এশিয়ার শহরগুলো যত বড় হচ্ছে, ততই বাড়ছে জঞ্জাল, দূষণ আর অসহনীয় যানজট। দ্রুত নগরায়ণের সুফল যেখানে জীবনমান উন্নত করার কথা, সেখানে অপরিকল্পিত সম্প্রসারণ ও দুর্বল নগর শাসনের কারণে অনেক মেগাসিটিই এখন বসবাসের অযোগ্য হয়ে উঠছে।
ইকোনমিস্ট ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের (ইআইইউ) সর্বশেষ বাসযোগ্য শহরের তালিকায় ১৭৩টি শহরের মধ্যে ঢাকার অবস্থান শেষ দিক থেকে তৃতীয়। ঢাকার নিচে আছে কেবল যুদ্ধবিধ্বস্ত সিরিয়ার দামেস্ক ও লিবিয়ার ত্রিপোলি। একই তালিকায় জাকার্তার অবস্থান ১৩২তম এবং দিল্লির ১৪৫তম।
টানা সাত দশক ধরে বিশ্বের সবচেয়ে জনবহুল শহর হিসেবে পরিচিত ছিল টোকিও। তবে জাতিসংঘের সর্বশেষ প্রতিবেদনে সেই হিসাব বদলে গেছে। এবার শহরের প্রশাসনিক সীমানার বদলে বাস্তব বিস্তৃতি বা আরবান স্প্রল বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে।
এই নতুন মাপকাঠিতে বিশ্বের সবচেয়ে জনবহুল শহর এখন ইন্দোনেশিয়ার রাজধানী জাকার্তা—জনসংখ্যা প্রায় ৪ কোটি ২০ লাখ। দ্বিতীয় অবস্থানে ঢাকা, প্রায় ৩ কোটি ৭০ লাখ মানুষ নিয়ে। টোকিও নেমে গেছে তৃতীয় স্থানে, জনসংখ্যা ৩ কোটি ৩০ লাখ। শীর্ষ পাঁচে থাকা অন্য দুটি শহর হলো ভারতের দিল্লি ও চীনের সাংহাই।
জাতিসংঘের তথ্যমতে, বর্তমানে বিশ্বের মোট জনসংখ্যার প্রায় ৪৫ শতাংশ শহরে বসবাস করে। এই নগরায়ণের বড় অংশ ঘটছে এশিয়ার মধ্যম আয়ের দেশগুলোতে। বিশ্বের শীর্ষ ১০ জনবহুল শহরের মধ্যে মাত্র একটি এশিয়ার বাইরে, আর ৩৩টি মেগাসিটির মধ্যে মাত্র ৭টি ধনী দেশগুলোতে অবস্থিত।
প্রতিবেদন বলছে, ২০৫০ সালের মধ্যে জাকার্তা ও ঢাকায় আরও আড়াই কোটি মানুষ যুক্ত হবে—যা অস্ট্রেলিয়ার বর্তমান জনসংখ্যার কাছাকাছি।
গ্রাম থেকে শহরে আসা মানুষের জীবনে পরিবর্তন আসে—কর্মসংস্থান ও শিক্ষার সুযোগ বাড়ে। তবে নগর ব্যবস্থাপনা দুর্বল হলে সেই সুফল দ্রুতই ম্লান হয়ে যায়। নিউইয়র্ক বিশ্ববিদ্যালয়ের নগর অর্থনীতিবিদ আলাঁ বার্তো বলেন,
“মানুষ শ্রমবাজারের অংশ হতে শহরে আসে। কিন্তু যদি সেই শ্রমবাজার ও নগর ব্যবস্থা ঠিকভাবে কাজ না করে, তবে শহর শেষ পর্যন্ত দারিদ্র্যের ফাঁদে পরিণত হয়।”
এশিয়ার মেগাসিটিগুলোতে ঠিক সেটাই ঘটছে। অপরিকল্পিত সম্প্রসারণ, দুর্বল গণপরিবহন, দূষণ ও যানজট নগর অর্থনীতিকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে।
জাকার্তার আশপাশের বোগর, দেপোক, তাংগেরাং ও বেকাসির মতো শহরগুলো একে একে মূল শহরের সঙ্গে মিশে গেছে। অথচ এই বিশাল জনপদের জন্য নেই কোনো সমন্বিত প্রশাসনিক কাঠামো। ফলে যানজট ভয়াবহ আকার নিয়েছে। বিশ্বের সবচেয়ে যানজটপূর্ণ শহরের তালিকায় জাকার্তার অবস্থান ১২তম—ঢাকা তৃতীয় এবং দিল্লি সপ্তম।
জাকার্তা সরকারের হিসাব অনুযায়ী, শুধু যানজটের কারণেই প্রতিবছর প্রায় ৬০০ কোটি ডলার অর্থনৈতিক ক্ষতি হচ্ছে। ২০১৯ সালে মেট্রোরেল চালু হলেও তা শহরের সীমানা ছাড়িয়ে উপশহরগুলো পর্যন্ত পৌঁছায়নি—যেখানে যাতায়াতের প্রয়োজন ছিল সবচেয়ে বেশি।
ঢাকাও একই সমস্যায় জর্জরিত। শহরের বিস্তার হলেও প্রশাসনিক সমন্বয় নেই। দুই সিটি করপোরেশন, একটি উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ, একাধিক মন্ত্রণালয় ও অসংখ্য সংস্থার মধ্যে দায়িত্ব বিভক্ত। প্রয়াত মেয়র আনিসুল হক একবার আক্ষেপ করে বলেছিলেন, ঢাকার ৮০ শতাংশ সমস্যা সমাধানের ক্ষমতাই তার হাতে নেই।
চীনের সাংহাই ও জাপানের টোকিও তুলনামূলক সফল উদাহরণ। সাংহাই পরিচালিত হয় একক ও শক্তিশালী কর্তৃপক্ষের অধীনে। আর টোকিওতে রয়েছে ‘টোকিও মেট্রোপলিটন গভর্নমেন্ট’, যা বড় সেবাগুলোর দায়িত্ব পালন করে এবং নিচের স্তরের পৌরসভাগুলোর মধ্যে সমন্বয় করে।
বিশেষ করে টোকিওতে শক্তিশালী গণপরিবহন নেটওয়ার্ক পুরো অঞ্চলকে যুক্ত করে রেখেছে। বৃহত্তর টোকিও অঞ্চলের প্রায় ৯০ শতাংশ মানুষ রেলস্টেশন থেকে ২০ মিনিটের হাঁটা-দূরত্বে বসবাস করে।
ঢাকা, জাকার্তা বা দিল্লিকে বাসযোগ্য করতে শুধু হাজার হাজার কোটি টাকার অবকাঠামো প্রকল্প যথেষ্ট নয়। সবচেয়ে জরুরি হলো নগর শাসন ও প্রশাসনিক কাঠামোর মৌলিক সংস্কার।
চমক দেখানো প্রকল্প সহজ, কিন্তু ক্ষমতা ও দায়িত্বের কাঠামো বদলানো কঠিন। তবু ভবিষ্যতের কথা ভাবলে এশিয়ার মেগাসিটিগুলোর জন্য এই কঠিন সিদ্ধান্তই এখন সবচেয়ে জরুরি—এবং এর সুফল হবে দীর্ঘমেয়াদি।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে সংঘটিত এজাহারভুক্ত হত্যা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ ও মিরাজ হোসেন পলাতক রয়েছেন। ব্যাংক প্রশাসন বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। খুনের শিকার কৃষি ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী আব্দুল হালিম ছিলেন কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) সভাপতি। তার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলায়। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি স্থানীয়ভাবে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ১ নম্বর আসামি হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত পিয়ন ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ এবং ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেনের নাম রয়েছে। তারা বর্তমানে নিজেদের সিবিএ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দাবি করে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে প্রভাব বিস্তার করছেন। ব্যাংক সূত্রে গেছে, তারা চাঁদাবাজি, ঘুষ আদায় ও নানা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। সূত্র জানায়, ব্যাংকের ভেতরে একটি সিন্ডিকেটের প্রভাবেই এসব আসামিরা এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন। এই সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে আছেন মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেন। এতে আরও যুক্ত রয়েছেন ডিজিএম সৈয়দ লিয়াকত হোসেন, হাবিব উন নবী, ডিএমডি খালেকুজ্জামান জুয়েল ও ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী। গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর রাতে মতিঝিলের বিমান অফিসের সামনে আব্দুল হালিমের মৃত্যু হয়। পরদিন সকালে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়। মতিঝিল থানার উপ-পরিদর্শক সজীব কুমার সিং সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে জানান, পুরনো সহকর্মীদের সঙ্গে বিরোধের জেরে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং রাত ১টা ৪০ মিনিটে হাসপাতালে মারা যান। হালিমের ছেলে ফয়সাল বলেন, তার বাবা ২০১৪ সাল থেকে কৃষি ব্যাংক সিবিএর সভাপতি ছিলেন এবং বোয়ালখালী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতেন। ইউনিয়নের নেতৃত্ব ও পদ নিয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে গত নভেম্বরেই মতিঝিল থানায় একটি জিডি (নং ০৫/১১/২০২৪ - ৩৩৫) করেছিলেন তার বাবা। তিনি আরও বলেন, বুধবার রাতে আমার বাবাকে তার অফিসের সহকর্মীরা মারধর করে হত্যা করেছে। সিবিএর বর্তমান সাধারণ সম্পাদক নাসিম আহমেদ জানান, ২০১৪ সালে আমরা নির্বাচিত হই। এরপর আর কোনো নির্বাচন হয়নি। কিন্তু গত ৫ আগস্ট বিনা নির্বাচনে নতুন কমিটি ঘোষণা করে আমাদের অফিস দখল করে নেয় ফয়েজ ও মিরাজ। এ নিয়ে মামলা চলছে। মামলার তথ্য অনুযায়ী, আসামিরা অস্থায়ী জামিনে ছিলেন। সম্প্রতি তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। এছাড়া আরও কয়েকজন পলাতক রয়েছেন—যাদের মধ্যে আছেন ড্রাইভার সাইফুল, শাহেদ, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মেহেদী ও অবসরপ্রাপ্ত ক্লিনার সিরাজ। এদিকে, মামলার ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেন নৈমিত্তিক ছুটির আবেদন করে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। যদিও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামির নৈমিত্তিক ছুটি পাওয়ার কোনো এখতিয়ার নেই। মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক এ বিষয়ে বলেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন এবং নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন। কিন্তু স্থানীয় মুখ্য কার্যালয়ের প্রধান মহাব্যবস্থাপক জানান, তিনি কোনো মন্তব্য করতে চান না। কারণ ব্যবস্থাপনা পরিচালক মন্তব্য না করার নির্দেশ দিয়েছেন। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। অভ্যন্তরীণ এই পরিস্থিতিতে কৃষি ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের মুখ উজ্জ্বল করে আবারও বিশ্বের সেরা বিজ্ঞানীদের তালিকায় স্থান করে নিয়েছেন মালয়েশিয়া প্রবাসী বাংলাদেশি বিজ্ঞানী অধ্যাপক ড. সাইদুর রহমান। অসাধারণ গবেষণা, একাডেমিক উৎকর্ষ ও বৈশ্বিক অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ এডি সায়েন্টিফিক ইনডেক্স র্যাঙ্কিং ২০২৬-এ তিনি মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং শাখায় মালয়েশিয়ায় প্রথম, এশিয়ায় দ্বিতীয় এবং বিশ্বে সপ্তম স্থান অর্জন করেছেন। সম্প্রতি প্রকাশিত এডি সায়েন্টিফিক ইনডেক্স ২০২৬ অনুযায়ী, ইঞ্জিনিয়ারিং ও টেকনোলজি / মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগে বিশ্বের ৩৩,৩৭১ জন বিজ্ঞানীর মধ্যে এই মর্যাদাপূর্ণ অবস্থান অর্জন করেন অধ্যাপক ড. সাইদুর রহমান। উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো—এর আগের বছর ২০২৫ সালেও একই র্যাঙ্কিংয়ে তিনি বিশ্বে সপ্তম অবস্থানে ছিলেন, যা তার গবেষণায় ধারাবাহিক উৎকর্ষ ও স্থিতিশীল সাফল্যের সুস্পষ্ট প্রমাণ। এছাড়া, স্কলারজিপিএস ২০২৫ অনুযায়ী টেকসই জ্বালানি ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি গবেষণায় তিনি বিশ্বসেরা বিজ্ঞানী হিসেবে প্রথম স্থান অর্জন করেন। একই বছরে স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় ও এলসেভিয়ার-এর যৌথ বিশ্লেষণে প্রকাশিত বিশ্বের শীর্ষ ২ শতাংশ বিজ্ঞানীর তালিকায়, মালয়েশিয়ার বিজ্ঞানীদের মধ্যে এনার্জি গবেষণায়ও তিনি প্রথম স্থান অধিকার করেন। অধ্যাপক ড. সাইদুর রহমান সানওয়ে ইউনিভার্সিটি থেকে উদ্যোক্তা ও উদ্ভাবনে উৎকর্ষতা পুরস্কার এবং শিক্ষার্থীদের কৃতজ্ঞতা স্বীকৃতি (শিক্ষাদান) পুরস্কার লাভ করেন। পাশাপাশি, ২০২৫ সালের ওবাদা পুরস্কার-এ “বিশিষ্ট বিজ্ঞানী” ক্যাটাগরিতে তিনি সম্মানিত হন। বিজ্ঞান, প্রকৌশল ও প্রযুক্তি ক্ষেত্রে এই পুরস্কার বিশ্বব্যাপী অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ। ২০২৫ সালে সারা বিশ্ব থেকে মাত্র ৮ জন বিশিষ্ট বিজ্ঞানী এই সম্মানে ভূষিত হন—যাদের মধ্যে অধ্যাপক ড. সাইদুর রহমান অন্যতম। গুগল স্কলার-এর তথ্য অনুযায়ী, অধ্যাপক ড. সাইদুর রহমানের এইচ-ইনডেক্স ১৪৫ এবং তার গবেষণায় ৮৬ হাজারেরও বেশি সাইটেশন রয়েছে। তিনি ময়মনসিংহ জেলার কৃতি সন্তান এবং বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী। বর্তমানে তিনি মালয়েশিয়ার স্বনামধন্য সানওয়ে ইউনিভার্সিটিতে অধ্যাপনা করছেন। ২০১৪ থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত নিজ গবেষণা ক্ষেত্রে শীর্ষ ১ শতাংশ গবেষক হিসেবে অবস্থান করার জন্য তিনি ক্ল্যারিভেট অ্যানালিটিক্স কর্তৃক বিশ্বসেরা গবেষক হিসেবে স্বীকৃতি লাভ করেন। তার গবেষণা কার্যক্রম মালয়েশিয়ার উচ্চ শিক্ষা মন্ত্রণালয় কর্তৃকও স্বীকৃত। এমএক্সিন-ভিত্তিক ন্যানোম্যাটেরিয়াল গবেষণায় স্কোপাস ডেটা বিশ্লেষণে মালয়েশিয়ায় প্রথম স্থান এবং ন্যানোফ্লুইড গবেষণায় ওয়েব অব সায়েন্স অনুযায়ী বিশ্বে প্রথম স্থান অর্জন করেছেন তিনি। তরুণ গবেষকদের অনুপ্রাণিত করতে অধ্যাপক ড. সাইদুর রহমান তার ২৮ বছরের গবেষণা অভিজ্ঞতা অনলাইন সেমিনার, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এবং একটি ইউটিউব চ্যানেলের মাধ্যমে নিয়মিতভাবে শেয়ার করে যাচ্ছেন। পাশাপাশি, অসহায় ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের সহায়তায়ও তিনি সক্রিয় ভূমিকা পালন করছেন। নিজ উদ্যোগে ১৫ লাখ মার্কিন ডলারের বেশি ব্যয়ে তিনি সানওয়ে ইউনিভার্সিটিতে একটি অত্যাধুনিক গবেষণাগার স্থাপন করেছেন। এই গবেষণাগারে জ্বালানি প্রযুক্তি, উন্নত উপাদান, এনার্জি স্টোরেজ, সৌর শক্তি এবং বিশুদ্ধ পানি উন্নয়নসংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ গবেষণা পরিচালিত হচ্ছে। জাতীয় অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ২০২২ সালের ডিসেম্বর মাসে বাংলাদেশ সরকার তাকে বাণিজ্যিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি (সিআইপি) সম্মাননা প্রদান করে। এই আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি প্রসঙ্গে অধ্যাপক ড. সাইদুর রহমান বলেন, ‘এই অর্জন কোনো একক ব্যক্তির নয়। শিক্ষার্থী, গবেষণা দল, সহকর্মী, প্রতিষ্ঠান ও অর্থায়নকারী সংস্থার সম্মিলিত প্রচেষ্টার ফলেই এই সাফল্য সম্ভব হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, এই অর্জন শুধু একজন গবেষকের ব্যক্তিগত সাফল্য নয়; বরং এটি মালয়েশিয়ার উচ্চশিক্ষা ও গবেষণার আন্তর্জাতিক অবস্থানকে আরও দৃঢ় করেছে। ভবিষ্যতেও শিক্ষা ও গবেষণায় নতুন নতুন মাইলফলক অর্জনের প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন অধ্যাপক ড. সাইদুর রহমান।
স্থায়ীভাবে বহিষ্কার হওয়া বরিশাল বিএনপির দুই নেতাকে সুসংবাদ দেওয়া হয়েছে। লিখিত আবেদনের প্রেক্ষিতে বহিষ্কারের প্রায় আড়াই বছর পর তাদের দলের প্রাথমিক সদস্যপদ ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে। দলীয় সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করে ফ্যাসিস্ট আওয়ামী সরকারের অধীনে অনুষ্ঠিত সিটি করপোরেশন নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার হোন তারা। শনিবার (১০ জানুয়ারি) তাদের বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করে দলের প্রাথমিক সদস্যপদ ফিরিয়ে দেওয়া হয়। বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী স্বাক্ষরিত বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহারের এক চিঠিতে এ তথ্য নিশ্চিত হওয়া গেছে। এ নিয়ে গত তিন দিনে সিটি নির্বাচনের সময় বহিষ্কার ১৯ জনের মধ্যে ১৭ জনের বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার হলো। নতুন করে বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার হওয়া দু’জন হলেন— বরিশাল মহানগর বিএনপির ১৮ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক সদস্য সচিব জিয়াউল হক মাসুম ও বরিশাল জেলা তাঁতীদলের সাবেক সভাপতি কাজী মো. সাহিন। তাদের মধ্যে মাসুম মহানগর বিএনপির সাবেক সদস্যসচিব মীর জাহিদুল কবির জাহিদের অনুসারী। তিনি সিটি নির্বাচনে কাউন্সিলর নির্বাচিত হয়ে সাবেক মেয়র খোকন সেরনিয়াবাতের হাত ধরে আওয়ামী লীগে যোগদান করেন। গণ-অভ্যুত্থানের সময় ছাত্র-জনতার ওপর হামলার অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি বরিশালে বিএনপির অফিস পোড়ানোসহ গণ-অভ্যুত্থানে হামলার একাধিক মামলার এজাহারভুক্ত আসামিও ছিলেন মাসুম। ওই মামলায় কারাভোগও করেছেন তিনি। বর্তমানে জামিনে আছেন। তাকে পুনরায় দলে নেওয়ায় নেতাকর্মীদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। এর আগে দলীয় সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করে ২০২৩ সালে অনুষ্ঠিত বরিশাল সিটি করপোরেশন নির্বাচনে অংশ নেন ওই ২ জনসহ বিএনপির ১৯ নেতা। এ কারণে ‘বেইমান এবং ‘মীর জাফর’ আখ্যা দিয়ে একই বছরের ৪ জুন ১৯ নেতাকে দল থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করে বিএনপি। বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী স্বাক্ষরিত সেই বহিষ্কারাদেশে বলা হয়েছে, আওয়ামী লীগ সরকারের অধীনে নির্বাচনে অংশ নিয়ে তারা খুন-গুমের শিকার পরিবারসহ গণতন্ত্রকামী জনগোষ্ঠীর আকাঙ্ক্ষার প্রতি বিশ্বাসঘাতকতা করেছেন। গণতন্ত্র উদ্ধারের ইতিহাসে তাদের নাম ‘বেইমান, বিশ্বাসঘাতক ও মীর জাফর’ হিসেবে উচ্চারিত হবে। এদিকে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী স্বাক্ষরিত বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার পত্রে উল্লেখ করা হয়েছে, ইতোপূর্বে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ এবং দলের নীতি ও আদর্শ পরিপন্থি কার্যকলাপের জন্য দলের প্রাথমিক সদস্যসহ সব পর্যায়ের পদ থেকে বহিষ্কার করা হলো। আবেদনের প্রেক্ষিতে দলীয় সিদ্ধান্ত মোতাবেক ১০ জানুয়ারি তাদের বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করে প্রাথমিক সদস্য পদ ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে। এর আগে গত ৯ জানুয়ারি কামরুল আহসান রুপন, মো. ফিরোজ আহমেদ, মো. ফরিদ উদ্দিন হাওলাদার, সৈয়দ হাবিবুর রহমান ফারুক, হুমায়ুন কবির, সৈয়দ হুমায়ুন কবির লিংকু, মহিলা দল নেত্রী জাহানারা বেগম ও সেলিনা বেগম, রাশিদা পারভীন, জেসমিন সামাদ শিল্পী, যুবদলের সিদ্দিকুর রহমান ও স্বেচ্ছাসেবক দলের জাবের আব্দুল্লাহ সাদী এবং তার আগে গত ৭ জানুয়ারি মহানগর বিএনপির সাবেক তিন যুগ্ম আহ্বায়ক শাহ্ আমিনুল ইসলাম, হাবিবুর রহমান টিপু ও হারুন অর রশিদের বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করা হয়।
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন পর্যন্ত সব সরকারি যোগাযোগে গণভোটের লোগো ব্যবহার এবং এ সংক্রান্ত ব্যানার দৃষ্টিনন্দন স্থানে প্রদর্শনের জন্য সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা দিয়েছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। গত ৭ জানুয়ারি মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে সব মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব/সচিব, বিভাগীয় কমিশনার ও জেলা প্রশাসকদের কাছে এ বিষয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছে। এর আগে, ৫ জানুয়ারি এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয় থেকে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে চিঠি পাঠানো হয়। এতে বলা হয়, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠেয় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিন একই সঙ্গে জুলাই জাতীয় সনদ ২০২৫-এ লিপিবদ্ধ সংবিধান সংস্কার সম্পর্কিত প্রস্তাবগুলোর ওপর গণভোট অনুষ্ঠিত হবে। গুরুত্বপূর্ণ এই গণভোটের বিষয়ে ভোটারদের মধ্যে ব্যাপক জনসচেতনতা তৈরি করা প্রয়োজন। চিঠিতে বলা হয়, নির্বাচনের আগ পর্যন্ত সব সরকারি যোগাযোগ পত্র, আদেশ, প্রজ্ঞাপন, পরিপত্রসহ গণভোটের লোগো ব্যবহার করতে হবে। পাশাপাশি সরকারি, আধা-সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে প্রতিষ্ঠানপ্রধানদের স্ব-উদ্যোগে দুটি করে খাড়া (ভার্টিক্যাল) ব্যানার প্রিন্ট করে অফিসের সামনে দৃষ্টিনন্দন স্থানে প্রদর্শন করতে হবে, যাতে সেবাগ্রহীতা ও সাধারণ জনগণের মধ্যে ব্যাপক প্রচারণা নিশ্চিত হয়। এ বিষয়ে প্রধান উপদেষ্টার সম্মতি রয়েছে বলেও চিঠিতে উল্লেখ করা হয়।