ইরানের সঙ্গে সম্ভাব্য নতুন চুক্তিকে বড় সাফল্য হিসেবে দেখছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে তিনি নিজেই বলেছেন, চুক্তিটি এখনো পুরোপুরি চূড়ান্ত হয়নি। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো যেমন ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ, পারমাণবিক জ্বালানির মজুত ও ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি এখনো আলোচনায় আসেনি ।
যুক্তরাষ্ট্রের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, এসব বিষয়ে আলোচনার জন্য কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা ঠিক করা হয়নি। তবে বর্তমান সমঝোতা যুদ্ধবিরতির সময় বাড়াতে পারে। একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালিও আবার খুলে যেতে পারে। এতে বিশ্বজুড়ে তৈরি হওয়া বড় জ্বালানি সংকট কমতে পারে।
পাকিস্তানের সেনাপ্রধান আসিম মুনিরের মধ্যস্থতায় ওয়াশিংটন ও তেহরানের আলোচনা এগিয়েছে বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। চুক্তি চূড়ান্ত হলে বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথ আবার উন্মুক্ত হবে। বিশ্বের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ তেল এই পথ দিয়ে পরিবহন হয়।
মাত্র ১১ সপ্তাহ আগে ট্রাম্প বলেছিলেন, ‘নিঃশর্ত আত্মসমর্পণ’ ছাড়া ইরানের সঙ্গে কোনো চুক্তি হবে না। কিন্তু এখন তার অবস্থান অনেকটাই বদলে গেছে। তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখেছেন, আলোচনা ভালোভাবে এগোচ্ছে এবং তিনি তার প্রতিনিধিদের তাড়াহুড়া না করতে বলেছেন।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ট্রাম্প মূলত ইরানের দাবির কাছাকাছি অবস্থানে যেতে বাধ্য হয়েছেন। সবচেয়ে কঠিন বিষয়গুলো পরে আলোচনা করার বিষয়ে তিনি রাজি হয়েছেন। এর বিনিময়ে ইরানকে হরমুজ প্রণালির অবরোধ শিথিল করতে চাপ দেওয়া হয়েছে।
তবে এখনো অনেক জটিলতা রয়ে গেছে। ইরানের কাছে এখনো বিপুল পরিমাণ সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম রয়েছে। ইরান তাদের ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচির সীমা নিয়েও আলোচনা করতে রাজি হয়নি।
মার্কিন কর্মকর্তারা বলেছেন, দ্বিতীয় ধাপের আলোচনায় এসব বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হবে। তবে বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, যেকোনো সময় এই নাজুক আলোচনা ভেঙে পড়তে পারে।
রিপাবলিকান দলের কট্টরপন্থী নেতারাও ট্রাম্পের সমালোচনা করছেন। তাদের অভিযোগ, ট্রাম্প চাপের মুখে নরম অবস্থান নিয়েছেন এবং আগের লক্ষ্য থেকে সরে এসেছেন।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না। একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন। গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে। জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে। সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে। কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে। প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে। আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’ সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না। এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।
ইউক্রেনের ড্রোন হামলায় রাশিয়ার দক্ষিণাঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ একটি তেল শোধনাগার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। রোস্তভ অঞ্চলের নোভোশাখতিনস্ক তেল শোধনাগারটির কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন অঞ্চলটির গভর্নর ইউরি স্লিউসার। শুক্রবার স্লিউসার জানান, রাতভর রোস্তভ অঞ্চলের বিভিন্ন এলাকায় প্রায় ৫০টি ড্রোন ধ্বংস করেছে রুশ আকাশ প্রতিরক্ষা বাহিনী। তবে হামলায় নোভোশাখতিনস্ক তেল শোধনাগার ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এতে কেউ হতাহত হয়নি বলে প্রাথমিকভাবে জানানো হয়েছে। রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে- নোভোশাখতিনস্ক শোধনাগারটির বার্ষিক অপরিশোধিত তেল পরিশোধন সক্ষমতা প্রায় ৫০ লাখ মেট্রিক টন, যা দৈনিক প্রায় ১ লাখ ব্যারেলের সমান। প্রতিষ্ঠানটির উৎপাদিত জ্বালানির বড় অংশ রপ্তানি করা হয়। ফলে হামলার কারণে শুধু রাশিয়ার অভ্যন্তরীণ সরবরাহ নয়, দেশটির জ্বালানি রপ্তানিতেও প্রভাব পড়তে পারে। রোস্তভ অঞ্চলের গভর্নরের তথ্য অনুযায়ী, নোভোশাখতিনস্ক ও কামেনস্ক-শাখতিনস্ক শহরসহ অঞ্চলের ছয়টি জেলায় রাতভর ড্রোন হামলা হয়। রুশ কর্তৃপক্ষের দাবি, এসব এলাকায় প্রায় ৫০টি ড্রোন ধ্বংস করা হয়েছে। হামলার পর শোধনাগারে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণের কাজ চলছে। নোভোশাখতিনস্ক শোধনাগারটি রোস্তভ অঞ্চলের একমাত্র কার্যকর তেল শোধনাগার এবং দক্ষিণ রাশিয়ার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি সরবরাহকারী হিসেবে পরিচিত। এর উৎপাদিত পণ্যের মধ্যে পেট্রোল, ডিজেল, জাহাজের জ্বালানি, ফার্নেস ফুয়েলসহ বিভিন্ন ধরনের পেট্রোলিয়াম পণ্য রয়েছে। রাশিয়ার তেল স্থাপনায় ইউক্রেনের হামলা নতুন নয়। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে ইউক্রেন রাশিয়ার বিভিন্ন তেল শোধনাগার ও জ্বালানি অবকাঠামোকে লক্ষ্য করে ধারাবাহিক ড্রোন হামলা চালিয়েছে। কিয়েভের দাবি, রাশিয়ার যুদ্ধ পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় জ্বালানি সরবরাহ ও অর্থনৈতিক সক্ষমতায় চাপ তৈরি করাই এসব হামলার অন্যতম উদ্দেশ্য। নোভোশাখতিনস্ক শোধনাগারে এবারের হামলার সময়টি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে জ্বালানি অবকাঠামোয় হামলা বন্ধের সম্ভাব্য সমঝোতা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি বলেছেন, রাশিয়ার সঙ্গে জ্বালানি স্থাপনা লক্ষ্য করে হামলা বন্ধের বিষয়ে একটি দ্বিপক্ষীয় সমঝোতার সম্ভাবনা নিয়ে তিনি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে আলোচনা করেছেন। এর আগে জেলেনস্কি জাতিসংঘে সতর্ক করে বলেছিলেন, জ্বালানি স্থাপনায় হামলা বন্ধে সমঝোতা না হলে ইউক্রেন রাশিয়ার বিরুদ্ধে পাল্টা হামলা চালিয়ে যাবে এবং আসন্ন শীতে রাশিয়ার জন্য পরিস্থিতি কঠিন করে তুলবে। একই সময়ে রাশিয়াও ইউক্রেনের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি অবকাঠামোয় নিয়মিত হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। শুক্রবারের হামলায় শুধু নোভোশাখতিনস্ক শোধনাগারই নয়, রাশিয়ার আরও কয়েকটি অঞ্চলের শিল্প ও জ্বালানি স্থাপনাও আক্রান্ত হয়েছে। রয়টার্স জানিয়েছে, রাতভর হামলায় রাশিয়ার একটি তেল শোধনাগার ও একটি যাত্রীবাহী ট্রেনও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের দাবি, পুরো দেশজুড়ে ওই রাতে মোট ৫৯২টি ড্রোন ধ্বংস করা হয়েছে। রাশিয়ার জ্বালানি অবকাঠামোয় ধারাবাহিক হামলা এবং ইউক্রেনের জ্বালানি স্থাপনায় রুশ হামলা- দুই পক্ষের এই পাল্টাপাল্টি আক্রমণ যুদ্ধের সামরিক ক্ষেত্রের পাশাপাশি জ্বালানি সরবরাহ ও বৈশ্বিক বাজারেও প্রভাব ফেলছে।
মধ্যপ্রাচ্যের রণক্ষেত্রে একের পর এক সামরিক চোখধাঁধানো কৌশল দেখিয়ে বিশ্বমঞ্চে তোলপাড় সৃষ্টি করেছে ইরান। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সামরিক ঘাঁটিতে চালানো ধারাবাহিক সামরিক অভিযানে দেশটির অস্ত্রাগারে থাকা এমন এক মারাত্মক ড্রোন সামনে এসেছে, যা দেখে ঘুম হারাম হয়ে গেছে পশ্চিমা সামরিক বিশ্লেষকদের। ড্রোনটির নাম ‘শাহেদ-২৩৮’। কম খরচে তৈরি হলেও এর অবিশ্বাস্য গতি ও ধ্বংসক্ষমতা আধুনিক মাল্টিলেয়ার্ড বা বহুদলীয় আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থাকে এক নতুন চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে দিয়েছে। ইরানের পুরোনো ও জনপ্রিয় শাহেদ-১৩৬ ড্রোনের ভিত্তি ধরে তৈরি করা এই শাহেদ-২৩৮ সংস্করণটিতে সবচেয়ে বড় পরিবর্তন আনা হয়েছে এর ইঞ্জিনে। এতদিন ধরে প্রপেলার চালিত পিস্টন ইঞ্জিন ব্যবহার করা হলেও এই নতুন মডেলে যুক্ত করা হয়েছে একটি শক্তিশালী কমপ্যাক্ট টার্বোজেট ইঞ্জিন। ইরানের বিখ্যাত ‘শাহেদ এভিয়েশন ইন্ডাস্ট্রিজ’ ২০২৩ সালের নভেম্বরে প্রথম এই ঘাতক ড্রোনটির পর্দা উন্মোচন করে। তবে এটিকে প্রদর্শনীতেই সীমাবদ্ধ রাখা হয়নি, খুব দ্রুততম সময়ে ছোট মাত্রায় উৎপাদন শুরু করে যুদ্ধের সরাসরি ময়দানে এটি নামিয়ে দেওয়া হয়। শাহেদ-২৩৮-এর মূল জাদু লুকিয়ে আছে এর গতির মধ্যে। আগের শাহেদ-১৩৬ যেখানে প্রতি ঘণ্টায় মাত্র ১৮৫ কিলোমিটার গতিতে উড়তে পারত, সেখানে এই নতুন জেট চালিত ড্রোনটি ঘণ্টায় সহজে ৫০০ থেকে ৬০০ কিলোমিটার গতি তুলতে সক্ষম। এমনকি অনেক ক্ষেত্রে চূড়ান্ত আঘাত হানার মুহূর্তে এর গতি প্রতি ঘণ্টায় ৭০০ কিলোমিটারও ছাড়িয়ে গেছে। সাড়ে তিন মিটার দীর্ঘ এবং তিন মিটার ডানার এই ড্রোনটির উড্ডয়ন সর্বোচ্চ ৩০ হাজার ফুট পর্যন্ত হতে পারে এবং এটি ৫০ কেজি পর্যন্ত বিস্ফোরক বহন করতে পারে। যদিও পিস্টন ইঞ্জিনের বদলে জেট ইঞ্জিন বসানোর কারণে ড্রোনের জ্বালানি ধারণক্ষমতা এবং পাল্লা কিছুটা কমেছে, কিন্তু গতি ও আঘাতের সক্ষমতা কয়েক গুণ বাড়িয়ে ইরান শত্রুর প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার জন্য প্রতিক্রিয়া জানানোর সময় প্রায় শূন্যের কোঠায় নিয়ে এসেছে। ইরানের এই প্রযুক্তির কারণে প্রতিপক্ষের সব হিসাব-নিকাশ একদম ওলটপালট হয়ে গেছে। আধুনিক ইন্টারসেপ্টর বা প্রতিরোধ ব্যবস্থাগুলো মূলত তৈরি করা হয়েছিল ধীরগতির ড্রোনের গতিবিধি বিশ্লেষণ করে তা প্রতিহত করার জন্য। কিন্তু কোনো ড্রোন যখন ঘণ্টায় ৬০০ কিলোমিটার বেগে কোনো লক্ষ্যবস্তুর দিকে ছুটে আসে, তখন আকাশ প্রতিরক্ষা রাডারের পক্ষে তা শনাক্ত করে ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ার জন্য কয়েক সেকেন্ডের বেশি সময় থাকে না। এর ওপর শত্রুর রাডার নেটওয়ার্ক ধ্বংস করার জন্য এতে ব্যবহার করা হয়েছে বিশেষ ইনফ্রারেড এবং রাডার-হোমিং প্রযুক্তি, যা স্বয়ংক্রিয়ভাবে শত্রুর রাডার লক্ষ্য করে আঘাত হানতে পারে। কৌশলগত দিক থেকে ড্রোনটিকে ইরান অর্থনৈতিক যুদ্ধের এক অন্যতম অস্ত্র বানিয়ে ফেলেছে। একেকটি সস্তা মূল্যের শাহেদ-২৩৮ ধ্বংস করতে গিয়ে শত্রুপক্ষকে কোটি কোটি টাকার উচ্চমানের ইন্টারসেপ্টর ক্ষেপণাস্ত্র খরচ করতে হচ্ছে। আবার কোনো কোনো অভিযানে ধীরগতির শাহেদ-১৩৬ ড্রোনের ঝাঁকের সাথে এই অতিগতির শাহেদ-২৩৮ ড্রোনকে মিলিয়ে ছুড়ে দেওয়া হয়, যা প্রতিপক্ষের আকাশ প্রতিরক্ষা প্রতিরক্ষাকে পুরোপুরি বিভ্রান্ত ও দিশেহারা করে তোলে। বর্তমানে ইরানের কারখানাগুলো থেকে মাসে শত শত শাহেদ ড্রোন উৎপাদিত হচ্ছে, যার মধ্যে একটি বড় অংশ এই শাহেদ-২৩৮। এটি যুদ্ধক্ষেত্রে কতটা শেষ মুহূর্তের জয় এনে দেবে তা নিয়ে তর্ক থাকতে পারে, তবে অল্প খরচের কোনো ড্রোন কতটা ভয়ংকর রূপ নিতে পারে এবং এর দ্রুত গতি কীভাবে কোটি ডলারের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে নিমেষেই অকার্যকর করে দিতে পারে, তা শাহেদ-২৩৮ তৈরি করে বিশ্বকে বুঝিয়ে দিয়েছে ইরান। সূত্র: প্রেস টিভি।
জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে লোহিত সাগরের বন্দরনগরী ইয়ানবুকে সুরক্ষার সহায়তা দিতে সৌদি আরবে সেনা ও প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা পাঠাবে ফ্রান্স। বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) ফরাসি প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল ম্যাক্রোঁ এ ঘোষণা দিয়েছেন। ম্যাক্রোঁ বলেন, ডিজেল রপ্তানির ওপর যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য নিষেধাজ্ঞা বিশ্ব এবং যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতি উভয়ের জন্যই ‘বিপর্যয়কর’ হবে। আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি নিয়ে টেলিভিশনে প্রচারিত সাক্ষাৎকারে ম্যাক্রোঁ এসব কথা বলেন। এ সময় তিনি ফরাসি ভূখণ্ডে রাশিয়ার সম্ভাব্য হামলার বিষয়েও সতর্ক করেন। জ্বালানির উচ্চমূল্য নিয়ে দেশের ভেতরে ক্রমবর্ধমান চাপের মুখে ম্যাক্রোঁ দেশবাসীকে আশ্বস্ত করার চেষ্টা করেন ফরাসি প্রেসিডেন্ট। তিনি জানান, শীতকাল ঘনিয়ে আসার মুহূর্তে ফ্রান্সের কাছে পর্যাপ্ত গ্যাস ও তেলের মজুদ রয়েছে। জ্বালানি সরবরাহ যাতে ব্যাহত না হয়, তা নিশ্চিত করতে প্যারিস সক্রিয়ভাবে কাজ করছে। ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীদের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার লক্ষ্যবস্তু হয়েছে সৌদি তেল রপ্তানির প্রধান বিকল্প পথ ইয়ানবু বন্দর। এতে অপরিশোধিত তেলের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। এমন পরিস্থিতিতে টিএফ১ ও ফ্রান্স ২ টিভি চ্যানেলকে ম্যাক্রোঁ বলেন, আমরা এই স্থানটি সুরক্ষার জন্য সামরিক সম্পদ অর্থাৎ সেনা, রাডার ব্যবস্থা এবং প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা পাঠাতে যাচ্ছি; কোনো সংঘাতে জড়ানোর জন্য নয়, বরং এই স্থানটিকে রক্ষা করার জন্যই তা করা হচ্ছে। ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চল থেকে সম্ভাব্য ড্রোন হামলার হুমকি সম্পর্কে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ ইউরোপীয় সরকারগুলোকে সতর্ক করেছে। স্প্যানিশ পত্রিকা ‘এল মুন্দো’-র এমন একটি প্রতিবেদন নাকচ করে দেন ম্যাক্রোঁ। তিনি বলেন, আমি এটি অস্বীকার করছি। সিআইএ ফরাসি সংস্থাগুলোকে এ বিষয়ে কোনো তথ্য দেয়নি। তবে ম্যাক্রোঁ উল্লেখ করেন, ইউরোপীয় দেশগুলোর বিরুদ্ধে রাশিয়া ক্রমাগত বৈরী ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড বাড়িয়ে চলেছে এবং লিপজিগে ব্যর্থ হামলার মতো ঘটনার সম্মুখীন হতে পারে ফ্রান্সও। জার্মানি জানিয়েছিল, আগস্ট মাসে লিপজিগ বিমানবন্দরে ড্রোন হামলার চেষ্টার জন্য মস্কোকে দায়ী করা হয়েছিল। রাশিয়ার ক্রমবর্ধমান হুমকি সম্পর্কে অবহিত করতে গত সপ্তাহে এলিসি প্রাসাদে ফ্রান্সের বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রধানদের ডেকেছিলেন ম্যাক্রোঁ। পরবর্তীতে তিনি জানান, ড্রোন ও সাইবার হামলা থেকে গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো সুরক্ষার জন্য একটি পরিকল্পনা তৈরির নির্দেশ তিনি সরকারকে দিয়েছেন। ম্যাক্রোঁ বলেন, মস্কো ইউরোপকে ভীতসন্ত্রস্ত করতে এবং ইউক্রেনকে সহায়তা করার ক্ষেত্রে এই মহাদেশের দৃঢ় সংকল্প ভেঙে দিতে চাইছে। রাশিয়া দাবি করেছে, হাইব্রিড হামলার বিষয়ে ইউরোপের অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন এবং তা রাশিয়া-বিরোধী উন্মাদনার ফল। তবে এ সপ্তাহে রাশিয়ার বিষয়ে ম্যাক্রোঁর অবস্থান কিছুটা দুর্বল হয়ে পড়েছে; কারণ জাতীয় নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে রুশ-উজবেক ধাতু ব্যবসায়ী আলিশার উসমানভকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের নিষেধাজ্ঞা থেকে অব্যাহতি দেওয়ার বিষয়টি অন্য সদস্য দেশগুলোকে চমকে দিয়েছে। এই পদক্ষেপের জেরে আজারবাইজান গুপ্তচরবৃত্তির দায়ে কারাবন্দী এক ফরাসি নাগরিককে ক্ষমা প্রদর্শন করে। সূত্র: রয়টার্স।