সাদা কিংবা কালো কাপড়ের জমিনে কলেমা তায়্যিবা খচিত পতাকা গত এক সপ্তাহ ধরে ছড়িয়ে পড়েছে সারা দেশে।
যারা পতাকা ছড়াচ্ছেন বা পতাকা হাতে মিছিল করছেন, তাদের যুক্তি, দেশে ব্রাজিল বা আর্জেন্টিনার পতাকা ওড়াতে পারলে ‘কলেমার পতাকায়’ সমস্যা কোথায়?
আবার ভূ-রাজনীতি নিয়ে সচেতন ব্যক্তিরা বলছেন, এই পতাকা দেখিয়েই বাংলাদেশকে জঙ্গি রাষ্ট্র হিসেবে চিহ্নিত করার চেষ্টা করতে পারে কোনো মহল। এই অর্থনৈতিক সংকটের সময় তা দেশের জন্য ভালো হবে না, প্রবাসে থাকা বাংলাদেশিরাও বিপদে পড়তে পারেন।
সে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে বিষয়টি খতিয়ে দেওয়ার পরামর্শও দিচ্ছেন কেউ কেউ।
২০২৪ সালর ৫ অগাস্ট জুলাই অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতন পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন বিক্ষোভ, মিছিল ও সমাবেশে দুয়েকজনকে এরকম কালেমা খচিত পতাকা প্রদর্শন করতে দেখা যায়।
বিষয়টি নিয়ে তখন দেশের কিছু সংবাদমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। তবে গত দুই সপ্তাহে ঢাকা থেকে শুরু হওয়া পতাকার জোয়ার দেশের নানা প্রান্তে ছড়িয়েছে। বিভিন্ন সেতু ও ফ্লাইওভার এই পতাকা দিয়ে সাজানো হয়েছে, দেশের বিভিন্ন জায়গায় পতাকা হাতে মিছিল ও মোটরসাইকেল মিছিল করা হচ্ছে।
এ নিয়ে আলোচনা বা বাদানুবাদ চললেও বিষয়টি নিয়ে নীরব দেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। এমনকি কর্মকর্তারা বিষয়টি নিয়ে আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করতেও রাজি হননি।
ইসলাম ধর্মের ভিত্তি ধরা হয় কলেমা তাইয়্যেবাকে। যেখানে বলা হয়েছে, “আল্লাহ ছাড়া আর কোনো উপাস্য নেই এবং হযরত মুহাম্মদ (সা.) আল্লাহর প্রেরিত রাসুল।
বিগত দশকগুলোতে আল কায়েদা, ইসলামিক স্টেট, বোকো হারামের মতো উগ্রবাদী গোষ্ঠীগুলো এই কালেমাকে তাদের পরিচিতির (ব্রান্ডিংয়ের) অংশ হিসেবে তুলে ধরেছে।
কালো কাপড়ের জমিনে সাদা আরবি হরফে লেখা কালেমা তাইয়্যেবাকে নিজেদের পতাকা বা চিহ্ন হিসেবে প্রদর্শন করে আসছে এই উগ্রবাদী সংগঠনগুলো। যার কারণে যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপসহ বিশ্বের একাংশের মানুষের কাছে কালেমাখচিত এই পতাকা উগ্রবাদের ‘প্রতীক’ হয়ে উঠেছে।
গত কয়েক দিনে ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ, ফরিদপুর, গোপালগঞ্জ, বগুড়াসহ বিভিন্ন জেলায় কালেমার পতাকা দিয়ে রাস্তা ও সেতু শোভিত করা বা পতাকা হাতে মোটরসাইকেল মিছিল করতে দেখা গেছে লোকজনকে। কোথাও কোথাও মিছিলকারীরা নিজেদের ‘তৌহিদী জনতা’ হিসেবে পরিচয় দিয়েছেন।
ঢাকার যাত্রাবাড়ী ফ্লাইওভার থেকে ‘কালেমার পতাকা অপসারণ ও অবমাননার’ প্রতিবাদে শুক্রবার বগুড়ার শেরপুরে ‘তৌহিদী জনতার’ ব্যানারে কালেমাখচিত পতাকা হাতে মিছিল করেছেন একদল লোক। ওই মিছিলে বাংলাদেশের লাল সবুজ পতাকা ও ফিলিস্তিনের পতাকাও বহন করতে দেখা গেছে।
গত বছর ‘তৌহিদী জনতা’র বিরুদ্ধে বিভিন্ন পীরের দরগা, মাজার ও বাউলদের আখড়ায় হামলার অভিযোগ উঠেছিল। তবে সেই ‘তৌহিদী জনতা’ এবং পতাকা হাতে মিছিলকারী ‘তৌহিদী জনতা’ একই গোষ্ঠী কি না, সে বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
ফেইসবুকের বিভিন্ন ধর্মভিত্তিক পেইজ ও মার্কেটপ্লেসে অনেকেই কালেমাখচিত পতাকা বিক্রি করছেন। আকার ভেদে ১১০ থেকে ৩৩০ টাকা পর্যন্ত দামে পতাকা পাওয়া যাচ্ছে।
ফেইসবুকের বিভিন্ন পেইজে পতাকা ওড়ানোর পক্ষে যুক্তি হিসেবে হেফাজতে ইসলামের শীর্ষ নেতা মুফতি হারুন বিন ইজহারকে ‘উদ্ধৃত’ করা হচ্ছে।
হারুন ইজহার এমন পতাকা ছড়িয়ে দিতে বলেছেন–এমন ফটোকার্ডও ফেইসবুকের বহু পেইজ ও আইডিতে ভেসে বেড়াচ্ছে। এ বিষয়ে কথা বলার জন্য মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি।
তবে মাসুক মিডিয়া নামে একটি ফেইসবুক চ্যানেলে প্রচারিত মুফতি ইজহারের ভিডিওতে তাকে বলতে শোনা যায়, “এই যে আর্জেন্টিনা, তারপরে এই যে বদমায়েশি শুরু হইছে। আলহামদুলিল্লাহ আমাদের তরুণেরা কালেমার পতাকা লাগানো শুরু করছে। আপনারা সব জায়গায় কালেমার পতাকা লাগাই দিবেন। যদি এটা জঙ্গিবাদ হয়ে থাকে তাহলে আর্জেন্টিনা আর ব্রাজিল এগুলো সব পতাকা নামেইতে হবে। এগুলো থাকবে তো আমাদের কালেমার পতাকাও থাকবে।
শুক্রবার চট্টগ্রামের একটি মসজিদে হারুন ইজহারের দেওয়া বয়ানের একটি ভিডিও তার নিজের পেইজেও শেয়ার করা হয়েছে। সেখানে তিনি কলেমার পতাকা বিষয়ে বলেন, “কিছু কৌশলগত বিষয় আছে এটা একটু বোঝার চেষ্টা করবেন। এই কালেমার পতাকা মানেই কি আইএস, তালেবান নাকি?
এটা হওয়ার কারণ আছে, সেটা হল আমাদের যুবকরা যে পতাকার ডিজাইনটা ব্যবহার করে... যেহেতু তালেবান একটা বিশাল শক্তি বিশ্বের এবং অনলাইনের কারণে বিভিন্ন আরো জিহাদি সংগঠনগুলোর পতাকা পরিচিত হয়ে গেছে। আর ডিজাইন করতে গেলেই ওই ডিজাইনগুলো চলে আসে। কেন, আপনারা তো বর্ণাঢ্য পতাকা করতে পারেন।
তার ভাষায়, কালেমার পতাকার বিষয়ে কেউ কেউ ‘অযথা আতঙ্কিত’ হচ্ছেন এবং এটি ‘মানসিক রোগ’।
অন্যদিকে কালেমার পতাকা ওড়ানো নিয়ে ইসলামি লেখক ফারুক ফেরদৌস ফেইসবুকে এক পোস্টে লিখেছেন, কালিমা নিয়ে কিন্তু প্রশ্ন না। বাংলাদেশ সেনাবাহিনীও কালিমা বা আয়াত খচিত পতাকা ব্যবহার করে। প্রশ্ন হচ্ছে কালিমাসহ পতাকার নির্দিষ্ট ডিজাইন নিয়ে–যা বাইরের কোনো কোনো গোষ্ঠীর পতাকার সাথে মিলে যায় এবং এটা নিয়ে বিপদজনক অপপ্রচারের আশংকা তৈরি হয়।
আরেক ইসলামি লেখক মনযূরুল হক তার ফেইসবুকে লিখেছেন, “কালেমা লেখা পতাকা দেখেই ভড়কায়েন না। সৌদির পতাকাতেও কালেমা লেখা আছে, তাতে তাদের ইসরায়েলের সঙ্গে জোট বেঁধে ইরানে হামলা করতে কুণ্ঠা হয় নাই। যদিও ইরানের পতাকায়ও ‘আল্লাহ’ লেখা আছে।
তার পর্যবেক্ষণ হল, ‘কালেমার পতাকা’ একটা রাজনৈতিক প্রতীক মাত্র, তাতে ‘ইসলাম’ প্রতিষ্ঠার চেয়ে পতাকাধারীদের রাজনৈতিক মতাদর্শ প্রতিষ্ঠার আহ্বানই বেশি।

মনযূরুল হক বলেন, যতদূর জানি, নবীজির পতাকায় ‘কালিমা লেখা’ ছিল বলে শক্তিশালী বর্ণনা নেই। তাবারানি থেকে যে বর্ণনা পাওয়া যায়, তা ইমাম ইবনে হাজারের মতে দুর্বল (জয়িফ) মত। পতাকায় ইসলামের বাণী বা কালেমা লেখার সূচনা আব্বাসি যুগে হয় বলে ইতিহাসে পাওয়া যায়।
কালেমা তো ভালো, খারেজিরা বর্শার মাথায় কোরআন উঁচু করে বলেছিল—‘লা হুকমা ইল্লা লিল্লাহ’, মানে কেবল আল্লাহর বিধান চলবে। আলী (রা.) তখন একটি প্রবাদসম উক্তি করেছিলেন, ‘কালিমাতু হাক্কিন উরিদা বিহাল বাতিল’, মানে তাদের কথা সত্য, কিন্তু মতলব খারাপ।
নেপথ্যে কী? সমস্যা কোথায়?
বাংলাদেশের আনাচে কানাচে এই পতাকা হাতে মিছিল বা পতাকা ওড়ানোর ঘটনাকে পশ্চিমারা উগ্রবাদের বিস্তার হিসেবে দেখলে বিষয়টি দেশের বাণিজ্য সম্পর্ক থেকে শুরু করে প্রবাসীদের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে বলে অনেকে মনে করছেন।
ঢাকা মহানগর পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিটের একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “কালেমার পতাকা নিয়ে আমাদের কাজ করতে এখনো বলা হয়নি। আমরা দেখছি, এটাকে মনে হচ্ছে ভিনদেশি উগ্রবাদীদের কিছু আচরণ বা সংস্কৃতিকে মূলধারায় আনার চেষ্টা করছে একটা গোষ্ঠী। মনে হচ্ছে তারা খুব সুকৌশলে কালেমার নামে সাধারণ ধর্মপ্রাণ মানুষের নৈতিক সমর্থন পেতে চাইছেন।
দেশে মানবাধিকারকর্মী ও অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় গঠিত গুম বিরোধী তদন্ত কমিশনের সদস্য নূর খান পতাকার এই বিষয়টিকে ভালোভাবে দেখছেন না।
তিনি বলেন, “এই পতাকাকে কীভাবে ব্যবহার হচ্ছে সেটা হচ্ছে আমাদের কাছে প্রধান বিবেচ্য বিষয়। যদি সাধারণ মুসলিমরা এই পতাকা ওড়ায় তাহলে তো কোনো কথাই নেই। তবে একটা উগ্র রাজনৈতিক চিন্তা নিয়ে সমাজকে গ্রাস করার প্রতীকী লড়াইয়ে একটা গোষ্ঠী নেমেছে, এমন আশঙ্কা করার যথেষ্ট কারণ আছে।
যদি উগ্রবাদী আদর্শ বিস্তারের প্রতীক হিসেবে এই পতাকাকে ব্যবহার করে, তাহলে আমাদের বাণিজ্যসহ আন্তর্জাতিক সম্পর্কের অবনতির সম্ভাবনা থাকে।
নিরাপত্তা বিশ্লেষক ও অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সাবেক উপদেষ্টা এম সাখাওয়াত হোসেন বলেন, এই ব্যক্তিরা কারা সেটা আসলে একটু খুঁজে দেখা দরকার আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর। এখন তারা যেটা বলছে আর্জেন্টিনা বা ব্রাজিলের পতাকা ওড়ার যে যুক্তি আসছে, তাতে এখানে অন্য দেশের পতাকা থাকলেও কথা ছিল। কিন্তু এই পতাকা যেটা একটি বিশেষ গোষ্ঠীর সিম্বলিক হিসেবে গণ্য হয়, অনেক অর্গানাইজেশন, যেগুলো আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বিভিন্ন নামে পরিচিত, তারা ব্যবহার করছে।
যখন ভারতে কর্মরত ইসরাইলের একজন কূটনীতিক বাংলাদেশে ‘হামাস’ এর তৎপরতার অভিযোগ তুলেছেন, সেই সময়ে এই পতাকা নিয়ে তৎপরতার কথা তুলে ধরে সাবেক সেনা কর্মকর্তা সাখাওয়াত বলেন, কেউ বাংলাদেশকে আবার বিশৃঙ্খল রাষ্ট্রে পরিণত করার চিন্তাভাবনা করছে বা ওরকম পরিচিতি দেওয়ার ব্যবস্থা করা হচ্ছে কি না, তাতো বলতে পারি না। আমার মনে হয়, এটা খতিয়ে দেখা দরকার।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
কক্সবাজারের টেকনাফ উপকূলে আরও এক অজ্ঞাত যুবকের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ নিয়ে গত ১২ দিনের ব্যবধানে টেকনাফ উপকূলের বিভিন্ন স্থান থেকে মোট পাঁচটি মরদেহ উদ্ধার করা হলো। ধারাবাহিকভাবে মরদেহ ভেসে আসার ঘটনায় সমুদ্রপথে মানবপাচার কিংবা মালয়েশিয়াগামী ট্রলারডুবির ঘটনার সঙ্গে যোগসূত্র থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। রোববার (১৯ জুলাই) সকাল সাড়ে ১১টার দিকে শাহপরীর দ্বীপ জেটিঘাটসংলগ্ন বিজিবি বিওপির সামনে নাফ নদীর তীর থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। সাবরাং ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আব্দুল মান্নান জানান, স্থানীয়দের কাছ থেকে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহটি উদ্ধার করে। তবে তাৎক্ষণিকভাবে নিহত ব্যক্তির পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। শাহপরীর দ্বীপ পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই সনজীব জানান, দীর্ঘ সময় পানিতে থাকায় মরদেহটির চেহারা বিকৃত হয়ে গেছে। মৃত ব্যক্তির পরনে গাঢ় নীল রঙের হাফ প্যান্ট ও হালকা সবুজ রঙের জার্সি ছিল। মুখে হালকা দাড়ি-গোঁফ রয়েছে এবং বয়স আনুমানিক ৩০ থেকে ৩৫ বছরের মধ্যে হতে পারে। প্রাথমিকভাবে শরীরে কোনো দৃশ্যমান আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। টেকনাফ নৌ পুলিশের এসআই সুমন চন্দ্র নাথ বলেন, মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করা হচ্ছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহটি কক্সবাজার সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হবে। তিনি জানান, মৃত ব্যক্তি বাংলাদেশি নাকি রোহিঙ্গা—তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। পরিচয় শনাক্তে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। এদিকে সম্প্রতি জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম) ও শরণার্থীবিষয়ক সংস্থা (ইউএনএইচসিআর) জানিয়েছে, মালয়েশিয়াগামী দুটি নৌকা বঙ্গোপসাগরে ডুবে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। সংস্থাগুলোর তথ্য অনুযায়ী, জুনের শেষ দিকে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্য থেকে যাত্রা শুরু করা দুটি নৌকায় মোট পাঁচ শতাধিক যাত্রী ছিলেন, যাদের বেশির ভাগই রোহিঙ্গা। তাদের মধ্যে কিছু বাংলাদেশে অবস্থানরত শরণার্থী শিবির থেকেও যাত্রা করেছিলেন। এর আগে ৮ জুলাই টেকনাফের শাহপরীর দ্বীপ, সেন্ট মার্টিন ও রাজারছড়া সৈকত থেকে তিন অজ্ঞাত নারীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে ১০ জুলাই শাহপরীর দ্বীপসংলগ্ন সৈকত থেকে একটি মানবকঙ্কাল উদ্ধার করে পুলিশ। পুলিশ জানিয়েছে, উদ্ধার হওয়া মরদেহগুলোর সঙ্গে সাম্প্রতিক ট্রলারডুবির কোনো সম্পর্ক রয়েছে কি না, তা পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার আগে বলা সম্ভব নয়। স্থানীয়দের মতে, কয়েক দিনের বৈরী আবহাওয়া ও উত্তাল বঙ্গোপসাগরের কারণে নাফ নদী ও উপকূলীয় এলাকায় আরও মরদেহ ভেসে আসার আশঙ্কা রয়েছে।
কুমিল্লার দেবিদ্বার উপজেলার বড়শালঘর ইউনিয়নের বাসিন্দাদের সঙ্গে মতবিনিময় করেছেন কুমিল্লা-৪ (দেবিদ্বার) আসনের সংসদ সদস্য হাসনাত আব্দুল্লাহ। এ সময় স্থানীয় আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ দলটির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন। সভায় আওয়ামী লীগ নেতারা উপস্থিত থাকায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন দেবীদ্বার উপজেলা বিএনপি এবং অঙ্গ সংগঠন । শুক্রবার (১৭ জুলাই) দুপুরে উপজেলার সংচাইল এলাকায় অবস্থিত স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা ও বড়শালঘর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি আলহাজ্ব আউয়াল চেয়ারম্যানের প্রভাতী ফিসারিজ অফিস কক্ষে এ আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সভায় বড়শালঘর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি আলহাজ্ব আউয়াল চেয়ারম্যান, সাধারণ সম্পাদক আহসানুর রশিদ শামীম, ছোটশালঘর আওয়ামী লীগের নেতা মো. শাজাহান মাস্টারসহ আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন ওয়ার্ডের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। সভায় স্থানীয় জনগণের বিভিন্ন সমস্যা, অবকাঠামো উন্নয়ন, যোগাযোগ ব্যবস্থা ও জনসেবাসংক্রান্ত বিষয় নিয়ে উপস্থিত ব্যক্তিদের বক্তব্য মনোযোগ দিয়ে শোনেন এমপি হাসনাত আব্দুল্লাহ। তিনি আলোচনায় উত্থাপিত বিভিন্ন সমস্যার বিষয় নিজ হাতে একটি ডায়েরিতে নোট করে সংশ্লিষ্ট বিষয়ে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়ার আশ্বাস দেন। এদিকে, আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত এ সভার খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়ার পর স্থানীয় বিএনপি এবং বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতাকর্মীদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে বলে একাধিক স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে। ঘটনাটি নিয়ে এলাকায় রাজনৈতিক মহলে নানা আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। দেবিদ্বার উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক জসিম উদদীন সরকার দৈনিক আমার দেশ কে বলেন, হাসনাত আব্দুল্লাহর কথার সাথে কাজের কোন মিল নেই । সে মাঠে বলে একরকম কাজ করে আর একরকম । সে কিভাবে আওয়ামী লীগের ইউনিয়ন সভাপতি এবং সাধারণ সম্পাদক নিয়ে মিটিং করে । জনগণ তার এমন আচরণে ক্ষুব্ধ। এই বিষয়ে বড়শালঘর ইউনিয়নের আওয়ামীলীগ সভাপতি আউয়াল চেয়ারম্যানকে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি। আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক নিয়ে বৈঠক করেছেন এ বিষয়ে জানতে চাইলে কুমিল্লা -৪ আসনের সংসদ সদস্য হাসনাত আব্দুল্লাহ কে হোয়াটসঅ্যাপে খোদে বার্তা পাঠিয়ে কোন উত্তর পাওয়া যায় নি এবং তিনি ফোন ধরেননি।
জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্যের বরিশাল বিভাগীয় সমাবেশ আজ। শনিবার (১৮ জুলাই) দুপুর ২টায় কেন্দ্রীয় হেমায়েত উদ্দিন ঈদগাহে অনুষ্ঠাতব্য এই সমাবেশে অংশ নেবেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধী দলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। এছাড়াও জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি), লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এলডিপি), বাংলাদেশ খেলাফত মসজিল, আমার বাংলাদেশ পার্টি (এবি পার্টি), বাংলাদেশ লেবার পার্টি, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি (জগপা) সহ ১১ দলীয় ঐক্যের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ অংশগ্রহণ করবেন। বিভাগীয় সমাবেশ সফল করতে সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে সমাবেশ বাস্তবায়ন কমিটি। সমাবেশ স্থলে মঞ্চ তৈরির পাশাপাশি বরিশালজুড়ে পোস্টার, বিলবোর্ড লাগানো হয়েছে। দফায় দফায় বৈঠক করেছেন ১১ দলীয় ঐক্যের স্থানীয় নেতারা। জামায়াতে ইসলামীর বরিশাল অঞ্চল পরিচালক ও দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল অ্যাডভোকেট মুয়ায্যম হোসাইন হেলাল জানিয়েছেন, গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, জনদুর্ভোগ নিরসন, দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ ও যোগাযোগ ব্যবস্থাসহ অবহেলিত দক্ষিণাঞ্চলের সার্বিক উন্নয়নের দাবিতে ১১ দলীয় ঐক্যের বরিশাল বিভাগীয় সমাবেশ আয়োজন করা হয়েছে। সমাবেশে প্রায় পাঁচ লাখ মানুষের সমাগমের প্রস্তুতি রয়েছে তাদের। দুপুর ২টায় কেন্দ্রীয় হেমায়েত উদ্দিন ঈদগাহে সমাবেশ শুরু হবে। তিনি জানান, বিভাগীয় সমাবেশে জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধী দলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখবেন। সভাপতিত্ব করবেন কেন্দ্রীয় কমিটির সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল অ্যাডভোকেট মুয়ায্যম হোসাইন হেলাল। এছাড়াও বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম, এলডিপির চেয়ারম্যান ড. কর্নেল অলি আহমদ-বীর বিক্রম, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির আল্লামা মামুনুল হক, এবি পার্টির চেয়ারম্যান মুজিবুর রহমান মঞ্জু, বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, জাগপা’র সহ-সভাপতি ও মুখপাত্র ইঞ্জিনিয়ার রাশেদ প্রধান, বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টির ভারপ্রাপ্ত আমির আল্লামা আবদুল কাইয়ুম সুবহানী এবং বিডিপি’র চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট একেএম আনোয়ারুল ইসলাম চাঁনসহ ঐক্য জোটের কেন্দ্রীয় এবং স্থানীয় নেতৃবৃন্দ বক্তব্য রাখবেন। মুয়ায্যম হোসাইন হেলাল বলেন, বিরোধী দলীয় নেতা ও আমিরে জামায়াত ডা. শফিকুর রহমান শনিবার সকালে সড়ক পথে বরিশাল এসে পৌঁছাবেন। নগরীর প্রবেশদ্বার গড়িয়ারপার থেকে শুরু করে নথুল্লাবাদ, হাতেম আলী চৌমাথা, আমতলার মোরসহ সার্কিট হাউস পর্যন্ত সড়কের গুরুত্বপূর্ণ স্থানে দলীয় নেতাকর্মীরা তাকে বরণ এবং সংবর্ধনা জানাবেন। তিনি বলেন, সমাবেশ বাস্তবায়ন এবং সুশৃঙ্খল করতে বরিশাল বিভাগের বিভিন্ন জেলা থেকে আগত পরিবহন ও নৌযান নোঙরের ব্যবস্থা করা হয়েছে। সমাবেশে আগত নেতাকর্মীদের জন্য পর্যাপ্ত নিরাপত্তা, চিকিৎসা সহায়তা ও পয়োনিষ্কাশনের ব্যবস্থা করা হয়েছে। সমাবেশে আগত নেতাকর্মীদের যেকোনো সমস্যা সমাধানের জন্য গুরুত্বপূর্ণ স্থানসমূহে পর্যাপ্ত স্বেচ্ছাসেবক প্রস্তুত রাখা হয়েছে। সমাবেশের নিরাপত্তায় দায়িত্বপালন করা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য ও মিডিয়া কর্মীদের পেশাগত দায়িত্ব পালনের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।