‘নান্দনিক চলচ্চিত্র, মননশীল দর্শক, আলোকিত সমাজ’ স্লোগান নিয়ে আগামী ১০ জানুয়ারি থেকে শুরু হচ্ছে ২৪তম ঢাকা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসব-২০২৬। ৯ দিনব্যাপী এই উৎসবে এবার বিশেষ চমক হিসেবে থাকছে কক্সবাজারের সমুদ্র সৈকতে সিনেমা দেখার সুযোগ।
বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) দুপুরে ঢাকা ক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে উৎসবের বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরেন আয়োজকরা। রেইনবো চলচ্চিত্র সংসদের উদ্যোগে আয়োজিত এবারের উৎসবে ৯১টি দেশের ২৪৫টি সিনেমা প্রদর্শিত হবে।
১০ জানুয়ারি বিকেল ৪টায় জাতীয় জাদুঘরের মূল মিলনায়তনে উৎসবের উদ্বোধন করবেন তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান। উদ্বোধনী ছবি হিসেবে দেখানো হবে চীনা পরিচালক চেন শিয়াং-এর ‘দি জার্নি টু নো এন্ড’।
ঢাকার জাতীয় জাদুঘর ছাড়াও শিল্পকলা একাডেমি, অলিয়ঁস ফ্রঁসেজ এবং স্ট্যামফোর্ড ইউনিভার্সিটি মিলনায়তনে সিনেমাগুলো দেখানো হবে। এবার কক্সবাজারের লাবণী পয়েন্টে ‘ওপেন এয়ার স্ক্রিনিং’-এর ব্যবস্থা করা হয়েছে; ফলে, ১০ থেকে ১৮ জানুয়ারি পর্যন্ত পর্যটক ও দর্শনার্থীরা সৈকতে বসে বিনামূল্যে সিনেমা উপভোগ করতে পারবেন। আর প্রথমবারের মতো এমন আয়োজন উৎসবের নতুন এক মাত্রা যোগ করেছে।
জানা গেছে, উৎসবের সব প্রদর্শনী দর্শকদের জন্য উন্মুক্ত থাকবে। তবে আসন সংখ্যা সীমিত হওয়ায় ‘আগে এলে আগে বসবেন’ ভিত্তিতে দর্শকদের সুযোগ দেওয়া হবে। এরপর ১৮ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত হবে সমাপনী আয়োজন। এদিন প্রধান অতিথি হিসেবে থাকবেন সংস্কৃতি বিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী। সেদিনই ঘোষণা করা হবে উৎসবের সেরা সিনেমার নাম।
উৎসবে যোগ দিতে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের নামী চলচ্চিত্র নির্মাতা, শিল্পী ও সমালোচকরা ঢাকায় উপস্থিত থাকবেন।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে সংঘটিত এজাহারভুক্ত হত্যা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ ও মিরাজ হোসেন পলাতক রয়েছেন। ব্যাংক প্রশাসন বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। খুনের শিকার কৃষি ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী আব্দুল হালিম ছিলেন কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) সভাপতি। তার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলায়। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি স্থানীয়ভাবে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ১ নম্বর আসামি হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত পিয়ন ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ এবং ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেনের নাম রয়েছে। তারা বর্তমানে নিজেদের সিবিএ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দাবি করে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে প্রভাব বিস্তার করছেন। ব্যাংক সূত্রে গেছে, তারা চাঁদাবাজি, ঘুষ আদায় ও নানা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। সূত্র জানায়, ব্যাংকের ভেতরে একটি সিন্ডিকেটের প্রভাবেই এসব আসামিরা এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন। এই সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে আছেন মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেন। এতে আরও যুক্ত রয়েছেন ডিজিএম সৈয়দ লিয়াকত হোসেন, হাবিব উন নবী, ডিএমডি খালেকুজ্জামান জুয়েল ও ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী। গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর রাতে মতিঝিলের বিমান অফিসের সামনে আব্দুল হালিমের মৃত্যু হয়। পরদিন সকালে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়। মতিঝিল থানার উপ-পরিদর্শক সজীব কুমার সিং সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে জানান, পুরনো সহকর্মীদের সঙ্গে বিরোধের জেরে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং রাত ১টা ৪০ মিনিটে হাসপাতালে মারা যান। হালিমের ছেলে ফয়সাল বলেন, তার বাবা ২০১৪ সাল থেকে কৃষি ব্যাংক সিবিএর সভাপতি ছিলেন এবং বোয়ালখালী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতেন। ইউনিয়নের নেতৃত্ব ও পদ নিয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে গত নভেম্বরেই মতিঝিল থানায় একটি জিডি (নং ০৫/১১/২০২৪ - ৩৩৫) করেছিলেন তার বাবা। তিনি আরও বলেন, বুধবার রাতে আমার বাবাকে তার অফিসের সহকর্মীরা মারধর করে হত্যা করেছে। সিবিএর বর্তমান সাধারণ সম্পাদক নাসিম আহমেদ জানান, ২০১৪ সালে আমরা নির্বাচিত হই। এরপর আর কোনো নির্বাচন হয়নি। কিন্তু গত ৫ আগস্ট বিনা নির্বাচনে নতুন কমিটি ঘোষণা করে আমাদের অফিস দখল করে নেয় ফয়েজ ও মিরাজ। এ নিয়ে মামলা চলছে। মামলার তথ্য অনুযায়ী, আসামিরা অস্থায়ী জামিনে ছিলেন। সম্প্রতি তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। এছাড়া আরও কয়েকজন পলাতক রয়েছেন—যাদের মধ্যে আছেন ড্রাইভার সাইফুল, শাহেদ, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মেহেদী ও অবসরপ্রাপ্ত ক্লিনার সিরাজ। এদিকে, মামলার ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেন নৈমিত্তিক ছুটির আবেদন করে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। যদিও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামির নৈমিত্তিক ছুটি পাওয়ার কোনো এখতিয়ার নেই। মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক এ বিষয়ে বলেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন এবং নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন। কিন্তু স্থানীয় মুখ্য কার্যালয়ের প্রধান মহাব্যবস্থাপক জানান, তিনি কোনো মন্তব্য করতে চান না। কারণ ব্যবস্থাপনা পরিচালক মন্তব্য না করার নির্দেশ দিয়েছেন। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। অভ্যন্তরীণ এই পরিস্থিতিতে কৃষি ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
বিনোদন জগতের জনপ্রিয় অভিনেত্রী মেহজাবীন চৌধুরী এ মুহূর্তে ছোট-বড়পর্দায় কিংবা ওটিটি নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন। তবে সব মাধ্যমেই চিত্রনাট্য নির্বাচনে ভীষণ খুঁতখুঁতে অভিনেত্রী । সংখ্যাতত্ত্বের দৌড়ে না হেঁটে তিনি এখন হাঁটছেন গুণগত মান নিয়ে। সম্প্রতি গুণী নির্মাতা শিহাব শাহীনের নতুন একটি প্রজেক্টে যুক্ত হয়েছেন মেহজাবীন চৌধুরী। আর এ কাজটিকে তিনি দেখছেন জীবনে একবারই আসার মতো সুযোগ হিসেবে। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে এমন কথাই জানান অভিনেত্রী। নিজের কাজ কমিয়ে দেওয়া এবং নতুন কাজে যুক্ত হওয়ার প্রসঙ্গে মেহজাবীন বলেন, আমি যেভাবে আসলে কাজ কমিয়ে ফেলেছি, নতুন কোনো চমক আসলে স্ক্রিপ্টে না থাকলে আমি সেখানে কোনোভাবেই অন-বোর্ড হই না। তো ডেফিনেটলি শিহাব ভাইয়ার রাইটিংয়ে ওরকম একটা চমক খুঁজে পাওয়া গেছে। আমার কাছে মনে হয়েছে, আমার এ রকম একটা ক্যারেক্টার হাতছাড়া করা উচিত হবে না বলে জানান অভিনেত্রী। নিজের চরিত্র নিয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ মেহজাবীন বলেন, ওয়ান্স ইন আ লাইফটাইম— এ ধরনের ক্যারেক্টার আসলে পাওয়া যায়। সো, আই অ্যাম ভেরি এক্সাইটেড! এখন কতটুকু পুল অফ করতে পারব, কতটুকু আমি আসলে সেটাকে বিশ্বাসযোগ্য করতে পারব, আমি কতটুকু এফোর্ট দিতে পারব, ডেফিনেটলি আই উইল ট্রাই মাই লেভেল বেস্ট। বাট বাকি সবকিছু আসলে ফিউচার এবং সময় বলে দেবে। তিনি বলেন, আমি একটা জায়গায় খুব ভালো ফিল করছি এখন পর্যন্ত, আমি শিহাব শাহীনের একজন ফ্যান অফ হিজ ওয়ার্ক। তো সেই জায়গা থেকে উনার আন্ডারে কাজ করছি এবং উনি যেভাবে আসলে আর্টিস্টদের ডিরেক্ট করেন, আই অ্যাবসোলিউটলি এনজয় দ্যাট। তো এই কাজ আমি এনজয়ও করব অ্যাজ ওয়েল অ্যাজ কাজটাও হবে।
ফেব্রুয়ারি মাসের এই সপ্তাহে দক্ষিণী সিনেমাপ্রেমীদের জন্য থাকছে দারুণ সব সিনেমা। অ্যাকশন, রোমান্স, থ্রিলার থেকে শুরু করে সামাজিক বার্তায় ভরপুর—ভিন্ন স্বাদের পাঁচটি দক্ষিণী ছবি মুক্তির অপেক্ষায় রয়েছে প্রেক্ষাগৃহে। তারকাখচিত অভিনয়, বড় বাজেটের নির্মাণ আর টানটান গল্প নিয়ে এই ছবিগুলো ইতোমধ্যেই দর্শকদের কৌতূহল বাড়িয়ে তুলেছে। আজকের আয়োজনে থাকছে সেসব চলচ্চিত্রের গল্প। লিখেছেন তামজিদ হোসেন। উইথ লাভ ভ্যালেন্টাইনস ডের আগমনী আবহে প্রেমের রঙ আরও গাঢ় করতে বড় পর্দায় আসছে নতুন রোমান্টিক ছবি ‘উইথ লাভ’। ট্যুরিস্ট ফ্যামিলি-খ্যাত বিশান জীবিন্ত ও জনপ্রিয় অভিনেত্রী অনস্বরা রাজনের জুটিতে নির্মিত এই ছবিটি মুক্তি পাচ্ছে ভালোবাসার বিশেষ সপ্তাহের ঠিক আগে, যা ইতোমধ্যেই দর্শকদের আগ্রহ বাড়িয়ে দিয়েছে। ছবির গল্প আবর্তিত হয়েছে সত্যা ও মনিশাকে ঘিরে—দুই তরুণ-তরুণী, যাদের বন্ধুত্ব ধীরে ধীরে রূপ নেয় গভীর প্রেমে। একসঙ্গে সময় কাটাতে কাটাতে তারা ফিরে তাকায় স্কুলজীবনের স্মৃতির দিকে। সেখানেই উঠে আসে এক অভিন্ন আক্ষেপ—তখন কেউই নিজের মনের কথা প্রিয় মানুষটির কাছে বলতে পারেনি। সেই অপূর্ণতা তাদের মনে তৈরি করে নতুন প্রশ্ন ও অনুভূতির ঢেউ। অতীতের না বলা কথাগুলো আর চাপা না রেখে এবার সব প্রকাশ করার সিদ্ধান্ত নেয় সত্যা ও মনিশা। সেই সিদ্ধান্ত থেকেই শুরু হয় এক রোমাঞ্চকর ও আবেগঘন যাত্রা, যেখানে প্রতিটি মুহূর্তে তারা ভালোবাসার নতুন অর্থ খুঁজে পায়। ছবিটি পরিচালনা করেছেন নির্মাতা মাধন। প্রেক্ষাগৃহে চলচ্চিত্রটি মুক্তি পাবে চলতি বছরের ৬ ফেব্রুয়ারি। অপারেশন পদ্মা ‘অপারেশন পদ্মা’ সিনেমার গল্প আবর্তিত হয়েছে গোয়েন্দা কর্মকর্তা ভেদাকে ঘিরে, যিনি প্রাক্তন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নন্দী কিশোরকে হত্যার এক ভয়ংকর ষড়যন্ত্রের সন্ধান পান। এই ষড়যন্ত্রের মূলচক্রী একজন পেশাদার খুনি কুলদীপকে ভাড়া করে—যার নিশানা কখনোই ভুল হয় না। এই হুমকি মোকাবিলায় ভেদা গঠন করেন একটি বিশেষ দল, ‘অপারেশন পদ্মা’। এই দলে রয়েছেন কৌশলবিদ মাধুরা এবং এজেন্ট ভাসু, রামনা, পদ্মা, রূপা ও অবন্তিকা। কুলদীপ যখন ধীরে ধীরে তার লক্ষ্যবস্তুর দিকে এগিয়ে আসে, তখন দলটি জড়িয়ে পড়ে শ্বাসরুদ্ধকর নজরদারি, ছদ্মবেশী অভিযান ও মনস্তাত্ত্বিক কৌশলের খেলায়। একের পর এক গোপন রহস্য উন্মোচিত হতে থাকে, বিশ্বাস পড়ে যায় কঠিন পরীক্ষায়। সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে চলতে থাকে এই লড়াই এগোতে থাকে এমন একজন খুনিকে দমন করতে, যে কখনো ব্যর্থ হয় না। শেষ পর্যন্ত তারা নন্দী কিশোরকে সময়মতো রক্ষা করতে পারবে কি না, সেটাই এই ছবির মূল আকর্ষণ। কার্তিকেয় ভি এর পরিচালনায় নির্মিত এ সিনেমায় অভিনয় করেছেন, নরেশ মেডি, কান্নায়াগরী রাজিথা স্যান্ডি, রণধীর বেসু, রঘুপতি রেড্ডি গুন্ডা, মন্ডলপু রাঘভায়াসহ আরও অনেকে। ছবিটি প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পাবে ৬ ফেব্রুয়ারি। রেড লেবেল ‘রেড লেবেল’ একটি রহস্যময় ও থ্রিলার সিনেমা, যা তামিল অঞ্চলের অন্তর্গত এক গোপন সত্যকে কেন্দ্র করে আবর্তিত। এই ছবিতে তুলে ধরা হয়েছে এক নায়কের যাত্রা, যেখানে তাকে নীরবতা আর ন্যায়ের মধ্যে একটি কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে হয়। ছবিটি পরিচালনা করেছেন কে আর বিনোথ। অভিনয় করেছেন, লেনিন, আজমিন ইয়াসার, আরভি উদয়কুমার সহ আরও অনেকে। প্রেক্ষাগৃহে সিনেমাটি মুক্তি পাবে ৬ ফেব্রুয়ারি। ব্লাড রোজেস হায়দ্রাবাদে নতুন এক ভীতিকর সিরিয়াল হত্যাকাণ্ড শহরবাসীকে আতঙ্কিত করেছে। ‘ব্লাড রোজেস’ সিনেমায় দেখানো হয়েছে, কিভাবে এক রহস্যময় অপরাধী শহরে মানুষ হত্যা করছে এবং প্রতিটি শিকারের একটি নির্দিষ্ট অঙ্গ অদৃশ্য হয়ে যাচ্ছে। শহরে আতঙ্ক ছড়াতে থাকলে, পুলিশ দ্রুত তদন্ত শুরু করে, অপরাধীর পরিচয় উদঘাটন এবং হত্যাকাণ্ডগুলোর মধ্যে সংযোগ খুঁজে বের করার চেষ্টা করে। প্রতিটি সূত্র ও প্রমাণ সৃষ্টি করে নতুন ধাঁধা, আর এভাবেই এগোতে থাকে সিনেমার কাহিনী। মান্দাতি গুরু রাজন এর পরিচালনায় নির্মিত এই সিনেমায় অভিনয় করেছেন, ধর্ম কীর্তিরাজ, অপ্সরা রানী, শ্রীলু প্রুদ্ধিরাজ, কিলি ক্রান্তি, সুমন, ঋষনা শ্রীনিবাস সহ আরও অনেকে। ছবিটি প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পাবে চলতি বছরের ৬ ফেব্রুয়ারি। আশাকাল আয়িরাম দুই প্রজন্মের প্রতিভার মিলন নিয়ে আসছে নতুন দক্ষিণী সিনেমা “আশাকাল আয়িরাম”। সিনেমার গল্প এগিয়ে যায় একজন তরুণ সোশ্যাল মিডিয়া ইনফ্লুয়েন্সারকে নিয়ে, যার স্বপ্ন বড় পর্দায় অভিনয় করা। হঠাৎ তার পাড়ায় একটি সিনেমা প্রোডাকশন ইউনিট শুটিং শুরু করলে সে পায় তার স্বপ্ন পূরণের সুযোগ। তবে তার বাবা, একজন সাধারণ কেরালা পরিবারের হওয়ায়, প্রথমে ছেলের এই পদক্ষেপের বিরোধী ছিলেন এবং তাকে প্রচলিত ক্যারিয়ারের দিকে মনোযোগ দিতে বলেছিলেন। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বাবার নিজস্ব আগ্রহ ও ছেলের স্বপ্নের প্রতি আকর্ষণ আবার জাগ্রত হয়, যা ছেলের যাত্রার সঙ্গে মিলে যায়। এদিকে জয়রাম ও কালিদাস জয়রামকে তৃতীয়বারের মতো একসঙ্গে পর্দায় দেখা যাবে । এর আগে কালিদাস শিশু শিল্পী হিসেবে বাবার দুই ছবিতে অভিনয় করেছিলেন। আসন্ন এই সিনেমাটি পরিচালনা করেছেন জি প্রজিৎ। এ সিনেমায় অভিনয় করেছেন জয়রাম, কালিদাস জয়রাম, আশা শরৎ, ঈশানি কৃষ্ণা সহ আরও অনেকে, সবকিছু ঠিক থাকলে ছবিটি প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পাবে এ বছরের ৬ ফেব্রুয়ারি।
দুই বাংলার জনপ্রিয় অভিনেত্রী জয়া আহসান বর্তমানে কলকাতায় অবস্থান করছেন। উপলক্ষ তার আসন্ন সিনেমা ‘ওসিডি’-র প্রচারণা। সৌকর্য ঘোষাল পরিচালিত সাইকোলজিক্যাল থ্রিলারধর্মী এই ছবিটি আগামী ৬ ফেব্রুয়ারি মুক্তি পেতে যাচ্ছে। সিনেমার প্রচারণায় গিয়েই ভারতীয় গণমাধ্যমে নিজের ব্যক্তিগত জীবন, ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা এবং সমাজের অন্ধকার দিক নিয়ে বিস্ফোরক মন্তব্য করেছেন জয়া। সেখানেই জানালেন, তিনি চাইলেই সন্তান দত্তক নিতে পারেন, কিন্তু এই ‘অনিরাপদ পৃথিবী’র কথা ভেবেই তিনি পিছিয়ে আসেন। শিশুদের নিরাপত্তা নিয়ে জয়া আহসান বলেন, “এই পৃথিবী শিশুদের জন্য অসম্ভব অনিরাপদ। আমি চাইলে কিন্তু সন্তান দত্তক নিতে পারি। তার জন্য সন্তান জন্ম দেওয়ার প্রয়োজন পড়ে না। কিন্তু বাধা একটাই। একটা শিশুকে পৃথিবীতে আনলে তার জন্য একটা নিরাপদ জায়গা করে দিতে হবে। কিন্তু মানুষ প্রতিনিয়ত ‘আমি আমি’ করে চলছে।” সমাজের এই স্বার্থপরতা এবং নিরাপত্তাহীনতাই তাকে মাতৃত্বের সিদ্ধান্ত থেকে দূরে রেখেছে বলে জানান তিনি। ছবিতে জয়া অভিনীত চরিত্রটি বেশ জটিল। বিশেষ করে ‘পিডোফিলিয়া’ বা শিশুদের প্রতি যৌন আকর্ষণের মতো স্পর্শকাতর বিষয় উঠে এসেছে এই সিনেমায়। এ প্রসঙ্গে জয়া বলেন, “একটা বাচ্চা দেখলে সাধারণ মানুষের মনে মায়া জন্মায়, স্নেহ জন্মায়। কিন্তু কিছু মানুষের শিশুদের দেখলে যৌন আকাঙ্ক্ষা জন্মায়। তারা ওই শরীরের ভেতরটা দেখতে চায়। আসলে এটা তো একটা গুরুতর মানসিক অসুস্থতা।” নিজের চরিত্রের প্রয়োজনে জয়া বিস্তর গবেষণা করেছেন। বিশ্বজুড়ে আলোচিত ‘এপস্টেইন ফাইলস’ প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, এমন বিষয় নিয়ে বাংলা সিনেমায় সচরাচর কাজ হয় না। তাই দায়িত্ববোধ থেকেই তিনি মানসিক ব্যাধি ও এর পেছনের কারণগুলো নিয়ে পড়াশোনা করেছেন। জয়ার মতে, এই সিনেমা সমাজের এমন কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করবে, যা নিয়ে কথা বলা এখন সময়ের দাবি।