বিশ্ব

ইরান যুদ্ধ থামার আভাস, শুল্ক নিয়ে নতুন পদক্ষেপে ট্রাম্প

মো: দেলোয়ার হোসাইন জুন ১৭, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

শুল্ক’ শব্দটি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সবচেয়ে পছন্দের শব্দগুলোর একটি। কিন্তু ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ শুরুর পর থেকে তাঁর মুখে শব্দটি খুব একটা শোনা যায়নি।

 

তবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধের উত্তেজনা থিতিয়ে আসছে। যুদ্ধবিরতির সমঝোতা সই হবে শুক্রবার, তা সে যতই ভঙ্গুর হোক না কেন। ফলে দীর্ঘ এক মাসের যুদ্ধের অবসানের সম্ভাবনা তৈরি হওয়ায় ট্রাম্প আবার শুল্ক ইস্যুতে ফিরেছেন। এতে আবার দ্রুতই নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হতে পারে।

ফ্রান্সে চলমান জি–সেভেন শীর্ষ সম্মেলনের আগে ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল মাখোঁ যদি ৩ শতাংশ ডিজিটাল সেবা কর প্রত্যাহার না করেন, তাহলে ফরাসি ওয়াইনের ওপর ১০০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হবে। ফ্রান্সের এই ডিজিটাল করের সবচেয়ে বড় চাপ পড়েছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তি খাতের মহিরুর প্রতিষ্ঠান অ্যামাজন, অ্যালফাবেট, অ্যাপল ও মেটার ওপর।

নিউইয়র্ক পোস্টকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, ‘আমি মাখোঁকে বলেছিলাম, আমেরিকান কোম্পানিগুলোর ওপর যেন করারোপ না করা হয়। যদি তারা তা-ই করে, তাহলে ফ্রান্স থেকে আসা সব শ্যাম্পেন ও ওয়াইনের ওপর ১০০ শতাংশ শুল্ক আরোপ ছাড়া আমার উপায় থাকবে না।’

ফ্রান্স ২০১৯ সালে এই কর চালু করার পর থেকেই ট্রাম্প এমন হুমকি দিয়ে আসছেন। সর্বশেষ সতর্কবার্তার আগে চলতি বছরের জানুয়ারিতেও তিনি ফরাসি ওয়াইন ও শ্যাম্পেনের ওপর ২০০ শতাংশ শুল্ক আরোপের হুমকি দিয়েছিলেন। মাখোঁ ইঙ্গিত দিয়েছিলেন যে গাজা ইস্যুতে ট্রাম্পের প্রস্তাবিত ‘শান্তি বোর্ডে’ তিনি যোগ দেবেন না, সেই পরিপ্রেক্ষিতে এমন হুমকি দেন ট্রাম্প।

তবে নানা কারণে ট্রাম্প এখনো সেসব হুমকি বাস্তবায়ন করেননি।

হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, ইরানের সঙ্গে সমঝোতা এবং ফ্রান্সের উদ্দেশ্যে দেওয়া নতুন শুল্ক হুমকির মধ্যে সম্পর্ক নেই। হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র কুশ দেসাই বলেন, এটি প্রেসিডেন্টের আগের অবস্থানেরই ধারাবাহিকতা।

ফরাসি ওয়াইন ও শ্যাম্পেনের বাইরে ট্রাম্প ইউরোপীয় ইউনিয়নের গাড়িতেও শুল্ক বৃদ্ধির কথা বলেছেন। তাঁর অভিযোগ, গত গ্রীষ্মে যে বাণিজ্য চুক্তি হয়েছে, ইউরোপীয় ইউনিয়ন তা লঙ্ঘন করছে। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধি দপ্তর জাপান, চীন ও ভারতের সব পণ্যে ১২ দশমিক ৫ শতাংশ থেকে নতুন শুল্ক আরোপের প্রস্তাব দিয়েছে। অভিযোগ, এসব দেশ জোরপূর্বক শ্রমে উৎপাদিত পণ্য আমদানি করছে।

আগামী মাসে সাময়িক ১০ শতাংশ আমদানি করের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর নতুন শুল্ক কার্যকর হতে পারে।

 

আগের শুল্কের ধাক্কা এখনো কাটেনি

গত বছরের এপ্রিলে ট্রাম্প পাল্টা শুল্ক আরোপ করেন। এতে ব্যবসায়িক কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়ে, অনেক নিয়োগের সিদ্ধান্ত থমকে যায়। পরে এসবের বেশির ভাগই সুপ্রিম কোর্ট বাতিল করে দেন।

এক বছরের বেশি সময় পর শ্রমবাজারে সেই প্রভাব কিছুটা কমতে শুরু করেছে। অনিশ্চিত বাণিজ্য পরিস্থিতির কারণে যেসব নিয়োগদাতা আগে কর্মী নিয়োগে দ্বিধায় ছিলেন, তাঁরা আবার নিয়োগ দিচ্ছেন। গত তিন মাসে যুক্তরাষ্ট্রে প্রতি মাসে গড়ে ১ লাখ ৮৮ হাজার নতুন চাকরি সৃষ্টি হয়েছে। অথচ গত বছর এই সংখ্যা মাসে ১০ হাজারের কম ছিল।

তবে ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধের আগে যুক্তরাষ্ট্রের মূল্যস্ফীতি ছিল ২ দশমিক ৪ শতাংশ। তা গত মাসে বেড়ে হয়েছে ৪ দশমিক ২ শতাংশ, তিন বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ। ভোক্তা মূল্যসূচক অনুযায়ী, মাসিক ভিত্তিতে দাম বেড়েছে শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ। এর ৬০ শতাংশের জন্য দায়ী জ্বালানির উচ্চ মূল্য।

এই পরিস্থিতিতে নতুন করে শুল্ক আরোপের সম্ভাবনা অর্থনীতির জন্য আরও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

তবে অর্থনীতিবিদেরা এখনো খাদ্য ও জ্বালানিবহির্ভূত মূল্যস্ফীতির পরিসংখ্যানে স্বস্তি খুঁজছেন, যাকে বলে কোর ইনফ্লেশন। মে মাসে এই সূচক মাসিক ভিত্তিতে বেড়েছে শূন্য দশমিক ২ শতাংশ এবং বার্ষিক ভিত্তিতে ২ দশমিক ৯ শতাংশ। যদিও ভোক্তা মূল্য সূচক ছিল ৪ দশমিক ২ শতাংশ।

এর অর্থ, যুদ্ধের কারণে জ্বালানির বর্ধিত মূল্যের কারণে এখনো অন্য পণ্য ও সেবার ক্ষেত্রে বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি হয়নি। যদিও ব্যবসার অন্যতম বড় খরচের জায়গা হলো জ্বালানি; দাম বাড়লে প্রতিষ্ঠানগুলো সাধারণত সেই চাপ ভোক্তার ওপর চাপিয়ে দেয়।

তবে পরিস্থিতি শেষ পর্যন্ত কোথায় গিয়ে দাঁড়াবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়—হরমুজ প্রণালিতে তেলবাহী জাহাজ চলাচল যুদ্ধপূর্ব অবস্থায় ফিরলেও কোনো কিছু স্পস্ট করা বলা যাচ্ছে না।

ফরাসি ব্যাংক বিএনপি পারিবাসের অর্থনীতিবিদেরা গত সপ্তাহে এক বিশ্লেষণে বলেছেন, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত ও মহামারি–পরবর্তী মূল্যস্ফীতির দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব মিলিয়ে যুক্তরাষ্ট্র এখনো স্থায়ী মূল্যস্ফীতির ঝুঁকিতে রয়েছে।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

শুল্কমুক্ত সুবিধায় ব্যবসায়ীদের আগ্রহে ভাটা

পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না।   একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।   এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন।   গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে।   জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে।   সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে।   কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে।   প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে।   আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’   সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না।   এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।

লোহিত সাগরেও হরমুজের মতো নিয়ন্ত্রণ চায় হুতিরা: ইয়েমেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী

  ইরানের মতো লোহিত সাগরের বাব আল-মান্দেব প্রণালিও নিয়ন্ত্রণে নিতে চায় ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীরা। এমন অভিযোগ করেছেন আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ইয়েমেন সরকারের মনোনীত পররাষ্ট্রমন্ত্রী আফরাহ আল-জৌবা।   সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, হুতিরা ইরানের হরমুজ প্রণালি নিয়ন্ত্রণের কৌশল অনুসরণ করতে চাইছে। এতে হরমুজ ও বাব আল-মান্দেব—বিশ্ব বাণিজ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দুটি নৌপথই ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।   তিনি অভিযোগ করেন, হুতিদের কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দুর্বল প্রতিক্রিয়াই তাদের আরও সাহসী করে তুলেছে।   বাব আল-মান্দেব প্রণালি লোহিত সাগরকে এডেন উপসাগর ও ভারত মহাসাগরের সঙ্গে যুক্ত করেছে। বিশ্বের প্রায় ৩০ শতাংশ কনটেইনার পরিবহন এবং ১২-১৫ শতাংশ বৈশ্বিক বাণিজ্য এই নৌপথ দিয়ে পরিচালিত হয়।   সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, লোহিত সাগর দিয়ে জাহাজ চলাচল কমে গেছে। রোববার মাত্র ১১টি পণ্যবাহী জাহাজ এ পথ অতিক্রম করেছে।   চলতি মাসের শুরুতে হুতিরা সৌদি আরবগামী ও সৌদি আরব থেকে ছেড়ে যাওয়া জাহাজের ওপর সামুদ্রিক অবরোধ ঘোষণা করে। পাশাপাশি দেশটির দিকে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলাও চালায়।   এর জবাবে সৌদি আরব হুতি-নিয়ন্ত্রিত গুরুত্বপূর্ণ বন্দরনগরী হোদেইদায় বিমান হামলা চালায়।   আফরাহ আল-জৌবা বলেন, ইয়েমেন সরকার পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য প্রস্তুত রয়েছে। তিনি জানান, সরকার-নিয়ন্ত্রিত ও হুতি-নিয়ন্ত্রিত এলাকার সীমান্তে উভয় পক্ষের মধ্যে গোলাগুলি চলছে, তবে এখনো বড় ধরনের সামরিক অভিযান শুরু হয়নি।   ২০১৪ সালে হুতিরা রাজধানী সানায়া দখল করার পর ইয়েমেনে গৃহযুদ্ধ শুরু হয়। ২০২২ সালে যুদ্ধবিরতি হলেও হুতিরা এখনো রাজধানীসহ দেশের বড় একটি অংশ নিয়ন্ত্রণ করছে। বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক উত্তেজনা লোহিত সাগরে নিরাপত্তা ও বৈশ্বিক বাণিজ্যের জন্য নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করছে।

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি জুলাই ২৮, ২০২৬

হরমুজ প্রণালির জাহাজগুলোকে হুমকির অভিযোগ ইরানের

ইরাকের কুর্দি নিয়ন্ত্রিত গ্যাসক্ষেত্রে ভয়াবহ ড্রোন হামলা

ছবি : সংগৃহীত

উত্তর সীমান্তে চীনের ‘জে-২০’ মোতায়েন, ভারত সীমান্তে বাড়ছে উদ্বেগ

ছবি : সংগৃহীত
সলোমন দ্বীপপুঞ্জের বিশাল স্বর্ণের খনিতে ধস

প্রশান্ত মহাসাগরীয় দেশ সলোমন দ্বীপপুঞ্জের একটি বড় স্বর্ণখনিতে ভূমিধস হয়েছে। দেশটির জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা দপ্তর এ তথ্য জানিয়েছে। হতাহতের সংখ্যা এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত না হলেও একাধিক মানুষের মৃত্যুর আশঙ্কা করা হচ্ছে।   বার্তা সংস্থা এএফপির খবরে বলা হয়েছে, রাজধানী হোনিয়ারা থেকে প্রায় ২৫ কিলোমিটার দক্ষিণ-পূর্বে অবস্থিত চীনের মালিকানাধীন গোল্ড রিজ স্বর্ণখনিতে এ দুর্ঘটনা ঘটে। রয়্যাল সলোমন আইল্যান্ডস পুলিশ হতাহতের সংখ্যা নিয়ে কোনো মন্তব্য করেনি। তবে স্থানীয় সংবাদমাধ্যম ইন-ডেপথ সলোমনস জানিয়েছে, ঘটনাস্থল থেকে অন্তত ১০টি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। হোনিয়ারার ন্যাশনাল রেফারেল হাসপাতাল জানিয়েছে, তারা আহতদের চিকিৎসার জন্য প্রস্তুতি নিয়েছে। হাসপাতালের এক কর্মী লাইরেক্স অ্যালিক বলেন, কয়েকজনের মৃত্যু হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ছবি ও ভিডিওতে দেখা গেছে, ভারী যন্ত্রপাতি দিয়ে ধসে পড়া পাথর ও মাটি সরিয়ে উদ্ধারকাজ চালানো হচ্ছে। গোল্ড রিজ খনির বেশিরভাগ মালিকানা চীনা প্রতিষ্ঠান ওয়াংগুও ইন্টারন্যাশনাল মাইনিংয়ের। প্রতিষ্ঠানটি গত মে মাসে জানিয়েছিল, গত বছর সলোমন দ্বীপপুঞ্জের মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রায় এক-চতুর্থাংশ এই খনির মাধ্যমে এসেছে। গত বছরই খনিটির সম্প্রসারণ কার্যক্রম শুরু হয়। দুর্ঘটনার বিষয়ে গোল্ড রিজ খনি ও ওয়াংগুও ইন্টারন্যাশনাল মাইনিং এখন পর্যন্ত কোনো মন্তব্য করেনি। এদিকে দেশটির নতুন প্রধানমন্ত্রী ম্যাথিউ ওয়ালে সম্প্রতি খনি খাতে সংস্কারের পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন। তার লক্ষ্য, দেশের খনিজ সম্পদ থেকে পাওয়া আয়ের বড় একটি অংশ স্থানীয় অর্থনীতির উন্নয়নে ব্যয় করা।

মোঃ নাহিদ হোসেন জুলাই ২৭, ২০২৬
মোজতবা খামেনি। ছবি: সংগৃহীত

ইসরাইলের হামলা বন্ধে শান্তি চুক্তির শর্ত ইরানের

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান উত্তেজনা কমায় ৪% কমল তেলের দাম

আলোচনার সুযোগ দিতে ইরানে হামলা স্থগিত রেখেছেন ট্রাম্প: মার্কিন রাষ্ট্রদূত

যুক্তরাষ্ট্রের সিয়াটলে গুলিতে নিহত ২, আহত ৫

যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন অঙ্গরাজ্যের সিয়াটল শহরে স্পেস নিডল পর্যবেক্ষণ টাওয়ারের কাছে বন্দুকধারীদের গুলিতে দুইজন নিহত এবং অন্তত পাঁচজন আহত হয়েছেন। খবর বিবিসির।   স্থানীয় সময় রোববার সিয়াটল সেন্টার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। সিয়াটল অগ্নিনির্বাপক বিভাগ জানিয়েছে, নিহত দুইজনকে ঘটনাস্থলেই মৃত ঘোষণা করা হয়।   আহতদের মধ্যে দুই বছর বয়সী একটি শিশু রয়েছে। তাকে স্থিতিশীল অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এছাড়া ৫৬ বছর বয়সী এক নারীর অবস্থা গুরুতর। আরেকজন আহত ব্যক্তি সামান্য আঘাত পাওয়ায় হাসপাতালে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।   সিয়াটল পুলিশ জানিয়েছে, হামলার সময় এলাকায় একাধিক বন্দুকধারী থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে এখন পর্যন্ত কাউকে আটক করা হয়েছে কি না, সে বিষয়ে কোনো তথ্য জানানো হয়নি। ঘটনার তদন্ত চলছে।   ঘটনার সময় সিয়াটল সেন্টারে ‘বাইট অব সিয়াটল’ নামে একটি জনপ্রিয় খাদ্য উৎসব চলছিল। সপ্তাহান্তের এ উৎসবে শত শত খাবারের স্টল, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও সংগীত পরিবেশনার আয়োজন ছিল। গুলির ঘটনার পর নিরাপত্তা বাহিনী পুরো এলাকা ঘিরে ফেলে।

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি জুলাই ২৭, ২০২৬

ইরান যুদ্ধে হতাহত ৬৪২ মার্কিন সেনা

যে শহরকে বলা হয় ‘নিষিদ্ধ নগরী’

হামলা-পাল্টা হামলা বন্ধ রেখেছে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র

0 Comments