ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান আরও বিস্তৃত করার প্রস্তুতি নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। এ লক্ষ্যে ইসরায়েলে আরও কয়েক ডজন আকাশে জ্বালানি সরবরাহকারী রিফুয়েলিং বিমান পাঠানোর পরিকল্পনা করছে ট্রাম্প প্রশাসন। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের কয়েকজন কর্মকর্তা এ তথ্য জানিয়েছেন। খবর অ্যাক্সিওসের।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সামনে নতুন কয়েকটি সামরিক পরিকল্পনা উপস্থাপনের পর হোয়াইট হাউস ইরানে হামলার পরিধি বাড়ানোর বিষয়টি বিবেচনা করছে। বর্তমানে হরমুজ প্রণালির আশপাশে যে হামলা চলছে, নতুন পরিকল্পনায় তার চেয়েও বিস্তৃত অভিযান চালানোর কথা রয়েছে।
মার্কিন কর্মকর্তাদের মতে, সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তুর মধ্যে রয়েছে ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্র, গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো এবং পারমাণবিক স্থাপনা। এছাড়া পিকঅ্যাক্স মাউন্টেইনের ভূগর্ভস্থ একটি স্থাপনাতেও হামলার পরিকল্পনা বিবেচনায় রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের ধারণা, সেখানে ইরান নতুন সামরিক অবকাঠামো গড়ে তুলছে।
তবে ট্রাম্প এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেননি। কর্মকর্তাদের ভাষ্য, ইরানকে আরও বড় ধরনের সামরিক ও অর্থনৈতিক চাপে ফেলতে তিনি হামলার তীব্রতা বাড়ানোর পক্ষে রয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্রের লক্ষ্য, ইরানকে হরমুজ প্রণালি খুলে দিতে এবং পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে ওয়াশিংটনের শর্ত মেনে নিতে বাধ্য করা।
মার্কিন ও ইসরায়েলি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, কয়েক দিনের মধ্যেই হামলার মাত্রা বাড়ানোর নির্দেশ দেওয়া হতে পারে।
এরই মধ্যে টানা পঞ্চম দিনের মতো হরমুজ প্রণালি ও ইরানের দক্ষিণাঞ্চলের সামরিক স্থাপনাগুলোতে হামলা চালিয়েছে মার্কিন বাহিনী।
একজন মার্কিন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, বন্দর আব্বাসের আশপাশের অন্তত সাতটি সেতুতে হামলা হয়েছে। এই শহরকে হরমুজ এলাকায় ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ঘাঁটি হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
অন্যদিকে ইরানও পাল্টা হামলা জোরদার করেছে। দেশটির দাবি, জর্ডান, কাতার, বাহরাইন, ইরাক ও কুয়েতে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিগুলোতে হামলা চালানো হয়েছে। এছাড়া সিরিয়ায় একটি মার্কিন ঘাঁটিও লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে বলে দাবি করেছে আইআরজিসি। যদিও কয়েক মাস আগেই ওই ঘাঁটি থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহার করা হয়েছিল।
বর্তমানে তেল আবিবের বেন গুরিয়ন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় ৩০টি রিফুয়েলিং বিমান অবস্থান করছে। ইসরায়েলের দক্ষিণাঞ্চলের রেমন বিমানঘাঁটিতেও প্রায় একই সংখ্যক মার্কিন বিমান রয়েছে।
ইসরায়েলি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, খুব শিগগিরই আরও কয়েক ডজন রিফুয়েলিং বিমান পাঠাতে পারে যুক্তরাষ্ট্র। এতে যুদ্ধ শুরুর আগে যে পরিমাণ মার্কিন বিমান ইসরায়েলে ছিল, সেই অবস্থায় ফিরে যাবে দেশটি।
মার্কিন বাহিনী বেন গুরিয়ন বিমানবন্দরকেই সবচেয়ে নিরাপদ ঘাঁটি হিসেবে বিবেচনা করছে। তাদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের অন্য বিমানঘাঁটিগুলো ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার ঝুঁকিতে রয়েছে।
তবে বিপুল সংখ্যক মার্কিন সামরিক বিমান বেন গুরিয়নে অবস্থান করায় ইসরায়েলের অভ্যন্তরে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। বিমানবন্দরের কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কায় অনেক সাধারণ ফ্লাইট বাতিল হতে পারে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্টরা।
ইসরায়েলের পরিবহনমন্ত্রী মিরি রেগেভ বেন গুরিয়ন থেকে মার্কিন রিফুয়েলিং বিমান সরিয়ে নেওয়া বা সংখ্যা কমানোর আহ্বান জানিয়েছেন। তবে দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় ও প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) এই প্রস্তাবের বিরোধিতা করেছে।
এদিকে ট্রাম্প প্রশাসন জানিয়েছে, অতিরিক্ত মার্কিন বিমান কোথায় রাখা হবে, সেই ব্যবস্থা ইসরায়েল সরকারকেই করতে হবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না। একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন। গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে। জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে। সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে। কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে। প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে। আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’ সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না। এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।
আসন্ন যুক্তরাষ্ট্র সফরকে ঘিরে নাটকীয় পরিস্থিতির মুখে পড়েছেন ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে পা রাখলেই যেন নানা আইনি ও প্রশাসনিক জটিলতা তার পিছু ধাওয়া করছে। আর এই দোলাচলের কারণেই এবার সিদ্ধান্ত বদলেছে—নিউইয়র্কের ঐতিহ্যবাহী জন এফ কেনেডি (জেএফকে) আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নামছে না তাকে বহনকারী রাষ্ট্রীয় উড়োজাহাজ ‘উইং অব জায়ন’। ইসরায়েলি জনপ্রিয় দৈনিক ইয়েদিওথ আহরোনোথ-এর এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে এই চঞ্চলকর তথ্য। এতে বলা হয়, আগামীকাল বৃহস্পতিবার নেতানিয়াহুর বহনকারী ভিআইপি বিমানটি নিউইয়র্কে অবতরণ না করে পাশের রাজ্য নিউজার্সির একটি বিমানবন্দরে নামতে পারে। কেন এই আকস্মিক পথবদল? এর নেপথ্যে রয়েছে নিউইয়র্কের নতুন মেয়র জোহরান মামদানির কঠোর অবস্থান ও একরাশ শঙ্কা। আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি) গাজা হত্যাকাণ্ডের অভিযোগে আগেই নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করে রেখেছে। মেয়র জোহরান মামদানি বারবার হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, নেতানিয়াহু নিউইয়র্কের মাটিতে পা রাখলেই তাঁকে গ্রেফতারের আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে। এছাড়া, বিমানটি বিমানবন্দরে পার্কিং করে রাখার বিষয়ে নিউইয়র্ক নগর কর্তৃপক্ষের সঙ্গে নানা 'সমন্বয়হীনতা' দেখা দিয়েছে। ইসরাইলি গোয়েন্দা ও সফরসঙ্গীদের ভয়— মেয়র মামদানি হয়তো বিমানটিকে জেএফকে বিমানবন্দরে নামার পরপরই অতি দ্রুত রানওয়ে ছেড়ে চলে যাওয়ার নির্দেশ দিতে পারেন। এই টানাপোড়েন এড়াতেই এখন বিকল্প হিসেবে নিউজার্সির কোনো সামরিক ঘাঁটি কিংবা নিউয়ার্ক লিবার্টি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে 'উইং অব জায়ন' অবতরণের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। নিউইয়র্কে রাত কাটাবেন না নেতানিয়াহু, সংক্ষিপ্ত হচ্ছে সফর নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সূত্রের বরাতে প্রতিবেদনে আরও জানা যায়, মার্কিন মুলুকে সাধারণ মানুষের ক্ষোভ ও বিশাল বিক্ষোভের শঙ্কায় সতর্ক অবস্থান নিয়েছেন ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী। নিউইয়র্কে অবস্থানের সময়সীমা তিনি অনেকটাই ছেঁটে ফেলেছেন। বিক্ষোভকারীদের তোপ থেকে বাঁচতে তিনি সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, নিউইয়র্কে কোনোভাবেই রাত কাটাবেন না। সফরসূচি এতটাই সংক্ষিপ্ত করা হয়েছে যে, কাজ শেষ করেই তিনি দ্রুত প্রস্থান করবেন। বাতিল মাস্কের সঙ্গে হাই-প্রোফাইল বৈঠক কেবল নিউইয়র্কের কর্মসূচিই নয়, ভেস্তে গেছে নেতানিয়াহুর বহুল আলোচিত টেক্সাস সফরও। সেখানে বিশ্বখ্যাত প্রযুক্তি উদ্যোক্তা ও শীর্ষ ধনী ইলন মাস্কের সঙ্গে তার একটি পূর্বনির্ধারিত বৈঠক হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু শেষ মুহূর্তে সেটিও বাতিল করা হয়েছে। এক ইসরাইলি কর্মকর্তা জানান, দীর্ঘ যাত্রাপথে বিমানে জ্বালানি নেওয়ার বিরতি এবং মার্কিন পক্ষের সঙ্গে শেষ মুহূর্তের সমন্বয় জটিলতার কারণেই মাস্কের সঙ্গে বৈঠকটি শেষ পর্যন্ত আর আলোর মুখ দেখেনি।
২০১৯ সালের ভয়াবহ ইস্টার সানডে বোমা হামলায় জড়িত থাকার অভিযোগে ১৫ জনকে সন্ত্রাসবাদের অপরাধে দোষী সাব্যস্ত করেছেন শ্রীলঙ্কার একটি আদালত। তাদের প্রত্যেককে অন্তত ২২০ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে তাদের সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান এ খবর জানিয়েছে। মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) তিন বিচারকের একটি হাইকোর্ট এই রায় ঘোষণা করেন। এ সময় আদালতের চারপাশে শত শত পুলিশ মোতায়েন করা হয়। বিচারের মুখোমুখি হওয়া ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে সংখ্যালঘু খ্রিস্টান সম্প্রদায় ও বিদেশি পর্যটকদের সুপরিকল্পিতভাবে লক্ষ্যবস্তু বানানোর এই বোমা হামলায় ষড়যন্ত্র ও সহায়তার অভিযোগ আনা হয়েছিল। শ্রীলঙ্কাভিত্তিক দুটি ইসলামপন্থি সশস্ত্র গোষ্ঠী হামলার পরিকল্পনা করেছিল বলে ধারণা করা হয়। প্রায় পাঁচ বছর ধরে এই বিচারকাজ চলে। বিচার প্রক্রিয়ার ধীরগতি ভুক্তভোগী ও তাদের পরিবারগুলোকে হতাশ করেছিল। ২০২১ সালে কর্তৃপক্ষ এই হামলার পরিকল্পনা বা অনুপ্রেরণা দেওয়ার অভিযোগে ২৫ জন সন্দেহভাজনের বিরুদ্ধে ২৩ হাজার ২৭০টি অভিযোগ দাখিল করেছিল- যার মধ্যে গির্জায় তিনটি, পর্যটক হোটেলগুলোতে তিনটি, মোটেলে একটি যেখানে এক হামলাকারী নিজেকে উড়িয়ে দিয়েছিল এবং চতুর্থ হোটেলে হামলা ব্যর্থ হওয়ার পর অপর দুটি ঘটনা অন্তর্ভুক্ত ছিল। অভিযোগগুলোর মধ্যে হত্যা, সন্ত্রাসবাদের ষড়যন্ত্র এবং সন্ত্রাসবিরোধী আইনের অধীনে আগ্নেয়াস্ত্র ও বিস্ফোরক অপরাধ অন্তর্ভুক্ত ছিল। মোট ১৫ জন আসামিকে, যারা সবাই শ্রীলঙ্কার সংখ্যালঘু মুসলিম সম্প্রদায়ের, তাদের প্রত্যেককে ২০০ বছর করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে; তবে রায়ের শুরুতে মোট দণ্ডসীমা অন্তত ২২০ বছর উল্লেখ করা হয়। আদালতে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় নয়জন আসামিকে খালাস দেওয়া হয়। বিচার শুরুর আগেই মারা যান একজন আসামি। রাষ্ট্রপক্ষের নেতৃত্ব দেওয়া হারিপ্রিয়া জয়াসুন্দরারা আরও দীর্ঘ কারাদণ্ডের দাবি জানান। তিনি বলেন, আসামিরা খ্রিষ্টান উপাসনাকারী ও পর্যটকদের হত্যার উদ্দেশ্যে পরিকল্পিত হামলায় অংশ নিয়েছিলেন। আত্মঘাতী বোমারুদের একজনের রেখে যাওয়া ভিডিওতে এর প্রমাণ রয়েছে বলেও জানান তিনি। হামলার আগের দিন ধারণ করা ওই ভিডিওতে মুখ ঢাকা হামলাকারীদের রাইফেল ও তলোয়ার হাতে দেখা যায়। তারা তৎকালীন আইএস নেতা আবু বকর আল-বাগদাদির প্রতি আনুগত্যের শপথ নিয়ে শ্রীলঙ্কাকে একটি ইসলামি রাষ্ট্রে পরিণত করা এবং যুদ্ধ চালানোর কথা বলেছিল। ক্যাথলিক ধর্মযাজক জুড ফার্নান্দো বলেন, অবশেষে আমরা বিচার পেয়েছি। এই পর্যায়ে পৌঁছাতে দীর্ঘ সময় লেগেছে। তবে বিচার শেষ হলেও সবার জন্য পুরোপুরি স্বস্তি আসার সম্ভাবনা নেই। শ্রীলঙ্কার ক্যাথলিক চার্চ দীর্ঘদিন ধরে দাবি করে আসছে, বিচারের মুখোমুখি হওয়া ব্যক্তিরা হামলার মূল পরিকল্পনাকারী ছিলেন না এবং এর পেছনে আরও বড় রাষ্ট্রীয় ষড়যন্ত্র ছিল। একটি সংসদীয় কমিটি জানিয়েছিল, হামলার বিষয়ে বারবার গোয়েন্দা সতর্কতা পাওয়ার পরও পুলিশ ও গোয়েন্দা কর্মকর্তারা ব্যবস্থা নিতে ব্যর্থ হয়েছিলেন। উল্লেখ্য বিলাসবহুল হোটেল এবং ইস্টার প্রার্থনাকালে গির্জায় চালানো ওই সন্ত্রাসী হামলায় ২৬৭ জন নিহত এবং প্রায় ৬ হাজার মানুষ আহত হন। ইসলামিক স্টেট (আইএস) দ্বারা অনুপ্রাণিত এই বোমা হামলাগুলো শ্রীলঙ্কার ইতিহাসের অন্যতম রক্তক্ষয়ী হামলা ছিল এবং দেশজুড়ে মারাত্মক আতঙ্ক ছড়িয়ে দিয়েছিল। হামলাগুলো চালিয়েছিল নয়জন আত্মঘাতী বোমা হামলাকারী, যারা বিস্ফোরণে মারা যান। সরাসরি অংশগ্রহণকারীদের কেউ বেঁচে নেই।
গাজায় কোনো মানবিক করিডর এখনো চালু হয়নি বলে আক্ষেপ প্রকাশ করেছেন ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাখোঁ। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের গাজা শান্তি পরিকল্পনাকে কূটনৈতিক সাফল্য হিসেবে তুলে ধরার সমালোচনা করে তিনি এ আক্ষেপ করেন। মঙ্গলবার জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে ভাষণ দেন তিনি। আগামী মে মাসে প্রেসিডেন্টের পদ ছাড়ার আগে এটিই জাতিসংঘে তার শেষ ভাষণ। মাখোঁ বলেন, এক বছর আগে একই মঞ্চে প্রায় এক ডজন দেশ ফিলিস্তিনকে রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছিল। তখন কেউ কেউ বলেছিলেন, স্বীকৃতি শুধু একটি কাগজ এবং বাস্তব পরিস্থিতির কোনো পরিবর্তন হয়নি। গাজার পরিস্থিতি নিয়ে নিষ্ক্রিয় থাকার সমালোচনা করে তিনি বলেন, শান্তির দাবি করা হলেও এক মুহূর্তের জন্যও মানবিক সহায়তার পথ খুলে দেওয়া হয়নি। এমন পরিস্থিতিতে সবাইকে নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করা উচিত কি না, সেই প্রশ্ন তোলেন তিনি। মাখোঁর বক্তব্যের জবাবে হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র আনা কেলি বলেন, ট্রাম্প ইসরায়েল ও হামাসের মধ্যে যুদ্ধ শেষ করেছেন এবং জীবিত সব জিম্মিকে মুক্ত করেছেন। নিহত জিম্মিদের মরদেহও তাদের স্বজনদের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হয়ে। গাজার জন্য ট্রাম্পের ২০ দফা শান্তি পরিকল্পনা বাস্তবায়নে কাজ চলছে। ফিলিস্তিনকে রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার পরও যথেষ্ট পদক্ষেপ না নেওয়ায় ফ্রান্সে মাখোঁ সমালোচনার মুখে পড়েছেন। তবে পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীদের সহিংসতার বিষয়ে সাম্প্রতিক সময়ে ফ্রান্স কঠোর অবস্থান নিয়েছে। দেশটি কিছু নিষেধাজ্ঞা আরোপের পাশাপাশি অধিকৃত পশ্চিম তীরের ইসরায়েলি বসতিতে উৎপাদিত পণ্য নিষিদ্ধ করার প্রক্রিয়াও শুরু করেছে। জাতিসংঘে ভাষণে পশ্চিম তীরের পরিস্থিতি নিয়েও উদ্বেগ জানান মাখোঁ। তিনি বলেন, সেখানে প্রতিদিন বিভিন্ন ধরনের অধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটছে। অথচ পশ্চিম তীরে হামাস কখনো কার্যক্রম পরিচালনা করেনি। মাখোঁ বলেন, পশ্চিম তীরে যা ঘটছে, তা প্রতিদিন ফিলিস্তিনি জনগণের অস্তিত্বের বৈধ অধিকারকে সম্মান করে একটি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার সম্ভাবনাকে আরও কঠিন করে তুলছে। গত এক বছরে ইসরায়েলের সঙ্গে ফ্রান্সের সম্পর্কেও টানাপোড়েন বেড়েছে। মাখোঁ বলেন, ইসরায়েলের সব প্রতিবেশী দেশের সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘন করলেই দেশটির নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে—এমন ধারণা ভুল। তার মতে, এ ধরনের পদক্ষেপ বর্তমানে এবং ভবিষ্যতে ইসরায়েলের নিরাপত্তাকেই দুর্বল করছে। ২০১৭ সালে প্রথম জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে ভাষণ দিয়েছিলেন মাখোঁ। আগামী বছর ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট নির্বাচন সামনে রেখে এবারের ভাষণটি ছিল জাতিসংঘে তার শেষ উপস্থিতি। তথ্যসূত্র: রয়টার্স