দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম বাড়ানো হয়েছে। স্বর্ণের দাম প্রতি ভরিতে সর্বোচ্চ ৩ হাজার ৯৬৬ টাকা পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। সোমবার (২২ ডিসেম্বর) এক বিজ্ঞপ্তিতে এ ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি (বাজুস)। ফলে ভালো মানের স্বর্ণের দাম বেড়ে ২ লাখ ২২ হাজার টাকা ছাড়িয়েছে। এটি দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ স্বর্ণের দাম।
নতুন দাম মঙ্গলবার (২৩ ডিসেম্বর) থেকে কার্যকর হবে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, স্থানীয় বাজারে তেজাবি স্বর্ণের দাম (পিওর গোল্ড) বাড়ায় বৈশ্বিক বাজারে সোনার দাম সমন্বয় করা হয়েছে।
তবে মূল কারণ হচ্ছে, বৈশ্বিক বাজারে স্বর্ণের দাম বেড়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতি আউন্স স্বর্ণের দাম ছাড়িয়েছে ৪ হাজার ৪০০ ডলার।
নতুন দাম অনুযায়ী, সবচেয়ে ভালো মানের বা ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম ২ লাখ ২২ হাজার ৮৩ টাকা, ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি দুই লাখ ১১ হাজার ৯৯৩ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি এক লাখ ৮১ হাজার ৭২৫ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম এক লাখ ৫১ হাজার ৩৯৯ টাকা।
স্বর্ণের দামের সঙ্গে রুপার দামও বাড়ানো হয়েছে। ২২ ক্যারেটের এক ভরি রুপার দাম ৪ হাজার ৯৫৭ টাকা। এছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি রুপা ৪ হাজার ৭২৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ৪ হাজার ৮২ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি রুপার দাম ৩ হাজার ৩৩ টাকা।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না। একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন। গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে। জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে। সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে। কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে। প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে। আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’ সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না। এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।
উৎসে কর (উইথহোল্ডিং ট্যাক্স) তদারকি জোরদারের অংশ হিসেবে কর কর্মকর্তাদের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে প্রবেশ, হিসাবপত্র ও ডিজিটাল তথ্য পরীক্ষা, এমনকি প্রয়োজন হলে নথিপত্র জব্দ করার ক্ষমতা দিয়ে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) জারি করা নির্দেশনার বিরুদ্ধে সরব হয়েছে দেশের শীর্ষ ব্যবসায়ী সংগঠনগুলো। তারা এই নির্দেশনা অবিলম্বে স্থগিত বা প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে। এ লক্ষ্যে বুধবার (২২ জুলাই) এনবিআর চেয়ারম্যানের কাছে যৌথভাবে চিঠি দিয়েছে দেশের শীর্ষ আটটি চেম্বার ও ব্যবসায়ী সংগঠন। তাদের দাবি, আয়কর আইন, ২০২৩-এর ১৪৭ ধারা কার্যকরের বিষয়ে ব্যবসায়ী সমাজকে আগে থেকে অবহিত না করেই এ ধরনের নির্দেশনা জারি করায় উৎপাদন ও সেবা খাতের উদ্যোক্তাদের মধ্যে অযাচিত ভীতি ও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। চিঠিতে স্বাক্ষর করেন ইন্টারন্যাশনাল চেম্বার অব কমার্স বাংলাদেশের (আইসিসিবি) সভাপতি মাহবুবুর রহমান, মেট্রোপলিটন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (এমসিসিআই) সভাপতি কামরান টি রহমান, চট্টগ্রাম চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (সিসিসিআই) সভাপতি মোহাম্মদ আমিরুল হক, বাংলাদেশ চেম্বার অব ইন্ডাস্ট্রিজের (বিসিআই) সভাপতি আনোয়ার-উল-আলম চৌধুরী পারভেজ, বিজিএমইএর সভাপতি মাহমুদ হাসান খান, বিকেএমইএর সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম, ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (ডিসিসিআই) সভাপতি তাসকীন আহমেদ এবং বাংলাদেশ সিরামিক ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিসিএমইএ) সভাপতি মইনুল ইসলাম। ব্যবসায়ীদের বক্তব্য চিঠিতে বলা হয়, গত ১৯ জুলাই এনবিআর আয়কর আইন, ২০২৩-এর ১৪৭ ধারার আলোকে কর কর্মকর্তাদের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও আর্থিক নথিপত্র সরেজমিনে পরিদর্শনের বিষয়ে যে সংবাদ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে, তা ব্যবসায়ী সমাজের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। তবে বিজ্ঞপ্তির শেষ অংশ থেকেই স্পষ্ট হয় যে, আইনের এ ধারার বাস্তব প্রয়োগ এখনো শুরু হয়নি এবং দেশের ক্ষুদ্র, মাঝারি ও বৃহৎ শিল্পপ্রতিষ্ঠানের অধিকাংশই এ বিষয়ে পর্যাপ্তভাবে অবগত নন। তাদের ভাষ্য, এনবিআরের এ উদ্যোগের পর উৎপাদন ও সেবা খাতের উদ্যোক্তাদের মধ্যে আকস্মিকভাবে ভীতি ও আতঙ্কের সৃষ্টি হয়েছে। ব্যবসায়ী সমাজ সবসময় কর ব্যবস্থার স্বচ্ছতা ও ন্যায্যতাকে সমর্থন করে। তবে কর আদায়ে এমন পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে, যাতে উদ্যোক্তা ও কর কর্মকর্তাদের মধ্যে আস্থাভিত্তিক ও সহযোগিতামূলক সম্পর্ক গড়ে ওঠে। চিঠিতে আরও বলা হয়, বর্তমান সরকারের ২০৩৪ সালের মধ্যে এক ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি এবং এক কোটি মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্য অর্জন করতে হলে শিল্প ও ব্যবসা সম্প্রসারণের জন্য অনুকূল পরিবেশ নিশ্চিত করা জরুরি। এ জন্য সরকার ও ব্যবসায়ী সমাজকে পারস্পরিক আস্থার ভিত্তিতে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। ব্যবসায়ী নেতারা আরও উল্লেখ করেন, কোম্পানি আইন, ১৯৯৪ অনুযায়ী করপোরেট তথ্যের গোপনীয়তা, বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ আইন, ২০১৬ অনুযায়ী বিনিয়োগ সুরক্ষা এবং সংবিধানের ৩১ ও ৪২ অনুচ্ছেদে বর্ণিত নাগরিকের আইনগত অধিকার বিবেচনায় নিয়ে আয়কর আইন, ২০২৩-এর ১৪৭ ধারা প্রয়োগের বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করা প্রয়োজন। তাই ব্যবসায়ী সমাজে সৃষ্ট উদ্বেগ দূর করতে এনবিআরের বিজ্ঞপ্তি অবিলম্বে স্থগিত বা প্রত্যাহারের আহ্বান জানানো হয়। এনবিআরের নির্দেশনায় কী বলা হয়েছে গত রোববার উৎসে কর আদায় ও তদারকি কার্যক্রম আরও কার্যকর করতে পাঁচ দফা নির্দেশনা দিয়ে সংবাদ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে এনবিআর। আয়কর আইন, ২০২৩-এর ১৪৭ ধারার আওতায় কর কর্মকর্তাদের যেসব ক্ষমতার কথা উল্লেখ করা হয়েছে, সেগুলো হলো— যেকোনও বাণিজ্যিক বা অর্থনৈতিক প্রতিষ্ঠানের প্রাঙ্গণ, ব্যবসাকেন্দ্র বা দপ্তরে বিনা বাধায় প্রবেশ করে সরেজমিনে পরিদর্শন। হিসাবের বই, ভাউচার, ব্যাংক হিসাব বিবরণী, রসিদসহ অর্থনৈতিক কার্যক্রমসংক্রান্ত যেকোনও নথিপত্র পরীক্ষা ও তলব। প্রতিষ্ঠানের কম্পিউটার, ক্লাউড সার্ভার, ডিজিটাল রেকর্ড ও ইলেকট্রনিক ডিভাইসে সংরক্ষিত তথ্য পরীক্ষা এবং প্রয়োজনে পাসওয়ার্ড বা এনক্রিপশন ভেঙে তথ্যে প্রবেশ। উৎসে কর কর্তনের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য প্রয়োজনীয় হিসাবপত্র, নথি বা ইলেকট্রনিক রেকর্ড সাময়িকভাবে জব্দ করে হেফাজতে রাখা। প্রয়োজনীয় নথিপত্র, ইমেজ বা অ্যাকাউন্টের অনুলিপি সংগ্রহ এবং তাতে শনাক্তকরণ চিহ্ন বা সিলমোহর ব্যবহার। এনবিআর আরও জানিয়েছে, রাজস্ব আহরণ কার্যক্রমে বাধা সৃষ্টি বা অসহযোগিতা করলে আয়কর আইন, ২০২৩-এর ১৪৭(২) ধারা অনুযায়ী জরিমানার বিধান রয়েছে। ব্যবসায়ী সংগঠনগুলোর আপত্তির পর বিষয়টি নিয়ে সরকার ও এনবিআরের পরবর্তী অবস্থানের দিকে এখন নজর সংশ্লিষ্ট মহলের।
টাকা ফেরত না দিয়েও দীর্ঘ সময় ধরে ঋণ নিয়মিত দেখানোর সুযোগ পেয়ে আসছেন শীর্ষ খেলাপিরা। বিশেষ সুবিধা পাওয়া ব্যবসায়ীরাই ঘুরেফিরে পুনঃতপশিলের জন্য হাজির হচ্ছেন। একের পর এক সুবিধা নেওয়ার কিছুদিন পর তারা আবার খেলাপি হচ্ছেন। প্রকৃত আদায় ছাড়া ঋণের উল্লেখযোগ্য অংশ নিয়মিত দেখিয়ে আসা ব্যাংক খাত এভাবে পুনঃতপশিলের ফাঁদে পড়েছে। এতে খেলাপি ঋণ না কমে উল্টো বাড়ছে। এর ফলে বাংলাদেশ এখন খেলাপি ঋণের হারে বিশ্বের শীর্ষস্থান পেয়েছে। কখনও বৈশ্বিক খারাপ অবস্থা, কখনও অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতির কারণ দেখিয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকই খেলাপিদের জন্য উপায় বের করে দিচ্ছে। সুবিধা দিয়ে খেলপি ঋণ কমানোর নীতির বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক এবং ব্যাংক খাতের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলেছেন এই প্রতিবেদক। তাদের বেশির ভাগের মতে, খেলাপি ঋণের সমস্যার সমাধানে নীতি শিথিলতার সিদ্ধান্ত কাজ দিচ্ছে না। এ ধরনের নীতির বারবার অপব্যবহার হয়েছে। অধিকাংশ কর্মকর্তা মনে করেন, ইচ্ছাকৃত খেলাপিদের বিরুদ্ধে কঠোরতার কোনো বিকল্প নেই। খেলাপি অনেকেই ব্যাংকের টাকায় বিলাসী জীবন, বিদেশে পাচারসহ নানা অনিয়ম করছেন। এর বিপরীতে দেশে এমন অনেক বড় ব্যবসায়ী আছেন, যারা খেলাপি হননি। তাই ঋণখেলাপিদের বারবার সুবিধা দিতে থাকলে ভালো ব্যবসায়ীরা নিরুৎসাহিত হবেন। বিভিন্ন সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, খেলাপি ঋণে বিশ্বে এখন শীর্ষে উঠে এসেছে বাংলাদেশের নাম। গত মার্চ পর্যন্ত পাঁচ লাখ ৮৮ হাজার ৭০৪ কোটি টাকা বা মোট ঋণের ৩২ দশমিক ২৬ শতাংশ খেলাপি দেখানো হয়েছে। বিশ্বব্যাংকের সর্বশেষ ২০২৩ সালভিত্তিক খেলাপি ঋণের দেশওয়ারি তথ্য রয়েছে। ওই সময় ৯ দশমিক ৫৭ শতাংশ খেলাপি ঋণ নিয়ে ১৪ নম্বরে ছিল বাংলাদেশের নাম। তখন খেলাপি ঋণে শীর্ষে থাকা যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশ ইউক্রেনের খেলাপি ঋণ ছিল ৩৭ দশমিক ৩৫ শতাংশ। ন্যাশনাল ব্যাংক অব ইউক্রেনের হালনাগাদ তথ্য অনুযায়ী ধারাবাহিক কমে ২০২৫ সালের জুন শেষে দেশটির খেলাপি নেমেছে ২৭ শতাংশে। ২০২৩ সালে ৩১ দশমিক ৫১ শতাংশ খেলাপি ঋণ নিয়ে দ্বিতীয় অবস্থানে ছিল শাদ। আর আফ্রিকান দেশ গিনি ৩১ দশমিক ১৫ শতাংশ খেলাপি ঋণ নিয়ে ছিল তৃতীয় অবস্থানে। আফ্রিকান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক গ্রুপের হালনাগাদ তথ্য অনুযায়ী, গত ডিসেম্বরে গিনির খেলাপি ঋণ নেমেছে ৩০ শতাংশে। কারা সুবিধা পায় বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর এ পর্যন্ত বিশেষ পুনঃতপশিলসহ বিভিন্ন সুবিধা চেয়ে ১২ শতাধিক আবেদন এসেছে। এর বিপরীতে আড়াই লাখ কোটি টাকার বেশি ঋণের পুনঃতপশিল চাওয়া হয়েছে। বিশেষ সুবিধার জন্য গত বছর ঋণ জালিয়াতিতে অভিযুক্ত এস আলম গ্রুপের ১২ হাজার ৭৬৬ কোটি টাকা পুনঃতপশিল চেয়ে আবেদন করে গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক। যদিও কেন্দ্রীয় ব্যাংক তাতে সাড়া দেয়নি। ২৬ ব্যাংক ও দুই আর্থিক প্রতিষ্ঠানে বসুন্ধরা গ্রুপের প্রায় ১২ হাজার কোটি টাকার ঋণ পুনঃতপশিল হয়েছে। সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বেসরকারি ও শিল্প উপদেষ্টা সালমান এফ রহমানের বেক্সিমকো গ্রুপের বিভিন্ন ব্যাংকে প্রায় ৫৪ হাজার কোটি টাকার ঋণ রয়েছে। বেক্সিমকোর ছয় হাজার ৯১৯ কোটি টাকার পুনঃতপশিল চেয়ে আবেদন এসেছে। বেক্সিমকোর ঋণ পুনঃতপশিল না হলেও তাদের মালিকানাধীন খেলাপি প্রতিষ্ঠান শাইনপুকুর সিরামিকের এলসি খোলার সুবিধা দেওয়া হয়েছে। বারবার বিশেষ সুবিধা নেওয়া আব্দুল মোনেম গ্রুপ এ দফায় দুই হাজার ৫১১ কোটি টাকা পুনঃতপশিল চেয়ে আবেদন করে। এই গ্রুপের মালিকানার আব্দুল মোনেম সুগার রিফাইনারি মিলের খেলাপি ঋণ থাকা অবস্থায় একইভাবে এলসি খোলার সুবিধা দেওয়া হয়েছে। ব্যাংক খাতে বিভিন্ন অনিয়মে অভিযুক্ত নজরুল ইসলাম মজুমদারের নাসা গ্রুপের ৯ হাজার ৭২৪ কোটি টাকার ঋণ বিশেষ সুবিধায় পুনঃতপশিল চেয়ে আবেদন করা হয়েছে। নাবিল গ্রুপ ৪ হাজার ১৬১ কোটি টাকার ঋণ পুনঃতপশিল করতে চেয়েছে। ১২ ব্যাংকে এসএ অয়েল রিফাইনারির এক হাজার ৬০৮ কোটি টাকা পুনঃতপশিলের আবেদন এসেছে। আব্দুল কাদির মোল্লার মালিকানাধীন থার্মেক্স গ্রুপ চেয়েছে এক হাজার ৪৫৭ কোটি টাকার পুনঃতপশিল সুবিধা। সাদ মুসা গ্রুপ চেয়েছে ৫ হাজার ১০০ কোটি টাকার পুনঃতপশিল সুবিধা। বাংলাদেশ ব্যাংকের তদন্তে এই গ্রুপের বিরুদ্ধে এক খাতের ঋণ নিয়ে আরেক খাতে ব্যবহারের প্রমাণ রয়েছে। মাগুরা গ্রুপ ১৪ হাজার ৭৭১ কোটি টাকার বিশেষ সুবিধার জন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংকের দ্বারস্থ হয়েছে। ওরিয়ন গ্রুপের জন্য ১ হাজার ৩০০ কোটি টাকা পুনঃতপশিল চেয়ে আবেদন করা হয়েছে। আনন্দ শিপইয়ার্ড চেয়েছে এক হাজার ৫৬ কোটি টাকার পুনঃতপশিল। এক হাসপাতালের নামে ২ হাজার ৮৫৭ কোটি টাকা ঋণ নিয়ে আলোচিত আনোয়ার খান মডার্ন হাসপাতালও চেয়েছে বিশেষ সুবিধা। দেশবন্ধু সুগার মিল, জেএমআই গ্রুপ, সানম্যান গ্রুপ, ওয়েস্টার্ন মেরিন শিপইয়ার্ড, সাইফ পাওয়ারটেক, রাইসিং স্টিল, অটোবি গ্রুপ, রানকা টেক্সটাইলের মতো প্রতিষ্ঠান রয়েছে এ তালিকায়। দেশের অন্যতম ভোগ্যপণ্য আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান সিটি গ্রুপের ৩৬টি ব্যাংকে প্রায় ২৫ হাজার কোটি টাকার ঋণ আগামী সেপ্টেম্বর পর্যন্ত খেলাপি না করতে বলা হয়েছে। তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচনের আগে বিশেষ পুনঃতপশিল সুবিধা দেওয়া হয়। ওই নির্বাচনের পর আবার বড় ঋণগ্রহীতাদের অভিনব সুবিধা দেয় কেন্দ্রীয় ব্যাংক। ব্যাংক খাতে ৫০০ কোটি টাকার বেশি ঋণ রয়েছে– এ রকম গ্রাহকের সুদহার কমানো, এক হাজার কোটি টাকার বেশি ঋণে ১ শতাংশ ডাউন পেমেন্ট, এক বছরের গ্রেস পিরিয়ড ও ১২ বছরের জন্য পুনর্গঠনের সুযোগ দেওয়া হয়। নতুন করে আর কখনও পুনঃতপশিল বা পুনর্গঠনের জন্য আসবে না– এই শর্তে ১১ গ্রুপের ১৫ হাজার ২১৮ কোটি টাকা নিয়মিত করে ব্যাংকগুলো। পরে বিভিন্ন পর্যায়ে যাচাই শেষে বেক্সিমকো, আব্দুল মোনেম, সিকদার, অ্যাননটেক্স, কেয়া গ্রুপ, থার্মেক্স, যমুনা গ্রুপ, রাইজিং স্টিল মিলস, এসএ অয়েল রিফাইনারি, রতনপুর ও এমআর গ্রুপের বিআর স্পিনিং মিলস বিশেষ পুনঃতপশিল সুবিধা নেয়। এ গ্রুপগুলোর মধ্যে যমুনা ছাড়া অন্য সবাই এখন খেলাপি। এরপর ২০১৭ সালের জানুয়ারিতে নতুন সুবিধা চেয়ে আবেদন করে তিন গ্রুপ। এর মধ্যে ৯২৮ কোটি টাকা পুনর্গঠন করে চট্টগ্রামের এসএ গ্রুপ, ৮১২ কোটি টাকা রতনপুর গ্রুপ এবং ৫৭২ কোটি টাকা পুনর্গঠন করে বিআর স্পিনিং মিল। বেক্সিমকো গ্রুপ ওই সময়ে পাঁচ হাজার ৬৪৩ কোটি পুনর্গঠন করে। সুদসহ বছর শেষে তাদের স্থিতি দাঁড়ায় ছয় হাজার ১৫১ কোটি টাকায়। ২০১৯ সালে বাংলাদেশ ব্যাংক আবার ‘এককালীন এক্সিট ও বিশেষ পুনঃতপশিল’ নীতিমালা জারি হয়। সেখানে বলা হয়, ঋণের সুদহার ৯ শতাংশে নামিয়ে আনা, এক বছরের গ্রেস পিরিয়ডসহ ১০ বছরের জন্য পুনঃতপশিল করা যাবে। আগের সুবিধা নেওয়া গ্রুপগুলো এ দফায়ও ঋণ পুনর্গঠন করে। ফলে আগের সব রেকর্ড ভেঙে এ সুবিধার আওতায় পুনঃতপশিল হয় ৫২ হাজার ৭৭০ কোটি টাকা। ২০১৯ সালেই আবার খেলাপি ঋণ কম দেখানোর সুযোগ দেয় বাংলাদেশ ব্যাংক। কোনো মেয়াদি ঋণ অনাদায়ী থাকার ছয় মাস পর থেকে মেয়াদোত্তীর্ণ হিসাব করতে বলা হয়। এভাবে চলার পর ২০২০ সালে এক টাকাও পরিশোধ না করে খেলাপিমুক্ত দেখাতে সার্কুলার করে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। আর ২০২১ সালে যে পরিমাণ ঋণ পরিশোধের কথা, তার ১৫ শতাংশ দিলেই আর খেলাপি হয়নি। ২০২৩ সালে বিশেষ সুবিধায় সর্বোচ্চ ৯১ হাজার ২২১ কোটি টাকা পুনঃতপশিল হয়। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে দেওয়া বিশেষ সুবিধা পুনঃতপশিল করা এসব ঋণে দুই বছরের গ্রেস পিরিয়ড দেওয়া হয়েছে। ফলে এখন ঋণগ্রহীতাদের কিস্তি দিতে হচ্ছে না। প্রতিবার সুবিধা পাওয়াদের তালিকায় ঘুরেফিরে একই প্রতিষ্ঠানগুলোর নাম দেখা যায়। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, আওয়ামী লীগের সময়ে একের পর এক বিশেষ সুবিধা দেওয়া হয়। পরে অন্তর্বর্তী সরকারও খেলাপি ঋণ কমাতে বিশেষ নীতি-সহায়তা দেয়। গত বছরের জানুয়ারিতে দুই বছরের গ্রেস পিরিয়ডসহ ২ শতাংশ ডাউন পেমেন্ট দিয়ে ১০ বছরের জন্য ঋণ পুনঃতপশিলের সুযোগ দেওয়া হয়। এ ব্যবস্থায় এক লাখ ৭০ হাজার ৫০৩ কোটি টাকার ঋণ পুনঃতপশিল হয়। বিএনপির নেতৃত্বাধীন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর এ সুবিধার মেয়াদ বাড়িয়েছে। নতুন করে গত ২৯ জুনের এক নির্দেশনার মাধ্যমে এক্সিট নীতিমালার আওতায় কোনো ঋণখেলাপি এককালীন সমুদয় পাওনা পরিশোধ করলে আয় খাতে নেওয়া সুদ কিংবা তহবিল ব্যবস্থাপনা ব্যয়ের বেশি মওকুফের সুযোগ দিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক সার্কুলার জারি করেছে। জানতে চাইলে ব্যাংক এশিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আরফান আলী সমকালকে বলেন, বারবার পুনঃতপশিল করা এক ধরনের ব্যবসায় পরিণত হয়েছে। প্রকৃত ব্যবসার চেয়ে পুনঃতপশিল ব্যবসা অনেক লাভজনক। এর কারণ ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, ঋণ নিয়ে তারা দেশে বা বিদেশে কোনো না কোনো সম্পদ কিনেছে। নিয়মিতভাবে ওই সম্পদের দর বেড়েছে। অথচ বছরের পর বছর সুদ মওকুফসহ নানা সুবিধা নিয়ে আসছে। অনেক চাপে পড়লে এক পর্যায়ে হয়তো দেখা যাবে, এক্সিটের নামে আসল পরিশোধ করে বেরিয়ে যাবে। এরপরও ব্যবসা করে যে আয় করা যায়, তার চেয়ে সম্পদ বিক্রি করলে বেশি মুনাফা থাকবে। আরফান আলী বলেন, খেলাপি ঋণ সমস্যার সমাধান করতে হলে খেলাপিদের সামাজিকভাবে বয়কট করা, সরকারি কোনো সুবিধা না দেওয়া এবং বিচারের আওতায় আনতে হবে। তাতে ভালো ব্যবসায়ীরা উৎসাহিত হবেন। যত টাকা পুনঃতপশিল বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যমতে, গত ১৩ বছরে বিশেষ সুবিধায় মোট ছয় লাখ ১১ হাজার ৪৩২ কোটি টাকার ঋণ পুনঃতপশিল হয়েছে। এর মধ্যে সর্বোচ্চ এক লাখ ৭০ হাজার ৫০৩ কোটি টাকার পুনঃতপশিল করা হয় ২০২৫ সালে। এর আগে কোনো এক বছরে সর্বোচ্চ ৯১ হাজার ২২১ কোটি টাকা পুনঃতপশিল হয় নির্বাচনের আগে ২০২৩ সালে। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে দেওয়া বিশেষ সুবিধা পুনঃতপশিল করা এসব ঋণে দুই বছরের গ্রেস পিরিয়ড দেওয়া হয়েছে। ফলে এখন ঋণ গ্রহীতাদের কিস্তি দিতে হচ্ছে না। আইএমএফের পদ্ধতির আলোকে এসব ঋণ ডিসট্রেস অ্যাসেট বা দুর্দশাগ্রস্ত হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। ২০২৫ সাল শেষে ব্যাংক খাতের দুর্দশাগ্রস্ত ঋণ স্থিতি দাঁড়িয়েছে ১০ লাখ ৮৭ হাজার ৫৯০ কোটি টাকায়। উচ্চ খেলাপির কারণে গত বছর ২২টি ব্যাংকের মূলধন ঘাটতি দাঁড়িয়েছে দুই লাখ ৭৮ হাজার কোটি টাকায়। ২০২৫ সালে দেশীয় মালিকানার ৫২টি ব্যাংকের মধ্যে ৩৫টি ব্যাংক লোকসান করেছে। বেসরকারি একটি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সমকালকে বলেন, ব্যাংক আমানতকারীর অর্থ নিয়ে ব্যবসা করে। ঋণের টাকা আদায় করতে না পারলেও আমানতকারীকে নিয়মিত সুদসহ টাকা ফেরত দিতে হয়। আবার আয় খাতে নেওয়া সুদের ওপর সরকারকে সাড়ে ৩৭ শতাংশ কর পরিশোধ করা হয়েছে। এখন সেই সুদ মওকুফ করা কোনোভাবেই বাস্তবসম্মত নয়। অথচ ইতোমধ্যে সুদ পরিশোধ করেছেন, এ রকম গ্রাহকও এখন রাজনৈতিক পরিচয়ে এ সুবিধার জন্য আসছেন। এভাবে চললে ব্যাংক খাত টিকবে কীভাবে– প্রশ্ন রাখেন তিনি। বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক আরিফ হোসেন খান সমকালকে বলেন, সামগ্রিক পরিস্থিতি বিবেচনায় কেন্দ্রীয় ব্যাংক বিভিন্ন নীতিমালা করে থাকে। এখন সুবিধা দেওয়ার ক্ষেত্রে ব্যাংক দেখবে, ব্যবসা করতে গিয়ে সমস্যায় পড়েছে, নাকি ইচ্ছাকৃতভাবে ঋণ পরিশোধ করছে না। সে আলোকে ব্যাংক ব্যবস্থা নেবে। তিনি বলেন, ব্যাংক যখন দেখবে ঋণ পরিশোধ না করে প্রাডো নিয়ে চলেন; ঠান্ডা লাগলেও চিকিৎসার জন্য থাইল্যান্ড-ব্যাংকক যান– এ রকম খেলাপির জন্য কোনো সুবিধা দেওয়ার সুযোগ নেই।
দেশের বড় শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) গত বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) প্রধান মূল্যসূচক ডিএসইএক্স পতন হয়েছিল প্রায় ২৬ পয়েন্ট। এর ধারাবাহিকতায় সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবস রোববার (১৯ জুলাই) পতনের মাত্রা আরও বেড়ে দাঁড়িয়েছে সাড়ে ৪৪ পয়েন্টে। টানা এই পতনের মধ্যেও রোববার ৯ কোম্পানির শেয়ার ও মিউচুয়াল ফান্ডের ইউনিট লেনদেন হয়েছে সার্কিট ব্রেকারের সর্বোচ্চ সীমায়, অর্থাৎ দিনের সর্বোচ্চ অনুমোদিত মূল্যবৃদ্ধির ঘরে গিয়ে লেনদেন হয়েছে এসব শেয়ারের দর। সার্কিট ব্রেকারের সর্বোচ্চ সীমায় ওঠা প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি দর বেড়েছে গ্রিন ডেল্টা মিউচুয়াল ফান্ডের, যার ইউনিট দর ১০ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪ টাকা ৪০ পয়সায়। দিনভর ফান্ডটির প্রায় ৩০ লাখ ৪৫ হাজার ৭৮৮টি ইউনিট হাতবদল হয়, যার বাজারমূল্য ছিল প্রায় ১ কোটি ৩০ লাখ টাকা। এ ছাড়া ইউনাইটেড ইন্স্যুরেন্সের শেয়ারদর ৯.৮১ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫২ টাকা ৬০ পয়সায়। কোম্পানিটির দিনভর প্রায় ১৪ লাখ ৯১ হাজার শেয়ারের হাতবদল হয়, যার বাজার মূল্য ছিল প্রায় ৭ কোটি ৮৪ লাখ টাকা। ডিবিএইচ ফার্স্ট মিউচুয়াল ফান্ডের ইউনিট দর ৯.৬২ শতাংশ বেড়ে হয়েছে ৫ টাকা ৭০ পয়সা, এনসিসিবিএল মিউচুয়াল ফান্ড ওয়ানের দর ৮.৯৩ শতাংশ বেড়ে হয়েছে ৬ টাকা ১০ পয়সা এবং এমবিএল ফার্স্ট মিউচুয়াল ফান্ডের দর ৮.৭০ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫ টাকায়। এর বাইরে ফারইস্ট ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট এবং ইন্টারন্যাশনাল লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেসের (আইএলএফএসএল) শেয়ারদর সমান হারে ৮.৩৩ শতাংশ বেড়ে যথাক্রমে ১ টাকা ৩০ পয়সায় লেনদেন হয়েছে। পাশাপাশি ফাস ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট এবং পিপলস লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেসের (পিএলএফএসএল) শেয়ারদরও একই হারে ৭.৬৯ শতাংশ বেড়ে ১ টাকা ৪০ পয়সায় উঠেছে। বাজার পর্যালোচনায় দেখা যায়, সার্কিট ব্রেকারে স্পর্শ (হল্ট) করা তালিকার বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানই মিউচুয়াল ফান্ড এবং তুলনামূলক কম মূল্যের আর্থিক প্রতিষ্ঠান, যার মধ্যে কয়েকটি জেড ক্যাটাগরিভুক্ত। সার্বিক বাজারে দরপতনের মধ্যেও এসব কম মূল্যের শেয়ারে বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ তৈরি হওয়ায় সেগুলো দিনের সর্বোচ্চ সীমায় উঠে লেনদেন হয়েছে বলে মনে করছেন বাজার সংশ্লিষ্টরা।