জাতীয়

ডিএসইতে সূচক কমেছে, লেনদেন ৪০৭ কোটি টাকা

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি ডিসেম্বর ২৩, ২০২৫

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) আজ সূচক কমার মধ্য দিয়ে লেনদেন শেষ হয়েছে। মোট লেনদেন হয়েছে ৪০৭ কোটি ৪১ লাখ ৪২ হাজার ২৫৩ টাকা। বাজারে আজ দর কমার প্রবণতাই বেশি লক্ষ্য করা গেছে।

ডিএসই সূত্র জানায়, আজ ডিএসইতে ১ লাখ ৩৯ হাজার ৫৩২টি ট্রেডের মাধ্যমে ৩৮৯টি কোম্পানি ও মিউচ্যুয়াল ফান্ডের ১৩ কোটি ৪৪ লাখ ২০ হাজার ১৭০টি শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়।

এছাড়া আজ ডিএসইতে আগের কার্যদিবসের তুলনায় ডিএসই ব্রড ইনডেক্স (ডিএসইএক্স) ১৩ দশমিক ৯০ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে ৪ হাজার ৮৬০ দশমিক ৬৩ পয়েন্টে। তবে ডিএস-৩০ সূচক ১ দশমিক ৮৩ পয়েন্ট বেড়ে ১ হাজার ৮৭৩ দশমিক ১৭ পয়েন্টে উঠেছে। অপরদিকে ডিএসই শরীয়াহ সূচক (ডিএসইএস) ৪ দশমিক ২১ পয়েন্ট কমে ১ হাজার ২ দশমিক ৫৮ পয়েন্টে অবস্থান করছে। লেনদেন হওয়া কোম্পানিগুলোর মধ্যে দর বেড়েছে ৮৪টির, কমেছে ২৪২টির এবং অপরিবর্তিত রয়েছে ৬৩টির দর।

ডিএসইতে আজ লেনদেনের শীর্ষ ১০ কোম্পানি হলো: বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশন (বিএসসি), সিমটেক্স, সায়হাম কটন, রহিম টেক্সটাইল, শাহজীবাজার পাওয়ার, মুন্নু ফেব্রিক্স, রহিমা ফুড, সিটি জেনারেল ইন্স্যুরেন্স, ডমিনেজ স্টিল ও খান ব্রাদার্স পিপি।

এছাড়া দর বৃদ্ধির শীর্ষ ১০ কোম্পানি হলো: এপেক্স ফুডস, গ্রিন ডেল্টা মিউচ্যুয়াল ফান্ড, রিলায়েন্স ওয়ান মিউচ্যুয়াল ফান্ড, সিমটেক্স, শাহজীবাজার পাওয়ার, এপেক্স ফুটওয়্যার, বিএসসি, ইস্টার্ন লুব্রিকেন্টস, এশিয়াটিক ল্যাব ও স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংক।

অন্যদিকে দর কমার শীর্ষে ১০-এ রয়েছে: প্রিমিয়ার লিজিং, এফএএস ফাইন্যান্স, প্রাইম ফাইন্যান্স, ইন্টারন্যাশনাল লিজিং, রেনউইক যজ্ঞেশ্বর, আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংক, জিএসপি ফাইন্যান্স, আরামিট সিমেন্ট ও প্রগ্রেসিভ লাইফ ইন্স্যুরেন্স।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

শুল্কমুক্ত সুবিধায় ব্যবসায়ীদের আগ্রহে ভাটা

পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না।   একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।   এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন।   গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে।   জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে।   সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে।   কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে।   প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে।   আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’   সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না।   এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।

স্ফিয়ার হ্যান্ডবুকের বাংলা সংস্করণের মোড়ক উন্মোচন

দুর্যোগকবলিত মানুষের মর্যাদার সাথে মানবিক সহায়তা পাওয়ার অধিকার রয়েছে এবং মানবিক কাজে নিয়োজিত সংস্থা ও কর্মীদের সেবার মান ও জবাবদিহিতার আন্তর্জাতিক মানদণ্ড বজায় রাখা আবশ্যক। স্ফিয়ার হ্যান্ডবুকে (Sphere Handbook) মানবিক সনদ, সুরক্ষা নীতি, কোর হিউম্যানিটেরিয়ান স্ট্যান্ডার্ড (CHS) এর আলোকে স্বাস্থ্য, ওয়াশ, খাদ্য নিরাপত্তা ও পুষ্টি এবং আশ্রয় ও বসতির ন্যূনতম মানদণ্ডসমূহকে একত্রিত করা হয়েছে। এর বাংলা সংস্করণ প্রকাশের ফলে মাঠপর্যায়ের কর্মী ও মানবিক সহায়তা প্রদানকারীরা এই মানদণ্ডগুলো আরও ভালোভাবে বুঝতে ও প্রয়োগ করতে পারবেন, যা মানবিক সেবার মান, জবাবদিহিতা ও কার্যকারিতা বৃদ্ধি করবে। আজ ঢাকায় স্ফিয়ার হ্যান্ডবুকের বাংলা সংস্করণের উন্মোচন অনুষ্ঠানে বক্তারা এসব কথা বলেন। স্ফিয়ার কমিউনিটি বাংলাদেশ, কোস্ট ফাউন্ডেশন এবং দুর্যোগ ফোরাম যৌথভাবে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। স্ফিয়ার কমিউনিটি বাংলাদেশ মূলত দেশে স্ফিয়ার মানদণ্ড প্রচার এবং মানবিক কাজের ক্ষেত্রে মান ও জবাবদিহিতা বৃদ্ধিতে একটি প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করছে।   প্রকাশনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের অধীন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক রেজওয়ানুর রহমান। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশে জাতিসংঘের আবাসিক সমন্বয়কারী ক্যারোল ফ্লোর-স্মেরেজমিয়াক, বাংলাদেশে ইউএনএইচসিআর এর উপ-প্রতিনিধি জুলেয়েট মুরে কিসোনি এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের পরিচালক (এমআইএম) নিতাই চন্দ্র দে সরকার। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন মো. ইকবাল উদ্দিন এবং সভাপতিত্ব করেন দুর্যোগ ফোরামের সদস্য সচিব গওহার নঈম ওয়াহরা।   সম্মানিত অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন জেনেভাস্থ স্ফিয়ার সচিবালয়ের জুনায়রা শামস, এশিয়ার আঞ্চলিক স্ফিয়ার ফোকাল তুবা সিদ্দিকী, এশিয়ান ডিসাস্টার রিডাকশন অ্যান্ড রেসপন্স নেটওয়ার্কের চেয়ারপার্সন তাকেশি কোমিয়ানো, হেলথ ক্লাস্টারের মো. জাহিদ রহিম, ফুড সিকিউরিটি ক্লাস্টারের মাইনুল হোসেন রনি, কোস্ট ফাউন্ডেশনের রেজাউল করিম চৌধুরী, আইএফআরসি এর মেহেদী হাসান শিশির, কেয়ার বাংলাদেশের মঈন উদ্দিন আহমেদ, প্ল্যান ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের কবিতা বোস, এনজিও প্ল্যাটফর্ম কক্সবাজারের তাহমিনা হক, এসডিএস এর রাবেয়া বেগম, ইএসডিও এর মশিউর রহমান, ইসলামিক রিলিফ বাংলাদেশের শামসুজ্জামান, আইওএম এর সৈয়দ শাহরিয়ার শাবাব, ইনসাইটস এর সুমন আহসানুল ইসলাম, এডাব এর এ কে এম জসীম উদ্দীন, জাগো নারী এর শিউলী শর্মা, দুর্যোগ বিশেষজ্ঞ এম এ হালিম, শশাঙ্ক সাদী, দিপু মাহমুদ, সেভ দ্য চিলড্রেনের অন্তরা তিথি, কনসার্ন বাংলাদেশের কৌশিক আহমেদ, ফ্রেন্ডশিপের শরীফ আল কামাল এবং নাহাব এর রওশন আলী।   রেজওয়ানুর রহমান উল্লেখ করেন যে, মানবিক মানদণ্ড বাস্তবায়ন করা এবং স্ফিয়ার হ্যান্ডবুক অনুবাদ করা বাংলাদেশের জন্যও দারুণ এক অগ্রগতি। সরকারি স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিউরে এই মানদণ্ডগুলো অন্তর্ভুক্ত করার জন্যও আমাদের পদক্ষেপ নিতে হবে। ক্যারোল ফ্লোর-স্মেরেজনিয়াক বলেন কাগজ থেকে এগুলো বাস্তবায়নে আমাদের কাজ করতে হবে। অন্যদিকে জুলেয়েট মুরে কিসোনি মন্তব্য করেন, এই হ্যান্ডবুকটির স্থানীয়করণ ও চর্চা  নিশ্চিত করবে মানবিক কাজে আমাদের জবাবদিহিতা।   রেজাউল করিম চৌধুরী বলেন, আমাদের কার্যক্রম যেন আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের সাথে বজায় থাকে তা নিশ্চিত করতে আমরা এই হ্যান্ডবুকটি ব্যবহার করব। জুনায়রা শামস মানদণ্ডে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্তির ওপর জোর দেন। তুবা সিদ্দিকী স্ফিয়ার মানদণ্ডের স্থানীয়করণের পক্ষে প্রচারণার বিষয়টি তুলে ধরেন। তাকেশি কোমিয়ানো বলেন, দুর্যোগকবলিত মানুষের তাদের অধিকার ও প্রাপ্য সম্পর্কে জানানো উচিত, যেন তারা আমাদেরকে জবাবদিহিতার আওতায় আনতে পারে। কবিতা বোস সারাদেশে স্ফিয়ার মানদণ্ডের কার্যকর বাস্তবায়নের জন্য কর্মপরিকল্পনাকে অগ্রাধিকার দেওয়া এবং এজন্য দায়িত্ব ভাগ করে নেওয়ার আহ্বান জানান। তাহমিনা হক রোহিঙ্গা রেসপন্সে এই মানদণ্ডের ব্যাপক প্রয়োগের ওপর জোর দেন।

আক্তারুজ্জামান জুলাই ২৫, ২০২৬
কমিউনিকেশনস পেশাজীবীদের জন্য হাতে-কলমে এআই প্রশিক্ষণ দিচ্ছে বিসিপিএস

কমিউনিকেশনস পেশাজীবীদের জন্য হাতে-কলমে এআই প্রশিক্ষণ দিচ্ছে বিসিপিএস

ছবি: সংগৃহীত

মুন্সীগঞ্জে বাস-নসিমন সংঘর্ষে চালক ও সহকারী নিহত

ছবি: সংগৃহীত

মাদক ও চোরাচালান দমনে কঠোর অবস্থানের আহ্বান এমপি জয়নাল আবেদিনের

ছবি - সংগৃহীত
২০৫০ সালের মধ্যে ১৯ লাখ গাঁট তুলা উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা সরকারের

তুলার আমদানিনির্ভরতা কমাতে এবং স্থানীয় বস্ত্র ও পোশাকশিল্পকে শক্তিশালী করার লক্ষ্যে ২০৫০ সালের মধ্যে দেশীয় তুলার আঁশ উৎপাদন ১৯ লাখ গাঁটে উন্নীত করার একটি দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে সরকার।   বাংলাদেশ বর্তমানে বছরে ২.২৪ লাখ গাঁট তুলার আঁশ উৎপাদন করে, যা দেশের বস্ত্র খাতের চাহিদার প্রায় ১৬-১৭ শতাংশ পূরণ করে।     সরকারের দীর্ঘমেয়াদী কর্মপরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০৩০ সালের মধ্যে তুলার আঁশ উৎপাদন ৫ লাখ গাঁটে পৌঁছানোর পর ২০৫০ সালের মধ্যে তা বেড়ে ১৯ লাখ গাঁটে দাঁড়াবে বলে আশা করা হচ্ছে।   তুলা উন্নয়ন বোর্ডের (সিডিবি) উপপরিচালক কুতুব উদ্দিন বাসসকে বলেন, হাইব্রিড তুলার জাত উদ্ভাবন, চাষযোগ্য জমির সম্প্রসারণ এবং কৃষকদের ধারাবাহিক প্রণোদনা সহায়তার মাধ্যমে এ লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হবে।   তিনি বলেন, উপযুক্ত জমির ব্যবহার এবং আধুনিক কৃষি প্রযুক্তির মাধ্যমে ফলন বৃদ্ধি করে বাংলাদেশে তুলার উৎপাদন বাড়ানোর যথেষ্ট সম্ভাবনা রয়েছে।   তিনি আরো বলেন, ‘উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হলে দেশটি আমদানীকৃত তুলার ওপর নির্ভরতা কমাতে পারবে এবং পোশাক খাতের সরবরাহ শৃঙ্খল (সাপ্লাই চেইন) শক্তিশালী করতে পারবে।   সিডিবির তথ্য মতে, বর্তমানে সারাদেশে প্রায় ৪৫ হাজার হেক্টর জমিতে তুলার চাষ হয়, যদিও প্রায় ২ লাখ হেক্টর জমি চাষের আওতায় আনার সম্ভাবনা রয়েছে। সরকার প্রধানত চরাঞ্চল, রাজশাহীর বরেন্দ্র অঞ্চল এবং পাহাড়ি এলাকার খাদ্যশস্য উৎপাদনের জন্য অনুপযোগী উপযুক্ত সমতল ভূমিতে তুলা চাষ সম্প্রসারণের পরিকল্পনা করছে।     কর্মকর্তারা জানান, এই কৌশলের মাধ্যমে খাদ্য নিরাপত্তায় কোনো প্রভাব না ফেলেই তুলার উৎপাদন বৃদ্ধি করা সম্ভব হবে।     বাংলাদেশের রপ্তানিমুখী তৈরি পোশাক (আরএমজি) শিল্পের জন্য প্রতি বছর প্রায় ৯০ লাখ গাঁট কাঁচা তুলার প্রয়োজন হয়, যা দেশটিকে বিশ্বের অন্যতম বৃহত্তম তুলা আমদানিকারক দেশে পরিণত করেছে।   এই চাহিদা মেটাতে বাংলাদেশ বছরে আনুমানিক ৭৫-৮০ লাখ গাঁট তুলা আমদানি করে।   ২০২৫-২৬ অর্থবছরে দেশীয় চাহিদার যোগান দিতে প্রায় ৪৫ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে প্রায় ৭৩ লাখ গাঁট কাঁচা তুলা আমদানি করা হয়েছে, যা দেশে তুলা উৎপাদন বাড়ানোর গুরুত্বকে তুলে ধরে।     সিবিডি কর্মকর্তারা বলেছেন, শুধু ২০৩০ সালের মধ্যে তুলার আঁশের উৎপাদন ৫ লাখ গাঁটে উন্নীত করতে পারলেই আমদানিনির্ভরতা কমানো সম্ভব এবং বছরে প্রায় ৮০০ কোটি টাকা বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় করা যাবে।   উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে সরকার বেশ কিছু পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। এর মধ্যে রয়েছে তুলা চাষীদের প্রণোদনা প্রদান, ‘কৃষক কার্ড’ কর্মসূচির আওতায় তুলা চাষীদের আনা এবং কার্বন ট্রেডিং উদ্যোগের মাধ্যমে ঋণ সুবিধা সম্প্রসারণ।   বিশ্বের তুলা উৎপাদনকারী দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান বর্তমানে ৪০তম। অন্যদিকে ভারত, চীন, যুক্তরাষ্ট্র, পাকিস্তান ও ব্রাজিল বিশ্বজুড়ে তুলা উৎপাদনে শীর্ষে রয়েছে।   তুলা কেবল দেশের বস্ত্র ও পোশাক শিল্পের প্রধান কাঁচামালই নয়, এটি থেকে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ উপজাতও পাওয়া যায়। তুলার বীজ প্রক্রিয়াজাত করে ভোজ্যতেল তৈরি করা হয় এবং খৈল পশুখাদ্য হিসেবে ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়, যা এই ফসলের অর্থনৈতিক মূল্য আরও বাড়িয়ে দেয়।   উৎপাদনে ধারাবাহিক অগ্রগতি সত্ত্বেও বাংলাদেশে দেশীয় উৎপাদন ও চাহিদার মধ্যে এখনো বড় ব্যবধান রয়ে গেছে।   সিডিবি উপপরিচালক ড. মো. তাসদিকুর রহমান বলেন, তুলা চাষ বেশ কিছু চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হচ্ছে- যার মধ্যে রয়েছে নীতিগত পর্যালোচনার অভাব, ফসলের তুলনামূলক দীর্ঘ উৎপাদন সময়, অন্যান্য উচ্চমূল্যের ফসলের সাথে প্রতিযোগিতা, চাষযোগ্য জমির অভাব, জলবায়ু পরিবর্তন, অনিয়মিত বৃষ্টিপাত, মূল্যের ওঠানামা এবং কীট পতঙ্গের আক্রমণ।   তিনি বলেন, এই চ্যালেঞ্জগুলো কাটিয়ে উঠতে শক্তিশালী প্রাতিষ্ঠানিক সহায়তা, আধুনিক প্রযুক্তি এবং সরকারের ধারাবাহিক বিনিয়োগ প্রয়োজন হবে।   তিনি আরো বলেন, ‘সরকার ইতোমধ্যে তুলা উন্নয়ন বোর্ডকে শক্তিশালীকরণ, অবকাঠামো সম্প্রসারণ এবং পরিবেশবান্ধব বস্ত্র খাতকে উৎসাহিত করাসহ বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।’   উৎপাদন ত্বরান্বিত করার জন্য তুলা চাষের এলাকা আরও সম্প্রসারণ, সিডিবির সাংগঠনিক সংস্কার, বৃহত্তর নীতিগত সহায়তা, তুলা চাষিদের জন্য মূল্য ভর্তুকি এবং বিশেষ কৃষি ঋণের প্রয়োজনীয়তার ওপরও জোর দেন তিনি।   সরকারের সহায়তা কর্মসূচির অংশ হিসেবে ২০২৬-২৭ অর্থবছরে তুলা চাষের জন্য প্রণোদনা হিসেবে ২০ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে।   তুলা উন্নয়ন বোর্ডের (সিবিডি) মৃত্তিকা উর্বরতা ও পানি ব্যবস্থাপনা বিশেষজ্ঞ ড. এম গাজী গোলাম মুর্তুজা বলেন, ২৬টি জেলার প্রায় ২৫ হাজার প্রান্তিক কৃষক এক বিঘা জমিতে আন্তঃফসল হিসেবে তুলা চাষের জন্য উন্নত মানের বীজ, সার ও কীটনাশক পাবেন।     তিনি বলেন, ‘উৎপাদন খরচ কমিয়ে মুনাফা বৃদ্ধির মাধ্যমে কৃষকদের আরও বেশি তুলা চাষে উৎসাহিত করাই এই প্রণোদনা কর্মসূচির মূল উদ্দেশ্য।’   তুলাকে বাংলাদেশের অন্যতম লাভজনক অর্থকরী ফসল হিসেবে উল্লেখ করে ড. মুর্তুজা বলেন, পাট চাষ কমে যাওয়ায় এই ফসলটি ক্রমশ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।   তিনি আরো বলেন, ‘খুব কম ফসলই আছে যা তুলার সমতুল্য আয় দেয়। কৃষকদের তুলা চাষে উৎসাহিত করলে তাদের আয় বাড়বে এবং দেশের আমদানি ব্যয়ও কমবে।’     সিবিডির নির্বাহী পরিচালক মো. রেজাউল আমিন বলেন, কৃষকদের জন্য তুলা চাষ অর্থনৈতিকভাবে আকর্ষণীয়। তার মতে, এক বিঘা জমিতে তুলা উৎপাদন করতে প্রায় ১৫ হাজার টাকা খরচ হয়, যেখানে কৃষকরা প্রায় ১৫ মণ কাঁচা তুলা সংগ্রহ করে প্রায় ৬০ হাজার টাকা আয় করতে পারেন।     তিনি আরো উল্লেখ করেন যে, দেশীয়ভাবে উৎপাদিত প্রতি কেজি তুলা সরকারের প্রায় ৪ মার্কিন ডলার আমদানি খরচ সাশ্রয় করে। যা স্থানীয় উৎপাদনকে কৃষক এবং জাতীয় অর্থনীতি উভয়ের জন্যই লাভজনক করে তোলে।     সাধারণত জুনের মাঝামাঝি সময়ে তুলার বীজ বপন করা হয় এবং ডিসেম্বরে তা কাটা হয়। তুলা উন্নয়ন বোর্ডের বিজ্ঞানীরা বলেছেন, উন্নত বীজ প্রযুক্তি এবং উন্নত চাষাবাদের পদ্ধতির পাশাপাশি জিনগতভাবে পরিবর্তিত তুলার জাতের প্রবর্তন উৎপাদনশীলতা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়াতে এবং আমদানির উপর নির্ভরতা কমাতে পারে।   তারা আরো উল্লেখ করেন, বাংলাদেশের ভৌগোলিক ও জলবায়ুগত পরিস্থিতি তুলা চাষের জন্য অনুকূল। বিশেষ করে দক্ষিণ, পশ্চিম, উত্তর এবং মধ্য অঞ্চলের ৩২টিরও বেশি জেলায় উঁচু ও পাহাড়ি এলাকায় তুলা চাষের জন্য উপযুক্ত পরিবেশ রয়েছে।     কর্মকর্তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন যে, সরকারের ধারাবাহিক সহায়তা, চাষাবাদ সম্প্রসারণ, আধুনিক প্রযুক্তি এবং কৃষকদের বৃহত্তর অংশগ্রহণের মাধ্যমে বাংলাদেশ আগামী দশকগুলোতে অভ্যন্তরীণ তুলা উৎপাদন উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়াতে, আমদানিকৃত কাঁচা তুলার ওপর নির্ভরশীলতা কমাতে এবং বিশ্বে প্রতিযোগিতামূলক বাজারে দেশের বস্ত্র ও পোশাক শিল্পকে শক্তিশালী করতে সক্ষম হবে।

মারিয়া রহমান জুলাই ২৫, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

যুবসমাজকে মাদক ও অপরাধ থেকে দূরে রাখতে খেলাধুলার বিকল্প নেই: আইজিপি

ছবি: সংগৃহীত

উন্নতির পথে বন্যা পরিস্থিতি, চট্টগ্রামের ১৫ উপজেলায় এখনো জলাবদ্ধতা

ইসলামী ব্যাংকের শেয়ার কেলেঙ্কারি: সাবেক রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিনকে জড়িয়ে বিএফআইইউর প্রতিবেদন

ছবি: সংগৃহীত
জুলাই সনদ বাস্তবায়ন না হলে কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি রাশেদ প্রধানের

জুলাই সনদ গণভোটের আলোকে বাস্তবায়নের দাবি জানিয়ে তা কার্যকর না হলে কঠোর আন্দোলনের কর্মসূচির হুঁশিয়ারি দিয়েছেন জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির (জাগপা) সহ-সভাপতি ও মুখপাত্র রাশেদ প্রধান।   শনিবার (২৫ জুলাই) সিলেটে ১১ দলীয় ঐক্যের বিভাগীয় সমাবেশে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি বলেন, ঢাকায় অনুষ্ঠিতব্য মহাসমাবেশের আগে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন না হলে সরকারবিরোধী বৃহত্তর আন্দোলন শুরু হতে পারে।   রাশেদ প্রধান অভিযোগ করেন, বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর কয়েক মাস পেরিয়ে গেলেও সিলেট অঞ্চলের উন্নয়ন ও জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে দৃশ্যমান অগ্রগতি হয়নি। তিনি বলেন, শুরুর সময়েই কার্যকর উদ্যোগ না থাকলে ভবিষ্যতেও কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তনের সম্ভাবনা কম।   সংবিধান সংস্কার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, কেবল সংশোধন নয়, প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে মৌলিক সংস্কারের উদ্যোগ নিতে হবে। গণভোটের রায়ের আলোকে জুলাই সনদ বাস্তবায়নের বিকল্প নেই বলেও মন্তব্য করেন তিনি।   সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সম্ভাব্য দেশে ফেরা, ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক, ইলিয়াস আলীর নিখোঁজের ঘটনা এবং টিপাইমুখ বাঁধ ইস্যুতেও বক্তব্য দেন রাশেদ প্রধান। পাশাপাশি তিনি ভারতের সাম্প্রতিক জেন-জি আন্দোলনের প্রতি সংহতি প্রকাশ করেন।   তিনি আরও বলেন, ঢাকার মহাসমাবেশের আগে জুলাই সনদ বাস্তবায়নে দৃশ্যমান অগ্রগতি না হলে দলীয় জোট পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা করবে।   সমাবেশে সীমান্ত দিয়ে ভারত থেকে মানুষকে বাংলাদেশে ঠেলে পাঠানোর (পুশ-ইন) প্রচেষ্টা প্রতিহত করায় সিলেট, মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জের বাসিন্দাদের প্রতিও কৃতজ্ঞতা জানান জাগপা নেতা।

আক্তারুজ্জামান জুলাই ২৫, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতায় জোর দিলেন তথ্যমন্ত্রী, অ্যাক্টিভিজম থেকে দূরে থাকার আহ্বান

ছবি: সংগৃহীত

শিল্প-শিক্ষা-প্রবাসী সংযোগে ত্রিপাক্ষিক ইকোসিস্টেম গড়বে সরকার: মাহ্দী আমিন

ছবি: সংগৃহীত

তিন দিনের সফরে মালদ্বীপে পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান

0 Comments