যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আবারও গ্রিনল্যান্ড দখলে বলপ্রয়োগের ইঙ্গিত দিয়েছেন।
ডেনমার্কের সার্বভৌমত্ব উপেক্ষা করেই স্বায়ত্তশাসিত আর্কটিক দ্বীপটিকে নিয়ে শুক্রবার এ মন্তব্য করেন তিনি।
ওয়াশিংটন থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানিয়েছে।
শুক্রবার হোয়াইট হাউসে তেল কোম্পানির নির্বাহীদের সঙ্গে এক বৈঠকে ট্রাম্প বলেন, ‘তারা পছন্দ করুক বা না করুক, গ্রিনল্যান্ড নিয়ে আমরা কিছু একটা করতে যাচ্ছি।’
ওই বৈঠকে উপস্থিত তেল নির্বাহীরা ভেনিজুয়েলার খনিজ সম্পদ থেকে সুবিধা নেওয়ার অপেক্ষায় আছেন।
গ্রিনল্যান্ড প্রসঙ্গে ট্রাম্প আরও বলেন, ‘আমি চুক্তির মাধ্যমে, মানে সহজ পথে বিষয়টিকে সমাধান করতে চাই। এতে কাজ না হলে, কঠিন পথেই করব।’
ট্রাম্পের দাবি, খনিজসম্পদে সমৃদ্ধ এ দ্বীপ নিয়ন্ত্রণ করা যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য জরুরি। কারণ আর্কটিক অঞ্চলে রাশিয়া ও চীনের সামরিক তৎপরতা বাড়ছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট আরও বলেন, ‘আমরা রাশিয়া বা চীনকে গ্রিনল্যান্ড দখল করতে দেব না। আমরা পদক্ষেপ না নিলে, তারা ঠিকই সেটিকে দখল করে নেবে। তাই গ্রিনল্যান্ড নিয়ে আমাদের কিছু করতে হবে। হয় তা সুন্দরভাবে, না হয় আরও কঠিন কোনো উপায়ে।’
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে রাশিয়া ও চীন আর্কটিক অঞ্চলে সামরিক তৎপরতা বাড়ালেও, এখন পর্যন্ত বিশাল এই বরফাচ্ছাদিত দ্বীপের ওপর কোনো মালিকানা দাবি করেনি।
এদিকে গ্রিনল্যান্ড দখলের বিষয়ে ট্রাম্পের এই হুমকিতে ডেনমার্কসহ ইউরোপীয় মিত্ররা বিস্ময় প্রকাশ করেছে।
গ্রিনল্যান্ডে বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের একটি সামরিক ঘাঁটি রয়েছে।
এদিকে, ডেনমার্কের প্রধানমন্ত্রী মেট ফ্রেডেরিকসেন সতর্ক করে বলেন, গ্রিনল্যান্ডে কোনো ধরনের আক্রমণ মানেই ন্যাটো ও দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ-পরবর্তী নিরাপত্তা কাঠামোর ‘সবকিছু শেষ’ হয়ে যাওয়া।
তবে ডেনমার্কের এই উদ্বেগ নিয়ে উপহাস করেন ট্রাম্প।
ট্রাম্প বলেন, ‘আমি ডেনমার্কের ভক্ত এবং তারা আমার সঙ্গে সব সময়ই ভালো ব্যবহার করেছে। কিন্তু ৫০০ বছর আগে তাদের একটি জাহাজ সেখানে ভিড়েছিল বলেই যে তারা ওই ভূমির মালিক হয়ে যাবে, তা হতে পারে না।’
আগামী সপ্তাহে ডেনমার্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও গ্রিনল্যান্ডের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠকে বসার কথা রয়েছে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও’র।
উল্লেখ্য, ২০০৩ সালে ইরাক আক্রমণের সময় ডেনমার্ক যুক্তরাষ্ট্রের একনিষ্ঠ মিত্র হিসেবে পাশে ছিল।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে সংঘটিত এজাহারভুক্ত হত্যা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ ও মিরাজ হোসেন পলাতক রয়েছেন। ব্যাংক প্রশাসন বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। খুনের শিকার কৃষি ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী আব্দুল হালিম ছিলেন কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) সভাপতি। তার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলায়। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি স্থানীয়ভাবে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ১ নম্বর আসামি হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত পিয়ন ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ এবং ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেনের নাম রয়েছে। তারা বর্তমানে নিজেদের সিবিএ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দাবি করে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে প্রভাব বিস্তার করছেন। ব্যাংক সূত্রে গেছে, তারা চাঁদাবাজি, ঘুষ আদায় ও নানা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। সূত্র জানায়, ব্যাংকের ভেতরে একটি সিন্ডিকেটের প্রভাবেই এসব আসামিরা এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন। এই সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে আছেন মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেন। এতে আরও যুক্ত রয়েছেন ডিজিএম সৈয়দ লিয়াকত হোসেন, হাবিব উন নবী, ডিএমডি খালেকুজ্জামান জুয়েল ও ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী। গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর রাতে মতিঝিলের বিমান অফিসের সামনে আব্দুল হালিমের মৃত্যু হয়। পরদিন সকালে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়। মতিঝিল থানার উপ-পরিদর্শক সজীব কুমার সিং সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে জানান, পুরনো সহকর্মীদের সঙ্গে বিরোধের জেরে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং রাত ১টা ৪০ মিনিটে হাসপাতালে মারা যান। হালিমের ছেলে ফয়সাল বলেন, তার বাবা ২০১৪ সাল থেকে কৃষি ব্যাংক সিবিএর সভাপতি ছিলেন এবং বোয়ালখালী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতেন। ইউনিয়নের নেতৃত্ব ও পদ নিয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে গত নভেম্বরেই মতিঝিল থানায় একটি জিডি (নং ০৫/১১/২০২৪ - ৩৩৫) করেছিলেন তার বাবা। তিনি আরও বলেন, বুধবার রাতে আমার বাবাকে তার অফিসের সহকর্মীরা মারধর করে হত্যা করেছে। সিবিএর বর্তমান সাধারণ সম্পাদক নাসিম আহমেদ জানান, ২০১৪ সালে আমরা নির্বাচিত হই। এরপর আর কোনো নির্বাচন হয়নি। কিন্তু গত ৫ আগস্ট বিনা নির্বাচনে নতুন কমিটি ঘোষণা করে আমাদের অফিস দখল করে নেয় ফয়েজ ও মিরাজ। এ নিয়ে মামলা চলছে। মামলার তথ্য অনুযায়ী, আসামিরা অস্থায়ী জামিনে ছিলেন। সম্প্রতি তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। এছাড়া আরও কয়েকজন পলাতক রয়েছেন—যাদের মধ্যে আছেন ড্রাইভার সাইফুল, শাহেদ, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মেহেদী ও অবসরপ্রাপ্ত ক্লিনার সিরাজ। এদিকে, মামলার ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেন নৈমিত্তিক ছুটির আবেদন করে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। যদিও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামির নৈমিত্তিক ছুটি পাওয়ার কোনো এখতিয়ার নেই। মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক এ বিষয়ে বলেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন এবং নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন। কিন্তু স্থানীয় মুখ্য কার্যালয়ের প্রধান মহাব্যবস্থাপক জানান, তিনি কোনো মন্তব্য করতে চান না। কারণ ব্যবস্থাপনা পরিচালক মন্তব্য না করার নির্দেশ দিয়েছেন। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। অভ্যন্তরীণ এই পরিস্থিতিতে কৃষি ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কড়া হুঁশিয়ারির পর ইরানে সরকারবিরোধী বিক্ষোভে আটক শত শত ব্যক্তির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর স্থগিত করা হয়েছে। ইরানের দাবি, বিক্ষোভ-সংক্রান্ত মামলায় অন্তত ৮০০ জনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের সিদ্ধান্ত আপাতত স্থগিত রাখা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) হোয়াইট হাউস এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। সাউথ চায়না মর্নিং পোস্টের এক প্রতিবেদনে বিষয়টি জানানো হয়। হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট সাংবাদিকদের জানান, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প জানতে পেরেছেন যে গতকাল যেসব ৮০০ জনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়ার কথা ছিল, তা বন্ধ করা হয়েছে। তিনি বলেন, বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে হত্যাকাণ্ড অব্যাহত থাকলে ইরানকে ‘ভয়াবহ পরিণতির’ মুখোমুখি হতে হবে—এমন স্পষ্ট বার্তা তেহরানকে দিয়েছিলেন ট্রাম্প। সম্প্রতি ইরানে ইসলামী প্রজাতন্ত্রের ইতিহাসে অন্যতম বৃহৎ সরকারবিরোধী বিক্ষোভ দেখা গেছে। তবে কঠোর দমন অভিযান এবং টানা এক সপ্তাহ ইন্টারনেট সংযোগ বন্ধ থাকায় সাম্প্রতিক দিনে বিক্ষোভ কিছুটা স্তিমিত হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্র আপাতত ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপ থেকে সরে এলেও হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, প্রেসিডেন্টের সামনে সব ধরনের বিকল্প এখনো খোলা রয়েছে। একই দিনে মার্কিন ট্রেজারি বিভাগ কয়েকজন ইরানি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে নতুন করে নিষেধাজ্ঞা ঘোষণা করেছে। উল্লেখ্য, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে দেশটি আগেই কঠোর নিষেধাজ্ঞার আওতায় রয়েছে, যা দেশটির অর্থনৈতিক সংকট ও গণবিক্ষোভের পেছনে বড় ভূমিকা রেখেছে। নরওয়েভিভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা ইরান হিউম্যান রাইটস (আইএইচআর) জানিয়েছে, চলমান বিক্ষোভে এখন পর্যন্ত অন্তত ৩ হাজার ৪২৮ জন নিহত হয়েছেন। সংস্থাটি সতর্ক করে বলেছে, প্রকৃত নিহতের সংখ্যা এর চেয়েও অনেক বেশি হতে পারে। এর আগে ট্রাম্প দাবি করেছিলেন, ‘অপর পক্ষের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সূত্র’ থেকে তিনি আশ্বাস পেয়েছেন যে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হবে না। সে সময় সৌদি আরব, কাতার ও ওমান যুক্তরাষ্ট্রকে ইরানে হামলা থেকে বিরত রাখতে সক্রিয় কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চালায় বলে জানিয়েছেন উপসাগরীয় এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা। তাঁর মতে, সম্ভাব্য হামলা হলে গোটা মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে ‘ভয়াবহ প্রতিক্রিয়া’ দেখা দিতে পারত। ইরান সরকার বিক্ষোভকারীদের ‘দাঙ্গাবাজ’ আখ্যা দিয়ে দাবি করছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের মদদে তারা সহিংসতা চালিয়েছে। তবে মানবাধিকারকর্মীদের আশঙ্কা, দ্রুত বিচার প্রক্রিয়ার নামে ব্যাপকহারে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হতে পারে। এদিকে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি সৌদি আরবের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ফয়সাল বিন ফারহানের সঙ্গে টেলিফোনে আলাপকালে বলেছেন, যেকোনো বিদেশি হুমকির বিরুদ্ধে ইরান আত্মরক্ষায় প্রস্তুত। একই সঙ্গে উত্তেজনা প্রশমনে মধ্যস্থতার প্রস্তাব দিয়েছে সুইজারল্যান্ড, যে দেশটি ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থ রক্ষাকারী রাষ্ট্র হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছে।
আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনের (আইএসএস) চারজন নভোচারীর একটি দলকে নির্ধারিত সময়ের আগেই নিরাপদে পৃথিবীতে ফিরিয়ে এনেছে নাসা। এক নভোচারীর স্বাস্থ্যগত সমস্যা দেখা দেওয়ায় তাদের ফিরিয়ে আনা হয়। আইএসএসের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো এমন ঘটনা ঘটলো। বৃহস্পতিবার ভোরে আইএসএসের চার নভোচারীকে নিয়ে স্পেসএক্সের ক্যাপসুল এন্ডেভার ক্যালিফোর্নিয়ার উপকূলে প্রশান্ত মহাসাগরে নিরাপদে অবতরণ করে। স্বাস্থ্যগত জরুরি অবস্থার কারণে এই প্রথমবারের মতো আইএসএস ক্রুদের মিশন সংক্ষিপ্ত করতে বাধ্য হলো নাসা। এর ফলে নির্ধারিত সময়ের কয়েক সপ্তাহ আগেই চার নভোচারী ফিরে এলেন। কোন ক্রু সদস্যের স্বাস্থ্যগত সমস্যা হয়েছে কিংবা সমস্যার প্রকৃতি তা প্রকাশ করেনি নাসা নাসার প্রধান স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা কর্মকর্তা জেমস পোল্ক বলেন, অপারেশন চলাকালীন কোনও আঘাতের কারণে এই সমস্যা হয়নি।
ভেনেজুয়েলায় সামরিক শক্তি ব্যবহারে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ক্ষমতা সীমিত করার লক্ষ্যে আনা একটি বিরল যুদ্ধক্ষমতা প্রস্তাব কার্যত ভেস্তে দিয়েছে মার্কিন সিনেটে রিপাবলিকানরা। বুধবার তারা এমন পদক্ষেপ নেয়, যাতে করে প্রস্তাবটি প্রায় নিশ্চিতভাবেই নাকোচ হয়ে যায়। ওয়াশিংটন থেকে বার্তাসংস্থা এএফপি এ খবর জানায়। গত সপ্তাহে এক ভোটে প্রস্তাবটি এগিয়ে গিয়েছিল। পাঁচজন রিপাবলিকান সিনেটর ডেমোক্র্যাটদের সঙ্গে সমর্থনে যোগ দেওয়ায় ট্রাম্পের জন্য এটি এক বড় ধাক্কা তৈরি করে। ভেনেজুয়েলার নেতা নিকোলাস মাদুরোকে আটক করতে ট্রাম্প যে সামরিক অভিযান চালান, তার পরই এই পরিস্থিতি তৈরি হয়। সিনেটের সশস্ত্র বাহিনী কমিটির সদস্যদের না জানিয়ে ট্রাম্প অভিযানটি অনুমোদন দিয়েছিলেন, যে কারণে ওই ভোটকে অনেকেই রিপাবলিকান প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ভেনেজুয়েলা অভিযানের বিরুদ্ধে কংগ্রেসের ভর্ৎসনা হিসেবে দেখেন। ভোটের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিন্নমত পোষণকারীদের তীব্র আক্রমণ করেন। একই সঙ্গে হোয়াইট হাউস প্রস্তাবটি ঠেকাতে জোরালো লবিং শুরু করে। বুধবার সিনেটের রিপাবলিকানরা একটি প্রক্রিয়াগত কৌশল নেয়। তারা প্রস্তাবটির ‘বিশেষাধিকার’ মর্যাদা তুলে দেয়। এই মর্যাদা থাকলে সাধারণ সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোটেই প্রস্তাবটি পাস হতে পারত। রিপাবলিকানদের যুক্তি ছিল, কোনো যুদ্ধ চলমান না থাকায় এ নিয়ম এখানে প্রযোজ্য নয়। এর ফলে চূড়ান্ত ভোটে প্রস্তাবটির পাস হওয়া প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে। সিনেটে রিপাবলিকানদের সংখ্যা ৫৩ ও ডেমোক্র্যাটদের ৪৭। নতুন করে ৬০ ভোটের বাধ্যবাধকতা থাকায় ভোটের মাধ্যমে ডেমোক্র্যাটদের পক্ষে এটিকে এগিয়ে নেওয়ার মতো অবস্থা থাকে না। ডেমোক্র্যাট সিনেটর টিমোথি মাইকেল কেইন ( টিম কেইন) বলেন, ‘ট্রাম্প বলেছেন, ভেনেজুয়েলায় তাঁর যুদ্ধ ন্যায্য। যদি তা-ই হয়, তাহলে কংগ্রেসে তিনি কেন মার্কিন জনগণের সামনে বিতর্ক ও ভোট এড়াতে নিজের দলকে চাপ দিয়ে প্রক্রিয়াগত কৌশলের আশ্রয় নিচ্ছেন?’ ভার্জিনিয়ার এই সিনেটরই প্রস্তাবটির নেতৃত্ব দেন। ৩ জানুয়ারি কারাকাসে মার্কিন বিশেষ বাহিনী মাদুরোকে আটক করার পর তিনি বলেন, কংগ্রেসের সাংবিধানিক যুদ্ধ ঘোষণা করার ক্ষমতা পুনর্নিশ্চিত করতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রস্তাবটি পাস হলে ভেনেজুয়েলায় পরবর্তী কোনো সামরিক পদক্ষেপের আগে ট্রাম্পকে কংগ্রেসের অনুমোদন নিতে হতো। মার্কিন গণমাধ্যম জানায়, গত সপ্তাহে সমর্থন দেওয়া পাঁচ রিপাবলিকানের মধ্যে দুজন শেষ পর্যন্ত অবস্থান বদলান। পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও তাঁদের আশ্বস্ত করেন যে, ভেনেজুয়েলায় স্থলবাহিনী পাঠানোর কোনো পরিকল্পনা নেই এবং পরিস্থিতি বদলালে কংগ্রেসের সঙ্গে যথাযথ পরামর্শ করা হবে। প্রাথমিক ভোটের পর ট্রাম্প ঘোষণা দেন, ওই পাঁচজনকে ‘আর কখনোই নির্বাচিত হতে দেওয়া উচিত নয়।’ তবে প্রস্তাবটি সিনেটে পাস হলেও এর কার্যকারিতা মূলত প্রতীকীই থাকত। রিপাবলিকান নিয়ন্ত্রিত প্রতিনিধি পরিষদে এটি প্রায় নিশ্চিতভাবেই পরাজিত হতো। আর ট্রাম্প ভেটো দিলে তা অতিক্রম করতে দুই কক্ষেই দুই-তৃতীয়াংশ ভোট প্রয়োজন হতো। ডেমোক্র্যাটরা এটিকে সংবিধান রক্ষার একটি স্পষ্ট সীমারেখা হিসেবে দেখান। তাঁদের অভিযোগ, প্রশাসন মাসের পর মাস বিভ্রান্তিকর ব্রিফিং দিয়েছে। এমনকি গত নভেম্বরেও আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল যে, ভেনেজুয়েলার মাটিতে হামলার কোনো পরিকল্পনা নেই। হোয়াইট হাউসের দাবি, এই অভিযান আইনগতভাবে বৈধ। এটি আন্তর্জাতিক মাদক পাচারের বিরুদ্ধে বৃহত্তর অভিযানের অংশ। প্রশাসনের ভাষ্য অনুযায়ী সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে চিহ্নিত কার্টেলগুলোর বিরুদ্ধে লড়াইয়ের অংশ হিসেবেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। তবে ভিন্নমত পোষণকারীরা শুরুতেই সতর্ক করেছিলেন যে, কংগ্রেস তার ভূমিকা পুনঃপ্রতিষ্ঠা না করলে এই অভিযানে যুক্তরাষ্ট্র আরো গভীরভাবে জড়িয়ে পরতে পারে। তবে ট্রাম্প তাঁর ‘ট্রুথ সোশ্যাল’ প্ল্যাটফর্মে বলেন, তাঁদের এই উদ্যোগ যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তাকে ‘গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত’ করছে এবং সর্বধিনায়ক হিসেবে তাঁর ক্ষমতা ব্যহত করছে। এরপর তিনি সতর্ক করেন, ভেনেজুয়েলায় যুক্তরাষ্ট্রের সম্পৃক্ততা বহু বছর ধরে চলতে পারে। এমনকি নিজেকে ‘ভেনেজুয়েলার ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট’ হিসেবে দেখানো একটি মিমও পোস্ট করেন তিনি। ট্রাম্প পুনরায় ক্ষমতায় ফেরার পর ভেনেজুয়েলা বিষয়ে যুদ্ধক্ষমতা সীমিত করার প্রস্তাব কংগ্রেসে চারবার প্রত্যাখ্যাত হয়েছে। গত একশ বছরে কেবল একবারই কংগ্রেসের উদ্যোগই বিদেশে প্রেসিডেন্টের একতরফা সামরিক ক্ষমতার ওপর স্থায়ী সীমা আরোপ করতে পেরেছে। সেটি হলো ১৯৭৩ সালের ‘ওয়ার পাওয়ার্স রেজোলিউশন’, যা তৎকালীন প্রেসিডেন্ট রিচার্ড নিক্সনের ভেটো অতিক্রম করে পাস হয়েছিল।