আন্তর্জাতিক

হরমুজের বিকল্পে নতুন বন্দর গড়ার পরিকল্পনা আমিরাতের

মো: দেলোয়ার হোসাইন জুলাই ১৫, ২০২৬
ছবি : সংগৃহীত
ছবি : সংগৃহীত

হরমুজ প্রণালির ওপর নির্ভরতা কমাতে সংযুক্ত আরব আমিরাতের পূর্ব উপকূলে নতুন বন্দর নির্মাণের পরিকল্পনা করছে দেশটির বহুজাতিক লজিস্টিকস প্রতিষ্ঠান ডিপি ওয়ার্ল্ড। এ লক্ষ্যে ফুজাইরাহ উপকূলে একটি নতুন বহুমুখী বন্দর এবং বিদ্যমান বন্দরে নতুন কনটেইনার টার্মিনাল নির্মাণের বিষয়ে আলোচনা চলছে। এ তথ্য জানিয়েছে ফাইন্যান্সিয়াল টাইমস।

 

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতার ঝুঁকি মোকাবিলা এবং হরমুজ প্রণালির ওপর নির্ভরতা কমানোর বৃহত্তর পরিকল্পনার অংশ হিসেবেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রকে ঘিরে সাম্প্রতিক উত্তেজনার কারণে হরমুজে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা থেকেই বিকল্প ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

 

নতুন বন্দর চালু হলে ওমান উপসাগরের মাধ্যমে হরমুজ প্রণালি ব্যবহার ছাড়াই আমিরাতে পণ্য আনা-নেওয়া সম্ভব হবে। পরে সড়কপথে এসব পণ্য দুবাই, আবুধাবি এবং উপসাগরীয় অন্যান্য দেশে পরিবহন করা হবে।

 

বর্তমানে প্রকল্পের শর্তাবলি নিয়ে আমিরাতের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা চলছে। তবে প্রকল্পের কাঠামো ও অর্থায়ন এখনো চূড়ান্ত হয়নি।

 

ডিপি ওয়ার্ল্ডের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, নতুন বন্দর দেড় বছরের মধ্যেই নির্মাণ শেষ হতে পারে।

 

ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে হরমুজ প্রণালি বন্ধ হওয়ার পর আমিরাতের জেবেল আলি বন্দরের কার্যক্রম ৯০ থেকে ৯৫ শতাংশ কমে যায়। এরপর থেকেই বিকল্প রুট ও অবকাঠামো গড়ে তোলার উদ্যোগ নেয় ডিপি ওয়ার্ল্ড।

 

তবে প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, নতুন বন্দর নির্মাণের অর্থ জেবেল আলি বন্দরের গুরুত্ব কমে যাওয়া নয়। ভবিষ্যতে প্রয়োজন অনুযায়ী নতুন স্থাপনাগুলোর সক্ষমতা আরও বাড়ানো হবে।

 

সূত্র: ফাইন্যান্সিয়াল টাইমস

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

শুল্কমুক্ত সুবিধায় ব্যবসায়ীদের আগ্রহে ভাটা

পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না।   একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।   এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন।   গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে।   জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে।   সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে।   কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে।   প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে।   আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’   সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না।   এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।

আন্তর্জাতিক

আরও দেখুন
ছবি: সংগৃহীত
পাকিস্তান-চীনের নতুন সীমান্ত চুক্তিতে ভারত কেন ক্ষুব্ধ

হিমালয়ের বিরোধপূর্ণ একটি অঞ্চল নিয়ে পাকিস্তান ও চীনের নতুন সীমান্ত চুক্তিতে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে ভারত। কয়েক দশক ধরে ওই এলাকায় পাকিস্তান-চীন সীমান্তকে স্বীকৃতি দিতে অস্বীকৃতি জানিয়ে আসছে দিল্লি। তাদের দাবি, অঞ্চলটি ভারতের ভূখণ্ডের অংশ।   বিবিসির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত সপ্তাহে দুর্গম পার্বত্য ওই এলাকায় সীমান্ত আনুষ্ঠানিকভাবে নির্ধারণের উদ্যোগ নেয় পাকিস্তান ও চীন। দুই দেশ ‘পাকিস্তান-চীন বাউন্ডারি জয়েন্ট কমিশন’ গঠনের বিষয়ে চুক্তি করেছে। পাকিস্তান এটিকে গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বর্ণনা করে জানিয়েছে, এর মাধ্যমে সীমান্ত ব্যবস্থাপনা, বাণিজ্য ও যোগাযোগে দুই দেশের সহযোগিতা আরও গভীর হবে।   তবে ভারত এই উদ্যোগ প্রত্যাখ্যান করেছে। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, ভারতীয় ভূখণ্ড হিসেবে দাবি করা এলাকায় পাকিস্তান-চীন কোনো সীমান্তের আইনগত ভিত্তি তারা স্বীকার করে না।   ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বলেন, পাকিস্তান ও চীনের মধ্যে কোনো সীমান্ত নেই। তথাকথিত যৌথ কমিশনকে আমরা প্রত্যাখ্যান করছি। এর কোনো আইনগত ভিত্তি নেই।   চুক্তিটি মূলত পাকিস্তান-চীন সীমান্তের শাকসগাম উপত্যকাসহ পার্বত্য এলাকার সীমান্ত ব্যবস্থাপনার সঙ্গে সম্পর্কিত। প্রায় ৫ হাজার ১৮০ বর্গকিলোমিটার আয়তনের শাকসগাম উপত্যকা ১৯৬৩ সালে পাকিস্তান চীনের কাছে হস্তান্তর করে। তবে ভারত এটিকে লাদাখের অংশ হিসেবে নিজেদের ভূখণ্ড দাবি করে।   ভারতের দাবি, অঞ্চলটি ছিল সাবেক দেশীয় রাজ্য জম্মু ও কাশ্মীরের অংশ। পাকিস্তান অবৈধভাবে অঞ্চলটি দখল করার পর চীনের কাছে হস্তান্তর করে। তাই ১৯৬৩ সালের চুক্তিকে ভারত কখনো স্বীকৃতি দেয়নি এবং এটিকে অবৈধ ও অকার্যকর বলে মনে করে। এ কারণেই নতুন ঘোষণাটি ভারতের কাছে বিশেষভাবে স্পর্শকাতর হয়ে উঠেছে।   ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, পাকিস্তানের অবৈধ ও জোরপূর্বক দখলে থাকা ভারতীয় ভূখণ্ড নিয়ে কোনো ধরনের ব্যবস্থা নেওয়ার আইনগত অধিকার পাকিস্তানের নেই।   অন্যদিকে পাকিস্তানের অবস্থান হলো, জম্মু ও কাশ্মীর এখনও একটি বিরোধপূর্ণ অঞ্চল। তাই চীনের সঙ্গে ১৯৬৩ সালের সীমান্ত চুক্তি নিয়ে প্রশ্ন তোলার অধিকার ভারতের নেই। ইসলামাবাদ চুক্তিটিকে বৈধ বলে মনে করে।   দিল্লির শিব নাদার বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক ও গভর্ন্যান্স স্টাডিজ বিভাগের অধ্যাপক জাবিন টি জ্যাকব বিবিসিকে বলেন, নতুন উদ্যোগটি পুরোপুরি নতুন কোনো ব্যবস্থা নয়; বরং পুরোনো একটি ব্যবস্থাকে আবার সক্রিয় করা হয়েছে।   তিনি বলেন, ১৯৬৩ সালের চীন-পাকিস্তান চুক্তিতেই একটি যৌথ সীমান্ত কমিশনের বিধান ছিল। এখন মূল বিষয় হলো, এটি কোন সময়ে কার্যকর করা হচ্ছে।   জ্যাকবের মতে, এর সময় নির্ধারণের পেছনে একাধিক কারণ থাকতে পারে। এর মধ্যে চীনের বিভিন্ন সীমান্ত আনুষ্ঠানিকভাবে নির্ধারণের বৃহত্তর উদ্যোগ এবং পাকিস্তানের অন্যান্য সীমান্তে সংঘাত ও অস্থিতিশীলতার সময় চীন-পাকিস্তান সীমান্তে যোগাযোগ ও চলাচলকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার চেষ্টা অন্যতম।   তবে এই উন্নয়নে ভারতের উদ্বিগ্ন হওয়ার কারণ রয়েছে বলেও মনে করেন জ্যাকব। বিশেষ করে ১৯৬৩ সালের চুক্তির একটি ধারার সঙ্গে বর্তমান উদ্যোগের সম্পর্ক রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।   তার তথ্য অনুযায়ী, চুক্তির ৬ নম্বর ধারায় কাশ্মীর বিরোধ নিষ্পত্তি হওয়ার পর যে দেশ ওই ভূখণ্ডের নিয়ন্ত্রণে থাকবে, তার সঙ্গে চুক্তিটি পুনরায় আলোচনার সুযোগ রাখা হয়েছিল।   আন্তর্জাতিক তথ্য ও গণমাধ্যমের ক্ষেত্রেও ভারতের জন্য বিষয়টি চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে বলে মনে করেন জ্যাকব। তার মতে, চীনের আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম ও তথ্যপরিসরে তুলনামূলক প্রভাব বেশি থাকায় দেশটি বিশ্বজুড়ে নিজেদের মানচিত্র ও অবস্থান তুলে ধরতে পারছে। অন্যদিকে ভারতের প্রতিক্রিয়া অনেক সময় অন্যান্য দেশের রাজধানীগুলো উপেক্ষা করতে পারে।   তবে সীমান্ত ব্যবস্থাপনার বাস্তব দিক থেকে পাকিস্তান ও চীনের মধ্যে এরই মধ্যে বিস্তৃত অবকাঠামো ও যোগাযোগব্যবস্থা রয়েছে। এর মধ্যে চীন-পাকিস্তান অর্থনৈতিক করিডোর (সিপিইসি) এবং কারাকোরাম মহাসড়ক অন্যতম।   যুক্তরাষ্ট্রে পাকিস্তানের সাবেক রাষ্ট্রদূত ও বর্তমানে আনোয়ার গারগাশ ডিপ্লোম্যাটিক একাডেমি এবং হাডসন ইনস্টিটিউটের জ্যেষ্ঠ ফেলো হুসেইন হাক্কানি বিবিসিকে বলেন, নতুন কমিশনটি একই সঙ্গে বাস্তবধর্মী ও রাজনৈতিক।   তিনি বলেন, এটি দুটিরই সমন্বয়। সীমান্ত ও সীমানা নিয়ে সহযোগিতা বাড়ানো, অবৈধ অনুপ্রবেশ ঠেকানো এবং সিপিইসির সঙ্গে যুক্ত কৌশলগত অবকাঠামো সুরক্ষিত রাখার জন্য এটি একটি ব্যবস্থা।   তবে এর মাধ্যমে ভারতকেও একটি বার্তা দেওয়া হয়েছে বলে মনে করেন হাক্কানি। তার মতে, কাশ্মীর ইস্যুতে বেইজিং এখনো পাকিস্তানের দৃষ্টিভঙ্গিকেই গুরুত্ব দেয়।   হাক্কানি বলেন, চীন কাশ্মীর নিয়ে ভারতের অবস্থান কখনও মেনে নেয়নি। গিলগিট-বালতিস্তানকেও চীন পাকিস্তানের দৃষ্টিকোণ থেকেই দেখে, ভারতের দৃষ্টিকোণ থেকে নয়।   তার মতে, ভারত-নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরে সাম্প্রতিক বিভিন্ন পদক্ষেপের পর পাকিস্তানের অবস্থানেও পরিবর্তন এসেছে। ২০১৯ সালে ভারতীয় সংবিধানের ৩৭০ অনুচ্ছেদ বাতিলের মতো পদক্ষেপের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ১৯৬৩ সাল থেকে চীনের সঙ্গে বাস্তবে যা হয়ে আসছে, সেটিকে এখন প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে পাকিস্তানের আপত্তি নেই।   বেইজিংয়ের জন্যও এই উদ্যোগ প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক কাজে লাগিয়ে ভারতের প্রতি নিজেদের অবস্থান জানানোর বৃহত্তর কৌশলের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ বলে মনে করেন হাক্কানি।   তিনি বলেন, কাশ্মীর ইস্যুতে পাকিস্তানকে আশ্বস্ত করা চীনের জন্য কৌশলগত ও ভূরাজনৈতিক; দুই দিক থেকেই গুরুত্বপূর্ণ। এতে পাকিস্তানের সঙ্গে সম্পর্ক আরও গভীর হয় এবং ভারতের সামনে চীন-পাকিস্তান দুই দিক থেকে সম্ভাব্য চাপের বিষয়টিও স্পষ্ট হয়।   বিশেষজ্ঞদের মতে, ঘোষণার সময়টিও তাৎপর্যপূর্ণ। হাক্কানি বলেন, চীন সাধারণত কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার কয়েক মাস বা এমনকি কয়েক বছর আগেই পরিকল্পনা করে। ফলে যৌথ সীমান্ত কমিশন কার্যকর করার সিদ্ধান্তও কিছু সময় আগেই নেওয়া হয়ে থাকতে পারে।   তার মতে, সাম্প্রতিক ব্রিকস সম্মেলনে চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সফরের পর এই তথ্য প্রকাশের সময় নির্ধারণ করা হয়ে থাকতে পারে। এর মাধ্যমে পাকিস্তানকে কৌশলগত অংশীদারত্বের বিষয়ে আশ্বস্ত করা এবং ভারতকে জানানো হয়েছে যে বহুপক্ষীয় যোগাযোগের অর্থ দক্ষিণ এশিয়া নিয়ে চীনের দৃষ্টিভঙ্গিতে কোনো পরিবর্তন নয়।   তবে প্রতিটি বিষয়কে ভারতের বিরুদ্ধে সরাসরি সামরিক পদক্ষেপ হিসেবে দেখার বিষয়ে সতর্ক করেছেন জ্যাকব। তিনি বলেন, এ মুহূর্তে প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখার (এলএসি) ওপর এর কোনো তাৎক্ষণিক বা দৃশ্যমান প্রভাব নেই।   এ থেকে বোঝা যায়, গত সপ্তাহের ঘোষণার তাৎপর্য তাৎক্ষণিকভাবে হিমালয়ের বিরোধপূর্ণ সীমান্তের চিত্র বদলে দেওয়ার চেয়ে ভারত যে ব্যবস্থাগুলো ধারাবাহিকভাবে প্রত্যাখ্যান করে আসছে, সেগুলোকে ধীরে ধীরে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার মধ্যেই বেশি নিহিত।   ভারতের অবস্থান স্পষ্ট ও ধারাবাহিক উল্লেখ করে জয়সওয়াল বলেন, পাকিস্তানের অবৈধ দখল বলে ভারত যে ভূখণ্ডকে বিবেচনা করে, সেটিকে বৈধতা দেওয়ার যেকোনো প্রচেষ্টা অগ্রহণযোগ্য এবং ভারতের সার্বভৌমত্বের ওপর এর কোনো প্রভাব নেই।   তবে হাক্কানির মতে, এই বিরোধ কেবল সীমান্তের আইনগত বিষয় নয়। তিনি বলেন, সীমান্ত ও সীমানা নিয়ে ভারত ও চীনের মূল মতবিরোধ ভূ-রাজনৈতিক, মানচিত্রগত নয়। তাই সীমান্ত নিয়ে আলোচনা ও ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে এর সমাধানেরও একটি সীমা রয়েছে।   তিনি আরও বলেন, পাকিস্তান ভারতের বিরুদ্ধে চীনের দ্বিতীয় স্তরের প্রতিরোধ ব্যবস্থা হিসেবে কাজ করছে এবং বেইজিংয়ের সঙ্গে ইসলামাবাদের ঘনিষ্ঠতা দিল্লির কাছে সেই বার্তাই অব্যাহতভাবে পৌঁছে দেবে।   সূত্র : বিবিসি

মো: দেলোয়ার হোসাইন সেপ্টেম্বর ২১, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশের প্রতিবেশী দেশগুলোতে জ্বালানি তেলের দাম কেমন

ছবি: সংগৃহীত

গাজায় ইসরায়েলি হামলায় শিশুসহ নিহত ৩ জন

ছবি: সংগৃহীত

আফগানিস্তানে পাকিস্তানের বিমান হামলা, ২৮ জন নিহতের দাবি

ছবি: সংগৃহীত
হরমুজ বাইপাস পাইপলাইনের পরিকল্পনা বাতিল করল কাতার

হরমুজ প্রণালি এড়িয়ে গ্যাস পরিবহনের জন্য কোনো বিকল্প পাইপলাইন নির্মাণের পরিকল্পনা পুরোপুরি নাকচ করে দিয়েছে কাতার। দেশটির জ্বালানি বিষয়ক মন্ত্রী ও কাতার এনার্জির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সাদ শেরিদা আল-কাব্বি জানিয়েছেন, হরমুজ প্রণালি বাইপাস করে পাইপলাইন তৈরি করা অর্থনৈতিক ও কারিগরি কোনো দিক থেকেই যুক্তিযুক্ত নয়। এর পাশাপাশি, সার্বিক অর্থনৈতিক কৌশল পুনর্গঠনের অংশ হিসেবে কাতার তাদের সার্বভৌম তহবিল ব্যবস্থাপনায় একটি নতুন বিনিয়োগ প্ল্যাটফর্ম চালুর পাশাপাশি ৬০ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি মূল্যের বিনিয়োগ প্রস্তাবের ঘোষণা দিয়েছে।   জ্বালানি মন্ত্রী সাদ শেরিদা আল-কাব্বি স্পষ্ট করেন যে প্রতিবেশী দেশগুলো বিকল্প রুট হিসেবে তাদের ভূখণ্ড ব্যবহারের প্রস্তাব দিলেও প্রাকৃতিক গ্যাস সাধারণ পাইপলাইনে সহজে বহনযোগ্য নয়। অন্য প্রান্তে গ্যাস নিয়ে পুনরায় তরলীকরণের (এলএনজি) জন্য অবকাঠামো নির্মাণ করতে গেলে তা কাতারের নর্থ ফিল্ড সম্প্রসারণ প্রকল্পের অধীনে নির্মিত বৃহৎ কেন্দ্রগুলোরই অপ্রয়োজনীয় পুনরাবৃত্তি ঘটাবে, যা আর্থিক বিবেচনায় কোনো অর্থ বহন করে না।   মার্কিন ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্টের সাম্প্রতিক একটি মন্তব্যেরও সরাসরি জবাব দেন আল-কাব্বি। বেসেন্ট দাবি করেছিলেন, দুই বছরের মধ্যে হরমুজ প্রণালি তার গুরুত্ব হারিয়ে মূল্যহীন হয়ে পড়তে পারে। তবে আল-কাব্বি একে সম্পূর্ণ ভুল আখ্যা দিয়ে বলেন, হরমুজ প্রণালি কেবল জ্বালানি পরিবহনের কেন্দ্র নয় বরং এটি বৈশ্বিক বাণিজ্যের অন্যান্য পণ্যের ক্ষেত্রেও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ রুট।   কাতারের ঐতিহাসিক ‘নর্থ ফিল্ড’ সম্প্রসারণ প্রকল্পের মাধ্যমে ২০৩০ সালের মধ্যে দেশটির এলএনজি উৎপাদন ক্ষমতা বছরে ৭৭ মিলিয়ন টন থেকে বাড়িয়ে ১৪২ মিলিয়ন টনে উন্নীত করার লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে। তবে সাম্প্রতিক উত্তেজনার ফলে সরবরাহ ব্যবস্থা বিঘ্নিত হওয়ায় নর্থ ফিল্ড ইস্ট প্রকল্পের প্রথম উৎপাদন ইউনিটের কাজ কিছুটা পিছিয়ে এখন ২০২৭ সালের প্রথমার্ধে শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। ২০২৬ সালের প্রথম প্রান্তিকে হরমুজ প্রণালির সংঘাতের ফলে রাস লাফানের দুটি উৎপাদন ইউনিট ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে কাতারের রফতানি ক্ষমতা প্রায় ১৭ শতাংশ কমে যায়, যার সংস্কার কাজে তিন বছর সময় লাগবে। একই সাথে চলতি বছরের প্রথম প্রান্তিকে দেশটির মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) পূর্ববর্তী বছরের একই সময়ের তুলনায় ৭ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে।   এমতাবস্থায় অভ্যন্তরীণ অর্থনীতি জোরদার ও বহুমুখী করার লক্ষ্যে নিউইয়র্কে অনুষ্ঠিত ‘কাতার ইকোনমিক ফোরাম’-এর বিশেষ অধিবেশনে নতুন অর্থনৈতিক রোডম্যাপ প্রকাশ করেছেন কাতারের প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ বিন আব্দুলরহমান আল থানি। তিনি ‘দোহা ইনভেস্টমেন্ট’ নামে একটি নতুন বিনিয়োগ ও অর্থনৈতিক উন্নয়ন প্ল্যাটফর্মের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন এবং আগামী পাঁচ বছরে অবকাঠামো, রিয়েল এস্টেট ও আতিথেয়তা খাতে ৬০ বিলিয়ন ডলারের বেশি মূল্যের প্রকল্প ও বিনিয়োগের সুযোগের কথা জানান।   কাতার ইনভেস্টমেন্ট অথরিটির (কিউআইএ) অধীনে থাকা প্রায় ৪৫টি দেশীয় প্রতিষ্ঠান ও সামগ্রিক সম্পদ তালিকার এক-তৃতীয়াংশ পরিচালনা করবে এই ‘দোহা ইনভেস্টমেন্ট’। সংস্থাটির পরিচালনা পর্ষদের দায়িত্বে থাকবেন বাণিজ্য ও শিল্প মন্ত্রী শেখ ফয়সাল বিন থানি আল থানি। কাতার এয়ারওয়েজ, কিউএনবি গ্রুপ, ওরেডু, কাতারি দিয়ারের মতো বড় বড় প্রতিষ্ঠানগুলো এই কাঠামোর অধীনে থেকে উন্নত প্রযুক্তি, উৎপাদন, সরবরাহ শৃঙ্খল ও স্বাস্থ্যসেবা খাতের মতো উদীয়মান ক্ষেত্রগুলোতে স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক ব্যক্তিমালিকানাধীন বিনিয়োগ বাড়াতে কাজ করবে।   সূত্র: টিআরটি

মো: দেলোয়ার হোসাইন সেপ্টেম্বর ২১, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

চীন-পাকিস্তানের নতুন সীমান্ত কমিশনে ক্ষুব্ধ ভারত, কেন এত আপত্তি

ছবি: সংগৃহীত

দক্ষিণ সুদানে শান্তিরক্ষা মিশনে নৌবাহিনী সদস্যের মৃত্যু

ছবি: সংগৃহীত

নেপালে ভয়াবহ বন্যার এক মাস পরও নিখোঁজ প্রায় ৬ হাজার, মৃত্যু ১,৪৫১

ছবি: সংগৃহীত
মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনার মধ্যে ক্যাম্প ডেভিড থেকে দ্রুত ফিরলেন ট্রাম্প

মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাত এবং সৌদি আরবের সঙ্গে ইরান-সমর্থিত হুথিদের লড়াই ঘিরে উত্তেজনা বাড়ার মধ্যেই ক্যাম্প ডেভিড সফর সংক্ষিপ্ত করে হোয়াইট হাউসে ফিরেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। কেন নির্ধারিত সময়ের আগেই তিনি ওয়াশিংটনে ফিরেছেন, সে বিষয়ে হোয়াইট হাউস আনুষ্ঠানিক কোনো কারণ জানায়নি।   শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) ক্যাম্প ডেভিড থেকে ট্রাম্পের হোয়াইট হাউসে ফেরার খবর আসে। তার সেখানে সপ্তাহান্ত কাটিয়ে রোববার ফেরার কথা ছিল। একই সময়ে মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরও নতুন সতর্কতা জারি করে।   মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের সতর্কবার্তায় বলা হয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি জটিল এবং সেখানে অপ্রত্যাশিতভাবে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। অঞ্চলটিতে অবস্থানরত মার্কিন নাগরিকদের সতর্ক থাকতে এবং ভ্রমণের ক্ষেত্রে পরিস্থিতি বিবেচনা করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।   এই সতর্কতার পেছনে অন্যতম কারণ হিসেবে সৌদি আরব ও ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুথিদের মধ্যে সাম্প্রতিক সংঘাতের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। শনিবার রিয়াদের দিকে হুথিদের একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলার চেষ্টা সৌদি কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে নিশ্চিত করা হয়। সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট জানিয়েছে, ক্ষেপণাস্ত্রটি প্রতিহত করা হয়েছে।   রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কাছাকাছি বিস্ফোরণ ও ধোঁয়া দেখা যাওয়ার খবরও প্রকাশিত হয়েছে। হুথিরা সৌদি আরবের বিভিন্ন স্থাপনায় হামলার দাবি করেছে। তবে তাদের করা সব দাবির স্বাধীনভাবে নিশ্চিতকরণ পাওয়া যায়নি।   এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যুদ্ধের অবসান ও নতুন করে আলোচনায় ফেরার বিষয়ে ইরানের পক্ষ থেকেও কয়েকটি শর্ত সামনে এসেছে। ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের সচিব মোহসেন রেজাই জানান, কাতারের মাধ্যমে ওয়াশিংটনের কাছে এসব শর্ত পৌঁছে দেওয়া হয়েছে এবং তারা ট্রাম্পের জবাবের অপেক্ষায় রয়েছে।   রেজাই প্রকাশ্যে যে তিনটি প্রধান শর্তের কথা জানিয়েছেন, সেগুলো হলো—সব ফ্রন্টে যুদ্ধ বন্ধ করা, যুক্তরাষ্ট্রে আটকে থাকা ইরানের অর্থ ছাড় করা এবং ইরানের ওপর মার্কিন নৌ অবরোধ তুলে নেওয়া। একই সঙ্গে তিনি জানান, আলোচনায় ফেরার জন্য ইরানের পক্ষ থেকে মোট সাতটি শর্ত জানানো হয়েছে।   ইরানের শর্ত সামনে আসার পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক উত্তেজনাও অব্যাহত রয়েছে। ফলে কূটনৈতিক যোগাযোগের পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র ও সংশ্লিষ্ট আঞ্চলিক পক্ষগুলোর পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে নজর রাখছে আন্তর্জাতিক মহল।

আক্তারুজ্জামান সেপ্টেম্বর ২০, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

মিসরের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে সিআইএ প্রধানের বৈঠক

ছবি: সংগৃহীত

শর্ত পূরণ না হলে খুলবে না হরমুজ প্রণালি: ইরান

ছবি: সংগৃহীত

স্বাধীন ইসলামিক দেশ না হওয়া পর্যন্ত সংগ্রাম চলবে : থাই বিচ্ছিন্নতাবাদীরা

0 Comments