১২টি দেশ। বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) ‘ইউনাইটিং ফর কনসেনসাস’ গোষ্ঠীর পক্ষ থেকে দেওয়া এক যৌথ বিবৃতিতে নতুন স্থায়ী সদস্যপদের পরিবর্তে নির্বাচিত সদস্য সংখ্যা বাড়ানো এবং দীর্ঘমেয়াদি আবর্তনশীল সদস্যপদ চালুর পক্ষে মত দেওয়া হয়। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের উচ্চপর্যায়ের সপ্তাহে বিবৃতিটি দেওয়া হয়। গোষ্ঠীটির ১২ সদস্য হলো—আর্জেন্টিনা, কানাডা, কলম্বিয়া, কোস্টারিকা, ইতালি, মাল্টা, মেক্সিকো, পাকিস্তান, দক্ষিণ কোরিয়া, সান মারিনো, স্পেন ও তুরস্ক। যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়, আরও প্রতিনিধিত্বশীল, গণতান্ত্রিক, স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক ও কার্যকর নিরাপত্তা পরিষদ গড়ে তোলাই তাদের অভিন্ন লক্ষ্য। বর্তমান বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় এমন একটি পরিষদ প্রয়োজন বলেও উল্লেখ করা হয়। গোষ্ঠীটি জানায়, নিরাপত্তা পরিষদের নির্বাচিত সদস্য সংখ্যা বাড়ানো হলে আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তা বজায় রাখার পাশাপাশি রাষ্ট্রগুলোর সার্বভৌম সমতার নীতি সংরক্ষণ করা সম্ভব হবে। বিবৃতিতে আরও বলা হয়, নির্বাচিত সদস্য সংখ্যা বাড়ানোই আফ্রিকার দীর্ঘদিনের প্রতিনিধিত্বের ঘাটতি দূর করার সবচেয়ে ন্যায্য ও গণতান্ত্রিক উপায়। একইভাবে এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চল, লাতিন আমেরিকা ও ক্যারিবীয় অঞ্চলের মতো অন্যান্য কম প্রতিনিধিত্ব পাওয়া অঞ্চলের ক্ষেত্রেও এটি কার্যকর হবে। ‘ইউনাইটিং ফর কনসেনসাস’ গোষ্ঠী নতুন স্থায়ী সদস্যপদ তৈরির বিষয়ে তাদের বিরোধিতার অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেছে। একই সঙ্গে নিরাপত্তা পরিষদ সংস্কার নিয়ে আন্তঃসরকারি আলোচনা প্রক্রিয়াকে (আইজিএন) সমর্থন জানিয়েছে তারা। গোষ্ঠীটির মতে, নিরাপত্তা পরিষদ সংস্কার নিয়ে সদস্যরাষ্ট্রগুলোর নেতৃত্বে আলোচনা করার একমাত্র বৈধ ও অন্তর্ভুক্তিমূলক প্ল্যাটফর্ম হলো আইজিএন। সংস্কারের পরবর্তী ধাপ সংলাপ, নমনীয়তা ও সমঝোতার ভিত্তিতে হওয়া উচিত বলেও বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়। ভেটো ক্ষমতার বিষয়ে গোষ্ঠীটি জানায়, তারা ভেটো বিলুপ্তির পক্ষে। তবে তাৎক্ষণিকভাবে নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে এর ব্যবহার সীমিত করার পদক্ষেপ নেওয়া উচিত। বিশেষ করে ব্যাপক নৃশংসতা ও যুদ্ধাপরাধের মতো পরিস্থিতিতে ভেটোর ব্যবহার সীমিত করার আহ্বান জানানো হয়েছে। ভেটোর ব্যবহার সীমিত করার লক্ষ্যে ফ্রাঙ্কো-মেক্সিকান উদ্যোগ এবং ‘অ্যাক্ট কোড অব কনডাক্ট’-এর মতো বিদ্যমান উদ্যোগগুলোর কথাও বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়। জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে নিরাপত্তা পরিষদের ব্যাপক সংস্কারের লক্ষ্যে সাধারণ পরিষদের সভাপতি, ভবিষ্যৎ আইজিএন-এর সহসভাপতি এবং সব সদস্যরাষ্ট্রের সঙ্গে কাজ করার প্রস্তুতির কথাও জানিয়েছে গোষ্ঠীটি। সূত্র: এক্সপ্রেস ট্রিবিউন

মারিয়া রহমান সেপ্টেম্বর ২৫, ২০২৬
তেলের দাম কমার প্রতীকী ছবি

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনায় কমল তেলের দাম

সংগৃহীত ছবি

সৌদি আরবের নিরাপত্তা আমাদের আঞ্চলিক নিরাপত্তার অংশ: মিসর

সংগৃহীত ছবি

হামলার শঙ্কায় মক্কাসহ সৌদির বিভিন্ন অঞ্চলে জরুরি সতর্কতা

তীব্র পানির সংকটে ইসরায়েল

অস্বাভাবিক শৈবাল বিস্তারের কারণে তীব্র পানি সংকটের মুখে পড়েছে ইসরায়েল। এর ফলে দেশটির বেশিরভাগ বিশুদ্ধকরণ প্ল্যান্টের কার্যক্রম ব্যাহত হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ইসরায়েলি হামলায় গাজার পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা ধ্বংস হয়ে যাওয়ার কারণে বিপুল পরিমাণ অপরিশোধিত বর্জ্য সমুদ্রে মিশে এই সংকটের সৃষ্টি হয়েছে।   ইসরায়েলের পরিবেশবাদী সংস্থা ‘জালুল এনভায়রনমেন্টাল অ্যাসোসিয়েশন’ জানিয়েছে, দূষণ রাজনৈতিক সীমানা মানে না। গাজা উপত্যকা থেকে সমুদ্রে অপরিশোধিত বর্জ্য নিষ্কাশনের ফলে ইসরায়েলি বিশুদ্ধকরণ প্ল্যান্টগুলোতে সংকট আরও ঘনীভূত হচ্ছে। এই বর্জ্যে নাইট্রোজেন ও ফসফরাসের মতো পুষ্টি উপাদান থাকে, যা মাইক্রোঅ্যালগাল এবং সায়ানোব্যাকটেরিয়ার বৃদ্ধিতে সহায়তা করে।   সীমান্তের অপর প্রান্তে প্রায় ৬০ মাইল বা ১০০ কিলোমিটার দীর্ঘ মাইক্রোঅ্যালগাল বা শৈবালের বিশাল আস্তরণ ইসরায়েলের ছয়টি প্রধান বিশুদ্ধকরণ প্ল্যান্টের মধ্যে পাঁচটির ফিল্টার বন্ধ করে দিয়েছে। প্ল্যান্টগুলো কয়েক দিন বন্ধ থাকার পর বর্তমানে সীমিত পরিসরে চালু রয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রায় তিন বছরের যুদ্ধের পর গাজার ধ্বংসযজ্ঞের পরিবেশগত প্রভাব এখন ইসরায়েলেও ফিরে আসছে। বেন-গুরিয়ন ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক জ্যাক গিলরন জানিয়েছেন, গাজার বর্জ্য ভূমধ্যসাগরের দক্ষিণ উপকূলে অবস্থিত ইসরায়েলের পানি উৎপাদন পরিকাঠামোর ওপর ঝুঁকি বাড়িয়ে দিয়েছে।   এদিকে গত ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া ইসরায়েলি বোমাবর্ষণে গাজার ৯০ শতাংশ পানি ও স্যানিটেশন অবকাঠামো ধ্বংস হয়ে গেছে বলে জানিয়েছে ডক্টরস উইদাউট বর্ডার্স। কূপ, জলাধার এবং ডিস্যালিনেশন ইউনিটগুলো সরাসরি হামলার শিকার হয়েছে। যুদ্ধ শুরুর পর থেকেই গাজায় তীব্র পানি ও স্বাস্থ্য সংকট চলছে। অপরিশোধিত বর্জ্য ও সমুদ্রের লোনাপানিতে উপকূলীয় ভূগর্ভস্থ পানির স্তর দূষিত হয়ে পড়েছে। আন্তর্জাতিক রেড ক্রস কমিটি (আইসিআরসি) জানিয়েছে, শীতকাল ঘনিয়ে আসায় পরিস্থিতি আরও অবনতির শঙ্কা রয়েছে। গাজার বাস্তুচ্যুত মানুষ ও সীমান্ত সংলগ্ন ইসরায়েলি সম্প্রদায়গুলোও বর্জ্য ও ইঁদুরের উপদ্রবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে।   ইসরায়েলে কর্তৃপক্ষ পরিস্থিতি সম্পূর্ণ স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত জনগণকে সাশ্রয়ীভাবে পানি ব্যবহারের আহ্বান জানিয়েছে। দেশের দক্ষিণাঞ্চলে পানি সরবরাহ কমানো হয়েছে এবং কৃষকদের সেচ কাজ বন্ধ রাখতে বলা হয়েছে, যার ফলে খাদ্যপণ্যের দাম বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন অর্থনীতিবিদরা। ‘জালুল’ এবং ‘ইকোপিস মিডল ইস্ট’ গাজার নিকাশীব্যবস্থা পুনরুদ্ধার এবং ইসরায়েল নিয়ন্ত্রিত এলাকায় বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় সাহায্য করার জন্য কোয়াগাটকে আহ্বান জানালেও এ বিষয়ে কোনও মন্তব্য করেনি সংস্থাটি।    সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি সেপ্টেম্বর ২৪, ২০২৬

জাতিসংঘে শত্রু-মিত্রদের সমালোচনা করতে পারেন নেতানিয়াহু

রয়টার্স ছবি

জাতীয় নিরাপত্তার যুক্তিতে হোয়াইট হাউসে সংবাদমাধ্যম নিষিদ্ধের দাবি

ছবি: সংগৃহীত

অবৈধ অনুপ্রবেশে সহায়তার অভিযোগে ভারতীয় সেনাসদস্যসহ দুজন গ্রেপ্তার

0 Comments