‘নান্দনিক চলচ্চিত্র, মননশীল দর্শক, আলোকিত সমাজ’ স্লোগান নিয়ে আগামী ১০ জানুয়ারি থেকে শুরু হচ্ছে ২৪তম ঢাকা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসব-২০২৬। ৯ দিনব্যাপী এই উৎসবে এবার বিশেষ চমক হিসেবে থাকছে কক্সবাজারের সমুদ্র সৈকতে সিনেমা দেখার সুযোগ।
বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) দুপুরে ঢাকা ক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে উৎসবের বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরেন আয়োজকরা। রেইনবো চলচ্চিত্র সংসদের উদ্যোগে আয়োজিত এবারের উৎসবে ৯১টি দেশের ২৪৫টি সিনেমা প্রদর্শিত হবে।
১০ জানুয়ারি বিকেল ৪টায় জাতীয় জাদুঘরের মূল মিলনায়তনে উৎসবের উদ্বোধন করবেন তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান। উদ্বোধনী ছবি হিসেবে দেখানো হবে চীনা পরিচালক চেন শিয়াং-এর ‘দি জার্নি টু নো এন্ড’।
ঢাকার জাতীয় জাদুঘর ছাড়াও শিল্পকলা একাডেমি, অলিয়ঁস ফ্রঁসেজ এবং স্ট্যামফোর্ড ইউনিভার্সিটি মিলনায়তনে সিনেমাগুলো দেখানো হবে। এবার কক্সবাজারের লাবণী পয়েন্টে ‘ওপেন এয়ার স্ক্রিনিং’-এর ব্যবস্থা করা হয়েছে; ফলে, ১০ থেকে ১৮ জানুয়ারি পর্যন্ত পর্যটক ও দর্শনার্থীরা সৈকতে বসে বিনামূল্যে সিনেমা উপভোগ করতে পারবেন। আর প্রথমবারের মতো এমন আয়োজন উৎসবের নতুন এক মাত্রা যোগ করেছে।
জানা গেছে, উৎসবের সব প্রদর্শনী দর্শকদের জন্য উন্মুক্ত থাকবে। তবে আসন সংখ্যা সীমিত হওয়ায় ‘আগে এলে আগে বসবেন’ ভিত্তিতে দর্শকদের সুযোগ দেওয়া হবে। এরপর ১৮ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত হবে সমাপনী আয়োজন। এদিন প্রধান অতিথি হিসেবে থাকবেন সংস্কৃতি বিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী। সেদিনই ঘোষণা করা হবে উৎসবের সেরা সিনেমার নাম।
উৎসবে যোগ দিতে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের নামী চলচ্চিত্র নির্মাতা, শিল্পী ও সমালোচকরা ঢাকায় উপস্থিত থাকবেন।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না। একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন। গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে। জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে। সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে। কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে। প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে। আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’ সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না। এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।
আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের মুখ আরও একবার উজ্জ্বল করতে যাচ্ছেন জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারপ্রাপ্ত অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধন। নির্মাতা রুবাইয়াত হোসেনের নতুন চলচ্চিত্র 'দ্য ডিফিকাল্ট ব্রাইড' এবার নির্বাচিত হয়েছে বিশ্বের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ ভেনিস আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের ৮৩তম আসরের অরিজোন্তি কমপিটিশন বিভাগে। আর এই সিনেমার গুরুত্বপূর্ণ একটি চরিত্রে অভিনয় করেছেন বাঁধন। এটি বাংলাদেশের প্রথম পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র, যা ভেনিস চলচ্চিত্র উৎসবের প্রতিযোগিতা বিভাগে স্থান করে নিয়েছে। আগামী ২ সেপ্টেম্বর শুরু হওয়া উৎসবে সিনেমাটির ওয়ার্ল্ড প্রিমিয়ার অনুষ্ঠিত হবে। দুই দশকের দীর্ঘ প্রস্তুতি শেষে নির্মাতা রুবাইয়াত হোসেন নির্মাণ করেছেন 'দ্য ডিফিকাল্ট ব্রাইড'। ২০০৬ সালে স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র হিসেবে গল্পটি নির্মাণের পরিকল্পনা থাকলেও পরে সেটি পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্রে রূপ দেন তিনি। চিত্রনাট্য নিয়ে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে অংশ নেওয়ার পাশাপাশি পেয়েছেন একাধিক আন্তর্জাতিক ফান্ড। সিনেমার গল্পে উঠে এসেছে এক তরুণীর জীবনসংগ্রাম। রূপকথার মতো বিয়ের স্বপ্ন দেখা সেই তরুণী এক জটিল রোগে আক্রান্ত। সুস্থতার জন্য নানা ঘরোয়া উপায় অবলম্বন করেও ব্যর্থ হলে তার মানসিক অস্থিরতা বাড়তে থাকে। একসময় একটি বিউটি পার্লারে গিয়ে সে কল্পনায় দেখতে শুরু করে লম্বা চুলের এক রহস্যময় নারীকে। সিনেমার কেন্দ্রীয় চরিত্রে অভিনয় করেছেন নবাগত জাইনীন করিম। এছাড়া গুরুত্বপূর্ণ তিনটি চরিত্রে রয়েছেন জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারপ্রাপ্ত অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধন, রিকিতা নন্দিনী শিমু এবং সুনেরাহ বিনতে কামাল। আরও অভিনয় করেছেন শতাব্দী ওয়াদুদ, সাবেরী আলম ও মোহাম্মদ বারী। চলচ্চিত্রটির চিত্রগ্রহণ করেছেন পর্তুগিজ নির্মাতা লিওনর টেলস। বিভিন্ন বিভাগের কাজেও যুক্ত ছিলেন আন্তর্জাতিক কলাকুশলীরা। রুবাইয়াত হোসেনের সঙ্গে যৌথভাবে ছবিটি প্রযোজনা করেছেন ফ্রান্স, জার্মানি, পর্তুগাল ও নরওয়ের প্রযোজকেরা। ভেনিস চলচ্চিত্র উৎসবে সিনেমাটি নির্বাচিত হওয়ায় উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে রুবাইয়াত হোসেন বলেন, ‘দেশের সিনেমা দিয়ে ভেনিসে প্রতিনিধিত্ব করতে পারছি, এটা আমার জন্য অনেক সম্মানের। এটা আমার স্বপ্নপূরণের গল্প। আমি চাই, দেশের সিনেমা আরও ভালো জায়গায় যাক।‘ আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে নিজের অভিনীত সিনেমা জায়গা পাওয়াতে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধন। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আগেও নিজের অভিনয় দক্ষতার স্বাক্ষর রেখেছেন। এবার 'দ্য ডিফিকাল্ট ব্রাইড'–এর মাধ্যমে ভেনিসের মতো মর্যাদাপূর্ণ উৎসবের প্রতিযোগিতা বিভাগে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করতে যাচ্ছেন তিনি, যা দেশের চলচ্চিত্রের জন্যও একটি নতুন মাইলফলক।
সাত মাস পিছিয়ে অবশেষে আজ বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) বিশ্বব্যাপী মুক্তি পেয়েছে তামিল সুপারস্টার ও রাজ্যটির বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী বিজয় থালাপতির শেষ সিনেমা ‘জন নায়গন’। সিনেমাটি ঘিরে ভক্তদের আগ্রহ ছিল তুঙ্গে। মুক্তির পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) আসতে শুরু করেছে দর্শকদের প্রতিক্রিয়া। সেখানে বিজয়ের অভিনয় ও উপস্থিতির প্রশংসা করলেও গল্প, দৈর্ঘ্য ও দ্বিতীয়ার্ধ নিয়ে মিশ্র মতামত দিয়েছেন দর্শকেরা। খবর ইন্ডিয়া টুডে। এইচ ভিনোথ পরিচালিত জনা নায়গন বিজয়ের অভিনয়জীবনের শেষ সিনেমা। এরপর তিনি পুরোপুরি তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালনে মনোযোগ দেবেন। এক্সে একজন দর্শক সিনেমাটিকে ‘খুবই সাধারণ’ উল্লেখ করে লিখেছেন, প্রথমার্ধ গড়পড়তা, দ্বিতীয়ার্ধে ফ্ল্যাশব্যাক কিছুটা গতি ফিরিয়েছে। তবে প্রায় ৩ ঘণ্টার দৈর্ঘ্য সিনেমাটিকে ভারী করে তুলেছে। আরেক দর্শক সিনেমাটিকে ৫-এর মধ্যে ৩ দশমিক ২৫ নম্বর দিয়ে লিখেছেন, এটি প্রেক্ষাগৃহে উপভোগ করার মতো একটি ছবি। তার মতে, বিজয় ও মামিথা বাইজুর আবেগঘন দৃশ্যগুলো ভালো লেগেছে। অনিরুদ্ধ রবিচন্দরের সংগীতও ছবিকে এগিয়ে নিয়েছে। তবে খলচরিত্রে ববি দেওলের অংশ আরও শক্তিশালী হতে পারতো এবং সিনেমাটি কিছুটা ছোট হলে ভালো হতো। ভক্তদের একটি বড় অংশের মতে, প্রথমার্ধে বিজয়ের ‘ম্যাস’ উপস্থিতি প্রত্যাশা পূরণ করেছে। একজন লিখেছেন, ‘বিজয়ের ভক্ত হিসেবে এখন পর্যন্ত দারুণ উপভোগ করেছি। কারিগরি দিক অসাধারণ, তবে গল্পটি পরিচিত ধাঁচের।’ আরেকজনের মতে, প্রথমার্ধ বিনোদনপূর্ণ হলেও দ্বিতীয়ার্ধে ছবির গতি কমে যায়। তিনি বিজয়ের অভিনয়ের প্রশংসা করলেও দীর্ঘ অ্যাকশন দৃশ্য ও খলনায়কের গল্পকে দুর্বল বলে মন্তব্য করেছেন। কিছু দর্শক দ্বিতীয়ার্ধের রাজনৈতিক অংশেরও প্রশংসা করেছেন। তাদের মতে, প্রায় ৪৫ মিনিটের ফ্ল্যাশব্যাক অংশে পরিচালক এইচ ভিনোথ নিজের স্বতন্ত্র নির্মাণশৈলী তুলে ধরেছেন, যা বিজয়ের চরিত্রকে আরও শক্তিশালী করেছে। তবে সবাই সন্তুষ্ট নন। একজন দর্শক লিখেছেন, প্রথমার্ধের বেশির ভাগ সংলাপ ডাব করা তেলেগু ছবির মতো লেগেছে। তার মতে, বিজয়ের পরিচিতিমূলক দৃশ্য, নাচ এবং খলনায়কের প্রবেশ ছাড়া ছবির অনেক অংশই জোর করে টেনে নেওয়া হয়েছে। তবে অনিরুদ্ধের সংগীতকে তিনি ছবির অন্যতম শক্তি হিসেবে উল্লেখ করেছেন। জনা নায়গন নির্মিত হয়েছে নন্দামুরি বালাকৃষ্ণ অভিনীত তেলেগু সিনেমা ভগবন্ত কেসরি থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে। ছবিতে বিজয়ের সঙ্গে অভিনয় করেছেন পূজা হেগড়ে, ববি দেওল, মামিথা বাইজু, প্রকাশ রাজ, গৌতম বাসুদেব মেনন, প্রিয়মণি ও নারাইন। সাত মাস বিলম্বের পর আজ বিশ্বব্যাপী মুক্তি পাওয়া এই ছবির মধ্য দিয়েই অভিনয়জীবনের ইতি টানলেন বিজয়।
দক্ষিণী চলচ্চিত্রাঙ্গনে দুই জনপ্রিয় তারকার ব্যক্তিগত সম্পর্কের টানাপোড়েন নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। প্রেম, বিচ্ছেদ এবং একটি হোটেলে ঘটে যাওয়া কথিত অপ্রীতিকর ঘটনার জেরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চলছে নানা জল্পনা। খবর প্রকাশ করেছে সিয়াসাত ডটকম। প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, প্রায় তিন বছর ধরে সম্পর্কে ছিলেন এই দুই তারকা। এমনকি তারা বিয়ের পরিকল্পনাও করেছিলেন। তবে সময়ের সঙ্গে অভিনেতার অতিরিক্ত নিয়ন্ত্রণমূলক আচরণে বিরক্ত হয়ে সম্পর্ক থেকে সরে আসার সিদ্ধান্ত নেন অভিনেত্রী। বিচ্ছেদের আগে চেন্নাইয়ের একটি বিলাসবহুল হোটেলে তাদের মধ্যে তীব্র বাগবিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে অভিনেত্রী অভিনেতাকে জুতা দিয়ে আঘাত করেন বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ঘটনার পর অভিনেত্রী ইনস্টাগ্রামে অভিনেতাকে আনফলো করেন। এর পর থেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শুরু হয় ব্যাপক আলোচনা। কে এই তারকা জুটি, তা জানতে আগ্রহ দেখান নেটিজেনরা। নানা সূত্র মিলিয়ে সম্ভাব্য কয়েকটি নামও সামনে আসতে থাকে। আলোচনায় সবচেয়ে বেশি উঠে এসেছে দক্ষিণী অভিনেত্রী অনুপমা পরমেশ্বরন এবং অভিনেতা-গায়ক ধ্রুব বিক্রমের নাম। সম্প্রতি অনুপমা ইনস্টাগ্রামে ধ্রুবকে আনফলো করেছেন। একই সঙ্গে তিনি নিজের কয়েকটি ছবি পোস্ট করে ক্যাপশনে লেখেন, ‘এতগুলো ছবি পোস্ট করার জন্য দুঃখিত। গান বাছাই বা ক্যাপশনের জন্য যখন অনুমতির অপেক্ষা করতে হয় না, তখন পোস্ট করাটা আরও অনেক বেশি মজার হয়ে ওঠে।’ এই পোস্টকে ঘিরেও নতুন করে গুঞ্জন ছড়িয়েছে। তবে এসব আলোচনা নিয়ে এখন পর্যন্ত প্রকাশ্যে কোনো মন্তব্য করেননি অনুপমা কিংবা ধ্রুব। ফলে পুরো বিষয়টি এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত হয়নি; এটি মূলত বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিবেদন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের জল্পনার মধ্যেই সীমাবদ্ধ। উল্লেখ্য, অনুপমা পরমেশ্বরন ২০১৫ সালে চলচ্চিত্রে অভিষেক করেন। প্রথম সিনেমা থেকেই দর্শকের নজর কাড়েন তিনি। এরপর একের পর এক সফল সিনেমায় অভিনয় করে দক্ষিণী চলচ্চিত্রের অন্যতম জনপ্রিয় অভিনেত্রী হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন।